• রবিবার (সকাল ৯:১৩)
    • ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ধর্ষণের সংবাদ প্রকাশ করার জেরঃ কুমিল্লায় সাংবাদিককে মারধোর

সাহিদুজ্জামান চৌধুরী, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লা জেলার চান্দিনা থানাধীন ডেনিম প্রসেসিং প্লান্ট লিঃ এর এক নারী গার্মেন্টসকর্মী কয়েকদিন আগে গণধর্ষণের শিকার হন। এই সংবাদ প্রকাশ করার জেরে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, এ দুই সাংবাদিক হলেন দৈনিক যুগান্তরের চান্দিনা প্রতিনিধি মো. আব্দুল বাতেন এবং দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার চান্দিনা প্রতিনিধি মো. জাকির হোসেন।   এতে আহত সাংবাদিক আব্দুল বাতেন চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে চান্দিনার বেলাশহর এলাকায় অবস্থিত ওই গার্মেন্টসের সামনের সড়ক থেকে তাদেরকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে মারধর করে গার্মেন্টসের ভিতরে নিয়ে ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় ওই গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ। ডেনিম প্রসেসিং প্লান্ট লিঃ এর কোয়ালিটি সুপারভাইজার মো. লিটন, তার ভাই আনোয়ার হোসেন সহ ১০/১২জন এ হামলা জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

“চান্দিনার বেলাশহর এলাকায় অবস্থিত ওই গার্মেন্টসের সামনের সড়ক থেকে তাদেরকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে মারধর করে গার্মেন্টসের ভিতরে নিয়ে ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় ওই গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ। ডেনিম প্রসেসিং প্লান্ট লিঃ এর কোয়ালিটি সুপারভাইজার মো. লিটন, তার ভাই আনোয়ার হোসেন সহ ১০/১২জন এ হামলা জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।”

Video Player

00:00
00:06

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাংবাদিক আব্দুল বাতেন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল পৌঁনে ৮টায় আমরা মোটরসাইকেল যোগে ওই গার্মেন্টেসের সামনের সড়ক দিয়ে সাংবাদিক জাকির হোসেন এর বাড়িতে যাওয়ার পথে লিটন, আনোয়ার এর নেতৃত্বে ১০/১২ জন আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় আমাদের ব্যবহৃত ক্যামেরা ও আমার মোবাইল ফোন গুলো ছিনিয়ে নেয়।
এ ঘটনার পর চান্দিনা পুলিশ ও চান্দিনায় কর্মরত সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে গার্মেন্টেসের পরিচালক মো. আলমগীর হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমাদের গার্মেন্টেসের কোন নারী শ্রমিক ধর্ষিত না হলেও সাংবাদিকরা আমাদের সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এমনটা হতে পারে। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ৬ জুলাই-২০২০ ইং সোমবার রাত ৯টায় ওই গার্মেন্টেস ছুটির পর বাসায় ফেরার পথে গণধর্ষণের শিকার হয় এক নারী শ্রমিক। ওই রাতেই চান্দিনা থানা পুলিশ তিন ধর্ষককে আটক করে এবং ঘটনাস্থলটি দেবিদ্বার থানায় হওয়ায় পরদিন দেবিদ্বার থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে চান্দিনা থানার ওসি মো. আবুল ফয়সল সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে আমি পুলিশ পাঠিয়েছি। পুলিশ পুরো ঘটনা শুনে এবং গার্মেন্টেসের সিসিটিভির ফুটেজ দেখে সাংবাদিকদের মারধরের সত্যতা পায়। এছাড়া গত ৬ জুলাই রাতে ওই গার্মেন্টেসের এক নারী শ্রমিক ধর্ষণের ঘটনাও সত্য। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

ক্রাইম ডায়রি// জেলা//ক্রাইম//আইন শৃংখলা

Total Page Visits: 66764

ভোলায় যৌতুক মামলাঃ অফিস টাইমে ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রেফতার

ভোলা ব্যুরোঃ

অফিস টাইমে কর্মরত অবস্থায় ভোলার মনপুরায় একজন ব্যাংক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক মামলায় তাকে এভাবে গ্রেফতার করা হয়।  ভোলার মনপুরায় সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার জোবায়ের হাসান  শাকিল তার নাম। তাকে স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক ও নারী নির্যাতন মামলায় কর্মরত অবস্থায় ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের একটি টিম গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এ দিকে ব্যাংকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি না নিয়ে কর্মরত অবস্থায় একজন অফিসারকে আটক করায় সোনালী ব্যাংকের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসারকে আটকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ব্যাংক ম্যানেজার ও পুলিশের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। এই ব্যাপারে সোনালী ব্যাংক ভোলা জেলার এজিএম আবুল কালাম আজাদ মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের জানান, মনপুরা শাখায় কর্মরত অফিসারকে আটকের বিষয়টি তিনি ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কেউ জানে না। তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন।

“আধুনিক যুগে যৌতুক চাওয়ার পর ও বিয়ে দেয়া ঠিক নয়।  কারন বোঝা উচিত যে আগে যৌতুক চায় সে পরেও ঝামেলা করতে পারে। লোভীরা একবার সুযোগ পেলে বারবার সেই কাজ করতে চায়।তবে ব্যাংক কর্মকর্তা যৌতুকের জন্য চাপ দিবেন বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত। নারী নির্যাতন ঘটলেও  এ সমাজে পুরুষরাও নিরব নির্যাতনের শিকার।”

রোববার দুপুর ১টায় সোনালী ব্যাংক, মনপুরা শাখায় কর্মরত অবস্থায় ওই সিনিয়র অফিসারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মনপুরা সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার রাসেদ মাহমুদ জানান, কর্মরত অবস্থায় মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের একটি টিম এসে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। তারা আমাদের কোনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়নি। তবে একটি কাগজ রেখে গেছে যেখানে পুলিশের কর্মকর্তাদের সহযোগিতার অনুরোধ জানিয়েছেন।

মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ টিমের এসআই শরিফুল ইসলাম জানান, স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক মামলায় ওই অফিসারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোনালী ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি নেয়া হয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী শশী বিনতে সামাদ সাংবাদিকদের জানান, ২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর ঢাকার মিরপুরের শেওড়াপাড়া কাজী অফিসে ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে আমাদের বনিবনা হচ্ছিল না। সে আমাকে শারীরিক নির্যাতন করা শুরু করে। তার নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে আমি নারী নির্যাতন ও যৌতুক মামলা দায়ের করি।তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন নারী নির্যাতন একটি সামাজিক ব্যাধি। আধুনিক যুগে যৌতুক চাওয়ার পর ও বিয়ে দেয়া ঠিক নয়।  কারন বোঝা উচিত যে আগে যৌতুক চায় সে পরেও ঝামেলা করতে পারে। লোভীরা একবার সুযোগ পেলে বারবার সেই কাজ করতে চায়।তবে ব্যাংক কর্মকর্তা যৌতুকের জন্য চাপ দিবেন বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত। নারী নির্যাতন ঘটলেও  এ সমাজে পুরুষরাও নিরব নির্যাতনের শিকার।

ক্রাইম ডায়রি// আইন শৃংখলা//ক্রাইম

Total Page Visits: 66764

একজন ব্যাতিক্রমী দূর্জয়ের সফলতার গল্প

মাহাবুব রহমান দূর্জয়, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

আধুনিক যুগে অনলাইন ব্যবসায় সফলতার গল্প এখন শুধু গল্প নয় বাস্তব। নিরলস পরিশ্রম ও  ত্যাগ করার মানসিকতাই পারে এমন সফলতা এনে দিতে।  যুগে যুগে তরুণরা বহু কঠিন সময়কে জয় করে সাফল্য ছিনিয়ে এনেছে। লজ্জা এবং ভয়কে যারা জয় করতে জানে তাদেরই একজন দূর্জয়।

“অনলাইনে একজন তরুণ উদ্যোক্তা দূর্জয়ের সফল হওয়ার গল্প তার নিজ মুখ হতেই  শোনাব। আমরা চাই এমন দূর্জয় আরও বেড়িয়ে পড়ুক তাদের নিয়তি উন্নয়নের দূর্গম যাত্রায়।”

“””আমি যখন শুরু করি তখন কান্টি লক-ডাউন!ব্যবসাটা আমি ঠিক তখন আরম্ভ করি যখন সবার ব্যবসা বানিজ্য বন্ধ। কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত পুরো পৃথিবী। কর্মহীন পৃথিবীর সকল শ্রেণী পেশার মানুষ। মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ তখন সরকারি ঘোষনায় সম্পূর্ণ লক-ডাউন। নিম্ন আয়ের নিত্যদিনকার আয় করা মানুষের দুঃখ কষ্ট চরমে। যেদিকেই যাই সে দিকেই মৃত্যু আর অসুস্থ্য রোগীর তালিকা বিশাল দেখি।

এমতাবস্থায় বেকার কিছু মানুষের কর্মসংস্থান করার চিন্তা আসে মাথায়। তখন প্রচন্ড গরমকাল শুরু। মৌসুমি ফলগুলো বাজারে আসা শুরু করেছে সবে। দেখলাম তরমুজ খুব চলছে! আমার আপন বড় ভাইসহ আরও তিনজনের সমন্বয়ে তরমুজ ব্যবসা শুরু করলাম। ভালোই চাহিদা দেখে আগ্রহ বেড়ে গেলো। বাজারের শুরুতেই বাঙ্গী আনা শুরু করলাম। ভালোই লাভ হলো।

এরপর রমজান শুরু হলো; তরমুজ, বাঙ্গী, আপেল, আম, খেজুর, লেবু, নারকেল প্রচুর পরিমাণে বিক্রি করে প্রত্যাশা বেড়ে গেলো। আম পুরোদমে যখন শুরু করলাম তখন সবাই অবাক! এত বিক্রি কিভাবে?

আমের পর লিচু, কাঁঠাল, আনারস আনলাম। সবগুলা ফল বিক্রি করেছি অনলাইনে। অফলাইনে তেমন বিক্রি করি নাই। দোকান ছিলো না, গোডাউন ছিলো বিশাল। দৈনিক তিন টন পর্যন্ত আমের অর্ডার সম্পন্ন করেছি। ক্রেতার সাথে কথা এবং কাজের শতভাগ মিল রেখেই বেঁচাবিক্রি অব্যাহত রেখেছি।

যেহেতু কাঁচামালের ব্যবসা সেক্ষেত্রে কিছু কিছু পণ্য পঁচে গেছে, পঁচা পেয়েছি। কিন্তু হতাশ হই নি। সাহস রেখেছি। অনলাইনে বিক্রির জন্য আরও কয়েকজন বানিয়ে নিয়েছি নিজের মত। দিনশেষে সন্তুষ্টি এবং মুখের কোনে এক চিলতে হাসিই প্রমাণ করে ব্যবসা ভালোই করছি।

বলছি; নতুন হিসেবে এই পরিমাণে ব্যবসা হবে কল্পনাও করতে পারি না। একটা সময় খুঁচরার চেয়ে পাইকারি বিক্রি বেড়ে গেলো। মোট বিক্রি পরিমান অকল্পনীয়। চালান আসলেই ফুরিয়ে যাচ্ছে। মনে স্বপ্নরা আশা বাধলো। দেশের বাইরে একবন্ধুর মারফতে কথা হলো। আম ও কাঁঠাল পাঠানোর জন্য অনুরোধ করলো। আমি নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।

অনেকে আমাকে দেখে আমার সাথে কথা বলে ব্যবসা শুরু করলো। আমি তাদেরকে সুযোগ দিলাম। অন্যদিকে আম ও কাঁঠাল রপ্তানির জন্য প্রস্তুত হচ্ছি। কাঁঠাল আগে পাঠালাম, এরপর আমও পাঠালাম।

মূলকথা; যেখানে সবাই ভয়ে লক-ডাউন হয়ে ঘরে ছিলো ঠিক তখনই আমি কর্মসংস্থান করার জন্য বেড়িয়ে পরলাম ঘর থেকে। মানুষকে ঘরে রেখেই তাঁদের চাহিদা অনুযায়ী মানসম্পন্ন পণ্য পাঠালাম। সর্বমোট হিসেব করে দেখলাম যে ৭০ টনেরও অধিক আম বিক্রি করতে পেরেছি। ভ্রু কপালে উঠলো তাই না? উঠাই স্বাভাবিক, কারণ আমি সম্পূর্ণ নতুন, এটা অসম্ভব। কিন্তু বাস্তবতা এটাই যে আমি সত্যটাই তুলে ধরেছি।

কাজ যাই হোক, করতে হবে! সাহস নিয়ে আগাতে হবে। চুরি ডাকাতি করার জন্য সাহস থাকলে সৎ ভাবে কাজ করতে সাহস থাকবে না কেন? খারাপ কর্মে সম্মান নষ্ট হয়, সৎ ও পবিত্র কর্মে সম্মান বাড়ে! আপনি ভাবেন যে যাই করছেন অন্তত চুরি বা ভিক্ষা তো করছেন না। কর্ম করার জন্য এর চেয়ে বেশী অনুপ্রেরণার দরকার পরে না। নিজেকে নিয়ে ভাবুন, পরিবার নিয়ে ভাবুন।

আপনার আজকের সামন্য ভাবনা নিঃসন্দেহে বিশাল ভাবনায় পরিণত হতে বাধ্য যদি আপনার থাকে অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম করার মত মানসিকতা। জড়তা ছেড়ে দিয়ে নেমে পড়ুন, আজকেই নামুন। কালকে আপনিই হতে পারেন শিরোনাম। অনেকের অনুপ্রেরণা।

ভালো থাকুন, সাথে থাকুন! ভালো রাখুন, সাথে আছি!”””

ক্রাইম ডায়রি/// স্পেশাল

Total Page Visits: 66764

নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছে না রাজধানীর অনেক গণপরিবহন

ডেস্ক রিপোর্টঃঃ

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় গণপরিবহনে একসিট একযাত্রী নীতি কার্যতঃ অনেকাংশেই অকার্যকর হয়ে পড়েছে।। গোড়ার দিকে গাড়ির হেলপাররা যাত্রীদের খুব সাবধাব্ন মতো ওঠানামা করাতো। গাড়িতে উঠতে হলে যাত্রীদের হাতে তারা স্প্রে করত। কয়েকদিন এভাবে চলার পর স্প্রে বন্ধ করা হলো। তারা স্প্রে না করলেও যাত্রীদের আপত্তি নেই। কারন, মানুষ এখন অনেক সচেতন। কিন্তু সমস্যা হলো যাত্রীদের একসিটের পুরো ভাড়া নেয়ার পরেও তারা গাড়িতে লোকাল যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছে এবং একসিটে দুইজন করে যাত্রী বসাচ্ছে।।গোবেচারা টাইপের যাত্রী একটু উসখুস করলেও সচেতন যাত্রীদের সাথে প্রায় চেঁচামেচি করছে হেলপর  ও ড্রাইভার।  এ প্রবণতা রাজধানীতে এবং প্রশাসনের নাকের ডগায়। কোন কোন যাত্রী প্রশাসনের ভয় দেখালে   তারা একরুপ চিৎকার করেই বলছে যে,প্রশাসনকে তারা টোল দিয়ে চলে।সবচেয়ে ভয়াবহ হলো শেওড়াপাড়া রুটের তেতুলিয়া পরিবহন। স্বেচ্ছাচারীতার চরম নিদর্শন ওরা।।। এখন বাধ্য হয়েই জনগনকে ডাবল ভাড়া দিয়ে লোকাল বাসের মতো ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয় এই গাড়িতে।। অভিযোগের ভিত্তিতে টিম ক্রাইম ডায়রির সদস্যরা পরপর কয়েকদিন সকাল,দুপুর, বিকেল ও সন্ধ্যায় শ্যামলী হতে আব্দুল্লাহপুর যাতায়াত করে অভিযোগের   সত্যতা খুঁজে পায়।

আগারগাঁও হতে মিরপুর কালশি মোড়   পর্যন্ত একটি তেতুলিয়া বাস ৬/৮ টি স্টপেজের জায়গায় কমপক্ষে ৩৬ হতে ৫০ বার থামে।।। জ্যাম থাকুক চাই না থাকুক এরকম থামা এবং গাদাগাদি করে যাত্রী তোলাতে সরকারী আদেশের তোয়াক্কা করছে না তারা। একসিট কয়েকবার বিক্রি করছে। পুরো আব্দুল্লাহপুর হতে মোহাম্মদপুর এর   ভাড়া দিয়ে আব্দুল্লাহপুর হতে একজন যাত্রী যদি শেওড়ায়  নেমে যায় সেখান হতে ওঠা নতুন যাত্রীকেও পুনরায় একই ভাড়া গুনতে হয়। মাস্কের বালাই নেই,প্রকাশ্য ধুমপান করছে ড্রাইভার। গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী তুলে বলছে যাত্রী জোড় করে উঠলে আমরা কি করব??? একই দৃশ্য দেখা গেল যাত্রাবাড়ী কিংবা সদরঘাট থেকে ছেড়ে আসা গাবতলীর বাস গুলোতে।।পুরানা পল্টন ট্রাফিক পুলিশ বক্স এর সামনে হতে একই সিটে দু’জন করে যাত্রী ওঠাচ্ছে তারা। রাজধানীর প্রায় সবরুট এমনকি লেগুনাগুলো কোনভাবেই কোন নিয়মনীতি মানছেন না।। জনগনের দাবী যদি নাই মানে তবে করোনার কঠিন বাস্তবতায় গাড়িভাড়া আগের মতো করা হোক।।  তবুও জনগন অনেক স্বস্তি পাবে। প্রতিবাদের ভাষা ক্ষুধার্ত ও ভীত জনতার নিকট নেই।

যাত্রীদের অভিযোগ সার্জেন্টরা এমন অনিয়ম দেখেও মামলা দিচ্ছেন না কিংবা কিছু বলছেন না।।অথচ, ওরা তাকেই বেশি ভয় পায়।। ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য যেমন গাড়ি চেকিং করা হয় ঠিক তেমন ভাবে যদি চেকিং করা হতো তবে দুদিনেই বন্ধ করা সম্ভব এসব অনিয়ম।

এর বাইরে সিরাজগঞ্জ শহর হতে ঢাকা গাবতলীগামী এসআই ট্রাভেলসের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ দিয়েছেন পরিবহনের একাধিক যাত্রী। কাউন্টার হতে সঠিকভাবে গাড়ি ছাড়লেও একটু এগিয়ে গিয়েই একাধিক যাত্রী ওঠাচ্ছে গাড়ির সুপারাভাইজার।।। দুর্বলচিত্তের যাত্রী পেলেই তার পাশে বসিয়ে দিচ্ছে পথিমধ্যে হতে ওঠানো যাত্রীকে।। এ নিয়ে যাত্রীদের সাথে বচসাও করছেন তারা।।

আবার মাস্ক ব্যবহার মোটেও করছেন না সুপারভাইজার এবং হেলপাররা।।। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলা ছাড়াও গাড়ির ভিতর অধিক যাত্রী নিয়ে যাত্রী হয়রানী বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ নিতে ক্রাইম ডায়রির মাধ্যমে বঙ্গকন্যা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোসহীন নেতা গণমানুষের আশার প্রদীপ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট বিশেষ দাবী জনতার।

ক্রাইম ডায়রি//      ক্রাইম// জাতীয়

Total Page Visits: 66764

কোন রকম অনিয়ম হলে চাকুরীচ্যুতি—কৃষিমন্ত্রী ডক্টর আব্দুর রাজ্জাক

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃ

উন্নয়নের মহাসড়কে যখন বাংলাদেশের পদযাত্রা তখন যে কোন দুর্নীতি সেই দেশের গর্বিত পথচলাকে থমকে দিতে পারে। বঙ্গকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তাই কড়া নির্দেশ দুর্নীতির সঙ্গে কোন আপোস নয়। বঙ্গকন্যার সেই আদর্শ ও আদেশকে বাস্তবায়নের জন্য বদ্ধপরিকর তারই অনুগত নেতাকর্মীরা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, উন্নয়ন প্রকল্পের কেনাকাটায় অনিয়ম-দুর্নীতি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে । তিনি এটাও বলেছেন, প্রয়োজনে চাকরিচ্যুত করা হবে।

প্রকল্প পরিচালকদের উদ্দেশে কৃষিমন্ত্রী ডক্টর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে কোনোরকম অনিয়ম বা দুর্নীতি করলে বা অনিয়মের উদ্দেশ্যে অসামঞ্জস্যপূর্ণ দাম ধরলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে, প্রয়োজনে চাকরিচ্যুত করা হবে।

কৃষি যন্ত্রপাতি, সার, বীজ ও অন্যান্য জিনিসসহ প্রকল্পের প্রত্যেকটা জিনিস কেনার সময় ইজিপির মাধ্যমে উন্মুক্ত দরপত্রে কেনা হবে। ঠিকাদারদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হবে। বাজার দরের চেয়ে বেশি দামে কেনার সুযোগ নেই। তাই কেউ যদি মনে করে থাকেন বেশি দাম লেখা আছে বা সেরকম সুযোগ আছে সেটাকে ব্যবহার করে কোনো দুর্নীতি-অনিয়ম করবেন- সেটি কোনোক্রমেই সম্ভব নয়। আমি আবারও হুশিয়ার করছি, কেউ যদি কেনাকাটায় অনিয়ম করতে চান, দুর্নীতি করতে চান, তাহলে চরম মূল্য দিতে হবে। তাই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে, স্বচ্ছতার সঙ্গে ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনার  অনলাইন আলোচনা  কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান  সঞ্চালনায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংস্থাপ্রধানসহ প্রকল্প পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পটি কৃষি খাতের একটি স্বপ্নের প্রজেক্ট। অনেক দিনের লালিত প্রজেক্ট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কৃষিবান্ধব এ সরকারের কৃষিতে এখন মূল লক্ষ্য হল কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ, আধুনিকীকরণ করা। কৃষিকে অধিকতর লাভজনক করা। সে লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গত অর্থবছর ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিলেন কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য; যার মাধ্যমে হাওরসহ সারা দেশে ধান কাটার জন্য কম্বাইন্ড হারভেস্টার, রিপার যন্ত্রপাতি দেয়া হয়েছে। কৃষকরা এসব যন্ত্রপাতির মাধ্যমে সফলভাবে বোরো ধান ঘরে তুলেছেন। এ ধারাবাহিকতায় ৩ হাজার ২০ কোটি টাকার কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পটি একনেকে পাস হয়েছে। এ প্রকল্পের ফলে কৃষি যান্ত্রিকীকরণে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেয়া যাবে এবং চলতি অর্থবছর কৃষি যান্ত্রিকীকরণের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সভায় আরও বলা হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় মোট ৭৮টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন ছিল। এসব প্রকল্পের অনুকূলে মোট বরাদ্দ ছিল এক হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা, ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৯৪ শতাংশ। করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে শতভাগ অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব না হলেও জাতীয় গড় অগ্রগতির (৮০.২৮ শতাংশ) চেয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি বেশি হয়েছে। এ অগ্রগতি ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা ও দুর্ণীতিমুক্ত সোনার বাংলা গড়তে তিনি সকলকে আহবান জানান।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়//কৃষি

Total Page Visits: 66764

রাজধানীর জলাবদ্ধতায় সমাধান মিলছে না বছরের পর বছর

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃ

একটি দেশের রাজধানী হলো সেই দেশের আয়না। রাজধানী দেখলেই পুরো দেশের একটি দৃশ্য যে কেউ সহজে  অনুমান করে নেয়। কারন, ভ্রমন পিয়াসু মানুষ সাধারনতঃ যে দেশের যাক না কেন আগে যায় সেই দেশের রাজধানীতে। এলোমেলো খোড়াখুড়ি কিংবা অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে আমাদের রাজধানীর যে সংকট তৈরি হয় তা পুরো বিশ্বের নিকট দেশের ভাবমুর্তিকে নষ্ট করে দিচ্ছে। একটা বিষয় কিন্তু স্বীকার না করে উপায় নেই যে বঙ্গকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কড়া নির্দেশ এ সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান করা। কিন্তুু সুবিধাভোগী বরাবরের মতই তার নির্দেশকে তোয়াক্কা না করে নিজেদের গতিতে চলছে।
সম্প্রতি, ঢাকার মিরপুর, ধানমন্ডি, শান্তিনগরসহ নানা এলাকার রাস্তায় পানি নিয়ে ব্যঙ্গ আর হাসি তামাশা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বৃষ্টির কারণে গত দুদিনের মতো আজও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু বা কোমর সমান পানি দেখা গেছে। যদিও এদৃশ্য বিগত অনেক বছরের। শনির আখড়ার অধিবাসী মনজিদা আখতার বলছেন পানি তাদের দুর্ভোগ চরমে তুলেছে। “বাসার সিঁড়ির নিচে কক্সবাজারের মতো দৃশ্য। আর উপরে রুমে পানি নেই। মধুবাগে এসেছি সেখানে হাঁটু পানি,” বুধবার বিকেলে বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন মনজিদা আখতার। গ্রীন রোডে থাকেন ফেরদৌসি রেজা চৌধুরী। তিনি বলছেন অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে সেখানে।  মিরপুর, ধানমন্ডি, শান্তিনগরসহ নানা এলাকার রাস্তার পানি নিয়ে ব্যঙ্গ আর হাসি তামশা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।

ঢাকা দক্ষিণের মেয়র শেখ ফজলে নুর তাপস বলছেন ওয়াসা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে তাই জলাবদ্ধতার সমাধান চাইলে দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনকেই দিতে হবে। তিনি বলেন, “ওয়াসা ব্যর্থ হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যর্থ হয়েছে। আইন মোতাবেক জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনকে বুঝিয়ে দিতে হবে। অথচ জলাশয়, খাল অন্যদের দিয়ে রাখা হয়েছে। এগুলো সিটি কর্পোরেশনকে বুঝিয়ে দিলে আমরা কার্যকর পরিকল্পনা করে আমাদের যে মহাপরিকল্পনার কাজ চলছে তার অংশ হিসেবে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করতে পারবো।”

তাহলে এখন আর সিটি কর্পোরেশন কোনো কাজ করতে পারছে না জলাবদ্ধতা নিরসনে- পরিস্থিতি কি এমনই? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যথার্থই তাই। মানুষের ভোগান্তি আমরা দেখছি কিন্তু কিছু করতে তো পারছি না।”

ওদিকে পানি প্রবাহের যে খালগুলো প্রায় বন্ধ সেগুলোসহ জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকা ওয়াসার অধীনে পাম্প হাউজগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম ও ঢাকার দুই মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা।

মানুষ কবে এই জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে-এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলছেন কবে নাগাদ সমস্যার সমাধান হবে সেটি এখনই বলা যাচ্ছে না। “আমরা সমস্যাগুলো দেখছি। এরপর সমাধানে কি করা যায় সেটি দেখা হবে। কাদের মাধ্যমে সমাধান হলে ভালো হবে সেটি দেখে কাজ করা হবে। হুট করে এখনই বা পনের দিনে সমাধান হবে সেটি বলা যাচ্ছে না। কিন্তু আমি আশ্বস্ত করতে চাই যে এর সমাধান হবে।”

আবার সিটি কর্পোরেশনকে দায়িত্ব দেয়া হবে কিনা তাও চিন্তা ভাবনা করেই চূড়ান্ত করা হবে বলছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। অর্থাৎ আপাতত জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মিলছে না নগরবাসীর। যদিও মন্ত্রী বলছেন দ্রুত পানি অপসারণের যেসব কার্যক্রম আছে সেগুলো জোরদার করা হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

“রাজধানী যেন একটি সমুদ্র। বৃষ্টি হলেই সেই সমুদ্রে জাহাজ চলে । এমন দৃশ্য শুধু হাসিরই উদ্রেক করেনা,দুঃখবোধও জাগায়। সরকার বড়ই আন্তরিক দেখেই এখনও সেখানে মহাসমুদ্র হয়নি। তবে দায়িত্বশীলরা পেড়ে ওঠেন না সুবিধাভোগী স্বার্থান্বেষি মহলের জন্য। এই জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে-এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলছেন কবে নাগাদ সমস্যার সমাধান হবে সেটি এখনই বলা যাচ্ছে না। “আমরা সমস্যাগুলো দেখছি। এরপর সমাধানে কি করা যায় সেটি দেখা হবে। কাদের মাধ্যমে সমাধান হলে ভালো হবে সেটি দেখে কাজ করা হবে। হুট করে এখনই বা পনের দিনে সমাধান হবে সেটি বলা যাচ্ছে না। কিন্তু আমি আশ্বস্ত করতে চাই যে এর সমাধান হবে।”

নিম্নচাপের প্রভাবে টানা দু’দিনের অবিরাম বৃষ্টির ফলে ঢাকার অধিকাংশ এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছিলো গত দু’দিন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় পানি জমে ছিল দীর্ঘক্ষণ। এছাড়া ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর সড়ক, মতিঝিল, মিরপুর, বাড্ডা ও রামপুরাসহ প্রায় সব এলাকাতেই কোথাও হাটুপানি, কোথাও কোমরপানি দেখা গেছে। যদিও এর আগে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতার হতো যে শান্তিনগরে সেটির সমাধানের দাবি করেছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে কয়েক ঘন্টার বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা হচ্ছে এমন এলাকার সংখ্যাও বেড়ে যাচ্ছে। এবার শুক্র ও শনিবারের বৃষ্টিতে কয়েকটি এলাকার রাস্তায় নৌাকা এমনকি ভেলা পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। এই যে ঢাকার জলাবদ্ধতা ক্রমে বেড়েই চলেছে। কিন্তু এটি নিরসন করা যাচ্ছে না কেন? সমস্যা কোথায়?

জবাবে বুয়েটের আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্লানিং বিভাগ শিক্ষক ড. সারওয়ার জাহান বলেন জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে অপরিকল্পিত উন্নয়ন হচেছ। একই সাথে প্রাকৃতিক ড্রেনেজ সিস্টেম অর্থাৎ খাল বিল পুকুড় যা ছিলো তা ভরাট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “পানি তো যেতে হবে কিন্তু সে সুযোগ তৈরি করতে হবে। প্রাকৃতিক সিস্টেম যেহেতু ধ্বংস হয়ে গেছে তাই কৃত্রিম সুযোগ তৈরি করতে হবে পানি যাওয়ার”। সবগুলো সংস্থা কি একযোগে কাজ করছে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভালোভাবে করার জন্য ? এমন প্রশ্নের জবাবে ড. জাহান বলেন ওয়াসা, সিটি কর্পোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড একসাথে কাজ করতে হবে পানি নষ্কাশনের জন্য কিন্তু তাদের মধ্যে কোন সমন্বয় নেই। তার মতে পুরো শহর ভেঙ্গে নতুন কিছু করা যাবেনা তাই ড্রেনেজ সিস্টেম যাতে কাজ করে তা দেখার পাশাপাশি নতুন ড্রেনেজ সিস্টেম মাটির উপরে ও নীচে বাড়িয়ে সেটির ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

ঢাকা ও চট্টগ্রামের পর সিলেট মহানগরীতেও জলাবদ্ধতার খবর আমাদের যতখানি না হতাশ, তারচেয়ে বেশি করেছে হতবাক। রাজধানী শহর ঢাকা যদিও প্রাকৃতিকভাবেই অর্ধশতাধিক খাল ও নদীবেষ্টিত ছিল, এর বেশিরভাগই দখল, ভরাট ও দূষণের শিকার হয়েছে। অপরিকল্পিত নগরায়নের জের ধরে বেশিরভাগ নিম্নভূমিও ভরাট করে ফেলেছে আবাসন কোম্পানিগুলো। ফলে অতিরিক্ত বর্ষণের পানি সহজে নামতে পারে না। চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি- ঢাকার মতো নদী, খাল, ভরাট ও দখল ছাড়াও বাড়তি কারণ হচ্ছে জোয়ার-ভাটার প্রভাব বৃদ্ধি। জোয়ারের সময় অতিরিক্ত বর্ষণের কারণে পনি নিস্কাশন ব্যবস্থা বিঘ্নিত হতে পারে বৈকি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জোয়ারের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং বেড়িবাঁধ ব্যবস্থার ‘পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া’ হিসেবে উপকূলীয় কোনো কোনো শহরেও সাম্প্রতিক সময়ে জলাবদ্ধতা দেখছি আমরা। কিন্তু জলাবদ্ধতায় নাকাল নগরের তালিকায় সিলেট কী কারণে যুক্ত হয়েছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। শনিবার সমকালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতে সিলেট নগরীর অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এমনকি আগে কখনও জলাবদ্ধতার শিকার হয়নি, এমন এলাকাও এবার জলমগ্ন।

আমরা জানি, ভৌগোলিকভাবে হাওরাঞ্চলে অবস্থিত হলেও সিলেট শহর ‘নিম্নভূমি’ নয়। বরং টিলাবহুল এই নগরী ওই অঞ্চলের অন্যতম উচ্চভূমি। ঢালু ভূ-গঠন ও শহরের পাদদেশে প্রবহমান সুরমা নদীর কারণে সিলেট নগরীতে আর যে নাগরিক সংকটই থাকুক, জলাবদ্ধতা থাকার কথা নয়। দুর্ভাগ্যবশত সেই চিত্রই আমাদের দেখতে হচ্ছে। অথচ সিলেট যেমন ভৌগোলিকভাবে ঢাকার মতো সমতল নয় যে, বৃষ্টির পানি আটকে থাকতে পারে; তেমনই চট্টগ্রামের মতো সমুদ্রসংলগ্নও নয় যে, জোয়ারের প্রভাবে বৃষ্টির পানি নামতে বিলম্ব হতে পারে। কিন্তু তারপরও জলাবদ্ধতা হচ্ছে কেন? এটা বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই যে, সমস্যা পানি নিস্কাশন ব্যবস্থায়। গত দুই দশকে সিলেট শহরের প্রাকৃতিক ছড়াগুলো যেমন, তেমনই কৃত্রিম নালাগুলোও দখল ও ভরাটের শিকার হয়েছে। ফলে পানি সহজে নামতে পারে না। ঢাকা বা চট্টগ্রামের তুলনায় সিলেটের পানি নিস্কাশন সমস্যা দূর করা অপেক্ষাকৃত ‘সহজ’। শুধু যদি ছড়া ও নালাগুলো প্রতিবন্ধকতামুক্ত রাখা যায়, তাহলেই পরিস্থিতির বহুলাংশে উন্নতি ঘটবে। আমরা দেখছি, এ ব্যাপারে সরকারের দিক থেকে কোনো ঔদাসীন্য নেই। প্রকল্প ছাড় ও অর্থ বরাদ্দ হয়েছে দফায় দফায়। গত বছর সিলেট নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন খাতে ‘রেকর্ড’ ১২শ’ ২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

২০১৬ সালেও এই খাতে ২৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, অপেক্ষাকৃত কম হলেও বরাদ্দ এসেছিল ২০১৩ এবং তারও আগে ২০০৯ সালে। আমাদের প্রশ্ন- নালা, খাল, ছড়া যদি উদ্ধার না-ই হয়, তাহলে এত অর্থ যাচ্ছে কোথায়? নগরের প্রাকৃতিক কাঠামো অক্ষুণ্ণ রাখলেই যেখানে পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা সচল থাকার কথা, সেখানে শত শত কোটি টাকা খরচ করেও বছরের পর বছর কেবল জলাবদ্ধতাই সম্প্রসারিত হবে কেন? তার মানে এত প্রকল্প ও বরাদ্দ দিয়ে পানি নয়, অর্থ নিস্কাশনেরই ব্যবস্থা করা হচ্ছে? আমরা দেখতে চাই, অবিলম্বে চলমান প্রকল্পের মান ও অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অতীতে বিভিন্ন দফায় বরাদ্দ অর্থ কোন নালা দিয়ে ‘জলে গেছে’ তাও নিরীক্ষা প্রয়োজন বর্তমান ও ভবিষ্যতের অর্থ কাজে লাগার স্বার্থেই। আমাদের মনে আছে, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পেয়ে সিলেট নগরীর মেয়র সরকারকে ধন্যবাদ দিয়েছিলেন। মেয়রের এ কথাও আমরা ভুলিনি যে- প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে খাল ও ছড়া কেবল উদ্ধারই নয়, অভ্যন্তরীণভাবে নৌকা চলাচলও সম্ভব হবে। এখন দেখা যাচ্ছে, জলাবদ্ধতার কারণে খালের বদলে সড়কে নৌকা চালাতে হবে নগরবাসীকে। আমরা বাগাড়ম্বর চাই না, কাজ দেখতে চাই। সিলেট নগরীর খালে নৌকা চালানোর স্বপ্ন নিশ্চয়ই সাধুবাদযোগ্য; কিন্তু তার আগে খোদ খাল ও ছড়া সচল হোক। আপাতত জলপথ চাই না, জলাবদ্ধতা সামলান।

কয়েক ঘন্টার বৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকা শহর যেন পরিণত হয় সমুদ্রে, একই অবস্থা বন্দর নগরী চট্টগ্রামেও। এ অবস্থা কয়েক যুগ থেকে চলে আসছে। বর্তমান সময়ে রাজধানীজুড়ে চলা মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ নানা মেগা প্রকল্পের সমন্বয়হীন কর্মে জলাবদ্ধতা প্রকোট আকার ধারণ করেছে। বৃষ্টির পরপরই নগরবাসীর দুর্ভোগ চিত্র গণমাধ্যম-সামাজিক মাধ্যমে এসে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে।

এই জলাবদ্ধতার কারণে বিভিন্নসময় ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ও ওয়াসা’র বিরুদ্ধে নাগরিক ক্ষোভ দেখা যায়। আবার ওই দুই সংস্থাকে অনেকসময় দেখা যায় দায় এড়াতে একে অন্যকে দোষারোপ করতে। চট্টগ্রামসহ নানা বড় শহরগুলোতেও এরকম অবস্থা বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণ একপ্রকার অসহায়ভাবে এই সমস্যাকে মেনে নিতে শুরু করেছে বলে আমাদের ধারণা।

রাজধানীতে বড় জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকার মধ্যে রয়েছে- সচিবালয়, মিরপুর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, নিকুঞ্জ-১ ও ২, রোকেয়া সরণি, সাংবাদিক কলোনি এলাকা। রাজধানীর পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম খালগুলো অবৈধ দখল ও কঠিন বর্জ্যে ভরাট হয়ে আছে। নগরের খাল, ড্রেন, বক্স কালভার্ট ও ব্রিক স্যুয়ারেজ লাইন দিয়ে পানি নদীতে যেতে পারছে না। ফলে ভারি বর্ষণে শহরের অলিগলি, প্রধান সড়ক, ফুটপাথ পর্যন্ত তলিয়ে যায়। ওয়াসা ও সিটি কর্পোরেশনের বাৎসরিক বাজেটে খাল পরিষ্কারে বেশ ভাল অংকের বরাদ্দ থাকলেও তা খরচের পদ্ধতিগত বিষয়ে নানা অসঙ্গতি নানাসময়ে গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। খাল পরিষ্কার করে সেই ময়লা আবার খালের পাড়েই রেখে দেয়া হয়সহ নানা অভিযোগের কথা শোনা যায়। স্বল্পকালীন কিছু পদক্ষেপ থাকলেও টেকসই সমাধানে সরকারের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই বললে ভুল হবে না।

 

জলাবদ্ধতায় রাজধানীর রাস্তাঘাট নষ্ট হয়ে যাচ্ছে স্বল্পসময়ে। গণপরিবহনসহ জনগণের সম্পত্তিরও ক্ষতি হচ্ছে সমানুপাতিক হারে। এসব বিষয়ে জরুরি ও দীর্ঘমেয়াদি নজর দেয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। একটি দেশের রাজধানীসহ বড় বড় শহরের নাগরিক সুবিধার চিত্রের উপরে দেশের ভাবমূর্তি নানাভাবে জড়িত। বিভিন্ন বৈশ্বিক সূচকে সেগুলোর বেশ ফলাও করে প্রচার-প্রকাশিত হয় নানা সময়ে। সেইসব সূচক বা প্রতিবেদনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরের করুণ চিত্র বছর বছর দেখা যায়। যানজট, বায়ুদূষণ ও জলাবদ্ধতার মতো সমস্যা বারবার বিব্রত করছে জাতিকে। এই অবস্থা থেকে দ্রুত মুক্তি সময়ের দাবি। আমাদের আশাবাদ, সংশ্লিষ্ট সব মহল এ বিষয়ে কার্যকর মনোযোগ দেবেন।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

 

 

Total Page Visits: 66764

মৃত্যুর দুয়ার হতে ফিরলেন শাহনাজ খুশিঃ দায়িত্বশীলদের প্রতি তার খোলা চিঠি

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃঃ

জানি মৃত্যুর মিছিল হতে ফিরে আসা যায়না।। প্রকৃতির অমোঘ নিয়ম মেনে সেটা ঘটবেই। কিন্তু মানবসৃষ্ট দূর্ঘটনার জন্য প্রাকৃতিক নিয়মকে গালি দেওয়া যায়না। আল্লাহতায়ালা মানবজাতিকে আশরাফুল মাখলুকাত বানিয়ে সকল বিষয়ে সতর্ক হয়ে চলতে বলেছেন। কেউ যদি ছাদ হতে লাফ দেয়, কেউ যদি চলন্ত পথে দাঁড়িয়ে থাকে,নিয়ম না মেনে ড্রাইভ করে  তবে এহেন মৃত্যু সৃষ্টিকর্তার নিয়মকে লংঘন করে তাই আত্মহত্যাকে মহাপাপ বলা হয়েছে। এ মহাপাপে সহযোগীরাও পাপী।। তাই  নিয়ম মেনে গাড়ি চালনা এবং নিয়ম মানতে বাধ্য করাই শ্রেয়। সাম্প্রতিককালে, গাড়ি এক্সিডেন্ট বেড়েছে।। নির্মম এ এক্সিডেন্ট গুলোর জন্য বেশির ভাগ সময়ই মূর্খ গাড়িচালকের গোঁয়ার্তুমি ও নেশাখোর চালকের বেহুশ মনোভাবই দায়ী।  এ অবস্থা পুরো দেশের।  সম্প্রতি বাংলার চলচ্চিত্র জগতের কিংবদন্তি ও কিংবদন্তি পরিবারের পরিচালক শাহনাজ খুশি মৃত্যুর হাত হতে বেঁচে ফিরেছেন।  এমন একটি এক্সিডেন্ট এর ঘটনা ও দায়িত্বশীলদের  নিকট তার খোলা চিঠি হুবহু পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো—

          নির্মম এ এক্সিডেন্ট গুলোর জন্য বেশির ভাগ সময়ই মূর্খ গাড়িচালকের গোঁয়ার্তুমি ও নেশাখোর চালকের বেহুশ মনোভাবই দায়ী।  এ অবস্থা পুরো দেশের।  সম্প্রতি বাংলার চলচ্চিত্র জগতের কিংবদন্তি ও কিংবদন্তি পরিবারের পরিচালক শাহনাজ খুশি মৃত্যুর হাত হতে বেঁচে ফিরেছেন।

“চার মাস পর করোনার মধ্যে প্রথম শুটিং এ যাচ্ছি,খারাপ লাগা নিয়ে পরশু এমন একটা পোষ্ট দিয়েছিলাম।নাহ,আমাকে অদৃশ্য করোনা এখনো ছোঁয়নি,আমাকে মৃত্যুর দুয়ারে নিয়েছিল দৃশ্যমান ভয়াবহ এ পরিবহন সেক্টরের অরাজকতা!! এটা আমার গাড়ী!! এই গাড়ীর মধ্যে আমি ছিলাম!!! একেবারেই অলৌকিক কিছু না হলে আমার বাঁচার কথা নয়! আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না যে আমি বেঁচে আছি,ভাল আছি! কত বড় অরাজকতার মধ্যে আমরা বাস করছি,তা ভুক্তভুগি সবাই জানি।


আজ স্বাস্থ্যখাত সামনে এসেছে বলে,শাহেদদের মত অসংখ্য অসংখ্য কালপিট সামনে আসছে,পরিবহন খাতটা দীর্ঘকাল হলই এমন! প্রতিদিন এমন অসংখ্য দুর্ঘটনায় শেষ হচ্ছে হাজারো পরিবার,খালি হচ্ছে মায়ের কোল,সন্তানের বুক! কিন্তু কোন প্রতিকার নেই।স্বাস্থ্যখাতের চেয়েও আরও দুর্গম/অন্ধকার/অন্যায়ে ঠাসা এ পরিবহনখাত! ছবিতে যে বিশাল আকারের কার্গো,এটিই গাড়ীর উপর ওঠেছে,ঠেলে নিয়ে পেছনে থামা ট্রাকের সাথে চেপে ধরছে,সেটি চালাচ্ছিল হেলপার,বয়স ১৬/১৭।ড্রাইভার যিনি,উনিও তাই।গুরুত্বপুর্ন কথা হল,ড্রাইভারের কোন লাইসেন্স নাই!!!
এমন নাকি চলে,কোন সমস্যা হয় না! আমি আসলে পুরা সেন্সে ছিলাম না,কিছু কিছু কথা আমি ভুলতে পারছি না!!পুবাইল পুলিশ/আমার শুটিং এর ছেলেরা/আমার বাসার মানুষ সবাই চলে এসেছে।আমি তখন থর কম্প একটা মাংস পিন্ড কেবল।কেউ একজন ক্ষতিপুরনের কথা বলায় ড্রাইভার বলছে,”মানুষ মাইরালায় ট্যাহা লাগে না,বাঁইচ্যা আছে,তাও ট্যাহা লাগবো!!!!!!! “সামনের টেম্পোর ৬ জনরে বাঁচান্যার লাই ২ জনরে মাইরা দেয়া কুনু বিষয় না!!!!”এমন অসংগ্ন কথা বার্তা।মীরের বাজার পুলিশ বক্সে দায়িত্বে থাকা পুলিশ এবং থানা পুলিশ ভাইয়েরা যা করেছেন আমার জন্য তা সারাজীবন কোনদিন ভুলবো না।সেই সাথে জেনে এসেছি তাদের নেতৃস্থানীয়দের এবং পরিবহন লীডার বলয়ের কাছে অসহায়ত্বের কথা!!
আমি কাল থেকে অপ্রকৃতস্থ প্রায়! খেতে পারছি না,চোখ বন্ধ করতে পারছি না,আমার ছেলে দুইটা এ ভয়াবহতায় এলোমেলো,বাচ্চা ছেলেটা রাতে ঘুমের ঔষধ খেয়ে ঘুমিয়েছে! আমি কিছু বুঝতে চাই না,আমি আমার দেশের প্রতি/আইনের প্রতি শতভাগ শ্রদ্ধা এবং দায়িত্ববান।আমার এবং আমার পরিবারের দ্বারা দেশের বিন্দু পরিমান সম্মান ক্ষুন্ন হয় নাই,বরং দেশের মর্যাদা রক্ষায় আমরা বদ্ধ পরিকর।আমি শুধু আমার জীবনের নিরাপত্তা চাই মাননীয়! জীবনের এত যুদ্ধ,এত শিক্ষাার পর,একজন অশিক্ষিত নেশাগ্রস্ত লাইসেন্সবিহীন ড্রাইভারের হাতে জীবন দিতে রাজী নই।দয়া করে আইন সংশোধন করে ,আমাদের জীবনকে নিরাপদ করুন।আমি আমার সন্তানকে দায়িত্বপুর্ন নাগরিক করবার দায়িত্বভার নিষ্ঠার সাথে পালন করছি।আপনারা আমাদের জীবন/পথকে নিরাপদ করুন মহামান্য!! আমার পরিবার এবং আমি,দাফনের জন্য টাকা আর ক্ষতিপুরনের কয়েক লাখ টাকা চাই না।আমরা ভর্তা ভাত খেয়ে,একে অপরের জীবিত সুস্থ সান্নিধ্যে বাঁচতে চাই…….🙏🙏😥😥””

এ আকুতি ১৮ কোটি জনতার।। বঙ্গকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট এ খোলা চিঠি  পুরো দেশবাসীর ।।  শাহনাজ খুশি পুরো দেশের আপামর  জনতার পক্ষ হতে শুধু তা উচ্চারন করলেন।

ক্রাইম ডায়রি// জাতীয়

Total Page Visits: 66764

বিএসটিআই বগুড়ার অভিযানঃ অবৈধভাবে মানচিহ্ন ব্যবহার করায় জড়িমানা

শরীফা আক্তার স্বর্না,  উত্তরাঞ্চলীয় অফিসঃ

মানসনদ গ্রহন না করে পন্যের গায়ে মানচিহ্ন ব্যবহার করে সারাদেশেই চলছে দূর্নীতির মহোৎসব। সাম্প্রতিককালে মফস্বলে এ চিত্র আরও ভয়াবহ। কোন কোন জায়গায় সব মানচিহ্ন ব্যবহার করে মোড়কে কোম্পানির কোন ঠিকানা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হচ্ছেনা। ঠিকানায় লেখা হচ্ছে চকবাজার ঢাকা কিংবা মোহাম্মদপুর ঢাকা কিংবা বগুড়া, বাংলাদেশ এমন। বিশেষ কিছু পন্যে এমন ব্যবহার করে বাজারজাতকরণে  আরও ভয়াবহ চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চাপাতা, জুস এবং মশার কয়েল এ তিনটি পন্যে এরকম নকলের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। ইদানিংকালে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে নকল পন্যের আনাগোনা বেশি চোখে পড়ছে। চায়ের দোকানগুলোতে মানসনদহীন চা পাতায় ভরপুর। দোকানগুলোতে জুস, মশার কয়েলে ভরপুর।

বিশেষ কিছু পন্যে এমন ব্যবহার করে বাজারজাতকরণে  আরও ভয়াবহ চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চাপাতা, জুস এবং মশার কয়েল এ তিনটি পন্যে এরকম নকলের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। ইদানিংকালে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে নকল পন্যের আনাগোনা বেশি চোখে পড়ছে।

বি এসটিআইয়ের   দক্ষ কর্মকর্তাদের কারনে তটস্থ থাকতে হয় নকলবাজদের। সম্প্রতি এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বি এস টি আই বগুড়ার কর্মকর্তা প্রকৌশলী জুনায়েদ আহমেদ এর মাঠ পর্যায়ে অব্যহত অভিযানে ভেঙে গিয়েছে নকলবাজদের মেরুদণ্ড। স্বস্থি পেয়েছে জনগন। জুলাই ১৮,২০২০ইং বগুড়ায় অবৈধভাবে বিএসটিআই’র মানচিহ্ন ব্যবহার করায় ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ টাকা) জরিমানা এবং ৪৩,০০০/- মূল্যের মালামাল ধ্বংস করা হয়েছে।

সরেজমিন সূত্রে জানা গেছে,  বগুড়া সদরে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র‌্যাব)-১২ এর সহযোগিতায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এটিএম কামরুল ইসলামের নের্তৃত্বে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত হতে বিএসটিআই’র গুণগত মানসনদ গ্রহণ না করে অবৈধভাবে ‘ক্যান্ডি/লজেন্স, আইস ললি ও এডিবল জেল’ বিক্রয়-বিতরণ এবং মোড়কে বিএসটিআই’র লোগো সম্বলিত স্ট্যান্ডার্ড মার্ক ব্যবহার করায় গোকুল এলাকার মেসার্স পিএন্ডপি ফুডসকে ‘বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন আইন-২০১৮’ এর ২৭ ধারা মোতাবেক ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ টাকা) জরিমানা করা হয়।  এসময় সেখান হতে ৪৩,০০০/- মূল্যের অবৈধ মালামাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত মালামাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। মামলাটির প্রসিকিউশন দেন বিএসটিআই জেলা অফিস, বগুড়া এর পরিদর্শনকারী কর্মকর্তা প্রকৌশলী জুনায়েদ আহমেদ।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাব-১২ এর ক্যাম্প কমান্ডার মোস্তাফিজুর রহমান ও স্যানিটারী ইন্সপেক্টর শাহ আলী।

বি এস টি আই সূত্র জানিয়েছে, জনস্বার্থে এমন অভিযান অব্যহত থাকবে।

ক্রাইম ডায়রি/// ক্রাইম// আদালত/ জেলা

Total Page Visits: 66764

রাজধানীর ডেমরায় ভূয়া ডাক্তার আটকঃ হাসপাতাল সিলগালা

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃ

ভূয়া ডাক্তার, ভূয়া মামা,ভূয়া বড়ভাই অসংখ্য ভূয়ায় ভরপুর সোনার বাংলা। নিজ স্বার্থে যার যেমন ইচ্ছে ভূয়ামি করে চলেছে। ভূয়া ডাক্তারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে  রাজধানীর ডেমরায় র‍্যাবের বিশেষ অভিযানে ধরা পড়েছে সাখাওয়াত হোসেন সুমন নামে আরেক ‌’শাহেদ’।

দণ্ডপ্রাপ্ত সুমনের কাছে টক শোতে অংশগ্রহণ, চিকিৎসায় অবদানের জন্য ক্রেস্ট, ছবিসহ বিভিন্ন কিছু থাকলেও চিকিৎসক হওয়ার সনদ বা কোনো প্রমাণ ছিল না।

রিজেন্ট শাহেদের মত সেও ভিআইপিদের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি উঠেছে,টিভিতে টকশো করেছে। তারও আছে বড় ভাই,  মামাসহ আরও অনেকে। সবার প্রভাব খাঁটিয়ে সেও খুলেছে হাসপতাল। সে একজন ভুয়া ডাক্তার। ডাক্তার সেজে রোগী দেখতো হাসপাতাল পরিচালনা করতো। পরীক্ষা ছাড়াই ভুয়া রিপোর্ট দিতো। তাকে দণ্ড এবং তার হাসপাতাল সিলগালা করে দিয়েছেন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এছাড়া অন্যদেরও বিভিন্ন সাজা দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত সুমনের কাছে টক শোতে অংশগ্রহণ, চিকিৎসায় অবদানের জন্য ক্রেস্ট, ছবিসহ বিভিন্ন কিছু থাকলেও চিকিৎসক হওয়ার সনদ বা কোনো প্রমাণ ছিল না।

রোববারের অভিযান বিষয়ে র‍্যাব জানায়, ওই হাসপাতালে কর্মরত ১২ ‘চিকিৎসকের’ বেতন না দেওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে র‍্যাব-৩ রাজধানীর ডেমরা এলাকার সারলিয়ায় অবস্থিত ওই হাসপাতালে রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অভিযান চালায়।

গণমাধ্যমকে র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বসু জানান, এসএইচএস হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল সেন্টারে অভিযান চালিয়ে সিলগালা করা হয়েছে। নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে এটি পরিচালনা করতেন এর মালিক সাখাওয়াত হোসেন সুমন। আমরা তাকে রোগী দেখা অবস্থায় সেখানে অভিযান চালাই। অভিযানে তিনি আমাদের চিকিৎসা সনদ, শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো প্রমাণই দেখাতে পারেননি। তবে তার চেম্বারে সিল, প্যাড, ভিজিটিং কার্ড এসব পাওয়া গেছে। চিকিৎসায় অবদানের জন্য বিভিন্ন ক্রেস্ট, টেলিভিশন টক শোতে অংশগ্রহণের সনদও রয়েছে তার।

তিনি জানান, সুমন নিজেকে চর্ম ও যৌন বিশেষজ্ঞ বলে পরিচয় দিত। রোগীদের বিভিন্ন নমুনার পরীক্ষা না করেই রিপোর্ট দিত। এক বছর আগে তার হাসপাতালের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ অক্সিজেন সিলিন্ডার, কার্বন ডাই অক্সাইডের সিলিন্ডারকে অক্সিজেন সিলিন্ডারে রূপান্তরসহ নানা অনিয়ম পাওয়া গেছে।

র‍্যাবের এ ম্যাজিস্ট্রেট জানান, তার হাসপাতালে ১২ জন চিকিৎসক আছেন জানালেও আসল চিকিৎসক মাত্র একজন। তাদের বেতনও ঠিক মতো দেওয়া হচ্ছিল না। তখন তারা র‍্যাবে অভিযোগ দেন। এ ছাড়া তার ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদন নেই এমন ওষুধ বিক্রি হচ্ছিল।

পলাশ বসু জানান, সাখাওয়াত হোসেন সুমনকে দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদেরও বিভিন্ন সাজা দেওয়া হয়েছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেরর কর্মকর্তা ডা. দেওয়ান মো. মেহেদি হাসান, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালকসহ সাংবাদিকবৃন্দ।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম//রাজধানী

Total Page Visits: 66764

মার্কিন রনতরীতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডঃ আহত ২১

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

যুক্তরাষ্ট্রে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে আগুন, আহত ২১

 

মহাশক্তিধর বলে আত্ম অহামিকায় ভরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোতে নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজে আগুন লেগে অন্তত ২১ জন নাবিক আহত হয়েছে। রবিবার সকালে সান ডিয়েগো নৌঘাঁটির ইউএসএস বোনহোমে রিচার্ড নামের এই জাহাজে আগুনের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে একটি বিস্ফোরণের পর এই আগুনের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন নৌবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, “আহত ১৭ জন নাবিক ও চার জন বেসামরিককে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের জখমে প্রাণ সংশয়ের হুমকি নেই।”

আগুনে যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস বনহোম রিচার্ডের নাবিকরা ‘সামান্য আহত’ হয়েছেন এবং তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে  নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার প্যাট্রিশিয়া কোয়েজবার্গার সিনএএনকে জানিয়েছেন।

রোববার বিকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের ন্যাভাল সার্ফেস ফোর্সেস এক টুইটে জানায়, সব ক্রু যুদ্ধজাহাজটি থেকে নেমে গেছেন এবং কেউ নিখোঁজ নেই। জাহাজটিতে প্রায় ২০০ জনের মতো লোক ছিল। যদিও স্বাভাবিক ভাবে রনতরীতে ১০০০  সৈন্য থাকে।

আগুনে যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস বনহোম রিচার্ডের নাবিকরা ‘সামান্য আহত’ হয়েছেন এবং তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে  নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার প্যাট্রিশিয়া কোয়েজবার্গার সিনএএনকে জানিয়েছেন।

সান ডিয়াগো ফায়ার-রেসকিউ বিভাগ তাদের প্রতিবেদনে জানায়, স্থানীয় সময় সকাল প্রায় সাড়ে ৮টার দিকে যুদ্ধজাহাজটিতে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়, পরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে একটি বিস্ফোরণও ঘটে। রিয়ার অ্যাডমিরাল ফিলিপ সাংবাদিকদের জানান, আহত সৈন্যদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়,নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জাহাজটিকে বন্দরে রাখা অবস্থায় এমন ঘটনা ঘটে।

ক্রাইম ডায়রি// আন্তর্জাতিক

 

Total Page Visits: 66764