• সোমবার (দুপুর ২:৩৪)
    • ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

বগুড়া শেরপুরে অবশেষে মৃত্যুর কোলে সেই মাদ্রাসা ছাত্রী

এরশাদ হোসেন, বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ


মাদ্রাসা ভবনের পাঁচতলা  থেকে কথিত ঝাঁপ অতঃপর গুরুতর আহত হওয়া ৩য় শ্রেণীর  সেই ছাত্রী মোছা. জান্নাতি খাতুন (১২) ছয়দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো। বিজয়ের দিনে অবশেষে মৃত্যুর কাছে পরাজিত হয়ে সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকেলে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবুও বিজয়ের দিনে  শিশুটিকে সশ্রদ্ধ সালাম ও ভালবাসা জানিয়েছে পুরো শেরপুরবাসী।
ধুনটমোড় এলাকায় অবস্থিত হযরত ফাতেমা (রা:) বালিকা মাদ্রাসায় পড়ুয়া এই শিশুর মৃত্যু রহস্য এখনও অজানা।

নিহত জান্নাতি খাতুন ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ী ইউনিয়নের জোরখালী মধ্যপাড়া গ্রামের মো. মিলন রহমানের মেয়ে। জানাগেছে, এবছর গার্মেন্টস্ কর্মী মিলন রহমান তার মেয়েকে ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করে। একইসঙ্গে মাদ্রাসার আবাসিক হোটেলে রাখেন। কিন্তু সে এই প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপরও অনেকটা জোরপূর্বক তাকে মাদ্রাসার ওই বোর্ডিংয়ে রাখা হয়।
গত ০৯ ডিসেম্বর দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পৌরশহরের ধুনটমোড়স্থ শেখ হাফিজার প্লাজায় অবস্থিত হযরত ফাতেমা (রা:) বালিকা মাদ্রাসার পাঁচতলা ভবন থেকে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়।

এ সময় স্থানীয় লোকজন তাঁকে শেরপুরের একটি স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে তাৎক্ষণিক তাঁকে বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এরপর থেকে বগুড়ার শজিমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে(আইসিইউ) লাইফ সার্পোটে রাখা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মারা যান মাদ্রাসা ছাত্রী জান্নাতি খাতুন।
মাদ্রাসা পরিচালনায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিগত ২০১৬সালে উপজেলার শাহ বন্দেগী ইউনিয়নের হামছায়াপুর গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন ওই ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলা ভাড়া নিয়ে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকে তিনিসহ নিকট স্বজনদের নিয়ে কওমী ও আলীয়া মাদ্রাসার পৃথক সিলেবাস অনুযায়ী
প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে আসছেন।
অত্র মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ছাত্রীটিকে দাফন করার কাজে ব্যস্ত আছি। তাই ঘটনাটি নিয়ে এই মুহূর্তে আপনাদের (সাংবাদিক) সঙ্গে কথা বলতে পারছি না। পরে কথা হবে- এমন মন্তব্য করে ফোনের সংযোগ কেটে দেন তিনি।


শেরপুর থানার দক্ষ ও জনবান্ধব   অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.হুমায়ুন কবির বলেন, কেন ওই মাদ্রাসা ছাত্রী পাঁচতলা ভবন থেকে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যা করলো তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তপূর্বক আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও দাবি করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

ক্রাইম ডায়রি///ক্রাইম//আইন শৃঙ্খলা//জেলা

Total Page Visits: 66251

ঝালকাঠিতে মিডিয়া ফোরামের আত্মপ্রকাশ

 ইমাম বিমান, ঝালকাঠি থেকেঃ
ঝালকাঠিতে বিজয় দিবসে শহীদ বেদীতে পুস্পার্ঘ অর্পন করে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে একঝাঁক তরুন সাংবাদিকদের নিয়ে মুক্তমনের সাংবাদিকতা একই সাথে আর্তমানবতার সেবায় সকলকে নিয়োজিত করার লক্ষ নিয়ে সাংবাদিক সংগঠন মিডিয়া ফোরামের আত্মপ্রকাশ।
জাতীয় মহান বিজয় দিবসকে সামনে রেখে একঝাঁক তরুন সাংবাদিকদের নিয়ে মুক্তমনের সাংবাদিকতার মাধ্যমে নিজেদের আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত করার সপথ নিয়ে পথ চলতে শুরু করেছে ঝালকাঠি মিডিয়া ফোরাম। আর তারই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য সদস্যরা ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিনে ভোর ৬টায় ঝালকাঠির শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরনে তাদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য সাংগঠনিক যাত্রা শুরু করেছে জেলার অন্যতম সাংবাদিক সংগঠন মিডিয়া ফোরাম। বিজয় দিবসে আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে পথ চলতে শুরু করেছে ঝালকাঠি মিডিয়া ফোরাম।
সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে শহীদবেদীতে পুস্পার্ঘ অর্পনের পর ঝালকাঠি ব্রাক মোড়স্থ সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে বিজয় দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আলোচনা সভায় সাংবাদিক মোঃ মনির হোসেনকে সভাপতি ও সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত করে ৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। এর মধ্যে অন্যান্য সদস্যরা হলেন সাংবাদিক মিজানুর রহমান, মোঃ ইমাম হোসেন  রিয়াজ মোর্শেদ, কৌশিক বড়াল, খাইরুল ইসলাম, সৈয়দ রুবেল,  শফিকুল ইসলাম।
নতুন সংগঠনটি সম্পর্কে সংগঠনটির নবনির্বাচিত সভাপতি সাংবাদিক মনির হোসেনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, সাংবাদিকদের সাধারনত জাতির বিবেক বলা হয়, তাই আমরা এই পেশায় থেকে সৎ ভাবে জীবন জাপনে অঙ্গীকারবদ্ধ, আমাদের ঝালকাঠি মিডিয়া ফোরাম সংগঠন একটি ব্যতিক্রমি সংগঠন কারন এটা সাংবাদিকদের সংগঠন হলেও এর সদস্যরা শুধু সংবাদ সংগ্রহ নয় তার পাশাপাশি এর সদস্যরা ঝালকাঠিতে দুস্থ, গরীব ও অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়ে যেকোন মাধ্যমে তাকে সহযোগীতা করা, সকলের সহযোগীতায় গরীব ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা উপকরন সংগ্রহ অথবা সংগঠনের মাধ্যমে পৌছে দেয়া সহ সামাজিক উন্নয়ন মূলক কাজকর্মে অংশ গ্রহন।
ক্রাইম ডায়রি// জেলা//স্পেশাল
Total Page Visits: 66251

রায়গঞ্জে ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে ফুলজোড় নদী তীর সংরক্ষণ কাজের শুভ উদ্বোধন

স.ম.আব্দুস সাত্তার,রায়গঞ্জ(সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ পৌরসভার ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে “বাঙ্গালী-করতোয়া-ফুলজোড়-হুরাসাগর নদী সিস্টেম ড্রেজিং/পুনঃখননসহ তীর সংরক্ষণ” শীর্ষক রায়গঞ্জ পৌরসভার ধানগড়া ও সিমলা সাহাপাড়া নামক স্থানে ১.৩০০ কি.মি. নদী তীর সংরক্ষণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১১টায় রায়গঞ্জ পৌরসভার আয়োজনে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় পানি উন্নয়ন বোর্ড সিরাজগঞ্জ এর বাস্তবায়নে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রায়গঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোঃ আব্দুল্লাহ আল পাঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন রায়গঞ্জ তাড়াশের সাংসদ অধ্যাপক ডাঃ আব্দুল আজিজ।

রায়গঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ জুয়েল মাহমুদ এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শফিকুল ইসলাম, রায়গঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাদি আলমাজি জিন্নাহ, সহ-সভাপতি মোঃ ছাইদুল ইসলাম চান, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শরিফ উল আলম শরিফ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আখছারুল আলম খোকন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-দপ্তর সম্পাদক গোলাম হাসনায়েন টিটো, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব বাবুল আকতার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আল আমিন সরকার প্রমুখ।

ক্রাইম ডায়রি//জেলা

Total Page Visits: 66251

চাইল্ড’স স্মাইল ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত

মোঃ জুয়েল মাঝি, চট্টগ্রাম অফিসঃ

চাইল্ড’স স্মাইল ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে।

হাসি-আনন্দ-উচ্ছলতায় ভরে উঠুক প্রতিটি শিশুর জীবন এই শ্লোগান নিয়ে ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে সহযোগী প্রতিষ্ঠান “চাইল্ড’স স্মাইল ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ”। সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন মেধাবী ছাত্রসংগঠক মাহাবুব রহমান দুর্জয়। তিনি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে সংগঠনের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মাহাবুব রহমান দুর্জয় বলেন, পৃথিবী আধুনিক হচ্ছে মানুষ আধুনিক হচ্ছে কিন্তু সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলোর জীবনে আধুনিকতার ছোয়া পেলো না। নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে থাকে শিশুরা। শিশুরা তাদের মৌলিক অধিকার সম্পর্কে বুঝে না। চাইল্ড’স স্মাইল ফাউন্ডেশন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার রক্ষায় তাদের হয়ে কাজ করবে। দেশের অনেক মানুষ এবং বহু সংগঠন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পথ শিশু বলে থাকেন। কিন্তু আমরা এবং আমাদের সংগঠন পথ শিশু বলতে চাই না, বলিও না। কারণ, পথ কখনো শিশুর জন্ম দিতে পারে না তদ্রুপ পথ শিশুও হতে পারে না। ওরা সবাই সুবিধাবঞ্চিত শিশু। এসকল বঞ্চিত শিশুদের জীবনমানে উন্নয়নে পরিবর্তন করতে চাইলে আমাদেরকেও কিছু শব্দের পরিবর্তন করতে হবে। বঞ্চিত শিশুদের পথ শিশু না বলে সুবিধাবঞ্চিত বা অবহেলিত শিশু বলা যেতে পারে।

আরও উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সাদ্দাম হোসাইন, সাজ্জাদ হোসাইন, শাকেরুল ইসলাম, খায়রুল আমিন, সংগঠনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আব্দুল হামিদ, সহ-সভাপতি আশিকুর রহমান রনি, সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ ফয়সাল, সহ-সাধারণ সম্পাদক গাজী মোঃ ইয়াকুব, সহ প্রচার সম্পাদক(১) নেয়ামত উল্লাহ, আরিফুল মিঠু, রুস্তম হোসাইন রাসেল, নুর উদ্দিন, আবু তাহের, রিয়াদ, বাপ্পী, রুবেল, ইরফান ও সুজাল প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অংশগ্রহণে কেক কাটা হয়। এসময় শিশুদের জন্য শুকনো বিস্কুট ও চকলেট খাওয়ানো হয়। পরে বঞ্চিত শিশুদের খেলাধুলার আয়োজন করা হয়।

ক্রাইম ডায়রি//মহানগর

Total Page Visits: 66251

সাবেক সেনাপ্রধান ও প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের মৃত্যুদন্ড দিয়েছে পাক আদালত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

“সকাল  বেলায় বাদশা,

বিকেল বেলা ভিখিরি।

আজকে যারা হত্যা

কালকে তারা শিকারী।।”

চরম বাস্তবতা। এইতো সেদিন দুর্দান্ত প্রতাপে দেশ শাসন করেছেন জেনাারেল পারভেজ মোশাররফ। আজ সেই দেশেই, সেই আদালতে তার ফাঁসির রায়। রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেনারেল (অব.) পারভেজ মোশাররফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির বিশেষ আদালত। ১৭ই ডিসেম্বর,২০১৯ইং মঙ্গলবার বিশেষ আদালতের তিন সদস্যের বিচারকের একটি প্যানেল এ রায় ঘোষণা করে।

বিচারকদের এই প্যানেলে ছিলেন পেশওয়ার হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ওয়াকার শেঠ, সিন্ধ হাই কোর্টের বিচারপতি নজর আকবর এবং লাহোর হাইকোর্টের বিচারপতি শহীদ করিম।

দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সরকারের পক্ষে আইনজীবী আলী জিয়া বাজওয়া সাবেক এই সামরিক শাসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনের জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেছিলেন।

২০০৭ সালের ৩ নভেম্বর জরুরি অবস্থা জারির অভিযোগে দেশটির আদালতে মোশাররফের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা হয়। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর থেকে এই মামলার রায় আদালতে ঝুলে ছিল।

২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন পারভেজ মোশাররফ। রাষ্ট্রদ্রোহ, জরুরি অবস্থা জারি, বেআইনি উপায়ে বিচারপতি বরখাস্ত, বেনজির ভুট্টো হত্যা এবং লাল মসজিদ তল্লাশি অভিযান-সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি মামলায় পলাতক রয়েছেন সাবেক এই পাক সেনাপ্রধান।

ক্রাইম ডায়রি/// আন্তর্জাতিক

Total Page Visits: 66251

উত্তাল দিল্লির মিলিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

কলকাতা সংবাদদাতাঃ

জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ভারতের মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম।  ভারতের নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের (সিএএ) প্রতিবাদ করতেে গিয়ে অত্যচারের শিকার হয়েছেন এমন অভিযোগ

 

 

করছে সেখানকার ছাত্রছাত্রীরা। রাজধানী দিল্লির অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে কেন এ ধরনের পুলিশি নির্যাতনের শিকার হতে হবে, প্রশ্ন তুলেছেন তারা। রোববার পুলিশ ঢুকেছিল ক্যাম্পাসে। তাদের মারমুখী চেহারার সামনে পড়ে শিক্ষার্থীদের অনেকেই আঘাত পেয়েছেন। কেউ লুকিয়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। আনন্দবাজার জানিয়েছে, তাদেরই একজন অনুজ্ঞা ঝা। ঝাড়খণ্ড থেকে আসা আইনের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেল ছাড়ার আগে কাঁদতে কাঁদতে সোমবার টিভি ক্যামেরার সামনে প্রশ্নগুলো প্রথমে তোলেন অনুজ্ঞা।

তিনি বলেন, ‘‘মনে হয়েছিল, দিল্লি শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা। একটা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়। আমাদের কিছু হবে না ভেবেছিলাম। কাল সারা রাত কেঁদেছি। কী হচ্ছে এ সব? আমাদের বন্ধুদের মারা হচ্ছে। হাত পা ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।’’

এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা দেখে মর্মাহত অনুজ্ঞা। তিনি বললেন, ‘‘মনে হচ্ছে, আমার বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে। গোটা ক্যাম্পাস যেন কবরখানার মতো। চারদিকে রক্ত আর ভাঙচুর।’’

সংবিধান নিয়ে পরীক্ষাটা আজ দিতে পারেননি অনুজ্ঞারা। তবে বুঝছেন, সংবিধান নিয়ে পড়াশোনাটা কাজে লাগছে। জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সহিংসতা দেখে দুঃখপ্রকাশ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ ব্যাপারে কী বলছেন অনুজ্ঞা? তার কথায়, ‘‘তার সঙ্গে একমত। আমরা তো শান্তিপূর্ণভাবেই প্রতিবাদ করছিলাম। রাস্তাতেও নীরবতা বজায় রাখা হচ্ছিল। তবু পুলিশ কেন ঢুকল?’’

ক্যামেরার সামনে অনুজ্ঞা নিজের পরিচয় দিয়ে সমালোচনা করেছেন মোদী সরকারের। এর পরে কী হবে? ‘‘খুবই ভয় করছে। আমি এখনই নানা উল্টোপাল্টা নম্বর থেকে ফোন পাচ্ছি। সোশ্যাল মিডিয়াতেও মেসেজ আসছে। কিন্তু প্রতিবাদ থামাবো না,’’ বললেন অনুজ্ঞা।

টিভিতে তাকে বলতে শোনা গেছে, ‘‘এ দেশে আমি নিরাপদ নই। কোথায় যাব জানি না। কোথায় গণপিটুনি দেওয়া হবে জানি না। জানি না, কাল আমার বন্ধুরা ভারতীয় থাকবে কি না।’’

এই সূত্রেই অনুজ্ঞা বলেছেন, ‘‘আমি তো মুসলিমও নই। তবু প্রথম থেকে প্রতিবাদের পুরোভাগে আছি। কারণ এরাই আমার পরিবার। বন্ধুবান্ধব থেকে শিক্ষক, সবাই।’’

ফোনে বলেন, ‘‘সিএএ নিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছি কারণ এই আইন বৈষম্যমূলক। সংখ্যালঘুদের প্রতি অন্যায় হচ্ছে। নাগরিক হিসেবে প্রতিবাদ জানানোর সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে আমার। এটা শুধু ধর্মের প্রশ্ন নয়। বিষয়টাকে সাম্প্রদায়িক ভাবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’’

অনুজ্ঞার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও দুই ছাত্রী আয়েশা রেনা (২২) এবং লাদিদা সাখালুনের (২২) কথাও। কেরেলার মলপ্পুরম জেলার ইতিহাসের ছাত্রী আয়েশা এবং তার বন্ধু লাদিদা (আরবি ভাষা ও সাহিত্যের ছাত্রী) পুলিশের লাঠির মুখে পড়েছিলেন।

লাল ওড়নায় মাথা ঢাকা, চশমা পরা আয়েশার ছবিই গতকাল ভাইরাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। কোনো মহিলা পুলিশ ছিল না সেখানে। শাহিন নামে একটি ছেলেকে (তাদের বন্ধু) পুলিশ ঘিরে ধরায় তাকে বাঁচাতে ছুটে যান আয়েশারা। সেখানে কাঁদানে গ্যাসও ছোড়া হয়েছে। যাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন লাদিদা।

আয়েশা বলেছেন, ‘‘লড়াইটা আমাদের সবার। কেউ ভয় পাই না। মরতে হলে সবাই মরব। লাঠি চালানো হয়েছে আমাদের উপরে।’’

আয়েশাদের দাবি, শাহিনকে আড়াল করায় পুলিশ চড়াও হয় তাদের উপরেই। উঁচু পাঁচিলের উপরে ওঠা তাদের আর একটি ছবিও ভাইরাল হয়েছে। আয়েশা বলেন, ‘‘চেয়েছিলাম আমাদের কথাটা সবাই শুনুক। আর কিছু নয়।’’ সারা বিশ্ব দেখুক গনতন্ত্রের কথা বলে পুঁজিবাদেের অত্যচার।।।।

/ক্রাইম ডায়রি//আন্তর্জাতিক   /সুত্র /আনন্দবাজার।

Total Page Visits: 66251