• বৃহস্পতিবার ( বিকাল ৪:১৩ )
    • ২রা জুলাই, ২০২০ ইং

আক্রান্ত বেড়েছেঃ মৃত্যু ০২ঃ সতর্কতাই এখন পর্যন্ত একমাত্র উপায়

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃ

থেমে নেই করোনার কড়াল থাবা। একের পর এক প্রাণ ঝড়ে যাচ্ছে।কোন ভাবেই গণমানুষকে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার যত উপদেশই দেয়া হোক না কেন তারা মানতে নারাজ। ফলশ্রতিতে লকডাউন শিথিল হয়েছে ।এরফলে, করোনা ঝুকি যেমন বেড়েছে তেমনি বেড়েছে মৃত্যু ঝুঁকি।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নুতন করে ৫৭১ জনের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন, সর্বমোট এমন ৮,২৩৮ জন ব্যক্তি শনাক্ত হলেন। এ সময়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন দুই জন। ফলে এ নিয়ে বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ১৭০ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ হাজার ৯৫৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে ৫ হাজার ৫৭৩টি। তাদের মধ্যে আরও ৫৭১ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ২৩৮ জন। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৭০ হাজার ২৩৯টি। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও দুজন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭০ জনে। এছাড়া সুস্থ হয়েছেন আরও ১৪ জন। ফলে মোট সুস্থ হয়েছেন ১৭৪ জন।এদিকে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ১০৫ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১৪ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা ১৭৪। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত যাদের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, তাদের মধ্যে প্রায় ৮০০ জনের এখন কোন লক্ষণ বা উপসর্গ নেই।

তবে এমন রোগীদের সুস্থ ঘোষণা করার আগে যে দু’টি টেস্ট করতে হয়, তাদের কারো কারো ক্ষেত্রে তার মধ্যে একটি টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। আবার কারো কারো ক্ষেত্রে কোন পরীক্ষা এখনো হয়নি বলে জানান এই কর্মকর্তা।

দেশে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট, ওয়ার্ডবয়, আয়ার সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এরই মধ্যে করোনায় একজন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকদের কেন্দ্রীয় পেশাজীবী সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) সংক্রমিত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর নিয়মিত হিসাব রাখছে।

 

শুরুর দিকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগ যথেষ্ট পরিমাণ পরীক্ষা করছিলো না বলে অভিযোগ উঠলেও এপ্রিলের প্রথমভাগ থেকে প্রতিদিনই গড়ে ২ থেকে ৩ হাজার মানুষের পরীক্ষা করার পর করোনাভাইরাসের আক্রান্ত রোগীর শনাক্ত হওয়ার সংখ্যাও বৃদ্ধি পেতে থাকে। নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে জানানো হয় যে বর্তমানে দেশের ৩১টি ল্যাবরেটরিতে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

হটলাইন নম্বরের পাশাপাশি ওয়েবসাইট এবং মোবাইল ফোনেও স্বাস্থ্য সেবা দেয়া হচ্ছে বলে জানানো হয় নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে। নাসিমা সুলতানা জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশিত গাইডলাইনে প্রবীণদের, বিশেষ করে যাদের অন্য স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, সেবা দেয়ার বিষয়টি নতুন করে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তিদের বা তাদের পরিবারের সদস্যদের সামাজিকভাবে যেন হেয় না করা হয়, সেই আহ্বান জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক।

Total Page Visits: 39 - Today Page Visits: 3

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Send this to a friend