• বুধবার ( সকাল ৬:৫৫ )
    • ২৩শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

কাল বকরী ঈদঃ ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হওয়ার দিন

ক্রাইম ডায়রি ডেস্কঃ

ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে বছর ঘুরে খুশির বারতা নিয়ে আবার এসেছে পবিত্র ঈদুল আজহা।  প্রতিটি মুসলমান আগামীকাল সোমবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন। এ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন নগরীর লাখ লাখ মানুষ শেকড়ের টানে ইতিমধ্যেই ফিরে গেছেন শৈশবের চেনা জনপদ গ্রাম-গঞ্জে। পথে আছেন  অনেকেই।  দুই ঈদের মধ্যেে  বকরী ঈদ  একাধিক কারণে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। এর মধ্যে অন্যতম হলো হালাল পশু কোরবানি করা এবং সামর্থ্যবানদের জন্য পবিত্র হজব্রত পালন করা।

হজব্রত পালন করতে সবাই সক্ষম না হলেও মহান মনিবের অনুগ্রহ লাভে ধন্য হতে পশু কোরবানির মাধ্যমে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মুসলিম সম্প্রদায় উদযাপন করবে অন্যতম প্রধান এই ধর্মীয় উৎসব।

সেই প্রায় চার হাজার বছর আগে আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি লাভের জন্য হজরত ইব্রাহিম (আ.) নিজ পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু পরম করুণাময়ের অপার কুদরতে হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সেই ত্যাগের মহিমার কথা স্মরণ করে মুসলিম সম্প্রদায় জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আলস্নাহ পাকের অনুগ্রহ লাভের কামনায় পশু কোরবানি করে থাকে। আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য আলস্নাহ কোরবানি ফরজ করে দিয়েছেন। তাই কোরবানি করাই এই দিনের উত্তম ইবাদত বলে ধর্মীয়ভাবে বলা হয়েছে।

সেই ত্যাগ ও আনুগত্যের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সারা দেশের মুসলিম সম্প্রদায় কাল দিনের শুরুতেই ঈদগাহ বা মসজিদে সমবেত হবে ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায়ের জন্য। নামাজের খুতবায় খতিব তুলে ধরবেন কোরবানির তাৎপর্য। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই একসঙ্গে নামাজ আদায়ের পর কোলাকুলি করে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। ঘুচে যাবে সব ভেদাভেদ। জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা উদযাপিত হলেও পরের দুই দিনও পশু কোরবানি করার বিধান রয়েছে। সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য কোরবানি ফরজ হলেও ঈদের আনন্দ থেকে দরিদ্র-দুস্থরাও বঞ্চিত হবে না। কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রির সমুদয় অর্থ এবং কোরবানি দেয়া পশুর মাংসের তিন ভাগের একভাগ তাদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়া হবে। ঈদুল আজহা শুধুমাত্র পশু কোরবানির আনুষ্ঠানিকতাই নয়, এই ঈদ সমগ্র বিশ্বের মুসলমানদের ত্যাগ, আত্মসমর্পণ ও আত্মোপলব্ধির শিক্ষা দেয়। ঈদুল আজহার চেতনা মহান আলস্নাহর ইচ্ছার কাছে নিজেকে সঁপে দেয়ার শিক্ষাও দেয়। ইসলামের দৃষ্টিতে ঈদুল আজহার দিনে হালাল পশু কোরবানি করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কাজ। পবিত্র কুরআনে সূরা কাওসারে বলা হয়েছে, ‘অতএব আপনার পালনকর্তার নামে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি করুন।’ সূরা হজে বলা হয়েছে ‘কোরবানি করা পশু মানুষের জন্য কল্যাণের নির্দেশনা।’ কোরবানির পশু সম্পর্কে কুরআন মজিদে আরও বলা হয়েছে, ‘এগুলোর গোশত বা রক্ত আমার কাছে পৌঁছায় না, কিন্তু তোমাদের তাকওয়া ঠিকই পৌঁছে যায়।’ রাসুল (সাঃ)-এর হাদিসে বলা হয়েছে, ‘ঈদুল আজহার দিন কোরবানির চেয়ে আর কোনো কাজ আলস্নাহর কাছে অধিক পছন্দনীয় নয়।’ অন্যত্র তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকার পরও কোরবানি দিল না সে যেন ঈদগাহে না যায়।’

ঈদ উপলক্ষে আজ রোববার থেকে ৩ দিনের সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে। চাকরিজীবীদের কেউ কেউ ঈদ উদযাপনের জন্য ১৪ আগস্ট একদিনের অতিরিক্ত ছুটি নিয়েছেন। ফিরে আসবেন আগামী সপ্তাহে। সংবাদপত্র অফিসগুলোতেও ৩ দিনের ছুটি শুরু হচ্ছে আজ রোববার থেকে। ছুটি শেষ হবে মঙ্গলবার। এ কারণে আগামীকাল থেকে পরবর্তী ৩ দিন দেশের কোনো সংবাদপত্র প্রকাশিত হবে না।

রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায় হাইকোর্ট-সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহে। নারীদের জন্যও এখানে ঈদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা থাকছে। মহিলাদের ঈদের জামাতে অংশ নেয়ার জন্য ঈদগাহের দক্ষিণ দিকে আলাদা প্রবেশপথ ও বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুসলিস্নদের গাড়ি রাখা ও ঈদগাহকে নামাজ আদায়ের উপযোগী করার জন্য ময়দানের মাটি সমান করা, ঘাস কাটা, অজুর পানি নিশ্চিত করেছে ঢাকা সিটি করপোরেশন।

এ ছাড়া বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে ৫টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত সকাল ৭টা, দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টা, তৃতীয় জামাত সকাল ৯টা, চতুর্থ জামাত সকাল ১০টা এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে।

জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজে ইমামতি করবেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান। বিকল্প ইমাম হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক ড. মাওলানা মুশতাক।

তবে ডেঙ্গুর জ্বরের কারনে  অনেক পরিবারেই এ আনন্দ অনেকটা স্তিমিত  হয়ে গেছে। বিশেষ করে যে সব পরিবারের এক বা একাধিক সদস্য এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে, তাদের কাছে ঈদ যেন শোকের বার্তা বয়ে এনেছে। এছাড়া ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে যাদের আদরের সন্তান, ভাই-বোন কিংবা বাবা-মাসহ নিকটাত্মীয়-স্বজন মারা গেছে, তাদের পরিবারে এখন শোকের মাতম বইছে। আসুন ঈদের আনন্দ নিয়ে সবাই ব্যস্ততার পাশাপাশি সবে মিলে একসাথে ডেঙ্গু মোকাবেলায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের স্বার্থে কাজ করি।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

Total Page Visits: 62 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Send this to a friend