• রবিবার (সকাল ১০:০৪)
    • ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

চায়না হতে আসা ‘ভাইরাস শাট আউট’ নামের ভূয়া প্রোডাক্টস বিক্রেতা ডি এমপির জালে বন্দী

মোঃ হেলাল উদ্দিনঃ
ভাইরাস নিয়েও চলছে দুর্নীতি। কেউবা ব্যস্ত ভাইরাসের কারনে প্রদত্ত ত্রাণের চাল চুরি নিয়ে আবার কেউবা ব্যস্ত ভাইরাস ঠেকানোর ভূয়া ঔষধ বিক্রি নিয়ে। সম্প্রতি, করোনা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ভূয়া ঔষধ বিক্রেতা ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনের তৎপরতায় গ্রেফতার হয়েছে। আবার সম্প্রতি, ‘ভাইরাস শাট আউট’ যা একবার গলায় পরলে করোনা ভাইরাস নাকি একমাস পর্যন্ত তিন ফুটের মধ্যে আসতে পারে না। G Mama নামের একটি অনলাইন পেইজে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এমন একটি প্রোডাক্ট বিক্রি করছিলেন টিপু সুলতান নামের এক ব্যক্তি। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে অনেকে বিশ্বাস করে ওই প্রোডাক্ট কিনতেও শুরু করে। কিন্তু বিধি বাম। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের চৌকস কর্মকর্তাদের তৎপরতার কারনে বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি অপরাধী। যে কোন অবস্থায় রাজধানীবাসীকে প্রতারণা চক্রের হাত থেকে নিরাপত্তা দেবার মানসে তৎপর ডি এমপি’র সাইবার অপরাধ টিমের অনুসন্ধান অনুযায়ী  বিগত ১৯ এপ্রিল, ২০২০ইং  নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে বিকাল অনুমান পাঁচটায় রমনা জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার এস, এম, শামীম এর নেতৃত্বে একটি দল মৌচাক মার্কেটের সামনে থেকে এই ‘ভাইরাস শাট আউট’ প্রোডাক্ট বিক্রেতা টিপু সুলতান (৩৫) কে গ্রেফতার করে। তার হেফাজত হতে ৫০ পিস ‘ভাইরাস শাট আউট’ প্রোডাক্ট জব্দ করে রমনা মডেল থানা পুলিশ।
‘ভাইরাস শাট আউট’ যা একবার গলায় পরলে করোনা ভাইরাস নাকি একমাস পর্যন্ত তিন ফুটের মধ্যে আসতে পারে না। G Mama নামের একটি অনলাইন পেইজে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এমন একটি প্রোডাক্ট বিক্রি করছিলেন টিপু সুলতান নামের এক ব্যক্তি।

 ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরে তাকে  ভোক্তা অধিকার আইনের ৪৪ ধারায় তাকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করেন।

প্রতারক জানায় সে চায়না থেকে ডিএইচএল এর মাধ্যমে এই প্রোডাক্টস এনেছে। এই প্রোডাক্ট ইতোমধ্যে হংকং, চায়না, ভিয়েতনাম, আমেরিকাতে ব্যান করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি ছাড়া সে এটা এনেছে যা আসলে করোনা প্রতিরোধে কোন ভূমিকা রাখেনা। সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের কোন ঔষধ আবিস্কার না হওয়ায় বহু বিখ্যাত ডাক্তাররাও এতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যবরন করেছেন। সুতরাং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা ছাড়া কোন ধরনের প্রতারকের খপ্পরে পড়ে প্রতারিত না হতে জনগনের প্রতি আহবান জানিয়েছে ডি এমপি।

ক্রাইম ডায়রি///অপরাধ জগত//ক্রাইম//রাজধানী

Total Page Visits: 66770

পথশিশুরা করোনা সংক্রমনের চরম ঝুঁকিতেঃদ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃ

সারাবিশ্ব যখন লকডাউন ভয়ে কুকড়ে যখন মানুষ মনুষ্যত্ব হারিয়ে দিকবিদ্বিক শুন্য হয়ে পড়েছে,যখন হাজার বছরের প্রতিবেশি কিংবা রক্তের বাঁধনের পরম আত্বীয়ের করোনা সন্দেহে মৃত্যুর লাশও তারা মাটি দিতে নারাজ তখন পথ ‍শিশুর খবর নেয় কে??? নিজের শিশুর মৃতদেহ যখন সৎকারে মানুষের অনীহা তখন তাদের মনে পথ শিশুর প্রতি ভালবাসা জাগবে কি?? কলেরার মত মহামারী যেখানে না ছিল ডাক্তার বৈদ্য, না ছিল চিকিৎসা পদ্ধতি । কিন্ত মানুষের বিবেক ছিল তখন, মানুষ মানুষকে ফেলে যায়নি। অন্ততঃ কবরস্থ হয়েছে। আর চরম আধুনিকতার যুগে যখন মানুষ সতর্ক হয়ে পথ চললেই বেঁচে যায়,যখন অন্ততঃ ডাক্তার কবিরাজ আছে,চিকিৎসা আছে, হাসপাতাল আছে সেই যুগেই কিনা মানুষ চিরপরিচিত গ্রামবাসীর লাশ কবরস্থ করার জন্য খাঁটিয়া দেয়না এমনকি অবোধ শিশুও খাঁটিয়া পায়না।

চলার পথে আমরা অনেক মানুষ দেখতে পাই। এখানে কেউ উচ্চবিত্ত, কেউ মধ্যবিত্ত, কেউবা আবার নিম্নবিত্ত। আর এই নিম্নবিত্ত পরিবার থেকেই পথশিশুর জন্ম। আমাদের দেশের অলিতে-গলিতে অনেক পথশিশু আছে যাদের কারো বাবা নেই, কারো মা নেই কিংবা কারো পরিবারের কেউ অসুস্থ। আর এই পথশিশু গুলো তখন নিজেরাই পরিবারের বোঝা বহন করে। দারিদ্র্যের কষাঘাত সহ্য করতে না পেরে কেউ ইট ভাটায় কাজ করে, কেউ গাড়ির হেল্পারি করে, কেউ টুকায়, কেউ ভিক্ষা করে, কেউবা চুরি করে। সমাজে এরা লেখাপড়া ও অনন্য সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাচ্ছে না সঠিক পথের দিশা।

যে বয়সে আমরা পড়াশুনা করি, বন্ধুদের সাথে খেলাই মত্ত থাকি সে বয়সে এই পথশিশুরা বেঁচে থাকার উপকরণ খুঁজে। পড়ালেখা করে যে বিবেকবোধ আমরা তৈরি করতে পারিনা, পথের ধুলোয় অদ্ভুত ভাবে বেড়ে উঠার মাঝেও তারা নিজেদের বিবেকবোধ তৈরি করে নেয়।

 

নিজের শিশুর মৃতদেহ যখন সৎকারে মানুষের অনীহা তখন তাদের মনে পথ শিশুর প্রতি ভালবাসা জাগবে কি?? কলেরার মত মহামারী যেখানে না ছিল ডাক্তার বৈদ্য, না ছিল চিকিৎসা পদ্ধতি । কিন্ত মানুষের বিবেক ছিল তখন, মানুষ মানুষকে ফেলে যায়নি। অন্ততঃ কবরস্থ হয়েছে। আর চরম আধুনিকতার যুগে যখন মানুষ সতর্ক হয়ে পথ চললেই বেঁচে যায়,যখন অন্ততঃ ডাক্তার কবিরাজ আছে,চিকিৎসা আছে, হাসপাতাল আছে সেই যুগেই কিনা মানুষ চিরপরিচিত গ্রামবাসীর লাশ কবরস্থ করার জন্য খাঁটিয়া দেয়না এমনকি অবোধ শিশুও খাঁটিয়া পায়না।

যে বয়সে আমরা ভাবতাম স্কুলে যেয়ে টিফিনে কি খাব, কার পাশে বসবো, স্যারের কোন হোমওয়ার্ক আছে কিনা। আর এই পথশিশুরা ভাবে রোজ সকালে কোন রাস্তায় ভিক্ষা করলে বেশি টাকা পাবে। ৫০ টাকা আমাদের একদিন মোবাইল খরচ যায় আর ওদের পরিবারের সবাই মিলে একবেলা খাওয়া হয়ে যায়। জীবন একটা, স্রষ্টা একটা অথচ কত পার্থক্য!

যেখানে আমাদের উচিত তাদের দেখাশুনা করা উল্টা আমরা অহংকার করি। গরীব দের মানুষ ভাবিনা। আবার কখনো তাদের গায়ে হাত তুলি। কাছে আসলে রুমাল নাকে দিই। আমাদের ভাব ভঙ্গি এমন যে আজ আমাদের যা ভালো পজিশন এর ক্রেডিট আমাদের। আল্লাহ চাইলে আমাদেরকে এমন পরিস্থিতির সমক্ষিণ করতে পারতো, তাদের জায়গায় নিজেকে ভাবলে কেমন বোধ হবে! নিম্নবিত্ত এই মানুষ গুলোর জীবন বৈচিত্রের সাথে তুলনা না দেওয়া পর্যন্ত সত্যিই বুঝিনা আমরা কতটা সুখে আছি, কতটা ভাল আছি।

আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এই সুবিধা বঞ্চিত শিশুরাও চাই মানুষের মতো মানুষ হতে। তারাও চাই আমাদের মতো পড়াশুনা করতে। অন্য ৮/১০ টা শিশুর মতো তারাও হাসি খুশি থাকতে চাই। তাদের অনেক স্বপ্ন থাকে। তাদের প্রতিভা বিকশিত করার সুযোগ পাচ্ছে না বলে আজ তাদের প্রতিভাগুলো চাপা পড়ে যায়। তাই কখনো এই সব ছোট পথ শিশুদের গায়ে হাত তুলবেন না, নাকে রুমাল দিয়ে তাদের কে তাড়িয়ে দিবেন না, তাদেরই সমবয়সী আমাদের ও ভাই-বোন, ছেলে-মেয়ে আছে। তাদের প্রতি আমাদের মানবিক চিন্তা থাকা উচিত। তারা আমাদের মুখের দিকে চেয়ে থাকে শুধুমাত্র দু’মুঠো ভাতের জন্য। তাদের জন্য কিছু করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সব মানুষ যখন ঘরে, তখন ঘরহীন পথশিশুরা দল বেঁধে ঘুরছে, খেলছে। রেলস্টেশন বাস টারমিনাল, কোনো ভবনের নিচে জটলা করছে, পাশাপাশি ঘুমাচ্ছে।

সুত্র জানায়,করোনাভাইরাসরে কবলে সারা বিশ্ব এখন একটা বদ্ধঘর। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বের হচ্ছে না। করোনা আক্রান্ত অঞ্চলকে জরুরি ভিত্তিতে লকডাউন করতে বলা হচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা (ইউনিসেফ) থেকে। ইতোমধ্যে লকডাউনে নানা দেশ। বাংলাদেশের অর্ধেক জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা লকডাউনের কবলে। কিন্তু করোনার লকডাউনে কতটা সুরক্ষিত দেশের ছিন্নমূল পথশিশুরা।

শিশুদের নিয়ে কাজ করছেন এমন ব্যক্তিরা বলছেন, এরা নিজেরা যেমন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে, তেমনি এদের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন, বিমানবন্দর রেলস্টেশন, সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড, রমনা পার্কসহ বিভিন্ন স্থানে পথশিশুদের জটলা করে খেলতে কিংবা আড্ডা দিতে দেখা গেছে। তবে সবকিছু বন্ধ বলে নিয়মিত খাবার জুটছে না তাদের।

 

একটি জাতীয় দৈনিকের অনলাইন ভার্সনে একজন পথশিশুর সাক্ষাতকার নেয়া হয়েছে।

কমলাপুরের পথশিশুটির নাম শাহিন। সে জানায়, স্টেশনে কুলির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। এখন কোনো কাজ নইে। করোনাভাইরাস সম্পর্কে জানতে চাইলে শাহিন বলে, শুনছি কি একটা রোগে সব অফিস বন্ধ কইরা দিছে। আমরা তো না খাইয়া মরতাছি, কোনো কামকাজ নাই। না খাইয়া মরুম।

শাহিনের সঙ্গে বসে থাকা পলাশের কাছে করোনাভাইরাস কিছু না। এই রোগের বিপদ সম্পর্কে জানালে সে বলে, স্যার আমগো মরণ নাই।

নিজের প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে  রায়েরবাগ বসে ছিলেন হোসনে আরা। করোনাভাইরাস বিষয়ে জিজ্ঞাস করলে হোসনে আরা জানান, টাকা দিবেন? দিলে কথা কমু। সারাদিন চাইর আনা পয়সাও কেউ দেয় নাই।’ দশ টাকার একটা নোট তাকে দেওয়ার পর তিনি বলেন, আমরা কিছুই জানি না। শুধু হুনছি বিদেশ থেইকা মানুষ নাকি কি একটা রোগ নিয়া আইছে এইডা সবার হইতেছে।’

একটি পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে পথশিশুর সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পথশিশুদের সংঘবদ্ধ চলাফেরা ও রাতযাপনের কারণে করোনাভাইরাসের বাহক হিসাবে খুব ঝুঁকির মধ্যে আছে এরা। সংক্রমণ ঠেকাতে এই পথশিশুদের নিরাপদ স্থানে রাখার পরামর্শ তাদের।

সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, পথশিশুদের সংক্রমণের হার কম। কিন্তু সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ঝুঁকিতে আছে এরা। এরা ভাইরাসটির বাহক হিসেবে কাজ করতে পারে। কেননা এই সম্পর্কে তাদের কোনো জ্ঞান নেই। ফলে এদের মাধ্যমে সংক্রমণ দ্রুত ছড়াতে পারে। নিজেদের কমিউনিটিতে এরা ঝুঁকি তৈরি করবে। এরা দলবদ্ধভাবে বসবাস করে, রাতের বেলা একসঙ্গে থাকে।

সরকারের বাজেটে পথশিশু পুনর্বাসন কার্যক্রম আছে। অন্তত মেগা সিটিগুলোতে যে শিশুরা আছে তাদের জন্য করোনায় বিশেষ সুরক্ষার ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে মনে করেন সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের পরিচালক। পাশাপাশি বেসরকারি সংগঠন ও এনজিওগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

এখন স্কুল-কলেজ বন্ধ। পথশিশুদের আশ্রয় হিসেবে অস্থায়ীভাবে সেগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে। এলাকাভিত্তিক এটা করা সম্ভব। স্বেচ্ছাসেবী পাওয়া যাবে,বিভিন্ন এলাকার মানবিক মানুষেরা যেমন এগিয়ে আসবে তেমনি পাওয়া যাবে এলাকাবাসীর সহযোগীতা। অবকাঠামো প্রস্তুত, শুধু সঠিক পরিকল্পনা দরকার।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণপূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মো. মোজাহেরুল হক বলেন, করোনা মহামারিতে সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ছিন্নমূল মানুষ। তারা গাদাগাদি করে অনেকে একসঙ্গে থাকে। বস্তির রাস্তাগুলো অনেক সরু হওয়ায় তাদের একজন অপরজনের শরীরের সংস্পর্শে আসতেই হচ্ছে।

দেশে যে হারে সংক্রমন বাড়ছে এমতবস্থায় কোন ঝুঁকি নেয়ায় সরকারের সমীচিন নয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

ক্রাইম ডায়রি///জাতীয়

Total Page Visits: 66770