• সোমবার (দুপুর ২:৩১)
    • ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

মৌলভীবাজারে “দুর্নীতিমুক্ত সরকারী সেবা : দুর্নীতির অভিযোগের প্রকৃতি” শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

মৌলভীবাজার সংবাদদাতাঃ

আজ মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারদের সাথে “দুর্নীতিমুক্ত সরকারী সেবা : দুর্নীতির অভিযোগের প্রকৃতি” শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় দুর্নীতি দমন কমিশন-এর চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন একটি শক্তিশালী আইন। তবে এই আইনটি সম্পর্কে হয়তো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ সঠিকভাবে অবহিত নন। এই আইনটি সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকলে দুর্নীতি করার দুঃসাহস কেউ দেখাবে না।

তিনি বলেন, দুর্নীতি ও দারিদ্র মানবসভ্যতার শুরু থেকেই বিদ্যমান ছিল। দারিদ্রের সাথে দুর্নীতিরও সর্ম্পক রয়েছে। দারিদ্র এবং দুর্নীতিকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা হয়তো সম্ভব নয়। তবে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

তিনি বলেন, সরকারি পরিষেবা প্রদানে দুর্নীতি , হয়রানি এবং দীর্ঘসূত্রিতার নানা অভিযোগ কমিশনে আসে। এসব অভিযোগ সম্পর্কে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের একটি ধারণা প্রদানের জন্য এজাতীয় সভা করা হচ্ছে। যাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহ নিজ থেকেই একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপ্রক্রিয়া অনুসরণ করে জনমনে উদ্ভূত অভিযোগসমূহ নিরসণের একটি প্রক্রিয়া চিহ্নিত করতে পারে এবং সে মোতাবেক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।

তিনি বলেন, বিগত ২ বছরে কমিশনের হটলাইনসহ অন্যান্য মাধ্যমে প্রায় ৪০ লক্ষ অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে এসেছে। এতো অভিযোগ কিসের ইঙ্গিত বহন করে ? আমাদের মনে হয়, সরকারি পরিষেবা প্রদানে কোথাও না কোথাও সরকারি কর্মকর্তাদের গাফিলতি বা অপারগতা বা অক্ষমতা রয়েছে। এট সহ্য করা হবে না।

তিনি বলেন, আমরা সবাই জনগণের করের অর্থে বেতন পাই , তাদের সেবা প্রদান করা আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্বও। এটা আমরা সবাই মনে রাখবো ।

কমিশনের চেয়ারম্যান উন্মুক্ত আলোচনার জন্য জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আহবান জানিয়ে বলেন, নিঃসংকোচচিত্তে আপনারা কথা বলবেন। এরপর জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্র্তাদের বক্তব্যের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, সকলে আইন মেনে চললে কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনের সুযোগ নেই। কেননা আইন তৈরি করা হয় মানার জন্য, প্রয়োগের জন্য নয়। নৈতিকতাবিহীন উন্নয়ন কখনই টেকসই হতে পারে না। আমরা উন্নয়ন চাই , দারিদ্র বিমোচন চাই , তবে তা হতে দুর্নীতিমুক্ত।

তিনি বলেন, দুর্নীতির অনেক কারণ রয়েছে, তবে সরকারি সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ারপ্রীতিও দুর্নীতির অন্যতম কারণ। সরকারি কর্মকর্তাদের মনে রাখতে হবে , দুর্নীতি একটি ফৌজধারী অপরাধ এবং ফৌজধারী অপরাধ কখনই তামাদি হয় না। দেশটি আমার এই কথা আমাদের সকলের হৃদয়ে ধারণ করতে হবে।

দুদক চেয়ারম্যান একজন কর্মকর্তার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বলেন, শিশু ন্যায়পাল নিয়োগের বিষয়টি অত্যন্ত যুগোপযোগী ও সময়ের দাবি সরকার বিষয়টি পর্যালোচনা করতে পারে।

তিনি বলেন , শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি কোনক্রমেই বরদাস্ত করা হবে না। কেননা উপযুক্ত শিক্ষাই তরুণ প্রজন্মকে একটি সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা দিতে পারে এবং তাদের মধ্যে নৈতিকতা সৃষ্টি করতে পারে। তিনি এক্ষেত্রে SDG-র ৪ নং Goal এর দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ মর্মে উল্লেখ করেন। তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ছাত্রীদের মাঝে আইন-শৃঙ্খলা মেনে চলার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য পুলিশ বিভাগের প্রতিনিধিদের – শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া ফলপ্রসু হতে পারে মর্মে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, কমিশন শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।

তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা নির্ভয়ে সততার সাথে কাজ করবেন । কেউ আপনাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করলে দুদক সেগুলো খতিয়ে দেখবে। দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে সরকারী কর্মকর্তার মিথ্যা অভিযোগ প্রদানের বিষয়ে শাস্তির বিধান রয়েছে এবং ইতোমধ্যে মিথ্যা অভিযোগ প্রদানের বিষয়ে কমিশন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ‍শুরু করছে।

স্থানীয় জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন এর সভাপতিত্বে এ আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার, এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী, জেলা শিশু কর্মকর্তা প্রমুখ ।

আলোচনাসভা শেষে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপিত সততা স্টোর উদ্বোধন করেন। এসময় উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ভয় নয় বরং ভালবাসা দিয়ে জনগণের মন জয় করতে হবে। পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তাদের তিনি নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করতে বলেন। পুলিশের দু/একজন কর্মকর্তাদের জন্য পুরো পুলিশ বাহিনীর বদনাম হতে পারে না । পুলিশ জনগণের মঙ্গলের জন্য অনেক ভাল করছে যার অনেক দৃষ্টান্তও রয়েছে।

তিনি বলেন, পুলিশকে আরো জনবান্ধব হতে হবে। এমন একটি কর্মসূচি নেয়া যেতে পারে যেখানে পুলিশ অফিসার বাড়ি-বাড়ি গিয়ে জনগণের আইন-শৃঙ্খলাজনিত কোন সমস্যা আছে কিনা বা অন্য কোন সমস্যা আছে কিনা জানতে চাইতে পারে। এতে জনগণের মনের মধ্যে পুলিশ সম্পর্কে যে ভীতি রয়েছে তা দূরীভূত হবে। অর্থাৎ ভয় দেখিয়ে জয় নয়, বরং ভালবাসা দিয়ে মানুষের মন জয় করতে হবে।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়///স্পেশাল

Total Page Visits: 66249

নরসিংদী জেলা বাল্যবিবাহ মুক্ত করার লক্ষ্যে জেলা কাজী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

নরসিংদী সংবাদদাতাঃ

 

নরসিংদী জেলা কাজী সমিতি কর্তৃক আয়োজিত “নরসিংদী জেলা বাল্যবিবাহ মুক্ত করার লক্ষ্যে জেলা কাজী সমিতির করণীয় শীর্ষক সম্মেলন-২০১৯” ৩০ডিসেম্বর সোমবার  অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা ফারহানা কাউনাইনসহ জেলার কাজীগন সহ স্থানীয় প্রশাসন ও গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ।

জেলার কাজীদের উদ্দেশ্য দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “আপনারা জন্ম নিবন্ধন ছাড়া কোন বিবাহ নিবন্ধন করবেন না। আপনারা এ সমাজের নেতা। আর তাই বাল্যবিবাহ রোধ সহ অন্যান্য সামাজিক ব্যাধি দূরীকরণে জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে।” এ সময় প্রধান অতিথির গঠন মূলক বক্তব্যে স্থানীয় বিজ্ঞমহল তার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

ক্রাইম ডায়রি//জেলা

Total Page Visits: 66249

শেরপুরে গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে

এরশাদ হোসেন, বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ

বগুড়ার শেরপুরে একটি জলাশয়ের পাড়ে লাগানো গাছ জোরপূর্বক কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার (২৭ডিসেম্বর) ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গাছের গুঁড়ি উদ্ধার করেন।

অভিযোগে জানা যায় যে, উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের আমইন গ্রামের মৃত সোলায়মান আলীর ছেলে ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বাবু ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া একটি জলাশয়ের পাড়ে শতাধিক ইউক্যালিপটাস৷৷ গাছ রোপণ করেন। ইতিমধ্যে গাছগুলো বড় হওয়ায় বেশ মূল্যবান হয়ে উঠে। কিন্তু পূর্বশক্রতার জের ধরে প্রতিপক্ষ একই গ্রামের মোহাম্মদ আলী ও গোলাম রব্বানীর নেতৃত্বে ডিসেম্বর মাসের চলতি সপ্তাহে দুই দফায় জোরপূর্বক মোট ৩৯টি গাছ কেটে নিয়ে যায়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় আট লাখ টাকা।

পরে ঘটনাটি জানিয়েভুক্তভোগী ওই ব্যবসায়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। জানতে চাইলে অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই)মো. ফজলুল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, জোরপূর্বক কেটে নিয়ে যাওয়া গাছের মধ্যে বেশ কিছু গাছের গুঁড়ি কেল্লাপেশী মেলা এলাকায় অবস্থিত একটি স’মিল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, উক্ত ঘটনায় মামলা নেয়া হবে। পাশাপাশি তদন্তপূর্বক আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম/জেলা

Total Page Visits: 66249

অবৈধভাবে উপার্জন ও গোপন বিনিয়োগে দুদকের অনুসন্ধান

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃ

অবৈধভাবে উপার্জন ও গোপন বিনিয়োগ কিংবা অন্যের নামে বিনিয়োগের বিষয়ে অনুসন্ধান করছে একাধিক এন্ট্রি করাপশন টিম। একটি বিশ্বস্ত সুত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন সরকারি কিংবা বেসরকারি    প্রতিষ্ঠানে  কর্মরত অবস্থায় অবৈধ উপার্জিত অর্থ স্ত্রী কিংবা বন্ধু কিংবা অন্য কারো নামে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান কিংবা কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে টাকাকে সাদা কিংবা হালাল করার চেষ্টা করছে একদল লোক।

বঙ্গকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দূর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে বলিয়ান দুদকের আসন্ন চিরুনী অভিযান এদের বিরুদ্ধে শুরু হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।  বিশ্বস্ত সুত্রে জানা গেছে, ভ্যাট ও ইনকাম ট্যাক্স নিয়েও একশ্রেণির কর্মকর্তা সরকারি কোষাগারকে ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেেের সাথে গোপন আঁতাত করে ভ্যাট কম বা ফাঁকি দিতে সহযোগীতা করে নিজের লাভবান হচ্ছে এমন সব কোম্পানি ও কর্মকর্তাদেরও তালিকা করা হচ্ছে। অবৈধ বিনিয়োগের বহুমুখী ধাপ রয়েছে। এ সব অপরাধীরা এতোটাই সুক্ষভাবে দক্ষতার সাথে তাদের টাকা হাইড করছে বা করে ফেলেছে যে সাধারণ দৃষ্টিতে তা চোখে পড়া অসম্ভব। একশ্রেণির সি এ ফার্ম কিংবা একাউন্টস কর্মকর্তারাও এসব অপরাধের   সহযোগী।

এসব সুক্ষাতিসুক্ষ আর্থিক অপরাধ দেশের চলমান অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বাঁধাগ্রস্থ করে ব্যাক্তিকে হঠাৎ আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বানায়।    ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা অর্থনৈতিক গোয়েন্দারা এসব সুক্ষ আর্থিক লেনদেন নিয়ে কাজ করছে বলে একটি সুত্র ক্রাইম ডায়রিকে   জানিয়েছে।

(ধারাবাহিক…… চলবে)

ক্রাইম ডায়রি//ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিট//অপরাধ জগত

Total Page Visits: 66249

রাজধানীর উত্তরায় নিউমার্কেট এ দুদকের অভিযান

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃঃ

 

সারাদেশে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে ও  দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিটে আগত অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজধানীর উত্তরায়  অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক।  দুদক সুত্রে জানা গেছে, সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে তার উপর মার্কেট তৈরি এবং জাল জালিয়াতির মাধ্যমে অন্য এক ব্যক্তির নামে বিদ্যুৎ এবং পানি সংযোগ গ্রহণের মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্বসাৎ করা হয়েছে এই মর্মে দুদক অভিযোগ কেন্দ্র-১০৬ এ একটি অভিযোগ আসে।  দুদকের সহকারী পরিচালক জেসমিন আক্তার এবং উপসহকারী পরিচালক ফাহমিদা আকতার এর সমন্বয়ে গঠিত টিম আজ ২৬-১২-২০১৯ তারিখে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অভিযানটি পরিচালিনা করে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জনাব গোলাম ফারুক নামে জনৈক ব্যক্তি অবৈধভাবে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে রাজউক ও বিভিন্ন সিন্ডিকেটের সাথে যোগসাজশ করে উত্তরা আজমপুরের ঢাকা- ময়মনসিংহ রোডের পাশে প্রায় ১৭ কাঠার সরকারি স¤পত্তি দখল করে “উত্তরা নিউ মার্কেট” নামে প্রায় ১০০ টি দোকানসমৃদ্ধ একটি মার্কেট স্থাপন করেছেন। এছাড়া, অন্য এক ব্যক্তির নামে ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে ডেসকো থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ এবং ঢাকা ওয়াসা থেকে পানির সংযোগ নিয়ে তা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ব্যবহার করে আসছেন। জনাব গোলাম ফারুক এসব ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড থেকে ১২ কোটি টাকা ঋণও গ্রহণ করে ইতোমধ্যে তা ভোগ করছেন। এর জন্য তারা অবৈধ বিদ্যুৎ এবং পানির লাইন নিয়েছেন।  এছাড়া, সরকারি জমি উদ্ধার করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিষয়ে দুদকের পক্ষ হতে সুুুুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ক্রাইম ডায়রি// ক্রাইম// দুদক বিট

Total Page Visits: 66249

৯ টি পন্যের সনদ বাতিল করল বি এস টি আইঃ খুচরা বিক্রয়,গুদামজাত ও বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ

প্রকৌশলী জুনায়েদ আহম্মেদঃ

বাংলাদেশ ষ্ট্যান্ডার্টস এন্ড   টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বি এস টি আই) এক বিজ্ঞপ্তিতে খোলা বাজারে ৯টি ব্র্যান্ডের বিভিন্ন পণ্যের মানসনদ বা লাইসেন্স বাতিল করেছে বলে জানা গেছে।  বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) ক্রেতাদের মানসম্মত পণ্য খাওয়াতে এবং ব্যবহার করার সুযোগ দিতে বদ্ধপরিকর। বঙ্গকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার  নির্দেশ অনুযায়ী বি এস টি আই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এ অভিযান পরিচালনা  করে আসছে।

বিএসটিআই এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, পরিদর্শন দলের মাধ্যমে খোলাবাজার থেকে বিভিন্ন পণ্যের নমুনা ক্রয় করে পরীক্ষা করা হয়। এতে কোম্পানির ৯টি ব্র্যান্ডের পণ্যে অত্যন্ত নিম্নমানের উপকরণ পাওয়া যায়। তাই এসব পণ্যের মান সনদ বা সার্টিফিকেশন মার্কস (সিএম) লাইসেন্স বাতিল করা হয়।

পণ্যগুলো হলো এ কে খান ফুড অ্যান্ড বেভারেজের সেফ ব্র্যান্ডের ফর্টিফাইড সয়াবিন তেল, জে কে ফুড প্রডাক্টসের মদিনা লাচ্ছা সেমাই, মডার্ন কসমেটিকস অ্যান্ড হারবাল ইন্ডাস্ট্রিজের মডার্ন স্কিন ক্রিম, জি এম কেমিক্যাল ওয়ার্কসের জিএম স্কিন ক্রিম, নিউ চট্টলা প্রা. লিমিটেডের এরাবিয়ান স্পেশাল ঘি, রেভেন ফুড কোম্পানির রেভেন লাচ্ছা সেমাই, খাজানা মিঠাই লিমিটেডের খাজানা ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই, ঘি ও চানাচুর, প্রমি এগ্রো ফুডের প্রমি হলুদের গুঁড়া এবং ইফাদ সল্ট অ্যান্ড কেমিক্যাল লিমিটেডের ইফাদ ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ।

বিএস টি আই এর চট্টগ্রাম বিভাগের  পরিচালক মোঃ সেলিম উদ্দিন, রাজশাহী বিভাগের সহকারী পরিচালক আসলাম হেসেন, ময়মনসিংহের ফিল্ড অফিসার প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম ক্রাইম ডায়রির এক প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন,  বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক একজন দক্ষ নীতিবান ও গুনী মানুষ। জনগন খারাপ ও মানহীন পণ্য খাবে এটা তিনি কিছুতেই বরদাশত করবেন না।তাই এসব মানহীন পন্যের কোম্পানিগুলো          নতুনভাবে লাইসেন্স গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী, সরবরাহকারী, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা এসব পণ্য বিক্রি, বিতরণ, সংরক্ষণ ও বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারবে না।

বিএসটিআই ভোক্তাদেরও এসব পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।

সংস্থাটি এসব পণ্য কোন খুচরা দোকানী বিক্রি, মজুত ও কোন মিডিয়া এসব পন্যের বিজ্ঞাপন প্রচার যাতে না করে সে ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বলে ক্রাইম ডায়রিকে জানিয়েছে।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

Total Page Visits: 66249

একজন হাসান মাহমুদঃ একজন মহানায়কের গল্পগাঁথা

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃঃ

হাঁটি হাঁটি পা পা করে বেড়ে ওঠা ছোট্ট শিশুটি একদিন বিশ্বজয় করবে বাবা মায়ের এমন বিশ্বাস নিয়ে বেড়ে ওঠা সেই শিশু সত্যিই বিশ্বজয় করেছে।।হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে লক্ষকোটি বাঙ্গালির।  জানেন সেই শিশুটি কে???  তিনি হলেন শতকোটি যুবকের হৃদয়ের স্পন্দন বিশিষ্ট পরিবেশ বিজ্ঞানী ডক্টর. হাসান মাহমুদ।     বাংলাদেশের দ্বিতীয় রাজধানী খ্যাত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সুখবিলাস গ্রামে ১৯৬৩ সালের ৫ জুন ভোরবেলা বাবা মায়ের কোল আলোকিত করে  খ্যাতিমান আইনজীবী প্রয়াত নুরুচ্ছফা তালুকদারের ঘরে জন্মগ্রহণ করা শিশুটিই আজকের হাসান মাহমুদ।। বাবা-মা নাম রাখেন হাছান মাহমুদ। সুখবিলাস গ্রামের সে হাছান মাহমুদ এখন বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী।।।।

অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন তিনি। ১৯৭৮ সালে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী স্কুল চট্টগ্রাম মুসলিম হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাশ করে ভর্তি হন হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজে। তখন মহসীন কলেজর নাম ছিল ইন্টারমিডিয়েট কলেজ। ইন্টারমিডিয়েট কলেজ এবং ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজ একীভূত হয়ে মহসীন কলেজ নামকরণ করা হয়। ছোট হাছান মাহমুদকে দায়িত্ব দেওয়া হয় কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের। একই সময়ে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। দক্ষতার হাতে খড়ি হয়। কিন্তু আদতে দেখা দক্ষতা নিয়েই জন্মগ্রহণ করেছেন তিনি।

কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাশ করে হাছান মাহমুদ ভর্তি হন বাংলাদেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে । মেধা আর বিচক্ষণতা দিয়ে একাডেমিক পড়াশুনার পাশাপাশি ছাত্রলীগের রাজনীতি চালিয়ে যান হাছান মাহমুদ।

আওয়ামীলীগের তখন ক্রান্তিকাল। সময়টা ১৯৮০ সাল। ছাত্রলীগ করা তখন দুরুহ ব্যাপার। সেই সময় হতে ছাত্রলীগের হাল ধরে   ছাত্র রাজনীতি করেছেন। এ থেকে কেউ দূরে রাখতে পারেনি হাছান মাহমুদকে। নির্বাচিত হন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে। ১৯৯০ সালে চাকসু নির্বাচনের জন্য গঠিত সর্বদলীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মনোনীত করা হয় হাছান মাহমুদকে।ছাত্ররাজনীতির পাঠ চুকিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য একসময় ইউরোপ চলে যান তিনি। ভর্তি হন বিশ্বের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ ব্রাসেলস এর   ইউনিভার্সিটি অব ব্রীজ এ। পড়াশোনা শেষে বেলজিয়ামের লিমবার্গ ইউনিভার্সিটি সেন্টাম-এর শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন ড. হাছান মাহমুদ।

রক্তে যার রাজনীতি বাসা বেঁধেছে তিনি কী আর রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে পারেন? নিজেই সংগঠিত করেন বেলজিয়াম আওয়ামী লীগকে। নির্বাচিত হন বেলজিয়াম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। তখনো পাদপ্রদীপের নিচে ড. হাছান মাহমুদ।ব্রিজে ইউনিভার্সিটির দক্ষিণ এশিয়া ভিত্তিক স্টুডেন্ট ফোরামের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় আসেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক রাজনীতির সঙ্গে ড. হাছান মাহমুদের সুসম্পর্ক গড়ে উঠে।

যার হৃদয়ে দেশের প্রতি অকুণ্ঠ ভালোবাসা তিনি তো আর বিদেশের মাটিতে আরাম আয়েশের জীবন কাটাতে পারেন না! আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ডাকে সাড়া দিয়ে বিদেশে শিক্ষকতার চাকরি ফেলে দেশে ফিরে আসেন। ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সাথে যুক্ত হন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না আসলেও আওয়ামী লীগ সভাপতি আস্থা রাখেন হাছান মাহমুদের উপর। করা হয় শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী। ২০০৮ সাল পর্যন্ত সে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। কিছুদিনের মাথায় আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ড. হাছান মাহমুদকে বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব দেন।

এরইমধ্যে দেশে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একজন খ্যাতিমান পরিবেশবিদ হিসেবে সুপরিচিত হয়ে উঠেন ড. হাছান মাহমুদ। আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন কপ-১৫ (মেক্সিকো), কপ-১৬ (ডেনমার্ক), কপ-১৭ (ডারবান), কপ-১৮ (দোহা), কপ-১৯ (পোল্যান্ড), কপ-২০ (লিমা), কপ-২১ (প্যারিস), কপ-২২ (মরক্কো) এ বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল প্রতিনিধিত্ব করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হন। পরিবেশে অনন্য অবদানের জন্য আন্তর্জাতিক গ্রিন স্টার পদকেও ভূষিত হন এ আন্তর্জাতিক পরিবেশ বিজ্ঞানী। ২০০৮ সালের ৯ম নির্বাচনে যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে হারিয়ে প্রথমবার সাংসদ নির্বাচিত হন হাছান মাহমুদ। এরপর প্রথমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পরে পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান ড. হাছান মাহমুদ। পরবর্তীতে পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয় হাছান মাহমুদকে।

গত ৫ বছর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ড. হাছান মাহমুদ। এই সময়ে দেশের পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় সফলতার সঙ্গে কাজ করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হন তিনি।

ড. হাছান মাহমুদ পরপর দুই কমিটিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্ব পান। বর্তমানে প্রচার সম্পাদকের পাশাপাশি দলের অন্যতম মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

রাজনীতির পাশাপাশি গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. হাছান মাহমুদ। এর আগে পরিবেশ বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ স্টাডিস বিষয়ে ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি এবং নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটিতে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী আংশিক) সংসদীয় আসনে বিশাল ব্যবধানে বিজয় অর্জন করেন ড. হাছান মাহমুদ। তাঁর নিকট প্রার্থীকে ২ লাখ ১০ হাজার ৯৩৬ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সৎ, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির এ রাজনীতিবিদ।

দলের জন্য বহু ত্যাগ করেছেন জীবনে। ইচ্ছে করলে আরাম আয়েশে জীবন কাটাতে পারতেন। কিন্তু গনতন্ত্রের জন্য এবং আওয়ামীলীগের জন্য তার ত্যাগ ভুলবার নয়।

তাইতো, আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতাদের যখন মন্ত্রিসভায় জায়গা হয়নি। হাছান মাহমুদ তখন পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তথ্য মন্ত্রী হিসেবে তার সফলতার গল্প আরও বিস্তর।।। আরেকদিন শোনাবো সেই গল্প।

ড. হাছান মাহমুদের বাবা চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং দুই মেয়াদে চট্টগ্রাম আদালতের পিপি ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে ড. হাছান মাহমুদ দুই কন্যা, এক ছেলের জনক।

রাজনৈতিক জীবনে একজন সফল ব্যক্তিত্বের অধিকারী তিনি। আওয়ামিলীগ এর যে কয়জন ক্লিন ইমেজের নেতা আছেন তার মধ্যে ড.হাসান মাহমুদ অন্যতম। বরাবরই তিনি যুব সমাজের হৃদয়ের স্পন্দন।  দলের সবচেয়ে ঠান্ডা মেজাজের ও সবচেয়ে বুদ্ধিমান বলে মনে করে দেশী বিদেশী রাজনীতিকরা। ব্যক্তিজীবনে দানবীর ও মহৎ হৃদয়ের অধিকারীী এই নেতার কাছে ভাল কোন বিষয়ে আবদার করে নিরাশ হয়েছে এমন রেকর্ড খুঁজে পাওয়া যায় না।।।  তাই তো আওয়ামিলীগের ২১তম সম্মেলনে বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনা তার উপর আস্থা রেখেছেন।।দায়িত্ব দিয়েছেন যুগ্ম সাধারন সম্পাদকের।।।

লেখক…

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেল

সম্পাদক ও প্রকাশক

ক্রাইম ডায়রি  ( সাপ্তাহিক, অনলাইন দৈনিক, অনলাইন টেলিভিশন) এবং

সভাপতি

জাতীয় সাংবাদিক পরিষদ।

+৮৮ ০১৯১৫ ৫০৬৩৩২

ক্রাইম ডায়রি///জাতীয়//স্পেশাল

Total Page Visits: 66249

ক্রাইম ডায়রির সম্পাদকের দুই চাচার একই দিনে ইন্তেকাল-দেশবাসীর নিকট দোয়া কামনা

শাহাদাত হোসেন, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধিঃঃ

ক্রাইম ডায়রির সম্পাদক আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেল এর শ্রদ্ধেয় বড় চাচা হাজী সোলায়মান আলী আকন্দ ( মাষ্টার) ২২ডিসেম্বর, ২০১৯ইং, রোজ রবিবার  সকাল ৯.৩৯মিনিটে তার গ্রামের বাড়ি বগুড়া জেলার শেরপুর থানার ফুডভিলেজ খ্যাত     ধনকুন্ডি গ্রামে  ইন্তেকাল করেছেন। তার আট চাচার মধ্যে তার এই চাচা তার বাবার সাথে একান্নবর্তী পরিবার হিসেবে ছিলেন এবং এই দুই পরিবারের একমাত্র ছেলে হলেন ক্রাইম ডায়রির সম্পাদক   ।।।

উল্লেখ্য যে,  কিছুদিন আগেই তার  বাবা ডাঃ আবু সাঈদ সিদ্দিক ম্যাসিভ স্ট্রোকেে রাজধানীর মিলিটারী কম্বাইন্ড হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন। এরই পর তার বড় চাচার ইন্তেকাল পুরো পরিবারকে যখন শোকাহত করল ঠিক তখনই দুঃখের উপর নেমে এলো কঠিন দুঃখ ।।।

…দুঃখের উপর দুঃখ….
তার  বড় চাচার নামাজে জানাযা শুরু হয়েছে  আসর নামাজের পরপরই। স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সামান্য আলোচনার পরপরই  দাফন হয়ে মোনাজাত করে মাগরিবের একটু আগে সবার সাথে তার বাবার চাচাত ভাই হাজী মোজাম্মেল হক বুলু বাড়ি আসলেন। এরপর খেয়েদেয়ে এশার নামাজও বাড়িতে পড়েছেন।।।। ঠিক রাত ৮.৪০ মিনিটে তিনি মহান প্রভুর ডাকে সারা দিয়ে চলে গেছেন।।।
(তিনি অনেককে বলেছেন সেলেমান ভাইকে রেখে আসলাম আমিও আর বাঁচব না।) একই  দিনে তার দুই চাচার মৃত্যু পুুুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   মহান আল্লাহ যেন তার বাবা সহ দুই  চাচাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান বানান।।।।

ক্রাইম ডায়রির পক্ষ হতে পুরো দেশবাসীর  নিকট দোয়া কামনা করা যাচ্ছে।

ক্রাইম ডায়রি // জেলা// স্পেশাল

Total Page Visits: 66249

ভয়ংকর শীত সারাদেশেঃ আরও কয়েকদিন চলতে পারে এ অবস্থা

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃ

দেশে শীতের মাত্রা আরও বেড়েছে। কনকনে ঠান্ডার কারনে জমে যাওয়ার মত অবস্থা মানুষের।  বয়স্ক ও শিশুরা রয়েছে জীবন ঝুঁকিতে। উত্তর বঙ্গের বগুড়ার ফুডভিলেজ খ্যাত ধনকুন্ডিতেই শীতের  যে প্রচন্ডতা;তাতে হিমালয়ের পাদদেশের জেলা শহর বাংলাদেশের পঞ্চগড়ের  কি অবস্থা হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। বিগত কয়েকদিন ধরে চলা শৈত্যপ্রবাহ কেটে গেছে বললেও আসলে বাস্তবতা হলো শৈত্যের কুয়াশায় আজ ২১শে ডিসেম্বর,২০১৯ইং এ টাঙ্গাইলসহ আশেপাশের উঞ্চ জেলাগুলোতেও কুয়াশায় কিছু চোখে পড়েনা।  আর ঠাণ্ডার দাপটতো রয়েছেই। প্রচণ্ড শীতে অনেকটা কাবু হয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন এলাকার জনজীবন।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ আর ঠাণ্ডা বাতাসে হিমশিম খেতে হচ্ছে দেশবাসীকে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, শীতের এই ভাব আরো কয়েকদিন থাকবে। তাপমাত্রা সবচেয়ে কম রেকর্ড হওয়া   চুয়াডাঙ্গার বাসিন্দারা বলছেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড শীত। শীতের সঙ্গে বাতাস, বাসার বাইরেই বের হতে পারছি না। কুয়াশায় চারদিক অনেকটা অন্ধকার হয়ে রয়েছে। বাসার বয়স্করা আর শিশুরা অসুস্থ পড়ছে।’

ক্রাইম ডায়রির স্থানীয় প্রতিনিধি  জানিয়েছেন    , ‘গতকালের চেয়ে আজ ঠাণ্ডা আরো বেশি পড়েছে। বাধ্য না হলে বাসার কেউ বাইরে বের হচ্ছে না।’

অন্যান্য এলাকার তুলনায় রাজধানী ঢাকায় শীত তুলনামূলক কম পড়লেও এই শৈত্যপ্রবাহে কাবু হয়ে পড়েছে নগরবাসীও। প্রচণ্ড ঠাণ্ডার মধ্যে লেপতোশক বের করে ব্যবহার করতে শুরু করেছে সবাই।আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলছেন, দেশের ওপর দিয়ে একটি যে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছিল, সেটা শেষ হয়ে গেছে। তবে দিনে তাপমাত্রা কম থাকায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। সেটা আরো কয়েকদিন থাকতে পারে।

তিনি বলছেন, উত্তর-পশ্চিম শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ (জেড বায়ু) বেশি সক্রিয় থাকায়, মেঘলা আকাশ এবং ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের আলো আসতে পারছে না। বাতাসে জলীয় বাষ্পে আর্দ্রতাও বেশি। ফলে দিনে তাপমাত্রা না বাড়ায় ঠাণ্ডা জেঁকে রয়েছে।

গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ফরিদপুরে ১০.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সবোর্চ্চ তাপমাত্রা ছিল কক্সবাজারের টেকনাফে ২৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

শীতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে বয়স্ক মানুষ এবং শিশুরা। হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত বিভিন্ন রোগ নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে হাসপাতাল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ঘন কুয়াশার কারণে শুক্রবার রাতে পদ্মার পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি চলাচল পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়।

শনিবার সকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও কুয়াশার কারণে চার ঘণ্টা বিমান চলাচল বন্ধ রাখতে হয়।

আবহাওয়া দপ্তর বলছে, এ মাসের শেষের দিকে আরেকটি শৈত্যপ্রবাহ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান সাংবাদিকরা  জানিয়েছেন, কালকের পর আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হবে। ঠাণ্ডা ভাবটা কিছুটা কমে যাবে। তবে এই মাসের শেষের দিকে আরেকটি মৃদু বা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ আসতে পারে।

তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে হলে সেটি শৈত্যপ্রবাহ বলে ধরা হয়। ফলে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির ওপরে হওয়ায় শৈত্যপ্রবাহ কেটে গেছে বলে আবহাওয়াবিদরা বলছেন।

আগামী কয়েকদিনের পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, চলতি মাসের শেষদিক ছাড়াও জানুয়ারির প্রথমদিকে আরেকটি মৃদু বা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। দেশের উত্তরাঞ্চলে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়//   ///সূত্র : বিবিসি

Total Page Visits: 66249

গণমানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে নেতা কর্মীদের প্রতি আওয়ামীলীগের নব নির্বাচিত সভাপতি শেখ হাসিনার আহবান

ক্রাইম ডায়রি ডেস্কঃ

আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে শেখ হাসিনা সভাপতি এবং ওবায়দুল কাদেরকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে আজ শনিবার ইর্ঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে কাউন্সিল অধিবেশনে তাদেরকে নির্বাচিত করা হয়।

দলের ২১তম জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত নির্বাচন কমিশনের প্রধান কমিশনার এডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদেরের নাম ঘোষণা করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আদর্শ ভিত্তিক রাজনীতি করার মাধ্যমে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার জন্য আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে হবে, মানুষ যাতে স্বতস্ফূর্ত ভাবে ভোট দিয়ে আমাদেরকে নির্বাচিত করে এবং আমরা যেন দেশসেবা করে যেতে পারি। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ আমরা গড়তে পারি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ যে স্বাধীনতা অর্জন করেছে সেই রক্ত যেন বৃথা না যায়, সে লক্ষ্য নিয়েই তাঁর সরকার কাজ করে বিগত ১০ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। লক্ষ্য আরো অনেক দূর যেতে হবে। সেজন্য সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে।

আব্দুল মতিন খসরু সভাপতি পদে শেখ হাসিনার নাম প্রস্তাব করেন এবং পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য তা সমর্থন করেন। নির্বাচন কমিশনার ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন এ পদে আর কোনো নাম প্রস্তাব না পাওয়ায় শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করেন।
এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদেরের নাম প্রস্তাব করলে তাতে সমর্থন জানান আব্দুর রহমান। নির্বাচন কমিশনার ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন এ পদে আর কোনো নাম প্রস্তাব না পাওয়ায় ওবায়দুল কাদেরকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করেন।

পরে ২১তম জাতীয় সম্মেলনে নব নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সভাপতিমন্ডলীর সদস্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদিকমন্ডলীর সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন।

সভাপতিমন্ডলীর সদস্যরা হলেন-সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফর উল্লাহ, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, নুরুল ইসলাম নাহিদ, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য, ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, রমেশ চন্দ্র সেন, অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান, আবদুল মতিন খসরু, শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকরা হলেন, মাহাবুব-উল-আলম হানিফ, ডা. দীপু মণি, ড. হাছান মাহমুদ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

সাংগঠনিক সম্পাদকরা হলেন, আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, এস এম কামাল হোসেন ও মির্জা আজম।

এছাড়াও আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আক্তার, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাজিবুল্লাহ হিরু, প্রচার সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হারুন অর রশীদ, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন শামসুন নাহার চাঁপা, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এবং স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদ ডা. রোকেয়া সুলতানার নাম ঘোষণা করেন।

সম্মেলনে বঙ্গকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাউন্সিলরদের উদ্দেশ্য করে   বলেন, ‘এখানে কাউন্সিলরবৃন্দ আছেন- সংগঠনকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে। আর জাতির পিতার যে আদর্শ সেই আদর্শ মেনেই চলতে হবে।’প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আজ ২১ শে  ডিসেম্বর, ২০১৯ইং শনিবার আওয়ামী লীগের ২১ তম জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্ব কাউন্সিল অধিবেশনের শুরুতে প্রদত্ত ভাষণে একথা বলেন।

সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন শেখ হাসিনা। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে নির্মিত প্যান্ডেলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই অধিবেশন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২৯টি বছর এদেশের জনগণের ভাগ্য নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলেছে তাদের বিরুদ্ধে যত সংগ্রাম ও আন্দেলন এং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার যত সংগ্রাম আওয়ামী লীগই সে সংগ্রাম করেছে এবং আওয়ামী লীগই এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, বাঙালির জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করা, একে উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলে বিশ্বে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়েই জাতির পিতা তাঁর সারাটি জীবন উৎসর্গ করে যান। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাবার জন্য তিনি আজীবন জেল, জুলুম-নির্যাতন সহ্য করে গেছেন।

জাতির পিতার অবদান ও আওয়ামী লীগকে গড়ে তোলার কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এমনভাবে সংগঠনটি গড়ে তোলেন, এর মাধ্যমে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশের স্বাধীনতা অর্জন করেন।

 

সরকার প্রধান বলেন, বাংলার জনগণকে জাতির পিতার স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র সাড়ে ৩ বছরের শাসনকালে জনগণকে অর্থনৈতিক মুক্তি এনে দিতে পারেন নাই। সেই স্বপ্ন পূরণই তাঁর রাজনীতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর বাবা-মা’য়ের আত্মা যেন শান্তি পায়।

প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার উর্ধ্বে উঠে দেশের জন্য কাজ করে যাওয়ায় নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দেখা যায় যে, অনেকেই ক্ষমতায় আসার পরে জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারে না। কিন্তু আমরা সেটা পেরেছি। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছি। সেক্ষেত্রে আমি বলবো বলবো সকলকে সেই চিন্তা থেকেই কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন এবং জাতির যেকোন ক্রান্তি লগ্নে এর নেতা-কর্মীরা জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করেছে। প্রতিটি কাউন্সিলরকে এটা মাথায় রাখতে হবে- জাতির পিতার সেই আদর্শ নিয়েই আমরা দেশকে গড়ে তুলবো।’

তিনি বলেন, জাতির পিতা স্বাধীনতার পরে একটি যুদ্ধ বিধ্বস্থ দেশ গড়ে তুলে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের পর্যায়ে রেখে গিয়েছিলেন আর এরপরেই জাতির জীবনে ১৫ আগষ্ট বিপর্যয় নিয়ে আসে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭৫ এর জাতির পিতাকে হত্যার পর এদেশে যে হত্যা, ক্যু এবং ষড়যন্ত্রের রাজনীতি এদেশে শুরু হয়েছিল। যেখানে গণতন্ত্র ছিল না, কারফিউ গণতন্ত্র ছিল। যেখানে সেনাতন্ত্র ছিল, সামরিক স্বৈর শাসকরা রাষ্ট্র শাসন করেছে দীর্ঘ ২১ বছর, এরপর আবার ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত।

 

 

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, জনগণ যে সরকারের সেবা পেতে পারে, জনগণের কল্যাণ করতে পারে, তাঁদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে, এটা কেবল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরেই জনগণ উপলদ্ধি করতে পেরেছে।

তিনি বলেন, উড়ে এসে জুড়ে বসারা সবসময় নিজেদের ভাগ্য নিয়ে এবং অসৎ উপায়ে ক্ষমতা দখলকে বৈধ করার কাজেই ব্যস্ত ছিল। তারা জনগণের কথা চিন্তা করে নাই।

সরকার প্রধান বলেন, এদেশে ঋণ খেলাপি কালচার, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতি এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেধাবী ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে তাদেরকে ব্যবহার করাসহ পুরো সমাজটাকে তারা ধ্বংসের পথে টেনে নিয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে সরকারের কোন নীতি আদর্শ থাকে না, কোন লক্ষ্য থাকে না, সে সরকার চলে কি করে, প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি এ সময় জাতির পিতার লেখা অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা এবং জাতির পিতার বিরুদ্ধে পাকিস্তানী গোয়েন্দাদের গোপন প্রতিবেদন নিয়ে প্রকাশিত ১৪ খন্ড ভলিউমের বইগুলো দলের প্রতিটি নেতা-কর্মীকে পড়ার পরামর্শ দেন।

কারো বিরুদ্ধে প্রকাশিত গোয়েন্দা রিপোর্ট নিয়ে অদ্যাবধি কেউ কোন পুস্তক রচনা না করলেও জাতির পিতা কিভাবে দেশের কল্যাণে কাজ করে গেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে কি কি ষড়যন্ত্র হয়েছিল, কি কি অপপ্রচার হয়েছিল-সেগুলো তুলে ধরার জন্যই ’সিক্রেট ডকুমেন্ট অন ফাদার অব দি নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ শীর্ষক এ সংক্রান্ত বইগুলো তিনি প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি কাউন্সিলরদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বইগুলো থেকে আপনাদের অনেক কিছু শিক্ষা নেওয়ার আছে।’শৈত্য প্রবাহের কারণে প্রচন্ড শীত অনুভূত হওয়ায় কাউন্সিলের কর্মসূচি সংক্ষেপ করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

/ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়//রাজনীতি   ///সূত্র : বাসস

Total Page Visits: 66249