• শনিবার ( রাত ১১:০১ )
    • ২৪শে আগস্ট, ২০১৯ ইং

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা লালদিয়া চর রক্ষার দাবীতে মানববন্ধন

হোসেন মিন্টু, চট্টগ্রাম অফিসঃ
চট্টগ্রামের কর্ণফুলির তীরে গড়ে উঠা লালদিয়ার চরের হতদরিদ্র বাসিন্দাদের উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মানববন্ধন আজ ১৭ এপ্রিল সকাল ১০ টায় ৪১ নং ওয়ার্ড দক্ষিণ পতেঙ্গা লালদিয়ার চরে উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আলমগীর হাসানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাাদক মো. জামাল উদ্দীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়।এই মানববন্ধনের মূল বিষয় হচ্ছে চট্টগ্রাম নগরীর দক্ষিণ পতেঙ্গা চসিক আওতাভূক্ত ৪১ নং ওয়ার্ডস্থ লালদিয়ার চর। ১৯৭২ সন থেকে তথা বিগত দীর্ঘ ৪৭ বছর যাবৎ লালদিয়ার চরের বাসস্থানের মত মৌলিক অধিকার নিয়ে বিভিন্ন মহল দ্বারা একের পর এক যে ষড়যন্ত্র ও নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছে লালদিয়ার চর এলাকার বাসিন্দারা। লালদিয়ার চরের সতেরশ পরিবার ও দশ হাজার হতভাগ্য জনগোষ্ঠীর দুঃখ দুর্দশা লাঘবের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি লালদিয়ার চরের বাসিন্দারা আবেদন জানান।১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর বর্তমান জহুরুল হক বিমান ঘাঁটি এলাকার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ছিল লালদিয়ার চর নামে একটি গ্রাম। তখন উক্ত বিমান ঘাটি সম্প্রসারণের প্রেক্ষিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে পার্শ্ববর্তী চরাভূমি বর্তমান লালদিয়ার চরে পূর্ণবাসনের সিদ্ধান্ত নেয়। তৎকালীন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক প্রথমে একসনা ভিত্তিতে বন্দোবস্ত করে।পরে বাংলা ১৩৮০ সনে নিয়ম মোতাবেক এক বৎসরের খাজনা প্রদান করেন। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর সেই সময়ের দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি আবুল হাশেম ও আবুল কাশেম সরকার কর্তৃক লালদিয়ার বন্দোবস্তির বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করে।

ফলে দ্বিতীয় মুন্সেফ কোর্ট, সদর চট্টগ্রাম এর আদালত থেকে লালদিয়া চরবাসির অনুকূলে বন্দোবস্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করলে বন্দোবস্তি স্থায়ী করণ প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পরে। পরবর্তীতে বিভিন্ন জায়গায় দেন দরবার করেও নিষেধাজ্ঞা জারি’র কারণে বন্দোবস্তি করা সম্ভব হয়নি।এদিকে এলাকাটি এরশাদ সরকারের আমলে অবৈধভাবে চট্টগ্রাম কর্তৃপক্ষের নামে বিএস জরিপ লিপিবদ্ধ করা হয়। বিগত বিএনপি সরকারের সময় ২০০৫ সালে অবৈধভাবে তৈরীকৃত বিএস খতিয়ানের সুযোগ নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ লালদিয়ার চরের প্রায় ৫শ পরিবারকে উচ্ছেদ করে বন্দর কর্তৃপক্ষ ইনকনট্রেড লিমিটেড নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেয়।সেই থেকে আজ পর্যন্ত পরিবার গুলো ভাসমান অবস্থায় দিনযাপন করছে। তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছেন এটা আমাদের জন্য গর্ব কিন্ত আজ আমরা দেশের নাগরিক হয়েও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের বর্তমান উচ্ছেদ কর্মসূচিতে যদি গৃহহীন হয়ে পড়ি লালদিয়া চরের দশ হাজার মানুষ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? তিনি বর্তমান সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করে বিষয়টি সমাধানের আশা করেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৪১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ ছালেহ আহমদ চৌধুরী, আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন, হাজী জিয়াউল হক সুমন, আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধ এনামুল হক, মহিলা কউিন্সিলর শাহনুর বেগম, হাজী আসলাম, সফিউল আলম, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব ফরিদ মাহমুদ,বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক মো.জাবেদ হোসেন,৪১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা ওয়াহিদুল আলম চৌধুরী, হাজী জানে আলম, মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, হাজী নুরুল আলম, এস এম ইসলাম, আবদুল হালিম, আলমগীর আলম, মো. তানভীর চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন প্রমুখ।

ক্রাইম ডায়রি///জেলা মহানগর

6902total visits,228visits today

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরসহ তিন স্থানে দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদকের অভিযান

BY  ON অপরাধ জগত

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃঃ

ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে    আজ (১৭/০৪/২০১৯ তারিখ) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরসহ তিন স্থানে দুর্নীতি প্রতিরোধে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

যশোরে কৃষি জমি থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করার অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক। যশোর সদর উপজেলার চুরামনকাঠি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাগডাঙ্গা মৌজায় কৃষিজমি থেকে মাটি উত্তোলনপূর্বক বিক্রি করছে এবং এর ফলে পার্শ্ববর্তী জমিসমূহ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে এমন অভিযোগ দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে (হটলাইন – ১০৬) লিপিবদ্ধ হলে দুদক, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, যশোর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সমন্বিত টিম উক্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পায়, চুরামনকাঠি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল মান্নান মুন্না ৪/৫ মাস পূর্বে বাগডাঙ্গা মৌজায় প্রায় চার বিঘা জমি ক্রয় করে তা থেকে বালি-মাটি উত্তোলনপূর্বক বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান/ব্যক্তির নিকট বিক্রয় করে আসছে। এ তৎপরতা অব্যাহত থাকলে পার্শ্ববর্তী জমিগুলো ভবিষ্যতে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে মর্মে দুদক টিমের নিকট প্রতীয়মান হয়। এ অবস্থার প্রতিকারে টিমের পক্ষ থেকে কমপক্ষে ২০ ফুট মাটি ভরাট করার জন্য বলা হয়। এছাড়াও এ অনিয়মের বিষয়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণে উপস্থিত পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাকে পরামর্শ প্রদান করা হয়। এ উদ্যোগে উপস্থিত ব্যক্তিগণ সন্তোষ প্রকাশ করেন।

এদিকে ময়মনসিংহ জেলায় আদমজী পাট গুদাম রোডের মেডিকেল গেইট হতে র‌্যালির মোড় পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ময়মনসিংহ-এর একটি এনফোর্সমেন্ট টিম। টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পায়, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক পরিচালিত এ নির্মানকাজে অত্যন্ত নি¤œমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। টিম উক্ত নির্মাণ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করে কমিশনে বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে।

অপরদিকে অর্থের বিনিময়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলির অভিযোগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরে অভিযান পরিচালনা করে দুদক, প্রধান কার্যালয়ের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম। টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগ পায় যে, শিক্ষকদের বদলির ক্ষেত্রে ঘুষ লেনদেনের ব্যাপক প্রকোপ রয়েছে। অধিদপ্তরের পলিসি এবং অপারেশন শাখার উপপরিচালক দেলোয়ার হোসেন এবং মহবুবুর রহমান বিল্লাহ এরুপ কিছু অভিযোগ রয়েছে মর্মে স্বীকার করে নেন। তাঁরা দুদকের এ অভিযানকে স্বাগত জানান। দুদক টিম বদলির ক্ষেত্রে যে কোনো অনিয়মের অভিযোগ গ্রহনের জন্য হটলাইন চালু করার পরামর্শ প্রদান করে।

এদিকে কুড়িগ্রাম সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসক, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, বিআরটিএ অফিসে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসক, নীলফামারী এবং ঝিনাইদহ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দালালদের তৎপরতার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসক, ঝিনাইদহ -কে অনুরোধ করে দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিট। উক্ত অভিযোগসমূহ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ক্রাইম ডায়রি///দুদক বিট///অপরাধ

6902total visits,228visits today

নিরাপত্তা আজ কোথায়???

মিয়া মোহাম্মদ হেলাল, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

যশোর শহরতলী বিরামপুর শ্রী শ্রী অনুকূল চন্দ্র ঠাকুর মন্দিরের পুরোহিত প্রকাশ ব্যানার্জি (৫৪) কে সাড়ে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

১৪ এপ্রিল দুপুরে প্রকাশ ব্যানার্জি মন্দিরে পূজা অর্চনা করছিলেন। সেইসময় শিশুরাও উপস্থিত ছিল। একপর্যায়ে প্রকাশ ব্যানার্জি তার প্রতিবেশী সাড়ে ৯ বছর বয়সী এক মেয়ে শিশুকে মন্দিরের মধ্যে পর্দা টানানো একটি কক্ষে নিয়ে চকলেট দিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। শিশুটি চিৎকার করলে বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ প্রকাশকে আটক করে। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন।

ক্রাইম ডায়রি///ক্রাইম

6902total visits,228visits today

সঙ্গীত শিল্পী সালমার দ্বিতীয় স্বামী সাগরের বিরুদ্ধে আগের স্ত্রীর মামলা!

ওবায়দুর রহমান অনিকঃ

হঠাৎ করে জনপ্রিয় হওয়া সংগীতশিল্পী মৌসুমী আক্তার সালমা সম্প্রতি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের ছেলে সানাউল্লাহ নূরে সাগরকে বিয়ে করেন। সাগর সালমার দ্বিতীয় স্বামী। এটা পুরনো খবর। নতুন খবর হলো সালমার দ্বিতীয় স্বামী সানাউল্লাহ নূরী সাগরের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে মামলা এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। আর মামলাটি দায়ের করেছেন প্রথম স্ত্রীর মা (শাশুড়ি)। মামলায় সাগরের বাবা সাখাওয়াত হোসেন এবং মা সুরাইয়াকেও আসামি করা হয়েছে। জানা গেছে, কক্সবাজারের মেয়ে, ঢাকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সঙ্গে ২০১৪ সালের ৩ জুন বিয়ে হয় তাঁর। প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়েই তিনি সালমাকে বিয়ে করেন। সংবাদমাধ্যমে সালমার সঙ্গে সাগরের বিয়ের খবরটি প্রকাশের পরই প্রথম স্ত্রীর পরিবার বিষয়টি জানতে পারে। বিয়ের খবর প্রকাশের আগেই কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাগরের প্রথম স্ত্রীর মা বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলা নম্বর-২৫৪, ধারা-নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ১১ (গ), ১১(গ)/৩০ ধারা। এ মামলায় সালমার দ্বিতীয় স্বামী সানাউল্লাহ নূরী ওরফে সাগর ও তার বাবা-মাকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের জন্য ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট থানায় গ্রেফতারি পরোয়ানা পাঠিয়েছেন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ। মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৪ সালের ৩ জুন সানাউল্লাহ নূরে সাগরের সঙ্গে কক্সবাজারের মেয়ের ২০ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে হয়। ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে বিয়ের পর থেকে নানাভাবে যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকেন সাগর। শারীরিকভাবে নির্যাতন করতে থাকেন। মেয়ের কথা চিন্তা করে সাগরকে ৩ কিস্তিতে ১০ লাখ দেন। সেই টাকায় সানাউল্লাহ নূরে সাগর যুক্তরাজ্যে ‘বার অ্যাট ল’ পড়তে যান। এর মধ্যে বাংলাদেশে এসে কাউকে না জানিয়ে সাগর ক্লোজআপ তারকা সালমাকে গোপনে বিয়ে করেন এবং নিজেকে অবিবাহিত দাবি করেন।

কিন্তু সংবাদমাধ্যমের বদৌলতে সালমার সঙ্গে বিয়ের খবর জানাজানি হয়। পুলিশ সাগর ও তাঁর বাবা-মাকে খুঁজছে। বাদি আরও উল্লেখ করেন, সাগর দেশে এসে কাউকে না জানিয়ে ক্লোজআপ তারকা সালমাকে গোপনে বিয়ে করেন এবং নিজেকে অবিবাহিত দাবি করেন। কিন্তু মিডিয়ার বদৌলতে এ খবর জানাজানি হয়ে যায়। ১৯৯১ সালের ১৫ জুন জন্মগ্রহণ করা সানাউল্লাহ নূরী ওরফে সাগরের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্ট নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগপত্রে। তাসনিয়া মুনিয়াত (পুষ্মীর) বাবা বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক পরিষদের সহ-সভাপতি ও শিক্ষা অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রফেসর এম. আখতার আলম। তিনি কুতুবদিয়া মহিলা ডিগ্রী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। মা দিলারা খানমও একজন স্কুল শিক্ষিকা। গত বছর ৩১ ডিসেম্বর সালমা ও সাগরের বিয়ে হয়। এর আগে ২০১১ সালে লালন কন্যা মৌসুমী আক্তার সালমার সঙ্গে শিবলী সাদিকের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল। এরপর ২০১৬ শিবলী সাদিকের সঙ্গে সালমার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। প্রথম স্ত্রী পুষ্মীর বাবা প্রফেসার এম. আখতার আলম বলেন, ইতোমধ্যে মামলাটি রুজু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তও হয়েছে। সম্প্রতি ওই মামলার হাজিরার তারিখ ছিল আদালতে। কিন্তু আসামিরা আদালতে উপস্থিত হয়নি। সবকিছু বিবেচনা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয় সেদিন। তিনি আরও বলেন, উল্টো সেই ঘটনার পর আসামিরা আমাকে হুমকি-ধামকি দেয়। তাই নিরাপত্তার কথা ভেবে আমি রাজধানীর হাজারীবাগ থানায় জিডিও করেছি। হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার বলেন, মামলা হয়েছে বিষয়টি গণমাধ্যম থেকে শুনেছি। গ্রেফতারি পরোয়ানা চিঠি এখনও থানায় আসেনি। তবে অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে সালমা জানান, খবরটি পুরোপুরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমার বিয়ের ইতোমধ্যে কয়েক মাস পার হয়ে গেছে। তাহলে এতোদিন পরে এ খবর আসলো কোথা থেকে। হঠাৎ করে শুনলাম এ মামলার কথা। বিষয়টি সত্যিই কেমন যেন মনে হচ্ছে আমার কাছে। মামলা ও বিয়ের খবরটি আমার জানা নেই। আমার স্বামী তো সেপ্টেম্বর থেকে দেশের বাইরে, তাঁর বিরুদ্ধে কীভাবে নারী নির্যাতনের মামলা করে? কুষ্টিয়ার মেয়ে মৌসুমী আক্তার সালমা সংগীত রিয়েলিটি শো ‘ক্লোজআপ ওয়ান—তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’-এর দ্বিতীয় আসরের চ্যাম্পিয়ন। এরপর কয়েকটি লোকগান গেয়ে সালমা পরিচিতি পান। ২০১১ সালের ২৫ জানুয়ারি সালমা ও শিবলী সাদিক বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। স্নেহা নামে তাঁদের ঘরে সাত বছরের কন্যাসন্তান আছে। বর্তমানে মেয়ে তার বাবার কাছে রয়েছে।
মামলার বাদি দিলারা খানমের বক্তব্যঃ-
আমার মেয়ে তাছনিয়া মুনিয়াত পুষনী ইষ্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে অধ্যায়ন কালীন সময়ে ২০১৪ সালের শেষের দিকে সানাউল্লার মিথ্যা ভালবাসার অভিনয়ের শিকার হয়। আমার মেয়েকে ফুশলিয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করেন। পরবর্তীতে তার মাতা পিতাকে মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করে  দুই পরিবারের বন্ধন সৃষ্টি করেন। এই সম্পর্কের জের ধরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উছিলায় কপর্দকহীন এই পরিবার অর্থের জন্য আমার মেয়েকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন চালাতেন। এই অর্থলিপ্সু এই পরিবারের কবলে পড়ে সুকৌশলে আমার নিকট থেকে অনেক অর্থ হাতিয়ে নেয়। সর্বশেষ রূপালী ব্যাংক, কক্সবাজার শাখা থেকে ঋণ গ্রহন করে সানাউল্লার একাউন্টে ৬,৫০,০০০/- (ছয় লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা প্রদান করি। আরও ৩,৫০,০০০/- (তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা হাতে গুনে পিতা মাতাসহ গ্রহন করেন। শঠ, প্রতারক, লম্পট সানাউল্লাহ এসব তথ্য সুকৌশলে এড়িয়ে  গেছেন। অর্র্থ আত্মসাৎ, বিশ্বাস ভঙ্গতা, প্রতারনার অভিযোগে দন্ডবিধির আলোকে মামলা হয়েছে। পাসপোর্ট আবেদনে মিথ্যা তথ্য প্রদান করে অবিবাহিত দেখিয়ে মিথ্যা পাসপোর্ট হাসিল করেন। মিথ্যা তথ্য প্রদান, জালিয়াতি পূর্বক পাসপোর্ট আদায় করার দায়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। ফৌজদারী ও জালিয়াতি মামলার আসামী বিলেত থেকে ডিগ্রী প্রাপ্ত হবেন- চিন্তা করা বোকামি নয় কি? দিলারা খানম বলেন, আমার মেয়েকে বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময় শারিরীক নির্যাতন  করা হয়েছে, তার অসংখ্য প্রমান রয়েছে। সর্বশেষ ০৫/০৭/২০১৮ইং নির্যাতনের বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল কক্সবাজারে  মামলা দায়ের হয়, যার নং ২৫৪/১৮। উক্ত মামলার বিজ্ঞ আদালত পি.আই.বি কে তদন্ত ভার প্রদান করেন। দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত করতঃ পি.আই.বি আসামী সানাউল্লাহ নূর, তার পিতা-সাখাওয়াত হোসেন, মা-সুরাইয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হয়েছে বলে  রিপোর্ট প্রদান করেন। সে ভিত্তিতে মাননীয় আদালত গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারী করেন। ইতিমধ্যে উক্ত পরোয়ানা স্মারক নং ৫০-৭/৩/২০১৯ ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপারের কাছে প্রেরন করেন। আসামী গ্রেপ্তার সময়ের ব্যাপার মাত্র। গভীর রাত্রে চুরি করে সকালে রাম নাম জপ মালা করলেই সাধু হওয়া যায় না। তেমনি নারী নির্যাতন, অর্থ আত্মসাৎ,  প্রতারনা, বিশ্বাস ভঙ্গতা করে বিলেতি অবস্থান দেখিয়ে পার পাওয়ার কোন সুযোগ নেই।  বিলেত দূতাবাস, পরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দেশ বিদেশের যোগাযোগ মাধ্যমে পরোয়ানা প্রেরন করা হয়েছে। তিনি আরোও বলেন, বিয়ে বালিয়াড়ী খেলা নয় যে সকালে করলাম, বিকালে ভাঙ্গলাম। যারা জাত কুল হীন, সভ্যতা, ইজ্জত চিনে না তাদের পক্ষে সম্ভব পবিত্র সম্পর্ককে ছেলে খেলায় পরিনত করা। সানাউল্লার লাম্পট্য জীবনই বিয়ে নামক এই পবিত্র আয়োজন কলংকিত হয়েছে।
ক্রাইম ডায়রি//অপরাধজগত

6902total visits,228visits today

যশোরে পরকিয়ার জেরঃ ৪ জনের আত্বহত্যার চেষ্টা

যশোর সংবাদদাতাঃ
এক পরকীয়ায় তিনজনের আত্মহত্যার চেষ্টা!

যশোর সংবাদদাতাঃ

পহেলা বৈশাখে যশোরের চৌগাছা উপজেলায় চারজন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। রোববার সন্ধ্যায় এসব ঘটনা ঘটে। তবে তারা সবাই শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।রোববার সন্ধ্যায় দক্ষিণ কয়ারপাড়া গ্রামের তিন সন্তানের জনক আবদুর রশিদ (৪০), তার স্ত্রী আছমা খাতুন (২৮) ও রশিদের পরকীয়া প্রেমিক দুই সন্তানের জননী ডলি খাতুন (৩০) কীটনাশক পানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

ডলির স্বামী আবদুর রশিদের চাচাতো ভাই ও শ্যালক। তিনি মালয়েশিয়া প্রবাসী। এছাড়া সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার জগদিশপুর গ্রামের মৃত বকুল হোসেনের কন্যা শারমিন খাতুন (১৪) গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

চৌগাছা হাসপাতালে আবদুর রশিদের স্বজনরা জানান, আবদুর রশিদ প্রেম করে তার চাচাতো বোন আছমা খাতুনকে বিয়ে করেন। তিনি কিছুদিন প্রবাসে ছিলেন। এই দম্পতির তিনটি সন্তান রয়েছে। এরপরও তিনি মালয়েশিয়া প্রবাসী আপন শ্যালক ও চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী দুই সন্তানের জননী ডলির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া করে আসছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে রশিদের স্ত্রী একবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন। তখন আবদুর রশিদ প্রতিজ্ঞা করেন আর এমন করবেন না। কিছুদিন পর ফের ডলির সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত হন তিনি। সেই যাত্রায়ও প্রতিজ্ঞা করে রেহাই পায় রশিদ-ডলি। তারপরও গোপনে সম্পর্ক রেখে আসছিলেন উভয়েই।

পহেলা বৈশাখের দিন আবারও তাদের পরকীয়া সম্পর্ক ধরা পড়ে। এতে বাড়িতে ঝগড়াঝাটির এক পর্যায়ে সন্ধ্যায় রশিদের স্ত্রী কীটনাশক পান করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে গ্রামের মানুষের সহানুভূতি পেতে রশিদও কীটনাশক পান করেন।

স্থানীয়রা উভয়কে উদ্ধার করে চৌগাছা ৫০ শয্যা হাসপাতালে নেয়। এ ঘটনায় গ্রামবাসী তিরস্কার শুরু করলে ডলিও কীটনাশক পান করেন। তাকেও উদ্ধার করে চৌগাছা হাসপাতালে নেয়া হয়।

ডলির মা বলেন, রশিদের স্ত্রী-কন্যা মারপিট করেছে বলে সে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। পরকীয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আর উত্তর দেননি। আবদুর রশিদ বলেন, পারিবারিক কলহের কারণে তিনি একাজ করেছেন।

আছমা খাতুন বলেন, আমার মেয়েরা বড় হয়েছে। তাদের বিয়ে দিতে হবে। বারবার বলা সত্ত্বেও আমার স্বামী পরকীয়ার পথ থেকে সরে না আসায় হতাশায় কীটনাশক পান করি।

এ দিকে একইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার জগদিশপুর গ্রামের মৃত বকু হোসেনের মেয়ে শারমিন খাতুন (১৪) গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। তাকেও গ্রামবাসী উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সে জগদিশপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। তবে কী কারণে মেয়েটি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে তা জানা যায়নি।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মঞ্জুরুল হাসান  ক্রাইম ডায়রিকে, চারজনই বর্তমানে শঙ্কামুক্ত আছেন।

ক্রাইম ডায়রি//জেলা//ক্রাইম

6902total visits,228visits today

জাফর ওয়াজেদ পিআইবি’র নতুন মহাপরিচালক

শাহাদাত হোসেন রিটনঃ

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেলেন সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনীতি বিশ্লেষক জাফর ওয়াজেদ। বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে নিয়োগ দেন।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব আলেয়া মেহের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিশিষ্ট সাংবাদিক জাফর ওয়াজেদকে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সাথে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে ‘প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ(পিআইবি) আইন, ২০১৮’ এর ৯(২) ধারা অনুযায়ী যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী দুই বছর মেয়াদে পিআইবির মহাপরিচালক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হলো।

এতে আরও বলা হয়, এ নিয়োগের শর্তাবলী অনুমোদিত চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে এবং জনস্বার্থে জারীকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

বিজ্ঞাপন

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সিনিয়র সাংবাদিক মো. শাহ আলমগীর মৃত্যুবরণ করলে পিআইবি’র মহাপরিচালক পদটি শূন্য হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মধ্য দিয়ে তার স্থলাভিষিক্ত হলেন জাফর ওয়াজেদ।

এছাড়া রাষ্ট্রপতি ‍পিআইবির চেয়ারম্যান হিসেবে অনুমোদন দিয়েছেন সাংবাদিক আবেদ খানকে। গতকাল রাষ্ট্রপতি এই দুটি পদে অনুমোদন দেন।

জাফর ওয়াজেদ বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলন ও ডাকসুর এনসাইক্লোপিডিয়া বলে খ্যাত সাবেক ছাত্রনেতা, ডাকসুর দুইবারের নির্বাচিত সাহিত্য সম্পাদক, প্রখ্যাত সাংবাদিক নেতা, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

সর্বশেষ তিনি দৈনিক জনকণ্ঠের সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়া তিনি দৈনিক সংবাদের সিনিয়র রিপোর্টার, বাংলাবাজার পত্রিকার চিফ রিপোর্টার, দৈনিক মুক্তকন্ঠের চিফ রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্বপালন করেন। সাংবাদিক জাফর ওয়াজেদ কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দিতে জন্মগ্রহণ করেন।

ক্রাইম ডায়রি// তথ্য প্রযুক্তি

6902total visits,228visits today

আজ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস

ডেস্ক রিপোর্টঃ

  • Details Image
১৭ই এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সুদীর্ঘ ইতিহাসের এক চির ভাস্বর অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে কুষ্টিয়া জেলার তদানীন্তন মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন-সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। এ অনুষ্ঠানে ষোষিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিলে গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। এইদিন থেকে এই স্থানটি মুজিবনগর নামে পরিচিতি লাভ করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনা ও স্বদেশ ভূমি থেকে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীকে বিতাড়িত করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ও নির্দেশিত পথে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় অর্জনের লক্ষে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকার গঠন করা হয়।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর তৎকালীন পাকিস্তানের শাসকচক্র নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং বে-আইনিভাবে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ কালোরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ন্যায়-নীতি বর্হিভূত এবং বিশ্বাস ঘাতকতামূলক যুদ্ধ শুরু করলে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ওয়ারলেসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তারই ধারাবাহিকতায় ১০ এপ্রিল মেহেরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকার মুক্তাঞ্চলে নির্বাচিত জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এক বিশেষ অধিবেশনে মিলিত হন এবং স্বাধীন-সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠন করেন। এই অধিবেশনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুমোদন ও বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে গঠিত হয় বাংলাদেশ সরকার। রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকায় তার অনুপস্থিতিতে উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে করা হয় অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি করা হয়।
নবজাত রাষ্ট্রের এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জনগণকে তাদের বীরত্ব, সাহসিকতা ও বিপ্লবী কার্যক্রমের মাধ্যমে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বাধীনতা লাভের লক্ষে অদম্য স্পৃহায় মরণপণ যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত সৃষ্টি ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকার পরিচালনায় নবগঠিত এই সরকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং এই সরকারের যোগ্য নেতৃত্ব ও দিক-নির্দেশনায় মুক্তিযুদ্ধ দ্রুততম সময়ে সফল সমাপ্তির দিকে এগিয়ে যায়। এই সরকার গঠনের ফলে বিশ্ববাসী স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামরত বাঙালিদের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেন। অবশেষে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত এবং ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে মুজিবনগর সরকারের গুরুত্ব ও অবদান চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ঐতিহাসিক মুজিবনগর সরকার

গঠনঃ ১০ই এপ্রিল ১৯৭১
শপথ গ্রহণঃ ১৭ই এপ্রিল ১৯৭১
স্থানঃ মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকানন

রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
উপ-রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
অর্থমন্ত্রী : এম. মনসুর আলী
স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী : এম কামরুজ্জামান

ঐতিহাসিক মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রণালয়সমূহ

(১) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
(২) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
(৩) অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
(৪) মন্ত্রিসভা সচিবালয়
(৫) সাধারণ প্রশাসন বিভাগ
(৬) স্বাস্থ্য ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়
(৭) তথ্য ও বেতার মন্ত্রণালয়
(৮) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
(৯) ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়
(১০) সংসদ বিষয়ক বিভাগ
(১১) কৃষি বিভাগ
(১২) প্রকৌশল বিভাগ

ক্রাইম ডায়রি/// সূত্রঃঃ এ এল ওয়েবসাইট

6902total visits,228visits today