• শুক্রবার ( সকাল ৮:০৭ )
    • ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং

প্রসঙ্গ ইভটিজিংঃ আত্মহত্যা,বাস্তবতা ও করণীয়

স্পেশাল ডেস্কঃঃ

ইভটিজিং এক মহাপ্রলয়ংকারী আতংক। উঠতি বয়সী মেয়েরা এমন এক অবস্থার মুখোমুখি হয়  যেখানে সে কিছুই বলতে পারেনা।নিরবে সে বাধ্য হয় অথবা আত্নহত্যাও করে বসে। বাংলাদেশে গত আড়াই বছরে ‘ইভ টিজিং’ বা প্রেমের নামে ছেলেদের হাতে উত্যক্ত বা হয়রানির শিকার হয়ে প্রায় ৪০ জন মেয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে বলছে একটি গবেষণা রিপোর্ট।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের করা ওই গবেষণায় বলা হয়, উত্যক্তকারীদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করার কোন উপায় না দেখেই সাধারণত ওই মেয়েরা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।প্রকাশিত রিপোর্টটিতে বলা হয়, ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৭৫৪টি ইভটিজিং-এর ঘটনার খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, কিন্তু এসব ঘটনার বিচারের হার খুবই নগণ্য। নারী নির্যাতনের খবর বাংলাদেশে নতুন নয়, কিন্তু ইভ টিজিং-এর শিকার হয়ে ৪০ জনের আত্মহত্যার ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জনস্বার্থে প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদন হুবহু তুলে ধরা হলোঃ—–

“বাংলাদেশে এমন নারী খুঁজে পাওয়া দুস্কর যে কখনো কোনো দিন ইভ টিজিংয়ের শিকার হয়নি! সে বোরকার নিচেই থাকুক আর তথাকথিত আধুনিকাই হোক না কেন। ফেস-টু-ফেস কিংবা ভার্চুয়াল, নারী পরিচিত-অপরিচিতদের কাছ থেকে কখনো নোংরা কথা কিংবা কখনো ‘হাই সুন্দরী’, এই জাতীয় প্রশংসাসূচক কথার মাধ্যমেও টিজিংয়ের শিকার হয়ে থাকে। যে বলে, ‘কই আমার মা-বোনেরা তো কোনো দিন টিজিংয়ের শিকার হয়নি!’ কিছু না জেনেই আবার যে বলে, ‘টিজিং করছে, নিশ্চয় মেয়েটার দোষ ছিল। এক হাতে তো বাপু তালি বাজে না। আরও তো মেয়ে আছে, তাদের তো কেউ টিজ করে না।’ আমি তাদের বলব, ‘আপনি সত্য থেকে বহু দূরে! টিজিংয়ের জন্য সুন্দরী-অসুন্দরী, হিজাব-নেকাব কোনটাই কাজে আসে না। ওই যে ‘নিনজা’ যায় কিংবা ‘বোরকাওয়ালি’ আইছে—এটাও তো টিজিং বা বুলিংয়ের পর্যায়েই পড়ে। আর তালি আজকাল এক হাতেও বাজে বটে, দরকার শুধু একটা ড্রাম বা ঢোল জাতীয় কিছু।

তবে এ কথাও সত্যি যে, আজকাল ছেলেরাও নাকি টিজিং-বুলিং এসবের শিকার হয়ে থাকেন। তো সে ছেলে হোক বা মেয়ে হোক, টিজিং অসহনীয় মাত্রায় পৌঁছালে শুনেছি কেউ আত্মহত্যা করেন, কেউ নেশা করেন, কেউ লেখাপড়া বাদ দিয়ে ঘরে বসে থেকে মানবেতর জীবন যাপন করে থাকেন।
আমি আজকে লিখছি তাদের জন্য, যারা সর্বদাই ‘টিজিং’ নামক নোংরামির সাথে পথ চলতে বাধ্য হচ্ছে। হতাশায় ভুগে জীবনের লক্ষ্য থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছে। জীবনের গল্প থেকে নেওয়া এ লেখা শুধুই তাদের জন্য।


তখন আমি মাত্র অনার্স শেষ করে মাস্টার্সের জন্য ফাইনান্স ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হয়েছি। কিছুদিন পর জানতে পারলাম ডিপার্টমেন্টে শিক্ষক নিয়োগ হবে। সত্যি বলতে কি, শৈশব-কৈশোরে বড় হয়ে অনেক কিছু হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন আমি দেখিনি। সারা জীবন নিজে পড়ো আর অন্যদের পড়াও, ভাবতেই কেন যেন দম বন্ধ হয়ে আসত। কিন্তু নিয়তি বলে অন্য কথা!
প্রশাসনিক দপ্তরে যথাসময়ে দরখাস্ত জমা দিলাম। প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়ার কারণে, সব থেকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে সবার আগে আমার নাম শুনতে পেলাম। তবে অনেকের কাছে এ কথাও শুনলাম, ওপর মহল থেকে ফোন না এলে নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া যায় না। বাবা-মা-আত্মীয়স্বজন ১৪ গোষ্ঠীর মধ্যে ‘তথাকথিত ওপর মহলে’ কেউই অবস্থান করেন না বিধায় ওপর মহলের চিন্তা বাদ দিয়ে বরাবরের মতোই ওপরওয়ালার ওপর সব ছেড়ে দিলাম। ভাগ্যে লেখা থাকলে হবে, না থাকলে নাই—এই দর্শনের ওপর ভিত্তি করে নিজের মেধা-যোগ্যতার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখলাম।
শিক্ষক নিয়োগের ভাইভার আর কিছু দিন বাকি আছে। হঠাৎ করেই আবিষ্কার করলাম ক্যাম্পাসে যেখানেই যাচ্ছি, ছেলেরা আজেবাজে টিজ করছে। মাথায় ঢুকছে না কেন আমাকে নিয়ে সবাই আজেবাজে কথা বলছে। কাহিনি কী? ঘনিষ্ঠ বান্ধবীদের কাছে জানতে পারলাম আমি যাতে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ না পাই, তাই কোনো একটি মহল আমাকে নিয়ে হরেক রকম গল্প বানাচ্ছে এবং তা সচেতনভাবেই ছড়িয়ে দিচ্ছে ক্যাম্পাসের আনাচকানাচে। সেই মহলের ইচ্ছে শক্ত রাজনৈতিক খুঁটির ওপর দাঁড়ানো ১২তমকে নিয়োগ দেওয়ার। কিন্তু তার আগে তো ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্টকে হটাতে হবে! আর যেহেতু আমি মেয়ে, কাজেই আমার নামে নোংরা কিছু ছড়িয়ে দিলেই হলো। জনগণ গুজব (রিউমার) শুনতে পছন্দ এবং নিজের মতো করে গল্প বানাতে পছন্দ করে। কাজেই কোনো কিছু যাচাই না করে অনেকেই মুখে যা আসে তা-ই বলা শুরু করল। আমি ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিতে থাকলাম।
সত্যি বলতে কী, সে সময় মানসিকভাবে আমি খুব ভেঙে পড়েছিলাম। হলের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে মরার চিন্তাও যে মাথায় আসে নাই, বললে মিথ্যা বলা হবে। কিন্তু ঠান্ডা মাথায় একদিন ভেবে দেখেছি, আমার আত্মহত্যা কি এর সঠিক সমাধান? আমি মরলে এদের কী? কিন্তু আমার বাবা-মা-ভাইবোন যারা আমাকে বড় করেছেন, ওদের কী হবে? ভেবে দেখলাম, জীবনে এই চাকরি করতে হবে এমন তো কোনো কথা নাই। আমার যে যোগ্যতা, তা দিয়ে আমি যেকোনো ভালো প্রতিষ্ঠানে ক্যারিয়ার গড়তে পারব। আর বড় কথা হলো, আমি যাতে এসব নোংরা টিজিংয়ের জন্য প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যাই, এটাই তো কেউ কেউ চাইছে। আমি কেন হেরে গিয়ে ওদের জিতিয়ে দেব? আমার তো কোনো দোষ নেই।
আমি নিজেকে বদলাতে শুরু করলাম। আগের মতো ক্লাস, লাইব্রেরি, অডিটরিয়াম সবখানে যাওয়া শুরু করলাম। নোংরা কথাগুলো এক কান দিয়ে শুনে অন্য কান দিয়ে বের করে দিতাম। মানুষের ফিসফিসানি, কানাকানি দেখেও না দেখার ভান করতে লাগলাম। ভিতরে ভিতরে পুড়ে গেলেও বাইরে থেকে এত শক্ত থাকতাম যে বদমাশগুলো টিজ করে তেমন মজা পেত না। আমার নিস্পৃহতা ওদের উত্সাহে পানি ঢেলে দিয়েছিল বোধ হয়। আমি মুখোমুখি ওদের কখনোই প্রতিবাদ করিনি। আমার মতে প্রতিবাদ করা মানে ওদের আরও উসকে দেওয়া। আমার নিস্পৃহতা ছিলই আমার প্রতিবাদ।
এত কিছুর পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিটা আমি পেয়েছিলাম, আমার ভালো রেজাল্ট, আমার দৃঢ় মনোবল আর সততাই আমাকে জিতিয়ে দিয়েছিল। একদা ক্যাম্পাসের যে নোংরা বাতাসে আমার শ্বাস নিতে বড্ড কষ্ট হতো, শিগগিরই সেই নোংরা বাতাস নির্মল বিশুদ্ধ হতে লাগল। জঘন্য গুজবগুলো হঠাৎই বাতাসে মিলিয়ে গেল।
তাই মেয়েরা তোমাদের বলছি, নোংরা কথা নোংরা লোকেরা বলবেই। আত্মহত্যা কিংবা নিজেকে সবকিছু থেকে গুটিয়ে নেওয়ার মতো ভুল সিদ্ধান্ত এর কোনো সমাধান নয়। কে কী বলে বলুক, তুমি শক্ত হয়ে পথ চলো। মাথা উচু করে হেঁটে যাও। ওদের মিথ্যা কথায় কষ্ট পাচ্ছ? বুঝতে দিও না।

তোমাকে টুকরো টুকরো করে ভাঙাই তো ওদের লক্ষ্য। তুমি যখন নির্বিকার থাকবে, ওরা এমনিতেই দেখবে একদিন উত্সাহ হারিয়ে চুপটি মেরে যাবে। আর তুমি তোমার পড়াশুনায় মন দাও, ভালো ক্যারিয়ারের স্বপ্ন দেখো। অমূল্য এই জীবনটাকে তুমি গড়ে তোলো তোমার মেধা দিয়ে, তোমার কর্মগুণে।
পিছু ফিরে দেখতে পাবে, নোংরা ছেলেগুলো এখনো গলির মুখে, স্কুল-কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ঠিক আগের মতো। তবে আরও নোংরা হয়ে। এবার তারা টিজ করছে তোমার ভাই বা বোনের মেয়েটিকে। কিংবা আরও পরে ফুটফুটে তোমার মেয়েটিকে। ওরা কখনোই বদলাবে না। কিন্তু তুমি তো তোমার জীবনটাকে বদলে দিতে পারো! দরকার শুধু তোমার ইচ্ছাশক্তি আর সাহসিকতার। রাস্তার নোংরা ছেলেগুলো থাক না রাস্তায় পড়ে। তোমার এই অমূল্য জীবন শুধুই তোমার। তুমি ভয় না পেয়ে এগিয়ে যাও, অনেক দূরে—সাফল্যের শিখরে।”

বাংলাদেশের বহু জায়গায় কি বগুড়ার প্রত্যন্ত ধনকুন্ডি গ্রাম;  কি টেকনাফ কিংবা তেতুলিয়ার ঘোরপল্লী সবজায়গায় ইভটিজার। আর এরা হলো একই পাড়ায় বেড়ে ওঠা উঠতি বয়সী টোকাই শ্রেণীর ছেলেরা। ক্রাইম ডায়রির বিশেষ গবেষণায় দেখা গেছে এগুলো বন্ধে প্রয়োজন স্কুল ভিত্তিক নিয়মিত আলোচনা,প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ করা,মসজিদে নিয়মিত আলোচনা ও সামাজিক উদ্যোগ। তাহলে বন্ধ হতে পারে ইভটিজিং।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম///স্পেশাল/জাতীয়

12688total visits,187visits today

ব্রীজের রেলিং ভেঙে বাস খাঁদেঃ নিহত ৮,আহত অর্ধশত

ফরিদপুর জেলা সংবাদদাতাঃ
ফরিদপুর জেলা শহরের ধুলদী নামক জায়গায় একটি ব্রিজের রেলিং ভেঙে বাস খাদে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।  এতে   ৮ ব্যক্তি নিহত ও ২২ জন আহত হয়েছে বলে স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে।।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে,    ২৪ আগষ্ট  শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে কমফোর্ট লাইন পরিবহনের ফরিদপুরগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রীজের রেলিঙের সাথে সজোরে ধাক্কা লাগায়। এতে ব্রীজের রেলিং ভেঙে বাসটি খাঁদে পড়ে উল্টে যায়। এতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন  হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তবে তাৎক্ষণিক হতাহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার নুরুল আলম দুলাল সাংবাদিকদের খবরটি নিশ্চিত করে বলেছেন, বাসের ড্রাইভার বেপরোয়া হবার কারনে এই ঘটনা ঘটেছে।
ক্রাইম ডায়রি//জেলা/চলতি পথে

12688total visits,187visits today

গভীর রাতে অপহরনচেষ্টার খলনায়ক গণপিটুনিতে নিহতঃ নিহত ভিকটিমের মামা,গুরুতর আহত নানা

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতাঃঃ

আহ্! কি ভয়ংকর। কি দুঃসাহসিক চিন্তা ও কাজ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চরম উৎকর্ষতার যুগে এহেন কাজের সাহস দেখানে অবক্ষয় ও অধঃপতনের    চরম বহিঃপ্রকাশ। হ্যা, ঘটনাস্থল চুয়াডাঙ্গার আমিরপুরে। সেখানে মধ্যরাতে এক কিশোরীকে অপহরণ চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে।  ওই কিশোরীর চিৎকারে তার নানা ও গৃহকর্তা মামা অপহরণকারীকে বাধা দিলে তাঁদের নৃশংসভাবে কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলেই গৃহকর্তা মামার মৃত্যু হয়। নানা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এদিকে, ওই অপহরণকারীকে গ্রামবাসী গণধোলাই দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) কানাই লাল সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. কলিমুল্লাহ, চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ খানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেকোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের আমিরপুর গ্রামে গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে কৃষক হাসানুজ্জামানের বাড়িতে তাঁর ১৩ বছরের কিশোরী ভাগনি সুমাইয়াকে অপহরণচেষ্টাকালে সুমাইয়া চিৎকার করে ওঠে। সুমাইয়া চিৎকার করে উঠলে অপহরণকারী সুমাইয়ার বাঁ হাতে ছুরিকাঘাত করে। এরপর সুমাইয়া চিৎকারে তার  নানা জেগে উঠে বাধা দিতে এলে অপহরণকারী তার নানা হামিদুল ইসলামকে (৫০) ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে।

এ সময় হামিদুলের ছেলে সুমাইয়ার মামা হাসানুজ্জামান (৩০) জেগে উঠে এগিয়ে এলে অপহরণকারী তাঁকেও ছুরিকাঘাত করে। এ ঘটনায় কৃষক হাসানুজ্জামান ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় পরিবারের লোকজনের চিৎকারে গ্রামবাসী ছুটে এসে অপহরণচেষ্টাকারীকে আটক করে গণধোলাই দেয় এবং হামিদুল ইসলামকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠান। অপহরণকারীর নাম আকবর আলী বলে জানা গেছে। সে ওই এলাকায় ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করে। অনেকে জানান, এক সময় আমিরপুর গ্রামে আকবর আলী বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতো ও এলাকায় সে লম্পট বলেও পরিচিত।

এ প্রসঙ্গে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আবু এহসান মো. ওয়াহেদ রাজু বলেন, রাত পৌনে চারটার দিকে হাসানুজ্জামান নামের এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তবে হাসপাতালে আনার পূর্বেই তাঁর মৃত্যু হয়। গনধোলাইয়ে অপহরণকারী আকবর নিহত হয়। উপর্যুপরি কোপের ফলে হাসানুজ্জামানের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং পেটের ভুড়ি বেরিয়ে যাওয়ায় তাঁর মৃত্যু ঘটেছে। হাসানুজ্জামানের বাবা হামিদুল ইসলামের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। হাসানুজ্জামনের ভাগনি সুমাইয়াকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ খান সাংবাদিকদের  জানান, চুয়াডাঙ্গা সদরের মোমিনপুর ইউনিয়নের আমিরপুর গ্রামে মধ্যরাতে এক কিশোরীর শ্লীলতাহানীর চেষ্টাকালে এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে আকবর আলী নামের একজন নিহত হয়েছে।এ ঘটনায় আকবর আলীর ছুরিকাঘাতে ওই কিশোরীর নানা হামিদুল ইসলাম গুরতর আহত ও মামা হাসানুজ্জামান নিহত হয়েছে।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম//জেলা

 

Read more

12688total visits,187visits today