• রবিবার ( রাত ১০:০৯ )
    • ১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইং

সুনামগঞ্জ সদরে ফেরদৌসী সিদ্দিকাকে চায় জনসাধারণ

মিয়া মোহাম্মদ হেলাল,বিশেষ প্রতিনিধিঃ

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সমসাময়িক তৈলাক্ত রাজনীতিতে হাইব্রিড, সুবিধাভোগী, স্বার্থান্বেষীদের ভিড়ের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী আপাদমস্তক একজন মুজিব সৈনিক ফেরদৌসী সিদ্দিকা। যার পিতা সুনামগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা কমান্ডার, ৫ নং সেক্টরের জুনিয়র সব সেক্টর কমান্ডার, বীর মুক্তিযোদ্ধা, অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী মরহুম শামসুল হক ছিলেন কৃষক, শ্রমিক, সাধারণ মানুষের বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর। পরিবারের বড় মেয়ে লেখাপড়ার পাশাপাশি বাবার হাত ধরে পদার্পন করেন রাজনীতিতে। দীর্ঘ বারো বছর ছিলেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক। বর্তমান জেলা আওয়ামীলিগের কার্যকরী সদস্য।

জনগণের সেবার ব্রত মন নিয়ে ২০০৯ সালে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হন। আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তায় লক্ষাধিক ভোটে নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় ভাবে হওয়াতে সুনামগঞ্জের সিন্ডিকেট রাজনীতির কারণে দলীয় সর্মথন না পাওয়ায় দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নির্বাচন থেকে বিরত থাকলেও পুরোদমে সক্রিয় থাকেন মাঠের রাজনীতিতে।

আগামী ১০ ই মার্চ উপজেলা নির্বাচন। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ দলগত ভাবে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করলেও উম্মুক্ত রাখা হয়েছে ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জন্য। যেহেতু ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান দলীয় নয়, সেহেতু ব্যাক্তিগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে নির্বাচন করে আসা লাগবে। ফেরদৌসী সিদ্দিকার সেই যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা,জনপ্রিয়তা আছে বলে বিশ্বাস করে এলাকার জনসাধারন। তারা আশা করে, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জনগণ যোগ্যতা ও বিগত দিনের অভিজ্ঞতাকে বিচার বিশ্লেষণ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধি রাখতে এই মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ফেরদৌসী সিদ্দিকাকে পদ্ম ফুল মার্কায় ভোট দিয়ে পুনরায় নির্বাচিত করবেন।

ক্রাইম ডায়রি// রাজনীতি

5651total visits,102visits today

কিশোর অপরাধঃঃ আমাদের করণীয় ও সমাজের ভূমিকা

আতিকুল্লাহ আরেফিন  রাসেলঃ

আমরা যত আধুনিক ও সভ্য হচ্ছি,যত   উন্নয়ন ও  নগরায়ন  হচ্ছে অপরাধ বিশেষতঃ কিশোর তথা কাঁচাদের অসভ্যতা ও অপরাধও বেড়েছে সমানতালে । পরিবারিক কাঠামোর দ্রুত পরিবর্তন, শহর ও বস্তির ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ এবং সমাজজীবনে বিরাজমান নৈরাজ্য ও হতাশা কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির প্রধান কারণ। যৌথ পরিবার ব্যবস্থা ভেঙে মানুষ একা থাকার নীতি যখনই মেনে নিয়েছে তখনই একা থেকে হতাশাগ্রস্ত কিশোর সন্তান চাকুরীজীবি পিতামাতাকে খুনের    মত ঘটনাও ঘটিয়েছে।আমরা রাজধানীতে পুলিশ দম্পতি তার কিশোরী কন্যার হাতে খুনেরমত ঘটনাও দেখেছি।    তাছাড়া ডিশসহ অপসংস্কৃতির বাঁধ ভাঙা জোয়ারও এজন্য অনেকাংশে দায়ী যার ভুক্তভোগী আমি, আমরাসহ অনেকেই।

উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদের সামনে থাকে অদম্য আশা আর জীবন জগৎ সম্পর্কে থাকে অতিকৌতূহল। অনেক সময় প্রতিকূল পরিবেশের কারণে আশাভঙ্গের বেদনায় হতাশার হাত ধরে নৈরাশ্যের অন্ধকারে পতিত হয় তাদের জীবন। এতে কিশোর বয়সীরা ধীরে ধীরে অপরাধপ্রবণ হয়ে পড়ে। কিশোর অপরাধ দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

কিশোর অপরাধী হলো সেই সকল কিশোর কিশোরী যারা সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ায় সামাজিক রীতিনীতি ও প্রথা অনুকরণ করতে না শিখে সমাজ বিরোধী চিন্তা ও কাজে অংশ নেয়। বয়সের দিক থেকে সাধারণ ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোর কিশোরী দ্বারা সংঘটিত অপরাধই কিশোর অপরাধ। তবে বিভিন্ন দেশে বয়সের তারতম্য রয়েছে। কোনো কোনো দেশে ১৩ থেকে ২২ বছর আবার কোনো দেশে ১৬ থেকে ২১ বছর বয়সী কেউ অপরাধ করলে কিশোর অপরাধী হিসেবে বিবেচিত হয়। জাপানে ১৪ বছরের, ফিলিপাইনে ৯ বছরের এবং ভারত, শ্রীলংকা ও মিয়ানমারে ৭ বছরের কম বয়সী শিশুদের অপরাধ শাস্তিযোগ্য নয়। বাংলাদেশে ১৮ বছরের কেউ অপরাধ করলে কিশোর অপরাধী হিসেবে বিবেচিত হবে। কিশোর অপরাধীদের আচরণ ও কাজকে কম অপরাধমূলক ভাবা হয় ও অপরাধের কারণকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। কৃত অপরাধের জন্য শাস্তিপ্রদান না করে সংশোধনের ব্যবস্থা করা হয়।

শিল্পোন্নত ও পুঁজিবাদী সমাজের মতো বর্তমানে স্বল্পোন্নত সমাজেও কিশোর অপরাধের ভয়াবহতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে কিশোর অপরাধের প্রবণতা বাড়লেও সাম্প্রতিককালে এ প্রবণতা অকল্পনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সমাজে বিদ্যমান, হতাশা, নৈরাজ্য আর দারিদ্র্য কিশোর অপরাধ সৃষ্টির প্রধান কারণ। শহরের দূষিত পরিবেশে মানবেতর জীবনযাপন ও অশিক্ষা, ক্ষুধা, দারিদ্র্য কিশোরদের চুরি, ছিনতাই, পকেটমারের মতো অপরাধমূলক কাজ করতে বাধ্য করে। মূলত সামগ্রিকভাবে কিশোর অপরাধের প্রধান কারণগুলো হলো- ভগ্ন পরিবার ও পিতামাতার দাম্পত্য কলহ যেখানে আবেগ, ভালোবাসা ও নিরাপত্তার অভাব রয়েছে চরম দারিদ্র্য ও পিতামাতার অবহেলা শিশুশ্রম ও জোরপূর্বক শিশুকে কাজে বাধ্য করা খারাপ সঙ্গীর সাথে চলাফেরা করা, পারিবারিক অস্থিতিশীলতা ও অসম্প্রীতি, পিতা বা মাতার পুনর্বিবাহ, মা কর্মজীবী হওয়ায় পর্যাপ্ত শিশুযত্নের অভাব, অতিরিক্ত শাসন, রক্ষণশীলতা ও বাবা-মার পরস্পরবিরোধী মানসিকতা,স্বার্থপর ও ফন্দিবাজ রাজনীতিবিদ কর্তৃক কিশোরদের পিকেটিং-এ ব্যবহার, সামাজিক, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অভাব এবং, অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ইত্যাদি।

আজকের কিশোর কিশোরীরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই কিশোর অপরাধের প্রবণতা দেশ, জাতি ও সমাজের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দেয়। কিশোর অপরাধের প্রভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শান্তি-শৃঙ্খলার অবনতি ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট হয়। শিশু কিশোর দ্বারা রাস্তাঘাটে প্রকাশ্যে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, পকেটমারের মতো অপরাধ জনগণের আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটায়। ছাত্রী অপহরণ, ধর্ষণ, এসিড নিক্ষেপ ইত্যাদি কারণে স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীরা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে। কিশোর অপরাধের কারণে সমাজে মাদকাসক্তি ও যৌনাচার বেড়ে চলেছে যা সমাজ জীবনে নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটাচ্ছে। এ ছাড়া কিশোরদের দ্বারা পিতা-মাতা ও বয়োজ্যেষ্ঠদের অবাধ্যতা, অশোভন আচরণ, পারিবারিক জীবনে শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। সর্বোপরি কিশোরদের অর্থবহ জীবনকে ধ্বংস করে জাতিকে অন্ধকারাচ্ছন্ন ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

কিশোর অপরাধের ভয়াবহ পরিণতি উপলব্ধি করে আমাদের সকলের উচিত কিশোরদের অন্ধকার থেকে আলোর জগতে ফিরিয়ে আনা। কিশোর অপরাধ সৃষ্টিতে শুধু কিশোররাই দায়ী নয়। এজন্য দায়ী আমাদের পরিবর্তনশীল সমাজ ব্যবস্থা, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা। তাই সরকারি প্রচেষ্টা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তবে প্রথম ভূমিকা পরিবারের।পরিবারের অসহযোগিতা কিশোর/কিশোরীদের অপরাধী বানায়।         কিশোর অপরাধ মোকাবিলায় নিম্নোক্ত পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে-

১.কিশোর/কিশোরী অপরাধ মোকাবিলায় সর্বপ্রথম এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে ও তার পরিবারকে স্টাডি করে   কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।২.কিশোরদের সুষ্ঠু আবেগীয় ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে যত্নবান হতে হবে।

৩.সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র শিশু কিশোরদের জন্য সুশিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।

৪.শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশে পিতামাতাকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে সন্তানের ভালোলাগার ও মন্দলাগাকে বিচার করতে হবে।

৫.কিশোরের সুষ্ঠু সামাজিকীকরণের জন্য গঠনমূলক পারিবারিক, সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

৬.দেশে পর্যাপ্ত কিশোর অপরাধ সংশোধন কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। পর্যাপ্ত খেলাধুলার পরিবেশ, যুক্তিসঙ্গত বিনোদনকেন্দ্র, পারিবারিক শৃংখলা গড়ে তুলতে  হবে।

৭.স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমগুলো শিশুর মানসিক বিকাশের উপযোগী কার্যক্রম ও অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে পারে।

কিশোর অপরাধ নিরশনে সহনশীলতা ও ভালবাসা প্রয়োজন। পরিবার ও সমাজের সকলের দায়বদ্ধতার দিকে লক্ষ রেখে কিশোরদের সাথে ভাল আচরন ও সুবিধা প্রদান করলে কিশোররা অপরাধের পুনরাবৃত্তি করবে না  আশা করা যায়।

ক্রাইম ডায়রি/// অপরাধজগত

 

5651total visits,102visits today

আগামীকাল রাজধানীতে সাধারণ ছুটিঃঃ যানবাহন বন্ধ থাকবে

আরিফুল ইসলাম কাইয়্যূমঃ

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত রাজধানীতে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে, বাস, ট্রাক, টেম্পো, ট্যাক্সিক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বেবিট্যাক্সি/অটোরিকশা, ইজিবাইক ইত্যাদি।

ডিএনসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুল কাসেম বলেছেন, সব ধরনের যন্ত্রচালিত যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মোটরসাইকেল বন্ধ থাকবে তিনদিন। আর অন্যান্য যান এক দিনের জন্য বন্ধ থাকবে।

মহাসড়ক বিভাগের সচিবকে দেওয়া ইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, ২৬ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা থেকে ১ মার্চ শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত (তিন দিনের জন্য) মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

ছুটির বিষয়ে ইসি কর্মকর্তারা জানান, আগামীকাল দুই সিটিতে ভোট উপলক্ষে নির্বাচনী এলাকায় ভোটগ্রহণের দিন সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস/প্রতিষ্ঠান/সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারী এবং সরকারি, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক/কর্মকর্তা/কর্মচারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগ ও ভোটগ্রহণের সুবিধার্থে নির্বাচনকালীন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

5651total visits,102visits today