• সোমবার (বিকাল ৩:২৪)
    • ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ভয়াল ১৫ নভেম্বরঃ সিডরের ১৩ বছর; উপকূলবাসীর বিভিষিকাময় এক দুঃস্বপ্ন

শেখ সাইফুল ইসলাম কবির.সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার,বাগেরহাটঃ
আজ সেই দুঃসহ স্মৃতি বিজড়িত ভয়াল ১৫ নভেম্বর। উপকূলবাসীর বভিীষকিাময় এক দুঃস্বপ্নরে দনি। আজ ১২ম বছর ২০০৭ সালের এই দিনে সুপার সাইক্লোন আঘাত হানে উপকূলীয় এলাকায়। লন্ডভন্ড করে দেয় প্রকৃতি ও মানবতাকে। ধ্বংসস্তুুপে পরিণত করে বাগেরহাটের শরণখোলা, মোড়েলগঞ্জসহ সবকটি উপজেলাকে। দুঃসহ স্মৃতি আর বেদনায় প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে জড়িয়ে আছে এই দিনটি। সিডরের ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও এর স্মৃতি চিহ্ন আজও উপকূলের মানুষ সিডরের ভয়াবহতা বয়ে বেড়াচ্ছে। সিডরের অগ্নি মুর্তির কথা মনে করে অনেকে এখনো আঁতকে উঠে নিজের অজান্তে। গত কয়েক বছরে সিডর বিধস্থ বাগেরহাটবাসী ঘুরে দাঁড়াতে না পারলেও দেশীবিদেশী অগনিত এনজিও তাদের আখের গুছিয়ে নিয়েছে। অসহায় মানুষের পাশে দাড়াবার নাম করে দাতা সংস্থার কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। রাস্তাঘাট, বেড়িবাঁধ,ও পুর্নবাসনের নামে সরকারি বেসরকারি সংস্থা সঠিকভাবে কাজ না করে লোপাট ও আত্মসাত করেছে বরদ্দকৃত টাকার সিংহভাগ।
ভয়াল ওই সিডরে বলেশ্বরের উন্মত্ততায় ধ্বংশ স্তুপে পরিণত হয় শরণখোলাসহ ওই এলাকার জনপথ। চারিদিক মানুষ আর পশুপাখির লাশে একাকার হয়ে যায়। পরবর্তীতে সৌদি সরকার, মুসলিম এইড এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন এনজিও যে গৃহ নির্মাণ করেছে তার বাসযোগ্য নয়। উপকূলবাসী চায় একটি টেকসই বেড়িবাঁধ। সরকারি-বেসরকারি যে সাহায্য সহযোগিতা এসেছে বলেশ্বরের পাড়ের মানুষগুলোর জন্য তা নিতান্তই কম নয়। অথচ ক্ষতিগ্রস্থ সকল পরিবারের ভাগ্যে জোটেনি গৃহ। সরকারি হিসাবে সিডরে বাগেরহাট জেলায় নিহত হয়েছে ৯০৮জন, আহত ১১’হাজার ৪’শ ২৮ জন। সম্পূর্নরুপে বিধ্বস্থ হয় ৬৩ হাজার ৬শ’ বাড়িঘর। আংশিকভাবে বিধ্বস্ত বাড়িঘরের সংখ্যা ১ লাখ ৬ হাজার। সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয় পাকা ৫ কি.মি. এবং কাচা প্রায় ৫০কি.মি.। ১৬.৫ কিমি বাঁধ, ২০৬টি স্কুল ও মাদ্রাসা, ৫টি কলেজ, ৪হাজার ৭’শত ৬৯টি নৌকা ও ট্রলার ধ্বংস হয়। মারা পড়ে ১৭ হাজার ৪২৩টি গবাদি পশু। বিনষ্ট হয় ১২ হাজার হেক্টর ক্ষেতের ফসল ও ৮ হাজার ৮৮৯ হেক্টর চিংড়ি ঘের।বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী মহারাজ হাওলাদার বলেন, ‘পোলা মাইয়্যাসহ ঘরবাড়ি সব হারিয়ে নিশ্ব জীবন কাটছে কোন মতে। সরকার ও এনজিও থেকে সহযোগিতা পেয়ে বছরের ৬ মাস খেয়ে পড়ে থাকতে হয়। কিন্তু মোগো কেউ কাজের ব্যবস্থা করে দেয় না। মোর ভাইবাগাররা কাজ করতে ঢাকা ও চিটাগাং চলে গেছে। মোগো যদি এহন নিত্য কাজ দেয় তাহলে খেটে পড়ে জীবন বাছবে’। কথা হয় একই গ্রামের জাকির হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘ছেলে-মেয়ে ও ভাই সিডরে হারাইছি। নদী ভাঙনে ঘরবাড়ি-জায়গাজমি সব গেছে। এহন ভূমিহীন হয়ে রাস্তার পাশে থাকতে হয়। যদি কামের সুযোগ হইতো তাহলে জমি কিনে থাহার ঘর বানাইতাম। মোগো এহন সাহায্যে লাগবে না, কাজ করার জায়গা কইর‌্যা দিবে সরকার’। দক্ষিণ সাউথখালী সেকেন্দার বলেন, অপর্যাপ্ত আশ্রয় কেন্দ্র ও বেড়িবাঁধ এ এলাকার মানুষের জন্য অন্যতম সমস্যা। যদি টেকসই বেড়িবাঁধ ও পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়, তাহলে সিডরের মত প্রাকৃতিক দুযোর্গে হতাহতের পরিমাণ অনেক কম হবে।

রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, শরণখোলাবাসীকে রক্ষার জন্য আবাসন ব্যবস্থা, সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল পেশাজীবিদের বিকল্প কর্মসংস্থানসহ টেকশই বেরীভাঁধ নির্মাণ খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। সাউথখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বলেন, সিড়রে তার ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশী লোক মারা গেছে। এবং সম্পদের অপূরনীয় ক্ষতি হয়েছে। স্বজন হারানো এ জনপদের মানুষের প্রাণের দাবি বসবাসের জন্য একটু ঘর ও টেকশই ভেরীবাঁধ। জনসংখ্যা অনুপাতে হয়নি সাইক্লোন শেল্টার। দুর্যোগের পর বিভিন্ন দাতা সংস্থার অর্থায়নে নির্মিত শেল্টারগুলোর কাজের মান নিম্ন হওয়ায় ইতোমধ্যে তার অধিকাংশ ভবন ব্যবহারের অনুপোযোগি হয়ে পড়েছে। একই অবস্থা বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার গুলোরও। এখনও শতশত পরিবার খুপড়ি ঘরে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে।

ক্রাইম ডায়রি///জাতীয়
Total Page Visits: 66253

রায়গঞ্জে বিনামূল্যে ১৮০০ জন কৃষকের মাঝে সার ও বীজ বিতরণ

স. ম আব্দুস সাত্তার, রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে কৃষি অধিদপ্তর কর্তৃক ১৮০০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় উপজেলা অডিটরিয়াম কাম কমিউনিটি সেন্টারে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাড. ইমরুল হোসেন তালুকদার ইমন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শামীমুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং উপ-সহকারি কৃষি অফিসার মোঃ জহুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন
কৃষিকর্মকর্তা কৃষিবিদ শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুল হান্নান খান,
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাদি আলমাজি জিন্নাহ, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শরিফ উল আলম শরিফ, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বাচ্চু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নিস্কৃতি দাশ, ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ছরওয়ার লিটন, আবুহেনা মোঃ মোস্তফা কামাল রিপন, রায়গঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি টি. এম কামরুজ্জামান লাবু, সাংবাদিক তাপস কুমার ঘোষ প্রমুখ। উল্লেখ্য সরকার কর্তৃক রবি/২০১৯-২০ ও খরিপ-১/২০২০ মৌসুমের জন্য প্রতিজন কৃষককে বীজ ১কেজি, ডিএসপি ২০ কেজি এবং এমপিও ১০ কেজি করে উপজেলার ৯টিইউনিয়নের মোট ১৮০০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।

ক্রাইম ডায়রি//জেলা//কৃষি

Total Page Visits: 66253