• বৃহস্পতিবার (রাত ২:০৯)
    • ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

মানিকগঞ্জে তবলীগে আসা ব্যক্তির দেহে করোনা সনাক্তঃ সতর্কতা জরুরী

মানিকগঞ্জ সংবাদদাতাঃ

ভারতের নিজামউদ্দিন মার্কাজের পর এই প্রথম বাংলাদেশের মানিকগঞ্জে তবলীগে আসা এক ব্যক্তির শরীরে করোনা ভাইরাসের দেখা মিলেছে।  স্থানীয় ও প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলায় তাবলিগ জামাতে আসা এক ব্যক্তির করোনা শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় সিঙ্গাইর পৌর এলাকায় লকডাউন ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।আক্রান্ত ব্যক্তি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার মধ্য কাইচাইল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সিঙ্গাইর পৌর এলাকার আজিমপুর নয়াডাঙ্গী বাইতুল মামুর ও মারকাজুল মা আরিফ ওয়াদ-দা ওয়াহ মাদ্রাসায় তাবলিগ জামাতে এসেছিলেন।

রোববার সিঙ্গাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনা লায়লা বলেন, গত ২৪ মার্চ থেকে ১৩ সদস্যের তাবলিগ জামাতের একটি দল ওই মাদ্রাসায় অবস্থান করছিলেন। এদের মধ্যে ওই ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেয়।

তিনি তার এক আত্মীয়ের সঙ্গে ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) গিয়ে পরীক্ষার পর তার শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। তাকে আইইডিসিআরের তত্ত্বাবধায়নে রাখা হয়েছে।

এদিকে ওই ব্যক্তির সঙ্গে থাকা অন্য ১২ সদস্য ও স্থানীয় ৬ সদস্য এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, শনিবার রাত ১২টার দিকে ওই ব্যক্তির করোনায় আক্রান্তের খবর জানানো হয়। এ ঘটনায় সিঙ্গাইর পৌর এলাকাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। লকডাউনের কারণে কোনো পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর যাতে সংকট না হয়, সেই লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ বাজার ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের সরকারিভাবে খাদ্যসহায়তা দেয়া হবে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। এদিকে আলেম ওলামার জানিয়েছেন গজব যখন আসে তখন কেউই এর বাহিরে নন। কি আলেম কি জালেম । সুতরাং সরকারী নির্দেশ মেনে ঘরে থাকাই অতি উত্তম। এই মুহুর্তে সতর্কতা খুবই জরুরী বলে বিজ্ঞ মহল মনে করেন।

ক্রাইম ডায়রি//জেলা///

Total Page Visits: 66423

বেড়েই চলেছে করোনাঃ কারফিউ জরুরী

আরিফুল ইসলাম কাইয়্যুম,মহানগর সংবাদদাতাঃ

অসতর্কতা আর হামবড়াভাব দেখানোর কারনে বেড়েই চলেছে করোনা। রাজধানীর কিছু এলাকায় পুলিশি টহল চেলে গেলেই আবারও বের হয়ে পড়ে জনগন। এ যেন চোর পুলিশ খেলা। আর এতে প্রশাসনের কিছুই করার থাকছেনা। দেশে করোনাভাইরাস বা কভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষার পরিধি বাড়ানোর পর বাংলাদেশে এক দিনেই নতুন করে ১৮ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৮৮ জনে পৌঁছাল। আর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে পৌঁছাল। রাজধানীতে করোনা বেশি আক্রমনের কারন এলাকাগুলো ঘুরলে বোঝা যায়। রাজধানীর ইসিবি হয়ে মানিকদিবাজার,বালুঘাট বাজার হয়ে উত্তরা আসছিলেন ক্রাইম ডায়রি মহানগর সংবাদদাতা। তার বর্ননায় পুরো দেশে যে একটা জরুরী অবস্থা চলছে এটা এখানে আসলে বোঝাই যায়না । মনে হয়েছে সচরাচর দিনগুলোর মতই রাজধানী। জনগন গাঁ ঘেষাঘেষি করে বাজার করছে।মাস্কের কোন বালাই নেই যদিও দুএকজনের আছে তবে সেটা না থাকার মত।

রোববার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে নতুন আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

গত ৮ মার্চ দেশে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর এটিই এক দিনে আক্রান্তের সর্বোচ্চ সংখ্যা। তবে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আরও তিনজন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে মোট ৩৩ জন বাড়ি ফিরলেন।

ঢাকায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের তথ্য জানিয়ে আইইডিসিআর এর পরিচালক বলেন, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার ১২ জন, নারায়ণগঞ্জের একজন ও মাদারীপুরের একজন রয়েছেন। নতুন ১৮ জনের মধ্য রাজধানীর বাসাবো এলাকার নয়জন, টোলারবাগের ছয়জন এবং মিরপুরের অন্যান্য এলাকার পাঁচজন রয়েছেন।

মন্ত্রীর ব্রিফিংয়ের পর করোনাভাইরাস নিয়ে অনলাইনে ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সারাদেশের গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪টি কেন্দ্রে ৩৬৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ জনের পরীক্ষা আইইডিসিআরে হয়েছে। পাঁচ জনের অন্যান্য হাসপাতালে পরীক্ষা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এক জনের মৃত্যু হয়েছে। তার বয়স ৫৫ বছর, তিনি পুরুষ। তিনি নারায়ণগঞ্জের অধিবাসী। এ ছাড়া চিকিৎসাধীন তিনজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। তাদের দুই বার পরীক্ষা করা হয়েছে।

ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন,একদিনে আক্রান্ত ১৮ জনের মধ্যে একজনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছর, দুজনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছর, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়স পাঁচজনের, ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়স তিনজনের, ৬০ বছরের বেশি বয়স একজনের। আক্রান্তদের মধ্যে ১৫ জন পুরুষ ও তিনজন নারী বলে জানা গেছে।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়//স্বাস্থ্য

 

Total Page Visits: 66423

প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করলেন বঙ্গকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃ

বঙ্গকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন ।  এই প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে মোট পাঁচটি প্যাকেজের আওতায়।

৫ এপ্রিল ২০২০ রোববার সকালে গণভবন থেকে এক ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই প্রণোদনার ঘোষণা আসে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতার ওই ব্রিফিং সরাসরি সম্প্রচার করে।

 

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত আর্থিক সহায়তা প্যাকেজগুলো নিম্নরুপঃ–

প্যাকেজ-১: ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সুবিধা দেওয়া, ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বল্পসুদে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দেওয়ার লক্ষ্যে ৩০ হাজার কোটি টাকার একটি ঋণ সুবিধা প্রণয়ন করা হবে। ব্যাংক-ক্লায়েন্ট রিলেশনসের ভিত্তিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সংশ্লিষ্ট শিল্প/ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে তাদের নিজস্ব তহবিল হতে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বাবদ ঋণ দেওয়া। এ ঋণ সুবিধার সুদের হার হবে ৯ শতাংশ। ঋণের সুদের অর্ধেক অর্থাৎ ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ ঋণ গ্রহিতা শিল্প/ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিশোধ করবে এবং অবশিষ্ট ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ সরকার ভর্তুকি হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে দেবে।

প্যাকেজ-২: ক্ষুদ্র (কুটির শিল্পসহ) ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সুবিধা প্রদান: ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বল্পসুদে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল প্রদানের লক্ষ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি ঋণ সুবিধা প্রণয়ন করা হবে। ব্যাংক-ক্লায়েন্ট রিলেশনসের ভিত্তিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে তাদের নিজস্ব তহবিল হতে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বাবদ ঋণ দেবে। এ ঋণ সুবিধার সুদের হারও হবে ৯ শতাংশ। ঋণের ৪ শতাংশ সুদ ঋণ গ্রহিতা শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিশোধ করবে এবং অবশিষ্ট ৫ শতাংশ সরকার ভর্তুকি হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে দেবে।

প্যাকেজ-৩: বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবর্তিত এক্সপোর্ট ডেভলপমেন্ট ফান্ডের (ইডিএফ) সুবিধা বাড়ানো: ব্লক টু ব্লক এলসির আওতায় কাঁচামাল আমদানি সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইডিএফের বর্তমান আকার ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হতে ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হবে। ফলে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অতিরিক্ত ১২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা ইডিএফ তহবিলে যুক্ত হবে। ইডিএফের বর্তমান সুদের হার এলআইবিওআর + ১ দশমিক ৫ শতাংশ (যা প্রকৃত পক্ষে ২ দশমিক ৭৩ শতাংশ) হতে কমিয়ে ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হবে।

প্যাকেজ-৪: প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইন্যান্স স্কিম নামে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন ঋণ সুবিধা চালু করবে। এ ঋণ সুবিধার সুদের হার হবে ৭ শতাংশ।

প্যাকেজ-৫: এরআগে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন/ভাতা পরিশোধ করার জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার একটি আপৎকালীন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। নতুন ৪টিসহ মোট ৫টি প্যাকেজে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ হবে ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা যা জিডিপি’র প্রায় ২ দশমিক ৫২ শতাংশ।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

Total Page Visits: 66423