• বৃহস্পতিবার ( বিকাল ৩:২০ )
    • ২রা জুলাই, ২০২০ ইং

গণমাধ্যমজুড়ে অস্থিরতা চরমে

মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধানঃ

পেশাজীবী সাংবাদিকদের জন্য বর্তমানে খুবই দুঃসময় চলছে। পেশিশক্তিসহ নানা কারণে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পরিবেশ নেই বললেই চলে। পেশাদার সাংবাদিকদের বড় একটা অংশ চরম আর্থিক সংকটে। একশেণীর লুটেরা ও অপেশাদারদের হাতে গণমাধ্যম চলে যাওয়ায় মর্যাদার এ পেশায় নিয়োজিত অনেকেই হতাশ।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে গেলে দুটি চিত্র স্পষ্ট। হাতেগোনা কজন সাংবাদিককে দামি গাড়ি হাঁকিয়ে বাহারি সাজে রাজকীয় মোডে দেখা মিলে। আর বড় একটা অংশ নিদারুণ কষ্টের মধ্য দিয়ে যে যাচ্ছে, সেটা তাদের চেহারায় ফুটে ওঠে। অভুক্ত থাকার কথা, বলে প্রায়ই অনেকে চোখের পানি ফেলছেন সহযোগিতা পাওয়া যায়- এমন সুহৃদদের সামনে। দীর্ঘ বেকারত্ব মূলত এদের কাবু করে ফেলছে।

গণমাধ্যমের আধিক্য আছে বটে। তবে হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাকিরা সাংবাদিকদের সঙ্গে চরম রসিকতা করছে। বিধি মোতাবেক নিয়োগপত্র দেওয়া তো দূরের কথা, মাস শেষে বেতনটাও ঠিকমতো পরিশোধ করে না। কী ইলেকট্রনিক মিডিয়া, কী প্রিন্ট মিডিয়া, কী অনলাইন পোর্টাল; সর্বত্রই একই অবস্থা বিরাজ করছে। একশ্রেণীর নীতিহীন মালিক এমনটা করছে।

এমনও কিছু গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান আছে নাকি, যাদের কাজ হলো; পরিচয়পত্র বিক্রি, কর্মরতদের বেতন দেওয়া নয়; উল্টো তাদের মাধ্যমে নানাভাবে কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া! কদিন আগে তো গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে যে, বমাল গ্রেফতার হওয়া ডাকাতদের কাছে গণমাধ্যমের পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে! তারা নাকি ৬ মাস পরপর টাকার বিনিময়ে নতুন নতুন পরিচয়পত্র সংগ্রহ করত!

গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধির আড়ালে এগুলোর অর্জন ও মর্যাদা কীভাবে ভূলুন্ঠিত হচ্ছে, তা বলে আর নিজেদের লজ্জার পরিধি বাড়াতে চাই না। অপরিণামদর্শীদের হাতে গণমাধ্যমে চলে যাওয়ার কুফলের কিঞ্চিত তুলে ধরার চেষ্টা করেছি মাত্র। আগে যারা গণমাধ্যমের মালিক ছিলেন, তারা ছিলেন সমাজের এলিট শ্রেণী। মান-মর্যাদা যাদের ছিল। ফলে তারা সাংবাদিকদেরও মর্যাদা দিতেন। এতে উভয়ই ভালো ছিলেন।

গণমাধ্যম যখন থেকে আলু-পোটল ব্যবসায়ী, সংবাদপত্রের একসময়ের দারোয়ান-পিয়ন, কেরানী, কম্পিউটার অপারেটর, ম্যানেজার, প্রেসের মালিক, ভূমিদস্যু আর লুটেরা শ্রেণীর কবলে চলে গেছে, মূলত তখন থেকেই এর মর্যাদাহানি ঘটে চলেছে। যার নির্মম বলি হচ্ছেন পেশাদার সাংবাদিকরা। গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান যত জ্যামিতিক হারে বেড়েছে, সাংবাদিকরা ততই নিষ্পেষিত হচ্ছেন।

না, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নাগপাশ নয়; বরং আবর্জনাসম এসব গণমাধ্যমে কথিত কর্মরতদের পরমায়েশী সংবাদ পরিবেশন করা হয়। একই ধরনের সংবাদ অনলাইন থেকে নিয়ে করা হয় পরিবেশন।একজন অপারেটর কয়েকটি দৈনিকের মালমসলা একই কম্পিটার থেকে আঞ্জাম দেন। লিজ নিয়ে তারা এসব করেন। রাজধানীর ফকিরাপুল এ জন্য খ্যাত।

পেশাদার সাংবাদিকদের এমন দুর্দদশা থেকে কবে মুক্তি মিলবে, ভেবে কূল পাচ্ছে না অভিজ্ঞ মহল। এমনটা হলে পেশা হিসেবে সাংবাদিকতা টিকে থাকবে বটে, তবে পেশারদার ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার অপমৃত্যু ঘটলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। নবম ওয়েজ বোর্ড আসছে, এতে অনেকে খুশিতে বাকবাকুম করলেও ছাঁটাই আতঙ্কে এখনই অস্থির পেশাদার গণমাধ্যমকর্মীদের বড় একটা অংশ। এতে এ খাতে অস্থিরতা বাড়ছে।

ক্রাইম ডায়রি  / সৌজন্যে (প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস)/স্পেশাল

Total Page Visits: 197 - Today Page Visits: 2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Send this to a friend