পরকীয়ায় ইমামের হাতে গৃহকর্তা খুন, আরবী শিক্ষা দিতে বাসায় মহিলা মাওলানা রাখা উচিত

Total Views : 18
Zoom In Zoom Out Read Later Print

বাসায় নিজে অনুপস্থিত থেকে পুরুষ আলেমকে দিয়ে যারা বাচ্চা কিংবা স্ত্রীকে আরবী শিক্ষা দিয়ে ধর্ম হাসিলের চেষ্টা করছেন তারা অন্ততঃ এবার সাবধান হোন। দক্ষিনখানে ইমামের পরকীয়া হয়তো প্রকাশ হয়েছে কিন্তু হাজারো ঘটনা আছে যেগুলো অনেকেই জানে আবার অনেকেই জানেনা। জানে শুধুমাত্র ভুক্তভোগীরা। মসজিদের ইমামের অত্যাচারে চাকুরী ছেড়ে এলাকা ত্যাগ করেছে এমন অনেক গার্মেন্টস চাকুরের ইতিহাস জানা যায়। ঘটনায় আকস্মিকতায় অনেকেই তা এখন প্রকাশ করেন কথার ছলে। কিছুদিন আগে গানের শিক্ষকের সঙ্গে ভেগে যাওয়া গৃহবধুর স্বামীর আত্ননাদ শোনা গিয়েছিল সামাজিক মাধ্যমে। ‍ আর এলাকাবাসীর উচিত স্ত্রী ছাড়া বসবাস করে এমন ইমামের ঈমানের পরীক্ষা না নেয়া। তাতে হয়তো কারো পৌষমাস হবে আবার কারো সর্বনাশও হতে পারে।

ওয়াজিউল্লাহ শেখ সোহেলঃ

বাসায় নিজে অনুপস্থিত থেকে পুরুষ আলেমকে দিয়ে যারা বাচ্চা কিংবা স্ত্রীকে আরবী শিক্ষা দিয়ে ধর্ম হাসিলের চেষ্টা করছেন তারা অন্ততঃ এবার সাবধান হোন।  দক্ষিনখানে ইমামের পরকীয়া হয়তো প্রকাশ হয়েছে কিন্তু হাজারো ঘটনা আছে যেগুলো অনেকেই জানে আবার অনেকেই জানেনা। জানে শুধুমাত্র ভুক্তভোগীরা। মসজিদের ইমামের অত্যাচারে চাকুরী ছেড়ে এলাকা ত্যাগ করেছে এমন অনেক গার্মেন্টস চাকুরের ইতিহাস জানা যায়। ঘটনায় আকস্মিকতায় অনেকেই তা এখন প্রকাশ করেন কথার ছলে। কিছুদিন আগে গানের শিক্ষকের সঙ্গে ভেগে যাওয়া গৃহবধুর স্বামীর আত্ননাদ শোনা গিয়েছিল সামাজিক মাধ্যমে। ‍ আর এলাকাবাসীর উচিত স্ত্রী ছাড়া বসবাস করে এমন ইমামের ঈমানের পরীক্ষা না নেয়া। তাতে হয়তো কারো পৌষমাস হবে আবার কারো সর্বনাশও হতে পারে। 

কওমি আলেমদের একাকিত্ব ঘোচাতে হয় তাদেরকে ভাল বেতনের ব্যবস্থা  করে মাদ্রাসার পাশে স্ত্রী নিয়ে থাকার ব্যবস্থাটা জরুরী হয়ে পড়েছে। তাতে বলাৎকার কিংবা পরকিয়া এমন শব্দ আলেম ওলামাদের ক্ষেত্রে আর শুনতে হবেনা। আবার শরীয়ত অনুযায়ী একাধিক বিয়ের  ব্যবস্থাও থাকা উচিত। না হলে ইসলাম আমাদের সকলের প্রাণের ধর্ম। কিছু ভন্ড কিংবা আবালের জন্য আমাদের প্রিয় আলেম সমাজের দুর্নাম হবে এমনটি ইসলাম প্রিয় জনগনের মেনে নিতে কষ্ট হয়। 

কেন বললাম  এগুলো??

সম্প্রতি পরকীয়া সম্পর্কের জেরেই দক্ষিণখানের সরদার বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমান আজহারুলকে হত্যা করেন। আর এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন নিহত আজহারুলের স্ত্রী আসমা আক্তার। তিনি আজহারকে হত্যা করার বিষয়ে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমানকে বিভিন্নভাবে চাপ দিতেন। স্বামী আজহারুলকে হত্যা করতে পারলে ইমামকে বিয়ে করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন আসমা আক্তার।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা র‌্যাব সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পারি মসজিদের ইমাম ও ভিকটিমের স্ত্রীর মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্কের জের ধরে আজহারুলকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়। হত্যাকাণ্ডটি প্রথমে পরিকল্পনা করা হয় রোজার ৭ দিন আগে। 

‘ইমাম ভিকটিম ও তার সন্তানকে আরবি শিক্ষা দিতেন। এ বছর জানুয়ারি মাস থেকে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমান বাসায় গিয়েই আজহারুল ও তার ছেলেকে আরবি পড়াতেন। আর এই বাসায় যাওয়ার ফলেই ভুক্তভোগী আজহারুলের স্ত্রী আসমা আক্তারের সঙ্গে ইমামের সম্পর্ক তৈরি হয়। আজহারুল মার্চ মাসের দিকে তার স্ত্রী ও ইমামের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি টের পান। এ কারণেই ভুক্তভোগী ইমামকে তার বাসায় আর না যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন’।

‘এরপর আসমা আক্তারের সঙ্গে ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমানের সম্পর্ক আরও গভীর হয়ে যায়। মার্চের শেষের দিকে ভুক্তভোগীর স্ত্রী ও মসজিদের ইমাম দু’জনে মিলে আজহারুলকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন। প্রথমে তারা সিদ্ধান্ত নেন ভাড়াটে খুনির মাধ্যমে বা অন্য কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে আজহারুলকে খুন করবে। পরবর্তীতে আসমা আক্তার মসজিদের ইমামকে পরামর্শ দেন আজহারুলকে হত্যার ঘটনাটি তার রুমে যাতে করা হয়।’

এর আগে মঙ্গলবার সকালে নিহতের মরদেহ উদ্ধারের পর বিকালে আব্দুল্লাহপুর থেকে আসমাকে গ্রেফতার করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে র‍্যাব। এরপরই আসমা র‍্যাবের কাছে পরকীয়া সম্পর্ক ও হত্যার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে আসমা আক্তারকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

এদিকে এদিন আজহারুল হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আসমা আক্তার ও মসজিদের ইমাম আব্দুর রহমানের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনুজ কুমার সরকার।  শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম নিভানা খায়ের জেসী তাদের ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে মঙ্গলবার রাজধানীর দক্ষিণখান সরদারবাড়ি জামে মসজিদের সেপটিক ট্যাংক থেকে আজহারুল ইসলাম (৪০) নামে এক গার্মেন্টকর্মীর ৭ টুকরো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় র‌্যাব মসজিদের ইমাম আব্দুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, বাসায় আসা-যাওয়ার সূত্র ধরে আজহারুলের স্ত্রীর সঙ্গে আব্দুর রহমানের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে ২০ মে মসজিদে ইমামের কক্ষে গিয়ে খুন হন তিনি। পরে তার লাশ গুম করতে সাত টুকরা করে সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল মোত্তাকীম জানান, সোমবার রাতে র‌্যাবের গোয়েন্দা দল খবর পায় সরদারবাড়ি জামে মসজিদের সিঁড়িতে রক্তের দাগ এবং সেপটিক ট্যাংক থেকে তীব্র গন্ধ ছড়াচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১ ছায়া তদন্ত শুরু করে। তখন জানা যায়, আজহারুল নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনার তদন্তের একপর্যায়ে দক্ষিণখানের মাদ্রাসাতুর রহমান আল আরাবিয়া থেকে আব্দুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ৩টি চাকু ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সরদারবাড়ি জামে মসজিদের সেপটিক ট্যাংক থেকে আজহারুলের লাশ উদ্ধার করা হয়। 

ক্রাইম ডায়রি//অপরাধ

See More

Latest Photos