• রবিবার (সকাল ৯:৫১)
    • ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

রাজধানীর জলাবদ্ধতায় সমাধান মিলছে না বছরের পর বছর

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃ

একটি দেশের রাজধানী হলো সেই দেশের আয়না। রাজধানী দেখলেই পুরো দেশের একটি দৃশ্য যে কেউ সহজে  অনুমান করে নেয়। কারন, ভ্রমন পিয়াসু মানুষ সাধারনতঃ যে দেশের যাক না কেন আগে যায় সেই দেশের রাজধানীতে। এলোমেলো খোড়াখুড়ি কিংবা অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে আমাদের রাজধানীর যে সংকট তৈরি হয় তা পুরো বিশ্বের নিকট দেশের ভাবমুর্তিকে নষ্ট করে দিচ্ছে। একটা বিষয় কিন্তু স্বীকার না করে উপায় নেই যে বঙ্গকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কড়া নির্দেশ এ সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান করা। কিন্তুু সুবিধাভোগী বরাবরের মতই তার নির্দেশকে তোয়াক্কা না করে নিজেদের গতিতে চলছে।
সম্প্রতি, ঢাকার মিরপুর, ধানমন্ডি, শান্তিনগরসহ নানা এলাকার রাস্তায় পানি নিয়ে ব্যঙ্গ আর হাসি তামাশা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বৃষ্টির কারণে গত দুদিনের মতো আজও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু বা কোমর সমান পানি দেখা গেছে। যদিও এদৃশ্য বিগত অনেক বছরের। শনির আখড়ার অধিবাসী মনজিদা আখতার বলছেন পানি তাদের দুর্ভোগ চরমে তুলেছে। “বাসার সিঁড়ির নিচে কক্সবাজারের মতো দৃশ্য। আর উপরে রুমে পানি নেই। মধুবাগে এসেছি সেখানে হাঁটু পানি,” বুধবার বিকেলে বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন মনজিদা আখতার। গ্রীন রোডে থাকেন ফেরদৌসি রেজা চৌধুরী। তিনি বলছেন অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে সেখানে।  মিরপুর, ধানমন্ডি, শান্তিনগরসহ নানা এলাকার রাস্তার পানি নিয়ে ব্যঙ্গ আর হাসি তামশা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।

ঢাকা দক্ষিণের মেয়র শেখ ফজলে নুর তাপস বলছেন ওয়াসা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে তাই জলাবদ্ধতার সমাধান চাইলে দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনকেই দিতে হবে। তিনি বলেন, “ওয়াসা ব্যর্থ হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যর্থ হয়েছে। আইন মোতাবেক জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনকে বুঝিয়ে দিতে হবে। অথচ জলাশয়, খাল অন্যদের দিয়ে রাখা হয়েছে। এগুলো সিটি কর্পোরেশনকে বুঝিয়ে দিলে আমরা কার্যকর পরিকল্পনা করে আমাদের যে মহাপরিকল্পনার কাজ চলছে তার অংশ হিসেবে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করতে পারবো।”

তাহলে এখন আর সিটি কর্পোরেশন কোনো কাজ করতে পারছে না জলাবদ্ধতা নিরসনে- পরিস্থিতি কি এমনই? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যথার্থই তাই। মানুষের ভোগান্তি আমরা দেখছি কিন্তু কিছু করতে তো পারছি না।”

ওদিকে পানি প্রবাহের যে খালগুলো প্রায় বন্ধ সেগুলোসহ জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকা ওয়াসার অধীনে পাম্প হাউজগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম ও ঢাকার দুই মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা।

মানুষ কবে এই জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে-এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলছেন কবে নাগাদ সমস্যার সমাধান হবে সেটি এখনই বলা যাচ্ছে না। “আমরা সমস্যাগুলো দেখছি। এরপর সমাধানে কি করা যায় সেটি দেখা হবে। কাদের মাধ্যমে সমাধান হলে ভালো হবে সেটি দেখে কাজ করা হবে। হুট করে এখনই বা পনের দিনে সমাধান হবে সেটি বলা যাচ্ছে না। কিন্তু আমি আশ্বস্ত করতে চাই যে এর সমাধান হবে।”

আবার সিটি কর্পোরেশনকে দায়িত্ব দেয়া হবে কিনা তাও চিন্তা ভাবনা করেই চূড়ান্ত করা হবে বলছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। অর্থাৎ আপাতত জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মিলছে না নগরবাসীর। যদিও মন্ত্রী বলছেন দ্রুত পানি অপসারণের যেসব কার্যক্রম আছে সেগুলো জোরদার করা হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

“রাজধানী যেন একটি সমুদ্র। বৃষ্টি হলেই সেই সমুদ্রে জাহাজ চলে । এমন দৃশ্য শুধু হাসিরই উদ্রেক করেনা,দুঃখবোধও জাগায়। সরকার বড়ই আন্তরিক দেখেই এখনও সেখানে মহাসমুদ্র হয়নি। তবে দায়িত্বশীলরা পেড়ে ওঠেন না সুবিধাভোগী স্বার্থান্বেষি মহলের জন্য। এই জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে-এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলছেন কবে নাগাদ সমস্যার সমাধান হবে সেটি এখনই বলা যাচ্ছে না। “আমরা সমস্যাগুলো দেখছি। এরপর সমাধানে কি করা যায় সেটি দেখা হবে। কাদের মাধ্যমে সমাধান হলে ভালো হবে সেটি দেখে কাজ করা হবে। হুট করে এখনই বা পনের দিনে সমাধান হবে সেটি বলা যাচ্ছে না। কিন্তু আমি আশ্বস্ত করতে চাই যে এর সমাধান হবে।”

নিম্নচাপের প্রভাবে টানা দু’দিনের অবিরাম বৃষ্টির ফলে ঢাকার অধিকাংশ এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছিলো গত দু’দিন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় পানি জমে ছিল দীর্ঘক্ষণ। এছাড়া ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর সড়ক, মতিঝিল, মিরপুর, বাড্ডা ও রামপুরাসহ প্রায় সব এলাকাতেই কোথাও হাটুপানি, কোথাও কোমরপানি দেখা গেছে। যদিও এর আগে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতার হতো যে শান্তিনগরে সেটির সমাধানের দাবি করেছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে কয়েক ঘন্টার বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা হচ্ছে এমন এলাকার সংখ্যাও বেড়ে যাচ্ছে। এবার শুক্র ও শনিবারের বৃষ্টিতে কয়েকটি এলাকার রাস্তায় নৌাকা এমনকি ভেলা পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। এই যে ঢাকার জলাবদ্ধতা ক্রমে বেড়েই চলেছে। কিন্তু এটি নিরসন করা যাচ্ছে না কেন? সমস্যা কোথায়?

জবাবে বুয়েটের আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্লানিং বিভাগ শিক্ষক ড. সারওয়ার জাহান বলেন জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে অপরিকল্পিত উন্নয়ন হচেছ। একই সাথে প্রাকৃতিক ড্রেনেজ সিস্টেম অর্থাৎ খাল বিল পুকুড় যা ছিলো তা ভরাট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “পানি তো যেতে হবে কিন্তু সে সুযোগ তৈরি করতে হবে। প্রাকৃতিক সিস্টেম যেহেতু ধ্বংস হয়ে গেছে তাই কৃত্রিম সুযোগ তৈরি করতে হবে পানি যাওয়ার”। সবগুলো সংস্থা কি একযোগে কাজ করছে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভালোভাবে করার জন্য ? এমন প্রশ্নের জবাবে ড. জাহান বলেন ওয়াসা, সিটি কর্পোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড একসাথে কাজ করতে হবে পানি নষ্কাশনের জন্য কিন্তু তাদের মধ্যে কোন সমন্বয় নেই। তার মতে পুরো শহর ভেঙ্গে নতুন কিছু করা যাবেনা তাই ড্রেনেজ সিস্টেম যাতে কাজ করে তা দেখার পাশাপাশি নতুন ড্রেনেজ সিস্টেম মাটির উপরে ও নীচে বাড়িয়ে সেটির ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

ঢাকা ও চট্টগ্রামের পর সিলেট মহানগরীতেও জলাবদ্ধতার খবর আমাদের যতখানি না হতাশ, তারচেয়ে বেশি করেছে হতবাক। রাজধানী শহর ঢাকা যদিও প্রাকৃতিকভাবেই অর্ধশতাধিক খাল ও নদীবেষ্টিত ছিল, এর বেশিরভাগই দখল, ভরাট ও দূষণের শিকার হয়েছে। অপরিকল্পিত নগরায়নের জের ধরে বেশিরভাগ নিম্নভূমিও ভরাট করে ফেলেছে আবাসন কোম্পানিগুলো। ফলে অতিরিক্ত বর্ষণের পানি সহজে নামতে পারে না। চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি- ঢাকার মতো নদী, খাল, ভরাট ও দখল ছাড়াও বাড়তি কারণ হচ্ছে জোয়ার-ভাটার প্রভাব বৃদ্ধি। জোয়ারের সময় অতিরিক্ত বর্ষণের কারণে পনি নিস্কাশন ব্যবস্থা বিঘ্নিত হতে পারে বৈকি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জোয়ারের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং বেড়িবাঁধ ব্যবস্থার ‘পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া’ হিসেবে উপকূলীয় কোনো কোনো শহরেও সাম্প্রতিক সময়ে জলাবদ্ধতা দেখছি আমরা। কিন্তু জলাবদ্ধতায় নাকাল নগরের তালিকায় সিলেট কী কারণে যুক্ত হয়েছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। শনিবার সমকালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতে সিলেট নগরীর অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এমনকি আগে কখনও জলাবদ্ধতার শিকার হয়নি, এমন এলাকাও এবার জলমগ্ন।

আমরা জানি, ভৌগোলিকভাবে হাওরাঞ্চলে অবস্থিত হলেও সিলেট শহর ‘নিম্নভূমি’ নয়। বরং টিলাবহুল এই নগরী ওই অঞ্চলের অন্যতম উচ্চভূমি। ঢালু ভূ-গঠন ও শহরের পাদদেশে প্রবহমান সুরমা নদীর কারণে সিলেট নগরীতে আর যে নাগরিক সংকটই থাকুক, জলাবদ্ধতা থাকার কথা নয়। দুর্ভাগ্যবশত সেই চিত্রই আমাদের দেখতে হচ্ছে। অথচ সিলেট যেমন ভৌগোলিকভাবে ঢাকার মতো সমতল নয় যে, বৃষ্টির পানি আটকে থাকতে পারে; তেমনই চট্টগ্রামের মতো সমুদ্রসংলগ্নও নয় যে, জোয়ারের প্রভাবে বৃষ্টির পানি নামতে বিলম্ব হতে পারে। কিন্তু তারপরও জলাবদ্ধতা হচ্ছে কেন? এটা বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই যে, সমস্যা পানি নিস্কাশন ব্যবস্থায়। গত দুই দশকে সিলেট শহরের প্রাকৃতিক ছড়াগুলো যেমন, তেমনই কৃত্রিম নালাগুলোও দখল ও ভরাটের শিকার হয়েছে। ফলে পানি সহজে নামতে পারে না। ঢাকা বা চট্টগ্রামের তুলনায় সিলেটের পানি নিস্কাশন সমস্যা দূর করা অপেক্ষাকৃত ‘সহজ’। শুধু যদি ছড়া ও নালাগুলো প্রতিবন্ধকতামুক্ত রাখা যায়, তাহলেই পরিস্থিতির বহুলাংশে উন্নতি ঘটবে। আমরা দেখছি, এ ব্যাপারে সরকারের দিক থেকে কোনো ঔদাসীন্য নেই। প্রকল্প ছাড় ও অর্থ বরাদ্দ হয়েছে দফায় দফায়। গত বছর সিলেট নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন খাতে ‘রেকর্ড’ ১২শ’ ২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

২০১৬ সালেও এই খাতে ২৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, অপেক্ষাকৃত কম হলেও বরাদ্দ এসেছিল ২০১৩ এবং তারও আগে ২০০৯ সালে। আমাদের প্রশ্ন- নালা, খাল, ছড়া যদি উদ্ধার না-ই হয়, তাহলে এত অর্থ যাচ্ছে কোথায়? নগরের প্রাকৃতিক কাঠামো অক্ষুণ্ণ রাখলেই যেখানে পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা সচল থাকার কথা, সেখানে শত শত কোটি টাকা খরচ করেও বছরের পর বছর কেবল জলাবদ্ধতাই সম্প্রসারিত হবে কেন? তার মানে এত প্রকল্প ও বরাদ্দ দিয়ে পানি নয়, অর্থ নিস্কাশনেরই ব্যবস্থা করা হচ্ছে? আমরা দেখতে চাই, অবিলম্বে চলমান প্রকল্পের মান ও অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অতীতে বিভিন্ন দফায় বরাদ্দ অর্থ কোন নালা দিয়ে ‘জলে গেছে’ তাও নিরীক্ষা প্রয়োজন বর্তমান ও ভবিষ্যতের অর্থ কাজে লাগার স্বার্থেই। আমাদের মনে আছে, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পেয়ে সিলেট নগরীর মেয়র সরকারকে ধন্যবাদ দিয়েছিলেন। মেয়রের এ কথাও আমরা ভুলিনি যে- প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে খাল ও ছড়া কেবল উদ্ধারই নয়, অভ্যন্তরীণভাবে নৌকা চলাচলও সম্ভব হবে। এখন দেখা যাচ্ছে, জলাবদ্ধতার কারণে খালের বদলে সড়কে নৌকা চালাতে হবে নগরবাসীকে। আমরা বাগাড়ম্বর চাই না, কাজ দেখতে চাই। সিলেট নগরীর খালে নৌকা চালানোর স্বপ্ন নিশ্চয়ই সাধুবাদযোগ্য; কিন্তু তার আগে খোদ খাল ও ছড়া সচল হোক। আপাতত জলপথ চাই না, জলাবদ্ধতা সামলান।

কয়েক ঘন্টার বৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকা শহর যেন পরিণত হয় সমুদ্রে, একই অবস্থা বন্দর নগরী চট্টগ্রামেও। এ অবস্থা কয়েক যুগ থেকে চলে আসছে। বর্তমান সময়ে রাজধানীজুড়ে চলা মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ নানা মেগা প্রকল্পের সমন্বয়হীন কর্মে জলাবদ্ধতা প্রকোট আকার ধারণ করেছে। বৃষ্টির পরপরই নগরবাসীর দুর্ভোগ চিত্র গণমাধ্যম-সামাজিক মাধ্যমে এসে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে।

এই জলাবদ্ধতার কারণে বিভিন্নসময় ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ও ওয়াসা’র বিরুদ্ধে নাগরিক ক্ষোভ দেখা যায়। আবার ওই দুই সংস্থাকে অনেকসময় দেখা যায় দায় এড়াতে একে অন্যকে দোষারোপ করতে। চট্টগ্রামসহ নানা বড় শহরগুলোতেও এরকম অবস্থা বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণ একপ্রকার অসহায়ভাবে এই সমস্যাকে মেনে নিতে শুরু করেছে বলে আমাদের ধারণা।

রাজধানীতে বড় জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকার মধ্যে রয়েছে- সচিবালয়, মিরপুর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, নিকুঞ্জ-১ ও ২, রোকেয়া সরণি, সাংবাদিক কলোনি এলাকা। রাজধানীর পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম খালগুলো অবৈধ দখল ও কঠিন বর্জ্যে ভরাট হয়ে আছে। নগরের খাল, ড্রেন, বক্স কালভার্ট ও ব্রিক স্যুয়ারেজ লাইন দিয়ে পানি নদীতে যেতে পারছে না। ফলে ভারি বর্ষণে শহরের অলিগলি, প্রধান সড়ক, ফুটপাথ পর্যন্ত তলিয়ে যায়। ওয়াসা ও সিটি কর্পোরেশনের বাৎসরিক বাজেটে খাল পরিষ্কারে বেশ ভাল অংকের বরাদ্দ থাকলেও তা খরচের পদ্ধতিগত বিষয়ে নানা অসঙ্গতি নানাসময়ে গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। খাল পরিষ্কার করে সেই ময়লা আবার খালের পাড়েই রেখে দেয়া হয়সহ নানা অভিযোগের কথা শোনা যায়। স্বল্পকালীন কিছু পদক্ষেপ থাকলেও টেকসই সমাধানে সরকারের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই বললে ভুল হবে না।

 

জলাবদ্ধতায় রাজধানীর রাস্তাঘাট নষ্ট হয়ে যাচ্ছে স্বল্পসময়ে। গণপরিবহনসহ জনগণের সম্পত্তিরও ক্ষতি হচ্ছে সমানুপাতিক হারে। এসব বিষয়ে জরুরি ও দীর্ঘমেয়াদি নজর দেয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। একটি দেশের রাজধানীসহ বড় বড় শহরের নাগরিক সুবিধার চিত্রের উপরে দেশের ভাবমূর্তি নানাভাবে জড়িত। বিভিন্ন বৈশ্বিক সূচকে সেগুলোর বেশ ফলাও করে প্রচার-প্রকাশিত হয় নানা সময়ে। সেইসব সূচক বা প্রতিবেদনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরের করুণ চিত্র বছর বছর দেখা যায়। যানজট, বায়ুদূষণ ও জলাবদ্ধতার মতো সমস্যা বারবার বিব্রত করছে জাতিকে। এই অবস্থা থেকে দ্রুত মুক্তি সময়ের দাবি। আমাদের আশাবাদ, সংশ্লিষ্ট সব মহল এ বিষয়ে কার্যকর মনোযোগ দেবেন।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

 

 

Total Page Visits: 49 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Send this to a friend