• শুক্রবার (রাত ৮:৪৯)
    • ১৪ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ঢাকার বাহির হতে শ্রমিক আসতে নিষেধাজ্ঞাঃ সীমিত আকারে খুলছে গার্মেন্টস

আরিফুল ইসলাম কাইয়্যুম,মহানগর প্রতিনিধিঃ

দেশের চাকা চলতে হলে অর্থও প্রয়োজন। তাই অর্থের বৃহৎ সেক্টর গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী গুলো স্থানীয় ও গার্মেন্টস গুলোর পাশে বসবাসরত শ্রমিক দিয়ে সীমিত আকারে খুলে দেয়া হচ্ছে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, এই মুহূর্তে ঢাকার বাইরে থেকে গার্মেন্টস কর্মী আসতে পারবে না। মঙ্গলবার সচিবালয়ে পোশাক কারখানার মালিকপক্ষের সাথে সভা শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। ঢাকার ভেতরে অবস্থানরত শ্রমিক দিয়েই সীমিত আকারে পোশাক কারখানা চালাতে হবে বলে তিনি জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঢাকায় অবস্থানরত শ্রমিক দিয়ে সীমিত আকারে গার্মেন্টস চালানো হচ্ছে বলে মালিক পক্ষ জানিয়েছেন। সীমিত আকারে গার্মেন্টস খোলা রাখা বিষয়ে মালিক পক্ষ বলেছেন স্বাস্থ্যবিধি মেনেই তারা গার্মেন্টস খোলা রেখেছেন।’

ক্রাইম ডায়রি// জাতীয়//সুত্র// : ইউএনবি

Total Page Visits: 61636

দেখার কি কেউ নেইঃ দাপুটে নেতার কড়াল থাবায় নারী স্বাস্থ্যকর্মী

মিয়া মোহাম্মদ হেলাল, ক্রাইম ডায়রির   বিশেষ প্রতিনিধি, লন্ডন  হতেঃ

ঢাকার ইমপালস হাসপাতালে চাকরি করতেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের লগন্ডা গ্রামের নারী স্বাস্থ্যকর্মী। করোনা ভাইরাসের কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ছুটি দিয়ে দেয়। ছুটিতে গত মঙ্গলবার তিনি বাড়িতে আসেন। বাড়িতে আসার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাদুল্লাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রশান্ত বাড়ৈর নির্দেশে এলাকাবাসী এই নারী স্বাস্থ্যকর্মীকে তার বাড়ির প্রায় ৪০০ মিটার দূরে একটি নির্জন স্থানে পুকুরের ভেতর তালপাতা দিয়ে ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে তাকে কোয়ারেন্টাইনে রাখে। প্রায় ১ সপ্তাহ ধরে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে এই নারী স্বাস্থ্যকর্মী ওখানে অবস্থান করছেন।

ভুক্তভোগী ওই নারী স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, আজ প্রায় এক সপ্তাহ ধরে আমি এখানে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে মানবেতর জীবনযাপন করছি। একজন স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে আমি অনেক মানুষকে সেবা দিয়েছি। আর আজ এখানে থেকে আমার স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে।

ওই স্বাস্থ্যকর্মীর মা বলেন, আমার স্বামী নেই। আমার এই মেয়েটার আয়ে আমার সংসার চলে। আমার মেয়েটির এখনও বিয়ে হয়নি। তাকে এভাবে একটি পুকুরের মধ্যে ঝুপড়ি ঘরে রাখা হয়েছে। আমার মেয়েটির যদি কিছু হয়ে যায় তাহলে এর দায় কে নেবে ? এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা প্রশান্ত বাড়ৈ চাপ সৃষ্টি করে আমার মেয়েটিকে এখানে রেখেছে।

প্রশান্ত বাড়ৈ দের দেখার মত কি কেউ নেই ? আমি মনে করি এটা কোয়ারেন্টাইন নয়, প্রশান্ত বাড়ৈ’র ব্যাক্তিগত জিঘাংসা। অবিলম্বে প্রশান্ত বাড়ৈ কে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।

***মিয়া মোহাম্মদ হেলাল

(লেখক, যুক্তরাজ্য প্রবাসী-মুক্তচিন্তার মূর্তপ্রতীক,দেশপ্রেমিক, আওয়ামী অনলাইন এক্টিভিস্ট, আওয়ামীলীগ গবেষক,  বঙ্গবন্ধু ও শেখহাসিনার  সূর্য সৈনিক,বাংলা ডায়রি মিডিয়া লিঃ এর উপদেষ্টা ।।।)

Total Page Visits: 61636

লাশের সারি বাড়ছেঃব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যুঃ আমরা জাগব কবে???

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, ২৬ এপ্রিল ২০২০ ইং রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৫ জন হয়েছে। গত এক দিনে সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরও ৯ জন। এ পর্যন্ত মোট ১২২ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা রোববার দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ২ জন নারী। তাদের ৪ ছিলেন রাজধানীর বাসিন্দা, আরেকজনের বাড়ি ঢাকার দোহারে। যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে একজনের বয়স ৬০ বছরের বেশি; ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী তিন জন। এছাড়া দশ বছরের কম বয়সী এক শিশুও আছে মৃতদের মধ্যে।

নাসিমা সুলতানা বলেন, “যে শিশুটি মারা গেছে, তার নেফ্রটিক সিনড্রোম, কিডনির অসুস্থতা ছিল। তারপরে তার কোভিড পজিটিভ হয়েছে।”

বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৩৬৮০টি, তার মধ্যে পরীক্ষা হয়েছে ৩ হাজার ৪৭৬টি নমুনা।

কোভিডি-১৯ আক্রান্তদের মধ্যে যারা সুস্থ হয়ে উঠেছেন, তাদের তথ্য জানাতে গিয়ে নাসিমা সুলতানা বলেন, “আমাদের বেশিরভাগ আক্রান্ত ব্যক্তি বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নেন। তারা সুস্থ হয়ে গেলে সে তথ্যটা এখানে আমরা দিই না। যারা হাসপাতাল হয়ে বাসায় যান, তাদের তথ্যটাই দিই। ”

একটা বিষয় এখানে পরিস্কার বন্ধ রাখলেই সব কিছুর সমাধান হয়ে যাচ্ছেনা। যদি না প্রতিটি নাগরিক নিজ হতে হোম কোয়ারেন্টাইন বিধি মেনে না চলেন। সব কিছু বন্ধ রাখা হলো আর আমরা নিজেরা সেই বিধি যথারীতি অমান্য করে চললাম। তাতে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই হচ্ছে কিন্তু যে জন্য বন্ধ রাখা হলো সেই উদ্দেশ্য সফল হবেনা। সুতরাং নিজ জীবনের মায়া যদি ব্যক্তি পর্যায়ে তৈরি না হয় তবে বন্ধ রাখলেই কি আর খোলা রাখলেই বা কি? তবুও সার্বিক লকডাউন জরুরী ছিল যা সরকারের তরফ হতে করা হয়েছে। এখন বাকী দায়িত্ব জনগনের । যে মৃত্যু তার স্বজনদেরও এমনকি স্ত্রী সন্তানকেও কবরস্থ করা সুযোগ দেয়না। সেই মর্মান্তিক মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে চাইলে এখনও সময় আছে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সামাজিক দুরত্ব মেনে চলুন। সমষ্টিগত  লকডাউনই পারে করোনা ঝুঁকি হতে জাতিকে মুক্তি দিতে।।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বেসরকারি এক ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। ওই কর্মকর্তা সিটি ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগে এফভিপি ছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৪০ বছর। তার সংসারে স্ত্রী ও এক মেয়ে রয়েছে।

মুগদা হাসপাতালের অধ্যক্ষ (চলতি দায়িত্ব) ডা. শাহ গোলাম নবী সাংবাদিকদের বলেন, এই হাসপাতালে দুইজন মারা গেছেন। তবে ওই ব্যক্তি ব্যাংক কর্মকর্তা কিনা তা কাগজে লেখা নাই।

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোভিড-১৯ বিষয়ক টিমের ফোকাল পার্সন সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ওই ব্যক্তি করোনাভাইরাসের রোগী ছিলেন। আজ (রোববার) সকাল ১০টায় তার মৃত্যু হয়েছে।

দেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে লকডাউনের মধ্যেও ব্যাংক খোলা রয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন ব্যাংকার আক্রান্তও হয়েছেন। তবে মৃত্যুর ঘটনা এটাই প্রথম।

সিটি ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, কয়েকদিন ধরে ওই কর্মকর্তা সর্দি-কাশি এবং জ্বরে ভুগছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শে দুই বার তিনি নমুনা পরীক্ষা করিয়েছিলেন। তবে দুবারই ‘নেগেটিভ’ আসে। চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি।

অসুস্থতা বাড়লে শনিবার সকালে আবারও মুগদা হাসপাতালে যান ওই ব্যাংক কর্মকর্তা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শাহরিয়ারকে ভর্তি করে নেন। নমুনা আবার পরীক্ষা করে করোনাভাইরাস ‘পজিটিভ’ আসে।

সিটি ব্যাংকের ওই কর্মকর্তাকে হাসপাতালে ভর্তির পরই মোবাইল ফোনে তার পরিবারকে কল করে তার সঙ্গে দেখা না করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। মৃত্যুর পর তার পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে থাকতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই কর্মকর্তার লাশ স্বজনদের কাছে দেওয়া হয়নি। সিটি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর না করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিধি অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রাজধানীর তালতলা কবরস্থানে দাফন করে।

ক্রাইম ডায়রি///

Total Page Visits: 61636

বিশ্বব্যাপী মৃত্যু ২ লাখ ছাড়ালোঃ বাংলাদেশে ৩২৪ জন চিকিৎসক আক্রান্ত

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃ

সারাবিশ্বে মহামারী করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ২ লাখের ও বেশি।  আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ডওমিটারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টার দিকে এ সংখ্যা ছাড়িয়ে যায়। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে ২১০ দেশটি দেশে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে।

সারাদেশে করোনাভাইরাসে আজ পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মোট ৩২৪ জন চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন। অনেকে বলছেন যেখানে চিকিৎসকরাই আক্রান্ত তাতে নতুন করে জনগনকে এর ভয়াবহতার ব্যাপারে বলার আর কিছুই নেই। যে চিকিৎসকদের চিকিৎসায় তারা ভাল হবার আশা করে বসে আছেন সেখানে চিকিৎসকরাই আক্রান্ত ; লকডাউন মেনে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে ঘরে থাকার ব্যাপারে এর চেয়ে বড় মেসেজ আর কি হতে পারে??

 

এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্তদের মধ্যে ৮ লাখ ১৯ হাজারেরও বেশি মানুষ সুস্থ হয়েছেন। যা শতকরা হিসেবে ৮০ ভাগ

করোনায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ইউরোপ ও আমেরিকার মানুষ। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৯ লাখের বেশি। আর করোনায় যে ২ লাখ মানুষ মারা গেছে তার এক চতুর্থাংশ অর্থাৎ ৫২ হাজারে বেশি মানুষ মারা গেছে যুক্তরাষ্ট্রে। একদিনে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর দিক দিয়েও দেশটিরে ধারে কাছে কেউ নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের পর করোনায় মৃত্যুতে শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ ইউরোপের। ইতালিতে ২৬ হাজার ৩৮৪, স্পেনে ২২ হাজার ৯০২, ফ্রান্সে ২২ হাজার ২৪৫, যুক্তরাজ্যে ২০ হাজার ৩১৯, বেলজিয়ামে ৬ হাজার ৯১৭, জার্মানিতে ৫ হাজার ৮০৫ ও নেদার‍ল্যান্ডসে মারা গেছে ৪ হাজার ৪০৯ জন।

চীনে প্রাদুর্ভাব শুরু হলেও দেশটিতে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা এখন ৪ হাজার ৬৩২। তবে এশিয়ায় ৫ হাজার ৬৫০ মৃত্যু নিয়ে চীনের উপরে রয়েছে ইরান। তুরস্কে মারা গেছে ২ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ। এদিকে আক্রান্তের দিক দিয়ে চীন ও ইরানের উপরে রয়েছে তুরস্ক। দেশটিতে এখন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৫ হাজার প্রায়।

এদিকে ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, জাপান ও বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে করোনায় সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে শুরু করেছে। তবে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং ও তাইওয়ানের মতো দেশ ও অঞ্চলগুলোতে সংক্রমণ অনেক কম।

যুক্তরাষ্ট্র সবার শীর্ষে—

এদিকে আক্রান্ত, মৃত ও সুস্থ তিনক্ষেত্রেই শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া সবচেয়ে টেস্টও বেশি হয়েছে দেশটিতে।

ওয়ার্ল্ডোমিটার্সের তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ৯ লাখ ২৯ হাজারেরও বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে দেশটির ৫২ হাজারেরও বেশি মানুষ এ ভাইরাসে মৃত্যুবরণ করেছেন। আর সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ। আর দেশটির ৫০ লাখ ৭৬ হাজারেরও বেশি মানুষকে করোনা টেস্ট করা হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৪১ জনে। আর নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৩০৯ জন। এ নিয়ে সর্বমোট আক্রান্ত চার হাজার ৯৯৮ জন।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো করোনা রোগী সুস্থ হয়নি। ফলে সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা ১১২ জনই রয়েছে।

শনিবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৪২২ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩৩৭ জনের পরীক্ষা করা হয়েছে।

সারাদেশে করোনাভাইরাসে আজ পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মোট ৩২৪ জন চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন।

চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশনের (বিডিএফ) প্রধান ডা. নিরুপম দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মোট আক্রান্ত চিকিৎসকদের ২৫৫ জনই ঢাকার। এদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালের ১৬৩ জন, বেসরকারি হাসপাতালের ৭৬ জন এবং বাকি আরো ২০ জন চিকিৎসক রয়েছেন।

এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে ২৬ জন, চট্টগ্রামে বিভাগে ১২ জন, খুলনা বিভাগে সাতজন, বরিশালের আট জন, সিলেটে দুজন এবং রংপুর বিভাগের তিনজন চিকিৎসকের মধ্যে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত করা গেছে।

এক্ষেত্রে চিকিৎসকদের জন্য উন্নতমানের সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই),মাস্ক এবং সেফটি চশমার বিকল্প নেই বলে জানান সংগঠনটির প্রধান ডা. নিরুপম দাস।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

 

Total Page Visits: 61636

চায়না হতে আসা ‘ভাইরাস শাট আউট’ নামের ভূয়া প্রোডাক্টস বিক্রেতা ডি এমপির জালে বন্দী

মোঃ হেলাল উদ্দিনঃ
ভাইরাস নিয়েও চলছে দুর্নীতি। কেউবা ব্যস্ত ভাইরাসের কারনে প্রদত্ত ত্রাণের চাল চুরি নিয়ে আবার কেউবা ব্যস্ত ভাইরাস ঠেকানোর ভূয়া ঔষধ বিক্রি নিয়ে। সম্প্রতি, করোনা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ভূয়া ঔষধ বিক্রেতা ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনের তৎপরতায় গ্রেফতার হয়েছে। আবার সম্প্রতি, ‘ভাইরাস শাট আউট’ যা একবার গলায় পরলে করোনা ভাইরাস নাকি একমাস পর্যন্ত তিন ফুটের মধ্যে আসতে পারে না। G Mama নামের একটি অনলাইন পেইজে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এমন একটি প্রোডাক্ট বিক্রি করছিলেন টিপু সুলতান নামের এক ব্যক্তি। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে অনেকে বিশ্বাস করে ওই প্রোডাক্ট কিনতেও শুরু করে। কিন্তু বিধি বাম। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের চৌকস কর্মকর্তাদের তৎপরতার কারনে বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি অপরাধী। যে কোন অবস্থায় রাজধানীবাসীকে প্রতারণা চক্রের হাত থেকে নিরাপত্তা দেবার মানসে তৎপর ডি এমপি’র সাইবার অপরাধ টিমের অনুসন্ধান অনুযায়ী  বিগত ১৯ এপ্রিল, ২০২০ইং  নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে বিকাল অনুমান পাঁচটায় রমনা জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার এস, এম, শামীম এর নেতৃত্বে একটি দল মৌচাক মার্কেটের সামনে থেকে এই ‘ভাইরাস শাট আউট’ প্রোডাক্ট বিক্রেতা টিপু সুলতান (৩৫) কে গ্রেফতার করে। তার হেফাজত হতে ৫০ পিস ‘ভাইরাস শাট আউট’ প্রোডাক্ট জব্দ করে রমনা মডেল থানা পুলিশ।
‘ভাইরাস শাট আউট’ যা একবার গলায় পরলে করোনা ভাইরাস নাকি একমাস পর্যন্ত তিন ফুটের মধ্যে আসতে পারে না। G Mama নামের একটি অনলাইন পেইজে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এমন একটি প্রোডাক্ট বিক্রি করছিলেন টিপু সুলতান নামের এক ব্যক্তি।

 ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরে তাকে  ভোক্তা অধিকার আইনের ৪৪ ধারায় তাকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করেন।

প্রতারক জানায় সে চায়না থেকে ডিএইচএল এর মাধ্যমে এই প্রোডাক্টস এনেছে। এই প্রোডাক্ট ইতোমধ্যে হংকং, চায়না, ভিয়েতনাম, আমেরিকাতে ব্যান করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি ছাড়া সে এটা এনেছে যা আসলে করোনা প্রতিরোধে কোন ভূমিকা রাখেনা। সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের কোন ঔষধ আবিস্কার না হওয়ায় বহু বিখ্যাত ডাক্তাররাও এতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যবরন করেছেন। সুতরাং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা ছাড়া কোন ধরনের প্রতারকের খপ্পরে পড়ে প্রতারিত না হতে জনগনের প্রতি আহবান জানিয়েছে ডি এমপি।

ক্রাইম ডায়রি///অপরাধ জগত//ক্রাইম//রাজধানী

Total Page Visits: 61636

পথশিশুরা করোনা সংক্রমনের চরম ঝুঁকিতেঃদ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃ

সারাবিশ্ব যখন লকডাউন ভয়ে কুকড়ে যখন মানুষ মনুষ্যত্ব হারিয়ে দিকবিদ্বিক শুন্য হয়ে পড়েছে,যখন হাজার বছরের প্রতিবেশি কিংবা রক্তের বাঁধনের পরম আত্বীয়ের করোনা সন্দেহে মৃত্যুর লাশও তারা মাটি দিতে নারাজ তখন পথ ‍শিশুর খবর নেয় কে??? নিজের শিশুর মৃতদেহ যখন সৎকারে মানুষের অনীহা তখন তাদের মনে পথ শিশুর প্রতি ভালবাসা জাগবে কি?? কলেরার মত মহামারী যেখানে না ছিল ডাক্তার বৈদ্য, না ছিল চিকিৎসা পদ্ধতি । কিন্ত মানুষের বিবেক ছিল তখন, মানুষ মানুষকে ফেলে যায়নি। অন্ততঃ কবরস্থ হয়েছে। আর চরম আধুনিকতার যুগে যখন মানুষ সতর্ক হয়ে পথ চললেই বেঁচে যায়,যখন অন্ততঃ ডাক্তার কবিরাজ আছে,চিকিৎসা আছে, হাসপাতাল আছে সেই যুগেই কিনা মানুষ চিরপরিচিত গ্রামবাসীর লাশ কবরস্থ করার জন্য খাঁটিয়া দেয়না এমনকি অবোধ শিশুও খাঁটিয়া পায়না।

চলার পথে আমরা অনেক মানুষ দেখতে পাই। এখানে কেউ উচ্চবিত্ত, কেউ মধ্যবিত্ত, কেউবা আবার নিম্নবিত্ত। আর এই নিম্নবিত্ত পরিবার থেকেই পথশিশুর জন্ম। আমাদের দেশের অলিতে-গলিতে অনেক পথশিশু আছে যাদের কারো বাবা নেই, কারো মা নেই কিংবা কারো পরিবারের কেউ অসুস্থ। আর এই পথশিশু গুলো তখন নিজেরাই পরিবারের বোঝা বহন করে। দারিদ্র্যের কষাঘাত সহ্য করতে না পেরে কেউ ইট ভাটায় কাজ করে, কেউ গাড়ির হেল্পারি করে, কেউ টুকায়, কেউ ভিক্ষা করে, কেউবা চুরি করে। সমাজে এরা লেখাপড়া ও অনন্য সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাচ্ছে না সঠিক পথের দিশা।

যে বয়সে আমরা পড়াশুনা করি, বন্ধুদের সাথে খেলাই মত্ত থাকি সে বয়সে এই পথশিশুরা বেঁচে থাকার উপকরণ খুঁজে। পড়ালেখা করে যে বিবেকবোধ আমরা তৈরি করতে পারিনা, পথের ধুলোয় অদ্ভুত ভাবে বেড়ে উঠার মাঝেও তারা নিজেদের বিবেকবোধ তৈরি করে নেয়।

 

নিজের শিশুর মৃতদেহ যখন সৎকারে মানুষের অনীহা তখন তাদের মনে পথ শিশুর প্রতি ভালবাসা জাগবে কি?? কলেরার মত মহামারী যেখানে না ছিল ডাক্তার বৈদ্য, না ছিল চিকিৎসা পদ্ধতি । কিন্ত মানুষের বিবেক ছিল তখন, মানুষ মানুষকে ফেলে যায়নি। অন্ততঃ কবরস্থ হয়েছে। আর চরম আধুনিকতার যুগে যখন মানুষ সতর্ক হয়ে পথ চললেই বেঁচে যায়,যখন অন্ততঃ ডাক্তার কবিরাজ আছে,চিকিৎসা আছে, হাসপাতাল আছে সেই যুগেই কিনা মানুষ চিরপরিচিত গ্রামবাসীর লাশ কবরস্থ করার জন্য খাঁটিয়া দেয়না এমনকি অবোধ শিশুও খাঁটিয়া পায়না।

যে বয়সে আমরা ভাবতাম স্কুলে যেয়ে টিফিনে কি খাব, কার পাশে বসবো, স্যারের কোন হোমওয়ার্ক আছে কিনা। আর এই পথশিশুরা ভাবে রোজ সকালে কোন রাস্তায় ভিক্ষা করলে বেশি টাকা পাবে। ৫০ টাকা আমাদের একদিন মোবাইল খরচ যায় আর ওদের পরিবারের সবাই মিলে একবেলা খাওয়া হয়ে যায়। জীবন একটা, স্রষ্টা একটা অথচ কত পার্থক্য!

যেখানে আমাদের উচিত তাদের দেখাশুনা করা উল্টা আমরা অহংকার করি। গরীব দের মানুষ ভাবিনা। আবার কখনো তাদের গায়ে হাত তুলি। কাছে আসলে রুমাল নাকে দিই। আমাদের ভাব ভঙ্গি এমন যে আজ আমাদের যা ভালো পজিশন এর ক্রেডিট আমাদের। আল্লাহ চাইলে আমাদেরকে এমন পরিস্থিতির সমক্ষিণ করতে পারতো, তাদের জায়গায় নিজেকে ভাবলে কেমন বোধ হবে! নিম্নবিত্ত এই মানুষ গুলোর জীবন বৈচিত্রের সাথে তুলনা না দেওয়া পর্যন্ত সত্যিই বুঝিনা আমরা কতটা সুখে আছি, কতটা ভাল আছি।

আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এই সুবিধা বঞ্চিত শিশুরাও চাই মানুষের মতো মানুষ হতে। তারাও চাই আমাদের মতো পড়াশুনা করতে। অন্য ৮/১০ টা শিশুর মতো তারাও হাসি খুশি থাকতে চাই। তাদের অনেক স্বপ্ন থাকে। তাদের প্রতিভা বিকশিত করার সুযোগ পাচ্ছে না বলে আজ তাদের প্রতিভাগুলো চাপা পড়ে যায়। তাই কখনো এই সব ছোট পথ শিশুদের গায়ে হাত তুলবেন না, নাকে রুমাল দিয়ে তাদের কে তাড়িয়ে দিবেন না, তাদেরই সমবয়সী আমাদের ও ভাই-বোন, ছেলে-মেয়ে আছে। তাদের প্রতি আমাদের মানবিক চিন্তা থাকা উচিত। তারা আমাদের মুখের দিকে চেয়ে থাকে শুধুমাত্র দু’মুঠো ভাতের জন্য। তাদের জন্য কিছু করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সব মানুষ যখন ঘরে, তখন ঘরহীন পথশিশুরা দল বেঁধে ঘুরছে, খেলছে। রেলস্টেশন বাস টারমিনাল, কোনো ভবনের নিচে জটলা করছে, পাশাপাশি ঘুমাচ্ছে।

সুত্র জানায়,করোনাভাইরাসরে কবলে সারা বিশ্ব এখন একটা বদ্ধঘর। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বের হচ্ছে না। করোনা আক্রান্ত অঞ্চলকে জরুরি ভিত্তিতে লকডাউন করতে বলা হচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা (ইউনিসেফ) থেকে। ইতোমধ্যে লকডাউনে নানা দেশ। বাংলাদেশের অর্ধেক জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা লকডাউনের কবলে। কিন্তু করোনার লকডাউনে কতটা সুরক্ষিত দেশের ছিন্নমূল পথশিশুরা।

শিশুদের নিয়ে কাজ করছেন এমন ব্যক্তিরা বলছেন, এরা নিজেরা যেমন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে, তেমনি এদের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন, বিমানবন্দর রেলস্টেশন, সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড, রমনা পার্কসহ বিভিন্ন স্থানে পথশিশুদের জটলা করে খেলতে কিংবা আড্ডা দিতে দেখা গেছে। তবে সবকিছু বন্ধ বলে নিয়মিত খাবার জুটছে না তাদের।

 

একটি জাতীয় দৈনিকের অনলাইন ভার্সনে একজন পথশিশুর সাক্ষাতকার নেয়া হয়েছে।

কমলাপুরের পথশিশুটির নাম শাহিন। সে জানায়, স্টেশনে কুলির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। এখন কোনো কাজ নইে। করোনাভাইরাস সম্পর্কে জানতে চাইলে শাহিন বলে, শুনছি কি একটা রোগে সব অফিস বন্ধ কইরা দিছে। আমরা তো না খাইয়া মরতাছি, কোনো কামকাজ নাই। না খাইয়া মরুম।

শাহিনের সঙ্গে বসে থাকা পলাশের কাছে করোনাভাইরাস কিছু না। এই রোগের বিপদ সম্পর্কে জানালে সে বলে, স্যার আমগো মরণ নাই।

নিজের প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে  রায়েরবাগ বসে ছিলেন হোসনে আরা। করোনাভাইরাস বিষয়ে জিজ্ঞাস করলে হোসনে আরা জানান, টাকা দিবেন? দিলে কথা কমু। সারাদিন চাইর আনা পয়সাও কেউ দেয় নাই।’ দশ টাকার একটা নোট তাকে দেওয়ার পর তিনি বলেন, আমরা কিছুই জানি না। শুধু হুনছি বিদেশ থেইকা মানুষ নাকি কি একটা রোগ নিয়া আইছে এইডা সবার হইতেছে।’

একটি পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে পথশিশুর সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পথশিশুদের সংঘবদ্ধ চলাফেরা ও রাতযাপনের কারণে করোনাভাইরাসের বাহক হিসাবে খুব ঝুঁকির মধ্যে আছে এরা। সংক্রমণ ঠেকাতে এই পথশিশুদের নিরাপদ স্থানে রাখার পরামর্শ তাদের।

সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, পথশিশুদের সংক্রমণের হার কম। কিন্তু সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ঝুঁকিতে আছে এরা। এরা ভাইরাসটির বাহক হিসেবে কাজ করতে পারে। কেননা এই সম্পর্কে তাদের কোনো জ্ঞান নেই। ফলে এদের মাধ্যমে সংক্রমণ দ্রুত ছড়াতে পারে। নিজেদের কমিউনিটিতে এরা ঝুঁকি তৈরি করবে। এরা দলবদ্ধভাবে বসবাস করে, রাতের বেলা একসঙ্গে থাকে।

সরকারের বাজেটে পথশিশু পুনর্বাসন কার্যক্রম আছে। অন্তত মেগা সিটিগুলোতে যে শিশুরা আছে তাদের জন্য করোনায় বিশেষ সুরক্ষার ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে মনে করেন সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের পরিচালক। পাশাপাশি বেসরকারি সংগঠন ও এনজিওগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

এখন স্কুল-কলেজ বন্ধ। পথশিশুদের আশ্রয় হিসেবে অস্থায়ীভাবে সেগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে। এলাকাভিত্তিক এটা করা সম্ভব। স্বেচ্ছাসেবী পাওয়া যাবে,বিভিন্ন এলাকার মানবিক মানুষেরা যেমন এগিয়ে আসবে তেমনি পাওয়া যাবে এলাকাবাসীর সহযোগীতা। অবকাঠামো প্রস্তুত, শুধু সঠিক পরিকল্পনা দরকার।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণপূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মো. মোজাহেরুল হক বলেন, করোনা মহামারিতে সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ছিন্নমূল মানুষ। তারা গাদাগাদি করে অনেকে একসঙ্গে থাকে। বস্তির রাস্তাগুলো অনেক সরু হওয়ায় তাদের একজন অপরজনের শরীরের সংস্পর্শে আসতেই হচ্ছে।

দেশে যে হারে সংক্রমন বাড়ছে এমতবস্থায় কোন ঝুঁকি নেয়ায় সরকারের সমীচিন নয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

ক্রাইম ডায়রি///জাতীয়

Total Page Visits: 61636

কখন হবে শাটডাউনঃএকটি প্রানের যেমন দাম আছে তেমনি একজন বেপরোয়া আক্রান্তেও ভয় আছে

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃ

মানবিকতা থাকলেও কঠোরতা এখন সময়ের দাবী হয়ে উঠেছে। কোন সন্তান যদি ভাল মন্দকে গুরুত্ব না দিয়ে মন্দকাজের দিকে ধাবিত হয়ে তখন বাবারা কিন্ত শাসনের লাঠিকেই ব্যবহার করেন। তখন সেই সন্তানের বিষয়টি খারাপ লাগলেও আখেরে কিন্ত ভালই হয়। আমরা যেমন জীবনে মাঝখানে এসে বলি আহহা! আব্বা যা করেছেন তা কত্ত ভাল ছিল। আমিই তো ভুল পথে ছিলাম। অনেককে এমন বলতেও শোনা যায়, ”আহারে বাপজান কত পড়তে কইছে হুনি নাই, আজ যদি হুনতাম তয় কত বালাই না অইত।” তাই সময়ের শাসন সময়ে ভাল মনে না হলেও অসময়ে তা ভাল হয়েই দেখা দেয়। এখন সময় এসেছে শাসনের লাঠি হাতে নেবার। পারিপাশ্বিক অবস্থা হতে শিক্ষা নেবার। ঠিক কি করলে আর কি বললে সবার চেতনা ফিরবে তা বোঝা দুষ্কর।ভয়াবহ ব্যাপার হলো গ্রামের মানুষের হেয়ালি।কিছুই হবেনা বলা। মাস্ক কিংবা গ্লভস কিংবা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এই কাজটা উচ্চশিক্ষিত পরিবারেই করতে পারিনি।।। হু হু করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা।।যেমনটি ঘটেছিল ইতালি ও আমেরিকায়। প্রথমত মানুষকে বোঝানোই যায়নি।।এরপরের মাসে এক ঝটকায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে গেল হুহু করে।পরের মাসের ঘটনা তো আমরা জানিই।এখন সেখানে শুধু মৃত্যুর মিছিল।। মানুষ ইতিহাস হতে,ঘটনা হতে শিক্ষা নিবে এটাই প্রাকৃতিক রীতি।মহান আল্লাহতায়ালা তার বান্দাদেরকে এজন্যই জ্ঞান অর্জনের তাগিদ করে ফরজ করে দিয়েছেন। কোরআনে অসংখ্য ঘটনার বর্ননা করেছেন যাতে সেই ঘটনাগুলো হতে মানুষ শিক্ষা নেয়।।। আমরা কিন্তু মহান মাবুদের নির্দেশনাও মানতে নারাজ।। পারিপার্শ্বিক অবস্থা হতে শিক্ষা না নিয়ে গাঁয়ের কেলু করছি।।সারাদেশে প্রশাসনের নির্বাহী কর্মকর্তারাও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।এক/দুজন মৃত্যু বরনও করেছেন।।সচেতন তারাও কিন্তু কম নন।।

 

***জাপানে জরুরি অবস্থা তুলে নেয়ার ২৬দিনের মাথায় আবারো জরুরি অবস্থা জারি করতে বাধ্য হয় তারা।

*** চীনে আবার ও হঠাৎ করে বাড়ছে লাশের সারি।।

 

আজ ২০ এপ্রিল পর্যন্ত রাজধানী বাসীকেও মোটেও বোঝানো সম্ভব হয় নাই লকডাউন মেনে চলতে। একটি প্রানের যেমন দাম আছে তেমনি একজন বেপরোয়া আক্রান্তেও ভয় আছে। ম্যাসাকার করার জন্য ঐ একজনই যথেষ্ট।  কোন ভাবেই যেন ওদের বোঝানো যাবেনা। মরলেও এরা বিশ্বাস করতে চায়না।দেখতে চায় কবরে ফূচকি দিয়ে যে সত্যই কাউকে দাফন করা হলো কিনা?

রাজধানীবাসী কয়েকদিনে এত্ত বেপরোয়া হয়েছে যে আপনি তা কল্পনাও করতে পারবেন না। আর যদি অভাবের কথা বলেন, তবে আমার সম্পূর্ন একক মত আছে। আর তা হলো বাংলাদেশে ফকিরদেরও একদুইমাস চলার সামর্থ্য আছে। কিন্ত অসীম লোভের ও জমানোর মানসিকতার কারনে আমাদের দ্বারা  ঘরে থাকা সম্ভব নয়। বহু লজিক আছে যা এখন এই প্রেক্ষাপটে না বলাই শ্রেয়। তবুও ঘরে থাকা নিজ জীবনের স্বার্থে এখন সময়ের দাবী। বেঁচে যদি থাকেন কাজের বহু সময় পাবেন। আর আক্রান্ত হলে নিজে তো যাবেনই পুরো পরিবার নিয়ে যাবেন। আর যদি কেউ থাকে তাকে কানা করে রেখে যাবেন। সুতরাং ঘরে থাকুন। কয়েকটি দিন মাত্র। নিরাপদে থাকুন আপনি ও পরিবারকেও নিরাপদে রাখুন। এই অসহায় সময়েও যাদেরকে অমানবিক,অমানুষ বলেন তারাও আপনার জন্যই জীবনের ঝুকি নিয়েছে।

হ্যা পুলিশের কথাই বলছি। উত্তরা হাউজবিল্ডিং এ দেখা গেল একজন পুলিশ সদস্য ক্যারাভান হতে পথের মানুষ,রিক্সাওয়ালা ও ক্ষুধার্তদের দুপুরের খাবার ও পানি দিচ্ছে। অনেকেরই মনে বড় লেগেছে। । মনে হলো কত আপনজন ওরা। নিজ জীবনের ঝুকি নিয়ে সেবা দিয়ে পুরো দেশ জুড়ে। এই মহামারীর মধ্যে এটা যে স্বার্থহীন তা বোঝানো লাগেনা। অমানুষ তো সব ক্ষেত্রেই থাকে । কিছু অমানুষের জন্য পুরো মনুষ্যত্বহীন মানুষদের তেমন কিছু যায় আসে কি??

বন্ধুদের উদ্দেশ্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তা রাজশাহীর পুঠিয়া থানার ওসি হাসমত আলীর মেসেজঃ

তোরা ভেবেছিস মাঠ থেকে পালিয়ে গেছি, কিন্তু না পুলিশ মাঠ থেকে পালায় না। তোরা জানিস পুঠিয়ায় এ পর্যন্ত মোট তিনজন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের সকলকে হোম কোয়ারেন্টাইন করে রাখাসহ সার্বিক বিষয় দেখভাল করতে হচ্ছে পুলিশ, ডাক্তার এবং স্থানীয় প্রশাসনকে। প্রতিনিয়ত ঐসকল সনাক্তকৃত রোগীদের কাছাকাছি যেতে হচ্ছে। তাই নিজের জন্য না হলেও পরিবারের জন্য বেশি বেশি সতর্ক থাকতে হচ্ছে। পরিবারের লোকজনসহ নিকট আত্মীয় স্বজন এবং তোরা বরাবরই আমাকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছিস। ভয় নেই শুধু দোয়া করিস। জয় একদিন আসবেই। সৃষ্টিকর্তা ক্ষমা করবেই।আমরা আবারও মিলিত হব প্রাণের টানে। ইনশাআল্লাহ।

সেনাসদস্যরা যাদেরকে এ জাতীর  লোকেরা নিরাপত আশ্রয়স্থল মনে করে তারাও বসে নেইঃ

করোনাভাইরাসের কারণে দেশে কর্মহীন হয়ে পড়া হতদরিদ্রদের বাড়িতে শুকনো খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। সোমবার (২০ এপ্রিল) রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার গ্রাম অঞ্চলে গিয়ে গরীব, অসহায় মানুষের বাড়িতে বাড়িতে ত্রাণ সমাগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন তারা।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রেক্ষিতে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ আর্মি ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ড (আর্টডক) এর অন্তর্ভুক্ত প্রশিক্ষণ সেন্টার ও প্রতিষ্ঠানসমূহ বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতার পাশাপাশি দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের মাঝে বিভিন্ন প্রকার ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার আর্টডক এর অন্তর্ভুক্ত প্রশিক্ষণ সেন্টার ও প্রতিষ্ঠানসমূহ রাজশাহীর দুর্গাপুর উপেজলা, নাটোর, বগুড়া, খুলনা, সিলেট ও চট্টগ্রামের নিজ নিজ এলাকায় ৪০০ টি করে দরিদ্র পরিবারের মাঝে শুকনো খাদ্য ও অন্যান্য সামগ্রী বিতরণ করেন। উল্লেখ্য, আর্টডকের ব্যবস্থাপনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে গত কয়েকদিনে ইতোমধ্যেই ২৫০০ পরিবারকে শুকনো খাবার, মাস্ক এবং ১০০০টি হ্যান্ড সানিটাইজার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও সেনাবাহিনীর তত্তাবধানে বৃদ্ধ ও সহায়সম্বলহীন পরিবারকে নিয়মিতভাবে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান অব্যাহত রয়েছে।

র‌্যাবের কার্যক্রমও মন কাড়বে আপনারঃ

মোঃ শামীম আনোয়ার ভাই র‌্যাব ৯ সিলেটের শ্রীমঙ্গলের কোম্পানী কমান্ডার। তার কিছু কার্যক্রম দেখুন ধারনা পাবেন হিউম্যানরা এখন ও আছে।

”কেন আমি নিজে বহন করি….

অনেকেই জানতে চান, আমি একজন বিসিএস ক্যাডার অফিসার এবং র‍্যাবের কমান্ডার হওয়া সত্ত্বেও কেন ত্রাণের খাদ্যসামগ্রীর বস্তা নিজে বহন করি? বোঝা নেওয়ার জন্য নিচের র‍্যাংকের লোকজন তো আছেই।

আসলে এক্ষেত্রে আমার ভাবনাটা একটু ভিন্ন। গত বেশ কিছুদিন ধরেই আমরা শ্রীমঙ্গল র‍্যাব ক্যাম্প পরিবার পায়ে হেঁটে দুর্গম অঞ্চলের প্রকৃত ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে সামান্য চাল-ডাল পৌঁছে দেওয়ার কাজটি করে আসছি। এখন আমি যদি আমার অধীনস্থ র‍্যাব সদস্যদেরকে বোঝা বহন করবার আদেশ দিয়ে নিজে খালি হাতে হাঁটতাম, তাহলে তারা হয়তো আমাকে স্বার্থপর একজন নেতা হিসেবেই চিহ্নিত করতো, যা তাদের কর্মস্পৃহা ও মনোবলকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতো নিশ্চিত। তাই প্রতিটি ক্ষেত্রে অধস্তনদের সমান ভার নেওয়া, খাদ্যসামগ্রীর বস্তা নিজেও বহন করে সবার সামনে সামনে চলাই আমার নেতৃত্ব দানের স্টাইল। কাঁধের র‍্যাংক দেখে নয়, কাজের মাধ্যমেই প্রমাণ হোক এখানে কমান্ডার কোন জন। অফিসাররা বোঝা মাথায় নিলে জাত চলে যাবে, বোঝা বহন করা শুধু নিচের র‍্যাংকের লোকদের কাজ- এমন অমানবিক ও মধ্যযুগীয় চিন্তাধারা করোনা ভাইরাসের সাথে সাথে পৃথিবী থেকে বিদায় হোক।

Md. Anwar Hossan (Shamim Anwar)
এএসপি, র‍্যাব-৯, সিলেট।
কমান্ডার, শ্রীমঙ্গল র‍্যাব ক্যাম্প।”

কিন্ত তারা যে এগুলো করছেন শুধুই কি লোক দেখানো না আপনার আমার জন্য। এই বিষয়টা মাথায় নেয়া উচিত। কোন স্বার্থ নেই এখানে যেখানে নিজের জীবনের নিরাপত্তা  নেই। কিন্ত আমরা যা করছি তা কখনই কাম্য নয়।
সাধারন মানুষ বিষয়টিকে অনেক ক্ষেত্রেই হয় রাজনৈতিক না হয় চোর পুলিশ খেলা মনে করছে। তাহলে বোঝা উচিত কেন মরছে ডাক্তাররা,কেন মরছে বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা ? তারা কি সচেতনতা জানেন না?? তাই সময় থাকতে আমরা সবাই সতর্ক হই। অসতর্কতার কারনে কিছু হলে তা হবে আত্নহত্যার শামিল যা কখনই আল্লাহতায়ালা পছন্দ করেন না।
ক্রাইম ডায়রি// জাতীয়
Total Page Visits: 61636

মৃত্যুর মিছিল ১০০ ছাড়ালোঃ আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে রকেটের গতিতে

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃ

ক্রমশই বেড়ে চলেছে  করোনা আক্রান্তের   সংখ্যা। কোন ভাবেই থামানো যাচ্ছেনা গজবের এই পাগলা ঘোড়াকে।।ঔষধের যে আশ্বাস মাঝে মধ্যে ফেসবুকে পাওয়া যাচ্ছে তা কিছুটা ফেসবুকেই সীমাবদ্ধ বলে মনে   হচ্ছে। নচেৎ যারা মৃত্যুর মিছিলেে যোগ হচ্ছেন তারা প্রাণে বাঁচার জন্য চেষ্টা কম করতেন না। আজ ২০এপ্রিল,২০২০ইং সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০১ জন।

এই সময়ে ২৭৭৯টি নমুনা পরীক্ষা করে ৪৯২ জনের মধ্যে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় আক্রান্তের মোট সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৯৪৮ জন হয়েছে।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগীর খোঁজ মেলে গত ৮ মার্চ; তার দশ দিনের মাথায় ঘটে প্রথম মৃত্যু। একদিনে এত বেশি নতুন রোগী আর কখনও বাংলাদেশে শনাক্ত হয়নি।

আক্রান্তদের মধ্যে গত এক দিনে সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরও ১০ জন। এ পর্যন্ত মোট ৮৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা সোমবার অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

Total Page Visits: 61636

মধ্যরাতে করোনা রোগী নিতে আসার নাটকঃ যে কোন সময় আসলেই ৯৯৯ এ ফোন দিন

ইঞ্জিনিয়ার ওয়াসিম মোল্লাঃ

করোনা ভাইরাসের আক্রমনে জনজীবন যখন নাকাল তখন দুস্কৃতকারীরা করোনা রোগী নিতে এসেছি নাটকে ডাকাতির অপচেষ্টায় লিপ্ত। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় এমন ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। যদি ভার্চূয়াল জগতে খুব একটা সুবিধে করতে পারছেনা মান্ধাতার আমলের ডাকাতদল।সম্প্রতি রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এমন ঘটনার আলোচনা শোনা  যাচ্ছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিজ্ঞানী ও লেখক ড. আশরাফ আহমেদ তার ফেসবুক ওয়ালে এক পোস্টে এই ঘটনার কথা জানিয়েছেন। রাজধানীর উত্তরায় তার ছোট ভাইয়ের বাড়িতে গত শুক্রবার মধ্যরাতে একদল দুষ্কৃতিকারী এভাবেই প্রবেশের চেষ্টা করে।

এ বাড়িতে করোনা রোগী আছে, তাকে নিয়ে যেতে এসেছি জানিয়ে মধ্যরাতে দারোয়ানকে বারবার তাগাদা। দারোয়ান গেট না খোলায় সকালে এসে তাকে দেখে নেয়ার হুমকি। তবে মধ্যরাতে রাজধানীর উত্তরার যে বাড়িতে এমন ঘটনা সেখানে করোনা আক্রান্ত কোনো রোগীই ছিলো না। আর যদি থেকেও থাকে মধ্যরাতে এভাবে রোগী নিতে আসার কোনো নিয়ম নজিরও নেই। আবার টাঙ্গাইলে দিনের বেলাতেই এমন ঘটনার কথা শোনা গেছে।

‘কোনো অবস্থাতেই  প‌রিচয় নি‌শ্চিত না হয়ে অথবা তার বা তাদের কার্যক্র‌মের বৈধতা সম্প‌র্কে নি‌শ্চিত না হয়ে তাকে বা তা‌দেরকে ঘরে ঢুকতে দেবেন না’- বলা হয়েছে পুলিশের প্রেসনোটে।

ড. আশরাফ আহমেদ লিখেন, শুক্রবার রাত আনুমানিক একটার দিকে আমার ছোট ভাইয়ের উত্তরার বাড়িতে তিন-চারজন মানুষ এসে দারোয়ানকে ডাকে। তারা জানান, হাসপাতাল থেকে এসেছেন। কারণ তাদের কাছে তথ্য রয়েছে এই বাড়িতে করোনা আক্রান্ত রোগী রয়েছে এবং তাকে তারা নিয়ে যাবেন। তারা বারবার বারবার মেইন গেট খুলে দেবার জন্য চাপ দেন। দারোয়ানের বর্ণনা মোতাবেক ওই লোকদের দুই/তিন জন পিপিই, মাস্ক ও গ্লাভস পরিহিত ছিল। গার্ড খানিকটা ত্যাড়া প্রকৃতির হওয়ায় তাদেরকে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন এখন স্বয়ং বাড়িওয়ালা ওপর থেকে এসে গেট খোলার জন্য বললেও তিনি কিছুতেই গেট খুলে দেবেন না। তাদের যদি সত্যি সত্যিই করোনা রোগী নিয়ে যেতে হয় তবে সকাল পর্যন্ত বাহিরে অপেক্ষা করতে হবে। কোনভাবেই গার্ড গেট খুলে না দেয়ায় তারা তাকে যাচ্ছেতাই ভাষায় গালিগালাজ করে চলে যায় এবং শাসিয়ে যায় যে সকালে এসে তাকে দেখে নেবে’- যোগ করেন ড. আশরাফ।

তবে সকালে কেউ সেই বাড়িতে করোনা রোগী নিতে আসেননি। যদিও বাড়িটিতে প্রকৃতপক্ষে কোনো করোনা রোগী নেই। তাই তাদের ধারণা, কোনো দুষ্কৃতিকারী কিংবা চোর-ডাকাত করোনা রোগীর কারণ দেখিয়ে কোনো অঘটন ঘটানোর চেষ্টা করেছিল।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার ঘোষিত ছুটির মধ্যে এমন ঘটনা আতঙ্ক বাড়িয়ে তুলেছে বাড়িওয়ালা ও বাসিন্দাদের। করোনা রোগীর তথ্য সংগ্রহ ও জরুরি সেবার ছলে অপরাধীরা বিভিন্ন বা‌ড়ি‌তে গিয়ে দুষ্কর্ম ঘটানোর চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ শুনে সবাইকে সতর্ক করে শনিবার প্রেসনোট দিয়েছে পুলিশ। যা ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

এদিকে করোনাভাইরাসের রোগীর তথ্য সংগ্রহ ও জরুরি সেবার নামে কেউ বাড়িতে এলে ৯৯৯ বা থানায় ফোন করে পরিচয় নিশ্চিত হতে বলেছে পুলিশ সদর দপ্তর।এতে আরো বলা হয়েছে, ‘ইদানীং লক্ষ্য করা যাচ্ছে, করোনা‌ রোগীর তথ্য সংগ্রহ ও জরুরী সেবার নামে কিছু দুষ্কৃ‌তিকারী সাধারণ মানুষের বাড়িতে গিয়ে অপরাধ সংঘটনের সু‌যোগ নিচ্ছে। বাংলা‌দেশ পু‌লিশ সব সময় আপনার পাশে রয়েছে।’

‘কোনো অবস্থাতেই  প‌রিচয় নি‌শ্চিত না হয়ে অথবা তার বা তাদের কার্যক্র‌মের বৈধতা সম্প‌র্কে নি‌শ্চিত না হয়ে তাকে বা তা‌দেরকে ঘরে ঢুকতে দেবেন না’- বলা হয়েছে পুলিশের প্রেসনোটে।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম//

 

Total Page Visits: 61636

জাতীয় সংসদে করোনার তান্ডব হতে মুক্তির জন্য দোয়া

আরিফুল ইসলাম কাইয়্যুম,মহানগর প্রতিনিধিঃ

করোনাভাইরাস একটি বৈশ্বিক মহামারী। যুগে যুগে মহান আল্লাহ তায়ালা তার অবাধ্য বান্দাগনকে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষার সম্মুখীন করেছেন। মুমিনেরা এসময় চরম ধৈর্য্য  ধরবে এটাই ইসলামের শিক্ষা। করোনার আক্রমন বাংলাদেশ ও বিশ্বের ওপর ‘গজব’ আখ্যায়িত করে এ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সংসদে তওবাসহ মোনাজাত করা হয়েছে।

চলতি সংসদের সদস্য শামসুর রহমান শরীফসহ কয়েকজন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্টজনের মৃত্যুতে শনিবার (১৮ এপ্রিল) সংসদে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। শোক প্রস্তাব উত্থাপনের পর তা গৃহীত হওয়ার পর মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় মোনাজাতে করোনা প্রসঙ্গ উঠে আসে।

মোনাজাত পরিচালনা করেন ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া। এ সময় তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বারবার আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ তুমি বলেছ, বান্দাদের তুমি হাওস করে পয়দা করেছো। ব্যক্তিগত কোনো কারণে কিংবা আমাদের কোনো পাপের কারণে বাংলাদেশের ওপর করোনা নামে গজব দিয়েছ। আজকে আমরা তোমার কাছে আত্মসমর্পণ করছি, কমপ্লিট সারেন্ডার করে তোমার কাছে তওবা পড়ছি। আল্লাহ তুমি বলেছ, আমি বান্দা সৃষ্টি করেছি তাদের দোয়া কবুল করার জন্য। আমরা তোমার কাছে দোয়া করছি, ফরিয়াদ জানাচ্ছি। আমরা তোমার কাছে তওবা করছি। আল্লাহ আমাদের তুমি মাফ করে দাও। সাথে সাথে তুমি বাংলাদেশের ওপর যে গজব নাযিল করেছ সেই গজবকে তুমি তুলে নাও। সারা বিশ্বে আক্রান্ত হয়েছে । বিশ্ববাসীকে তুমি হেফাজত কর। বাংলাদেশের ওপর তুমি তোমার খাস রহমত বরকত নাযিল কর। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে তুমি নেক হায়াত দান কর।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যেভাবে এই করোনাভাইরাসকে মোকাবিলা করার জন্য বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে সেই তৌফিক তাকে দান কর। একটির পর একটি তিনি যে প্রোগ্রাম ঘোষণা করছেন সেই প্রোগ্রামগুলো যেন আমরা মেনে চলি।’

ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘তোমার হুকুম ছাড়া গাছের পাতাও নড়ে না। করোনাভাইরাস নামে যে আজাব-গজব দিয়েছ তার হাত থেকে তুমি আমাদের রক্ষা কর। সারা বিশ্বকে রক্ষা কর। ওই আবাবিল পাখির মুখে একটা ছোট্ট কংকর দিয়ে তুমি কাবাঘর রক্ষা করেছিলে। আমাদের মতো ধর্মপ্রাণ মুসলমান পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে কম আছে। এই ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের দোয়া তুমি কবুল কর।’

‘বাংলাদেশের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান জাতীয় সংসদ। এই জাতীয় সংসদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ তোমার দরবারে হাত তুলেছি। তুমি আমাদেরকে খালি হাতে ফেরত দিও না আল্লাহ। তুমি বলেছ, সরকারপ্রধান যদি সৎ হয় তার দোয়া কবুল কর। আমাদের মধ্যে কারও যদি হাত তোমার পছন্দ হয়, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতের ওছিলায় তুমি আমাদের সকলকে মাফ করে দাও। তুমি আমাদের সকলকে হেফাজত কর। বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের বাইরে যেসব মুসলমান রয়েছে তাদেরকে হেফাজত কর। বাংলাদেশের যাতে কোনো অর্থনৈতিক মন্দাভাব দেখা না দেয়, তার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে সমস্ত প্রোগ্রাম শুরু করেছেন, সে প্রোগ্রামগুলো যাতে সাফল্যমণ্ডিত হয় সেই তৌফিক তুমি আমাদেরকে দান কর’-মোনাজাতে বলেন ডেপুটি স্পেকার ফজলে রাব্বী মিয়া।মহান আল্লাহতায়ালার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা পূর্বক এই দোয়া আল্লাহতায়ালা কবুল করুন। সমগ্র মানবজাতী সুপথে পরিচালিত হয়ে মহান আল্লাহ তায়ালার সকল হুকুম ও আহকাম মেনে নিয়ে আল্লাহমুখী হওয়ার মাধ্যমে আল্লাহতায়ালা সকলকে হেফাজত করুন এটাই সবার কাম্য।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

Total Page Visits: 61636