• শনিবার (রাত ১:২৭)
    • ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ধর্ষণের সংবাদ প্রকাশ করার জেরঃ কুমিল্লায় সাংবাদিককে মারধোর

সাহিদুজ্জামান চৌধুরী, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লা জেলার চান্দিনা থানাধীন ডেনিম প্রসেসিং প্লান্ট লিঃ এর এক নারী গার্মেন্টসকর্মী কয়েকদিন আগে গণধর্ষণের শিকার হন। এই সংবাদ প্রকাশ করার জেরে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, এ দুই সাংবাদিক হলেন দৈনিক যুগান্তরের চান্দিনা প্রতিনিধি মো. আব্দুল বাতেন এবং দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার চান্দিনা প্রতিনিধি মো. জাকির হোসেন।   এতে আহত সাংবাদিক আব্দুল বাতেন চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে চান্দিনার বেলাশহর এলাকায় অবস্থিত ওই গার্মেন্টসের সামনের সড়ক থেকে তাদেরকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে মারধর করে গার্মেন্টসের ভিতরে নিয়ে ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় ওই গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ। ডেনিম প্রসেসিং প্লান্ট লিঃ এর কোয়ালিটি সুপারভাইজার মো. লিটন, তার ভাই আনোয়ার হোসেন সহ ১০/১২জন এ হামলা জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

“চান্দিনার বেলাশহর এলাকায় অবস্থিত ওই গার্মেন্টসের সামনের সড়ক থেকে তাদেরকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে মারধর করে গার্মেন্টসের ভিতরে নিয়ে ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় ওই গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ। ডেনিম প্রসেসিং প্লান্ট লিঃ এর কোয়ালিটি সুপারভাইজার মো. লিটন, তার ভাই আনোয়ার হোসেন সহ ১০/১২জন এ হামলা জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।”

Video Player

00:00
00:06

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাংবাদিক আব্দুল বাতেন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল পৌঁনে ৮টায় আমরা মোটরসাইকেল যোগে ওই গার্মেন্টেসের সামনের সড়ক দিয়ে সাংবাদিক জাকির হোসেন এর বাড়িতে যাওয়ার পথে লিটন, আনোয়ার এর নেতৃত্বে ১০/১২ জন আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় আমাদের ব্যবহৃত ক্যামেরা ও আমার মোবাইল ফোন গুলো ছিনিয়ে নেয়।
এ ঘটনার পর চান্দিনা পুলিশ ও চান্দিনায় কর্মরত সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে গার্মেন্টেসের পরিচালক মো. আলমগীর হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমাদের গার্মেন্টেসের কোন নারী শ্রমিক ধর্ষিত না হলেও সাংবাদিকরা আমাদের সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এমনটা হতে পারে। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ৬ জুলাই-২০২০ ইং সোমবার রাত ৯টায় ওই গার্মেন্টেস ছুটির পর বাসায় ফেরার পথে গণধর্ষণের শিকার হয় এক নারী শ্রমিক। ওই রাতেই চান্দিনা থানা পুলিশ তিন ধর্ষককে আটক করে এবং ঘটনাস্থলটি দেবিদ্বার থানায় হওয়ায় পরদিন দেবিদ্বার থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে চান্দিনা থানার ওসি মো. আবুল ফয়সল সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে আমি পুলিশ পাঠিয়েছি। পুলিশ পুরো ঘটনা শুনে এবং গার্মেন্টেসের সিসিটিভির ফুটেজ দেখে সাংবাদিকদের মারধরের সত্যতা পায়। এছাড়া গত ৬ জুলাই রাতে ওই গার্মেন্টেসের এক নারী শ্রমিক ধর্ষণের ঘটনাও সত্য। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

ক্রাইম ডায়রি// জেলা//ক্রাইম//আইন শৃংখলা

Total Page Visits: 47 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Send this to a friend