• শনিবার ( সকাল ৬:২০ )
    • ১৯শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

আরিচা ঘাটে ফেরি টার্মিনাল দখল করে বালুর ব্যবসা

এম. মিজানুর রহমান খান, শিবালয় (মানিকগঞ্জ) থেকে ফিরেঃ


আরিচা ফেরি টার্মিনাল সংলগ্ন যমুনা তীরবর্তী জায়গায় ড্রেজার বসিয়ে পাইপের মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিএর টার্মিনাল দখল করে বালু বিক্রি করছে প্রভাবশালীরা। টার্মিনাল দখলে নিয়ে বালুর পাহাড় বানিয়েছে তারা। এছাড়া বন্দর এলাকার নদীর পাড়ে বালু মজুদ করে রাখা হয়েছে। ঝড়ো হাওয়ায় আশপাশের বাসিন্দাদের বাড়ি-ঘর বালু উড়ে গিয়ে অপরিষ্কার ও অসস্থিকর পরিবেশের
সৃষ্টি হয়। জানা গেছে, যমুনা নদীর তীর ঘেঁষে আরিচা নদীবন্দর এলাকার পাঁচ একর জায়গায় আরিচা ফেরি টার্মিনাল নির্মাণ করে বিআইডব্লিউটিএ। ২০০২ সালের ১২ মার্চ আরিচা থেকে পাটুরিয়ায় ফেরিঘাট স্থানান্তরিত হলে
টার্মিনালটি পরিত্যক্ত হয়। এছাড়া এই ঘাট থেকে পাবনার মধ্যে ফেরি চলাচলের সিদ্ধান্ত রয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের। আরিচা ঘাট হয়ে পাবনার রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মালামাল পরিবহনের জন্য ফেরি সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি। ফলে টার্মিনালটি দখলমুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। কিন্ত প্রভাবশালীদের কারণে তা বাস্তবায়ন করা
সম্ভব হচ্ছে না।

সরেজমিনে পরিদর্শনকালে এলাকাবাসী জানায়, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে
পদ্মা-যমুনা থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু মাটি উত্তোলন করে ভলগেট ড্রেজারের মাধ্যমে এনে মজুদ করছে আরিচা টর্মিনালে। অনেকে নদীর পার এলাকায়
ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে পুকুর ডোবা-নালা ভরাট করছে। এতে কোনো বাধা বিপত্তি না থাকায় নতুন নতুন বালু ব্যবসায়ী গজিয়ে উঠছে
আরিচায়। তারা এলাকার পুকুর, নিচু জমি, ভিটি-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট ভরাট, ইট ভাটা ও ঠিকাদারদের কাছে চুক্তিতে বালু বিক্রি করছে। এতে আরিচা
ঘাটসংলগ্ন যমুনা নদী তীরবর্তি এলাকাসহ আরিচা-জাফরগঞ্জ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের নিহালপুর অংশে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে হুমকির মুখে পড়ছে
আরিচা নদীবন্দর, আবহাওয়া অফিস, আরিচা হাটবাজার ও আরিচা-তেওতা-জাফরগঞ্জ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ বিস্তীর্ণ এলাকাআরিচা ঘাটে বাস মালিক হেলাল মুন্সী বলেন, প্রতিটি গাড়ির পার্কিং
চার্জ দিতে হয় ৫০ টাকা। দৈনিক ৪/৫ বার গাড়ি যাতায়াত করলে প্রতিবারই দিতে হচ্ছে ৫০ টাকা করে। টার্মিনালে ঢুকতে না পেরে বাধ্য হয়ে গাড়ি
পার্কি করতে হচ্ছে রাস্তায়। এতে প্রায়ই গাড়ি থেকে চুরি হচ্ছে মালামাল। এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তাদের বার বার জানানো হলে কোনো
লাভ হয়নি। বিআইডব্লিউটিএ’র আরিচা ফেরি টার্মিনালের ইজারাদার বিশ্বজিত বিশ্বাস বলেন, আমরা মোটা টাকা ব্যয় করে টার্মিনাল ইজারা নিয়েছি। সে টাকা পুষিয়ে তুলতে বালুর ব্যবসা করছি। টার্মিনালে বালুর ব্যবসা বন্ধ ও ৯টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শিবালয় থানা ও ইউএনও’র কাছে অভিযোগ করেছেন বিআইডব্লিউটিএ’র উপপরিচালক ও আরিচা নদী বন্দরের পরিবহন কর্মকর্তা শেখ মো. সেলিম রেজা।
প্রতিষ্ঠানগুলো হলো মেসার্স খন্দকার ব্রাদার্স,, মেসার্স ব্রাদার্স, মেসার্স খন্দকার , মেসার্স আনিচ, মেসার্স খন্দকার যমুনা , মেসার্স পিয়াল ট্রেডিং, মেসার্স ভাই ভাই, মেসার্স ফুয়াত ও
ফ্রেন্ডস পয়েন্ট ।


এ বিষয়ে মেসার্স পিয়াল ট্রেডিং এর মালিক রাজু আহমেদ লাভলু বলেন, আমরা দীর্ঘ দিন ধরে বিআইডব্লিউটিএ’র অফিসে টাকা দিয়ে
বালুর ব্যবসা করছি। আরিচা নদীবন্দরের পরিবহন কর্মকর্তা শেখ মো. সেলিম রেজা বলেন, সমেজ ঘর
তেওতা থেকে পাটুরিয়া ঘাটের ভাটি পর্যন্ত যমুনা নদীর পাড় এলাকা আরিচা নদীবন্দরের আওতাভুক্ত। এ এলাকার ভেতর থেকে এক কোদাল বালু কাটার অধিকার নেই কারও। তারপর অনেকে চুরি করে কাটছে। টার্মিনালে শুধুমাত্র গাড়ি পার্কিং
চার্জ আদায়ে একটি প্রতিষ্ঠানকে চলতি অর্থ বছরের জন্য ইজারা দেয়া হয়েছে।

ফেরি টার্মিনালে বালুর ব্যবসা বন্ধ করতে থানা ও উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছি। কিন্তু এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শিবালয় থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। শিবালয় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও
আ.লীগ সভাপতি রেজাউর রহমান খান বলেন, এ সিন্ডিক্যাটের সঙ্গে প্রভাবশালী মহল জড়িত থাকায় কেউ-ই তাদের বিরুদ্ধে টু শব্দ করারও সাহস পাচ্ছে না। এ বিষয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তপেক্ষ কামনা করেন তিনি।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম//জেলা//চলতি পথে

Total Page Visits: 81 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Send this to a friend