• বৃহস্পতিবার (রাত ১২:১১)
    • ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

নওগাঁর মহাদেবপুরে কৃষি কর্মকর্তার জালিয়াতি করে চাকরিঃঃ ছয় বছর পর ধরা

ক্রাইম ডায়রি নওগাঁ অফিসঃ

মুক্তিযোদ্ধারা জাতির সুর্য সন্তান। তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে ফায়দা হাসিল কখনই ক্ষমার যোগ্য নয়। একটু সুবিধা পাওয়ায় এদের নাম ভাঙ্গিয়ে সুবিধা আদায়ের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। সম্প্রতি,          নওগাঁ জেলার  মহাদেবপুর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দুলাল হোসেন (৩০) তার মুক্তিযোদ্ধা মামা ইব্রাহিম আলী মণ্ডলকে নানা বানিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নিয়েছেন বলে অভিযোগ এসেছে। যদিও বিষয়টি প্রমানিত হতেই বছর গড়িয়েছে ছয়টি। হ্যা, চাকরি পাওয়ার ছয় বছর পর দুলালের জালিয়াতি ধরা পড়েছে। অনুসন্ধান শেষে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। দুদকের রাজশাহীর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মঙ্গলবার মামলাটি দায়ের করেন উপ-সহকারী পরিচালক সরদার আবুল বাশার।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, দুলাল হোসেনের বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার তানইল গ্রামে। তার বাবার নাম মোসলেম উদ্দিন। মা দুলোতন বিবি। দুলাল এখন নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার বামনসাতা-সফাপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা।

২০১৩ সালে তার নিয়োগ হয়। স্থানীয় সুত্রে ও গভীর অনুসন্ধানে দেখা যায়,  ২০১২ সালে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরির জন্য আবেদন করেন দুলাল। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন ইব্রাহিম আলী মণ্ডল তার নানা। আর মা দুলোতন বিবি ইব্রাহিমের মেয়ে। অথচ তারা দুই ভাই-বোন।

কিন্তু দুলাল মান্দার ভালাইন ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের কাছে একটি প্রত্যয়নপত্র নেন। এতে বলা হয়, দুলোতন বিবি ইব্রাহিমের বড় মেয়ে। তাই সংরক্ষিত মুক্তিযোদ্ধা কৌটায় তার চাকরি হয়।

কিন্তু অভিযোগ পেয়ে দুদক অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখে, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রত্যয়নপত্র ইস্যু করা হয়নি। সেটি ভুয়া। আর ইব্রাহিম দুলালের নানা নয়, মামা। তাই তার বিরুদ্ধে  মামলা করা হয়৷ মামলার সুত্র ও ক্রাইম ডায়রির নিজস্ব অনুসন্ধানে দেখা যায়,  ২০০৫ সালে দাখিল এবং ২০০৯ সালে কৃষি ডিপ্লোমা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় দুলাল। কিন্তু চাকরি নেন জালিয়াতি করে। নিয়োগ পাওয়ার পর দুলাল ১৩ লাখ ৮৭ হাজার ৯৮৪ টাকা বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারায় মামলা করা হয়।।

দুদকের সমন্বিত রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জানান, দুলাল পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

দুলালের সাথে কথা বলার চেষ্টা করে ক্রাইম ডায়রি। তার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে অনেকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তাই অভিযোগের  বিষয়ে অভিযুক্ত উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দুলালের কোন মন্তব্য কিংবা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ক্রাইম ডায়রি///ক্রাইম//অপরাধজগত

Total Page Visits: 66417