• বৃহস্পতিবার ( বিকাল ৩:৫০ )
    • ২রা জুলাই, ২০২০ ইং

ঔষধ কিনতে এসে আকস্মিক মৃত্যু

ইঞ্জিনিয়ার ওয়াসিম মোল্লাঃ

রাজধানীর  ভাটারা থানার ১০০ ফিট রোড এলাকার একটি ফার্মেসির সামনে হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার পর ওই দোকানেই মারা গিয়েছেন এক ব্যক্তি। এরপর ওই ঘটনার বেশ কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবিতে দেখা যায়, ওষুধের দোকানটির মধ্যে মেঝেতে পড়ে আছেন এক ব্যক্তি।

ওই ফার্মেসিতে সেলস এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত হুমায়ুন কবীর জানান, ওষুধ কিনতে আসা ওই ব্যক্তি মৃত্যুর আগে তার সঙ্গেই শেষ কথা বলেন।

তিনি জানান, একটি প্রেসক্রিপশন দিয়ে ওষুধের দাম জানতে চাইছিলেন ওই ব্যক্তি। প্রেসক্রিপশনের সব ওষুধ হৃদরোগ বিষয়ক ছিল। এর পরপরই হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যান তিনি।

হুমায়ুন কবীর আরো জানান, হাসপাতালে নেয়ার আগেই ওই ব্যক্তি মারা যান।

ওষুধের দোকানের এই কর্মী জানান, সকালে সাইকেল চালিয়ে মোহাম্মদপুর গিয়ে ডাক্তার দেখিয়েছেন ওই ব্যক্তি। সেখান থেকে ফিরেই তার ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে আসেন এবং সেগুলোর দাম জানতে চান।

তিনি বলেন, এ ঘটনার পর তারা সাহায্যের জন্য ৯৯৯-এ ফোন করেন বেশ কয়েকবার, কিন্তু তাৎক্ষণিক কোন সাড়া পাননি। তবে পরে খবর পেয়ে ভাটারা থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে আসেন।

ভাটারা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মুক্তারুজ্জামান জানান, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ আব্দুর রশীদের লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রেখেছে।

তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পুলিশ নিশ্চিত করে এখনো কিছু বলেনি। তবে ওই ব্যক্তি হৃদরোগে ভুগছিলেন বলে জানানো হয়েছে। মুক্তারুজ্জামান বলেন, মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা সবাই চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। তার ঢাকায় এসে লাশ সৎকারের জন্য এলাকায় নিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

ক্রাইম ডায়রি//রাজধানী

 

Total Page Visits: 55425

বিশ্বব্যাপী মৃত্যু ২ লাখ ছাড়ালোঃ বাংলাদেশে ৩২৪ জন চিকিৎসক আক্রান্ত

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃ

সারাবিশ্বে মহামারী করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ২ লাখের ও বেশি।  আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ডওমিটারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টার দিকে এ সংখ্যা ছাড়িয়ে যায়। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে ২১০ দেশটি দেশে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে।

সারাদেশে করোনাভাইরাসে আজ পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মোট ৩২৪ জন চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন। অনেকে বলছেন যেখানে চিকিৎসকরাই আক্রান্ত তাতে নতুন করে জনগনকে এর ভয়াবহতার ব্যাপারে বলার আর কিছুই নেই। যে চিকিৎসকদের চিকিৎসায় তারা ভাল হবার আশা করে বসে আছেন সেখানে চিকিৎসকরাই আক্রান্ত ; লকডাউন মেনে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে ঘরে থাকার ব্যাপারে এর চেয়ে বড় মেসেজ আর কি হতে পারে??

 

এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্তদের মধ্যে ৮ লাখ ১৯ হাজারেরও বেশি মানুষ সুস্থ হয়েছেন। যা শতকরা হিসেবে ৮০ ভাগ

করোনায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ইউরোপ ও আমেরিকার মানুষ। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৯ লাখের বেশি। আর করোনায় যে ২ লাখ মানুষ মারা গেছে তার এক চতুর্থাংশ অর্থাৎ ৫২ হাজারে বেশি মানুষ মারা গেছে যুক্তরাষ্ট্রে। একদিনে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর দিক দিয়েও দেশটিরে ধারে কাছে কেউ নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের পর করোনায় মৃত্যুতে শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ ইউরোপের। ইতালিতে ২৬ হাজার ৩৮৪, স্পেনে ২২ হাজার ৯০২, ফ্রান্সে ২২ হাজার ২৪৫, যুক্তরাজ্যে ২০ হাজার ৩১৯, বেলজিয়ামে ৬ হাজার ৯১৭, জার্মানিতে ৫ হাজার ৮০৫ ও নেদার‍ল্যান্ডসে মারা গেছে ৪ হাজার ৪০৯ জন।

চীনে প্রাদুর্ভাব শুরু হলেও দেশটিতে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা এখন ৪ হাজার ৬৩২। তবে এশিয়ায় ৫ হাজার ৬৫০ মৃত্যু নিয়ে চীনের উপরে রয়েছে ইরান। তুরস্কে মারা গেছে ২ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ। এদিকে আক্রান্তের দিক দিয়ে চীন ও ইরানের উপরে রয়েছে তুরস্ক। দেশটিতে এখন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৫ হাজার প্রায়।

এদিকে ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, জাপান ও বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে করোনায় সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে শুরু করেছে। তবে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং ও তাইওয়ানের মতো দেশ ও অঞ্চলগুলোতে সংক্রমণ অনেক কম।

যুক্তরাষ্ট্র সবার শীর্ষে—

এদিকে আক্রান্ত, মৃত ও সুস্থ তিনক্ষেত্রেই শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া সবচেয়ে টেস্টও বেশি হয়েছে দেশটিতে।

ওয়ার্ল্ডোমিটার্সের তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ৯ লাখ ২৯ হাজারেরও বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে দেশটির ৫২ হাজারেরও বেশি মানুষ এ ভাইরাসে মৃত্যুবরণ করেছেন। আর সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ। আর দেশটির ৫০ লাখ ৭৬ হাজারেরও বেশি মানুষকে করোনা টেস্ট করা হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৪১ জনে। আর নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৩০৯ জন। এ নিয়ে সর্বমোট আক্রান্ত চার হাজার ৯৯৮ জন।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো করোনা রোগী সুস্থ হয়নি। ফলে সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা ১১২ জনই রয়েছে।

শনিবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৪২২ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩৩৭ জনের পরীক্ষা করা হয়েছে।

সারাদেশে করোনাভাইরাসে আজ পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মোট ৩২৪ জন চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন।

চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশনের (বিডিএফ) প্রধান ডা. নিরুপম দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মোট আক্রান্ত চিকিৎসকদের ২৫৫ জনই ঢাকার। এদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালের ১৬৩ জন, বেসরকারি হাসপাতালের ৭৬ জন এবং বাকি আরো ২০ জন চিকিৎসক রয়েছেন।

এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে ২৬ জন, চট্টগ্রামে বিভাগে ১২ জন, খুলনা বিভাগে সাতজন, বরিশালের আট জন, সিলেটে দুজন এবং রংপুর বিভাগের তিনজন চিকিৎসকের মধ্যে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত করা গেছে।

এক্ষেত্রে চিকিৎসকদের জন্য উন্নতমানের সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই),মাস্ক এবং সেফটি চশমার বিকল্প নেই বলে জানান সংগঠনটির প্রধান ডা. নিরুপম দাস।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

 

Total Page Visits: 55425

মানিকগঞ্জে তবলীগে আসা ব্যক্তির দেহে করোনা সনাক্তঃ সতর্কতা জরুরী

মানিকগঞ্জ সংবাদদাতাঃ

ভারতের নিজামউদ্দিন মার্কাজের পর এই প্রথম বাংলাদেশের মানিকগঞ্জে তবলীগে আসা এক ব্যক্তির শরীরে করোনা ভাইরাসের দেখা মিলেছে।  স্থানীয় ও প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলায় তাবলিগ জামাতে আসা এক ব্যক্তির করোনা শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় সিঙ্গাইর পৌর এলাকায় লকডাউন ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।আক্রান্ত ব্যক্তি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার মধ্য কাইচাইল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সিঙ্গাইর পৌর এলাকার আজিমপুর নয়াডাঙ্গী বাইতুল মামুর ও মারকাজুল মা আরিফ ওয়াদ-দা ওয়াহ মাদ্রাসায় তাবলিগ জামাতে এসেছিলেন।

রোববার সিঙ্গাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনা লায়লা বলেন, গত ২৪ মার্চ থেকে ১৩ সদস্যের তাবলিগ জামাতের একটি দল ওই মাদ্রাসায় অবস্থান করছিলেন। এদের মধ্যে ওই ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেয়।

তিনি তার এক আত্মীয়ের সঙ্গে ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) গিয়ে পরীক্ষার পর তার শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। তাকে আইইডিসিআরের তত্ত্বাবধায়নে রাখা হয়েছে।

এদিকে ওই ব্যক্তির সঙ্গে থাকা অন্য ১২ সদস্য ও স্থানীয় ৬ সদস্য এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, শনিবার রাত ১২টার দিকে ওই ব্যক্তির করোনায় আক্রান্তের খবর জানানো হয়। এ ঘটনায় সিঙ্গাইর পৌর এলাকাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। লকডাউনের কারণে কোনো পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর যাতে সংকট না হয়, সেই লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ বাজার ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের সরকারিভাবে খাদ্যসহায়তা দেয়া হবে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। এদিকে আলেম ওলামার জানিয়েছেন গজব যখন আসে তখন কেউই এর বাহিরে নন। কি আলেম কি জালেম । সুতরাং সরকারী নির্দেশ মেনে ঘরে থাকাই অতি উত্তম। এই মুহুর্তে সতর্কতা খুবই জরুরী বলে বিজ্ঞ মহল মনে করেন।

ক্রাইম ডায়রি//জেলা///

Total Page Visits: 55425

র‌্যাব-১১এর অভিযানঃ অবৈধ মশার কয়েল ও জুস উৎপাদনকারী ফ্যাক্টরী সিলগালা

আফজাল হোসেন তপন, ক্রাইম ডায়রি অফিস, নারায়ণগঞ্জঃঃ

সারাদেশে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে      র‌্যাব-১১ এর অভিযানে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানাধীন কতুবপুর এলাকায় ০২টি কারখানায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে অননুমোদিত যৌন উত্তেজক শরবত ও কয়েল উৎপাদনের দায়ে ১২ জনকে  গ্রেফতার করা হয়েছে।  র‌্যাব ১১ সুত্রে জানা গেছে, এ সময় প্রায় ৭,৩০০ বোতল যৌন উত্তেজক শরবত ও বিপুল পরিমাণ ভেজাল কয়েল জব্দ করা হয়েছে।

সোমবার ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানাধীন কুতুবপুর এলাকায় অবস্থিত এম. কে ফুডস্ ও এম.এম কনজুমার নামক ০২টি কারখানায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে অননুমোদিত যৌন উত্তেজক লায়ন ফুড শরবত এবং ভেজাল কয়েল তৈরীর অপরাধে ১২ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলো সুমন মোল্লা(১৯), রাকিবুল ইসলাম(২২), ফয়সাল আহম্মেদ(১৯),রাজু বেপারী(২৪), খায়রুল আলম(৪৭),  হাবুবেপারী(৫০),  রাকিব হোসাইন(২৪), আব্দুর রহমান(২৭), আশরাফুল ইসলাম(২৫),তাহমীদ ইসলাম(২৩), আনোয়ার হোসেন(২২) এবং রাশেদ গাজী(২৩)। এ সময় কারখানা ০২টি হতে আনুমানিক ৭,৩০০ বোতল অননুমোদিত যৌন উত্তেজক শরবত ও বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ব্রান্ডের কয়েল এবং পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ০১টি কাভার্ড ভ্যানও জব্দ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে ও স্থানীয় লোকজন সুত্রে জানা যায়, উক্ত কারখানা ০২টি দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে অননুমোদিত যৌন উত্তেজক শরবত এবং ভেজাল কয়েল উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছে। এম.এম কনজুমার দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে জাম্বু, গাংচিল, ইগলু, ম্যাক্স, নাইট মাস্টার ইত্যাদি বিভিন্ন খ্যাতিসম্পন্ন ব্রান্ডের নামে কয়েল তৈরী ও পাকেটজাত করে বাজারে বিক্রি করে আসছে। এম.কে ফুডস্ এর উৎপাদনকৃত যৌন উত্তেজক লায়ন ফুডস শরবতগুলো প্যারাসিটামল পাউডার, টেস্টি সল্ট, স্যাগারিন, এমপিএস, ব্যাফেন, এসএস পাউডার, সোডিয়াম পাউডার, সাইট্রিক এসিড, ঘাম, ঘন চিনি, সাধারণ চিনি, ফ্লেভার ও রং সহ মোট ১৬টি ক্ষতিকারক রাসায়নিক উপাদান দিয়ে তৈরী করা হয়। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এই অননুমোদিত ভেজাল কয়েল ও যৌন উত্তেজক শরবত উৎপাদন করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে আসছে বলে গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে।

এভাবে কারখানা ০২টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে যৌন উত্তেজক শরবত এবং ভেজাল কয়েল উৎপাদন করে জনস্বাস্থ্যের ও রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে আসছে। তিতাস গ্যাস কোম্পানীর টেকনিশিয়ানের প্রাক্কলনে দেখা যায় কারখানা ০২টি দীর্ঘদিন ধরে প্রতি মাসে ৩০ লক্ষ ২৪ হাজার টাকার গ্যাস চুরি করে আসছে। পরবর্তীতে তিতাস গ্যাস কোম্পানী কর্তৃপক্ষ উক্ত কারখানাগুলোর অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানায় আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে RAB-11.

ক্রাইম ডায়রি///ক্রাইম//আইন শৃঙ্খলা///আদালত//জেলা

Total Page Visits: 55425

বৃক্ষ লাগান;প্রকৃতিকে বাঁচানঃ অজানা রোগ প্রতিরোধে এটা সময়ের দাবী

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃঃ

ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে প্রাকৃতিক জীব বৈচিত্র্য ও প্রকৃতি।প্রকৃতি যতো তার ভারসাম্য হারাচ্ছে, মানুষ ও পরিবেশও ঠিক ততোটাই বিপদগ্রস্ত হচ্ছে।।অজানা অচেনা রোগে শোকে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বৈশ্বিক উঞ্চতা বৃদ্ধিতে বসবাস অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে বিশ্বের অনেক এলাকা।।।🇧🇩 বাংলাদেশও এই উঞ্চতার শিকার।।।ঘনঘন প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও মানব শরীরের রোগ ধরা না পড়া ও অজানা অচেনা রোগের আক্রমণ এর পূর্ব লক্ষণ।।। এ অবস্থা উত্তোরনে বৃক্ষরোপন ও বনভূমি রক্ষা সবচেয়ে প্রধান ভূমিকা রাখতে পারে।।।

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ, শিল্পায়ন, কৃষি সমপ্রসারণ ও নগরায়নের ফলে বিশ্বব্যাপী বন ও বনভূমি হ্রাস পাচ্ছে। পৃথিবীতে জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য বন অপরিহার্য। বনই প্রকৃতির শক্তির আধার। জীবন ও জীবিকার জন্য বন থেকে খাদ্য, আশ্রয়, ওষুধ, ছায়া, বিনোদন পাই।।।অর্থ পায় মানুষ।।।সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো বেঁচে থাকার প্রধান ও একমাত্র উপাদান অক্সিজেন সাপ্লাই দেয় এই বৃক্ষ।  তাই দ্রুত পরিবর্তনশীল জলবায়ুর প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে বনের ভূমিকা অপরিসীম।

বিশ্বের মোট ভূমির পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার মিলিয়ন হেক্টর। মোট ভূমির ৭৮ ভাগ চাষাবাদের অনুপযোগী, ২২ ভাগ ভূমি চাষাবাদ যোগ্য। ২০০ বছর আগেও বিশ্বের ৪৭ ভাগ এলাকা বনভূমিতে পরিবেষ্টিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে ২৯ ভাগ এলাকায় বনভূমি রয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য একটি দেশের মোট আয়তনের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। অথচ বাংলাদেশে মোট বনভূমির পরিমাণ  ৭১ সালে ছিল ১৬ ভাগ।

দেশের মোট আয়তন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৯৩ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে বনাঞ্চল ২৩ হাজার ৯৯৮ বর্গকিলোমিটার। যদিও এটা কাগজে কলমে।। প্রকৃত বনভূমি না মেপেই দেশের সর্বনিম্ন শিক্ষিত ব্যক্তিও অনুমান করতে পারে।।। ২০০৫ সাল পর্যন্ত তবুও এর ছিটেফোঁটা অবশিষ্ট ছিল। কিন্তু অতিলোভী মানুষের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে এখন বৃক্ষ তরুলতা শুন্য দেশের বহু এলাকা।।। জনসংখ্যা চাহিদার তুলনায় বনভূমির পরিমাণ খুবই কম।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়ানো-ছিটানো যে অল্প বনভূমি রয়েছে তাও মানুষ নির্বিচারে কেটে সাবাড় করছে। কাঠ ও জ্বালানি কাঠের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে গিয়ে বনভূমি দ্রুত সংকুচিত হয়ে আসছে। শুধু বাংলাদেশই নয়, সারা পৃথিবী থেকে দ্রুত বনভূমি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। প্রতি মিনিটে পৃথিবী থেকে ১৯০ একর বন উজাড় হচ্ছে।

পৃথিবীর প্রায় ১০০টির বেশি দেশ মরুময়তার শিকার। প্রতিবছর এ মরুভূমি ৩-৪ কিলোমিটার করে বাড়ছে। মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফলে পৃথিবীর ১০ ভাগ বন ও তৃণভূমি মরুময়তার শিকার হচ্ছে, আর ২৫ ভাগ হুমকির সম্মুখীন। প্রতি মিনিটে মরুভূমি গ্রাস করছে ৪৪ হেক্টর উর্বর জমি এবং ২০ হেক্টর বনভূমি বিরান হচ্ছে। বাংলাদেশের উত্তর অঞ্চলে ব্যাপক হারে বন উজাড়ের ফলে মরুময়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পরিবেশ ও বন বিশেষজ্ঞদের ধারণা আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীর তাপমাত্রা ১.৫ থেকে ৪.৫ সেলসিয়াস বেড়ে যাবে। মেরু অঞ্চলের জমাট বাঁধা বরফপুঞ্জ গলতে শুরু করবে এবং সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী সমুদ্র উপকূলীয় নিচু অঞ্চলগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাবে। সমুদ্রের পানির উচ্চতা যদি ১ থেকে দেড় মিটার বৃদ্ধি যায় তবে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলসহ এক তৃতীয়াংশ এলাকা বঙ্গোপসাগরের পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় মরু অঞ্চল বৃদ্ধি পাবে। উর্বর জমির পরিমাণ কমে যাবে এবং দেখা দেবে খাদ্যাভাব। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের পরিমাণ বেড়ে যাবে।

বিশেষ করে মানুষ ও উদ্ভিদের পরস্পরের দেহাপোযোগী সামগ্রীর জন্য একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। মানুষ কার্বন-ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করে (শ্বাস-প্রশ্বাসের সময়) এবং অক্সিজেন গ্রহণ করে। অন্যদিকে উদ্ভিদ অক্সিজেন ত্যাগ করে এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে। পৃথিবীতে বৃক্ষের পরিমাণ হ্রাস পেতে থাকলে এক সময় মানুষের নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হবে। এমনকি এটা মানবজীবনের জন্য অত্যন্ত মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। উদ্ভিদ ও পরিবেশ বিজ্ঞানীরা এ আশঙ্কায়ই উদ্ভিদ নিধোনকে অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে তুলে ধরেন এবং বৃক্ষরোপণের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। পবিত্র কুরআনের উপরোক্ত উক্তিতে আমরা এ ভারসাম্যের দিকনির্দেশনাই লাভ করি। আল্লাহ আরও বলেছেন, ‘সূর্য ও চন্দ্র আবর্তন করে নির্ধারিত কক্ষপথে, তৃণ-লতা ও বৃক্ষরাজি মেনে চলে তারই বিধান। তিনি আকাশকে করেছেন সমুন্নত এবং স্থাপন করেছেন ভারসাম্য।’ (সূরা আর রহমান : আয়াত ৫-৭)। বৃক্ষরাজি ও উদ্ভিদ আল্লাহর সৃষ্টির বৈচিত্র্য প্রকাশক। আল্লাহ সুনিপুণ স্রষ্টা, তিনি সৃষ্টি করেছেন বৈচিত্র্যময় উদ্ভিদ। আল্লাহ বলেছেন, ‘আমিই প্রচুর বারি বর্ষণ করি, অতঃপর আমি ভূমিকে প্রকৃষ্টরূপে বিদারিত করি এবং উহাতে উৎপন্ন করি শস্য, দ্রাক্ষা, শাকসবজি, জয়তুন, খেজুর এবং বহু বৃক্ষবিশিষ্ট উদ্যান।’ (সূরা আবাসা : আয়াত ২৫-৩০)। আল্লাহর কী নৈপুণ্য! একই মাটি একই পানিতেই আমরা ভিন্ন ভিন্ন উদ্ভিদ জন্মাতে দেখি, যাতে ভিন্ন ভিন্ন ফুল ও ফল ধরে। এসবই মানুষের কল্যাণের জন্যই।
আল্লাহ কোনো সৃষ্টিকেই অমর্যাদা করা উচিত নয়। তবে প্রয়োজন হলো তাকে যথার্থভাবে কাজে লাগানো। বৃক্ষরাজির পরিকল্পিত উৎপাদন ও ব্যবহারের ওপরই মানুষের বহু কল্যাণ বা উপকার নিহিত রয়েছে। তাই ইসলাম বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করে। নবী করিম (সা.) বৃক্ষরোপণের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন। হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘যদি জানো আগামীকাল কেয়ামত, তথাপিও আজ যদি হাতে কোনো বীজ বা চারাগাছ থাকে, তা বপন করো অথবা লাগাও।’ পরিবেশের স্বাভাবিক প্রয়োজন এবং সভ্যতার বিকাশের জন্য বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত জরুরি।
বস্তুত জগতের সব সৃষ্টিই আল্লাহর নিয়ম মেনে চলে এবং তার মহিমাকীর্তন করে। এসবের মধ্য থেকে আল্লাহ মানুষকে এক ধরনের শিক্ষাও দিতে চেয়েছেন। আল্লাহ এসবের উদাহরণ দিয়ে পবিত্র কুরআনে বলেছেন, মানুষ কি তার আদেশ মানবে না? আল্লাহর সৃষ্টি বৃক্ষরাজি আল্লাহর নিয়ম মেনে চলে এবং আল্লাহর তসবিহ পাঠ করে। বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে ওই তসবিহ পাঠের অংশীদার হয়া যায়। উপরোক্ত হাদিসে রাসূলে করিম (সা.) সেই ইঙ্গিতই প্রদান করেছেন।
মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য বৃক্ষ অতীব গুরুত্বপূর্ণ। বৈষয়িক প্রয়োজনেও তাই বৃক্ষরোপণ করা একান্ত দরকার। যে কোনো ফল ও ফসল উৎপন্ন হলেই তা মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। এমনকি ওই ফল বা ফসল যদি উৎপাদনকারী বা প্রকৃত মালিক নাও পায়, কেউ যদি চুরি করে নিয়ে যায় তাতেও সমাজের কারও না কারও প্রয়োজন পূর্ণ হয়। অর্থাৎ ওই ফল বা ফসল, সর্বাবস্থায়ই অর্থনৈতিকভাবে মূল্যমান। ইসলাম এ বিষয়ে মানুষকে সান্ত¡না প্রদান করেছে। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যদি কোনো মুসলিম কোনো ফলের গাছ লাগায় বা বাগিচা করে অথবা ক্ষেতে কোনো শস্যের বীজ বপন করে, তা থেকে উৎপন্ন কোনো ফল মানুষ বা পশুপাখি যদি খায়, তবে ওই বৃক্ষের মালিক, বাগিচাওয়ালা বা ক্ষেতওয়ালা সদকার সওয়াব পাবে।’
ইসলামে ফল বৃক্ষরোপণ ও ফসল ফলানোকে সওয়াবের কাজ হিসেবে ‘সদকায়ে জারিয়া’ বা অবিরত দানরূপে আখ্যায়িত করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি একটি বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা করেন তাহলে ওই গাছটি যতদিন বেঁচে থাকবে এবং মানুষ ও অন্য জীবজন্তু যতদিন তার ফল বা উপকার ভোগ করতে থাকবে, ততদিন ওই ব্যক্তির আমলনামায় পুণ্যের সওয়াব লেখা হতে থাকবে। সদকায়ে জারিয়ার জন্য ফলবান বৃক্ষই বেশি উপকারী।
এ প্রসঙ্গে হজরত আবু দারদার (রা.) একটি ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। একদা হজরত আবু দারদা (রা.) দামেস্কে একটি বৃক্ষরোপণ করেছিলেন। এমন সময় একটি লোক তার কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। সে হযরত আবু দারদাকে (রা.) অত্যন্ত মনোনিবেশ সহকারে বৃক্ষরোপণ করতে দেখে একটু অবাক হয়ে প্রশ্ন করল, আপনি রাসূলুল্লাহর (সা.) একজন প্রিয় সাহাবি হওয়া সত্ত্বেও এ কাজটি করছেন? হজরত আবু দারদা (রা.) উত্তরে বললেন, আপনি এমনটি বলবেন না। আমি রাসূলকে (সা.) বলতে শুনেছি, ‘কোনো ব্যক্তি যদি একটি বৃক্ষ চারা লাগায়, অতঃপর তা থেকে কোনো ফল মানুষ ও পাখি খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে তখন তার জন্য একটি সদকা হিসেবে লেখা হয়।’ এমনকি মুসলিম সেনাবাহিনী যুদ্ধে রওনা হওয়ার সময় রাসূল (সা.)সহ পরবর্তী সব খলিফা কঠোরভাবে সৈন্যদের নির্দেশ দিতেন তারা যেন বিজিতদের কোনো গাছপালা বা শস্যক্ষেত্র ধ্বংস না করে।
বনের গাছপালা থেকে আমরা শুধু কাঠ, রাবার, ওষুধ ও ফলমূলই পাই না এগুলো থেকে বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধী দ্রব্য ও তেলও পাওয়া যায়। গাছের পরিশুদ্ধ তেল দ্বারা প্রজ্বলিত প্রদীপের সঙ্গে আল্লাহপাক তার নূরের ইঙ্গিত দিয়েছেন। মানুষ চেষ্টা-গবেষণা করলে গাছ থেকেও যে উৎকৃষ্ট ধরনের তেল আহরণ করতে পারে, এটা নিঃসন্দেহে সে তথ্যেরই উপমা বহন করে।

আল্লাহ বলেন ‘এবং আমি সৃষ্টি করি এক বৃক্ষ যা জন্মায় সিনাই পর্বতে, এতে উৎপন্ন হয় আহারকারীদের জন্য তেল ও ব্যঞ্জন।’ (সূরা মমিনুন : ২০)। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে গাছের নামে শপথ করেছেন এবং তদানুসারে সূরাটির নামকরণও করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ বলেন, ত্বিন (এক জাতীয় বৃক্ষ) ও জয়তুনের (জলপাই জাতীয় এক ধরনের ফল) শপথ! (সূরা আত ত্বিন : ১)। অতএব গাছপালা, বৃক্ষলতা আল্লাহ সুমহান কুদরতের অপরূপ নিদর্শন। এর মধ্যেই তিনি মানুষ ও অন্য জীবজন্তুর খাবার প্রস্তুত করে রেখেছেন এবং মানুষকে পরিশ্রম করে সেগুলো সংগ্রহ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ইসলাম বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়েও গুরুত্ব দিতে ভুল করেনি। দুনিয়ায় একটি গাছ লাগিয়ে তার যথার্থ পরিচর্যার বিপরীতে পরকালে বেহেশতের মধ্যে অনুরূপ একটি গাছের নিশ্চয়তা পাওয়া মোমিনের জন্য অনেক সৌভাগ্যের, সন্দেহ নেই। পক্ষান্তরে অনর্থক গাছ কাটা ও বন উজাড় করাকে ইসলামে গর্হিত কাজ হিসেবে দেখা হয়।

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ব্যাপক ক্ষতি থেকে বন আমাদের রক্ষা করে। বঙ্গোপসাগরের তীরে গড়ে ওঠা ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে বারবার উপকূলবাসীকে মায়ের মতো আগলে রেখেছে। মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যাবতীয় প্রয়োজন মিটিয়ে আসছে বৃক্ষ। সভ্যতার সূচনা লগ্ন থেকে বিশ্বের মানুষ ও প্রাণীর অস্তিত্ব রক্ষায় বৃক্ষের ভূমিকা অপরিসীম। পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্রয়োজন বন সুরক্ষা এবং বনায়ন কার্যক্রম গতিশীল করা। আমাদের জীবন বাঁচানোর তাগিদে বন সুরক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। তাহলে এ পৃথিবীতে আমরা পাব দূষণমুক্ত জীববৈচিত্র্য ভরপুর নির্মল পরিবেশ।

ইদানিংকালে দেশের কিছু ক্ষুদ্র সংগঠন মানুষ এ বিষয়গুলো যেভাবে ভাবছে একইভাবে যদি সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলো ভাবত এবং মিলেমিশে কাজ করে সচেতনতা বৃদ্ধি করতো তবে,  কতই না ভাল হতো। অনলাইন ভিত্তিক আন্দোলন

http://Facebook/pages/Grame Cholএবং ফেসবুক গ্রুপ http://facebook/group/Grame Chol Aandolon  গ্রামে চল আন্দোলন    শিরোনামে একদল সাংবাদিক ইতোমধ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও বৃক্ষরোপন ও রক্ষায় জোরালো ভূমিকা পালন করছেন।।।সংগঠনের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা মিলে প্রায়শঃই গ্রাম ভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধি শীর্ষক আলোচনাসভা ও কর্মশালার আয়োজন করে থাকে। এভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রতি বাড়ির আঙিনা ও আশেপাশে বৃক্ষ রোপন করা তরু লতা ও জঙ্গলে রুপান্তরিত করতে হবে।

[{{{{[লেখক–

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেল

সম্পাদক ও প্রকাশক

ক্রাইম ডায়রি(জাতীয় সাপ্তাহিক, অনলাইন দৈনিক, অনলাইন টেলিভিশন ও অপরাধ গবেষনা)

এবং সাপ্তাহিক গোয়েন্দা ডায়রি

সভাপতি

জাতীয় সাংবাদিক পরিষদ

চেয়ারম্যান

গ্রামে চল আন্দোলন।।

+৮৮ ০১৯১৫ ৫০ ৬৩ ৩২

raselcrimediary@gmail.com]}}}]

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

Total Page Visits: 55425

চট্টগ্রামে শেখ রাসেল স্মৃতি বৃত্তি পরীক্ষার পুরস্কার বিতরন অনুষ্ঠিত

বাবুল হোসেন বাবলা, মহানগর সংবাদদাতাঃ

চট্টগ্রাম মহানগরীর ইপিজেড থানায়  “জ্ঞানের মশাল” আয়োজিত শেখ রাসেল স্মৃতি বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল ও পুরষ্কার বিতরন অনুষ্ঠিত হয়েছে।  ক্রাইম ডায়রির মহানগর সংবাদদাতা জানিয়েছেন, মহানগরীর  দক্ষিণ হালিশহর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল আমিন স্মৃতি মিলনায়তনে ৩১জানুয়ারী বিকেলে এ অনুষ্ঠান  অনুষ্ঠিত হয়।

“জ্ঞানের মশাল” সভাপতি আজাদ হোসেন রাসেলের সভাপতিত্বে সাঃ সম্পাদক ইফতেখার জিসানের সঞ্চালনায়ে পুরষ্কার বিতরন অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মোঃআবু তাহের, বিশিষ্ট ভাষা সংগঠক ও আঃলীগ সেক্রেটারী
হাজী মোঃশফিউল আলম সিঃইউনিট আঃ লীগ সভাপতি হাজী আব্দুর রউফ, বে শপিং সেন্টার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি কাজী আজিজুল হক,নারী নেত্রী শারমিন ফারুক সুলতানা, প্রবীন সংগঠক মোঃ ইলিয়াছ,মোঃ হারুন,মোঃমহসিন শিক্ষক প্রতিনিধি মোঃ ওসমান গনি,যুব সংগঠক ও লেখক মনসুর আলীসহ এলাকার জনসাাধারন উপস্থিত ছিলেন ।

ক্রাইম ডায়রি//শিক্ষা//নগর মহানগর

Total Page Visits: 55425

সুনামগঞ্জের চাঁরাগাঁও সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পাথর পাঁচারের অভিযোগ এলাকাবাসীর

মোজাম্মেল আলম ভূূূূইয়া, সুনামগঞ্জ হতেঃ


সুনামগঞ্জের চাঁরাগাঁও সীমান্তে সরকারের  রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে  ২৬.০১.২০ইং রবিবার সকাল ৬টা থেকে অবৈধভাবে ভারত থেকে লক্ষলক্ষ টাকার পাথর পাচাঁর  করেছে চোরাচালানীরা বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার তাহিরপুর উপজেলার চাঁরাগাঁও শুল্কস্টেশন সংলগ্ন এলাকা দিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে প্রায় ৪মাস পূর্বে বিজিবির সোর্স পরিচয় দিয়ে চলা একদল অপরাধী  অবৈধ ভাবে ভারতের ভিতর থেকে শ্রমিকদেরকে দিয়ে ট্রলি বোঝাই করে প্রায় ১০হাজার টন পাথর পাঁচার করে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের জিরো পয়েন্টে আনে।

এঘটনার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। একারণে পাচারকৃত পাথরগুলো সীমান্তেই আটক রাখে বিজিবি। সেই সাথে ভারত থেকে অবৈধ ভাবে পাথর পাচার বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাউকে না কাউকে   ম্যানেজ করে  সকাল ৬টা থেকে অর্ধশতাধিক ট্রলি দিয়ে অবৈধভাবে পাচাঁরকৃত আটক থাকা পাথরগুলো সোর্স পরিচয়ধারী ম,শ ও  দ আদ্যক্ষরের ভৈরবগং প্রকাশ্যে বিজিবি ক্যাম্পের সামনের রাস্তা দিয়ে সমসার হাওর পাড়ের নৌকা ঘাটে নিয়ে যায় এবং ভারত থেকে আবার পাথর পাঁচার শুরু করে। সেই সাথে চোরাচালানীরা দীর্ঘদিন যাবত প্রতিরাতে কয়লা,মদ,গাজা ও ইয়াবা পাঁচার করছে বলে এলাকাবাসী জানায়। এসব অনিয়ম ও দূর্নীতির খবর পেয়ে সীমান্ত এলাকায় র‌্যাব ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইয়াবা,মদ,গাজা,বিড়ি ও অস্ত্রসহ অনেক চাঁদাবাজ ও চোরাচালানীকে আটক করে।

সীমান্ত চোরাচালান ও চাঁদাবাজি নিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করলে  অপরাধীদের হোতারা  সাংবাদিকদের নামে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করার জন্য চোরাচালানীদের উৎসাহিত করাসহ মামলা নেওয়ার জন্য থানায় ফোন করে অনুরোধ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন যাবত আটক থাকা অবৈধ পাথরগুলো পাঁচারের বিষয়ে জানতে চাঁরাগাঁও বিজিবি ক্যাম্পের সরকারী মোবাইল নাম্বারে কল করলে সুবেদার দিলোয়ার উত্তেজিত হয়ে বলেন,আমরা কি করব না করব সেটা আমাদের ব্যাপার তাতে সাংবাদিকদের কি,কিছু জানার থাকলে ক্যাম্পে এসে দেখা করুন।

চোরাচালানীদেরকে ১সপ্তাহের জন্য অবৈধভাবে পাথর পাঁচারের অনুমতি দেওয়ার ব্যাপারে সুনামগঞ্জ ২৮ব্যাটালিয়নের বিজিবি অধিনায়ক মাকসুদুল আলমের বক্তব্য জানার জন্য তার সরকারী মোবাইল নাম্বারে (০১৭৬৯-৬০৩১৩০) বারবার কল করার পরও তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে এই সংবাদদাতাসহ একাধিক পত্রিকার সাংবাদিকরা জানিয়েছেন । তাই এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও অন্যায়ের সাথে আপোসহীন নেতা বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনার   সুদৃষ্টি কামনা করছেন সাংবাদিকগনসহ এলাকার সচেতন জনসাধারণ।

ক্রাইম ডায়রি/// ক্রাইম///অপরাধজগত

Total Page Visits: 55425

পতেঙ্গায় লোকনাথ ধাম-গীতা শিক্ষালয়ের ১৭তম প্রতিষ্ঠা র্বাষিকী

বাবুল হোসেন বাবলা, চট্টগ্রাম অফিসঃ


পতেঙ্গাস্থ শ্রী শ্রী লোকনাথ ধাম-গীতা শিক্ষালয়ের ১৭তম প্রতিষ্ঠা র্বাষিক উ সব-সম্প্রীতির
শোভাযাত্রা ,শ্রীমদগীতাপাঠ,র্ধমসভা ও সংগীতা অনুষ্ঠান ১৭ জানুয়ারী শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে
দিনব্যাপি ইপিজেড থানাধীন ভৈরব ঠাকুর মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে।
সকালে জাতীয়ওগৈরিক পতাকা উত্তোলন এবং শান্তির পায়রা-বেলুন উড়িয়ে শোভা যাত্রার উদ্বোধন
করবেন চসিক ৪০নং ওর্য়াডে সাবেক কাউন্সিলর,আঃলীগ সভাপতি হাজী আব্দুল বারেক
কোং,র্আশীবাদক অতিথি-জ্যোর্তিময়ানন্দ ব্রক্ষ্মচারী(রনি ব্রক্ষ্মচারী)এবংস্থানীয় নেতৃবৃন্দ
উপস্থিত থাকবেন।


বিকেলে মহতী র্ধমসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষা উপ-মন্ত্রী ব্যারিস্টার
মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল(এমপি),মহান অতিথি-চট্টগ্রাম১১এর সাংসদ আলহাজ্ব এম.আব্দুল
লতিফ,প্রধান বক্তা-নগর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি এডঃ চন্দন তালুকদার,র্ধমীয়
মূখ্যপ্রবচক-শ্রী সুর্দশন চক্রর্বত্তী,আলোচক বিশেষ অতিথি-৩৯নং ওর্য়াড কাউন্সিলর হাজী
জিয়াউল হক সুমন,কাউন্সিলর হাজী জয়নাল আবেদীন সহ প্রবীর কুমার সেন(পিডিবি দক্ষিণের
প্রধান প্রকৌশলী) স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে সকল কে যথা সময়ে উপস্থিত থাকার জন্য উ সব উদযাপন কমিটির সভাপতি
উত্তম শীল ও সাঃসম্পাদক সুজন কুমার শীল বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন।

ক্রাইম ডায়রি////জেলা//নগর মহানগর

Total Page Visits: 55425

বিশ্ব ইজতেমাঃ টঙ্গীর তুরাগ তীরে মানুষের ঢল

কালিমুল্লাহ দেওয়ান রাজা, বিশ্ব ইজতেমা হতেঃ

তিল ধারনের জায়গা নেই। হেঁটে যাবার পরিস্থিতিও নেই। লাখো মানুষের ভীরে মুখরিত তুরাগ তীর। উপচে পড়া মানুষ এখন আশুলিয়া রাস্তা হতে উত্তরার সেক্টর,টঙ্গী সবজায়গায় স্থান নিয়েছে।

দেশ-বিদেশের লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কণ্ঠের আল্লাহ আকবর ধ্বনিতে মুখরিত ইজতেমা ময়দান।বয়ান-তাশকিল, তালিম, ইবাদত বন্দেগির মধ্য দিয়ে শনিবার কাটছে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় দিন।

রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ জমায়েতের প্রথম পর্ব।

আলেম ওলামদের নেতৃত্বে চলছে এই ইজতেমা। গতবারের ইজতেমায় যদিও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের শিকার হয়ে পিছু হটেছিল এই গ্রুপ কিন্তু এবার এইদলেই সারা দিয়েছে বাংলার মুসলিম সমাজ। দ্বিতীয় পর্ব হবে মাওলানা সাদ পন্থীদের।

ময়দানের কোথাও ঠাঁই না পেয়ে মুসল্লিদের উপচেপড়া ভিড় আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। কনকনে শীত উপেক্ষা করে মুসল্লিরা খোলা আকাশের নিচে রাস্তায় অবস্থান নিয়েছেন।

শনিবার ইজতেমার মাঠ ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চারদিকে প্রচুর মানুষের সমাগম। অনেকে ইজতেমা ময়দানে জায়গা না পেয়ে বা দলছুট হয়ে ঘোরাঘুরি করছেন এদিক-সেদিক।

তাবলীগের ৬ উসূলের (মৌলিক বিষয়ে) উপর বাদ ফজর ভারতের মাওলানা আব্দুর রহমানের বয়ানের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দিনের বয়ান শুরু হয়। এ বয়ান বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা আব্দুল মতিন। বাদ জোহর বয়ান করেন ভারতের মাওলানা ইসমাইল গোদরা। তার বয়ান ভাষান্তর করেন মাওলানা মো. নূর-উর-রহমান ।

বাদ আসর বয়ান করেন ভারতের মাওলানা জোহায়েরুল হাসান। বাদ মাগরিব বয়ান করেন ভারতের মাওলানা ইব্রাহীম দেওলা।

ইজতেমার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা জানিয়েছেন, অন্যবারের তুলনায় এবারের ইজতেমায় মুসল্লির সংখ্যা বেশি। ইজতেমা মাঠের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে নতুন ১৪টি খিত্তা (নির্ধারিত স্থান) যুক্ত করার মাধ্যমে মাঠের পরিধি বাড়ানো হয়েছে।

আর পুরো ইজতেমাকে ৯১টি খিত্তায় ভাগ করা হয়েছে। এরপরও জায়গা না পাওয়ায় ময়দানের বাইরে রাস্তায় অবস্থান করছেন মুসল্লিরা।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, আবদুল্লাহপুর-আশুলিয়া সড়ক, স্টেশনরোড-কামারপাড়া সড়কসহ ইজতেমার ময়দানে প্রবেশের রাস্তার দুই পাশে মুসল্লিরা অবস্থান নেয়ায় রাস্তাগুলো সঙ্কুচিত হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও যানবাহন এমনকি হাঁটার পথও বন্ধ হয়ে গেছে। উত্তরা ১০ নং সেক্টরের বিভিন্ন রাস্তায়ও তাবু ফেলেছেন মুসল্লিরা।

এর মাঝেই চলছে বয়ান, জিকির-আজকার, কিতাবের তালিম, জামাতের জন্য তাশকিল, নফল ইবাদত-বন্দেগি, খাওয়া-দাওয়া ও আনুষঙ্গিক কাজ।

মুরব্বিদের বয়ান চলাকালে পুরো ইজতেমা ময়দান জুড়ে পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। ঠান্ডা বাতাস ও কনকনে শীত উপেক্ষা করে মুসল্লিদেরকে অধিক মনযোগ সহকারে মুরব্বিদের মূল্যবান বয়ান শুনতে দেখা গেছে।

বাদ ফজর ভারতের মাওলানা আব্দুর রহমান ইমান, আমল, জাহান্নাম, জান্নাত ও দাওয়াতে মেহনতের উপর গুরুত্বপূর্ণ বয়ান রাখেন।

তিনি তার বয়ানে বলেন, আমাদের জানমাল দ্বীনের দাওয়াতের কাজে ব্যয় করতে হবে।

তিনি বলেন, ঘর তৈরি করতে গেলে যে পরিমান মেহনত করা প্রয়োজন, আমরা সে পরিমান মেহনত করলে একটি ঘর তৈরি হয়। ঠিক একইভাবে দাওয়াতের কাজে যে পরিমান মেহনত করা প্রয়োজন, সে পরিমান মেহনত করলে আল্লাহজাল্লাহ শানহু আমাদের দাওয়াতকে কবুল করবেন।

আর দাওয়াত কবুল হলে আমাদের দোয়া কবুল হবে। দোয়া কবুল হলে আমাদের জীবন পরিবর্তন হয়ে যাবে।

স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করে সারা দেশ থেকে স্রোতের মতো আসছে মানুষ।। আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ মিলন মেলা।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

Total Page Visits: 55425

গণমানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে নেতা কর্মীদের প্রতি আওয়ামীলীগের নব নির্বাচিত সভাপতি শেখ হাসিনার আহবান

ক্রাইম ডায়রি ডেস্কঃ

আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে শেখ হাসিনা সভাপতি এবং ওবায়দুল কাদেরকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে আজ শনিবার ইর্ঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে কাউন্সিল অধিবেশনে তাদেরকে নির্বাচিত করা হয়।

দলের ২১তম জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত নির্বাচন কমিশনের প্রধান কমিশনার এডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদেরের নাম ঘোষণা করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আদর্শ ভিত্তিক রাজনীতি করার মাধ্যমে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার জন্য আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে হবে, মানুষ যাতে স্বতস্ফূর্ত ভাবে ভোট দিয়ে আমাদেরকে নির্বাচিত করে এবং আমরা যেন দেশসেবা করে যেতে পারি। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ আমরা গড়তে পারি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ যে স্বাধীনতা অর্জন করেছে সেই রক্ত যেন বৃথা না যায়, সে লক্ষ্য নিয়েই তাঁর সরকার কাজ করে বিগত ১০ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। লক্ষ্য আরো অনেক দূর যেতে হবে। সেজন্য সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে।

আব্দুল মতিন খসরু সভাপতি পদে শেখ হাসিনার নাম প্রস্তাব করেন এবং পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য তা সমর্থন করেন। নির্বাচন কমিশনার ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন এ পদে আর কোনো নাম প্রস্তাব না পাওয়ায় শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করেন।
এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদেরের নাম প্রস্তাব করলে তাতে সমর্থন জানান আব্দুর রহমান। নির্বাচন কমিশনার ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন এ পদে আর কোনো নাম প্রস্তাব না পাওয়ায় ওবায়দুল কাদেরকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করেন।

পরে ২১তম জাতীয় সম্মেলনে নব নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সভাপতিমন্ডলীর সদস্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদিকমন্ডলীর সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন।

সভাপতিমন্ডলীর সদস্যরা হলেন-সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফর উল্লাহ, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, নুরুল ইসলাম নাহিদ, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য, ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, রমেশ চন্দ্র সেন, অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান, আবদুল মতিন খসরু, শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকরা হলেন, মাহাবুব-উল-আলম হানিফ, ডা. দীপু মণি, ড. হাছান মাহমুদ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

সাংগঠনিক সম্পাদকরা হলেন, আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, এস এম কামাল হোসেন ও মির্জা আজম।

এছাড়াও আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আক্তার, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাজিবুল্লাহ হিরু, প্রচার সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হারুন অর রশীদ, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন শামসুন নাহার চাঁপা, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এবং স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদ ডা. রোকেয়া সুলতানার নাম ঘোষণা করেন।

সম্মেলনে বঙ্গকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাউন্সিলরদের উদ্দেশ্য করে   বলেন, ‘এখানে কাউন্সিলরবৃন্দ আছেন- সংগঠনকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে। আর জাতির পিতার যে আদর্শ সেই আদর্শ মেনেই চলতে হবে।’প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আজ ২১ শে  ডিসেম্বর, ২০১৯ইং শনিবার আওয়ামী লীগের ২১ তম জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্ব কাউন্সিল অধিবেশনের শুরুতে প্রদত্ত ভাষণে একথা বলেন।

সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন শেখ হাসিনা। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে নির্মিত প্যান্ডেলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই অধিবেশন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২৯টি বছর এদেশের জনগণের ভাগ্য নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলেছে তাদের বিরুদ্ধে যত সংগ্রাম ও আন্দেলন এং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার যত সংগ্রাম আওয়ামী লীগই সে সংগ্রাম করেছে এবং আওয়ামী লীগই এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, বাঙালির জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করা, একে উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলে বিশ্বে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়েই জাতির পিতা তাঁর সারাটি জীবন উৎসর্গ করে যান। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাবার জন্য তিনি আজীবন জেল, জুলুম-নির্যাতন সহ্য করে গেছেন।

জাতির পিতার অবদান ও আওয়ামী লীগকে গড়ে তোলার কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এমনভাবে সংগঠনটি গড়ে তোলেন, এর মাধ্যমে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশের স্বাধীনতা অর্জন করেন।

 

সরকার প্রধান বলেন, বাংলার জনগণকে জাতির পিতার স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র সাড়ে ৩ বছরের শাসনকালে জনগণকে অর্থনৈতিক মুক্তি এনে দিতে পারেন নাই। সেই স্বপ্ন পূরণই তাঁর রাজনীতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর বাবা-মা’য়ের আত্মা যেন শান্তি পায়।

প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার উর্ধ্বে উঠে দেশের জন্য কাজ করে যাওয়ায় নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দেখা যায় যে, অনেকেই ক্ষমতায় আসার পরে জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারে না। কিন্তু আমরা সেটা পেরেছি। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছি। সেক্ষেত্রে আমি বলবো বলবো সকলকে সেই চিন্তা থেকেই কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন এবং জাতির যেকোন ক্রান্তি লগ্নে এর নেতা-কর্মীরা জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করেছে। প্রতিটি কাউন্সিলরকে এটা মাথায় রাখতে হবে- জাতির পিতার সেই আদর্শ নিয়েই আমরা দেশকে গড়ে তুলবো।’

তিনি বলেন, জাতির পিতা স্বাধীনতার পরে একটি যুদ্ধ বিধ্বস্থ দেশ গড়ে তুলে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের পর্যায়ে রেখে গিয়েছিলেন আর এরপরেই জাতির জীবনে ১৫ আগষ্ট বিপর্যয় নিয়ে আসে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭৫ এর জাতির পিতাকে হত্যার পর এদেশে যে হত্যা, ক্যু এবং ষড়যন্ত্রের রাজনীতি এদেশে শুরু হয়েছিল। যেখানে গণতন্ত্র ছিল না, কারফিউ গণতন্ত্র ছিল। যেখানে সেনাতন্ত্র ছিল, সামরিক স্বৈর শাসকরা রাষ্ট্র শাসন করেছে দীর্ঘ ২১ বছর, এরপর আবার ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত।

 

 

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, জনগণ যে সরকারের সেবা পেতে পারে, জনগণের কল্যাণ করতে পারে, তাঁদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে, এটা কেবল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরেই জনগণ উপলদ্ধি করতে পেরেছে।

তিনি বলেন, উড়ে এসে জুড়ে বসারা সবসময় নিজেদের ভাগ্য নিয়ে এবং অসৎ উপায়ে ক্ষমতা দখলকে বৈধ করার কাজেই ব্যস্ত ছিল। তারা জনগণের কথা চিন্তা করে নাই।

সরকার প্রধান বলেন, এদেশে ঋণ খেলাপি কালচার, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতি এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেধাবী ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে তাদেরকে ব্যবহার করাসহ পুরো সমাজটাকে তারা ধ্বংসের পথে টেনে নিয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে সরকারের কোন নীতি আদর্শ থাকে না, কোন লক্ষ্য থাকে না, সে সরকার চলে কি করে, প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি এ সময় জাতির পিতার লেখা অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা এবং জাতির পিতার বিরুদ্ধে পাকিস্তানী গোয়েন্দাদের গোপন প্রতিবেদন নিয়ে প্রকাশিত ১৪ খন্ড ভলিউমের বইগুলো দলের প্রতিটি নেতা-কর্মীকে পড়ার পরামর্শ দেন।

কারো বিরুদ্ধে প্রকাশিত গোয়েন্দা রিপোর্ট নিয়ে অদ্যাবধি কেউ কোন পুস্তক রচনা না করলেও জাতির পিতা কিভাবে দেশের কল্যাণে কাজ করে গেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে কি কি ষড়যন্ত্র হয়েছিল, কি কি অপপ্রচার হয়েছিল-সেগুলো তুলে ধরার জন্যই ’সিক্রেট ডকুমেন্ট অন ফাদার অব দি নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ শীর্ষক এ সংক্রান্ত বইগুলো তিনি প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি কাউন্সিলরদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বইগুলো থেকে আপনাদের অনেক কিছু শিক্ষা নেওয়ার আছে।’শৈত্য প্রবাহের কারণে প্রচন্ড শীত অনুভূত হওয়ায় কাউন্সিলের কর্মসূচি সংক্ষেপ করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

/ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়//রাজনীতি   ///সূত্র : বাসস

Total Page Visits: 55425