• বৃহস্পতিবার (রাত ১:৪৮)
    • ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

চায়না সংস্থা সিনোভাক আবিস্কার করল করোনার টিকা

শাহাদাত হোসেন রিটনঃ
মরন ভাইরাস করোনার টিকা কিংবা ঔষধ আবিষ্কারে বসে নেই বিশ্ব মোড়ল দেশগুলো। সবাই প্রাণান্তকর চেষ্টা করে রাতদিন এক করে ফেলছেন।। গবেষণাগারে  খোঁজ চলছে প্রাণঘাতী করোনার ভ্যাকসিনের। ৮০টি গবেষণাগারে স্বতন্ত্রভাবে চলছে অনুসন্ধান। এরই মধ্যেই চীনা গবেষণা সংস্থা সিনোভাক দাবি করল, করোনার ভ্যাকসিন তৈরি হয়ে গেছে। এখন ছাড়পত্রের অপেক্ষায় তারা। ছাড়পত্র পেয়ে গেলেই গণহারে ভ্যাকসিনের উৎপাদন শুরু হয়ে যাবে। সিনোভাকের আরও দাবি, তাদের গবেষণাগারে প্রস্তুত ভ্যাকসিনই করোনা ঠেকাতে কার্যকর হবে।

পহেলা মে,২০২০ ইং বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩ লাখ ৮ হাজার ২৩৩ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ১০৫ জনের।

সিঙ্গাপুর ভিত্তিক নিউজ চ্যানেল চ্যানেল নিউজ এশিয়ায় এ সংক্রান্ত একটি নিউজ ছাপা হয়েছে। (Updated: ) সময়ে ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,, গণহারে উৎপাদন শুরু করতে চায় চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভাক। তাদের দাবি, বানরের শরীরে অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে এই ভ্যাকসিনের। তবে, গণহারে উৎপাদন শুরুর আগ তাদের আরও কয়েকটি ধাপ পেরোতে হবে।

সিনোভ্যাক জানিয়েছে, করোনা প্রতিরোধে বছরে ১০ কোটি ডোজ উৎপাদন করতে তারা প্রস্তুত। একটি নিষ্ক্রিয় প্যাথোজেনের ওপর ভিত্তি করে, এই ভ্যাকসিনের হাজারো শট সাদা-কমলা রঙের একটি প্যাকেজে সজ্জিত করা হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে করোনাভ্যাক। সংস্থার দাবি, ভ্যাকসিনটি তৈরির কাজ প্রায় শেষ।

চারটি সংস্থার তৈরি ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমোদন দিয়েছে চীন। তার একটি সিনোভ্যাক বায়োটেকের। বানরের পর মানব শরীরেও পরীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে।

বৃহৎ পরিসরে ভ্যাকসিনটি উৎপাদন করতে তারা সক্ষম কি না, ছাড়পত্র পাওয়ার আগে সে প্রমাণও দিতে হবে সংস্থাটিকে। এর আগে এই সিনোভাকই সোয়াইন ফ্লু’র ভ্যাকসিন গণহারে উৎপাদন করেছিল । তাই অনেকেরই আশা, চীনের এই সংস্থাটি করোনার ভ্যাকসিন উৎপাদনে সক্ষম হবে।

সূত্রের খবর, সিনোভ্যাক গত এপ্রিল মাসেই চীনের পূর্ব জিয়াংসু প্রদেশে ১৪৪ জন স্বেচ্ছাসেবীর উপর ভ্যাকসিনটির পরীক্ষা চালিয়েছে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলোর প্রথম দু’টি পর্যায়ের পরে, জুনের শেষে ভ্যাকসিনটির আশাব্যাঞ্জক ফল পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী সংস্থাটি।

পরীক্ষার তৃতীয় ধাপ শেষ হলেই বোঝা যাবে ভাইরাসের বাহকের মধ্যে ভ্যাকসিনটি কার্যকর কি না। তবে সিনোভাক তৃতীয় ধাপের পরীক্ষার জন্য প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে। তবে চীন বলছে ভাইরাসটির সংক্রমণ কমে যাওয়ায়, ভ্যাকসিন পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক তারা পাচ্ছে না।

সিনোভ্যাকের আন্তর্জাতিকবিষয়ক ডিরেক্টর মেং উইং বলেন, বর্তমানে আমরা ইউরোপ ও এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে কথা বলছি। তৃতীয় ধাপের জন্য কয়েক হাজার লোকের প্রয়োজন হবে। তবে ভ্যাকসিন পরীক্ষার জন্য কোনও দেশ থেকে এই পরিমাণ স্বেচ্ছাসেবী পাওয়া সহজ হবে না বলেই তারা মনে করছেন। এই ধাপে সাফল্য পেলে পর্যাপ্ত টিকা তৈরির অনুমোদন আদায়ে সময় লাগবে না বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

লিংক//
https://www.channelnewsasia.com/news/asia/china-covid19-coronavirus-vaccine-sinovac-coronavac-trials-12690822
পাঠকের সুবিধার্থে সি এন এ’র নিউজটি সরাসরি পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলোঃ

‘Don’t waste a minute’: Chinese firm readies mass COVID-19 vaccine production but lacks volunteers

More than 100 labs around the world are scrambling to come up with a vaccine, but only seven are
More than 100 labs around the world are scrambling to come up with a vaccine, but only seven are currently in clinical trials AFP/NICOLAS ASFOURI

BEIJING: A researcher in a lab coat in Beijing holds up the hopes of humanity in his fingers: “Coronavac”, an experimental vaccine against the coronavirus that has upended the world.

Sinovac Biotech, which is conducting one of the four clinical trials that have been authorised in China, has claimed great progress in its research and promising results among monkeys.

While human trials have just started, the company says it is ready to make 100 million doses per year to combat the virus, which surfaced in central China late last year before spreading across the globe and killing more than 220,000 people.

Sinovac Biotech is conducting one of the four clinical trials that have been authorised in China
Sinovac Biotech is conducting one of the four clinical trials that have been authorised in China AFP/NICOLAS ASFOURI

Thousands of shots of the vaccine, which is based on an inactivated pathogen, have already been produced and packaged in a white and orange case emblazoned with the name Coronavac.

While the drug has a long way to go before it is approved, the company must show that it can produce it on a large scale and submit batches to be controlled by the authorities.

The World Health Organization has warned that developing a vaccine could take 12 to 18 months, and Sinovac does not know when its half-millilitre injection will be ready for the market.

“It’s the question everyone is asking themselves,” Sinovac director of brand management Liu Peicheng told AFP.

Sinovac hopes to see results on the safety of its product by the end of June
Sinovac hopes to see results on the safety of its product by the end of June AFP/NICOLAS ASFOURI

Nasdaq-listed Sinovac has experience in mass-producing a drug against a global virus: it was the first pharmaceutical company to market a vaccine against H1N1, or swine flu, in 2009.

More than 100 labs around the world are scrambling to come up with a vaccine, but only seven – including Sinovac – are currently in clinical trials, according to the London School of Hygiene and Tropical Medicine.

Sinovac has published results showing that its vaccine has “largely protected” macaques from infection in an animal trial.

Its findings have yet to be peer reviewed by the global scientific community.

READ: China to reopen Forbidden City after three-month closure

VOLUNTEERS ABROAD

The company has since conducted human trials, administering the serum on 144 volunteers in April in eastern Jiangsu province.

Sinovac, which has some 1,000 employees, hopes to see results on the safety of its product by the end of June following the first two phases of clinical trials.

The firm will then move to phase three of the trials, which will determine whether the vaccine is effective among carriers of the virus.

But Sinovac is facing a problem for phase three. There are too few cases of infections in China nowadays to have enough volunteers for the decisive tests.

The World Health Organization has warned that developing a vaccine could take 12 to 18 months
The World Health Organization has warned that developing a vaccine could take 12 to 18 months AFP/NICOLAS ASFOURI

The country has largely brought COVID-19 under control after imposing an unprecedented lockdown on the central city of Wuhan and its surrounding Hubei province.

Only around 600 people remain hospitalised in the country and few new cases are reported every day.

This means that Sinovac may have to look for human guinea pigs abroad.

READ: Northern Chinese region including Beijing to ease COVID-19 curbs

“Currently we are talking to several countries in Europe and in Asia,” said Meng Weining, Sinovac’s director for international affairs.

Typically several thousand people would be needed for phase three, but “it’s not easy to get these numbers in any country,” Meng said.

DAY AND NIGHT

Even with success in the next stages, Sinovac would not be able to produce enough vaccines to treat the entire world population.

But Meng said the company is ready to collaborate with foreign partners which already buy its other vaccines against the flu and hepatitis.

As it continues its research, the company is getting ready for mass production.

Sinovac is building a production facility in the south of the capital that should be up and running by the end of the year.

“We work day and night, we have three shift working groups, for 24 hours, so that means we don’t waste any minute for the vaccine development,” Meng said.

ক্রাইম ডায়রি/আন্তর্জাতিক

Total Page Visits: 66423

লকডাউন করলেই ঘরে থাকছে না, শিথিল হলে আরও উৎসাহ নিয়ে আগাবে

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃ

লকডাউনের মাঝে লকডাউন এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবী হয়ে দেখা দিয়েছে। প্রথমদিকে যেভাবে লকডাউন শুরু হয়েছে সেভাবে যদি সবাই মেনে চলত তবে প্রথম দিকেই এ ভাইরাসের বিস্তৃতি রোধ হয়ে করোনা মোকাবেলা সহজ হত। এতদিনে লকডাউনও রাখতে হতোনা। কিন্ত, ধৈর্য্যহীন হয়ে চোরপুলিশ খেলতে গিয়ে আর সামাজিক দুরত্ব বজায় না রাখায় করোনা ভাইরাস এখন এমন ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে এর উৎপত্তিস্থল খুজে পাওয়া এখন দুস্কর।।  করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা এখন  কেবলই ঊর্ধ্বমুখী। এর মাঝেই খুলল বন্ধ থাকা কলকারখানা, দোকানপাট। আর বেসরকারী অফিস ও গাজীপুর, নারায়নগঞ্জের আন্ডারগ্রাউন্ড ফ্যাক্টরী খোলা থাকায় তা আরও ঝুঁকিপূর্ন হয়ে গেছে। এদিকে ধীরে ধীরে খুলতে শুরু করেছে সকল অফিস আদালত।

বিবিসি জানিয়েছে , করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যায় খানিকটা ওঠানামা থাকলেও প্রতিদিনই অন্তত কয়েকশো’ মানুষ এই ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। আর এই পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশে অধিকাংশ গার্মেন্টস কারখানা খুলেছে, দোকানপাটে মানুষ আরও বেশী সময় ধরে কেনাকাটা করতে পারছেন, সীমিত পরিসরে চালু হয়েছে কিছু সরকারি দপ্তর। আক্রান্তের সংখ্যা কেবল এই ধারণাই দিচ্ছে যে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে। তিনি বলেন, “২৫ তারিখ থেকে বেড়েই চলেছে। আজকে (বৃহস্পতিবার) কিছুটা কমেছে। কালকে আবার কমবে নাকি বাড়বে বলা যাচ্ছে না।” তিনি বলেন, “গত কয়েক দিন ধরে সংক্রমণের কাউন্ট উঠেই চলেছে। আর পুরো বাংলাদেশে একদিনে যদি সংক্রমণের সংখ্যা ৬০০ হয়, তাহলে দেখা যায় যে শুধু ঢাকা শহরেই হয় চারশো’। এই বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে।”

গত এক মাস ধরে যে ‘লকডাউন’ সারা দেশে ছিলো, তা কিছুটা শিথিল হয়ে আসছে। তৈরি পোশাক শিল্পের কারখানাগুলো খুলে দেয়া যেমন এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য, তেমনি রয়েছে ঢাকার রেস্তোরাগুলোকে ইফতারি বিক্রির অনুমোদন দেয়া।

একটা বিষয় পরিস্কার, যখন ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল তখন সবাই গ্রামে চলে গেলো। তখন সংক্রমণের একটা ঝুঁকি ছিল। বলতে গেলে তখনই এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। একই ভাবে গার্মেন্টস খুলে দেয়ার কারণেও মানুষ যখন আবার ঢাকামুখী হয়, তখন একই ধরণের ঝুঁকি বেড়েছে। তবুও পেটের টানে এর বিকল্প আমাদের মত গরীব রাষ্ট্রের আর আছে কি? সংক্রমণ বাড়ার এই সময়টাতে হঠাৎ করে যদি লকডাউনের শর্ত শিথিল করা হয়, তাহলে ঝুঁকি বাড়বে, কমবে না।

ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জকে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।  একটা টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে, যারা কেবলমাত্র এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করবে।

“কারণ মানুষ লকডাউন করলেই ঘরে থাকছে না, সেখানে শিথিল করা হলে মানুষ আরও উৎসাহ নিয়ে আগাবে। যেভাবে চলছে, তাতে খারাপ একটা অবস্থা হতে পারে”।

বিবিসিতে সাক্ষাতকার দেয়া কয়েকজনের বক্তব্য হলো এরকমঃ—

“আইইডিসিআর-এর ভাইরোলজিস্ট তাহমিনা শিরীন বলেন, “লকডাউন কার্যকর না হওয়ার কারণে আমরা অর্থনৈতিকভাবেও লুজার (ক্ষতিগ্রস্ত) হলাম। আবার সংক্রমণও কমাতে পারলাম না।”তিনি বলেন, রেস্তোরায় ইফতারি বিক্রির অনুমোদন দেয়াটা ছিল অবাক করার মতো। আমি জানি না কেন ইফতারির দোকান কেন খুলে দেয়া হচ্ছে? এগুলো তো অবশ্যই সংক্রমণ বাড়াবে। এমনিতে উপসর্গ নেই, কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রয়েছে এমন রোগীতে ভরে গেছে,” তিনি বলেন। ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, “লকডাউন শিথিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যদি এ বিষয়ে সুপরিকল্পিতভাবে পদক্ষেপ নেয়া যেতো, তাহলে গত এক মাস যে কষ্ট করা হলো, তার সুবিধাটা ঘরে তোলা যেতো”।

আর এই সময়ে লকডাউন শিথিল করার পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে ‘ব্যাপক হারে ঝুঁকি তৈরি হলো’ বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, এটা ঠিক যে সব সময় লকডাউন রাখা যাবে না। কিন্তু সেটি শিথিল করতে হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শের পর শর্ত মেনে করা উচিত ছিল। কারাখানা বা রেস্টুরেন্ট খুলে দেয়া হলেও যারা সেখানে কাজ করবে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি বলে মনে করেন তিনি। এই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যে ছয়টি শর্ত রয়েছে লকডাউন শিথিল করার জন্য তার প্রথমটি হচ্ছে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে এরকম নজীর থাকতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশে উল্টোটা হচ্ছে। কারণ সংক্রমণের সংখ্যা এখন প্রতিদিনই বাড়ছে। “বাংলাদেশ এখন এক্সপোনেনশিয়াল পর্যায়ে আছে। এখানে এখন (সংক্রমণ) প্রতিনিয়তই বাড়বে।” ড. আহমেদ বলেন, এক্ষেত্রে আরও যে ৫টি শর্ত রয়েছে, তার কোনটিই বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে না। তাই বলা যায়, লকডাউন আগে আগে প্রত্যাহার করা হলে সংক্রমণের সংখ্যা বাড়বে। “এখন আমাদের তাঁকিয়ে থাকতে হচ্ছে যে সামনের দিনগুলোতে কী হতে যাচ্ছে, মে মাসে কী হতে যাচ্ছে,” বলেন তিনি ।”

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

 

Total Page Visits: 66423

আক্রান্ত বেড়েছেঃ মৃত্যু ০২ঃ সতর্কতাই এখন পর্যন্ত একমাত্র উপায়

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃ

থেমে নেই করোনার কড়াল থাবা। একের পর এক প্রাণ ঝড়ে যাচ্ছে।কোন ভাবেই গণমানুষকে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার যত উপদেশই দেয়া হোক না কেন তারা মানতে নারাজ। ফলশ্রতিতে লকডাউন শিথিল হয়েছে ।এরফলে, করোনা ঝুকি যেমন বেড়েছে তেমনি বেড়েছে মৃত্যু ঝুঁকি।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নুতন করে ৫৭১ জনের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন, সর্বমোট এমন ৮,২৩৮ জন ব্যক্তি শনাক্ত হলেন। এ সময়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন দুই জন। ফলে এ নিয়ে বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ১৭০ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ হাজার ৯৫৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে ৫ হাজার ৫৭৩টি। তাদের মধ্যে আরও ৫৭১ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ২৩৮ জন। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৭০ হাজার ২৩৯টি। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও দুজন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭০ জনে। এছাড়া সুস্থ হয়েছেন আরও ১৪ জন। ফলে মোট সুস্থ হয়েছেন ১৭৪ জন।এদিকে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ১০৫ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১৪ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা ১৭৪। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত যাদের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, তাদের মধ্যে প্রায় ৮০০ জনের এখন কোন লক্ষণ বা উপসর্গ নেই।

তবে এমন রোগীদের সুস্থ ঘোষণা করার আগে যে দু’টি টেস্ট করতে হয়, তাদের কারো কারো ক্ষেত্রে তার মধ্যে একটি টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। আবার কারো কারো ক্ষেত্রে কোন পরীক্ষা এখনো হয়নি বলে জানান এই কর্মকর্তা।

দেশে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট, ওয়ার্ডবয়, আয়ার সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এরই মধ্যে করোনায় একজন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকদের কেন্দ্রীয় পেশাজীবী সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) সংক্রমিত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর নিয়মিত হিসাব রাখছে।

 

শুরুর দিকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগ যথেষ্ট পরিমাণ পরীক্ষা করছিলো না বলে অভিযোগ উঠলেও এপ্রিলের প্রথমভাগ থেকে প্রতিদিনই গড়ে ২ থেকে ৩ হাজার মানুষের পরীক্ষা করার পর করোনাভাইরাসের আক্রান্ত রোগীর শনাক্ত হওয়ার সংখ্যাও বৃদ্ধি পেতে থাকে। নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে জানানো হয় যে বর্তমানে দেশের ৩১টি ল্যাবরেটরিতে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

হটলাইন নম্বরের পাশাপাশি ওয়েবসাইট এবং মোবাইল ফোনেও স্বাস্থ্য সেবা দেয়া হচ্ছে বলে জানানো হয় নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে। নাসিমা সুলতানা জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশিত গাইডলাইনে প্রবীণদের, বিশেষ করে যাদের অন্য স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, সেবা দেয়ার বিষয়টি নতুন করে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তিদের বা তাদের পরিবারের সদস্যদের সামাজিকভাবে যেন হেয় না করা হয়, সেই আহ্বান জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক।

Total Page Visits: 66423

গনস্বাস্থ্যের তৈরি করোনা কীট কার্যকারিতা পরীক্ষার অনুমোদন

আরিফুল ইসলাম কাইয়্যুমঃ

বহুল আলোচিত বাংলাদেশী গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত করোনাভাইরাস শনাক্তে ‘জি র‌্যাপিড ডট ব্লট’ কিটের  কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য দুটি স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে বিভ্রান্তি নিরসনে সরকারি সংস্থাটির পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করার জন্য সব নিয়ম মেনে ঔষধ প্রশাসন কর্তৃক অনুমোদিত CR0-3: ICDDRB এবং CR0-10: BSMMU কর্তৃক সম্পন্ন করার জন্য গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অনুমতি দেয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এসব পারফরম্যান্স ট্রায়াল শেষে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেয়া হবে।

করোনা পরীক্ষার কিটের উদ্ভাবনের কথা বেশ কিছুদিন হলোই আলোচনার বিষয়বস্ত ছিল। সর্বশেষ গত সপ্তাহে এটি আবিষ্কারের কথা জানায় গণস্বাস্থ্য।

উল্লেখ্য, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ২০২০ সালের ১৯ মার্চ করোনাভাইরাস শনাক্ত করার কিট উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় রি-অ্যাজেন্ট আমদানির সরকারি অনুমোদন পায়।২০২০ সালের ২৫ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার্স ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) কাছে করোনাভাইরাস পরীক্ষার কিট ‘জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লট’ হস্তান্তর করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

ক্রাইম ডায়রি//স্বাস্থ্য

Total Page Visits: 66423