• সোমবার (বিকাল ৩:১৯)
    • ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

বগুড়ায় করোনা উপসর্গে তিনজনের মৃত্যুঃ জেলাকে লকডাউনের আহবাণ

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃ

পুরো বিশ্ব যেখানে কঠিন অবস্থার মুখোমুখি তখন যে কোন পরিস্থিতিকেই আরসহজ বলে অবহেলার কোন সুযোগ নেই। এখন ও সময় আছে বাঁচবার। আর তা হলো রোগকে বিস্তার হতে না দেয়া। মফস্বলের জেলা গুলো হতে ঢাকায় কিংবা এর আশেপাশের জেলার চাকরী করতে আসা শ্রমিক কিংবা কর্মরতরা যখন বাড়ি ফিরছেন তখন তারাই যে করোনা জীবানু নিয়ে গ্রামে ফিরে নিজ পরিবারকে অরক্ষিত করে ফেলছেন তা ইতোমধ্যে আই ইডিসি আর এর বক্তব্যে সুষ্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সুতরাং গ্রামের সহজ সরল অবলা মানুষগুলোকে বাঁচাতে হলে প্রয়োজন পুরো জেলা লক ডাউন। কারন গ্রামের মানুষেরা বড্ড একরোখা হয় ।মুর্খতা থাকলে যা হয় আর কি? এদের কোন সুযোগ না দিয়ে শতভাগ লক ডাউন কার্যকর করলে বেঁচে যেতে পারে কোটি কোটি গ্রামবাসী।

এজন্য প্রয়োজন কঠোরতা। সামান্য কঠোরতা অবলম্বন করলে যদি মানুষের জীবন বাঁচে তবে সে কঠোরতায় দোষ কি? ইতোমধ্যে আমরা জেনেছি, জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শ্বাসকষ্ট ও জ্বরে ৩ জন মারা গেছেন। তাদের একজন বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার একজন মহিলা (৩০), দ্বিতীয় জন একই জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলার মাঝ বয়সী পুরুষ (৪৫), তৃতীয় জন নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার একজন মহিলা (৩০)।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাক্তার আব্দুল ওয়াদুদ জানান, বৃহস্পতিবার গাবতলী উপজেলার মহিষাবানের একজন মহিলা জ্বর, শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হন। তাকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন কেন্দ্রে পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছিল। এমন সময় সে মারা যায়।

বগুড়ার সিভিল সার্জন ডাঃ গওসুল আজিম চৌধুরী জানান, যেহেতু ওই মৃত ব্যক্তির জ্বর, শ্বাসকষ্ট ছিল। তাই তারা করোনাভাইরাসে মারা গেছেন কিনা এটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য রাজশাহীতে নমুনা পাঠানো হয়েছে। নমুনার ফলাফল এলে বোঝা যাবে তাদের মৃত্যুর কারন। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বাড়িতে লকডাউনের জন্য স্ব স্ব উপজেলা প্রশাসনকে বলা হয়েছে।

জেলার গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওনক জাহান জানান, মহিষাবানের সাবানার বাড়িসহ ১৩ টি বাড়ি লকডাউন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে।
সুতরাং ভয়াবহতা কাকে বলে তা বোঝার জন্য আর সময়ক্ষেপন করার দরকার আছে বলে মনে হয়না। তাই সময় থাকতে লক্ষকোটি অসহায় গ্রামবাসীর দাবী সময় থাকতে পুরো লকডাউন দিয়ে গ্রাম বাঁচান। যদি সত্যিকারের করোনায় কেউ মারা নাও যায় তবুও সতর্ক থাকতে দোষের কিছুই নেই বলে বিজ্ঞমহল মনে করেন।

ক্রাইম ডায়রি//জেলা

Total Page Visits: 66253

ঢাকা হতে এরা যে করোনা নিয়ে ফিরছে না তার গ্যারান্টি কি??? প্রমাণ দেখুন…

আরিফুল ইসলাম কাইয়্যুম,রাজধানী সংবাদদাতাঃ

খবর পড়ার আগে এই খবরটা আগে জানুন—২৪ ঘন্টায় শনাক্ত ১১২, মৃত্যু ০১, নমুনা পরীক্ষা ১০৯৭, মোট শনাক্ত ৩৩০। মৃত্যুর মিছিল কিন্ত বাড়ছে।।। এখন নিচের খবর পড়ুন—

বিভিন্ন সময়ে সুবিধাভোগী রক্তচোষাদের বহুমুখী সিদ্ধান্তে চাকরি বাঁচাতে রাজধানীর দিকে ছুটে এসেছিল জনস্রোত। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় শরণার্থীদের মতো দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে তারা হাঁটছিল দলে দলে। করোনার মত মহামারির মহাবিপদে পুরো বিশ্ব যখন পর্যদুস্থ তখন কোটি মানুষের পায়ে হেটে ঢাকায় ফেরার দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে পড়েছিল পুরো বিশ্ব। মানুষ নিশ্চিত মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার জন্য এভাবে দৌড়ে আসে তা একটি নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে বিশ্ববাসীর জন্য। । এমন সমালোচনার ঝড় সামাল দিতেই ছুটি বাড়ানো হয় পোশাক কারাখানায়। আর তাতেই বিপদে পড়তে হয় অসংখ্য পোশাক শ্রমিককে। দলে দলে শ্রমিকদের রাজধানীর দিকে ধেয়ে আসার বিশেষ চিত্র আবার সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বহু শ্রমিককে দেখা গেছে পায়ে হেঁটে ও ভেঙে ভেঙে ছোট ছোট গাড়িতে করে আসতে। তাদের মধ্যে অনেকে পিক-আপে মাছের ড্রামে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থল ফিরেছিলেন।

উৎকট আঁশটে গন্ধে ভরা মাছের ড্রামে করে ঢাকায় ফেরা আবার একই কায়দায় গ্রামের বাড়িতে ঢাকা হতে করোনা ভাইরাস ধরে নিয়ে নিজ পরিবারকে মেরে ফেলার মত ঘৃন্য কাজ করছে এরা অজান্তে।

তবে সবচেয়ে বড় ভয়টা হলো- চাকরি বাঁচাতে শ্রমিকদের এভাবে কারাখানায় টেনে আনার ঘটনা করোনার সংক্রমণ ঝুঁকিকে কতটা বাড়িয়ে দিয়েছে তা অকল্পনীয়। যেখানে লকডাউন করা হয়েছে গোটা দেশ। আর ঘর থেকে বের না হওয়ার জন্য রাতদিন আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী চেষ্টা করে যাচ্ছে সেখানে এভাবে রাজধানীর দিকে জনস্রোত ভয়াবহ করে তুলেছে পরিস্থিতি। ইউরোপ যাওয়ার মতো মাছের খালি ড্রামে করে যেভাবে তার ঢাকায় এসেছিলেন ঠিক একইভাবে তারা বাড়ি ফিরছেন। পাটুরিয়া ফেরিঘাটে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। দক্ষিণাঞ্চলের শ্রমিকরা রাজধানীতে পৌঁছার পর ছুটির খবর পেয়ে ফের নিরূপায় হয়ে পড়ে। তারা একইভাবে মাছের খালি ড্রামে করে বাড়ির পথ ধরে।  এসব শ্রমিকের মাধ্যমে যে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে যায়নি কিংবা রাজধানী থেকে করোনা নিয়ে বাড়ির পথ ধরেনি এমন নিশ্চয়তা কি কেউ দিতে পারেন।। কোনোভাবেই নিশ্চয়তা দেয়া সম্ভব নয়। হাজার বছর ধরে গ্রামের এসব সহজ সরল মানুষ যারা গৃহে অন্তরীণ থাকতে অভ্যস্ত নন তারা কি ঝুকির মধ্যে পড়লেন তা বলাই বাহুল্য। এমনকি তারা ইউটিউব,ফেসবুক কিংবা টিভি পর্যন্ত দেখেন না।

ঢাকা কিংবা দেশের যে কোন জায়গা হতে গ্রামে ফিরলেই যে করোনা নিয়ে ফিরছে তার প্রমান দেখুনঃ——

“ঢাকার বাইরে নারায়ণগঞ্জ জেলা করোনাভাইরাসের হটস্পট বলে জানিয়েছেন আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১১২ জন আক্রান্ত হয়েছেন করোনাভাইরাসে। তাদের ৭০ জন পুরুষ ৪২ জন নারী।এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩০ জনে দাঁড়িয়েছে।

আইইডিসিআরের পরিচালক বলেন, আমরা দেখেছি ২৪ ঘণ্টায় যত রোগী হয়েছেন তার বেশিরভাগই ঢাকায়। এরপরেই রয়েছে নারায়ণগঞ্জের। আমরা ইতিমধ্যে এটাও বলেছি যে নারায়ণগঞ্জকে আমাদের জন্য একটা হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছি। নারায়ণগঞ্জের বিষয়ে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়ে আমরা কাজ করছি।একেবারেই আলাদা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এখন বিভিন্ন জায়গা, বিভিন্ন জেলায় যেসব রোগী শনাক্ত হচ্ছে তারা ইতিপূর্বে আক্রান্ত এলাকা থেকে গেছেন। অনেক ক্ষেত্রেই আমরা দেখেছি আমরা আগে যেসব ক্লাস্টার চিহ্নিত করেছিলাম সেসব জায়গা থেকে গিয়েছেন, যেমন নারায়ণগঞ্জ। অনেকগুলো জেলাতেই যখন আমরা রোগ চিহ্নিত করছি তখন দেখছি যে তারা (আক্রান্তরা) নারায়ণগঞ্জ থেকে গেছেন।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে সবার ঘরে থাকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা এই তথ্য থেকে বোঝা যায়।

সেব্রিনা বলেন, আমরা বারবার বলেছি, আমাদের সাধারণ ছুটিকে ছুটি হিসেবে নিলে হবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের জন্য ছুটি ঘোষণা করেছেন সবার ঘরে থাকা নিশ্চিত করতে। ঘরে থাকাটাই এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বড় অংশগ্রহণ।

এ দিন সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নতুন ১১২ জন আক্রান্তদের মধ্যে ৩ জনের বয়স ১০ বছরের নিচে। ১১ খেকে ২০ বছরের ৯ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের ১৫ জন, ৩১ খেকে ৪০ বছরের ২৪ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের ১৭ জন, ৫১ খেকে ৬০ বছরের ২৩ জন। ৬০ বছরের বেশি বয়স এমন ১২ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন।

ইতোমধ্যে এই ঝুঁকির ভয়াবহতা প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। করোনা আক্রমন গ্রামেও শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রবাসী যারা এসেছেন ইতোমধ্যে তারাও গাঁ ঢাকা দিয়েছেন। আবার ঢাকা হতে বাড়ি গিয়ে বীরদর্পে খোশ গল্পে মাতোয়ারা একদল মানুষ। তারা রাজনৈতিক ব্রেনওয়াশের শিকার কিনা , তা নিয়ে এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। করোনা এ আর এমনকি কিংবা কিছুই হবেনা। এমন চিন্তা নিয়ে তারা স্বাভাবিক জীবন যাপনের চেষ্টা করে চলেছেন। তাই শত লকডাউন স্বত্বেও পুলিশ কিংবা প্রশাসন যতক্ষন থাকেন ততক্ষন মেনে চলেন এরপর আগের মতই। অলিতে গলিতে মানুষের ভীর। খেলার মাঠে কিংবা কোনায় বসে টোকাইদের আড্ডাবাজি এখনও চোখে পড়ে। কিন্ত তা যেয়ে কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা সারাবিশ্বের মৃত্যূর মিছিলের দিকে তাকালে কিছুটা উপলব্ধি হচ্ছে  কিনা , তাও এখন প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। গ্রামকে বাঁচাতে হলে তাই এখন গ্রামবাসীকেই সেই আমলের ডাকাত তাড়ানোর মত করে দলবদ্ধ হয়ে গ্রাম পাহাড়া দিতে হবে। অনাকাংখিত কাউকে কিংবা প্রবাসি কিংবা এলাকার বাহিরে ছিল এমন কাউকে আপনারা নিজ জীবন বাঁচানোর স্বার্থে গ্রামে প্রবেশ করতে দিবেন না। তবেই যদি কিছুটা রক্ষা হয়।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

Total Page Visits: 66253