• রবিবার (সকাল ৯:২২)
    • ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

বিতর্কের বেড়াজালে প্রবাসী ডাঃ ফেরদৌস,কিন্তু কেন??

মিয়া মোহাম্মদ হেলাল, ক্রাইম ডায়রির   বিশেষ প্রতিনিধি, লন্ডন  হতেঃ

ডাঃ ফেরদৌস খন্দকারকে নিয়ে এটাই আমার শেষ লেখা। শেষ লেখা বলার কারণ ইতিপূর্বে একটি লেখা নিয়ে অনেক প্রিয়জন মনঃক্ষুন্ন হয়েছেন। অনেক প্রশ্ন উত্তাপন করেছেন। উত্তরে বলবো আমি আমার ব্যাক্তিগত দায়বোধ থেকে লিখেছি। সকল মত যে আপনাদের মতের সাথে মিলতে হবে এমন কোন কথা নেই। আমি বাংলা প্রবাদ বাক্য_❝মিললে মেলা, না হয় একলা একলা❞ নীতি মেনে চলা একজন সাধারণ মানুষ।

ডাঃ ফেরদৌস খন্দকারকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে চিনিও না, জানিও না। করোনা কালীন সময়ে উনাকে নিয়ে একটি সংবাদের রিপোর্ট দেখেছি। তাছাড়া Rashida Hoque Konica আপার মাধ্যমে বিভিন্ন সময় আমেরিকা থেকে উনার পাঠানো ত্রাণ বিতরণের খবর জেনেছি। এছাড়া বিগত বিশ বছর ধরে আমেরিকায় ডাক্তারি করে কতজনকে জীবিত করেছেন, কতজনকে মেরেছেন, কার কার সাথে ব্যাবসা করেছেন ইত্যাদি ইত্যাদির কিছুই জানিনা। জানার আগ্রহও নেই। কারণ প্রবাস জীবনে এসব দেখার মত সময়ও নাই। তাছাড়া উনি আমার বাড়া ভাতে ছাইও দিচ্ছেন না যে আমাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বার করতে হবে। তারপরও উনাকে নিয়ে লিখার কারণ হচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে যাওয়ার কথা বলার সাথে সাথে অনলাইনে কিছু মানুষের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেল। এটার কারণ কি এখনো খুঁজে পেলাম না।

ডাঃ ফেরদৌস খন্দকার সত্যি ডাক্তার নাকি ভুয়া ডাক্তার নাকি হোমি ডাক্তার নাকি গ্রাম্য হাতুড়ে নাকি ব্যস্ত ডাক্তার 😊 নাকি ওষুধ ব্যবসায়ী নাকি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার তা আমার কাছে মোটেই ধর্তব্য বিষয় নয়। অথবা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হলেই বা উনি ১৭ কোটি মানুষের দেশে গিয়ে একা দেশকে উদ্ধার করে ফেলবেন তা ভাবারও কোন কারণ নেই। কারণ বাংলদেশের এত এত অভিজ্ঞ সৎ ডাক্তার 😊 আছেন যাদের করোনা মুক্তির ভুয়া সার্টিফিকেট নিয়ে চার বাংলাদেশি জাপান গমন করায় আজ বাংলাদেশ হতে সব ধরণের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নিষিদ্ধ করেছে জাপান সরকার। যে সুনামের ভার এখন ক্রেন দিয়ে দিয়ে বহন করা লাগবে।

ডাঃ ফেরদৌস খন্দকার একজন প্রবাসী বাঙালি। উনার নিজ মাতৃভূমিতে যাওয়ার কথা শুনে অনেকের গাত্রদাহ শুরু হলো। উনার বিরোধিতা করতে গিয়ে দর্পন কবির নামক তথাকথিত এক সাংবাদিকের কথায় একেবারে খুনী মোশতাক রশিদের আত্মীয় বলে প্রচার শুরু করা হলো। বিমান বন্দরে একই ফ্লাইটের ১২৮ জন যাত্রীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হলেও উনাকে পাঠানো হলো সরকারি কোয়ারেন্টাইনে। ৮ লাগেজ মাস্ক ট্যাক্সের কথা বলে আটকে দেওয়া হলো। বিমান বন্দরে আমাদের মত প্রবাসীদের হাইকোর্ট দেখানোর তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে। যদিও এই বিমান বন্দর দিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা দুর্নীতিবাজ দেশের সম্পদ লুন্ঠনকারীরা পুরো বিমান ভাড়া করে বিদেশে চলে যায়।

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক আনিসুর রহমান মিঠু ভাইয়ের ❝ ডাঃ ফেরদৌসের বিরুদ্ধে অভিযোগ বারবার পরিবর্তন হওয়ার পেছনে রহস্য আছে ❞ শিরোনামে লেখাটি পড়ে মনে প্রশ্ন জাগলো ফেরদৌস খন্দকার কোন মান্যবরের বাড়া ভাতে ছাই ফেলে দিচ্ছেন নাতো ? নাহলে নব্বইয়ের দশকের চট্রগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রলীগের একজন অগ্রসৈনিক শুধুমাত্র নামের সাথে খন্দকার মিল থাকায় খুনি মোশতাক রশিদের আত্মীয়, আমেরিকায় গিয়ে কার সাথে ব্যবসা করলেন, কার সাথে চললেন, কার সাথে ঘুরলেন, এসব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বের করে ধারাবাহিক ভাবে চলছে সিরিজ প্রতিবেদন প্রকাশ করার মানে কি ? ব্যবসা দিয়ে, আত্মীয়তা দিয়ে যদি রাজনীতির বিচার করতে হয় তাহলেতো লোম বাছতে বাছতে কম্বল উজাড় হয়ে যাবে। আওয়ামীলীগের কেন্দ্র থেকে মাঠ পর্যন্ত এক ফেরদৌস নয়, দেশে বিদেশেও হাজার ফেরদৌস আছেন যাদের ব্যবসা বাণিজ্য, আত্মীয়তা বিরোধী মতের মানুষের সাথে। আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে আত্মীয় প্রেমের ছাড় না দেওয়ার দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত সোহেল তাজ মন্ত্রিত্ব ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন।

সুতরাং আপনাদের তো অনেক ক্ষমতা। কি প্রয়োজন এত কষ্ট করার। মানুষটাকে নিয়ে নোংরামি না করে ফিরতি বিমানে তুলে আমেরিকায় পাঠিয়ে দিন। ল্যাটা চুকে যায়__

***মিয়া মোহাম্মদ হেলাল

(লেখক, যুক্তরাজ্য প্রবাসী-মুক্তচিন্তার মূর্তপ্রতীক,দেশপ্রেমিক, আওয়ামী অনলাইন এক্টিভিস্ট, আওয়ামীলীগ গবেষক,  বঙ্গবন্ধু ও শেখহাসিনার  সূর্য সৈনিক,বাংলা ডায়রি মিডিয়া লিঃ এর উপদেষ্টা ।।।)

Total Page Visits: 67 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Send this to a friend