সাভারে উপজেলা চত্তরে সাংবাদিককে হত্যার চেষ্টাঃজাতীয় সাংবাদিক পরিষদের তীব্র নিন্দা

Total Views : 72
Zoom In Zoom Out Read Later Print

হামলাকারীদের হাত থেকে জীবন বাচাতে ঐ সংবাদকর্মী সোহেল রানা দৌড়ে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে আশ্রয় নেন।সাংবাদিক সোহেল রানার উপর হামলায় তীব্র প্রতিবাদ ও শাস্তির দাবী জানিয়েছেন, জাতীয় সাংবাদিক পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি। জাতীয় সাংবাদিক পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেল  এক বিবৃতিতে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা এবং সাংবাদিক সোহেল রানার সুচিকিৎসার দাবী জানান।

সাংবাদিক সোহেল রানার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়া তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

আরিফুল ইসলাম কাইয়্যুমঃ

এই প্রথম দেশের ইতিহাসে কোন সংবাদকর্মীকে উপজেলা চত্তরে প্রকাশ্য হত্যা চেষ্টা করা হলো। জানা গেছে, ঢাকার আশুলিয়ায় এক ইউপি সদস্য পুলিশের হাতে গ্রেফতারের সংবাদ প্রকাশের জেরে সোহেল রানা (২৫) নামে এক সংবাদকর্মীকে বেধড়ক মারধর করে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রোববার দুপরে সাভার উপজেলা পরিষদে এ ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এ সময় হামলাকারীদের হাত থেকে জীবন বাচাতে ঐ সংবাদকর্মী সোহেল রানা দৌড়ে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে আশ্রয় নেন। 

এসময় খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ইউএনও কার্যালয় থেকে তাকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সাংবাদিক সোহেল রানার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়া তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়েমুল হুদা বলেন, হামলার শিকার সংবাদ কর্মীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী সোহেল রানা বলেন, রোববার দুপুরে সংবাদ সংগ্রহের কাজে সাভার উপজেলা পরিষদে যাই। এ সময় কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই ২০-২৫ জন দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়ে আমাকে হত্যার চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা আমাকে ছুরি দিয়ে হত্যার চেষ্টা করলে আমি তাদের হাত থেকে রক্ষার জন্য দৌড়ে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে আশ্রয় নেই। এ সময় হামলাকারী সাভার উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবনের ভিতরে অবস্থান নেয়।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি সাভারের আশুলিয়ায় একটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে মা-মেয়েকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় পাথালিয়া ইউপি সদস্য শফিউল আলম সোহাগসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ করা হলে ইউপি সদস্যের ভাই সাবেক থানা ছাত্রলীগের সভাপতি সামিউল আলম শামীম ও তার অনুসারীরা আমাকে ফোনে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুমকি প্রদর্শন করে। এ ঘটনায় রোববার সকালে সাভার মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। 

সোহেল রানা বলেন, গ্রেফতার শফিউল আলম সোহাগ রোববার দুপুরে জামিনে বের হন। এর পরই সোহাগ ও তার ভাই শামীমের অনুসারীরাই আমার ওপর হামলা চালিয়েছে। এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সামিউল আলম শামীম বলেন, সাংবাদিক হামলার বিষয়টি তিনি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে দেখেছেন। রোববার সকাল থেকেই তিনি ঢাকাতে রয়েছেন। ওই সংবাদিকের সঙ্গে তার মতের অমিল রয়েছে। তবে তার ওপর হামলার বিষয়টি প্রশ্নই আসে না। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তিনি তাদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বলেন। এছাড়াও এ ঘটনাটি যারা ঘটিয়েছে তারা অনেক নিন্দনীয় কাজ করেছেন বলেও যোগ করেন এই নেতা।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মাঈনুল ইসলাম বলেন, হামলার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ সময় ওই সংবাদ কর্মীকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষ থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিষয়টি তদন্ত করে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

ঢাকা জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, উপজেলা পরিষদের ভিতরে সংবাদ কর্মীর ওপর হামলা এটা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং নিন্দনীয় ব্যাপার। অতীতে দেশের কোনো উপজেলা পরিষদে এমন ঘটনা ঘটার কোনো তথ্য নেই। এ ঘটনায় বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে সাংবাদিক সোহেল রানার উপর হামলায় তীব্র প্রতিবাদ ও শাস্তির দাবী জানিয়েছেন, জাতীয় সাংবাদিক পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি। জাতীয় সাংবাদিক পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেল  এক বিবৃতিতে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা এবং সাংবাদিক সোহেল রানার সুচিকিৎসার দাবী জানান।

ক্রাইম ডায়রি// ক্রাইম

See More

Latest Photos