• সোমবার (বিকাল ৪:৫৯)
    • ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

বিশ্ব ইজতেমাঃ টঙ্গীর তুরাগ তীরে মানুষের ঢল

কালিমুল্লাহ দেওয়ান রাজা, বিশ্ব ইজতেমা হতেঃ

তিল ধারনের জায়গা নেই। হেঁটে যাবার পরিস্থিতিও নেই। লাখো মানুষের ভীরে মুখরিত তুরাগ তীর। উপচে পড়া মানুষ এখন আশুলিয়া রাস্তা হতে উত্তরার সেক্টর,টঙ্গী সবজায়গায় স্থান নিয়েছে।

দেশ-বিদেশের লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কণ্ঠের আল্লাহ আকবর ধ্বনিতে মুখরিত ইজতেমা ময়দান।বয়ান-তাশকিল, তালিম, ইবাদত বন্দেগির মধ্য দিয়ে শনিবার কাটছে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় দিন।

রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ জমায়েতের প্রথম পর্ব।

আলেম ওলামদের নেতৃত্বে চলছে এই ইজতেমা। গতবারের ইজতেমায় যদিও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের শিকার হয়ে পিছু হটেছিল এই গ্রুপ কিন্তু এবার এইদলেই সারা দিয়েছে বাংলার মুসলিম সমাজ। দ্বিতীয় পর্ব হবে মাওলানা সাদ পন্থীদের।

ময়দানের কোথাও ঠাঁই না পেয়ে মুসল্লিদের উপচেপড়া ভিড় আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। কনকনে শীত উপেক্ষা করে মুসল্লিরা খোলা আকাশের নিচে রাস্তায় অবস্থান নিয়েছেন।

শনিবার ইজতেমার মাঠ ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চারদিকে প্রচুর মানুষের সমাগম। অনেকে ইজতেমা ময়দানে জায়গা না পেয়ে বা দলছুট হয়ে ঘোরাঘুরি করছেন এদিক-সেদিক।

তাবলীগের ৬ উসূলের (মৌলিক বিষয়ে) উপর বাদ ফজর ভারতের মাওলানা আব্দুর রহমানের বয়ানের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দিনের বয়ান শুরু হয়। এ বয়ান বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা আব্দুল মতিন। বাদ জোহর বয়ান করেন ভারতের মাওলানা ইসমাইল গোদরা। তার বয়ান ভাষান্তর করেন মাওলানা মো. নূর-উর-রহমান ।

বাদ আসর বয়ান করেন ভারতের মাওলানা জোহায়েরুল হাসান। বাদ মাগরিব বয়ান করেন ভারতের মাওলানা ইব্রাহীম দেওলা।

ইজতেমার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা জানিয়েছেন, অন্যবারের তুলনায় এবারের ইজতেমায় মুসল্লির সংখ্যা বেশি। ইজতেমা মাঠের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে নতুন ১৪টি খিত্তা (নির্ধারিত স্থান) যুক্ত করার মাধ্যমে মাঠের পরিধি বাড়ানো হয়েছে।

আর পুরো ইজতেমাকে ৯১টি খিত্তায় ভাগ করা হয়েছে। এরপরও জায়গা না পাওয়ায় ময়দানের বাইরে রাস্তায় অবস্থান করছেন মুসল্লিরা।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, আবদুল্লাহপুর-আশুলিয়া সড়ক, স্টেশনরোড-কামারপাড়া সড়কসহ ইজতেমার ময়দানে প্রবেশের রাস্তার দুই পাশে মুসল্লিরা অবস্থান নেয়ায় রাস্তাগুলো সঙ্কুচিত হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও যানবাহন এমনকি হাঁটার পথও বন্ধ হয়ে গেছে। উত্তরা ১০ নং সেক্টরের বিভিন্ন রাস্তায়ও তাবু ফেলেছেন মুসল্লিরা।

এর মাঝেই চলছে বয়ান, জিকির-আজকার, কিতাবের তালিম, জামাতের জন্য তাশকিল, নফল ইবাদত-বন্দেগি, খাওয়া-দাওয়া ও আনুষঙ্গিক কাজ।

মুরব্বিদের বয়ান চলাকালে পুরো ইজতেমা ময়দান জুড়ে পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। ঠান্ডা বাতাস ও কনকনে শীত উপেক্ষা করে মুসল্লিদেরকে অধিক মনযোগ সহকারে মুরব্বিদের মূল্যবান বয়ান শুনতে দেখা গেছে।

বাদ ফজর ভারতের মাওলানা আব্দুর রহমান ইমান, আমল, জাহান্নাম, জান্নাত ও দাওয়াতে মেহনতের উপর গুরুত্বপূর্ণ বয়ান রাখেন।

তিনি তার বয়ানে বলেন, আমাদের জানমাল দ্বীনের দাওয়াতের কাজে ব্যয় করতে হবে।

তিনি বলেন, ঘর তৈরি করতে গেলে যে পরিমান মেহনত করা প্রয়োজন, আমরা সে পরিমান মেহনত করলে একটি ঘর তৈরি হয়। ঠিক একইভাবে দাওয়াতের কাজে যে পরিমান মেহনত করা প্রয়োজন, সে পরিমান মেহনত করলে আল্লাহজাল্লাহ শানহু আমাদের দাওয়াতকে কবুল করবেন।

আর দাওয়াত কবুল হলে আমাদের দোয়া কবুল হবে। দোয়া কবুল হলে আমাদের জীবন পরিবর্তন হয়ে যাবে।

স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করে সারা দেশ থেকে স্রোতের মতো আসছে মানুষ।। আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ মিলন মেলা।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

Total Page Visits: 66255

রাজধানীতে নির্বাচন হবে সম্প্রীতির ও উন্নয়নের–ব্যারিষ্টার তাপস

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃ

ব্যারিষ্টার শেখ ফজলে নুর তাপস তার ব্যতিক্রমি উদ্যোগের জন্য বরাবরই বিখ্যাত।  ঢাকা ১০আসন হতে তিন তিনবার নির্বাচিত এই এমপি এবার জানালেন সম্প্রীতির নির্বাচনের কথা।। কোন দলাদলি কিংবা হিংসাহিংসি নয়।  জনগন ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে সত্যিই ঢাকাকে পরিবর্তন করে বসবাসের উপযোগী করে দিবে এমন একজনকে।   ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস আরও  বলেছেন, বিজয়ী হতে পারলে ঢাকা শহরকে মাদকমুক্ত করবো। এলাকাভিত্তিক সামাজিক সমস্যাগুলো সমাধান করবো।

১১ই জানুয়ারি ২০২০ইং তারিখ   শনিবার রাজধানীর ওয়ারীতে ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী প্রচারণা সভায় তিনি এ কথা বলেন। ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেন থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন তাপস। তিনি বলেন, ঢাকা আমাদের প্রাণের শহর। ঢাকাতেই আমাদের বেড়ে ওঠা এবং স্বপ্ন দেখা। তাই আমাদের এই ঐতিহ্যবাহী ঢাকাকে পুনরুজ্জীবিত করবো। আমরা ঢাকাকে উন্নত দেশের উন্নত রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলবো।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের ঢাকাকে সুন্দর ঢাকা হিসেবে গড়ে তুলবো। প্রত্যেকটা ওয়ার্ডে খেলাধুলার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হবে। আমাদের মা-বোন ও মুরুব্বিদের জন্য পর্যাপ্ত হাঁটার ব্যবস্থা করা হবে।

২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের উন্নত রাজধানী ও নাগরিক সেবা দ্বারে দ্বারে পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য নৌকা মার্কার বিকল্প দেখছেন না তিনি। দ্বিতীয় দিন প্রচারণার সময় ক্ষমতাসীন দলের মেয়র প্রার্থীর সাথে ছিলেন, ওয়ারী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী আশিকুর রহমান লাভলু, ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করীম, ৩৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। দিনের শেষ ভাগে তার সাথে যুক্ত হন সাবেক এমপি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীনসহ নেতৃস্থানীয় নেতারা।

এসময় মেয়র পদ প্রার্থী তাপস রাজধানীর আর কে মিশন রোডস্থ গোপীবাগের সেকেন্ড লেনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনের বাসায় গিয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট ও দোয়া চান।

তাপস বলেন, ঢাকা আমার প্রাণের শহর। এ শহরে আমার বেড়ে উঠ। আমি ঢাকার ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করতে চাই। ঢাকার ঐতিহ্যকে সারা বিশ্বের কাছে তুলে ধরবো, পরিস্ফুটিত করবো। দ্বিতীয়ত, আমাদের সুন্দর ঢাকা। ঢাকাকে আমরা বায়ু দূষণমুক্ত করবো। সৌন্দর্য বর্ধন করবো। ঢাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য খেলার মাঠ ও পার্কের ব্যবস্থা করবো।

তিনি আরও বলেন, আমরা অচল ঢাকাকে সচল করতে চাই। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে স্বায়ত্তশাসনের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত করবো। সুশাসিত ঢাকার আওতায় সকল নাগরিক তাদের মৌলিক সুবিধা দৌড়গোড়ায় পাবে। আমরা এলাকায় ভিত্তিক সমস্যার সমাধান করবো। আমরা ঢাকাকে উন্নত রাজধানীর হিসেবে গড়ে তুলবো।

সেই সাথে তিনি নির্বাচিত হলে প্রথম ৯০ দিনের মধ্যে সব নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। এছাড়া যানজট নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পয়ঃনিষ্কাশনসহ আধুনিক ঢাকা ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে পাঁচটি বিশেষ লক্ষেরও কথা বলছেন ব্যারিস্টার তাপস।

শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, বাসা-বড়ি ও দোকানে ভোট চেয়েছেন তাপস। সেই সাথে দলের নেতা-কর্মীরা মিছিল ও করতালিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে রাজধানীর বিভিন্ন অলি-গলি। সাউন্ড সিস্টেমে বাজানো হচ্ছে জয় জিতবে এবার নৌকা সহ নানা নির্বাচন’মুখী গান।

এর আগে শুক্রবার মানুষের দোরগোড়ায় সেবক হিসেবে নাগরিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার বার্তা নিয়ে রাজধানীর ডেমরা থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন তিনি। যেসব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তার মধ্যে ৩০ জানুয়ারি বিজয়কে সুনিশ্চিত করে প্রাণপ্রিয় ঢাকাকে ঐতিহ্যের ঢাকা, সুন্দর ঢাকা, সচল ঢাকা, সুশাসিত ঢাকা ও উন্নত ঢাকা গড়ার কথা বলছেন।

ব্যারিষ্টারের শেখ ফজলে নুর তাপস এই ব্যতিক্রমি কথা ও চেতনাকে স্বাগত জানিয়েছে সাধারন মানুষ ও বিরোধী দলগুলো।

গত ২২ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩০ জানুয়ারি এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

Total Page Visits: 66255