• বৃহস্পতিবার (রাত ১২:৪৭)
    • ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

একজন ব্যাতিক্রমী দূর্জয়ের সফলতার গল্প

মাহাবুব রহমান দূর্জয়, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

আধুনিক যুগে অনলাইন ব্যবসায় সফলতার গল্প এখন শুধু গল্প নয় বাস্তব। নিরলস পরিশ্রম ও  ত্যাগ করার মানসিকতাই পারে এমন সফলতা এনে দিতে।  যুগে যুগে তরুণরা বহু কঠিন সময়কে জয় করে সাফল্য ছিনিয়ে এনেছে। লজ্জা এবং ভয়কে যারা জয় করতে জানে তাদেরই একজন দূর্জয়।

“অনলাইনে একজন তরুণ উদ্যোক্তা দূর্জয়ের সফল হওয়ার গল্প তার নিজ মুখ হতেই  শোনাব। আমরা চাই এমন দূর্জয় আরও বেড়িয়ে পড়ুক তাদের নিয়তি উন্নয়নের দূর্গম যাত্রায়।”

“””আমি যখন শুরু করি তখন কান্টি লক-ডাউন!ব্যবসাটা আমি ঠিক তখন আরম্ভ করি যখন সবার ব্যবসা বানিজ্য বন্ধ। কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত পুরো পৃথিবী। কর্মহীন পৃথিবীর সকল শ্রেণী পেশার মানুষ। মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ তখন সরকারি ঘোষনায় সম্পূর্ণ লক-ডাউন। নিম্ন আয়ের নিত্যদিনকার আয় করা মানুষের দুঃখ কষ্ট চরমে। যেদিকেই যাই সে দিকেই মৃত্যু আর অসুস্থ্য রোগীর তালিকা বিশাল দেখি।

এমতাবস্থায় বেকার কিছু মানুষের কর্মসংস্থান করার চিন্তা আসে মাথায়। তখন প্রচন্ড গরমকাল শুরু। মৌসুমি ফলগুলো বাজারে আসা শুরু করেছে সবে। দেখলাম তরমুজ খুব চলছে! আমার আপন বড় ভাইসহ আরও তিনজনের সমন্বয়ে তরমুজ ব্যবসা শুরু করলাম। ভালোই চাহিদা দেখে আগ্রহ বেড়ে গেলো। বাজারের শুরুতেই বাঙ্গী আনা শুরু করলাম। ভালোই লাভ হলো।

এরপর রমজান শুরু হলো; তরমুজ, বাঙ্গী, আপেল, আম, খেজুর, লেবু, নারকেল প্রচুর পরিমাণে বিক্রি করে প্রত্যাশা বেড়ে গেলো। আম পুরোদমে যখন শুরু করলাম তখন সবাই অবাক! এত বিক্রি কিভাবে?

আমের পর লিচু, কাঁঠাল, আনারস আনলাম। সবগুলা ফল বিক্রি করেছি অনলাইনে। অফলাইনে তেমন বিক্রি করি নাই। দোকান ছিলো না, গোডাউন ছিলো বিশাল। দৈনিক তিন টন পর্যন্ত আমের অর্ডার সম্পন্ন করেছি। ক্রেতার সাথে কথা এবং কাজের শতভাগ মিল রেখেই বেঁচাবিক্রি অব্যাহত রেখেছি।

যেহেতু কাঁচামালের ব্যবসা সেক্ষেত্রে কিছু কিছু পণ্য পঁচে গেছে, পঁচা পেয়েছি। কিন্তু হতাশ হই নি। সাহস রেখেছি। অনলাইনে বিক্রির জন্য আরও কয়েকজন বানিয়ে নিয়েছি নিজের মত। দিনশেষে সন্তুষ্টি এবং মুখের কোনে এক চিলতে হাসিই প্রমাণ করে ব্যবসা ভালোই করছি।

বলছি; নতুন হিসেবে এই পরিমাণে ব্যবসা হবে কল্পনাও করতে পারি না। একটা সময় খুঁচরার চেয়ে পাইকারি বিক্রি বেড়ে গেলো। মোট বিক্রি পরিমান অকল্পনীয়। চালান আসলেই ফুরিয়ে যাচ্ছে। মনে স্বপ্নরা আশা বাধলো। দেশের বাইরে একবন্ধুর মারফতে কথা হলো। আম ও কাঁঠাল পাঠানোর জন্য অনুরোধ করলো। আমি নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।

অনেকে আমাকে দেখে আমার সাথে কথা বলে ব্যবসা শুরু করলো। আমি তাদেরকে সুযোগ দিলাম। অন্যদিকে আম ও কাঁঠাল রপ্তানির জন্য প্রস্তুত হচ্ছি। কাঁঠাল আগে পাঠালাম, এরপর আমও পাঠালাম।

মূলকথা; যেখানে সবাই ভয়ে লক-ডাউন হয়ে ঘরে ছিলো ঠিক তখনই আমি কর্মসংস্থান করার জন্য বেড়িয়ে পরলাম ঘর থেকে। মানুষকে ঘরে রেখেই তাঁদের চাহিদা অনুযায়ী মানসম্পন্ন পণ্য পাঠালাম। সর্বমোট হিসেব করে দেখলাম যে ৭০ টনেরও অধিক আম বিক্রি করতে পেরেছি। ভ্রু কপালে উঠলো তাই না? উঠাই স্বাভাবিক, কারণ আমি সম্পূর্ণ নতুন, এটা অসম্ভব। কিন্তু বাস্তবতা এটাই যে আমি সত্যটাই তুলে ধরেছি।

কাজ যাই হোক, করতে হবে! সাহস নিয়ে আগাতে হবে। চুরি ডাকাতি করার জন্য সাহস থাকলে সৎ ভাবে কাজ করতে সাহস থাকবে না কেন? খারাপ কর্মে সম্মান নষ্ট হয়, সৎ ও পবিত্র কর্মে সম্মান বাড়ে! আপনি ভাবেন যে যাই করছেন অন্তত চুরি বা ভিক্ষা তো করছেন না। কর্ম করার জন্য এর চেয়ে বেশী অনুপ্রেরণার দরকার পরে না। নিজেকে নিয়ে ভাবুন, পরিবার নিয়ে ভাবুন।

আপনার আজকের সামন্য ভাবনা নিঃসন্দেহে বিশাল ভাবনায় পরিণত হতে বাধ্য যদি আপনার থাকে অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম করার মত মানসিকতা। জড়তা ছেড়ে দিয়ে নেমে পড়ুন, আজকেই নামুন। কালকে আপনিই হতে পারেন শিরোনাম। অনেকের অনুপ্রেরণা।

ভালো থাকুন, সাথে থাকুন! ভালো রাখুন, সাথে আছি!”””

ক্রাইম ডায়রি/// স্পেশাল

Total Page Visits: 66418

নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছে না রাজধানীর অনেক গণপরিবহন

ডেস্ক রিপোর্টঃঃ

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় গণপরিবহনে একসিট একযাত্রী নীতি কার্যতঃ অনেকাংশেই অকার্যকর হয়ে পড়েছে।। গোড়ার দিকে গাড়ির হেলপাররা যাত্রীদের খুব সাবধাব্ন মতো ওঠানামা করাতো। গাড়িতে উঠতে হলে যাত্রীদের হাতে তারা স্প্রে করত। কয়েকদিন এভাবে চলার পর স্প্রে বন্ধ করা হলো। তারা স্প্রে না করলেও যাত্রীদের আপত্তি নেই। কারন, মানুষ এখন অনেক সচেতন। কিন্তু সমস্যা হলো যাত্রীদের একসিটের পুরো ভাড়া নেয়ার পরেও তারা গাড়িতে লোকাল যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছে এবং একসিটে দুইজন করে যাত্রী বসাচ্ছে।।গোবেচারা টাইপের যাত্রী একটু উসখুস করলেও সচেতন যাত্রীদের সাথে প্রায় চেঁচামেচি করছে হেলপর  ও ড্রাইভার।  এ প্রবণতা রাজধানীতে এবং প্রশাসনের নাকের ডগায়। কোন কোন যাত্রী প্রশাসনের ভয় দেখালে   তারা একরুপ চিৎকার করেই বলছে যে,প্রশাসনকে তারা টোল দিয়ে চলে।সবচেয়ে ভয়াবহ হলো শেওড়াপাড়া রুটের তেতুলিয়া পরিবহন। স্বেচ্ছাচারীতার চরম নিদর্শন ওরা।।। এখন বাধ্য হয়েই জনগনকে ডাবল ভাড়া দিয়ে লোকাল বাসের মতো ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয় এই গাড়িতে।। অভিযোগের ভিত্তিতে টিম ক্রাইম ডায়রির সদস্যরা পরপর কয়েকদিন সকাল,দুপুর, বিকেল ও সন্ধ্যায় শ্যামলী হতে আব্দুল্লাহপুর যাতায়াত করে অভিযোগের   সত্যতা খুঁজে পায়।

আগারগাঁও হতে মিরপুর কালশি মোড়   পর্যন্ত একটি তেতুলিয়া বাস ৬/৮ টি স্টপেজের জায়গায় কমপক্ষে ৩৬ হতে ৫০ বার থামে।।। জ্যাম থাকুক চাই না থাকুক এরকম থামা এবং গাদাগাদি করে যাত্রী তোলাতে সরকারী আদেশের তোয়াক্কা করছে না তারা। একসিট কয়েকবার বিক্রি করছে। পুরো আব্দুল্লাহপুর হতে মোহাম্মদপুর এর   ভাড়া দিয়ে আব্দুল্লাহপুর হতে একজন যাত্রী যদি শেওড়ায়  নেমে যায় সেখান হতে ওঠা নতুন যাত্রীকেও পুনরায় একই ভাড়া গুনতে হয়। মাস্কের বালাই নেই,প্রকাশ্য ধুমপান করছে ড্রাইভার। গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী তুলে বলছে যাত্রী জোড় করে উঠলে আমরা কি করব??? একই দৃশ্য দেখা গেল যাত্রাবাড়ী কিংবা সদরঘাট থেকে ছেড়ে আসা গাবতলীর বাস গুলোতে।।পুরানা পল্টন ট্রাফিক পুলিশ বক্স এর সামনে হতে একই সিটে দু’জন করে যাত্রী ওঠাচ্ছে তারা। রাজধানীর প্রায় সবরুট এমনকি লেগুনাগুলো কোনভাবেই কোন নিয়মনীতি মানছেন না।। জনগনের দাবী যদি নাই মানে তবে করোনার কঠিন বাস্তবতায় গাড়িভাড়া আগের মতো করা হোক।।  তবুও জনগন অনেক স্বস্তি পাবে। প্রতিবাদের ভাষা ক্ষুধার্ত ও ভীত জনতার নিকট নেই।

যাত্রীদের অভিযোগ সার্জেন্টরা এমন অনিয়ম দেখেও মামলা দিচ্ছেন না কিংবা কিছু বলছেন না।।অথচ, ওরা তাকেই বেশি ভয় পায়।। ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য যেমন গাড়ি চেকিং করা হয় ঠিক তেমন ভাবে যদি চেকিং করা হতো তবে দুদিনেই বন্ধ করা সম্ভব এসব অনিয়ম।

এর বাইরে সিরাজগঞ্জ শহর হতে ঢাকা গাবতলীগামী এসআই ট্রাভেলসের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ দিয়েছেন পরিবহনের একাধিক যাত্রী। কাউন্টার হতে সঠিকভাবে গাড়ি ছাড়লেও একটু এগিয়ে গিয়েই একাধিক যাত্রী ওঠাচ্ছে গাড়ির সুপারাভাইজার।।। দুর্বলচিত্তের যাত্রী পেলেই তার পাশে বসিয়ে দিচ্ছে পথিমধ্যে হতে ওঠানো যাত্রীকে।। এ নিয়ে যাত্রীদের সাথে বচসাও করছেন তারা।।

আবার মাস্ক ব্যবহার মোটেও করছেন না সুপারভাইজার এবং হেলপাররা।।। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলা ছাড়াও গাড়ির ভিতর অধিক যাত্রী নিয়ে যাত্রী হয়রানী বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ নিতে ক্রাইম ডায়রির মাধ্যমে বঙ্গকন্যা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোসহীন নেতা গণমানুষের আশার প্রদীপ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট বিশেষ দাবী জনতার।

ক্রাইম ডায়রি//      ক্রাইম// জাতীয়

Total Page Visits: 66418