• শনিবার ( রাত ১১:০২ )
    • ২৪শে আগস্ট, ২০১৯ ইং

বাড্ডায় গণপিটুনির খলনায়ক হৃদয় গুলিস্তান হতে গ্রেফতার

রাজধানী সংবাদদাতাঃ

রাজধানীর বাড্ডায় ঘটে যাওয়া হৃদয় বিদারক ঘটনার দুঃসহ স্মৃতি কিছুতেই ভুলতে পারছেনা সাধারণ মানুষ। ছেলেধরা  গুজবে নিরীহ মা যে কিনা তার ছোট্ট অবোধ শিশুকে কাঁদিয়ে দুনিয়া ছেড়ে বিদায় নিল নরপিচাশদের গনপিটুনিতে।  ছোট্ট শিশুর হাতে গোটা গোটা    একটি বাক্য আজ কাঁদিয়ে ফেরায় পুরো বাঙালি জাতিকে।

অবশেষে বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে পিটিয়ে তাসলিমা বেগম রেনু হত্যা মামলার প্রধান আসামি হৃদয়কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২৩ জুলাই মঙ্গলবার বিকেলে গুলিস্তানের গোলাপ শাহ মাজারের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গুলিস্তান পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা জানিয়েছে, মাহবুব আলম নামের এক ব্যক্তি হৃদয়কে দেখতে পেয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। তবে এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার (২০ জুলাই) সকালে স্কুলে সন্তানের ভর্তির খোঁজ নিতে গিয়ে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হয়ে মারা যান রেণু। ওইদিন রাতেই বাড্ডা থানায় একটি মামলা করেন নিহতের বোনের ছেলে নাসির উদ্দিন। মামলায় অজ্ঞাত ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম///আইন শৃঙ্খলা

6911total visits,237visits today

জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ রুখতে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃঃ

ক্রমাগত জঙ্গিবাদের উত্থান  যখন পুরো বিশ্বকে ভাবিয়ে তুলেছে ঠিক তখনই জঙ্গিবাদ রুখতে বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে বাংলাদেশ পুলিশের এন্ট্রি টেররিজম ইউনিট ।  সম্প্রতি, “জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ রুখতে সেমিনার ও কর্মশালা” বাংলাদেশ পুলিশের এন্টি টেরোরিজম   ইউনিটের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ।  অনুষ্ঠানটি তিনধাপে অনুষ্ঠিত হয়।  বাংলাদেশ পুলিশের এন্টি টেরোরিজ্ম ইউনিটের উদ্যোগে ও কমিউনিটি ডেভোলাপমেন্ট ফর পিস (সিডিপি)-এর আয়োজক।

শনিবার (২২ জুন) সকালে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে দিনব্যাপী এই আয়োজন শুরু হয়। এতে অংশ নেন ঢাকার কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী। মূলত নতুন প্রজন্মকে সামাজিক সম্পৃক্ততার ব্যাপারে সচেতন করে নেতিবাচক কর্মকাণ্ডকে এড়াতে উদ্বুদ্ধ করাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানে আগত অতিথি ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদেরকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের চেয়ারপারসন প্রফেসর ড. জয়নাব ফারুকী আলী। এরপর বক্তব্য দেন এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের ডিআইজি মোঃ দিদার আহমেদ। পরে শুরু হয় মূল পর্ব। শুরুতে বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক স্কুল অব ডিজাইনের ডীন প্রফেসর ড. ফুয়াদ হাসান মল্লিক। তিনি তার বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় তরুণদের ভূমিকার বিষয়টিতে আলোকপাত করেন। উগ্রবাদ ঠেকাতে সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করার ক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির। উন্নয়নে জঙ্গিবাদ একটি বাঁধা, এটি তুলে ধরেন যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টিমেন্ট অব জাস্টিসের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর কার্ল ক্লাক। এরপর বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ সম্পর্কে আলোচনা করেন অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ মনিরুজ্জামান। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তরুণদের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন ব্রিটিশ হাই কমিশনের দ্বিতীয় সচিব লুসি ডেলি। আর প্রথম পর্ব শেষ হয় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের উপ-কমিশনার সাইফুল ইসলামের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে।

এসময় বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরে বক্তারা বলেন, বিভিন্নসময়ে ধরা পড়া জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে, তাদের আশিভাগই ইন্টারনেটের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে জড়িয়েছে। বাংলাদেশে কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন সক্রিয় রয়েছে। সক্রিয় সংগঠনগুলো হল জেএমবি, নব্য জেএমবি আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ও হিজবুত তাহরির। তারা বলেন, জঙ্গিবাদকে রুখতে সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। জঙ্গিদের একটা বড় অংশ ইন্টারনেটের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবাইকে মনিটর করতে পারেনা। জঙ্গিবাদ রুখতে তরুণ সমাজকে সচেতন হতে হবে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে বলে মত দেন বক্তারা।

>>>>>>দ্বিতীয় পর্ব<<<<<<

প্রথম পর্বের পর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ ও কয়েকটি দূতাবাসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পৃথক-পৃথক বিষয়ে গোলটেবিল বৈঠকে বসেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ দমনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরে তা অতিথিদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। আর সামগ্রিক বিষয়কে পর্যালোচনা করে অনুষ্ঠান মঞ্চে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়।

>>>>>>>তৃতীয় পর্ব <<<<<<<<

প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বের পর শুরু হয় মূল পর্ব। এই পর্বে বক্তব্য রাখেন পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ও এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ আবুল কাশেম, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ভিনসেন্ট চ্যাঙ, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ইয়ার্ল আর মিলার, অস্ট্রেলিয়ান হাই কমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাই-কমিশনার পেনি মরটন এবং ব্রিটিশ হাই কমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাই-কমিশনার কানবার হোসেন বর। শিক্ষার্থীদেরকে ইতিবাচক কাজে উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেন তারা।

শেষ পর্বের আলোচনা শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদেরকে সনদপত্র তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। পরে গ্রুপ ফটোসেশনের মধ্য দিয়ে পর্দা নামে ভিন্নধর্মী এই আয়োজনের।

ক্রাইম ডায়রি///জাতীয়///স্পেশাল

6911total visits,237visits today