• রবিবার (ভোর ৫:৫৭)
    • ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

কখন হবে শাটডাউনঃএকটি প্রানের যেমন দাম আছে তেমনি একজন বেপরোয়া আক্রান্তেও ভয় আছে

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃ

মানবিকতা থাকলেও কঠোরতা এখন সময়ের দাবী হয়ে উঠেছে। কোন সন্তান যদি ভাল মন্দকে গুরুত্ব না দিয়ে মন্দকাজের দিকে ধাবিত হয়ে তখন বাবারা কিন্ত শাসনের লাঠিকেই ব্যবহার করেন। তখন সেই সন্তানের বিষয়টি খারাপ লাগলেও আখেরে কিন্ত ভালই হয়। আমরা যেমন জীবনে মাঝখানে এসে বলি আহহা! আব্বা যা করেছেন তা কত্ত ভাল ছিল। আমিই তো ভুল পথে ছিলাম। অনেককে এমন বলতেও শোনা যায়, ”আহারে বাপজান কত পড়তে কইছে হুনি নাই, আজ যদি হুনতাম তয় কত বালাই না অইত।” তাই সময়ের শাসন সময়ে ভাল মনে না হলেও অসময়ে তা ভাল হয়েই দেখা দেয়। এখন সময় এসেছে শাসনের লাঠি হাতে নেবার। পারিপাশ্বিক অবস্থা হতে শিক্ষা নেবার। ঠিক কি করলে আর কি বললে সবার চেতনা ফিরবে তা বোঝা দুষ্কর।ভয়াবহ ব্যাপার হলো গ্রামের মানুষের হেয়ালি।কিছুই হবেনা বলা। মাস্ক কিংবা গ্লভস কিংবা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এই কাজটা উচ্চশিক্ষিত পরিবারেই করতে পারিনি।।। হু হু করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা।।যেমনটি ঘটেছিল ইতালি ও আমেরিকায়। প্রথমত মানুষকে বোঝানোই যায়নি।।এরপরের মাসে এক ঝটকায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে গেল হুহু করে।পরের মাসের ঘটনা তো আমরা জানিই।এখন সেখানে শুধু মৃত্যুর মিছিল।। মানুষ ইতিহাস হতে,ঘটনা হতে শিক্ষা নিবে এটাই প্রাকৃতিক রীতি।মহান আল্লাহতায়ালা তার বান্দাদেরকে এজন্যই জ্ঞান অর্জনের তাগিদ করে ফরজ করে দিয়েছেন। কোরআনে অসংখ্য ঘটনার বর্ননা করেছেন যাতে সেই ঘটনাগুলো হতে মানুষ শিক্ষা নেয়।।। আমরা কিন্তু মহান মাবুদের নির্দেশনাও মানতে নারাজ।। পারিপার্শ্বিক অবস্থা হতে শিক্ষা না নিয়ে গাঁয়ের কেলু করছি।।সারাদেশে প্রশাসনের নির্বাহী কর্মকর্তারাও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।এক/দুজন মৃত্যু বরনও করেছেন।।সচেতন তারাও কিন্তু কম নন।।

 

***জাপানে জরুরি অবস্থা তুলে নেয়ার ২৬দিনের মাথায় আবারো জরুরি অবস্থা জারি করতে বাধ্য হয় তারা।

*** চীনে আবার ও হঠাৎ করে বাড়ছে লাশের সারি।।

 

আজ ২০ এপ্রিল পর্যন্ত রাজধানী বাসীকেও মোটেও বোঝানো সম্ভব হয় নাই লকডাউন মেনে চলতে। একটি প্রানের যেমন দাম আছে তেমনি একজন বেপরোয়া আক্রান্তেও ভয় আছে। ম্যাসাকার করার জন্য ঐ একজনই যথেষ্ট।  কোন ভাবেই যেন ওদের বোঝানো যাবেনা। মরলেও এরা বিশ্বাস করতে চায়না।দেখতে চায় কবরে ফূচকি দিয়ে যে সত্যই কাউকে দাফন করা হলো কিনা?

রাজধানীবাসী কয়েকদিনে এত্ত বেপরোয়া হয়েছে যে আপনি তা কল্পনাও করতে পারবেন না। আর যদি অভাবের কথা বলেন, তবে আমার সম্পূর্ন একক মত আছে। আর তা হলো বাংলাদেশে ফকিরদেরও একদুইমাস চলার সামর্থ্য আছে। কিন্ত অসীম লোভের ও জমানোর মানসিকতার কারনে আমাদের দ্বারা  ঘরে থাকা সম্ভব নয়। বহু লজিক আছে যা এখন এই প্রেক্ষাপটে না বলাই শ্রেয়। তবুও ঘরে থাকা নিজ জীবনের স্বার্থে এখন সময়ের দাবী। বেঁচে যদি থাকেন কাজের বহু সময় পাবেন। আর আক্রান্ত হলে নিজে তো যাবেনই পুরো পরিবার নিয়ে যাবেন। আর যদি কেউ থাকে তাকে কানা করে রেখে যাবেন। সুতরাং ঘরে থাকুন। কয়েকটি দিন মাত্র। নিরাপদে থাকুন আপনি ও পরিবারকেও নিরাপদে রাখুন। এই অসহায় সময়েও যাদেরকে অমানবিক,অমানুষ বলেন তারাও আপনার জন্যই জীবনের ঝুকি নিয়েছে।

হ্যা পুলিশের কথাই বলছি। উত্তরা হাউজবিল্ডিং এ দেখা গেল একজন পুলিশ সদস্য ক্যারাভান হতে পথের মানুষ,রিক্সাওয়ালা ও ক্ষুধার্তদের দুপুরের খাবার ও পানি দিচ্ছে। অনেকেরই মনে বড় লেগেছে। । মনে হলো কত আপনজন ওরা। নিজ জীবনের ঝুকি নিয়ে সেবা দিয়ে পুরো দেশ জুড়ে। এই মহামারীর মধ্যে এটা যে স্বার্থহীন তা বোঝানো লাগেনা। অমানুষ তো সব ক্ষেত্রেই থাকে । কিছু অমানুষের জন্য পুরো মনুষ্যত্বহীন মানুষদের তেমন কিছু যায় আসে কি??

বন্ধুদের উদ্দেশ্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তা রাজশাহীর পুঠিয়া থানার ওসি হাসমত আলীর মেসেজঃ

তোরা ভেবেছিস মাঠ থেকে পালিয়ে গেছি, কিন্তু না পুলিশ মাঠ থেকে পালায় না। তোরা জানিস পুঠিয়ায় এ পর্যন্ত মোট তিনজন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের সকলকে হোম কোয়ারেন্টাইন করে রাখাসহ সার্বিক বিষয় দেখভাল করতে হচ্ছে পুলিশ, ডাক্তার এবং স্থানীয় প্রশাসনকে। প্রতিনিয়ত ঐসকল সনাক্তকৃত রোগীদের কাছাকাছি যেতে হচ্ছে। তাই নিজের জন্য না হলেও পরিবারের জন্য বেশি বেশি সতর্ক থাকতে হচ্ছে। পরিবারের লোকজনসহ নিকট আত্মীয় স্বজন এবং তোরা বরাবরই আমাকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছিস। ভয় নেই শুধু দোয়া করিস। জয় একদিন আসবেই। সৃষ্টিকর্তা ক্ষমা করবেই।আমরা আবারও মিলিত হব প্রাণের টানে। ইনশাআল্লাহ।

সেনাসদস্যরা যাদেরকে এ জাতীর  লোকেরা নিরাপত আশ্রয়স্থল মনে করে তারাও বসে নেইঃ

করোনাভাইরাসের কারণে দেশে কর্মহীন হয়ে পড়া হতদরিদ্রদের বাড়িতে শুকনো খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। সোমবার (২০ এপ্রিল) রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার গ্রাম অঞ্চলে গিয়ে গরীব, অসহায় মানুষের বাড়িতে বাড়িতে ত্রাণ সমাগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন তারা।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রেক্ষিতে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ আর্মি ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ড (আর্টডক) এর অন্তর্ভুক্ত প্রশিক্ষণ সেন্টার ও প্রতিষ্ঠানসমূহ বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতার পাশাপাশি দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের মাঝে বিভিন্ন প্রকার ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার আর্টডক এর অন্তর্ভুক্ত প্রশিক্ষণ সেন্টার ও প্রতিষ্ঠানসমূহ রাজশাহীর দুর্গাপুর উপেজলা, নাটোর, বগুড়া, খুলনা, সিলেট ও চট্টগ্রামের নিজ নিজ এলাকায় ৪০০ টি করে দরিদ্র পরিবারের মাঝে শুকনো খাদ্য ও অন্যান্য সামগ্রী বিতরণ করেন। উল্লেখ্য, আর্টডকের ব্যবস্থাপনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে গত কয়েকদিনে ইতোমধ্যেই ২৫০০ পরিবারকে শুকনো খাবার, মাস্ক এবং ১০০০টি হ্যান্ড সানিটাইজার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও সেনাবাহিনীর তত্তাবধানে বৃদ্ধ ও সহায়সম্বলহীন পরিবারকে নিয়মিতভাবে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান অব্যাহত রয়েছে।

র‌্যাবের কার্যক্রমও মন কাড়বে আপনারঃ

মোঃ শামীম আনোয়ার ভাই র‌্যাব ৯ সিলেটের শ্রীমঙ্গলের কোম্পানী কমান্ডার। তার কিছু কার্যক্রম দেখুন ধারনা পাবেন হিউম্যানরা এখন ও আছে।

”কেন আমি নিজে বহন করি….

অনেকেই জানতে চান, আমি একজন বিসিএস ক্যাডার অফিসার এবং র‍্যাবের কমান্ডার হওয়া সত্ত্বেও কেন ত্রাণের খাদ্যসামগ্রীর বস্তা নিজে বহন করি? বোঝা নেওয়ার জন্য নিচের র‍্যাংকের লোকজন তো আছেই।

আসলে এক্ষেত্রে আমার ভাবনাটা একটু ভিন্ন। গত বেশ কিছুদিন ধরেই আমরা শ্রীমঙ্গল র‍্যাব ক্যাম্প পরিবার পায়ে হেঁটে দুর্গম অঞ্চলের প্রকৃত ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে সামান্য চাল-ডাল পৌঁছে দেওয়ার কাজটি করে আসছি। এখন আমি যদি আমার অধীনস্থ র‍্যাব সদস্যদেরকে বোঝা বহন করবার আদেশ দিয়ে নিজে খালি হাতে হাঁটতাম, তাহলে তারা হয়তো আমাকে স্বার্থপর একজন নেতা হিসেবেই চিহ্নিত করতো, যা তাদের কর্মস্পৃহা ও মনোবলকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতো নিশ্চিত। তাই প্রতিটি ক্ষেত্রে অধস্তনদের সমান ভার নেওয়া, খাদ্যসামগ্রীর বস্তা নিজেও বহন করে সবার সামনে সামনে চলাই আমার নেতৃত্ব দানের স্টাইল। কাঁধের র‍্যাংক দেখে নয়, কাজের মাধ্যমেই প্রমাণ হোক এখানে কমান্ডার কোন জন। অফিসাররা বোঝা মাথায় নিলে জাত চলে যাবে, বোঝা বহন করা শুধু নিচের র‍্যাংকের লোকদের কাজ- এমন অমানবিক ও মধ্যযুগীয় চিন্তাধারা করোনা ভাইরাসের সাথে সাথে পৃথিবী থেকে বিদায় হোক।

Md. Anwar Hossan (Shamim Anwar)
এএসপি, র‍্যাব-৯, সিলেট।
কমান্ডার, শ্রীমঙ্গল র‍্যাব ক্যাম্প।”

কিন্ত তারা যে এগুলো করছেন শুধুই কি লোক দেখানো না আপনার আমার জন্য। এই বিষয়টা মাথায় নেয়া উচিত। কোন স্বার্থ নেই এখানে যেখানে নিজের জীবনের নিরাপত্তা  নেই। কিন্ত আমরা যা করছি তা কখনই কাম্য নয়।
সাধারন মানুষ বিষয়টিকে অনেক ক্ষেত্রেই হয় রাজনৈতিক না হয় চোর পুলিশ খেলা মনে করছে। তাহলে বোঝা উচিত কেন মরছে ডাক্তাররা,কেন মরছে বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা ? তারা কি সচেতনতা জানেন না?? তাই সময় থাকতে আমরা সবাই সতর্ক হই। অসতর্কতার কারনে কিছু হলে তা হবে আত্নহত্যার শামিল যা কখনই আল্লাহতায়ালা পছন্দ করেন না।
ক্রাইম ডায়রি// জাতীয়
Total Page Visits: 66728

মৃত্যুর মিছিল ১০০ ছাড়ালোঃ আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে রকেটের গতিতে

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃ

ক্রমশই বেড়ে চলেছে  করোনা আক্রান্তের   সংখ্যা। কোন ভাবেই থামানো যাচ্ছেনা গজবের এই পাগলা ঘোড়াকে।।ঔষধের যে আশ্বাস মাঝে মধ্যে ফেসবুকে পাওয়া যাচ্ছে তা কিছুটা ফেসবুকেই সীমাবদ্ধ বলে মনে   হচ্ছে। নচেৎ যারা মৃত্যুর মিছিলেে যোগ হচ্ছেন তারা প্রাণে বাঁচার জন্য চেষ্টা কম করতেন না। আজ ২০এপ্রিল,২০২০ইং সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০১ জন।

এই সময়ে ২৭৭৯টি নমুনা পরীক্ষা করে ৪৯২ জনের মধ্যে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় আক্রান্তের মোট সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৯৪৮ জন হয়েছে।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগীর খোঁজ মেলে গত ৮ মার্চ; তার দশ দিনের মাথায় ঘটে প্রথম মৃত্যু। একদিনে এত বেশি নতুন রোগী আর কখনও বাংলাদেশে শনাক্ত হয়নি।

আক্রান্তদের মধ্যে গত এক দিনে সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরও ১০ জন। এ পর্যন্ত মোট ৮৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা সোমবার অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

Total Page Visits: 66728