• রবিবার ( রাত ৪:৫২ )
    • ৭ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

নতুন ধরনের ডেঙ্গুঃ সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরী

ডাঃ আক্তার রানা চৌধুরীঃ

নতুন ধরনের ডেঙ্গু, বেড়ে যাবে মৃত্যুঝুঁকি। সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত বলে জানিয়েছেন  ডাঃ আক্তার রানা চৌধুরী।  তিনি বলেন,  গত বছর থেকেই দেশে নতুন ধরনের ডেঙ্গু দেখা দিয়েছে। তবে প্রথম বছরে এর প্রকোপ কম থাকলেও দ্বিতীয় অর্থাৎ চলতি বছরে এসে এই সেরোটাইপ-৩ (শক সিনড্রোম) ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেক বেশি।  সম্প্রতি এই টাইপের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে খোদ রাজধানীতেই বেশ কয়েকজন মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম শামসুজ্জামান ডেঙ্গু সংক্রান্ত এই তথ্যের সত্যতা স্বীকার করেছেন।
তিনি জানান, এতদিন বাংলাদেশে ডেঙ্গু সেরোটাইপ-১ ও সেরোটাইপ-২-এর প্রকোপ ছিল। প্রথমটি সাধারণ ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু। দ্বিতীয়টি ঝুঁকিপূর্ণ হেমোরেজিক (রক্তক্ষরণ) ডেঙ্গু। তবে এবার সেরোটাইপ-৩ (শক সিনড্রোম) ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি।
এছাড়া ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু রোগী দ্বিতীয়বার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে হেমোরেজিক ডেঙ্গু দেখা দেয় জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের রোগীর ক্ষেত্রে শরীরের ভেতর বা বাইরে রক্তক্ষরণ হয়।

তিনি বলেন, গত বছর থেকে ডেঙ্গুর নতুন ধরন (সেরোটাইপ-৩) দেখা দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে রোগীদের ইন্টারনাল রক্তক্ষরণের পাশাপাশি শক সিনড্রোম দেখা দেয়। এটা শুরুতেই জানা না গেলে রোগীদের মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়।
নতুন ধরনের ডেঙ্গুতে যেসব উপসর্গ দেখা দেয় তা হলো, শ্বাস-প্রশ্বাসে অসুবিধা হওয়া, শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বেড়ে যাওয়া, ত্বক শীতল হয়ে যাওয়া, অবিরাম অস্বস্তি, ত্বকের ভেতরের অংশে রক্তক্ষরণের কারণে ত্বকের ওপরের অংশে লাল ছোপ সৃষ্টি হওয়া। এছাড়া বমি, মল কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া, প্রচণ্ড পেটব্যথা ও অনবরত বমি হওয়া, নাক ও দাঁতের মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ ও অবসাদ ইত্যাদি।
কোনো ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর এমন উপসর্গ দেখা দিলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন অধ্যাপক ডা. এ কে এম শামসুজ্জামান।
উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষের রেকর্ড অনুযায়ী, এ বছর জানুয়ারিতে ৩৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৮, মার্চে ১৭, এপ্রিলে ৫৮, মে’তে ১৯৩, জুনে ১ হাজার ৬৯৯ এবং গত তিন দিনে ২৫৪ জন রোগীসহ চলতি বছর এ পর্যন্ত মোট ২ হাজার ২৭৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে মারা গেছেন তিনজন।

ডেঙ্গু জ্বরে করনীয়:
বর্তমান মৌসুমে ডেঙ্গু জ্বরের মতোই ভাইরাসজনিত একটি অসুখ দেখা যাচ্ছে। এতে দেহের তাপমাত্রা হঠাৎ অনেক বেড়ে ১০৪ ডিগ্রি বা আরও বেশি উঠে। এ জ্বরের নাম চিকুন গুনিয়া।
জ্বরের বৈশিষ্ট্য
* কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে না বা ঘাম দিয়ে জ্বর সারে না।
* জ্বরের সঙ্গে মাথাব্যথা, চোখ জ্বলা, গায়ে লাল দানার মতো র্যাস, অবসাদ, অনিন্দ্রা, বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে।
* শরীরের বিভিন্ন স্থানে যেমন মাংসপেশিতে বা অস্থিসন্ধিতে তীব্র ব্যথা ও ফুলে যেতে পারে। এ জন্য হাঁটা-চলায় দুর্বলতা বোধ হয়।
* সাধারণত ২-৫ দিন জ্বর থাকে।
* ডেঙ্গুর মতো চিকুন গুনিয়া জ্বরে মৃত্যুঝুঁকি থাকে না, কারণ এতে প্লাটিলেট কমে যায় না এবং রক্তক্ষরণের ঝুঁকিও থাকে না।
করণীয়
* মশা যাতে কামড় দিতে বা শরীরে বসতে না পারে সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।
* এডিস মশার কামড়ে এ জ্বর হয়। এর কোনে প্রতিষেধক বা টিকা নেই।
* এ মশা দিনেরবেলায় বেশি কামড়ায়।
চিকিৎসা
* জ্বর ভালো না হওয়া পর্যন্ত রোগীকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে।
* প্রচুর পানি, ফলের জুস ও অন্যান্য তরল যথেষ্ট পরিমাণ খেতে হবে। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামলই যথেষ্ট।
*রোগীর রোগের লক্ষণ অনুযায়ী হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাও অধিক কার্যকরী। সাথে অল্টারনেঠিভ মেডিসিন ব্যথা ও দুর্বলতা দুর করতে সহায়ক।

লেখক–ডাঃ আক্তার রানা চৌধুরী।fb/ DR. akter rana Chowdhury এর ফেসবুক ওয়াল হতে জনস্বার্থেে  প্রকাশিত।

ক্রাইম ডায়রি///স্বাস্থ্য

 

 

Total Page Visits: 58 - Today Page Visits: 5

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Send this to a friend