• বুধবার ( সকাল ৬:৪৯ )
    • ২৩শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

সরকারি হাসপাতালসহ সারাদেশে কয়েক জায়গায় দুদকের অভিযান

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃঃ

সারাদেশে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে আজও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক । আজ   ঢাকার দুই সরকারি হাসপাতালসহ দেশের ৪ টি স্থানে দুদকের অভিযান এবং বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ৪ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিট চিঠি প্রদান করেছে।

কেইস স্টাডি  – ০১ঃ
বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিতে অনিয়মের অভিযোগে সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক। দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে (হটলাইন- ১০৬) অভিযোগ আসে, সরকারি কর্মচারীদের নানাবিধ চিকিৎসা সেবা প্রদানের প্রতিষ্ঠান রাজধানীর ফুলবাড়ীয়ায় অবস্থিত সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল এর সকল সেবা যথানিয়মে পাওয়া যায় না এবং ইকুইপমেন্টের স্বল্পতা দেখিয়ে নানাবিধ টেস্ট করা হয় না। এ প্রেক্ষিতে পুলিশসহ পাঁচ সদস্যের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম আজ (১৯/০৬/২০১৯ খ্রি.) এ অভিযান পরিচালনা করে। দুদক টিম হাসপাতালের পরিচালকের সাথে অভিযোগের বিষয়ে কথা বলে। তিনি জানান, উক্ত হাসপাতালের দুটি ইকো মেশিনের একটি নষ্ট হয়ে গিয়েছে এবং ঠরধ ঈইঈ ঞবংঃ করার সরঞ্জামাদিও অকেজো অবস্থায় রয়েছে। অবিলম্বে উল্লিখিত মেশিনসমূহ মেরামত করার জন্য পরামর্শ প্রদান করে দুদক টিম।

কেইস স্টাডি  – ০২ঃ
এদিকে মাগুরায় হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর দারিদ্র বিমোচনের জন্য “জমি আছে, ঘর নাই” প্রকল্পে অনিয়মের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক। সমন্বিত জেলা কার্যালয়, কুষ্টিয়া হতে আজ এ অভিযান পরিচালিত হয়। টিম জানতে পারে, মাগুড়া সদর উপজেলার রাঘবদাইড় ইউনিয়নে যেসব হতদরিদ্রদের জমি আছে, কিন্তু গৃহ নির্মাণের সামর্থ্য নেই, তাদের প্রত্যেককে ঘর নির্মাণ করে দেয়ার প্রকল্প চলমান। তবে টিম জানতে পারে, তুহিন খাতুন নামক একজন মহিলার জমির পরিবর্তে ভুলবশত অপর একজনের জমিতে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে দুদক টিম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃতভাবে এ ত্রুটি সংঘটিত হয়েছে মর্মে জানানো হয়। অবিলম্বে উক্ত জমিতে ঘর নির্মাণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সুপারিশ করে দুদক টিম।

কেইস স্টাডি  – ০৩ঃ
এদিকে কামরাঙ্গীরচরে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট সরকারী হাসপাতালের নানা অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক টিম। সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ হতে পুলিশসহ পাঁচ সদস্যের একটি টিম আজ এ অভিযান পরিচালিত করে। টিম হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে সাথে কথা বলে। তিনি জানান যে, লোকবল সংকটের কারণেই মূলত সেবাপ্রার্থীদের যথাযথভাবে সেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জনস্বার্থে সেবার মান প্রদানের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করে দুদক টিম। উপস্থিত জনসাধারণ দুদকের এ অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে। পরবর্তীতে যেকোন সেবা প্রাপ্তিতে অনিয়ম পেলে দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে (হটলাইন- ১০৬) জানানোর জন্য সুপারিশ প্রদান করা হয়।এদিকে ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে খাজনা আদায়ের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ফি এর বেশি গ্রহণের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আলফাডাঙ্গা, ফরিদপুর; ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার ও নার্সদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ফেঞ্চুগঞ্জ, সিলেট ; পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ লাইন ও মিটার লাগানোর কাজে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কচুয়া, চাঁদপুর এবং একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে টাকা দাবির অভিযোগ খতিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সাভার, ঢাকা বরাবর পত্র প্রেরণ করেছে দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিট বলে দুদক সুত্রে জানা গেছে ।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম//দুদক বিট//

Total Page Visits: 17098

আগামী বছরে সারা দেশেই শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধাঃ নসরুল হামিদ

শাহাদত হোসেন রিটনঃ

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, বর্তমানে দেশের প্রায় ৯৩ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় রয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ২০২০ সালের মধ্যে শতভাগ জনগণকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বুধবার জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১১ এম. আবদুল লতিফের টেবিলে উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।প্রাকৃতিক সম্পদ বিষয়ে  লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শহিদ ইসলামের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, দেশে এ যাবৎ আবিষ্কৃত ২৭টি গ্যাস ক্ষেত্রের মধ্যে ২০টি থেকে গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। এ সব গ্যাস ক্ষেত্রে খননকৃত মোট কূপের সংখ্যা ১৫১টি, যার মাধ্যমে গ্যাস উত্তোলন করা হতো। বর্তমানে ১১২টি কূপের মাধ্যমে গ্যাস উৎপাদন করা হচ্ছে, যার উত্তোলনযোগ্য মজুদ ২৭.৮১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। নতুন নতুন খনির জন্য আরও অনুসন্ধানও চলছে বলে তিনি জানান।

ক্রাইম ডায়রি// জাতীয়

Total Page Visits: 17098

ডি আইজি মিজান বরখাস্ত হতে পারেনঃ আরও গভীর তদন্ত প্রয়োজন

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃ

আইন সবার জন্য সমান এই নীতিতে বিশ্বাসী বাংলাদেশের পুলিশ। আর নীতির কাছে অটল থাকার কারনেই আজও বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী বিশ্বের বিভিন্ন যে কোন রাষ্ট্রের চেয়ে শান্তিপ্রিয় বাহিনী হিসেবে সুপরিচিত।।  সম্প্রতি,  ডি আইজি মিজানুর রহমান,  ওসি মোয়াজ্জেম এর ব্যাপারে নিরপেক্ষ আইনি পদক্ষেপ তারই প্রমাণ বহন করে।

পুলিশের  ডি আই জি মিজানুর রহমান  দুদকের কর্মকর্তার সঙ্গে ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি নিয়ে  তার নিজ মুখে সাংবাদিকদের নিকট স্বীকারোক্তি ও প্রচারের  পর তাঁকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে একটি প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আজকালের মধ্যে প্রস্তাবটি পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।

পুলিশ সদর দপ্তর  সুত্রে জানা গেছে, ডি আই জি   মিজানুর রহমানের  ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের  বলেন, সাময়িক বরখাস্তের জন্য কিছু ধাপ পার হতে হয়। সে জন্যই কিছুটা দেরি হয়েছে। এখন তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি অপরাধের আলাদা আলাদা বিচার হবে।

তদন্ত কমিটি যে মতামত দিয়েছেন তা নিম্নরূপ— 
মিজানুর রহমানের  বিরুদ্ধে করা সংবাদ পাঠিকার অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে কমিটি প্রাণনাশের হুমকি ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগের সত্যতা পায়। মিজানুর ওই সংবাদ পাঠিকাকে বলেছিলেন, তাঁকে খুন করে ৬৪ টুকরা করবেন। কমিটি পর্যালোচনায় এ বক্তব্যের সত্যতা পায়। কমিটির কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে ডিআইজি জানান, ওই সংবাদ পাঠিকা পরিকল্পিতভাবে তাঁর আবেগের সুযোগ নিয়ে উসকানিমূলক কথা বলে তাঁকে উত্তেজিত করেছেন। ফলে তিনি নিজে কিছুটা উত্তেজিত হয়ে সংবাদ পাঠিকার বিরুদ্ধে কিছু অপ্রত্যাশিত শব্দ বা বাক্য উচ্চারণ করেছিলেন। এ বিষয়ে তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চান। সংবাদ পাঠিকা এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
মিজানের বিরুদ্ধে জিডি করার জন্য সংবাদ পাঠিকা তাঁর স্বামীকে নিয়ে বিমানবন্দর থানায় গিয়েছিলেন কি না, তা–ও অনুসন্ধান করেছে কমিটি। কমিটি জানতে পারে, ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি প্রকাশের পর অভিযোগ নিয়ে আইনানুগ প্রতিকার চেয়ে ওই নারী থানায় যান। ‘চন্দ্র মল্লিকা’ ও ‘দেশী মাল’ নামে দুটি ফেসবুক আইডি খুলে সেখানে নারীর আপত্তিকর ছবি প্রকাশ করা হয়। এ বিষয়ে সাইবার ক্রাইম ইউনিট তদন্ত করছে। গত বছরের ৩ মে অবৈধ সম্পদসহ বিভিন্ন অপরাধের কারনে  মিজানুর রহমানকে দুদক কার্যালয়ে প্রায় সাত ঘণ্টা ব্যাপী জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুুদকের কর্মকর্তারা ।

প্রাথমিক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে মিজানুর রহমান ও তাঁর প্রথম স্ত্রী সোহেলিয়া আনারের আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ কোটি টাকার বেশি সম্পদের খোঁজ পায় দুদক। মিজানুরের নামে ৪৬ লাখ ৩২ হাজার ১৯১ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৭২ লাখ ৯০ হাজার ৯৫২ টাকার অসংগতিপূর্ণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের খোঁজ পাওয়ার কথা দুদকের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রকাশ করে। তদন্ত শুরু হওয়ার এক বছরের মাথায় দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ছিলেন ডিআইজি মিজানুর। গত জানুয়ারির শুরুর দিকে তাঁকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। বিয়ে গোপন করতে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে দ্বিতীয় স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করানোর অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।

তবে তদন্তেরও তদন্ত আছে।  প্রেক্ষাপট অনেকসময় মানুষকে সাময়িক অবিবেচক করে তোলে। আবার লোভীদের শিকারও তিনি হতে পারেন । ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কারণে এসব বিষয় নিয়ে গভীর ও গবেষণামুলক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন । মানুষ বাঁচার চেষ্টা করবে এটাই স্বাভাবিক।। যদি সুযোগ থাকে ন্যুনতম ভাল প্রমাণিত হবার তবে তা নিঃস্বার্থভাবে সহযোগিতা করাই দুদকের কর্তব্য। তা না করে যদি বিপরীত কিছু করা হয় তবে তা অবশ্যই দুঃখজনক।

পৃথিবীর ইতিহাসে এমন নাটকের অবতারনা কম হয়নি। মানুষকে প্যাচে ফেলে নারীরা কালো অধ্যায় রচনা করেছে এমন ঘটনাও কি পৃথিবীতে কম ঘটেছে। সত্যিসত্যিই তিনি যে এমন অবস্থায় পড়েননি তা বলাটাও কি শক্ত কিছু। আর সত্যই যদি অন্যায় করেন তবে শাস্তিতো তাকে পেতেই হবে।

ক্রাইম ডায়রি/// ক্রাইম///

Total Page Visits: 17098