• বৃহস্পতিবার (রাত ১:২৫)
    • ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ধর্ষণের সংবাদ প্রকাশ করার জেরঃ কুমিল্লায় সাংবাদিককে মারধোর

সাহিদুজ্জামান চৌধুরী, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লা জেলার চান্দিনা থানাধীন ডেনিম প্রসেসিং প্লান্ট লিঃ এর এক নারী গার্মেন্টসকর্মী কয়েকদিন আগে গণধর্ষণের শিকার হন। এই সংবাদ প্রকাশ করার জেরে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, এ দুই সাংবাদিক হলেন দৈনিক যুগান্তরের চান্দিনা প্রতিনিধি মো. আব্দুল বাতেন এবং দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার চান্দিনা প্রতিনিধি মো. জাকির হোসেন।   এতে আহত সাংবাদিক আব্দুল বাতেন চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে চান্দিনার বেলাশহর এলাকায় অবস্থিত ওই গার্মেন্টসের সামনের সড়ক থেকে তাদেরকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে মারধর করে গার্মেন্টসের ভিতরে নিয়ে ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় ওই গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ। ডেনিম প্রসেসিং প্লান্ট লিঃ এর কোয়ালিটি সুপারভাইজার মো. লিটন, তার ভাই আনোয়ার হোসেন সহ ১০/১২জন এ হামলা জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

“চান্দিনার বেলাশহর এলাকায় অবস্থিত ওই গার্মেন্টসের সামনের সড়ক থেকে তাদেরকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে মারধর করে গার্মেন্টসের ভিতরে নিয়ে ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় ওই গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ। ডেনিম প্রসেসিং প্লান্ট লিঃ এর কোয়ালিটি সুপারভাইজার মো. লিটন, তার ভাই আনোয়ার হোসেন সহ ১০/১২জন এ হামলা জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।”

Video Player

00:00
00:06

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাংবাদিক আব্দুল বাতেন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল পৌঁনে ৮টায় আমরা মোটরসাইকেল যোগে ওই গার্মেন্টেসের সামনের সড়ক দিয়ে সাংবাদিক জাকির হোসেন এর বাড়িতে যাওয়ার পথে লিটন, আনোয়ার এর নেতৃত্বে ১০/১২ জন আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় আমাদের ব্যবহৃত ক্যামেরা ও আমার মোবাইল ফোন গুলো ছিনিয়ে নেয়।
এ ঘটনার পর চান্দিনা পুলিশ ও চান্দিনায় কর্মরত সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে গার্মেন্টেসের পরিচালক মো. আলমগীর হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমাদের গার্মেন্টেসের কোন নারী শ্রমিক ধর্ষিত না হলেও সাংবাদিকরা আমাদের সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এমনটা হতে পারে। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ৬ জুলাই-২০২০ ইং সোমবার রাত ৯টায় ওই গার্মেন্টেস ছুটির পর বাসায় ফেরার পথে গণধর্ষণের শিকার হয় এক নারী শ্রমিক। ওই রাতেই চান্দিনা থানা পুলিশ তিন ধর্ষককে আটক করে এবং ঘটনাস্থলটি দেবিদ্বার থানায় হওয়ায় পরদিন দেবিদ্বার থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে চান্দিনা থানার ওসি মো. আবুল ফয়সল সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে আমি পুলিশ পাঠিয়েছি। পুলিশ পুরো ঘটনা শুনে এবং গার্মেন্টেসের সিসিটিভির ফুটেজ দেখে সাংবাদিকদের মারধরের সত্যতা পায়। এছাড়া গত ৬ জুলাই রাতে ওই গার্মেন্টেসের এক নারী শ্রমিক ধর্ষণের ঘটনাও সত্য। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

ক্রাইম ডায়রি// জেলা//ক্রাইম//আইন শৃংখলা

Total Page Visits: 66421

ভোলায় যৌতুক মামলাঃ অফিস টাইমে ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রেফতার

ভোলা ব্যুরোঃ

অফিস টাইমে কর্মরত অবস্থায় ভোলার মনপুরায় একজন ব্যাংক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক মামলায় তাকে এভাবে গ্রেফতার করা হয়।  ভোলার মনপুরায় সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার জোবায়ের হাসান  শাকিল তার নাম। তাকে স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক ও নারী নির্যাতন মামলায় কর্মরত অবস্থায় ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের একটি টিম গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এ দিকে ব্যাংকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি না নিয়ে কর্মরত অবস্থায় একজন অফিসারকে আটক করায় সোনালী ব্যাংকের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসারকে আটকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ব্যাংক ম্যানেজার ও পুলিশের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। এই ব্যাপারে সোনালী ব্যাংক ভোলা জেলার এজিএম আবুল কালাম আজাদ মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের জানান, মনপুরা শাখায় কর্মরত অফিসারকে আটকের বিষয়টি তিনি ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কেউ জানে না। তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন।

“আধুনিক যুগে যৌতুক চাওয়ার পর ও বিয়ে দেয়া ঠিক নয়।  কারন বোঝা উচিত যে আগে যৌতুক চায় সে পরেও ঝামেলা করতে পারে। লোভীরা একবার সুযোগ পেলে বারবার সেই কাজ করতে চায়।তবে ব্যাংক কর্মকর্তা যৌতুকের জন্য চাপ দিবেন বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত। নারী নির্যাতন ঘটলেও  এ সমাজে পুরুষরাও নিরব নির্যাতনের শিকার।”

রোববার দুপুর ১টায় সোনালী ব্যাংক, মনপুরা শাখায় কর্মরত অবস্থায় ওই সিনিয়র অফিসারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মনপুরা সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার রাসেদ মাহমুদ জানান, কর্মরত অবস্থায় মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের একটি টিম এসে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। তারা আমাদের কোনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়নি। তবে একটি কাগজ রেখে গেছে যেখানে পুলিশের কর্মকর্তাদের সহযোগিতার অনুরোধ জানিয়েছেন।

মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ টিমের এসআই শরিফুল ইসলাম জানান, স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক মামলায় ওই অফিসারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোনালী ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি নেয়া হয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী শশী বিনতে সামাদ সাংবাদিকদের জানান, ২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর ঢাকার মিরপুরের শেওড়াপাড়া কাজী অফিসে ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে আমাদের বনিবনা হচ্ছিল না। সে আমাকে শারীরিক নির্যাতন করা শুরু করে। তার নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে আমি নারী নির্যাতন ও যৌতুক মামলা দায়ের করি।তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন নারী নির্যাতন একটি সামাজিক ব্যাধি। আধুনিক যুগে যৌতুক চাওয়ার পর ও বিয়ে দেয়া ঠিক নয়।  কারন বোঝা উচিত যে আগে যৌতুক চায় সে পরেও ঝামেলা করতে পারে। লোভীরা একবার সুযোগ পেলে বারবার সেই কাজ করতে চায়।তবে ব্যাংক কর্মকর্তা যৌতুকের জন্য চাপ দিবেন বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত। নারী নির্যাতন ঘটলেও  এ সমাজে পুরুষরাও নিরব নির্যাতনের শিকার।

ক্রাইম ডায়রি// আইন শৃংখলা//ক্রাইম

Total Page Visits: 66421