• সোমবার (বিকাল ৪:৩৩)
    • ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

চান্দাইকোনায় জেলা আওয়ামিলীগ নেতা হান্নান চেয়ারম্যানকে কুুপিয়ে জখম

আরিফুল ইসলাম, ষ্টাফ রিপোর্টারঃ

সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ থানার চান্দাইকোনা বাজারে সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং চান্দাইকোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নানকে একদল সন্ত্রাসী হত্যার উদ্দেশ্যে   কুপিয়ে জখম করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জননন্দিত নেতা আব্দুল হান্নান।  তার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কোন ব্যক্তিগত শত্রুর কথা শোনা যায়নি। দীর্ঘ পথ চলায় কোন দ্বন্দ কিংবা কোন গন্ডগোলও শোনা যায়নি। তবুও একদল পেশাদার সন্ত্রাসী ২৮শে জুন,২০২০ইং রবিবার ভোরবেলা তার বাড়ির ভিতর অতর্কিত ঢুকে পড়ে এবং কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই কোঁপানো শুরু করে।  এরপর  মৃত ভেবে ঘাতকরা পালিয়ে যায়। ভিকটিম ও স্থানীয়দের বক্তব্যে জানা যায়, ঘাতকেরা সংখ্যায় তিনজন অথবা চারজন ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জননন্দিত নেতা আব্দুল হান্নান।  তার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কোন ব্যক্তিগত শত্রুর কথা শোনা যায়নি। দীর্ঘ পথ চলায় কোন দ্বন্দ কিংবা কোন গন্ডগোলও শোনা যায়নি।

মুখে লাল গামছা ও লাল পাঞ্জাবি পরিহিত ছিল।   ঘাতকদের পোশাক বাছাই ও সময় নির্ধারনে বোঝা যায় ঘাতকদল প্রশিক্ষিত ও পূর্ব পরিচিত।   ভিকটিমকে  চিকিৎসার জন্য দ্রুততার সাথে বগুড়ায় নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের আফসোস ও বক্তব্যে বোঝা গেছে ভিকটিম সত্যই ভাল মনের মানুষ।

ক্রাইম ডায়রি // ক্রাইম// জেলা

Total Page Visits: 66255

চাকরী হারানোর ভয়ে অসংখ্য গার্মেন্টস শ্রমিক

মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান : একদিকে বেতন না পাওয়ার আহাজারি অন্যদিকে চাকরি হারানোর গভীর সঙ্কায় রয়েছেন পোশাক খাতের শ্রমিকরা। দেশে বিজিএমইএ সদস্যভুক্ত সর্বমোট এক হাজার ৯২৬টি তৈরি পোশাক কারখানা চালু রয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৮৫৫টির মালিক তাদের শ্রমিকদের মে মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ করেছেন। তবে এখনও ৭১ কারখানার শ্রমিক বেতন-ভাতা পাননি। এ তথ্য জানিয়েছে পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

মিল-কলকারখানা চালু হলেও কোনো শিল্প ইউনিট ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। সক্ষমতার বিপরীতে অর্ডার নেই। বড় জোর ৩০ শতাংশ শ্রমিক-কর্মচারী দিয়ে মিল ফ্যাক্টরি চালানোর সুযোগ আছে। তাও কতদিন চলবে- তা অনিশ্চিত। এ হিসাবে কমপক্ষে বস্ত্র সেক্টরের ৭০ শতাংশ কর্মীর চাকরি হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

বিজিএমইএ বলেছে, এক হাজার ৯২৬ কারখানার মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় রয়েছে ৩৩৩টি। এর মধ্যে মে মাসের বেতন দিয়েছে ৩১৪টি প্রতিষ্ঠান। গাজীপুরের ৭১৩ কারখানার মধ্যে বেতন দিয়েছে ৬৯৩টি, সাভার-আশুলিয়ায় ৪১২টির মধ্যে বেতন দিয়েছে ৩৯৭টি, নারায়ণগঞ্জের ১৯৮টি কারখানার মধ্যে বেতন দিয়েছে ১৯৬টি, চট্টগ্রামের ২৫২টি কারখানার মধ্যে ২৪০টি এবং প্রত্যন্ত এলাকার ১৮টি কারখানার মধ্যে ১৫টি বেতন পরিশোধ করেছে। সব মিলিয়ে মে মাসের বেতন পরিশোধ করেছে চালু থাকা এক হাজার ৮৫৫টি (৯৬.৩০ শতাংশ) কারখানা। তবে ৭১টি কারখানার (৩.৭০ শতাংশ) শ্রমিকদের বেতন ২৫ জুন পর্যন্ত পরিশোধ করেনি মালিকপক্ষ।
জানা গেছে, করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। এই প্যাকেজ থেকে উৎপাদনের ন্যূনতম ৮০ শতাংশ পণ্য রফতানি করছে এমন সচল প্রতিষ্ঠান সুদবিহীন সর্বোচ্চ ২ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ দিয়ে ঋণ নিতে পারছে। জানা যায়, তহবিল থেকে ঋণ পেতে বিজিএমইএর সদস্য এক হাজার ৩৭০টি ও বিকেএমইএর সদস্য ৫১৯টি কারখানা আবেদন করেছিল। বিভিন্ন কারণে বিকেএমইএর ৯৯ সদস্য কারখানাসহ বেশি কিছু আবেদন বাতিল হয়। তবে এরপরও পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের সিংহভাগ অর্থই ঋণ হিসেবে পেয়েছেন পোশাকশিল্পের মালিকরা। ফলে দুই মাস ধরে পোশাক শ্রমিকদের একটি বড় অংশের মজুরি হচ্ছে প্রণোদনার টাকায়। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে চলমান সংকটে শ্রমিক-কর্মচারীদের আরও তিন মাসের বেতন-ভাতা দেয়ার জন্য বিশেষ অর্থ বরাদ্দ চান দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকরা। এই বরাদ্দ চেয়ে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী বরাবর চিঠি দেয় রফতনিমুখী পোশাক মালিকদের বড় দুটি সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।
এ বিষয়ে বিকেএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, চলমান সংকটে রফতানিমুখী শিল্পের ক্ষতির কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্বেচ্ছায় বেতন-ভাতা দেয়ার জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজ দিয়েছেন। ওই টাকায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পোশাক কারখানা তিন মাসের মজুরি দিচ্ছে। তিনি বলেন, প্যাকেজের ঋণের অর্থে আমরা এপ্রিল, মে ও জুন- এ তিন মাসের মজুরি দেয়ার সুযোগ পেয়েছি। এখন আগামী জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য আগের মতো সহজশর্তে অর্থবরাদ্দ চেয়েছি। কারণ আজ থেকে তিন-চার মাস পর আমাদের যে কাজ প্রোডাকশন লাইনে যাবে বা শিপমেন্ট হবে সেটা এখনই কনফার্ম হওয়া দরকার। কিন্তু আমাদের কাছে এ মুহূর্তে কোনো অর্ডার আসছে না। তাই আগামী তিন মাস শ্রমিকদের বেতন দেয়ার মতো পরিস্থিতি কারখানাগুলোর নেই। এমন অবস্থায় আমরা সরকারের কাছে আবেদন করেছি বেতন দেয়ার জন্য ঋণের সুবিধা আরও তিন মাস যেন দেয়া হয়।
এদিকে মিল-কলকারখানা চালু হলেও কোনো শিল্প ইউনিট ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। সক্ষমতার বিপরীতে অর্ডার নেই। বড় জোর ৩০ শতাংশ শ্রমিক-কর্মচারী দিয়ে মিল ফ্যাক্টরি চালানোর সুযোগ আছে। তাও কতদিন চলবে- তা অনিশ্চিত। এ হিসাবে কমপক্ষে বস্ত্র সেক্টরের ৭০ শতাংশ কর্মীর চাকরি হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু গার্মেন্ট সেক্টরেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১ কোটি লোকের কাজ থাকবে না। সূত্রমতে, বিজিএমইএর দাবি অনুযায়ী তাদের শ্রমিক সংখ্যা ৪৫ লাখ হলে এর ৭০ শতাংশ অর্থাৎ ৩১ লাখের বেশি শ্রমিকের কাজ থাকছে না। এছাড়া তৈরি পোশাকের পশ্চাৎপদ শিল্প যেমন স্পিনিং, টেক্সটাইল, এক্সেসরিজ, পরিবহন, ফ্রেইট ফরোয়াডার্স, সিএন্ডএফ এজেন্টসহ পরোক্ষভাবে জড়িত শ্রমিক-কর্মচারীদের বড় অংশ কর্মহীন হয়ে পড়বে। এর বাইরেও পরোক্ষভাবে একটি কারখানাকে কেন্দ্র করে আরও অনেক ছোটখাটো ব্যবসা-বাণিজ্য গড়ে ওঠে। সেগুলোর কাজ কিংবা আয়ের পথ বন্ধ হবে। সব মিলিয়ে হিসাব করলে কোটির কাছাকাছি হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প মালিকদের কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, যে যাই বলুক না কেন, বাস্তবতা হল বর্তমানে গার্মেন্টে যে কাজ আছে সেখানে ৩০ শতাংশের বেশি শ্রমিক কাজে লাগানোর সুযোগ নেই। যদি সুবিধামতো অর্ডার না পাওয়া যায় তাহলে চালু রাখা তো দূরের কথা, পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেয়া ছাড়া কোনো পথ খোলা থাকবে না। এর সঙ্গে ছাঁটাইয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। কাজ না থাকলে বেতন দেবে কে? ব্যবসার স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে কেউ থাকতে পারবেন না। ইতোমধ্যে শিল্প মালিকরা লোকসান দিয়ে হলেও শ্রমিক-কর্মচারীদের ধরে রেখেছেন। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হলে সামনের দিকে সামলানো সম্ভব হবে না। তারা বলেন, অবস্থাদৃষ্টে যা দেখা যাচ্ছে, তাতে সামগ্রিকভাবে বস্ত্র খাত আদৌ আর কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারবে কিনা সন্দেহ আছে। তাই সংকট নিরসনে সরকারকেই এখন এগিয়ে আসতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ম্যাকেঞ্জির তথ্য অনুযায়ী করোনার প্রভাবে আগের বছরের তুলনায় চলতি বছর বিশ্বের পোশাক বাজারে বিক্রি ৩০ শতাংশ হ্রাস পাবে। অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে পোশাক রফতানি ১০ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পাবে। চলতি অর্থবছরের ৮ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) পোশাক শিল্পে ঋণাত্মক ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা গত ৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি। করোনার প্রভাবে মার্চ পর্যন্ত ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ক্রয়াদেশ বাতিল হয়ে গেছে। কারণ বহির্বিশ্বে বাজার সংকুচিত হয়ে পড়েছে। অনেক বড় বড় ক্রেতা দেউলিয়াত্বও বরণ করেছে। অর্ডার কমে যাওয়ায় চলমান পরিস্থিতিতে কোনো কারখানাই সামর্থ্যের শতভাগ ব্যবহার করতে পারছে না। অনেক কারখানা ৩৫ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে। বড় কারখানাগুলোও ৬০ শতাংশের বেশি সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে না। জুনে কারখানাগুলো গড়ে ৫৫ শতাংশ সক্ষমতা ব্যবহার করে কোনোরকমে উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখছে। জুলাইর পরিস্থিতি এখনই অনুমান করা কঠিন। গত ৪ জুন এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক এমন বাস্তবতা তুলে ধরে বলেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কারখানাগুলো ক্যাপাসিটির ৫৫ শতাংশ কাজে লাগাতে পারছে। এ ক্যাপাসিটিতে কারখানা চালিয়ে শতভাগ কর্মী রাখা উদ্যোক্তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এমন প্রেক্ষাপটে জুন থেকে শ্রমিক ছাঁটাই করা হতে পারে। এটি অনাকাঙ্খিত বাস্তবতা, কিন্তু করার কিছু নেই।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ভোগ ও চাহিদা কমে যাওয়ায় সারা বিশ্বেই শ্রমিক ছাঁটাই হচ্ছে। বাংলাদেশেও এর বাইরে নয়। কারণ একদিকে পোশাকের অর্ডার কমে গেছে। অন্যদিকে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে কারখানায় লে-আউট প্ল্যান পরিবর্তন করতে হয়েছে। এতে ৩০ শতাংশ মেশিন সরিয়ে ফেলতে হয়েছে। সেই ৩০ শতাংশ শ্রমিককেও সরকারের প্রণোদনা তহবিলের টাকায় এপ্রিল ও মে মাসে কাজ ছাড়া বেতন দেয়া হয়েছে। এ টাকা মালিকদেরই পরিশোধ করতে হবে। এ অবস্থা চলতে থাকলে তৈরি পোশাক খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় এক কোটি শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, কোনো মালিকই শ্রমিক ছাঁটাই করতে চান না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, মহামারীর কাছে মালিকরা অসহায়। শুধু গত ২ মাসেই প্রায় ৩শ’ গার্মেন্ট বন্ধ হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে কী হবে তা কেউ বলতে পারছে না।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, তৈরি পোশাকের পশ্চাৎপদ শিল্প হিসেবে টেক্সটাইল খাতও কোভিড-১৯ এ চরম ক্ষতিগ্রস্ত। অর্ডার যেভাবে বাতিল হচ্ছে, তাতে রফতানিমুখী টেক্সটাইল খাতের উৎপাদন কমবে। পাশাপাশি দেশে লকডাউন থাকায় স্থানীয় সুতা-কাপড়ের চাহিদা কমে এসেছে। এভাবে চললে ভবিষ্যতে কী হবে তা বলা যাচ্ছে না। উদ্যোক্তারা এখন লাভের জন্য নয়, বেঁচে থাকার জন্য কারখানা চালাচ্ছেন। কিন্তু করোনা দীর্ঘায়িত হলে সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে যাবে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টশ অ্যাক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএপিএমইএ) সভাপতি আবদুল কাদের খান বলেন, আগের অর্ডার দিয়ে জুন পর্যন্ত কারখানা চালানো যাবে। কিন্তু জুলাইয়ে কী হবে তা বলা যাচ্ছে না। গার্মেন্ট থেকে এক্সেসরিজের অর্ডার দিচ্ছে না।

ক্রাইম ডায়রি//অনলাইন//জাতীয়

Total Page Visits: 66255

চট্টগ্রাম মহানগরীর বীর অভি হত্যাকান্ডঃ এলাকাবাসীর মানববন্ধন

বাবুল হোসেন বাবলা, চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধিঃ 

অভি হত্যার প্রতিবাদে আগ্রাবাদ এলাকায় সাধারণ মানুষের মানববন্ধন অভি হত্যার প্রতিবাদে রাজপথে নেমে এসেছে এলাকাবাসী আগ্রাবাদ মিস্ত্রিপাড়া এলাকার বাসিন্দা শহীদ মীর ছাদেক অভি হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। আগ্রাবাদ এলাকার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে আজ ২৭ জুন দুপুর ৩টায় নগরীর আগ্রবাদ এলাকায় “ডবলমুরিং থানার সর্বস্তরের জনসাধারণ” এর ব্যানারে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। উক্ত মানববন্ধন থেকে অভি হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয় এবং প্রশাসনের ঢিলেঢালা মনোভাবের তীব্র ক্ষোভ জানানো হয়। উক্ত মানববন্ধনে শহীদ মীর ছাদেক অভির শোকাহত মা শিরিন আকতার উপস্থিত হয়ে অবিলম্বে অভি হত্যাকান্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানান এবং অভির মাদক বিরোধী সংগ্রাম অব্যাহত রাখার জন্য চট্টগ্রামবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান। উক্ত মানববন্দন থেকে অভি হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে স্লোগান দেয়া হয়।

মাদকবাজরা অভির মতো মাদকবিরোধীদের হারিয়ে দিতে পারেনা। এ সমাজে হাজারো ভাল মানুষের মাঝে অন্যায়কারী এক/দুইজন। এরা যদি হাজারো মানুষের ভীরে অন্যায় করে পার পেয়ে যায় তবে বুঝতে হবে আসলে অন্যায়কারী এই প্রশ্রয়দাতা সবাই। তখন এর দায় কেউ এড়াতে পারবেনা।


উক্ত মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা বলেন, সামাজিক কর্মকান্ডে অভির সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মাদক বিরোধী তার নানামূখী কর্মকান্ডের কারণে তিনি সর্বমহলে সমাদৃত ছিলেন। তিনি বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন। মানুষের প্রতি তার ভালবাসার কারণেই তিনি এলাকাবাসীর অত্যধিক প্রিয় সন্তান ছিলেন। কিন্তু মাদক সন্ত্রাসীরা হত্যা করেছে আমাদের প্রিয় এই সন্তানকে। এই হত্যাকান্ড আমাদের হৃদয়ে ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। অভির হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ আমাদের এই ক্ষত শুকাবে না। অভির মৃত্যুর কয়েকদিন পার হয়ে গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনরূপ এ্যাকশান না দেখে আমরা খুবই মর্মাহত। অবিলম্বে অভির খুনিদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। অন্যাতায় আমরা এলাকাবাসী রাজপথে আরো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।


উক্ত মানববন্ধনে এলাকার বিভিন্ন স্তরের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অভির হত্যাকারীদের গ্রেফতার দাবী করে এ সময় বক্তব্য রাখেন শহীদ অভির মা শিরিন আকতার, ছাত্রনেতা গাজী মো. সিরাজ উল­াহ, জসিম উদ্দিন চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাঈন উদ্দিন আহমেদ রাশেদ, মীর জাহেদ ইলাহী রানা, যুব নেতা মো. সেলিম, বজল আহমদ, মো. আলমগীর, আগ্রাবাদ মোটর পার্টস সমিতির সভাপতি সৈয়দ ওমর ফারুক, বিশিষ্ট শিল্পপতি সাহেদ আলী সারজিল, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মীর সাদাত, মঈনুল হাসান লেমন, মো. আলম, মুজিবুর রহমান, মীর ও সৈয়দ বাড়ীর সর্দার সেকান্দর মিয়া, ছাত্রনেতা সামিয়াত আমিন জিসান, জাফরুল হাসান রানা, আরিফুর রহমান মিঠু, মাসুদ সিকদার, সৌরভ প্রিয় পাল, এম কে রিয়াদ, মাহমুদুর রহমান বাবু, কাইয়ুম রশিদ বাবু, আরশে আজিম আরিফ, মাঈন উদ্দিন মিনহাজ, ডিএইচ শিশির, মো. হামিদ, এম. ডি সোহেল মাল্টু প্রমুখ।

ক্রাইম ডায়রি/ মহানগর

Total Page Visits: 66255

ঝালকাঠিতে কিস্তি পরিশোধ না করায় খুনের চেষ্টাঃ মামলা দায়ের

ইমাম  বিমান, ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধিঃ
করোনা মহামারী পরিস্থিতিতেও পিছু ছাড়েনি কিস্তি কোম্পানির লোকজন।  জনসেবার কথা বললেও ব্রিটিশ আমলের সুদে মহাজনদের মত এখনও ঘাড়ে সওয়ার হয়ে কিস্তি প্রদান ও উত্তোলনের ঘটনা বড়ই পীড়াদায়ক।
সরকারের নির্দেশনা থাকলেও ঝালকাঠিতে করোনা সংকটে কিস্তির টাকা না দিতে পারায় প্রকাশ্যে ঋন গ্রহীতাকে মারধর করে হত্যার চেষ্টা অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ঝালকাঠিতে করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যেও থেমে নেই বেসরকারি সমবয় সমিতির আওতাধীন কিস্তির টাকা আদায়। আর এ কিস্তির টাকা দিতে না পারায় মজিবর রহমান(৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে ধরালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা চেষ্টা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে মিলন হাওলাদার(৩৮) ও সুমন মাঝি( ৩৬) নামের দুই এনজি কর্মীর বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার(২৪ জুন) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটেছে শহরের পুরাতন খেয়াঘাটে।
এ বিষয় থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, ঝালকাঠি পৌরসভাধীন আশার আলো কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড কতৃক পৌরসভা খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকায় বসবাসরত মোঃ মজিবর রহমান ঝালকাঠি পূবালী ব্যাংক শাখায় তার ব্যক্তিগত এ্যাকাউন্টে ব্যবহারিত নিজ স্বাক্ষর সম্বলিত একটি চেক জামানত পূর্বক উক্ত সমবায় সমিতি থেকে চল্লিশ হাজার টাকা ঋন গ্রহন করি। উক্ত ঋনের টাকা কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধ করে আসছি, ঋণ গ্রহনের পর থেকে ৯টি কিস্তি পরিশোধ করা হলে দেশে করোনা ভাইরাস ( কোভিড-১৯) প্রাদূর্ভাবের জন্য বাকি কিস্তির টাকা যথাসময়ে পরিশোধ করতে না পারায় উক্ত সমবায় সমিতির পরিচালক মিলন হাওলাদার আমার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে বিভিন্ন সময় কিস্তির টাকা পরিশোধ করার জন্য গালাগাল পূর্বক আমাকে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। গত ২৪জুন সন্ধ্যায় আমার মুঠোফোনে উক্ত সমিতি সদস্য সুমন মাঝি আমাকে পৌর খেয়াঘাট সংলগ্ন রাস্তায় বের হতে বলে। আমি সুমনের কথায় রাস্তায় বের হলে আশার আলো কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতির পরিচালক মিলন হাওলাদার কোন কথা না বলে কিস্তির টাকা দে, বলে আমার গলা চেপে আমাকে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। আমি কোনমতে আমার গলা থেকে তার হাত সরিয়ে ফেলে চিৎকার করলে তারা দুজনে মিলে আমাকে এলোপাথারী  কিলঘুষি মারতে থাকে। এক পর্যায় মিলন তার প্যান্টের পকেট থেকে চাকু বের করে আমার গলায় পোচ দেয় আমি সরে গেলে সেই পোচ আমার বাম কানের উপর লেগে কাটা যখম হয়। আমাকে মারধর করার ফাঁকে মিলন ও সুমন আমার গলায় থাকা স্বর্নের চেইন, পকেটে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে মজিবরকে খুনের ভয় দেখিয়ে মিলন ও সুমন চলে যায়।
করোনা মহামারী পরিস্থিতিতেও পিছু ছাড়েনি কিস্তি কোম্পানির লোকজন।  জনসেবার কথা বললেও ব্রিটিশ আমলের সুদে মহাজনদের মত এখনও ঘাড়ে সওয়ার হয়ে কিস্তি প্রদান ও উত্তোলনের ঘটনা বড়ই পীড়াদায়ক।
এ বিষয় ভুক্তভোগী মজিবর বলেন, করোনা মহামারীর পূর্বে আমি ঝালকাঠি শহরের সদর চৌমাথা এলাকার আশার আলো কৃষি উন্নয়ন সমবয় সমিতির লিমিটেড থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ উত্তোলন করি। নিয়মিত ভাবে ৯টি কিস্তির টাকাও পরিশোধ করি।কিন্তু এর পর করোনা মহামারী শুরু হলে আর্থিক ভাবে অসহায় হয়ে পড়ি এবং তিন মাস ধরে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হই। ব্যর্থতার জেরধরে অভিযুক্ত মিলন ও সুমন আমাকে প্রতিনিয়তা কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য গালাগাল পূর্বক চাপ সৃষ্টি করতে থাকে।
এ বিষয় মজিবর রহমানের স্ত্রী জানান, বৃহস্পতিবার মাগরীব নামাজ শেষে আমি তজবী পড়তে ছিলাম হঠাৎ ঘরের বাইরে আমার স্বামীর চিৎকার শুনতে পেয়ে আমি ও আমার ছেলে মেয়ে দৌড়ে গিয়ে দেখি মিলন ও সুমন আমার স্বামীকে মারধর করছে। আমি দৌড়ে গিয়ে আমার স্বামীকে জড়িয়ে ধরে তাদেরকে না মারার জন্য অনুরোধ করলেও তারা মারধর করতে থাকে, আমি বারন করতে গেলে মিলন আমার শরীরেও কিলঘুষি মেরে আঘাত করে।
করোনা মহামারিতে সরকার এনজিও ঋণের কিস্তি পরিশোধ শিথিল করেছে। এমন কি চাপ দিয়ে টাকা আদায় করলে ওই এনজিওর নিবন্ধন বাতিল করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তারপরও মজিবর রহমানের কাছ থেকে জোর করে কিস্তির টাকা আদায় করার চেষ্টা করে মিলন ও সুমন। এ বিষয় অভিযুক্ত মিলনের ফোনে কল করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অপরদিকে সুমনের ফোনে কল দিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি মারধরের কথা অশ্বিকার করে বলেন,  মজিবরের সাথে আমাদের বাকবিতন্ড হয়।
এ ব্যাপারে ঝালকাঠি থানার ওসি খলিলুর রহমান ক্রাইম ডায়রিকে   বলেন, অভিযোগ অনুযায়ী তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।
ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম //জেলা
Total Page Visits: 66255

ধৈর্য্য ধরল দুই দেশঃ কমান্ডার বৈঠকে সিদ্ধান্ত

ক্রাইম ডায়রি ডেস্কঃ

টান টান উত্তেজনা। সারা বিশ্ব তাকিয়ে আছে বিশ্বের সেরা দুই রাষ্ট্রের রশি টানাটানি দেখতে। আবার এটাও অনেকে দেখতে চেয়েছেন কার ধৈর্য্য ও সহিষ্ণুতা বেশি। কারন, সবাই জানে ধৈর্য্যশীলরাই বিজয়ী  । অবশেষে সেই পরিচয় মিলল দুই দেশের আচরনে। চীন-ভারত উত্তেজনা নিরসনে বৈঠক শেষ করেছে দু্‌ই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা।বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে,  সেনারা স্ব স্ব দেশের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় সম্মুখ অবস্থান থেকে পরস্পর দূরত্বে অবস্থান করবে। ২৩শে জুন, ২০২০ইং সোমবার দু’দেশের কমান্ডারদের মধ্যে দীর্ঘ ১১ ঘণ্টার বৈঠকের ফল নিয়ে বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেন, উত্তেজনা কমাতে দুই পক্ষই রাজি হয়েছে।

টান টান উত্তেজনা। সারা বিশ্ব তাকিয়ে আছে বিশ্বের সেরা দুই রাষ্ট্রের রশি টানাটানি দেখতে। আবার এটাও অনেকে দেখতে চেয়েছেন কার ধৈর্য্য ও সহিষ্ণুতা বেশি। কারন, সবাই জানে ধৈর্য্যশীলরাই বিজয়ী।

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলোর  প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত যদি চীনের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধকে সংঘাত বা এমনকি স্থানীয় যুদ্ধে পরিণত করে, তবে এটি পাথরের বিরুদ্ধে ডিম ছোড়ার মতো হবে। তবে, বরাবরের মতই প্রতিজন ভারতীয় অন্ধ বিশ্বাস করে ভারতীয় সেনা আধুনিকায়ন করা হয়েছে। তারা চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মিকে পরাস্ত করতে পারবে এবং ১৯৬২ সালে চীনের কাছে পরাস্ত হওয়ার প্রতিশোধ নিবে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন হয়েছে দু’দেশেরই। কয়েক দশক ধরে চীন-ভারত সীমান্তে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে সম্মুখ গুলি বিনিময়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

গ্লোবাল টাইমস বলছে, যদি ভারতীয় সেনারা ভবিষ্যতে চীনা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহার করে, তবে সীমান্ত এলাকার চিত্র ভিন্ন হবে।

তবে চীন ভারতীয়দের হুশিয়ারি দিয়েছে, যদি ভারতীয় সেনারা অস্ত্রবিহীন সংঘর্ষে চীনা সেনাবাহিনীকে পরাজিত করতে না পারে, তাহলে গোলা এবং অন্যান্য আগ্নেয়াস্ত্র আপনাদের সাহায্য করতে পারবে না। এর কারণ, চীনের সামরিক শক্তি ভারতের চেয়ে অনেক উন্নত এবং শক্তিশালী বলে দাবী করা হয়। আগের চীনা অর্থনীতি আর আজকের দেশটির অর্থনীতি এক নয়। চীনের জিডিপি ভারতের চেয়ে পাঁচগুণ বেশি। এ ছাড়া চীনের সামরিক ব্যয় ভারতে চেয়ে তিনগুণ বেশি ।

ক্রাইম ডায়রি//আন্তর্জাতিক

Total Page Visits: 66255

নকল মাস্ক তৈরি চক্র সি আই ডি’র জালে আটক

বিশেষ প্রতিনিধ, ঢাকা মহানগরঃ

একের পর এক সাফল্য দেখিয়ে নিজেদের অবস্থানকে বরাবরই শক্তিশালী করে রেখেছে সিআইডি পুলিশ।  এ যেন সিরিয়াল ক্রাইম ফিকশান মুভির সিআইডি’র মতো। যেখানেই অভিযান সেখানেই অভাবনীয় সাফল্য। করোনা মহামারীর মধ্যেও মৃত্যু যখন সুনিশ্চিত তখনও আর্থিক লাভবান হবার আশায় ” জীবন মৃত্যুর ”      পণ্য দিয়ে মানুষ ঠকানো বড্ড অমানবিক নয় কি??

এরকমই একটা অপরাধ করছিল একদল প্রতারক।করোনা প্রতিরোধী মাস্কের কথা বলে তারা নকল মাস্ক তৈরি করে সারাদেশে সরবরাহ করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিআইডি’র সিরিয়াস ক্রাইম বিভাগের  একটি বিশেষ টিম পুরোনো ঢাকার ওয়ারী থানাধীন নারিন্দা ভূতের গলিতে অভিযান চালায়। এ সময় ঐ এলাকা হতে নকল মাস্ক ও মাস্ক তৈরীর উপকরণ সহ ০৫ (পাঁচ) জনকে গ্রেফতার করেছে।

করোনা মহামারীর মধ্যেও মৃত্যু যখন সুনিশ্চিত তখনও আর্থিক লাভবান হবার আশায় ” জীবন মৃত্যুর ”      পণ্য দিয়ে মানুষ ঠকানো বড্ড অমানবিক নয় কি??

সি আই ডি সূত্রে জানা গেছে, সানরাইজ ব্যাগ কোম্পানী নামে একটি চক্র করোনা প্যানডেমিক ছড়িয়ে পড়ার পরে নকল মাস্ক তৈরি করেআসছে মর্মে সিআইডি সূত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়। উক্ত অভিযানে প্রায় ১৪০,০০০ (এক লক্ষ চল্লিশ হাজার) পিস নকল মাস্ক যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১৪০,০০০ x ১৫=২১,০০,০০০/- (একুশ লক্ষ টাকা) এবং প্রায় ১০০০কেজি নকল মাস্ক তৈরির ফেব্রিক্স জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১০০০ x ২৫০=২,৫০,০০০/- (দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সি আই ডিসূত্রে জানা গেছে, কোম্পানির মালিকগ  খালিদ ইমরান (৪০), ২। এমডি রেহান ইউসুব ৩। মোঃ আব্দুল সোবহান (২০), ৪। জিতু চন্দ্র দাস (৩৬), ৫। মোঃ ওসমান গণী (২৭) গং দের ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে।    জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানিয়েছে, তারা  অনেক দিন ধরে ঠিকাদারের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন দপ্তর/প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের নকল মাস্ক সরবরাহ করে আসছে। যা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত করেছে সি আই ডি।

সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রাজীব ফরহান এর নেতৃত্বে পরিচালিত উক্ত অভিযানে সিআইডির ৮ সদস্যের একটি টিম অংশ গ্রহণ করে। এ ধরনের অবৈধ মাস্ক তৈরির কারখানা ও সংশ্লিষ্ট
ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সিআইডির অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সি আই ডি সূত্রেজানা গেছে।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম// অপরাধ জগত

Total Page Visits: 66255

রাজশাহীতে প্রকাশ্যে তেত্রিশ লাখ টাকা কেড়ে নিল ওরা

রাজশাহী মহানগর সংবাদদাতাঃ

শান্ত শহর হিসেবে পরিচিত রাজশাহী মহানগরীতে প্রকাশ্য দিনের বেলার ফিল্মি ষ্টাইলে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। সরেজমিন ও প্রশাসন সুত্রে  জানা যায়,    ১৮ই জুন, ২০২০ ইং বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে নগরীর অলোকার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।  ভিভো মোবাইল ফোনের শো-রুম ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত টাকা ব্যাংকে জমা করার জন্য নেয়ার পথে এই নাটকীয় ঘটনাটি ঘটে। সরেজমিন তদন্ত এবং ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ঘটনাটি পরিকল্পিত ও সাজানো বলে জানায় পুলিশ।

তাদের দুই কর্মী দুপুরে দুটি ব্যাগে করে মোট ৩৭ লাখ ৩৭ হাজার টাকা নিয়ে ব্যাংকে যাওয়ার জন্য শোরুম থেকে বের হন। রাস্তায় মোটরসাইকেলে দুই যুবক এসে একজনের কাছে থাকা একটি ব্যাগ নিয়ে চলে যায়।

এদিকে এই ঘটনার বিষয়ে অলোকার মোড়ের ভিভো মোবাইল ফোন শোরুমের মালিক রঞ্জন রায় ক্রাইম ডায়রিকে বলেন,   তারা কয়েকজন ব্যবসায়ী শোরুমটি চালান। নতুন কিছু ফোন নেয়ার জন্য টাকাগুলো ভিভোর ব্যাংক হিসাবে জমা দেয়ার কথা ছিল।

তাদের দুই কর্মী দুপুরে দুটি ব্যাগে করে মোট ৩৭ লাখ ৩৭ হাজার টাকা নিয়ে ব্যাংকে যাওয়ার জন্য শোরুম থেকে বের হন। রাস্তায় মোটরসাইকেলে দুই যুবক এসে একজনের কাছে থাকা একটি ব্যাগ নিয়ে চলে যায়।

তিনি আরও জানান, মোটরসাইকেলটি সাহেববাজারের দিক থেকে এসেছিল। মোটরসাইকেলের পেছনে বসা যুবক ৩৩ লাখ টাকা থাকা ব্যাগটি কেড়ে নেয়। এরপরই মোটরসাইকেলটি নিউমার্কেট হয়ে রেলগেটের দিকে চলে যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ বিষয়ে মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার ওসি নিবারন চন্দ্র বর্মণ ক্রাইম ডায়রিকে   জানান, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেছেন। যেভাবে টাকা নেয়া হয়েছে তাতে ঘটনাটি তাদের কাছে পরিকল্পিত এবং সাজানো বলে মনে হচ্ছে। তারপরও তারা তদন্ত করছেন। বেশি টাকা বহনের ক্ষেত্রে পুলিশি সহযোগীতা নেয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন,   এ বিষয় নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ক্রাইম ডায়রি// অপরাধ//মহানগর

Total Page Visits: 66255

ভয়ংকর রেড-ইয়োলো জোনে সাধারন ছুটি-সবুজ জোনে সীমিত

শরীফা আক্তার স্বর্না, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

করোনার অত্যধিক সংক্রমণ ঝুঁকিতে থাকা লাল (রেড) ও হলুদ (ইয়েলো) জোনে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এছাড়া সবুজ (গ্রিন) জোনে অফিস সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। আজ সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশনায় এ কথা জানানো হয়েছে। আদেশে আরও বলা হয়, আগের শর্তেই সরকারের দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন ও সরকারি-বেসরকারি অফিস চলবে। তবে করোনাভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধকল্পে শর্তসাপেক্ষে সার্বিক কার্যাবলি ও চলাচলে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ১৬ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সাপ্তাহিক ছুটি এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে।

সংক্রামক ব্যাধি আইনে এ সংক্রান্ত তালিকা প্রকাশের ক্ষমতা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দেয়া আছে। তবে লকডাউন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, কোথায় লকডাউন হবে তার তালিকা স্থানীয় প্রশাসন ঠিক করবে। কোন কোন স্থান লকডাউন করা হবে তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। কোথায় কোথায় লকডাউন হবে তা আমার বলারও সুযোগ নেই। স্বাস্থ্য অধিদফতর এটা ঘোষণা করবে।

 

ঢাকা উত্তর সিটি

উত্তর সিটি করপোরেশনে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলো হলো : গুলশান, বাড্ডা, ক্যান্টনমেন্ট, মহাখালী, তেজগাঁও, রামপুরা, আফতাবনগর, মোহাম্মদপুর, কল্যাণপুর, গুলশান, মগবাজার, এয়ারপোর্ট, বনশ্রী, রাজাবাজার, উত্তরা, মিরপুর।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২৮টি এলাকাকে রেড জোন হিসেবে ধরা হয়েছে। এগুলো হলো : যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মুগদা, গেন্ডারিয়া, ধানমন্ডি, জিগাতলা, লালবাগ, আজিমপুর, বাসাবো, শান্তিনগর, পল্টন, কলাবাগান, রমনা, সূত্রাপুর, মালিবাগ, কোতোয়ালি, টিকাটুলি, মিটফোর্ড, শাহজাহানপুর, মতিঝিল, ওয়ারী, খিলগাঁও, পরিবাগ, কদমতলী, সিদ্ধেশ্বরী, লক্ষ্মীবাজার, এলিফ্যান্ট রোড, সেগুনবাগিচা।

চট্টগ্রাম সিটি

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ১০ এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলো হলো: চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৭ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড, পতেঙ্গার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড, পাহাড়তলির ১০ নম্বর ওয়ার্ড, কোতোয়ালির ১৬, ২০, ২১ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ড, খুলশীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ড, হালিশহর এলাকার ২৬ নম্বর ওয়ার্ড।

বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদফতর কর্তৃক প্রণীত (Bangladesh risk zone-based covid-19 containment implementation startegy/guide) গাইডলাইন অনুসরণ করে সংক্রমণের ভিত্তিতে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন-২০১৮ অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ লাল অঞ্চল, হলুদ অঞ্চল ও সবুজ অঞ্চল হিসেবে ভাগ করে জেলা/উপজেলা/এলকা/বাড়ি/মহল্লাভিত্তিক জন চলাচল/জীবনযাত্রা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।

আদেশে আরও বলা হয়, সিটি করপোরেশন এলাকায় অঞ্চলভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করার সার্বিক দায়িত্ব থাকবে সিটি করপোরেশনের। এর বাইরে জেলা প্রশাসন সার্বিক সমন্বয় করবে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান জেলা উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দফতর সমন্বিতভাবে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, কোভিড আক্রান্ত কিছু এলাকা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। ঢাকার এলাকাগুলোতে আমরা সহযোগিতা করছি। কিন্তু নির্দেশনা হচ্ছে, সিভিল সার্জনরা নিজেরাই জোনভিত্তিক এলাকা ঘোষণা করবেন। আমরা তাদের সহযোগিতা করবো। এটা স্থানীয়ভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হওয়াটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, লকডাউন সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে সেটি বাস্তবায়নে অনেক মন্ত্রণালয় ও দফতর জড়িত। তাই এককভাবে কারও পক্ষে কোনও এলাকা লকডাউন করা সম্ভব নয়।

এদিকে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানান, দেশের বিদ্যমান সংক্রামক রোগ আইন অনুযায়ী রাজধানীর বাইরে জেলাগুলোয় কোনও এলাকা লকডাউন করতে হলে সেই জেলার সিভিল সার্জনের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনুমতি নিয়েই লকডাউন করতে হবে। সেক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার লকডাউন কার্যকর করবেন। গাজীপুরে বেড়েই চলছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। সে কারণেই জেলার সব উপজেলার বিভিন্ন এলাকা রেড জোনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে জেলার বিভিন্ন এলাকা রেড জোনের আওতায় আনা হচ্ছে এবং সে জন্য প্রস্তুতি নিতেও বলা হয়েছে। তবে কোন কোন এলাকা রেড জোনের আওতায় আনা হচ্ছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে এখনও জানানো হয়নি কিংবা নির্দেশনা দেয়া হয়নি বলে জানান জেলা প্রশাসক।

এদিকে, জেলার কালীগঞ্জ পৌরসভার ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড শনিবার থেকেই রেড জোনের আওতায় আনা হয়েছে।গাজীপুর সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, রবিবার জেলায় সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে অরও ৯০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ২৩৩ জনে। এছাড়া মোট ২৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

Total Page Visits: 66255

অস্ত্র ও গুলিসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী টাইগার হাবিব সি আইডি’র হাতে গ্রেফতার

কালিমুল্লাহ দেওয়ান রাজা,নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

 

অস্ত্র ও গুলিসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী হাবিব ওরফে টাইগার হাবিবকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। সি আইডি সুত্রে জানা গেছে, ১৫ই জুন , ২০২০ ইং রাতে সিআইডি ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ) এর একটি টিম বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশের তালিকাভুক্ত অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী হাবিব ওরফে টাইগার হাবিব(৫০)কে ঢাকার কোতোয়ালী থানাধীন বাবুবাজার ব্রীজের উপর হতে একটি বিদেশী পিস্তল ও ২ রাউন্ড গুলি সহ গ্রেফতার করে।

সে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার ইসলামপুর, পাটুয়াটুলী, বাদামতলী এলাকায় সন্ত্রাসী বাহিনী পরিচালনা সহ ছিনতাই, চাঁদাবাজী ও জমি দখল করে আসছে। তার বাড়ি ঢাকার  কোতয়ালী থানার নবাব বাড়ি, পুকুরপাড়।

সি আইডি গ্রেফতারকৃতকে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে, সে কন্ট্রাক কিলিংসহ হত্যা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ছিল। তার নামে বর্তমানে ২টি অস্ত্র মামলা সহ ৩ টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অনেক দিন ধরে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছিল। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিআইডি ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ) বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়। এই বিষয়ে অস্ত্র আইনে সিআইডি বাদী হয়ে নতুন আরেকটি মামলা রুজু করেছে।
ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম//আইনশৃঙ্খলা

Total Page Visits: 66255

গরীবের টিউবওয়েল তালিকায় প্রবাসীর নাম

মিয়া মোহাম্মদ হেলাল, ক্রাইম ডায়রির   বিশেষ প্রতিনিধি, লন্ডন  হতেঃ

 

আওয়ামীলীগ একটি দূরদর্শী,স্বাধীনচেতা ও আপোসহীন দল। বৃহৎ দল হবার কারনে মাঝে মাঝে এ দলে অনাকাংখিত কেউ প্রবেশ করে দলের ভাবমূর্তী নষ্ট করে বটে কিন্তু নীতিনির্ধারক বঙ্গকন্যা ও দলের নেতা শেখ হাসিনা তার বাবা শেখ মুজিবের মত সেই অন্যায়কে তৈলমর্দিত হয়ে প্রশ্রয় দেন না । বরং অন্যায়কারীকে তার দল হতে দুরে সরিয়ে পরম মমতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের দল আওয়ামীলীগকে আগলিয়ে রাখেন। কিন্তু এরপরেও তার আশেপাশে খন্দকার মোশতাক কিংবা অন্যকোন মোনাফেকের ভুমিকায় এসে অনেকেই অনেক ক্ষতি করার চেষ্টা করে। আর একটা ক্ষমতাসীন দলের ভাবমূর্তীকে পদদলিত করার চেয়ে আর বড় ক্ষতি কি হতে পারে??? সম্প্রতি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমি আমার ফেসবুক পেইজে আওয়ামী বিরোধী শিবিরের নানামুখী কার্যক্রম কিংবা খন্দকার মোশতাক টাইপের লোকজনকে নিয়ে নানা মন্তব্য করি। শেখ হাসিনা কিংবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সৈনিক হিসেবে আওয়ামীলীগের ক্ষতি করে কেউ পার পাবে তা বিদেশ বিভূয়ে থাকলেও বরদাশত করব না। আমি মনে করি দলের ভাবমুর্তী ক্ষুন্ন কারীরা কখনই আওয়ামীলীগের মঙ্গল চাইতে পারেনা।

সম্প্রতি মহান   জাতীয় সংসদের বাজেট ও অষ্টম অধিবেশনে (১০ জুন) স্পিকার ডঃ শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রতি বছরের মতো এবারও অধিবেশন পরিচালনার জন্য ৫ সদস্যের প্যানেল সভাপতি মনোনয়ন দিয়েছেন। যাদের মধ্যে সুনামগঞ্জ-৫ আসনের জননন্দিত (সময় সময় নিন্দিতও) সাংসদ মহিবুর রহমান মানিক সাহেব অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। যে সংবাদ শুনার সাথে সাথেই সুনামগঞ্জ তথা ছাতকের ফেইসবুকঞ্চল আনন্দের বন্যায় তৈলাক্ত হয়ে উঠে। কিন্তু দুই দিনের মাথায় সেই তৈলাক্ত ফেইসবুকঞ্চলে যে হোঁচট খেয়ে পড়তে হবে তা কি কেউ চিন্তা করেছে ? চিন্তা না করলে কি হবে, পড়তেই তো হয়েছে।

নাজিমুদ্দিন দেশ ও জাতির জন্য ভিক্ষায় জমানো টাকা বিলিয়ে দিলেও বিত্তশালী কিংবা দল, বে-দলের ক্ষমতাসীনরা ৩০/৩৫ হাজার একটি টিউবওয়েলের লোভ সামলাতে পারেন না ?

মাননীয় সাংসদ সাহেব প্যানেল সভাপতি মনোনিত হওয়ার দুই দিনের মাথায় (১২ জুন) সাংসদ সাহেবের স্বাক্ষরযুক্ত জাতীয় সংসদের প্যাডে টিউবওয়েলর জন্য ছাতক উপজেলার ৫৬ জনের নামের তালিকা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসে প্রেরণ করেছেন। যে তালিকার ৪২ নম্বর নামটি হচ্ছে মিজানুর রহমান হিরু (যুক্তরাজ্য প্রবাসী), পিতা-আলহাজ্ব কলমদর আলী, গ্রাম-আমের তৈল, ইউনিয়ন-উত্তর খুরমা। যিনি আমাদের স্বনামধন্য এমপি সাহেবের ভাইয়ের ছোট ভাই। বিষয়টি ইচ্ছায় হোক কিংবা অনিচ্ছায় হোক সাদাকে সাদা আর কালোকে কালোেই বলব। অনিচ্ছায় হলে কি কারনে হলো তা খুঁজে বের করে বিভাগীয় তদন্ত ও শাস্তির ব্যবস্থা করে ভবিষ্যতে যাতে কেউ এমন কাজে সাহস না দেখায় তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবী।

যা দেখে চোখের সামনে ভেসে উঠছে ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিনের কথা_

আপনাদের কি মনে আছে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গান্ধীগাঁও গ্রামের ভিক্ষুক নাজিমুদ্দিনের (৮০) কথা ? হ্যা আমি সেই নাজিমুদ্দিনের কথা বলছি যার ভিক্ষাবৃত্তির টাকায় চলে আট জনের (স্ত্রী, তিন ছেলে ও তিন মেয়ে) সংসার। বসতঘর মেরামতের জন্য ভিক্ষার টাকা থেকে দুই বছর ধরে তিলে তিলে জমিয়েছিলেন ১০ হাজার টাকা। করোনা সংকটে সেই টাকা কর্মহীন ও নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবেল মাহমুদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।

নাজিমুদ্দিন দেশ ও জাতির জন্য ভিক্ষায় জমানো টাকা বিলিয়ে দিলেও বিত্তশালী কিংবা দল, বে-দলের ক্ষমতাসীনরা ৩০/৩৫ হাজার একটি টিউবওয়েলের লোভ সামলাতে পারেন না ? যুক্তরাজ্য প্রবাসীর নামটি ঢুকিয়ে দিলেন ? এটা কি সাংসদ সাহেবের জ্ঞাতসারে হয়েছে নাকি অজ্ঞাতসারে ডানে বায়ে থাকা হাইব্রিড স্বঘোষিত সাবেক যুবদল নেতা, ঐতিহাসিক “সৃষ্টির প্রসব বেদনা”র উক্তির মহান কারিগর দ্বারা আওয়ামীলীগের সুনাম নষ্ট করার জন্য বিরোধী দলের মিশন বাস্তবায়ন হচ্ছে ?
মাননীয় এমপি সাহেব, বিষয়টি ছাতক দোয়ারাবাসীকে লজ্জায় ফেলে দিয়েছে। ছাতক দোয়ারাবাসী আপনার কাছ থেকে পজিটিভ কিছু শুনতে চায় !!

***মিয়া মোহাম্মদ হেলাল

(লেখক, যুক্তরাজ্য প্রবাসী-মুক্তচিন্তার মূর্তপ্রতীক,দেশপ্রেমিক, আওয়ামী অনলাইন এক্টিভিস্ট, আওয়ামীলীগ গবেষক,  বঙ্গবন্ধু ও শেখহাসিনার  সূর্য সৈনিক,বাংলা ডায়রি মিডিয়া লিঃ এর উপদেষ্টা ।।।)

Total Page Visits: 66255