• সোমবার (বিকাল ৩:৫৮)
    • ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

”মাসুদ রানা”সিরিজের ২৬০ বইয়ের লেখক শেখ আব্দুল হাকিম; কাজী আনোয়ার নন

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃ

মাসুদ রানা সিরিজ পড়েনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুস্কর। কল্পনার জগতে ভেসে বেড়ায় কত যুবক এই মাসুদ রানা সিরিজ পড়েই। আবার বাস্তবমুখী বহু কিছু শিখিয়েছেও মাসুদ রানা। ভাববাদী বলেন কিংবা বাস্তবতা বলেন মাসুদ রানার ভক্ত নয় কে?? আর এর স্রষ্টা বলে আজীবনই সবাই জেনে এসেছে কাজী আনোয়ার হোসেনকে। মনে করা হয়েছে তিনিই হয়তোবা রাহাত খান। শুরু হতে আজ অবধি মাসুদ রানা তুমুল জনপ্রিয়। গোয়েন্দারও গোয়েন্দা আছে। গোয়েন্দা সিরিজ মাসুদ রানার উপর এবার হলো মহাগোয়েন্দাগিরি। রাহাত খান; কাজী আনোয়ার হোসেন হতে পাল্টে এবার হলেন শেখ আব্দুল হাকিম । হা হয়ে গেলেন তো। হ্যা, এটাই সত্য। মাসুদ রানা সিরিজের শুরুর দিকে এগারটি বই কাজী আনোয়ার হোসেন লিখলেও পরবর্তী  ২৬০টি বইয়ের লেখক  হলেন শেখ আব্দুল হাকিম।

 শেখ আবদুল হাকিম নিজেকে এই সিরিজের অধিকাংশ বইয়ের লেখক হিসেবে দাবি করে কপিরাইট আইনে মামলা করেন। দীর্ঘ প্রায় এক বছরের আইনি লড়াই শেষে রোববার বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস এই মামলার রায় দিয়েছে। তাতে আবদুল হাকিমের পক্ষে রায় এল।

রায়ে বলা হয়, গোয়েন্দা সিরিজ মাসুদ রানার প্রথম ১১টি বইয়ের পরের ২৬০টি বইয়ের লেখক কাজী আনোয়ার হোসেন নন। এর লেখক হলেন শেখ আবদুল হাকিম। যার ফলে দাবিকৃত মাসুদ রানা সিরিজের ২৬০টি এবং কুয়াশা সিরিজের ৫০টি বইয়ের লেখক হিসেবে কপিরাইট স্বত্ত্ব পেতে যাচ্ছেন শেখ আবদুল হাকিম।

বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী  ক্রাইম ডায়রিকে বলেন, কাজী আনোয়ার হোসেন চাইলে অবশ্যই আমাদের এ রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করতে পারবেন। তবে তা অবশ্যই ৯০ দিনের মধ্যে করতে হবে। এখানে তিনি হেরে গেলে হাইকোর্টে আপিল করতে পারবেন বলেও তিনি জানান।

কপিরাইট অন্তর্ভুক্তির কারণে তাকে প্রতিটি বইয়ের জন্য আলাদা করে আবেদন করতে হবে। এর পর প্রতিটি বইয়ের লেখক হিসেবে তার নাম যাওয়ার পাশাপাশি, কপিরাইটও তার হয়ে যাবে। লেখকের নাম পরিবর্তন হবে। নতুন করে আবার সবাই মাসুদ রানা সিরিজকে চিনবে।

উল্লেখ্য যে, গত বছরের ২৯ জুলাই শেখ আব্দুল হাকিম ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের ২৬০টি এবং ‘কুয়াশা’ সিরিজের ৫০টি বইয়ের লেখক হিসেবে স্বত্ব দাবি করে সেবা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী কাজী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে কপিরাইট আইনের ৭১ ও ৮৯ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ দাখিল করেন।

বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের রায়ে বলা হয়েছে, সুষ্ঠু সমাধান ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে কপিরাইট বোর্ড বা বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ পর্যন্ত আবেদনকারীর দাবিকৃত ও তালিকাভুক্ত বইগুলোর প্রকাশ বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম গ্রহণ থেকে বিরত থাকার জন্য প্রতিপক্ষকে নির্দেশনা দেয়া হল।

এ ছাড়া প্রতিপক্ষকে আবেদনকারীর কপিরাইট রেজিস্ট্রেশনকৃত প্রকাশিত বইগুলোর সংস্করণ ও বিক্রিত কপির সংখ্যা এবং বিক্রয় মূল্যের হিসাব বিবরণী এ আদেশ জারির তারিখের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসে দাখিল করতে নির্দেশ দেয়া হল।

কপিরাইট অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৯ জুলাই শেখ আবদুল হাকিম অভিযোগ করার পরে অভিযোগকারী ও প্রতিপক্ষের আইনজীবীর উপস্থিতিতে ওই বছরের ১১ ও ৩০ সেপ্টেম্বর এবং ৪ নভেম্বর শুনানি হয়।

শুনানিতে উভয়পক্ষ তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করে। দাখিলকৃত অভিযোগের বিষয়ে প্রতিপক্ষ লিখিত বক্তব্য দাখিল করেন। প্রতিপক্ষের উক্ত লিখিত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বাদী পুনরায় নিজের স্বপক্ষে লিখিত যুক্তিতর্ক দাখিল করেন। পরবর্তীতে অভিযোগকারীর দাখিলকৃত যুক্তির বিষয়ে প্রতিপক্ষ পুনরায় লিখিত যুক্তিতর্ক পেশ করেন।

কপিরাইট অফিস সুত্রে জানা গেছে, মামলার বিষয়টি বেশ ক্রিটিকাল হওয়ায়  এর বিশ্বাসযোগ্য ও সঠিক সমাধানের জন্য অভিযোগের বিষয়ে দেশের বিখ্যাত ও প্রথিতযশা কয়েকজন লেখক ও প্রকাশক বুলবুল চৌধুরী ও শওকত হোসেন, প্রখ্যাত শিল্পী হাশেম খান  এবং সেবা প্রকাশনীর সাবেক ব্যবস্থাপক ইসরাইল হোসেন খানের লিখিত মতামত চাওয়া হয়। এরই সুত্র ধরে ১৪ই জুন,২০২০ইং রোজ রবিবার এই রায় দেয়া হয়। এদিকে এই রায়ে পাঠক সমাজে শেখ আব্দুল হাকিমের প্রতি যেমন সহানুভুতি দেখা গেছে ঠিক তেমনি তরুন পাঠকেরা মনক্ষুন্নও হয়েছেন অনেকে। তবে বিজ্ঞজনেরা বলছেন দীর্ঘদিনে পরিচিতির কারনে তরুনেরা হঠাৎ করে এটা মেনে নিতে না পারলেও ধীরে ধীরে এটা সয়ে যাবে।

ক্রাইম ডায়রি// জাতীয়

 

Total Page Visits: 66254