• রবিবার (সকাল ৮:০০)
    • ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ভূয়া করোনা সনদ বিক্রিঃঃ ডাঃ সাবরিনার দাবী ডিজিকে তিনি জানিয়েছিলেন

ক্রাইম ডায়রি অনলাইন ডেস্কঃঃ

ভয়ংকর করোনার কড়াল থাবায় পুরো বিশ্ব যখন নাজেহাল তখন করোনার ভূয়া রিপোর্ট দিয়ে করোনা মহামারী ছড়িয়ে মানব হত্যার মত জঘন্য কাজের সাথে জড়িত হওয়া কতটুকু জঘন্য তা বিচারের ভার জনগনের উপরই ছেড়ে দিলাম।   রাতদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন দেশ প্রধান বঙ্গকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর তার সকল অর্জন ধুলিসাৎ করে দিচ্ছে তার আশেপাশে থাকা সুবিধাভোগী হাইব্রিড দলবাজরা। ব্যবহৃত হচ্ছে নারী; ব্যবহৃত হচ্ছে ব্যানার। এরা কবে কে দল করে আওয়ামীলীগকে উদ্ধার করেছে তার খোঁজ পাওয়া যায়না। অথচ, আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে হঠাৎ করে নিরিহ জনগনের উপর অমানবিক নির্যাতন করে নিজের সুবিধা বাগিয়ে নিতে পিছপা হচ্ছেনাা।

সিন্ডিকেট করে অপরাধ চলছেই। তারই অংশ হিসেবে নমুনা ফেলে দিয়ে হাজারো মনগড়া কোভিড রিপোর্ট দেয়ার পর জেকেজির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী বলছেন, প্রতারণার বিষয়ে আগেই জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে।

এরা কবে কে দল করে আওয়ামীলীগকে উদ্ধার করেছে তার খোঁজ পাওয়া যায়না। অথচ, আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে হঠাৎ করে নিরিহ জনগনের উপর অমানবিক নির্যাতন করে নিজের সুবিধা বাগিয়ে নিতে পিছপা হচ্ছেনা।

নিজে বাঁচার জন্য এখন জড়াতে চাচ্ছেন মহাপরিচালককে। তবে এ বিষয়ে এখনো মুখ খোলেননি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। একাধিক সূত্র বলছে, মহাপরিচালক এমন নন। তাকে ফাঁসাতে এবং নিজে বাঁচতে এমন কথা বলছেন সাবরিনা। সঠিক ও গভীর তদন্ত করলে হয়তো আরও গভীর কিছু পাওয়া যেতে পারে।

করোনা সনদ জালিয়াতিসহ চার মামলায় গ্রেপ্তার আরিফুলসহ ছয়জন আছেন কারাগারে।গত ২৪ জুন  তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে থানায় হামলার মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন জেকেজির ১৮ কর্মী। কিন্তু তার স্ত্রী সাবরিনা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এদিকে ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী দাবি করছেন তিনি জেকেজির চেয়ারম্যান নন। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে একটি বেসরকারি চ্যানেলকে সাবরিনা বলেন, জেকেজির চেয়ারম্যান হওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। বরং এটা ওভাল কোম্পানির একটি অঙ্গসংগঠন। ওভাল গ্রুপ ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। যেখানকার মালিক হচ্ছেন আরিফুর রহমান। তবে করোনার নমুনা সংগ্রহের প্রতারণা সামনে আসার আগে তিনি নিজেকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জেকেজির চেয়ারম্যান পরিচয় দিয়ে সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন।

প্রতারণার বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছিলো কি না এমন প্রশ্নে সাবরিনা বলেন, ‘বলেছি, আমি ডিজি স্যারকে (আবুল কালাম আজাদ) বলেছি, এডিজিকে বলেছি।’

তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আরিফের সব প্রভাব ও হুমকিধমকির পেছনে ছিল স্ত্রী ডা. সাবরিনা। ডা. সাবরিনা এ চৌধুরী ওরফে ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরীকে প্রায়ই টেলিভিশন টকশোতে দেখা যেত স্বাস্থ্যবিষয়ক আলোচনায়। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের রেজিস্টার্ড চিকিৎসক হয়েও তিনি ছিলেন কথিত ‘স্বেচ্ছাসেবী’ সংগঠন জেকেজি হেলথ কেয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান।স্বামীর প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে ‘নানা অনৈতিক উপায়’ অবলম্বনের অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। এতে নাম এসেছে বিএমএর এক নেতারও। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সরকারের অনেক উচ্চপদস্থদের সঙ্গে ‘ওঠাবসার’ ছবি দেখিয়ে সুবিধা নিতো এই দম্পতি। তবে জুনের শুরুতে মনোমালিন্যের পর দূরত্ব শুরু হয় দুজনের।

তদন্ত ও তদন্ত তদারকি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনা মহামারীর শুরুর দিকে ডা. সাবরিনার তদবিরে জেকেজি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে করোনার নমুনা সংগ্রহের কাজ বাগিয়ে নেয়। এখান থেকে করোনা টেস্টের নামে ভুয়া সদন দেওয়া শুরু করেন আরিফুল। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৪৪টি নমুনা সংগ্রহ বুথ বসিয়ে ও হটলাইন খুলে নমুনা সংগ্রহ করে কোনো পরীক্ষা না করেই প্রতিষ্ঠানটি কমপক্ষে ১৬ হাজার মানুষকে করোনা টেস্টের ভুয়া সনদ দিয়েছে। গুলশানে তাদের অফিসের ১৫ তলার কক্ষে বসেই এসব মনগড়া সনদ তৈরি করে হাজার হাজার মানুষের মেইলে পাঠানো হতো। বুথের বাইরে হটলাইনের মাধ্যমে ‘বিশ্বস্ত এজেন্ট’ দিয়ে বাসা বাড়িতে গিয়েও নমুনা সংগ্রহ করতেন জেকেজি কর্মীরা। গত ২৩ জুন করোনার মনগড়া সনদ দেওয়া, জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে তেজগাঁও থানা পুলিশ আরিফুলসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। অভিযান তদারকি করেন তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার হারুন অর রশীদ।

গ্রেপ্তারের পর থানা-হাজতে থাকা অবস্থায় আরিফুলের ক্যাডার বাহিনী ভাঙচুর ও হামলা করে থানায়। মারধর করে পুলিশকেও। এছাড়া রাজধানীর মহাখালীর তিতুমীর কলেজে নমুনা সংগ্রহের বুথ বসিয়ে সেখানে প্রশিক্ষণের নামে শুরু করেন নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড। কলেজের কক্ষে কক্ষে নারী-পুরুষের আপত্তিকর অবস্থানসহ নানা অনৈতিক কাজে বাধা দিলে তিতুমীর কলেজের শিক্ষক, কর্মচারী ও ছাত্রদের ওপরও হামলা করে আরিফুলের ক্যাডার বাহিনী। মূলত ওই মামলার অনুসন্ধান করতে গিয়েই বেরিয়ে আসে আরিফুলের নানা অপকর্মের কাহিনী। রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন জনকে হুমকি দিতেন তিনি। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নাম ব্যবহার করে স্বাস্থ্য অধিপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালককেও দেখে নেওয়ার হুমকি দেন আরিফুল।

তার বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় প্রতারণা জালিয়াতি, সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের ওপর হামলাসহ নানা অভিযোগে চারটি মামলা করেছে পুলিশ। তার একটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল উদ্দিন গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গ্রেপ্তার আসামিরা জেলহাজতে আছে। আমি একটি মামলার তদন্ত করছি। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা আসবে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।’ তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়েও বলে জানান তিনি।বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনার অন্যায়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির প্রতি আস্থাশীল জনগন।  একাধিক সাধারন মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এই মানুষরুপী জানোয়ারকে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করলে জনগন সরকারের পাশে আছে এবং থাকবে।

তদন্ত তদারকি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, প্রথমে তিতুমীর কলেজ মাঠে নমুনা সংগ্রহ বুথ স্থাপনের অনুমতি পায় জেকেজি। পরে প্রভাব খাটিয়ে ঢাকার বাসাবোসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে ৪৪টি বুথ বসিয়ে নমুনা সংগ্রহ করছিল তারা। স্বামী-স্ত্রী মিলে করোনা টেস্টের ভুয়া সনদ বিক্রি করতে থাকেন। প্রতিটি টেস্টের জন্য জনপ্রতি নেওয়া হয় সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার টাকা আর বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে জনপ্রতি নিতে থাকে ১০০ ডলার। করোনা টেস্ট কারবার করে জেকেজি হাতিয়ে নিয়েছে কমপক্ষে ৮ কোটি টাকা। এমন অন্যায়ে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করলে আর কেউ এহেন জঘন্য কাজ করার সাহস পাবেনা বলে মন্তব্য সাধারন গণমানুষের।

ক্রাইম ডায়রি// ক্রাইম   ///সূত্র:দেশ রূপান্তর

Total Page Visits: 66753

মাদক ব্যবসায়ী ইউপি মেম্বরকে আটকের দাবীতে মানববন্ধন

শেখ সাইফুল ইসলাম কবির,বাগেরহাট প্রতিনিধি:

মাদকের বিরুদ্ধে বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্স নীতির সফল বাস্তবায়নের মাঝেও সরকারের মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক দায়িত্বপালনকারী একজন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মাদকের সাথে নিজে জড়িত আবার ব্যবসাও করেন এমনটা ভাবতেই কেমন যেন অবাক হতে হয়। মাদক কেন; কোন একটা দূর্নীতি করে আওয়ামীলীগের কোন প্রভাবশালীই যেখানে পার পায়নি সেখানে এই মেম্বরের খুঁটির জোর কোথায়?? কার ইন্ধনে ও সাহসে তিনি মাদক ব্যবসা করেন???সেই গুটিবাজ ইন্ধনদাতা ও তার সহযোগী ইউপি মেম্বরকে এখনি গ্রেফতার সময়ের দাবী।।

সম্প্রতি, বাগেরহাটের চিতলমারীতে বিধবার জমি দখলের প্রতিবাদ ও আওয়ামী লীগ নেতা দিপুল শেখ হত্যা মামলার আসামী মাদক ব্যবসায়ী ইউপি সদস্য মিজানুর রহমানকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে চিতলমারী উপজেলার পরানপুর গ্রামে ঘন্টাব্যাপি এ মানববন্ধনে দুই শতাধিক এলাকাবাসী অংশ নেয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড (পরানপুর) আওয়ামী লীগের সভাপতি ফখরুল আলম, মৃত হানিফ শেখের স্ত্রী হাওয়া বেগম, আওয়ামী লীগ নেতা মৃত দিপুল শেখের ছেলে আল আমিন শেখ, স্ত্রী কামনা বেগম, দিপুলের ভাই মোঃ বাবুল শেখ, ফরিদ শেখ, স্থানীয় নোমান শেখ, এসএম সুমনসহ আরও অনেকে।

মাদক কেন; কোন একটা দূর্নীতি করে আওয়ামীলীগের কোন প্রভাবশালীই যেখানে পার পায়নি সেখানে এই মেম্বরের খুঁটির জোর কোথায়?? কার ইন্ধনে ও সাহসে তিনি মাদক ব্যবসা করেন???সেই গুটিবাজ ইন্ধনদাতা ও তার সহযোগী ইউপি মেম্বরকে এখনি গ্রেফতার সময়ের দাবী।।

বক্তারা বলেন, মিজানুর রহমান একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এমন কোন অপরাধ নেই যা তিনি করেননি। ৮ই এপ্রিল মিজানুর রহমান ও তার লোকেরা হামলা চালিয়ে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক দিপুল শেখকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এলাকার অনেকেরই জমি দখল করেছে এই মিজান ও তার বাহিনী। থানায় হত্যা, মাদক, জমিদখলসহ কয়েকটি মামলা থাকলেও মিজানকে আটক করে না পুলিশ। মিজানের দাপটে স্থানীয়রা সব সময় আতঙ্কিত থাকেন। মিজানকে আটক করে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তারা।
হত্যার শিকার আওয়ামী লীগ নেতা দিপুল শেখের ছেলে আল আমিন শেখ বলেন, ৮ এপ্রিল মাগরিবের সময় মিজান ও তার লোকেরা আমার বাবার উপর হামলা করে। পরে রাতেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার পিতা মারা যায়। আমরা হত্যা মামলা করলেও পুলিশ মিজান মেম্বরকে আটক করেনি। বরং মিজান আমাদেরকে হুমকী ধামকি দিচ্ছে মামলা তুলে নিতে।
বিধবা হাওয়া বেগম বলেণ, মিজান মেম্বর ও তার লোকেরা জোর করে আমার বাড়ির ১৭ শতক জমি দখল করে নিয়েছে। আমি জমিতে আসতে পারিনা। জমিতে আসলে আমাকে মেরে ফেলবে। আমি থানা পুলিশকে জানালেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি তারা। আমি আমার জমি ফেরত চাই। এই অত্যাচারীর হাত থেকে বাঁচতে চাই। শুধু আমার নয় এলাকার অনেকের জমি দখল করেছে মিজান মেম্বর। ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারে না।
চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর শরিফুল হক বলেণ, মামলার পর থেকে মিজান পলাতক রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি তাকে আটকের জন্য।

ক্রাইম ডায়রি// ক্রাইম
Total Page Visits: 66753