• শনিবার ( সকাল ৬:২৭ )
    • ১৯শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

বঙ্গবন্ধু সরকারের নিষিদ্ধ করা মদ, জুয়া, হাউজি পুনরায় চালুঃঢাকা শহরকে লাসভেগাস বানানোর ষড়যন্ত্র

মিয়া মোহাম্মদ হেলাল, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী,ক্রাইম ডায়রির বিশেষ প্রতিনিধিঃ   

  

বঙ্গবন্ধু সরকারের নিষিদ্ধ করা মদ, জুয়া, হাউজি পুনরায় চালু করাই ছিল ঢাকা শহরকে লাসভেগাস শহর বানানোর মুখ্য উদ্দেশ্য

ডঃ আব্দুল মঈন খান বলেছেন ❝আজ থেকে ৪০০ বছর আগে যখন এ শহর প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, তখন ঢাকার পরিচয় ছিল মসজিদের শহর হিসেবে। আজকে সেই শহর পরিণত হয়েছে ক্যাসিনোর শহরে।❞ সত্যি কি তাই ? ঢাকাকে ক্যাসিনোর শহর বানালো কে ? ঢাকা কি আজকে ক্যাসিনোর শহর হয়েছে ? কে এই মঈন খান ?

১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় খাদ্য সচিব ছিলেন আব্দুল মোমেন খান। তৎকালীন সময়ে পশ্চিমাদের সাথে ষড়যন্ত্রে যুক্ত হয়ে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টিতে অন্যতম ভুমিকা পালন করেন। সেই দুর্ভিক্ষ সহ নানাবিধ ষড়যন্ত্রের ফলে এক হৃদয় বিদারক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ও তাহার পুরো পরিবারকে নিঃশেষ করে আওয়ামীলীগকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। যার পুরুস্কার হিসেবে জিয়াউর রহমান বুকে টেনে নিয়ে খাদ্য সচিব আব্দুল মোমেন খানকে নিজ দলে স্থান দেন। সেই দুর্নীতিবাজ ষড়যন্ত্র কারী আব্দুল মোমেন খানের পুত্র হলেন ডঃ আব্দুল মঈন খান।

ডঃ আব্দুল মঈন খান প্রথম দৃশ্যপটে আসেন গতকাল যে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানব বন্ধন করলেন সেই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের এক চাঞ্চল্যকর ও রম্য অনশন কর্মসূচির ঘটনায়। ঢাকাই সিনেমার তৎকালীনহার্টথ্রব নায়িকা অমর চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের শ্যালিকা ফরিদা আখতার পপি ওরফে ববিতাকে বিয়ে করার দাবিতে মঈন খান একদিন অনশন করে বসলেন। অনেক পত্রিকা, বিশেষ করে সেই সময়ের আলোচিত সিনে সাপ্তাহিক চিত্রালী সহ আরও অনেক কাগজে তখন সেই অনশনের ছবি ছাপা হয়। কথিত আছে ববিতাকে না পাবার বেদনা থেকে লম্বা চুল রাখতে শুরু করেন মঈন খান। প্রেমিক মানুষ বলে সুন্দরী নেত্রী দেখে তিনি ও পরে বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন। সেই মঈন খান আজ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। এবার আসি ক্যাসিনো শহরে

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু সরকার মদ, জুয়া নিষিদ্ধ করেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর দৃশ্যপটে আসে খন্দকার মোশতাকের অন্যতম সহযোগী সেনাপ্রধান ও উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক জেনারেল জিয়াউর রহমান। ২৯ শে নভেম্বর ১৯৭৬ সালে এক সামরিক ফরমান বলে বঙ্গবন্ধু সরকারের মদ জুয়ার নিষিদ্ধ আদেশটি বাতিল করে মদের বার, ক্যাসিনো, হাউজিসহ সকল রকমের জুয়া ও পতিতাবৃত্তির লাইসেন্স প্রদান করে উন্মুক্ত করে দিলেন।

জিয়ার রাবার স্টাম্প সংসদে জাসদের শাহজাহান সিরাজ (১৯৭৯ সাল) এই সামরিক ফরমান বাতিলের জন্য প্রস্তাবনা উত্থাপন করলে কুখ্যাত রাজাকার আবদুস সবুর খান সংসদে বলেন ❝আউট অব বন্ডসহ জুয়া- ক্যসিনো নগর সভ্যতার নিয়ামক শক্তি।এগুলো সমাজের সেফটি বাল্ব। জিয়া ঈমানদার সামরিক নেতা। তার উদারতায় আজ আমরা সংসদে আসার সুযোগ পেয়েছি। তার কোনো ফরমান বাতিল করা যাবে না। আমরা সংবিধান সংশোধনীতে তার সকল জারিকৃত ফরমানকে শতভাগ বৈধ করে দিয়েছি।❞ সবুর খানকে সমর্থন করে বক্তব্য রাখেন রাজিয়া ফয়েজ, ইউসুফ, কাজী কাদের সহ মুসলিম লীগের সদস্য এবং পাকিস্তানপন্থী সাংসদেরা।

বিএনপি জামাত জোট সরকার (১৯৯১) ক্ষমতায় আসার পর সাদেক হোসেন খোকার হাত ধরে ব্রাদার্স ইউনিয়নে প্রথম ক্যাসিনো বসানো শুরু হয়। সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার জন্য সে সময় মির্জা আব্বাসও মতিঝিলের আরামবাগ ক্লাব ও ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে ক্যাসিনো শুরু করেন। মির্জা আব্বাস আর সাদেক হোসেন খোকার পদাঙ্ক অনুসরণ করে মোসাদ্দেক আলী ফালু মোহামেডান ক্লাব ও রহমতগঞ্জ ক্লাবে ক্যাসিনো শুরু করেছিলেন। ৯১-৯৬ সালে বিএনপির আমলে একমাত্র আবাহনী ক্লাব ছাড়া অন্য সবগুলো ক্লাবেই জুয়া-ক্যাসিনোর বাজার বসানো হয়েছিল।

বিএনপি চলে যাওয়ার পর (১৯৯৬-২০০১) দীর্ঘ একুশ বছর পর ক্ষমতার বাহিরে থাকা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেও প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বসে থাকা অপশক্তি গুলোর সহায়তায় এই ক্লাবগুলোর নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকে।

২০০৬ সালে ১/১১ সরকার আসলে বিএনপির এই ক্যাসিনো বাণিজ্য লন্ডভন্ড হয়ে যায়। সবগুলো ক্লাবেই তখন জুয়ার আসর বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রথম দুই বছর কোনো ক্যাসিনো ছিল না। সরকার বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা নিষ্পত্তি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জঙ্গি মোকাবেলা ব্যস্থতার আড়ালে আওয়ামীলীগের একশ্রেণীর দুর্নীতিবাজ নেতাদের হাত ধরে আস্তে আস্তে ধাপে ধাপে দল বদল করে ক্যাসিনো গুলো আবার চালু করা হয়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে যখন সাড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে, বোয়াল গুলো যখন ধরা পড়তেছে তখন বঙ্গবন্ধুর নিষিদ্ধ করা মদ, জুয়া, হাউজি যে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বিসমিল্লাহ বলে আইন দ্বারা উম্মুক্ত করেন, যে দলের সভানেত্রী বেগম জিয়া এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে কারাগারে, যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এতিমের টাকা আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিং দায়ে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি তারেক রহমান, সেই দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আসিকানে ববিতা পাগলা এটা নিয়ে রাজনীতি শুরু করছেন। ওরে পাগলারা, রাজনীতি সব জায়গায় চলে না। মনে রেখো উনি বঙ্গবন্ধুর মাইয়া। মনসুর রহমানের পুত্র জিয়াউর রহমান কিংবা ইস্কান্দার মজুমদারের মাইয়া বেগম খালেদা জিয়া ওরফে পুতুল রানী নয়।

লেখক—

(লেখক, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী-মুক্তচিন্তার মূর্তপ্রতীক,দেশপ্রেমিক, আওয়ামী অনলাইন এক্টিভিস্ট, বঙ্গবন্ধু ও শেখহাসিনার  সূর্য সৈনিক, আওয়ামীলীগ গবেষক  ।।।)

ক্রাইম ডায়রি///লেখাটি একান্তই লেখকের গবেষণালব্ধ অভিমত ও দায়ভার সম্পূর্ণ লেখকের///স্পেশাল

Total Page Visits: 104 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Send this to a friend