• রবিবার (সকাল ৯:৫০)
    • ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

রাজধানীর ডেমরায় ভূয়া ডাক্তার আটকঃ হাসপাতাল সিলগালা

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃ

ভূয়া ডাক্তার, ভূয়া মামা,ভূয়া বড়ভাই অসংখ্য ভূয়ায় ভরপুর সোনার বাংলা। নিজ স্বার্থে যার যেমন ইচ্ছে ভূয়ামি করে চলেছে। ভূয়া ডাক্তারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে  রাজধানীর ডেমরায় র‍্যাবের বিশেষ অভিযানে ধরা পড়েছে সাখাওয়াত হোসেন সুমন নামে আরেক ‌’শাহেদ’।

দণ্ডপ্রাপ্ত সুমনের কাছে টক শোতে অংশগ্রহণ, চিকিৎসায় অবদানের জন্য ক্রেস্ট, ছবিসহ বিভিন্ন কিছু থাকলেও চিকিৎসক হওয়ার সনদ বা কোনো প্রমাণ ছিল না।

রিজেন্ট শাহেদের মত সেও ভিআইপিদের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি উঠেছে,টিভিতে টকশো করেছে। তারও আছে বড় ভাই,  মামাসহ আরও অনেকে। সবার প্রভাব খাঁটিয়ে সেও খুলেছে হাসপতাল। সে একজন ভুয়া ডাক্তার। ডাক্তার সেজে রোগী দেখতো হাসপাতাল পরিচালনা করতো। পরীক্ষা ছাড়াই ভুয়া রিপোর্ট দিতো। তাকে দণ্ড এবং তার হাসপাতাল সিলগালা করে দিয়েছেন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এছাড়া অন্যদেরও বিভিন্ন সাজা দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত সুমনের কাছে টক শোতে অংশগ্রহণ, চিকিৎসায় অবদানের জন্য ক্রেস্ট, ছবিসহ বিভিন্ন কিছু থাকলেও চিকিৎসক হওয়ার সনদ বা কোনো প্রমাণ ছিল না।

রোববারের অভিযান বিষয়ে র‍্যাব জানায়, ওই হাসপাতালে কর্মরত ১২ ‘চিকিৎসকের’ বেতন না দেওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে র‍্যাব-৩ রাজধানীর ডেমরা এলাকার সারলিয়ায় অবস্থিত ওই হাসপাতালে রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অভিযান চালায়।

গণমাধ্যমকে র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বসু জানান, এসএইচএস হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল সেন্টারে অভিযান চালিয়ে সিলগালা করা হয়েছে। নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে এটি পরিচালনা করতেন এর মালিক সাখাওয়াত হোসেন সুমন। আমরা তাকে রোগী দেখা অবস্থায় সেখানে অভিযান চালাই। অভিযানে তিনি আমাদের চিকিৎসা সনদ, শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো প্রমাণই দেখাতে পারেননি। তবে তার চেম্বারে সিল, প্যাড, ভিজিটিং কার্ড এসব পাওয়া গেছে। চিকিৎসায় অবদানের জন্য বিভিন্ন ক্রেস্ট, টেলিভিশন টক শোতে অংশগ্রহণের সনদও রয়েছে তার।

তিনি জানান, সুমন নিজেকে চর্ম ও যৌন বিশেষজ্ঞ বলে পরিচয় দিত। রোগীদের বিভিন্ন নমুনার পরীক্ষা না করেই রিপোর্ট দিত। এক বছর আগে তার হাসপাতালের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ অক্সিজেন সিলিন্ডার, কার্বন ডাই অক্সাইডের সিলিন্ডারকে অক্সিজেন সিলিন্ডারে রূপান্তরসহ নানা অনিয়ম পাওয়া গেছে।

র‍্যাবের এ ম্যাজিস্ট্রেট জানান, তার হাসপাতালে ১২ জন চিকিৎসক আছেন জানালেও আসল চিকিৎসক মাত্র একজন। তাদের বেতনও ঠিক মতো দেওয়া হচ্ছিল না। তখন তারা র‍্যাবে অভিযোগ দেন। এ ছাড়া তার ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদন নেই এমন ওষুধ বিক্রি হচ্ছিল।

পলাশ বসু জানান, সাখাওয়াত হোসেন সুমনকে দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদেরও বিভিন্ন সাজা দেওয়া হয়েছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেরর কর্মকর্তা ডা. দেওয়ান মো. মেহেদি হাসান, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালকসহ সাংবাদিকবৃন্দ।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম//রাজধানী

Total Page Visits: 53 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Send this to a friend