• রবিবার (সকাল ৭:৪৫)
    • ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

আমি ওভাবে বলিনি, যা বলেছি…..ড.মীজানুর রহমান

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃঃ

কোন কোন দেশে ভালোর কদর নেই।। হক কথা বললে মামু বেজার। মাঝে মাঝে মামুদের জোয়ার  আসে।  ভালো বললে মন্দটুকু কাটিং করে প্রচার করবে। আগের এবং পরেরটুকু আর বলবে না।  এরা প্রেক্ষাপটে যাবেনা। পরিস্থিতি বুঝবে না। বসেই আছে, কখন কে মুখ ফসকে কি বলে ফেলে সেই আশায়। সেটা যদি বাস্তবতার নিরিখে হয় কিংবা হক  হয় তাতে কিছু যায় আসেনা। কথা সত্য; তালগাছ আমার। মাঝে মধ্যেই একটি মহল কিছু  বলতেই সেটা নিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে।। এদের জাল হতে মুক্তি নেই; এমনকি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিরও। যে বিবেচনাতেই নিয়োগ হোক অযোগ্য লোক কিন্তু ভিসি নিয়োগ হয়না।

কয়েকদিন হলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে নিয়ে; তার একটি বক্তব্যকে ঘিরে নানামুখী বিতর্ক চলছে। দক্ষতা সম্পন্ন একজন মানুষ ড.মীজানুর রহমান। তিনি একজন  বিবেচনা সম্পন্ন নাগরিক। তিনি কালোকে কালো এবং সাদাকে সাদা বলতে পারবেন না,তাতো হয়না!

[facebook/The Crime Diary ] “কোন কোন দেশে ভালোর কদর নেই।। হক কথা বললে মামু বেজার। মাঝে মাঝে মামুদের জোয়ার  আসে।  ভালো বললে মন্দটুকু কাটিং করে প্রচার করবে। আগের এবং পরেরটুকু আর বলবে না।  এরা প্রেক্ষাপটে যাবেনা। পরিস্থিতি বুঝবে না। বসেই আছে, কখন কে মুখ ফসকে কি বলে ফেলে সেই আশায়। সেটা যদি বাস্তবতার নিরিখে হয় কিংবা হক  হয় তাতে কিছু যায় আসেনা। কথা সত্য; তালগাছ আমার।”

ছাত্রদের মেসভাড়া নিয়ে তিনি অনেক কথা বলেছেন। আমরা জানি দায়িত্বশীল অবস্থান হতে  কোন কথা বলতে নিলে সেই কথার   প্রেক্ষাপট বা শানে নুজুল থাকে, কথার কথা থাকে, উদাহরন থাকে, প্রসঙ্গে দু’একটা অযাতিত কথাও হয়।  সেই কথা গুলোর মধ্যে কাটিং করে যতটুকুতে ঘায়েল করা যায় অতটুকু প্রচার অমানবিকও বটে। পিতা তার সন্তানকে গালি দেয়ার সময় কেমন কথা বলে সবারই জানা। সেগুলো ধরলে পিতার অবস্থান কোথায় যায়??

 

এ বিষয়ে মিডিয়ার কাছে মুখ খুলেছেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কারিগর এবং বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ নিয়ে সুদীর্ঘ সময়ের বিশ্লেষণধর্মী আলোচক ড.মীজানুর রহমান। পাঠকের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো—-

[[ “কথাগুলো-ওভাবে-বলিনি-জবি-উপাচার্য

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার কথা নিয়ে যেভাবে সমালোচনা হচ্ছে, আসলে তিনি কথাগুলো ‘ওভাবে’ বলেননি। কথাগুলোর পূর্বাপর কিছু উল্লেখ না করে কেবল খন্ডিত অংশ তুলে ধরায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যা প্রচার করা হচ্ছে এটা আমার কোনো বক্তব্য নয়। ব্যক্তিগত আলোচনা। আমি কথাগুলো ওভাবে বলিনি। কাউকে আঘাত করার জন্য বলিনি। প্রসঙ্গক্রমে বলেছি।’যখন তারা (ছাত্ররা) বলছে ১৬ হাজার ছাত্র টিউশনি করে চলে। বাড়িতে টাকা পাঠায়। তাই তাদের দুই হাজার টাকা করে মোট ২৯ কোটি টাকা মেস ভাড়ার জন্য বরাদ্দ দিতে হবে। এটা কি বাস্তব কোনো দাবি? যারা মেসে থাকেন তারা কি সবাই গরিব? তখন আমি বলেছি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই কি গরিব? এখানে কি কেবল গরিবদের ভর্তি করা হয়েছে? আমরা কি বিজ্ঞপ্তিতে বলেছি এখানে গরিব-অসহায়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে? এখানে সবাই মেধার ভিত্তিতে ভর্তি হয়েছে। অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যেমন ছাত্ররা ভর্তি হয়, এখানেও তেমন।’যখন আমরা নানামুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, আমাদের অনেক ছাত্র আক্রান্ত, তাদের ফোন করে করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করাতে হচ্ছে। কয়েকজন শিক্ষক বাসায় বসে অক্সিজেন নিচ্ছেন। তাদেরও ভর্তি নিয়ে চিন্তা করতে হচ্ছে। তখন সারাক্ষণই তারা গণমাধ্যমের কাছে মেস ভাড়ার দাবিতে কথা বলছে।’ তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও দরিদ্র শিক্ষার্থী আসে, বুয়েটেও আসে। এখন যদি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সবচেয়ে গরিব এটা যদি তুলে ধরা হয় তাহলে ছাত্রদের অবস্থান কোথায় থাকে?’  বিশ্ববিদ্যালয়কে যেভাবে তুলে ধরা হচ্ছে, এটা গরিবদের বিশ্ববিদ্যালয়, এই বিষয়টি ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। কারণ এটা মেধাবীদের বিশ্ববিদ্যালয়। মেধার ভিত্তিতে এখানে ছাত্র ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যেমন দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীরা আসে, এখানে আসে। আমাদের ক্লাসের ৮০ থেকে ৯০ জন ছাত্র থাকলে ২০ জন হয়তো দরিদ্র পরিবারের হতে পারে। আর ১০ জন হয়তো খুবই নিঃস্ব। বাকিরা তো আমরা ভালো আছি। তাহলে সবার মেস ভাড়া বরাদ্দের তো কোনো কারণ নেই। মেস ভাড়া যাদের সামর্থ্য আছে তারা দিবে। এখন তো মেসভাড়া কেউ চাচ্ছেও না। এখন তো মেসেও কেউ নেই। অনেকেই তো বাড়িতে চলে গেছেন। তারা যখন আসবেন তখন এটা নিয়ে সুরাহা করা যাবে। দেখা যাবে কী করা যায়।’

যারা টিউশনি করে মেস ভাড়া দিয়ে থাকত, তাদের নিয়ে তো সমস্যাটা আরও গভীর হবে। এখন তো মেস ভাড়া দিতে পারছে না, তখন তো খাওয়ারও টাকা থাকবে না। তাদের টিউশনি তো থাকবে না। সেটা নিয়ে আমাদের সবাইকে চিন্তা করতে হবে। আমরা সবাই গরিব তা তো না। আমরা যদি সারাক্ষণ বলি আমরা খুব দরিদ্র-গরিব, সবাই মেসে থাকি, তাহলে তো আমাদের নিজেদেরই আত্মমর্যাদা নষ্ট হবে। এটা বলেছিলাম কথা প্রসঙ্গক্রমে।  শিক্ষার্থীদের বললাম, আমাদের শিক্ষার্থীদের তো অনেকভাবেই আমরা সহযোগিতা করছি। উত্তরবঙ্গ পর্যন্ত যেখানে যে সমস্যায় পড়ছে তাকেই সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। ইউএনওকে ফোন করে, চেয়ারম্যানকে ফোন করে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছানোর কাজ করছি। বিকাশের মাধ্যমে নগদ টাকা পৌঁছানোর কাজও চলছে। আমাদের প্রচুর ছাত্র আছে অনেক দরিদ্র। এদের তালিকাও আমাদের কাছে আছে। কারণ আমাদের জাকাত ফান্ড আছে। দরিদ্রদের সাহায্য-সহযোগিতা করার বিভিন্ন টিম আছে। সেই হিসাবেই আমাদের ধারণা আছে ৩৬০-৩৬৫ জনের মতো ছাত্র একেবারেই নিঃস্ব। যাদের টিউশনির টাকায় চলতে হয়। তারা এ থেকে বাড়িতেও টাকা পাঠায়।’

তাছাড়া বড় চিন্তার বিষয় হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় যখন খুলবে এই ছাত্ররা যখন ফিরে আসবে তখন তো টিউশনি অনেকের থাকবে না। স্বাভাবিকভাবে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার কারণে অনেক ছাত্রের টিউশনিও থাকবে না। কারণ কেউ তো ঝুঁকি নিয়ে প্রাইভেট শিক্ষক রাখবে না। ঘরে যেতে দিবে না এই পরিস্থিতিতে। এই ছাত্ররা কীভাবে তাদের জীবন-জীবিকা চালাবে? এটা হচ্ছে আমাদের চিন্তার বিষয়। তাদের অনেকেই দ্বিতীয় বর্ষ, তৃতীয় বর্ষে পড়ছে। আমাদের সবাইকে মিলেই এটি মোকাবিলা করতে হবে। সরকারের থেকে যদি সহযোগিতা পাওয়া যায় তাহলে ভালো। যারা ধনী আছে, আমাদের ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে, তারাও বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছে। একদিনের বেতনও দিয়ে রাখছে শিক্ষকরা।’

ছাত্রদের যারা মেসে থাকে সবাই গরিব না; একেক মেসে পাঁচজন, সাতজন, দশজন করে দরিদ্র ছাত্র আছে। তাকে সবাই মিলে সহযোগিতা করলে আমি মনে করি এই সমস্যার উত্তরণ ঘটবে। আমরা সবাই মেস ভাড়া দিতে পারছি না, সবাই গরিব-এটা যদি আমরা মানুষের কাছে প্রকাশ করি তার মানে কী? আমি এটা বলেছি, আমাদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিজ্ঞপ্তিতে তো বলি নাই যে দরিদ্র এবং অসহায়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এরকম কি বলেছি? আমরা তো ছাত্র ভর্তি করেছি মেধার ভিত্তিতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ক্যাটাগরি বা ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ডের ছাত্ররা ভর্তি হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও তো একই যোগ্যতা, একই ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ডের।’

 

আমাদের অনেক ছাত্র মোটরসাইকেল চালিয়ে ক্যাম্পাসে আসে। তাদের তো মেস ভাড়া নিয়ে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এটাই আমি বলেছি। আমাদের এখানে মোট ছাত্র ধরা যাক ১৮ হাজার। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র হচ্ছে ৪০ হাজার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সব মিলিয়ে ডাবলিং, গণরুম মিলিয়ে ২০ হাজার ছাত্র থাকে। বাকি ২০ হাজার ছাত্র কোথাও থাকে, মেসেই তো থাকে। আমাদের যে পরিমাণ ছাত্র মেসে থাকে আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যত ছাত্র মেসে থাকে সংখ্যাটা ধরলাম সমান। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ কি মেস ভাড়া নিয়ে এসব কথাবার্তা বলছে? আমি সেটাই বলছি, আমরা যদি এটাই নিয়ে ব্যস্ত থাকি, তাহলে কী করে হয়?’

তেমনি, এই সমস্যা তো কেবল তো আমাদের সমস্যা নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যে পরিমাণ ছাত্র-ছাত্রী ট্রেনে করে ক্যাম্পাসে আসে, তাদেরও সমস্যা। এই সমস্যার সমাধান হয় রাষ্ট্রকে করতে হবে, অথবা আমাদের মধ্যে যারা সামর্থ্যবান আছে প্রত্যেক ক্লাসে প্রচুর ছাত্র আছে, যারা একজন দশজনকে দেখতে পারবে, তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। এটাই বলেছিলাম যে আমরা তো সবাই গরিব না।”]]

সবাই মিলে সংকট মোকাবিলা করতে হবে উল্লেখ করে ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘সরকার তো সহযোগিতা করছে, আমাদের যাদের সামর্থ্য আছে, তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে।

একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে নিয়ে নেগেটিভ মন্তব্য করা যায় যখন তার অবস্থান সুস্পষ্ট দুর্নীতির পক্ষে। কিন্তু তিনি যখন   হক কথা বলেন সেটাকে কাটছাট করে ভাইরাল করলে পুরো জাতী লজ্জিত হয়। বিষয়টি ভবিষ্যতের স্বার্থে সবাইকে ভেবে দেখা উচিত নয় কি???

ক্রাইম ডায়রি//  জাতীয়

 

Total Page Visits: 66752