• রবিবার ( রাত ১০:০৯ )
    • ১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইং

করের টাকা ব্যক্তিগত একাউন্টেঃঃ দুদকের অভিযানে মুখোশ উম্মোচন

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃ

সারাদেশে ধারাবাহিক ও অব্যহত অভিযানের অংশ হিসেবে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এর কার্যালয়ে, দিনাজপুর আয়কর বিভাগের অফিসে এবং নোয়াখালী পাসপোর্ট অফিসে আজ একযোগে দুদকের অভিযান পরিচালিত হয়েছে।৷ দুদক সুত্রে জানা গেছে, অভিযোগের সুত্র ধরে এই অভিযানগুলো   পরিচালি৷ হয়েছে।

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-তে মেধা তালিকা অনুসরণ না করে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ কার্যক্রম সম্পাদনের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে প্রধান কার্যালয়, ঢাকার একটি এনফোর্সমেন্ট টিম। টিম এ সংক্রান্ত সকল তথ্যাবলি সংগ্রহ পূর্বক কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করবে।

আয়কর বিভাগ, দিনাজপুর কর্তৃক সরকারি রাজস্বের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিকভাবে সত্যতা আছে বলে ধারণা করছে দুদক। কর অঞ্চল, রংপুর -এর আওতাধীন দিনাজপুরের করদাতাদের কাছ থেকে আদায়কৃত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে অন্য ব্যক্তিগত হিসাব ব্যবহার করে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে নিয়েছে একটি চক্র, এরূপ অভিযোগের প্রেক্ষিতে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, দিনাজপুর -এর একটি এনফোর্সমেন্ট টিম, আয়কর বিভাগ, দিনাজপুর -এ  অভিযান  পরিচালনা করে। নিয়মানুযায়ী আয়কর বিভাগ হতে প্রাপ্ত টাকা চালান বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, দিনাজপুর কর্পোরেট শাখার ট্রেজারীর হিসাব কোডে জমা হওয়ার কথা, কোনো ব্যক্তিগত হিসাবে জমা হওয়ার কোন সুযোগ নেই, কিন্তু পে-অর্ডার বা চালানগুলো ব্যাংকে জমা হওয়ার পর চালানগুলো ছিড়ে ফেলে এবং পে-অর্ডারগুলোর পেছনে ঘষামাজা করে একটি নির্দিষ্ট বেতন বিলের হিসাব নম্বরে জমা দেওয়া হয়েছে। উক্ত কর্মকান্ডে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, দিনাজপুরের এবং আয়কর বিভাগ, দিনাজপুর-এর কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজশ ধারণা করছে দুদক টিম। একটিমাত্র একাউন্ট যাচাই করেই প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা অনৈতিকভাবে উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া যায়, ফলে আরও কিছু হিসাব যাচাই করলে এই অর্থের পরিমাণ আরও বাড়বে মর্মে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। দুদক টিম এ বিষয়ে সকল তথ্যাদি সংগ্রহপূর্বক অনুসন্ধানের সুপারিশ করে কমিশনে বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে।

এদিকে নোয়াখালী পাসপোর্ট অফিসে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, নোয়াখালীর একটি টিম। দুদক টিম উক্ত অফিসে অভিযান পরিচালনা করে পাসপোর্ট বিতরণ কক্ষে দালালের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। এই অভিযান পরিচালনাকালে স্থানীয় জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ঐ দালালকে ৭ দিনের কারাদ- প্রদান করে। অন্যান্য দালালরা দুদক টিমের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় সরেজমিন অভিযানে দুদক টিম জানতে পারে যে, ঘুষ প্রদান না করা হলে বিভিন্ন পাসপোর্ট গ্রহণে নানাবিধ সমস্যা দেখিয়ে গ্রাহকদের হয়রানি করা হয়। এ বিষয়ে পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জড়িত আছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। টিম এ বিষয়ে কমিশনে বিস্তারিত প্রতিবেদন পেশ করবে। এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিআরটিএ –তে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান, গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদান, ড্রাইভিং লাইসেন্স রিনিউ, গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন, ডিজিটাল নাম্বার প্লেট প্রদান ইত্যাদি সেবা প্রাপ্তিতে ঘুষ লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, রাজশাহীর একটি টিম। এ অভিযানে বিভিন্ন আবেদনসমূহের তালিকা সংগ্রহ করা হয় এবং আবেদনসমূহে ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব প্রদান করা হচ্ছে কিনা তা বিস্তারিতভাবে যাচাইয়ের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে দুদক সুত্রে জানা গেছে।

ক্রাইম ডায়রি//দুদক বিট//অপরাধ

5656total visits,107visits today

বগুড়ার শেরপুর থানা পুলিশের সর্বহারা গ্রেফতারে বিশেষ সফলতা

জাকির হোসেন রনি, উত্তরাঞ্চলীয় অফিসঃ

সর্বহারার কথা বেশ কিছুদিন শোনা যায়নি। বামদলগুলোর প্রকাশ্য রাজনীতি তাদেরকে আলোকিত বিপ্লবের দিকে অগ্রসর হতে উৎসাহিত করায় মাঝে প্রায় অনেকদিন মানুষ ভুলেই গিয়েছিল সর্বহারা শব্দটি। কিন্তু হঠাৎ করেই নাটোর সদর ও বগুড়ার শেরপুর ও সিরাজগঞ্জের  রায়গঞ্জ এলাকায় সর্বহারার দৃশ্যমান অবস্থান ছিল চোখে পড়ার মত।৷ এরা হঠাৎই সরকারের সকল ভাল কাজকে ম্লান করে দিতে শুরু করে দিয়েছে ফোনে হুমকি,চাঁদাবাজিসহ বন্দুকবাজি।  গত কয়েকদিন আগেও ক্রাইম ডায়রির উত্তরাঞ্চলীয় কার্যালয়ে এসে আশেপাশে ঘোরাঘুরি করে   গিয়েছে      একদল অচেনা মানুষ।ধারণা করা হয়েছিল এরা সর্বহারার কোন সংস্করন। সম্প্রতি, বগুড়ার শেরপুরের ভবানীপুরে টহল পুলিশের ওপর চরমপন্থীদের (সর্বহারা) হামলার ঘটনায় উপ-পরিদর্শক (এএসআই) নান্নু মিয়া গুলিবিদ্ধ হয় এতে শেরপুর থানায় অস্ত্র আইন মামলা দায়ের হয় এই মামলায় জড়িত সন্দেহ চরমপন্থীদের (সর্বহারা) ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে শেরপুর থানা পুলিশ।
আটককৃতরা হলেন, রায়গঞ্জ থানার ১নং ধামাইনগর ইউপি দামুয়া গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (৪০), সারাইল গ্রামের মৃত বানাত আলীর ছেলে ইসমাইল (৪৫) ও ইউসুফ আলী (৩৭৬), মৃত নাঈম উদ্দিনের ছেলে মজিবর রহমান (৪৫), তাড়াশ থানার দেশীগ্রাম ইউপি গুড়পিঁপুল গ্রামের মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে আল-আমিন (২৮), খলিলুর রহমানের ছেলে শামীম হোসেন (২৮), মৃত হাসান আলীর ছেলে আব্দুল আজিজ (২৭), রায়গঞ্জ থানার ১নং ধামাইনগর ইউপি খিয়াইল গ্রামের মৃত প্রফুল্ল দাসের ছেলে শ্রী দিলিপ চন্দ্র দাস (৪৫), তাড়াশ থানার দেশীগ্রাম ইউপি গুড়পিঁপুল গ্রামের মৃত নবাব আলী প্রাং এর ছেলে কামাল উদ্দিন প্রাং (৫৫), তাড়াশ থানার তালম ইউপি হাড়ীসোনা গ্রামের মৃত মেহের আলী আকন্দের ছেলে আবু সাঈদ (৬৫)।

গত শুক্রবার ও শনিবার রাতে বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বুলবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এতে করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তুলনায় সর্বহারার বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে শেরপুর থানা পুলিশ। ক্রাইম ডায়রির গবেষণা টিমের তালিকায় এ ধরনের অস্ত্রধারী অপরাধীদের ধরতে তারা প্রাণান্তকর চেষ্টা দেশবাসীকে মোহিত করেছে। জ্ঞানীমহলের ধারনা এ অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করলে ডাকা,, রাহাজানি ও হত্যার মত ঘটনা কম ঘটবে।।।

ক্রাইম ডায়রি///আইন শৃঙ্খলা///অপরাধ

5656total visits,107visits today