• শনিবার ( রাত ১০:৫৯ )
    • ২৪শে আগস্ট, ২০১৯ ইং

বগুড়ার শেরপুরে ইটভাটার পরিবেশ দূষণকে কেন্দ্র করে মারপিটঃ থানায় মামলা দায়ের

মোঃ শাহাদত হোসেন ভ্রাম্যমান রির্পোটারঃ

শেরপুর উপজেলা সীমাবাড়ী ইউনিয়নের গাড়ই ব্রিজের পাশে অবস্হিত বি.আর.কে.বি ইট ভাটা। যার প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব রেজাউল করিম বাবলু। ইট ভাটার কারনে ভাটার পাশে জনবসতির ব্যাপক ক্ষতি ও পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এমন একটা অভিযোগ গ্রামবাসীরা মিলে সচেতন গ্রামবাসীর স্বাক্ষরিত আবেদন     উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা বরাবর  লিখেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে  ক্রাইম ডায়রি ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি ইট ভাটার মালিক আলহাজ্ব রেজাউল করিম বাবলুর কাছে গিয়ে বললে তিনি প্রতিনিধিকে বলেন – আমার ভাটার কারনে তাদের গাছপালা নষ্ট হয় নাই, কয়েকদিন প্রচুর তাপমাত্রার কারনে হয়তো তাদের গাছপালা নষ্ট হতে পারে।

যাহোক, আপনি বসেন; আমি নামাজ পড়ে আসি। এরপর  আমার লোকজন  অভিযোগকারী ব্যক্তিদেরসহ সরেজমিনে গিয়ে দেখছি। ইতোমধ্যে ইটভাটার সংশ্লিষ্ট  শাজাহান তালুকদার ছেলে রব্বানী হোসেন বাদি শহীদ হোসেন ও  কোবাদ আলীকে লোহার রড দিয়ে এলোপাথারি মারপিট শুরু করেন।

এই ব্যাপারে সীমাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শ্রী যুক্ত বাবু গৌরদাস রায় চৌধুরী সাধারণ মানুষের উপর   হামলার তীব্র নিন্দা জানান। এ  ঘটনায় আহতরা শেরপুর থানার অভিযোগ দায়ের করে। এই বিষয়ে শেরপুর থানা ওসি মোঃ হুমায়ুন ক্রাইম ডায়রির    প্রতিনিধিকে জানান – মারপিটের ঘটনার অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে হামলাকারীকে আইনের আওতায় আনা হবে।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম//

6887total visits,213visits today

jehrjehrhe

6887total visits,213visits today

র‌্যাব-৫ রাজশাহীর সাফল্যঃ মহিলা জঙ্গিসহ আটক-৫

রাজশাহী হতে শাহাদাত হোসেন,ভ্রাম্যমান সংবাদদাতাঃ

সারাদেশে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে  র‌্যাব-৫ রাজশাহীর একটি দল  মহানগরীর বেলপুকুর এলাকা থেকে ০১ জন মহিলা সদস্যসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার-আল-ইসলাম এর ০৫ জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে। এ সময়   বিদেশী পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলি, উগ্রবাদী বই ও উগ্রবাদী হ্যান্ডনোট  উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাব তার সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ এর বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থানে থেকে নিরলস ভাবে কাজ করে আসছে। র‌্যাবের কর্ম তৎপরতার কারনেই সারাদেশে একযোগে বোমা বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন সময়ে নাশকতা সৃষ্টিকারী জঙ্গি সংগঠন সমূহের শীর্ষ সারির নেতা থেকে বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মীদেরকেও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভবপর হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে কারো কারো মৃত্যুদন্ড, যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়েছে, কেউ কেউ বিভিন্ন মেয়াদের কারাভোগ করেছে এবং বেশ কিছু মামলা এখনো বিচারাধীন। উল্লেখ্য যে, সাংগঠনিকভাবে পূর্বের মতো সারাদেশে একযোগে নাশকতা সৃষ্টি করাসহ পরিকল্পিতভাবে কোথাও বোমা বিস্ফোরণের সক্ষমতা না থাকলেও, যে সকল জঙ্গি এখনো আত্মগোপন করে আছে তাদের তৎপরতা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। তবে র‌্যাবের কঠোর গোয়েন্দা নজরদারী ও অভিযানের ফলে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনগুলোর নেতা কর্মীরা পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালিয়েও বার বার ব্যর্থ হয়েছে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে আটক হয়েছে।২০১৭ সালের অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে বেলপুকুর থানাধীন রহমান জুট মিলের ১৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দুষ্কৃতিকারী কর্তৃক লুণ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে র‌্যাবের গোয়েন্দা অনুসন্ধানে জানা যায় যে, জঙ্গি ডাঃ মিজান/দর্জি মিজান /সামিদ ও জঙ্গি বাবর আলী সহ আরো কতিপয় জঙ্গি সদস্য উক্ত টাকা সংগঠনের তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যে লুণ্ঠন করে। এরপর র‌্যাবের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৫ এর একটি আভিযানিক দল ২০১৭ সালে রাজশাহীতে অভিযান পরিচালনা করে ১। মোঃ বাবর আলী, ২। মোঃ শহীদুল ইসলাম, ৩। মোঃ নজরুল ইসলাম মোল্লা ৪। মোঃ আনিছুর রহমান এবং ৫। মোঃ শাহীন গং’দেরকে গ্রেফতার করেছিল।  এ বিষয়ে তৎকালীন পুঠিয়া থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯(২০১৩) ৮/৯(৩)/১০/১১তে মামলাও করা হয়েছিল।   মামলা নং-১১।

উক্ত অভিযানের সময় জঙ্গি সদস্য আনিসুর রহমান  অরফে সাদ্দাম, মামুন-উর-রশিদ, আবু তালহা, রুহুল আমিনসহ আরো বেশ কয়েকজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃতদের প্রদত্ত তথ্য বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা অনুসন্ধানের মাধ্যমে লুণ্ঠনের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। এ প্রেক্ষিতে র‌্যাবের গোয়েন্দা দল পলাতক আসামীদের গ্রেফতার করার লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় অতি সম্প্রতি র‌্যাবের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, উপরোল্লিখিত পলাতক জঙ্গি সদস্যরা নিজ এলাকায় এসে জঙ্গি সংগঠনের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছে এবং বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকান্ড চালানোর উদ্দেশ্যে রাজশাহী মহানগরীর বেলপুকুর এলাকায় সংগঠিত হচ্ছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৫ এর একটি  দল  ৩০ জুন ২০১৯ তারিখ ০১:১৫ ঘটিকা হতে ০৫:৩০ ঘটিকা পর্যন্ত রাজশাহী মহানগরীর বেলপুকুর থানাধীন ভরুয়াপাড়া ও ক্ষুদ্র জামিরা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার-আল-ইসলাম এর সক্রিয় সদস্য ১। মোছাঃ আফরোজা বেগম (৫৫), স্বামী-মোঃ আনছার আলী, ২। মোঃ আনিসুর রহমান @ ছাদ্দাম (৩০), পিতা-মোঃ আনছার আলী, ৩। মোঃ রুহুল আমিন (৩১), পিতা-মোঃ আজিজুল ইসলাম, সর্ব সাং-ভরুয়াপাড়া, ৪। মোঃ মামুনুর রশিদ (৩৫), পিতা-মোঃ নিজাম উদ্দিন, সাং-ভরুয়াপাড়া (দহপাড়া) এবং ক্ষুদ্র জামিরা গ্রামের  মোঃ আবু তালহা (২১), পিতা-মোঃ সিদ্দিক তালহাকে  গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের নিকট হতে ০১ টি ৭.৬৫ মিঃ মিঃ বিদেশী পিস্তল, ০২ টি ম্যাগাজিন, ০৫ রাউন্ড গুলি, ২৪ টি ককটেল, ১০ টি উগ্রবাদী বই, ০৮ টি উগ্রবাদী হ্যান্ডনোট, ০১ টি চাঁদা আদায়ের রশিদ, ০৩ টি জাতীয় পরিচয়পত্র, ০২ টি মোবাইল সেট, ০৪ টি সীমকার্ড এবং ০১ টি মেমোরী কার্ড উদ্ধার করা হয়।

RAB-5সুত্রে জানা গেছে,  গ্রেফতারকৃতরা সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘‘আনসার-আল-ইসলাম’’ এর সক্রিয় সদস্য। পূর্বে তারা জঙ্গি সংগঠন জেএমবি’র সাথে সংযুক্ত ছিল। তারা পরস্পর যোগসাজসে, সহায়তায়, সমর্থন দিয়ে সংবদ্ধভাবে উল্লিখিত এলাকায় দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্বক কর্মকান্ডের ষড়যন্ত্রনকরে উঠতি বয়সের যুবকদের সংগঠিত করার চেস্টা করছিল। এরা সুকৌশলে যুব সমাজকে উৎসাহ ও প্ররোচনা দান করে আসছে এবং তাদের সংগঠনের জন্য কর্মী সংগ্রহের পাশাপাশি নাশকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিতর্কিত উগ্রবাদী বই, অস্ত্র-গুলি, ককটেল, বিস্ফোরক ও অন্যান্য আলামতসহ ঘটনাস্থলে অবস্থান করে। এসময় র‌্যাব উল্লিখিত আসামীদের’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এদিকে RABএর এমন   ধারাবাহিক সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে সাধারন জনতা। অভিজ্ঞ মহলের ধারনা অভিযান অব্যহত থাকলে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ চিরতরে নির্মূল করা সম্ভব হবে।

ক্রাইম ডায়রি// ক্রাইম// আইন   শৃঙ্খলা

6887total visits,213visits today