• বৃহস্পতিবার (রাত ১২:৩৩)
    • ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

মাওলানা জোবায়েরের জানাযায় লক্ষ মানুষের ঢলঃ করোনা ঝুঁকিতে বি বাড়িয়ার মানুষ

রতন পারভেজ , ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধিঃ

বৈশ্বিক মহামারীতে যখন সারা বিশ্ব আক্রান্ত  এবং সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখায় যখন এরোগের একমাত্র সমাধান তখন এ নিয়ম না মেনে জানাযায় লাখো লোকের উপস্থিতি সত্যিই দুঃখ জনক। ফরজে কেফায়ার জন্য মানুষ যেভাবে একত্রিত হয়েছে ফরজে আইনের বাস্তবায়নে দেখা মিলবেনা কখনই তাদের এমন মন্তব্য করেছেন অনেক প্রকৃত আলেম। গোঁড়ামি করে এমন জনসমাগম পুরো দেশকে ফেলেছে ঝুঁকির মধ্যে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লকডাউনের মধ্যেও খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা জোবায়ের আহমদ আনসারীর জানাজায় লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটেছে।শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন দেশবরেণ্য এ মুফাসসিরে কোরআন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বেড়তলা এলাকার জামিয়া রাহমানিয়া মাদরাসা মাঠে মাওলানা জুবায়ের আহমেদ আনসারীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আর একারনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বেড়তলা গ্রামসহ আশপাশের গ্রামের মানুষদের ১৪ দিন ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকির মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা জুবায়ের আহমেদ আনসারীর জানাজায় লাখো মানুষের অংশ নেয়ার ঘটনার প্রেক্ষিতে এ নির্দেশ দেয়া হয়।১৮ এপ্রিল, শনিবার সন্ধ্যায় সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু সালেহ মো. মুসা এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

এদিন সকাল ১০টায় বেড়তলা এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন জামিয়া রাহমানিয়া মাদরাসা মাঠে দেশবরেণ্য আলেম জুবায়ের আহমেদ আনসারীর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। মাঠে জায়গা না হওয়ায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অন্তত দুই কিলোমিটার অংশে মানুষ জানাজার নামাজ পড়েন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গত ১১ এপ্রিল সন্ধ্যা ছয়টা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় লকডাউন চলছে। কিন্তু লকডাউন না মেনে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। ফলে করোনাভাইরাস বৃহৎ আকারে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

অবশ্য এর আগে প্রশাসন বলেছে, ‘ধর্মীয় নেতারা আশ্বস্ত করেছিলেন সীমিত পরিসরেই জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। জানাজায় জনস্রোতে পরিণত হওয়ার বিষয়টি আঁচ করতে পারেনি পুলিশ।

উল্লেখ্য, সিভিল সার্জনের তথ্যমতে শনিবার (১৮ এপ্রিল) পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন দুইজন। বাকিরা আইসোলেশনে রয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও পার্শ্ববর্তী জেলা এবং বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাকে করে ও পায়ে হেঁটে এবং অন্যান্য উপায়ে মানুষ আসেন। প্রত্যাশার চেয়ে মানুষ এত বেশি হয় যে, মাদরাসা মাঠে জায়গা না হওয়ায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অন্তত দুই কিলোমিটার পর্যন্ত  জানাজায় অংশ নেয় মানুষ। জানাজা শেষে দেশের প্রখ্যাত এ আলেমের লাশ মাদরাসা প্রাঙ্গণেই দাফন করা হয়।

ক্রাইম ডায়রি//জেলা

Total Page Visits: 66417

কৌশলী ডাকাতদলঃ সাবধান দেশবাসী

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃ

সারাদেশেই নতুন করে বিভিন্ন কৌশলে ডাকাতির ঘটনা ঘটতে পারে। আর এর কারন হিসেবে বিচ্ছিন্ন দু’চারটি ডাকাতির ঘটনাকে উদাহরন হিসেবে নিলে সতর্কতার ষোলকলা পূর্ন হয়। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যকর্মী,পুলিশ আবার সেনাবাহিনী সেজেও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। চুরি এবং ডাকাতির এ ঘটনা ঘটাচ্ছে সমাজের সাবেক চোরের দল। এরা এলিট। বিশ্বব্যবস্থার সাথে যারা খোলস পাল্টাতে পারে যে কোন সময়।

করোনার প্রাদুর্ভাবের সময় স্বাস্থ্যকর্মী সেজে নমুনা সংগ্রহ বা আক্রান্ত রোগী শনাক্তে বাসায় ঢুকে ডাকাতির তথ্য পেয়েছে পুলিশ। সম্প্রতি টাঙ্গাইলে এমন ঘটনার পর সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) এক বার্তায় পুলিশ অফিসারদের এ সংক্রান্ত বার্তা পাঠায় ঢাকা জেলা পুলিশ।

বার্তায় লেখা রয়েছে, ‘বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সারাদেশে সরকারের ঘোষিত সাধারণ ছুটি চলাকালীন সময়ে রাজধানীসহ আশপাশের জেলায় জেলায় পিপিই পরে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী সেজে বাড়িতে ডাকাতির কথা শোনা যাচ্ছে।’ ‘এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে বাসার মূল গেট না খুলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় বিষয়টি জানানোর পরামর্শ দিয়েছে ঢাকা জেলা পুলিশ।’

এ বিষয়ে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন সরদার বলেন, সম্প্রতি টাঙ্গাইলে এ ধরনের একটি ঘটনার তথ্য পেয়েছি, তাই আমরা পুলিশ সদস্য ও ঢাকা জেলাবাসীকে সতর্ক করে একটি বার্তা দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, সামনে রমজান আসছে। অনেকে রাত পর্যন্ত জেগে থাকবেন। তাই এই সুযোগে অপরাধীরা মাস্ক-অ্যাপ্রোন পরে স্বাস্থ্যকর্মী সেজে অন্যের বাড়িতে প্রবেশ করতে পারে। এজন্য আগাম সতর্কতা নিয়েছি আমরা। রাতে পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে।

আর এধরনের ঘটনা শুধু রাজধানী ঢাকা শহরেই নয় দেশের বিভিন্ন শহর কিংবা গ্রামের উচ্চবিত্ত এমনকি মধ্যবিত্ত পরিবারেও ঘটতে পারে। এ ছাড়া এই সুযোগে উত্তরবঙ্গে সর্বহারারাও আবার মাথাচারা দিয়ে উঠতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। তাছাড়া অভাবগ্রস্থরাও অতি লোভে সুযোগের সদ্বব্যবহার করতে পারে।”

একজন ব্যক্তি ফেসবুকে একটি মন্তব্য লিখেছেন যা পাঠকের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলোঃ


“হাতের কাছেই মরিচের গুঁড়া আর লম্বা শক্ত মোটা ডাণ্ডা রেডি রাখুন
=============================================
এমনিতে করোনার ভয়ে কাঁপছি । বাসার আশে পাশেই করোনা রোগী । এরপর যুক্ত হয়েছে ডাকাতির ভয় । নিকট আত্মীয়ের বাসা , মীরপুর । ছয়তলা বাড়ি । করোনার রোগী আছে – এই সংবাদ পেয়ে এসেছে রোগী নিয়ে যেতে। সাথে এম্বুলেন্স । ওরা চারজন । দুজন পুলিশের বেশে আর দুজন পিপিই পরিধানে । মুখে ক্লিনিক্যাল মাস্ক ।
নির্দিষ্ট ফ্লাটে ঢুকেই দরজা বন্ধ করে দিল। টেস্ট করার ছলে নাকে মুখে রোমাল দিয়ে পরিবারের চারজনকেই অচেতন করে ফেলল। অভিযান শেষ করল মাত্র ১৫/২০ মিনিটেই । নিয়ে গেল নগদ হাজার সাতেক টাকা , মুল্যবান সামগ্রী আর চারভরি স্বর্ণালংকার ।
—————
ঘটনা – ২ঃ
খবরে দেখলাম , পেপারেও পড়লাম – বেশ কিছু জায়গায় ওষুধ ক্রেতা সেজে মেডিসিন দোকানে সারাদিনের বিক্রিত অর্থ লুট করে নিয়েছে।
————————–
মতামত/ পরামর্শঃ
—————————-
১। আপনার বাসার বাড়িওয়ালা এবং পাশের দুই একটি ফ্লাটের বাসিন্দার ফোন নাম্বার সংগ্রহে রাখুন। প্রয়োজনে কল দিন।
২। অপরিচিত যে কেউ হোক , দরজা খোলা থেকে সম্পূর্ণ বিরতই থাকুন।
৩। দরজার পাশেই অথবা হাতের কাছেই মরিচের গুঁড়া রিজার্ভ রাখুন। সেইসাথে মোটা একটা শক্ত লম্বা ডাণ্ডা তেল মাখিয়ে রেডি রাখুন। সুযোগমতো ব্যবহার করুন।
৪। জরুরী ফোন নাম্বারগুলো হাতের নাগালেই রাখুন। বাসার সকল মেম্বারদের এ সম্পর্কে সতর্ক রাখুন।
——————————————- সাবধানে থাকুন; সতর্ক থাকুন ।
সরাসরি কপি করে অন্যদেরকে জানাতে নিজের টাইম লাইনেও পোস্ট করুন। সবাইকে সতর্ক করে দিন।”

সতর্কতা অবলম্বন নিরাপত্তার পুর্বশর্ত। তাই সমগ্র দেশবাসী সতর্কতা অবলম্বন করে ঐক্য থাকলে যে কোন ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা সম্ভব বলে মনে করে বিশেষজ্ঞরা।

ক্রাইম ডায়রি/// আইন শৃংখলা

Total Page Visits: 66417

নারায়নগঞ্জে করোনার কড়াল থাবাঃ পুরো শাটডাউন কবে হবে???

আফজাল হোসেন তপন,নারায়নগঞ্জ হতেঃ

নারায়নগঞ্জকে বলা হয় প্রাচ্যের ড্যান্ডি। আর এই নারায়নগঞ্জই করোনার থাবায় নাকাল। এই জেলাটিকে করোনার হটস্পট হিসেবে বলা হয়েছে। বলার যৌক্তিকতাও আছে। বিগত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৪০ জন করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। আর এ নিয়ে শুধু নারায়ণগঞ্জে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩০১ জন। কোনভাবেই নারায়নগঞ্জবাসীকে কঠোরভাবে ঘরে রাখা সম্ভব হয়নি । ক্ষুদ্র ও বৃহৎ ফ্যাক্টরীতে ভরপুর নারায়নগঞ্জকে এখন পর্যন্ত  পুরো শাটডাউনও করা যায়নি।

কেইস স্টাডি-০১ঃ

শহরের কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড এর পাশে বিআইডব্লিউটিএ ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের অফিসের সামনের রাস্তা থেকে শুরু করে ৫নং ঘাট এলাকা পর্যন্ত বিস্তত একটি বাজার। যা রাস্তা দখল করে পরিচালিত হয়ে আসছে। যদিও মূল বাজারটি হচ্ছে শুধুমাত্র ৩নং মাছ ঘাট এলাকাটি।  এই এলাকার মানুষের মধ্যে বিধিনিষেধ আরোপ করেও কোন সুফল পাচ্ছে না প্রশাসন। অনেকেই অসচেতনভাবে দিব্বি ঘুরে বেড়াচ্ছে রাস্তাঘাট ও হাট বাজারে।

কেইস স্টাডি-০২ঃ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে লকডাউন চলাকালীন রাস্তায় জনসমাগম ও সরকারি নির্দেশনা অমান্য করায় রনি বিল্লাহ (২৮) নামের এক পাতিনেতাকে আট মাসের জেল ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে সোনারগাঁ পৌরসভার এলাকায় রাস্তায় ট্রাক থামিয়ে লোকজন নিয়ে জনসমাগম করায় সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল মামুন পৌরসভার বাসিন্দা নাছির উদ্দীনের ছেলে রনিকে প্রথমে ছয় মাসের জেল এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পরবর্তীতে জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল মামুন জানান, লকডাউন চলাকালীন রাস্তায় জনসমাগম ও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করায় রনি বিল্লাহ নামের একজনের ২০১৮ সালের ২৫/২ আইনে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও ছয় মাসের জেল হয়েছে। অনাদায়ে মোট আট মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয় তাকে।

এছাড়া ও প্রতিনিয়ত নারায়নগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় জনতা ও মাদককারবারী কিংবা ছিনতাইকারী সংঘর্ষ এবং এই সংঘর্ষের সময় জনসমাগম হচ্ছেই। আন্ডারগ্রাউন্ড ফ্যাক্টরীগুলো চলছে দেদারসে। বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছেনা কোনভাবেই।

সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির প্রতিনিধি ডা. জাহিদুল ইসলাম  জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫১ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। যার মধ্যে প্রাপ্ত ফলাফলে ৪০ জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ৭০৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে যার মধ্যে ৩০১ জনের ফলাফলে পজিটিভ এসেছে। নারায়ণগঞ্জ জেলায় এখন পর্যন্ত মারা গেছে ২৪ জন।

এখন পর্যন্ত শতভাগ শাটডাউন হচ্ছেনা কেন তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। নারায়নগঞ্জকে উহানের মত শাটডাউন না করলে পুরো দেশই অরক্ষিত হয়ে পড়বে বলে সবার ধারনা। তাই নারায়নগঞ্জ বাসীকেই বাঁচাতে এই জেলা পুরো শাটডাউন এখন সময়ের দাবী।।।

ক্রাইম ডায়রি///জেলা//স্বাস্থ্য

Total Page Visits: 66417