• রবিবার (ভোর ৫:৫৪)
    • ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

করোনা আক্রান্ত রোগী কোন এলাকায় কতজন???

ইঞ্জিনিয়ার আয়াতুস সাইফ মুনঃ

মরন ভাইরাস করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। প্রাণঘাতি এই মহামারীতে সারাদেশের এখন প্রায় ৩৬টি জেলার মানুষ আক্রান্ত। আক্রান্তের সংখ্যা আর শনাক্তে রোজই শীর্ষে থাকছে ঢাকা। এদিকে রাজশাহীর পুঠিয়ায় সোমবার প্রথম একজন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। সর্বমোট সংখ্যা প্রায় হাজারের কাছাকাছি। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত করা হয়েছে আরো ১৮২ করোনা আক্রান্ত রোগী। আর রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআর) দেয়া সোমবারের তথ্য মতে ৮টি বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক আক্রান্ত শনাক্ত করা হয়েছে ঢাকায়।

ঢাকার বাইরের জেলা হিসেবে নারায়ণগঞ্জে ১০৭, গাজীপুরে ২৩, কিশোরগঞ্জে ১০, মাদারীপুরে ১৯, মানিকগঞ্জে ৫, মুন্সীগঞ্জে ১৪, নরসিংদীতে ৪, রাজবাড়ীতে ৬, টাঙ্গাইলে ২, গোপালগঞ্জে ৩, চট্রগ্রামে ১২, কুমিল্লায় ৯, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬, চাঁদপুরে ৬, রংপুরে ২, গাইবান্ধায় ৬, নীলফামারীতে ৩, ঠাকুরগাঁওয়ে ৩, ময়মনসিংহে ৫, জামালপুরে ৬, শেরপুরে ২, বরগুনায় ৩, ঝালকাঠিতে ৩, ঢাকার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ২২ জন আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।

এছাড়াও কেরানীগঞ্জ, শরীয়তপুর, কক্সবাজার, লক্ষ্মীপুর, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট, লালমনিরহাট, চুয়াডাঙ্গা, নেত্রকোনা, পুঠিয়া ও পটুয়াখালীতে একজন করে রোগীর খোঁজ জানা গেছে।

ঢাকায় এখন পর্যন্ত সর্বমোট ৩১৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আর নারায়ণগঞ্জে আক্রান্ত ১০৭ জন। এই কয়েকদিনের ব্যবধানেই কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকার ৭৬টি এলাকায়। ঢাকায় করোনা শনাক্ত হওয়া এলাকাগুলো ও আক্রান্তের সংখ্যা হলো- আদাবর (১), আগারগাও (২), আশকোনা (১), আজিমপুর (২), বাবুবাজার (৩), বাড্ডা (৪), বেইলি রোড (৩), বনানী (৭), বংশাল (৭), বাসাবো (১২), বসুন্ধরা (৪), বেগুনবাড়ি (১), বেড়িবাধ (১), বসিলা (১), বুয়েট এলাকা (১), সেন্ট্রাল রোড (১), চকবাজার (৪), ঢাকেশ্বরী (১), ধানমন্ডি (১৪), ধোলাইখাল (১), দয়াগঞ্জ (১), ইস্কাটন (১), ফার্মগেট (১), গেন্ডারিয়া (৩), গ্রীন রোড (৫), গুলিস্তান (২), গুলশান (৪), হাতিরঝিল (১), হাতিরপুল (২), হাজারীবাগ (৮), ইসলামপুর (২), জেলগেট (২), যাত্রাবাড়ি (১১), ঝিগাতলা (৩), কামরাঙ্গির চর (১), কাজী পাড়া (১) , কদমতলী (১), কোতোয়ালি (২), লালবাগ (১৩), লক্ষ্মী বাজার (২), মালিবাগ (২), মানিকদি (১), মীর হাজারীবাগ (২), মিরপুর-১ (৫), মিরপুর -৬ (২), মিরপুর -১০ (৫), মিরপুর-১১ (১০), মিরপুর -১২ (৮), মিরপুর -১৩ (২), মিডফোর্ট (১), মগবাজার (৪), মহাখালী (৭), মোহাম্মদপুর (১২), মুগদা (১), নারিন্দা (২), নবাবপুর (১), নিকুঞ্জ (১), পীরেরবাগ (২), পুরানা পল্টন (২), রাজারবাগ (২), রামপুরা (১), রায়ের বাজার (১), সায়েদাবাদ (১), শাহআলী বাগ (২), শাহবাগ (২), শান্তিনগর (৫), সোয়ারি ঘাট (৩), সিদ্ধেশ্বরী (১), শনির আখড়া (১), তেজগাঁও (৩), টোলারবাগ (১৯), সূত্রাপুর (২), উর্দু রোড (১), উত্তরা (১৭), ওয়ারী (১৬)।

এখন পর্যন্ত মোট ৩৯ জন মারা গেলেও সুস্থ হয়েছে ৪২ জন রোগী। আজকের স্বাস্থ্য বুলেটিনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক বলেছেন, কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়েছে। তাই তিনি সকলকে বাড়িতে অবস্থানের জন্য অনুরোধ করেছেন তিনি।

Total Page Visits: 66728

হাঁপানির রোগী ৫ হাসপাতাল ঘুরেও চিকিৎসা পাননিঃ হার্টএটাকে মৃত্যু

মোঃ আব্দুস সালাম আকন্দ, সাভার প্রতিনিধিঃ

করোনা নিয়ে কেমন গুজব ছড়ানো হয়েছে যে চিকিৎসকরা চিকিৎসা দেওয়ারই সাহস পাচ্ছেন না। ইতোমধ্যে ডাক্তারদের চিকিৎসায় অনীহায় তা প্রমানিত। তবে চিকিৎসকদের একটা এথিক্স আছে। যেমন সেনাবাহীনির আছে। যুদ্ধের সময় কিন্ত কোন সৈনিক বলেনা আমি যুদ্ধ করবো না। তবে চিকিৎকরা কেন বলেন? কারন হতে পারে একটাই; মাকাল ফল চিকিৎসক।  সাভারে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে চিকিৎসা মেলেনি সাভার উপজেলার জয়নাবাড়ি এলাকার ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের (৫২)। বিভিন্ন মিডিয়ার খবরে জানা গেছে, পাঁচ/ছয়টি হাসপাতাল ঘুরেছেন। এরপর বিনা চিকিৎসায় সোমবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

নিহত জসিম উদ্দিনের শ্যালক রেজাউল করিম বলেন, বংশগত হাঁপানি এবং অ্যাজমা রোগ ছিল তার। গত দুই বছরের মধ্যে তিনি দুই বার স্ট্রোক করেছেন। এজন্য তার মুখ বাঁকাসহ শরীরেও সমস্যা দেখা দেয়। এর মধ্যে হঠাৎ করে রোববার সকালে জসিম অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

পরে তিন হাজার টাকা নিয়ে ৬০৭ নম্বর কেবিনে ভর্তি করানোর কিছুক্ষণ পরই করোনার গুঞ্জন উঠিয়ে আমাদেরকে হাসপাতাল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। একপর্যায়ে রোগীর চিকিৎসা বন্ধ করে রাত ৯টায় আমাদেরকে জোর করে বের করে দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. আনোয়ারুল কাদের নাজিম বলেন, জসিম উদ্দিনের শরীরে করোনাভাইরাসের লক্ষণ ছিল কি না, তা আমার জানা নেই। তবে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। জোর করে বের করে দেয়ার অভিযোগ সত্য নয়।

জসিম উদ্দিনের অপর শ্যালক ইকবাল হোসেন আরও বলেন, আমার ভগ্নীপতিকে আনসার ডেকে এনাম মেডিকেল থেকে বের করে দেয়ার পর সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। সেখানকার চিকিৎসকরাও করোনা সন্দেহ করে আমাদেরকে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

চিকিৎসার বিষয়ে জানতে চাইলে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়েমুল হুদা বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পর করোনার উপসর্গ পাওয়ায় তাকে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তবে সেখানে নিয়ে পরীক্ষার ফলাফলে তার দেহে করোনায় আক্রান্তের লক্ষণ মেলেনি।

পরে গুরুতর অবস্থায় রাত ১১টায় দিকে কুর্মিটোলা নিয়ে কয়েকটি পরীক্ষা করা হলেও করোনায় আক্রান্ত থাকার লক্ষণ মেলেনি। তাই চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন।

পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে ৬০১ নম্বরে ভর্তি করা হলেও ইউনিট ম্যানেজার আমাদেরকে বের করে দেন। এরপর বাধ্য হয়ে তাকে ঢাকার বাবুবাজার এলাকার ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর রাত ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক মো. সায়েম বলেছেন, যথাসময়ে রোগীকে এখানে আনা হয়নি। এখানে ভর্তি হওয়ার আগে থেকেই তার হৃদযন্ত্র কাজ করছিল না। ফলশ্রতিতে শতচেষ্টা করেও তার মৃত্যু হয়।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম

 

Total Page Visits: 66728