এক অবাক করা খুনের ঘটনাঃ চোখে মরিচের গুড়ো ছিটিয়ে খুন করত খুনিরা

Total Views : 20
Zoom In Zoom Out Read Later Print

In a shocking murder, the killers used to kill by sprinkling chilli powder in their eyes

এক অবাক করা খুনের ঘটনাঃ চোখে মরিচের গুড়ো ছিটিয়ে খুন করত খুনিরা

In a shocking murder, the killers used to kill by sprinkling chilli powder in their eyes

এক অবাক করা খুনের ঘটনাঃ চোখে মরিচের গুড়ো ছিটিয়ে খুন করত খুনিরা

পল্লবীর চাঞ্চল্যকর সাহিনুদ্দীন হত্যার কথা মনে আছে নিশ্চয়?  এইতো ক’দিন আগের কথা। নিকট অতীতে অনেকেই এমন নির্মম হত্যাকান্ড তাও আবার প্রকাশ্যে দেখেননি নিশ্চয়। দেখেছেন ৭১ সালে যারা ছিলেন তারা। পাকহানাদারের নির্মমতাকে হার মানিয়েছে যেন।  মে ১৬, ২০২১ইং পল্লবী এলাকা। রাজধানীবাসী দেখল এক চরম নিষ্ঠুরতা। হত্যাকাণ্ডের সময় মুঠোফোনে ধারণ করা যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে তাতে দেখা গেছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে মানিক ও মনির সাহিনুদ্দিনকে রাস্তায় ফেলে উপর্যুপরি কুপিয়েছে।

আরিফুল ইসলাম কাইয়্যুমঃ

পল্লবীর চাঞ্চল্যকর সাহিনুদ্দীন হত্যার কথা মনে আছে নিশ্চয়?  এইতো ক’দিন আগের কথা। নিকট অতীতে অনেকেই এমন নির্মম হত্যাকান্ড তাও আবার প্রকাশ্যে দেখেননি নিশ্চয়। দেখেছেন ৭১ সালে যারা ছিলেন তারা। পাকহানাদারের নির্মমতাকে হার মানিয়েছে যেন।  মে ১৬, ২০২১ইং পল্লবী এলাকা। রাজধানীবাসী দেখল এক চরম নিষ্ঠুরতা। হত্যাকাণ্ডের সময় মুঠোফোনে ধারণ করা যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে তাতে দেখা গেছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে মানিক ও মনির সাহিনুদ্দিনকে রাস্তায় ফেলে উপর্যুপরি কুপিয়েছে।

৩১ সেকেন্ডে মনির ২৭টি কোপ দিয়েছে। একইভাবে মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মানিকও তাকে কোপায়। ফেসবুকের কল্যাণে যা ভাইরাল হয়েছিল। খুনে অংশ নেয়া এই কিলার অভিনব কৌশলে কিলিং মিশনে অংশ নিতেন। তারা পেশাদার কিলার মানিক ও মনির। জানা গেছে, যে কোন হত্যার আগে  টার্গেটকৃত ব্যক্তির চোখে তারা মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দিত। এতে করে সহজেই কাবু করা যায়, দৌড়ে পালাতে পারতনা ভিকটিম। আবার যদি কোনো দৈব ঘটনায় বেঁচে ও যায় যাতে  খুনিকে চিনতে না পারে।  বহু  মাত্র কয়েক হাজার টাকা পেলেই মানুষ খুন করা ছিল তাদের পেশা। বহু কিলিং মিশনের নেপথ্যে নায়ক তারা।

পল্লবী থানা ও  এলাকাবাসী সুত্র ও গণমাধ্যম সুত্রে জানা গেছে, মনির ছিল গার্মেন্ট শ্রমিক এবং মানিক এক সময় রাজমিস্ত্রির জোগালির (সহকারী) কাজ করত।। হঠাৎই তাদের পরিবর্তন হয়। জানা গেছে বিগত, ৫ বছরে তারা খুন ছাড়াও ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই এবং মাদক ব্যবসায় হাত পাকান। শুধু পল্লবী থানাতেই তাদের দুজনের বিরুদ্ধে মামলা আছে ্এক জনেরও বেশি। 

 র‌্যাব সুত্রে জানা গেছে, পল্লবী এলাকার ছাত্রলীগ নেতা সুমনের হাত ধরে কিলার হিসাবে মানিকের আত্মপ্রকাশ ঘটে। সাবেক এমপি এমএ আউয়ালের হয়ে এলাকার বিভিন্ন জমি দখলের কাজ করতেন সুমন। দখলি জমি পাহারার কাজও দেওয়া হয় মানিককে। এজন্য মানিকের সঙ্গে রানা, টিটু, বাবু, রনি, জুলহাস, হাসান, জহির ও মুরাদসহ স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী অস্ত্র হাতে ডিউটি করত। আর এভাবেই তাদের উথ্থান হয়। সাথে চলে মাদক ব্যবসা।

ইতোমধ্যে গত বছর ইয়াবাসহ পল্লবী থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার ও হয়েছিল। কিন্তু মাত্র ৩ মাসের মাথায় তাকে ছাড়িয়ে আনেন সাবেক এমপি এমএ আউয়াল। এরপর মানিক আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। সূত্র বলছে, পল্লবীর আলীনগর এলাকার বাসিন্দা সাহিনুদ্দিনের শতকোটি টাকা মূল্যের জমি দখলের চেষ্টা করছিলেন এমএ আউয়াল। কিন্তু সাহিন নিজেও স্থানীয় মাস্তান প্রকৃতির লোক হওয়ায় কাজটা সহজ হচ্ছিল না। জমিজমা নিয়ে সাহিনুদ্দিনের সঙ্গে আউয়ালের ঝামেলা বেধে যায়। এক পর্যায়ে সাহিনুদ্দিনকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়। এজন্য ১৬ মে পল্লবীর সিরামিক গলিতে দাওয়াত খাওয়ার কথা বলে সাহিনুদ্দিনকে ডেকে আনা হয়। কিন্তু দাওয়াত খাওয়ার বদলে তাকে পৃথিবী থেকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়া হয়। ধারালো রামদা দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু নিশ্চিত করে ভাড়াটে খুনি মানিক ও মনির।

পুলিশ বলছে, তাদের অভিনব কৌশল হিসেবে খুনের আগে তারা সাহিনুদ্দিনের চোখে মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করে। যাতে তিনি খুনিদের চিনতে না পারেন। খুনের আগে ঘটনাস্থলে বস্তাভর্তি অস্ত্র আনেন সুমন। মানিকের হাতে বড় একটি রামদা তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া কিলার হাসানের হাতে বড় ছোরা, মনিরের হাতে নেপালি ড্যাগার, মুরাদ এবং ইকবালের হাতে ছিল চাপাতি। সাহিনকে কোপানো হয় তার ৭ বছরের শিশু সন্তানের সামনে। প্রথম কোপের আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এরপর অন্য কিলাররা পালিয়ে গেলেও মানিক এবং মনির শেষ পর্যন্ত কুপিয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। পুলিশ বলছে, মানিক হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। স্থানীয় নেতাদের জমিজমা দখলের হাতিয়ার ছিল এই ভাইয়া গ্রুপ।

মানিকের স্ত্রী আফিয়া বেগম সাংবাদিকদের বলেন, মানিক  তেমন কোনো কাজকর্ম করতে চাইত না। আর তার লেখাপড়াও খুব সামান্য। ক্লাস ফাইভ পাশ।  সুমনের সঙ্গে পরিচয়ের পর ওরা একসাথে চলত। ওরা ছিল  ভাদাইম্যা স্বভাবের।  মানিকেরা  ৩ ভাই ও এক বোন । সোহেল নামের এক ভাই পল্লবীতেই প্রাইভেট কারের ড্রাইভার, সুজন এবং নয়ন নামের দুভাই গার্মেন্টে চাকরি করে। মানিকের পিতা মোহাম্মদ খোকন কয়েক বছর আগে মারা যান। জন্মসূত্রে এরা ঢাকার পল্লবীতে বেড়ে ওঠে।

অন্যদিকে ভাড়াটে অন্য কিলার মনির  গার্মেন্ট শ্রমিক হিসাবে চাকরি করে সংসার চালাতেন। প্রেম করে বিয়েও করেন। তার দেড় বছরের একটি সন্তান রয়েছে। স্পট নামের একটা গার্মেন্টসে দুজনে একসময় চাকরি করত সে। প্রেমের করে বছর পাচেক আগে বিয়ে করে।   ৪-৫ বছর আগে মনিরের সঙ্গে স্থানীয় সন্ত্রাসী সুমনের পরিচয় হওয়ার পর সবকিছু দ্রুত ওলটপালট হয়ে যায়। হাভেলী প্রপাটির মালিক সাবেক এমপি এমএ আউয়ালের জমি পাহারা দেওয়ার কাজ পায় মনির।

সাহিনুদ্দিন হত্যাকাণ্ডের পর সে পালালেও  ২২ মে, ২০২১ইং   রাতে ডিবির সঙ্গে ক্রসফায়ারে তার নিহত হওয়ার খবর আসে। ২০২১ ইং এর ২৩ মে  মনিরের লাশ সারাদিন পড়েছিল ঢাকা মেডিকেলের মর্গে। ময়নাতদন্তের পর রোববার রাত ৯টায় লাশ নিয়ে যাওয়া হয় কালশী কবরস্থানে। দাফনে অংশ নেন ১০-১৫ জন। যাদের বেশিরভাগই নারী এবং কয়েকজন কিশোর। কবরস্থানে বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের সাথে  কথা বলেন তার স্ত্রী সীমার। দেড় বছরের সন্তান কোলে তিনি কবরস্থানে আসেন।

পল্লবী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী সাংবাদিকদের  জানান,মানিক ও মনির দুজনের কিলার হয়ে ওঠার পেছনে প্রভাবশালীরা জড়িত। জমিজমার দখলে তারা ভাড়াটে হিসাবে কাজ করেছে। অশিক্ষিত দুই কিশোর হঠাৎ করেই অস্ত্র হাতে পেয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তারা একাধিকবার গ্রেফতার হলেও জেল থেকে বেরিয়েই ফের অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে।

তিনি জানান, খুনের পেছনে প্রকাশ্যে ভূমিকা রাখা সুমনকেও পুলিশ ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া সাবেক এমপি এমএ আউয়াল রিমান্ডে আছেন। তথ্য পাওয়া সাপেক্ষে সকল গডফাদারের অপকর্মের  ইতিহাস উম্মোচিত হোক এমনটাই দাবী এলাকাবাসীর। পরিচ্ছন্ন ও দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা কাজী ওয়াজেদ আলীর নিকট এমনটাই প্রত্যাশা করছেন এলাকার সুশিল সমাজ।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম

See More

Latest Photos