• সোমবার (বিকাল ৪:০৯)
    • ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

লাশের সারি বাড়ছেঃব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যুঃ আমরা জাগব কবে???

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, ২৬ এপ্রিল ২০২০ ইং রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৫ জন হয়েছে। গত এক দিনে সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরও ৯ জন। এ পর্যন্ত মোট ১২২ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা রোববার দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ২ জন নারী। তাদের ৪ ছিলেন রাজধানীর বাসিন্দা, আরেকজনের বাড়ি ঢাকার দোহারে। যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে একজনের বয়স ৬০ বছরের বেশি; ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী তিন জন। এছাড়া দশ বছরের কম বয়সী এক শিশুও আছে মৃতদের মধ্যে।

নাসিমা সুলতানা বলেন, “যে শিশুটি মারা গেছে, তার নেফ্রটিক সিনড্রোম, কিডনির অসুস্থতা ছিল। তারপরে তার কোভিড পজিটিভ হয়েছে।”

বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৩৬৮০টি, তার মধ্যে পরীক্ষা হয়েছে ৩ হাজার ৪৭৬টি নমুনা।

কোভিডি-১৯ আক্রান্তদের মধ্যে যারা সুস্থ হয়ে উঠেছেন, তাদের তথ্য জানাতে গিয়ে নাসিমা সুলতানা বলেন, “আমাদের বেশিরভাগ আক্রান্ত ব্যক্তি বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নেন। তারা সুস্থ হয়ে গেলে সে তথ্যটা এখানে আমরা দিই না। যারা হাসপাতাল হয়ে বাসায় যান, তাদের তথ্যটাই দিই। ”

একটা বিষয় এখানে পরিস্কার বন্ধ রাখলেই সব কিছুর সমাধান হয়ে যাচ্ছেনা। যদি না প্রতিটি নাগরিক নিজ হতে হোম কোয়ারেন্টাইন বিধি মেনে না চলেন। সব কিছু বন্ধ রাখা হলো আর আমরা নিজেরা সেই বিধি যথারীতি অমান্য করে চললাম। তাতে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই হচ্ছে কিন্তু যে জন্য বন্ধ রাখা হলো সেই উদ্দেশ্য সফল হবেনা। সুতরাং নিজ জীবনের মায়া যদি ব্যক্তি পর্যায়ে তৈরি না হয় তবে বন্ধ রাখলেই কি আর খোলা রাখলেই বা কি? তবুও সার্বিক লকডাউন জরুরী ছিল যা সরকারের তরফ হতে করা হয়েছে। এখন বাকী দায়িত্ব জনগনের । যে মৃত্যু তার স্বজনদেরও এমনকি স্ত্রী সন্তানকেও কবরস্থ করা সুযোগ দেয়না। সেই মর্মান্তিক মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে চাইলে এখনও সময় আছে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সামাজিক দুরত্ব মেনে চলুন। সমষ্টিগত  লকডাউনই পারে করোনা ঝুঁকি হতে জাতিকে মুক্তি দিতে।।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বেসরকারি এক ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। ওই কর্মকর্তা সিটি ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগে এফভিপি ছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৪০ বছর। তার সংসারে স্ত্রী ও এক মেয়ে রয়েছে।

মুগদা হাসপাতালের অধ্যক্ষ (চলতি দায়িত্ব) ডা. শাহ গোলাম নবী সাংবাদিকদের বলেন, এই হাসপাতালে দুইজন মারা গেছেন। তবে ওই ব্যক্তি ব্যাংক কর্মকর্তা কিনা তা কাগজে লেখা নাই।

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোভিড-১৯ বিষয়ক টিমের ফোকাল পার্সন সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ওই ব্যক্তি করোনাভাইরাসের রোগী ছিলেন। আজ (রোববার) সকাল ১০টায় তার মৃত্যু হয়েছে।

দেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে লকডাউনের মধ্যেও ব্যাংক খোলা রয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন ব্যাংকার আক্রান্তও হয়েছেন। তবে মৃত্যুর ঘটনা এটাই প্রথম।

সিটি ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, কয়েকদিন ধরে ওই কর্মকর্তা সর্দি-কাশি এবং জ্বরে ভুগছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শে দুই বার তিনি নমুনা পরীক্ষা করিয়েছিলেন। তবে দুবারই ‘নেগেটিভ’ আসে। চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি।

অসুস্থতা বাড়লে শনিবার সকালে আবারও মুগদা হাসপাতালে যান ওই ব্যাংক কর্মকর্তা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শাহরিয়ারকে ভর্তি করে নেন। নমুনা আবার পরীক্ষা করে করোনাভাইরাস ‘পজিটিভ’ আসে।

সিটি ব্যাংকের ওই কর্মকর্তাকে হাসপাতালে ভর্তির পরই মোবাইল ফোনে তার পরিবারকে কল করে তার সঙ্গে দেখা না করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। মৃত্যুর পর তার পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে থাকতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই কর্মকর্তার লাশ স্বজনদের কাছে দেওয়া হয়নি। সিটি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর না করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিধি অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রাজধানীর তালতলা কবরস্থানে দাফন করে।

ক্রাইম ডায়রি///

Total Page Visits: 66255