• শনিবার (রাত ২:১৬)
    • ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ঔষধ কিনতে এসে আকস্মিক মৃত্যু

ইঞ্জিনিয়ার ওয়াসিম মোল্লাঃ

রাজধানীর  ভাটারা থানার ১০০ ফিট রোড এলাকার একটি ফার্মেসির সামনে হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার পর ওই দোকানেই মারা গিয়েছেন এক ব্যক্তি। এরপর ওই ঘটনার বেশ কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবিতে দেখা যায়, ওষুধের দোকানটির মধ্যে মেঝেতে পড়ে আছেন এক ব্যক্তি।

ওই ফার্মেসিতে সেলস এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত হুমায়ুন কবীর জানান, ওষুধ কিনতে আসা ওই ব্যক্তি মৃত্যুর আগে তার সঙ্গেই শেষ কথা বলেন।

তিনি জানান, একটি প্রেসক্রিপশন দিয়ে ওষুধের দাম জানতে চাইছিলেন ওই ব্যক্তি। প্রেসক্রিপশনের সব ওষুধ হৃদরোগ বিষয়ক ছিল। এর পরপরই হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যান তিনি।

হুমায়ুন কবীর আরো জানান, হাসপাতালে নেয়ার আগেই ওই ব্যক্তি মারা যান।

ওষুধের দোকানের এই কর্মী জানান, সকালে সাইকেল চালিয়ে মোহাম্মদপুর গিয়ে ডাক্তার দেখিয়েছেন ওই ব্যক্তি। সেখান থেকে ফিরেই তার ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে আসেন এবং সেগুলোর দাম জানতে চান।

তিনি বলেন, এ ঘটনার পর তারা সাহায্যের জন্য ৯৯৯-এ ফোন করেন বেশ কয়েকবার, কিন্তু তাৎক্ষণিক কোন সাড়া পাননি। তবে পরে খবর পেয়ে ভাটারা থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে আসেন।

ভাটারা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মুক্তারুজ্জামান জানান, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ আব্দুর রশীদের লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রেখেছে।

তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পুলিশ নিশ্চিত করে এখনো কিছু বলেনি। তবে ওই ব্যক্তি হৃদরোগে ভুগছিলেন বলে জানানো হয়েছে। মুক্তারুজ্জামান বলেন, মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা সবাই চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। তার ঢাকায় এসে লাশ সৎকারের জন্য এলাকায় নিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

ক্রাইম ডায়রি//রাজধানী

 

Total Page Visits: 66600

ঢাকা মুখী হচ্ছে জনস্রোতঃ করোনায় যেন ভয় নেই ওদের

গার্মেন্টস খুলেছে এমন খবরে আর বাঁধ মানানো যাচ্ছেনা গ্রামে ফিরে যাওয়া গার্মেন্টস কর্মীদের । যে কোন মূল্যে ঢাকায় ফেরার প্রতিযোগীতায় ব্যস্ত তারা। পাবলিক বাস বন্ধ থাকলে ও বিভিন্ন উপায়ে তারা ঢাকায় ফিরছেন। বিকল্প পথ যে সব রুটে আছে সে সব এলাকা হতে ঢাকায় ফেরার প্রতিযোগীতা একটু যেন বেশিই। ইউ এন বি’র একজন প্রতিনিধি সরেজমিনে গিয়ে এমনটিই দেখেছেন বলে জানা গেছে। শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুট দিয়ে ফেরিতে করে পদ্মা পার হচ্ছেন শত শত গার্মেন্টসকর্মী। ২৯ এপ্রিল,২০২০ইং বুধবার সকাল থেকে এসব যাত্রীকে কাঁঠালবাড়ি ঘাট থেকে ফেরিতে করে শিমুলিয়া ঘাটে এসে ঢাকার উদ্দেশ্যে বিকল্প যানবাহনে যেতে দেখা গেছে।
ঢাকা মুখী এসব জনতার অনেকেই বলছেন, কয়দিন আর না খাইয়া থাকুম। কাম তো কইরা খাওন লাগবো।।।পেটের তাগিদেই তারা ঢাকায় ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন।।।

স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন,  দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা হতে হাজার হাজার মানুষ  ঢাকায় যাচ্ছে। এসব যাত্রীর অধিকাংশই গার্মেন্টস কর্মী। তারা দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিকল্প যানবাহনে করে কাঁঠালবাড়ি ঘাটে আসছেন। সেখান থেকে ফেরিতে করে শত শত যাত্রী পদ্মা পাড়ি দিয়ে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাটে আসছেন।

করোনার কারণে যাত্রীবাহী পরিবহন বা বাস বন্ধ থাকায় এসব যাত্রী বিকল্প যানবাহনে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গন্তব্যে ছুটছেন। এসব যানবাহনের মধ্যে রয়েছে, আটোরিকশা, ইয়েলো ক্যাব, রেন্ট এ কার, মাইক্রোবাস ও পিকাআপভ্যানসহ লোকাল নানা ধরনের যানবাহন।

মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ সিরাজুল কবির ক্রাইম ডায়রিকে  জানান, সকাল থেকেই ফেরিতে করে শত শত লোক আসছে শিমুলিয়া ঘাটে। তাদের অধিকাংশই গার্মেন্টস কর্মী।

ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ মোঃ হেলাল  বলেন, খুব ভোর হতে দক্ষিণবঙ্গ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে  হাজার হাজার গার্মেন্টস কর্মী নদী পার হয়ে শিমুলিয়া ঘাটে আসছে। এখান থেকে বিকল্প যানবাহনে তারা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছে।

এ দৃশ্য শুধু নদী পথেই নয় বরং সড়ক পথেও বিভিন্ন উপায়ে সাধারন মানুষ পেটের টানে ঢাকা মুখী হচ্ছে। তাছাড়া আজ ঢাকার পরিস্থিতিও অনেক স্বাভাবিক দৃষ্টিগোচর হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার রাস্তা ও গলিপথগুলো ছিল বেশ উপচে পড়া। বাস না চললেও অন্যান্য নিত্য যানবাহন যথেষ্ট পরিমান ছিল বলে সরেজমিন সুত্রে জানা গেছে।

ক্রাইম ডায়রি// জেলা

 

Total Page Visits: 66600

বেঁচে আছেন উত্তর কোরিয়ার প্রধান কিম জং উন

ইঞ্জিনিয়ার আয়াতুস সাইফ মুনঃ

কয়েকদিন হলোই ইউটিউবাররা বিভিন্ন ধরনের  তথ্য নিয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনে মৃত্যুকে ভাইরাল করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিশ্ব নেতারা বিষয়টি  নিশ্চিত করতে পারেননি। পৃথিবীর সবচেয়ে সুরক্ষিত দেশ উত্তর কোরিয়া। তারা যদি না চায় তবে তাদের ভিতরের খবর প্রতিবেশি দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষেও সম্ভব নয় জানা। এমনটাই এখনকার অবস্থায় সবচেয়ে প্রমানিত সত্য। জীবন্ত কিংবদন্তি ও উত্তর কোরিয়ার ডন কিম জং সবচেয়ে নবীন রাস্ট্রপ্রধান। তার মৃত্যু হয়েছে এহেন তথ্যকে ঠিক বিশ্বাস করা মুশকিল। আর তাদের বিষয়ে কে কি ভাবল তা নিয়ে তাদের মোটেই মাথা ব্যাথা নেই। তার চিরদুশমন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন তার সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুব ভাল। তিনি মারা গেছেন এটা তিনি আগেই মন্তব্য করতে চাননা। তবে বেঁচে থাকুন এটাই সবার আশা। এমন মন্তব্যই বিশ্বজুড়ে।

তবে নিন্দুকের মুখে চুনকালি দিয়ে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। আর তা হলো তিনি বেঁচে আছেন। নেতা কিম জং উন সুস্থ আছেন। তবে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের ভয়ে আইসোলসেনে আছেন বলে দাবি করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।

সিউলের পক্ষ থেকে দাবি করা হলো, প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে চাইছেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। আর এ জন্যই তিনি গত ১৫ এপ্রিল তার দাদার কিম জং ইলের জন্মদিনের রাষ্ট্রীয় জন্মদিনে উপস্থিত হননি। মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ায় উত্তর কোরিয়া বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এমনটি বলা হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি, কিম জং উনের অসুস্থতা নিয়ে উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে তারা কোন আভাস পায়নি। যদিও উত্তর কোরিয়া দাবি করছে যে তাদের দেশে কোন করোনা আক্রান্ত রোগী নেই। তবে করোনা ভাইরাস ঠেকানোর জন্য দেশটিতে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার উত্তর কোরিয়া বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কিম ইয়ুন-চুল বলেন, এটা সত্য যে ক্ষমতায় আসার পর কিম জং উন ওই অনুষ্ঠানে কখনো অনুপস্থিত থাকেনি। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে অনেক অনুষ্ঠানই বাতিল করা হচ্ছে।

জানা গেছে, করোনা ভাইরাস ঠেকাতে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। পাশপাশি দেশটিতে সকল বড় অনুষ্ঠানও বাতিল করা হয়েছে। আবার  উত্তর কোরিয়া একজন দেশত্যাগীর দাবি ক্ষেপনাস্ত্র  পরীক্ষার সময় গুরুতর আহত হয়েছেন কিম জং উন।

গেল ১৫ এপ্রিলে দাদার জন্মদিনে ( রাষ্ট্রীয় ছুটির দিন) উপস্থিত না হওয়ায় কিমকে নিয়ে তৈরি হয় নানা জল্পনা কল্পনা। এর আগের দিন ১৪ এপ্রিল মিসাইল টেস্টের সময় কিম গুরুতর আঘাত পেয়েছে বলছেন উত্তর কোরিয় ডিফেক্টর লি জিয়ং হ। আর এই অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনার জন্য বিশ্রামে আছেন কিম। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি পত্রিকা এ তথ্য জানায়। ধ্বংসাবশেষ বা আগুন থেকেই এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে বলছেন তিনি। ক্ষেপনাস্ত্র উৎক্ষেপণের যে ছবি তাতে কোন জায়গায় কিমকে দেখা যায়নি। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে আগুন বা ধ্বংসাবশেষ থেকে আহত হয়েছেন কিম।

এ বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কোরিয়া রিস্ক গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চাঁদ ও’ক্যারোল বলেন, যদি করোনার ভয়ে কিম লুকিয়ে থাকেন তাহলে ভাইরাস ঠেকাতে তার সরকারের যে তৎপরতার কথা শোনা যাচ্ছে সেটি সমালোচনার মুখে পড়বে । এমন অবস্থায় তার উচিৎ ছবি অথবা ভিডিও প্রকাশ করে তার অবস্থার তথ্য বিশ্বের সামনে তুলে ধরা। আর  এমনটাই বলছেন বিশ্বের মোড়লেরা। তিনি যদি সত্যিই বেঁচে থাকেন তবে তা প্রকাশ এখন সময়ের দাবী বলে মন্তব্য করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার জনগন।।

ক্রাইম ডায়রি/ আন্তর্জাতিক

Total Page Visits: 66600

কক্সবাজারে কোয়ারেন্টাইন না মানায় দুই এনজিও কর্মকর্তার একলক্ষ টাকা জড়িমানা

এইচ এম ওসমান গণি,কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ

বহুল আলোচিত ও সর্বোচ্চ ঘনবসতিপূর্ন কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোয়ারেন্টিন না মানায় ফ্রেন্ডশিপ নামের একটি এনজিওর  ২ জন কর্মকর্তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে লকডাউনের মধ্যেই প্রতিনিয়ত গোপনে কক্সবাজার ও উখিয়ায় আসছে এনজিও কর্মীরা। এটা নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ আসছে রাতের গাড়িতে আবার কেউ আসছে এনজিওর নিজস্ব গাড়িতে।

 

সোমবার বিকালে কোটবাজারস্থ ফেন্ডশিপ এনজিও অফিসের কর্মকর্তা শহীদের নেতৃত্বে উক্ত এনজিওর গাড়ি ভর্তি করে আসে এনজিও কর্মীরা। কিন্তু তারা ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন না মেনে কর্মস্থলে যোগ দেন।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ইউএনও নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আমরা অনেক চেষ্টা করেছি, অনেক বুঝিয়েছি। কিন্ত আর ছাড় দেয়া হবে না। ফ্রেন্ডশিপ কোটবাজার অফিসে তারা দু’জনই সিনিয়র অফিসার। তারা প্রথমে অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের অপরাধ প্রমাণিত হলে তাদের দু’জনকে একলক্ষ টাকা জড়িমানা করা হয়।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম//আদালত//জেলা

Total Page Visits: 66600

ঢাকার বাহির হতে শ্রমিক আসতে নিষেধাজ্ঞাঃ সীমিত আকারে খুলছে গার্মেন্টস

আরিফুল ইসলাম কাইয়্যুম,মহানগর প্রতিনিধিঃ

দেশের চাকা চলতে হলে অর্থও প্রয়োজন। তাই অর্থের বৃহৎ সেক্টর গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী গুলো স্থানীয় ও গার্মেন্টস গুলোর পাশে বসবাসরত শ্রমিক দিয়ে সীমিত আকারে খুলে দেয়া হচ্ছে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, এই মুহূর্তে ঢাকার বাইরে থেকে গার্মেন্টস কর্মী আসতে পারবে না। মঙ্গলবার সচিবালয়ে পোশাক কারখানার মালিকপক্ষের সাথে সভা শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। ঢাকার ভেতরে অবস্থানরত শ্রমিক দিয়েই সীমিত আকারে পোশাক কারখানা চালাতে হবে বলে তিনি জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঢাকায় অবস্থানরত শ্রমিক দিয়ে সীমিত আকারে গার্মেন্টস চালানো হচ্ছে বলে মালিক পক্ষ জানিয়েছেন। সীমিত আকারে গার্মেন্টস খোলা রাখা বিষয়ে মালিক পক্ষ বলেছেন স্বাস্থ্যবিধি মেনেই তারা গার্মেন্টস খোলা রেখেছেন।’

ক্রাইম ডায়রি// জাতীয়//সুত্র// : ইউএনবি

Total Page Visits: 66600

দেখার কি কেউ নেইঃ দাপুটে নেতার কড়াল থাবায় নারী স্বাস্থ্যকর্মী

মিয়া মোহাম্মদ হেলাল, ক্রাইম ডায়রির   বিশেষ প্রতিনিধি, লন্ডন  হতেঃ

ঢাকার ইমপালস হাসপাতালে চাকরি করতেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের লগন্ডা গ্রামের নারী স্বাস্থ্যকর্মী। করোনা ভাইরাসের কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ছুটি দিয়ে দেয়। ছুটিতে গত মঙ্গলবার তিনি বাড়িতে আসেন। বাড়িতে আসার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাদুল্লাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রশান্ত বাড়ৈর নির্দেশে এলাকাবাসী এই নারী স্বাস্থ্যকর্মীকে তার বাড়ির প্রায় ৪০০ মিটার দূরে একটি নির্জন স্থানে পুকুরের ভেতর তালপাতা দিয়ে ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে তাকে কোয়ারেন্টাইনে রাখে। প্রায় ১ সপ্তাহ ধরে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে এই নারী স্বাস্থ্যকর্মী ওখানে অবস্থান করছেন।

ভুক্তভোগী ওই নারী স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, আজ প্রায় এক সপ্তাহ ধরে আমি এখানে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে মানবেতর জীবনযাপন করছি। একজন স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে আমি অনেক মানুষকে সেবা দিয়েছি। আর আজ এখানে থেকে আমার স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে।

ওই স্বাস্থ্যকর্মীর মা বলেন, আমার স্বামী নেই। আমার এই মেয়েটার আয়ে আমার সংসার চলে। আমার মেয়েটির এখনও বিয়ে হয়নি। তাকে এভাবে একটি পুকুরের মধ্যে ঝুপড়ি ঘরে রাখা হয়েছে। আমার মেয়েটির যদি কিছু হয়ে যায় তাহলে এর দায় কে নেবে ? এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা প্রশান্ত বাড়ৈ চাপ সৃষ্টি করে আমার মেয়েটিকে এখানে রেখেছে।

প্রশান্ত বাড়ৈ দের দেখার মত কি কেউ নেই ? আমি মনে করি এটা কোয়ারেন্টাইন নয়, প্রশান্ত বাড়ৈ’র ব্যাক্তিগত জিঘাংসা। অবিলম্বে প্রশান্ত বাড়ৈ কে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।

***মিয়া মোহাম্মদ হেলাল

(লেখক, যুক্তরাজ্য প্রবাসী-মুক্তচিন্তার মূর্তপ্রতীক,দেশপ্রেমিক, আওয়ামী অনলাইন এক্টিভিস্ট, আওয়ামীলীগ গবেষক,  বঙ্গবন্ধু ও শেখহাসিনার  সূর্য সৈনিক,বাংলা ডায়রি মিডিয়া লিঃ এর উপদেষ্টা ।।।)

Total Page Visits: 66600

লাশের সারি বাড়ছেঃব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যুঃ আমরা জাগব কবে???

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, ২৬ এপ্রিল ২০২০ ইং রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৫ জন হয়েছে। গত এক দিনে সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরও ৯ জন। এ পর্যন্ত মোট ১২২ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা রোববার দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ২ জন নারী। তাদের ৪ ছিলেন রাজধানীর বাসিন্দা, আরেকজনের বাড়ি ঢাকার দোহারে। যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে একজনের বয়স ৬০ বছরের বেশি; ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী তিন জন। এছাড়া দশ বছরের কম বয়সী এক শিশুও আছে মৃতদের মধ্যে।

নাসিমা সুলতানা বলেন, “যে শিশুটি মারা গেছে, তার নেফ্রটিক সিনড্রোম, কিডনির অসুস্থতা ছিল। তারপরে তার কোভিড পজিটিভ হয়েছে।”

বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৩৬৮০টি, তার মধ্যে পরীক্ষা হয়েছে ৩ হাজার ৪৭৬টি নমুনা।

কোভিডি-১৯ আক্রান্তদের মধ্যে যারা সুস্থ হয়ে উঠেছেন, তাদের তথ্য জানাতে গিয়ে নাসিমা সুলতানা বলেন, “আমাদের বেশিরভাগ আক্রান্ত ব্যক্তি বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নেন। তারা সুস্থ হয়ে গেলে সে তথ্যটা এখানে আমরা দিই না। যারা হাসপাতাল হয়ে বাসায় যান, তাদের তথ্যটাই দিই। ”

একটা বিষয় এখানে পরিস্কার বন্ধ রাখলেই সব কিছুর সমাধান হয়ে যাচ্ছেনা। যদি না প্রতিটি নাগরিক নিজ হতে হোম কোয়ারেন্টাইন বিধি মেনে না চলেন। সব কিছু বন্ধ রাখা হলো আর আমরা নিজেরা সেই বিধি যথারীতি অমান্য করে চললাম। তাতে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই হচ্ছে কিন্তু যে জন্য বন্ধ রাখা হলো সেই উদ্দেশ্য সফল হবেনা। সুতরাং নিজ জীবনের মায়া যদি ব্যক্তি পর্যায়ে তৈরি না হয় তবে বন্ধ রাখলেই কি আর খোলা রাখলেই বা কি? তবুও সার্বিক লকডাউন জরুরী ছিল যা সরকারের তরফ হতে করা হয়েছে। এখন বাকী দায়িত্ব জনগনের । যে মৃত্যু তার স্বজনদেরও এমনকি স্ত্রী সন্তানকেও কবরস্থ করা সুযোগ দেয়না। সেই মর্মান্তিক মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে চাইলে এখনও সময় আছে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সামাজিক দুরত্ব মেনে চলুন। সমষ্টিগত  লকডাউনই পারে করোনা ঝুঁকি হতে জাতিকে মুক্তি দিতে।।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বেসরকারি এক ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। ওই কর্মকর্তা সিটি ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগে এফভিপি ছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৪০ বছর। তার সংসারে স্ত্রী ও এক মেয়ে রয়েছে।

মুগদা হাসপাতালের অধ্যক্ষ (চলতি দায়িত্ব) ডা. শাহ গোলাম নবী সাংবাদিকদের বলেন, এই হাসপাতালে দুইজন মারা গেছেন। তবে ওই ব্যক্তি ব্যাংক কর্মকর্তা কিনা তা কাগজে লেখা নাই।

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোভিড-১৯ বিষয়ক টিমের ফোকাল পার্সন সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ওই ব্যক্তি করোনাভাইরাসের রোগী ছিলেন। আজ (রোববার) সকাল ১০টায় তার মৃত্যু হয়েছে।

দেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে লকডাউনের মধ্যেও ব্যাংক খোলা রয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন ব্যাংকার আক্রান্তও হয়েছেন। তবে মৃত্যুর ঘটনা এটাই প্রথম।

সিটি ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, কয়েকদিন ধরে ওই কর্মকর্তা সর্দি-কাশি এবং জ্বরে ভুগছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শে দুই বার তিনি নমুনা পরীক্ষা করিয়েছিলেন। তবে দুবারই ‘নেগেটিভ’ আসে। চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি।

অসুস্থতা বাড়লে শনিবার সকালে আবারও মুগদা হাসপাতালে যান ওই ব্যাংক কর্মকর্তা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শাহরিয়ারকে ভর্তি করে নেন। নমুনা আবার পরীক্ষা করে করোনাভাইরাস ‘পজিটিভ’ আসে।

সিটি ব্যাংকের ওই কর্মকর্তাকে হাসপাতালে ভর্তির পরই মোবাইল ফোনে তার পরিবারকে কল করে তার সঙ্গে দেখা না করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। মৃত্যুর পর তার পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে থাকতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই কর্মকর্তার লাশ স্বজনদের কাছে দেওয়া হয়নি। সিটি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর না করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিধি অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রাজধানীর তালতলা কবরস্থানে দাফন করে।

ক্রাইম ডায়রি///

Total Page Visits: 66600

বিশ্বব্যাপী মৃত্যু ২ লাখ ছাড়ালোঃ বাংলাদেশে ৩২৪ জন চিকিৎসক আক্রান্ত

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃ

সারাবিশ্বে মহামারী করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ২ লাখের ও বেশি।  আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ডওমিটারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টার দিকে এ সংখ্যা ছাড়িয়ে যায়। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে ২১০ দেশটি দেশে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে।

সারাদেশে করোনাভাইরাসে আজ পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মোট ৩২৪ জন চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন। অনেকে বলছেন যেখানে চিকিৎসকরাই আক্রান্ত তাতে নতুন করে জনগনকে এর ভয়াবহতার ব্যাপারে বলার আর কিছুই নেই। যে চিকিৎসকদের চিকিৎসায় তারা ভাল হবার আশা করে বসে আছেন সেখানে চিকিৎসকরাই আক্রান্ত ; লকডাউন মেনে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে ঘরে থাকার ব্যাপারে এর চেয়ে বড় মেসেজ আর কি হতে পারে??

 

এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্তদের মধ্যে ৮ লাখ ১৯ হাজারেরও বেশি মানুষ সুস্থ হয়েছেন। যা শতকরা হিসেবে ৮০ ভাগ

করোনায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ইউরোপ ও আমেরিকার মানুষ। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৯ লাখের বেশি। আর করোনায় যে ২ লাখ মানুষ মারা গেছে তার এক চতুর্থাংশ অর্থাৎ ৫২ হাজারে বেশি মানুষ মারা গেছে যুক্তরাষ্ট্রে। একদিনে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর দিক দিয়েও দেশটিরে ধারে কাছে কেউ নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের পর করোনায় মৃত্যুতে শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ ইউরোপের। ইতালিতে ২৬ হাজার ৩৮৪, স্পেনে ২২ হাজার ৯০২, ফ্রান্সে ২২ হাজার ২৪৫, যুক্তরাজ্যে ২০ হাজার ৩১৯, বেলজিয়ামে ৬ হাজার ৯১৭, জার্মানিতে ৫ হাজার ৮০৫ ও নেদার‍ল্যান্ডসে মারা গেছে ৪ হাজার ৪০৯ জন।

চীনে প্রাদুর্ভাব শুরু হলেও দেশটিতে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা এখন ৪ হাজার ৬৩২। তবে এশিয়ায় ৫ হাজার ৬৫০ মৃত্যু নিয়ে চীনের উপরে রয়েছে ইরান। তুরস্কে মারা গেছে ২ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ। এদিকে আক্রান্তের দিক দিয়ে চীন ও ইরানের উপরে রয়েছে তুরস্ক। দেশটিতে এখন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৫ হাজার প্রায়।

এদিকে ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, জাপান ও বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে করোনায় সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে শুরু করেছে। তবে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং ও তাইওয়ানের মতো দেশ ও অঞ্চলগুলোতে সংক্রমণ অনেক কম।

যুক্তরাষ্ট্র সবার শীর্ষে—

এদিকে আক্রান্ত, মৃত ও সুস্থ তিনক্ষেত্রেই শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া সবচেয়ে টেস্টও বেশি হয়েছে দেশটিতে।

ওয়ার্ল্ডোমিটার্সের তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ৯ লাখ ২৯ হাজারেরও বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে দেশটির ৫২ হাজারেরও বেশি মানুষ এ ভাইরাসে মৃত্যুবরণ করেছেন। আর সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ। আর দেশটির ৫০ লাখ ৭৬ হাজারেরও বেশি মানুষকে করোনা টেস্ট করা হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৪১ জনে। আর নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৩০৯ জন। এ নিয়ে সর্বমোট আক্রান্ত চার হাজার ৯৯৮ জন।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো করোনা রোগী সুস্থ হয়নি। ফলে সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা ১১২ জনই রয়েছে।

শনিবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৪২২ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩৩৭ জনের পরীক্ষা করা হয়েছে।

সারাদেশে করোনাভাইরাসে আজ পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মোট ৩২৪ জন চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন।

চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশনের (বিডিএফ) প্রধান ডা. নিরুপম দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মোট আক্রান্ত চিকিৎসকদের ২৫৫ জনই ঢাকার। এদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালের ১৬৩ জন, বেসরকারি হাসপাতালের ৭৬ জন এবং বাকি আরো ২০ জন চিকিৎসক রয়েছেন।

এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে ২৬ জন, চট্টগ্রামে বিভাগে ১২ জন, খুলনা বিভাগে সাতজন, বরিশালের আট জন, সিলেটে দুজন এবং রংপুর বিভাগের তিনজন চিকিৎসকের মধ্যে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত করা গেছে।

এক্ষেত্রে চিকিৎসকদের জন্য উন্নতমানের সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই),মাস্ক এবং সেফটি চশমার বিকল্প নেই বলে জানান সংগঠনটির প্রধান ডা. নিরুপম দাস।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

 

Total Page Visits: 66600

চায়না হতে আসা ‘ভাইরাস শাট আউট’ নামের ভূয়া প্রোডাক্টস বিক্রেতা ডি এমপির জালে বন্দী

মোঃ হেলাল উদ্দিনঃ
ভাইরাস নিয়েও চলছে দুর্নীতি। কেউবা ব্যস্ত ভাইরাসের কারনে প্রদত্ত ত্রাণের চাল চুরি নিয়ে আবার কেউবা ব্যস্ত ভাইরাস ঠেকানোর ভূয়া ঔষধ বিক্রি নিয়ে। সম্প্রতি, করোনা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ভূয়া ঔষধ বিক্রেতা ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনের তৎপরতায় গ্রেফতার হয়েছে। আবার সম্প্রতি, ‘ভাইরাস শাট আউট’ যা একবার গলায় পরলে করোনা ভাইরাস নাকি একমাস পর্যন্ত তিন ফুটের মধ্যে আসতে পারে না। G Mama নামের একটি অনলাইন পেইজে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এমন একটি প্রোডাক্ট বিক্রি করছিলেন টিপু সুলতান নামের এক ব্যক্তি। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে অনেকে বিশ্বাস করে ওই প্রোডাক্ট কিনতেও শুরু করে। কিন্তু বিধি বাম। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের চৌকস কর্মকর্তাদের তৎপরতার কারনে বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি অপরাধী। যে কোন অবস্থায় রাজধানীবাসীকে প্রতারণা চক্রের হাত থেকে নিরাপত্তা দেবার মানসে তৎপর ডি এমপি’র সাইবার অপরাধ টিমের অনুসন্ধান অনুযায়ী  বিগত ১৯ এপ্রিল, ২০২০ইং  নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে বিকাল অনুমান পাঁচটায় রমনা জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার এস, এম, শামীম এর নেতৃত্বে একটি দল মৌচাক মার্কেটের সামনে থেকে এই ‘ভাইরাস শাট আউট’ প্রোডাক্ট বিক্রেতা টিপু সুলতান (৩৫) কে গ্রেফতার করে। তার হেফাজত হতে ৫০ পিস ‘ভাইরাস শাট আউট’ প্রোডাক্ট জব্দ করে রমনা মডেল থানা পুলিশ।
‘ভাইরাস শাট আউট’ যা একবার গলায় পরলে করোনা ভাইরাস নাকি একমাস পর্যন্ত তিন ফুটের মধ্যে আসতে পারে না। G Mama নামের একটি অনলাইন পেইজে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এমন একটি প্রোডাক্ট বিক্রি করছিলেন টিপু সুলতান নামের এক ব্যক্তি।

 ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরে তাকে  ভোক্তা অধিকার আইনের ৪৪ ধারায় তাকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করেন।

প্রতারক জানায় সে চায়না থেকে ডিএইচএল এর মাধ্যমে এই প্রোডাক্টস এনেছে। এই প্রোডাক্ট ইতোমধ্যে হংকং, চায়না, ভিয়েতনাম, আমেরিকাতে ব্যান করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি ছাড়া সে এটা এনেছে যা আসলে করোনা প্রতিরোধে কোন ভূমিকা রাখেনা। সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের কোন ঔষধ আবিস্কার না হওয়ায় বহু বিখ্যাত ডাক্তাররাও এতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যবরন করেছেন। সুতরাং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা ছাড়া কোন ধরনের প্রতারকের খপ্পরে পড়ে প্রতারিত না হতে জনগনের প্রতি আহবান জানিয়েছে ডি এমপি।

ক্রাইম ডায়রি///অপরাধ জগত//ক্রাইম//রাজধানী

Total Page Visits: 66600

পথশিশুরা করোনা সংক্রমনের চরম ঝুঁকিতেঃদ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃ

সারাবিশ্ব যখন লকডাউন ভয়ে কুকড়ে যখন মানুষ মনুষ্যত্ব হারিয়ে দিকবিদ্বিক শুন্য হয়ে পড়েছে,যখন হাজার বছরের প্রতিবেশি কিংবা রক্তের বাঁধনের পরম আত্বীয়ের করোনা সন্দেহে মৃত্যুর লাশও তারা মাটি দিতে নারাজ তখন পথ ‍শিশুর খবর নেয় কে??? নিজের শিশুর মৃতদেহ যখন সৎকারে মানুষের অনীহা তখন তাদের মনে পথ শিশুর প্রতি ভালবাসা জাগবে কি?? কলেরার মত মহামারী যেখানে না ছিল ডাক্তার বৈদ্য, না ছিল চিকিৎসা পদ্ধতি । কিন্ত মানুষের বিবেক ছিল তখন, মানুষ মানুষকে ফেলে যায়নি। অন্ততঃ কবরস্থ হয়েছে। আর চরম আধুনিকতার যুগে যখন মানুষ সতর্ক হয়ে পথ চললেই বেঁচে যায়,যখন অন্ততঃ ডাক্তার কবিরাজ আছে,চিকিৎসা আছে, হাসপাতাল আছে সেই যুগেই কিনা মানুষ চিরপরিচিত গ্রামবাসীর লাশ কবরস্থ করার জন্য খাঁটিয়া দেয়না এমনকি অবোধ শিশুও খাঁটিয়া পায়না।

চলার পথে আমরা অনেক মানুষ দেখতে পাই। এখানে কেউ উচ্চবিত্ত, কেউ মধ্যবিত্ত, কেউবা আবার নিম্নবিত্ত। আর এই নিম্নবিত্ত পরিবার থেকেই পথশিশুর জন্ম। আমাদের দেশের অলিতে-গলিতে অনেক পথশিশু আছে যাদের কারো বাবা নেই, কারো মা নেই কিংবা কারো পরিবারের কেউ অসুস্থ। আর এই পথশিশু গুলো তখন নিজেরাই পরিবারের বোঝা বহন করে। দারিদ্র্যের কষাঘাত সহ্য করতে না পেরে কেউ ইট ভাটায় কাজ করে, কেউ গাড়ির হেল্পারি করে, কেউ টুকায়, কেউ ভিক্ষা করে, কেউবা চুরি করে। সমাজে এরা লেখাপড়া ও অনন্য সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাচ্ছে না সঠিক পথের দিশা।

যে বয়সে আমরা পড়াশুনা করি, বন্ধুদের সাথে খেলাই মত্ত থাকি সে বয়সে এই পথশিশুরা বেঁচে থাকার উপকরণ খুঁজে। পড়ালেখা করে যে বিবেকবোধ আমরা তৈরি করতে পারিনা, পথের ধুলোয় অদ্ভুত ভাবে বেড়ে উঠার মাঝেও তারা নিজেদের বিবেকবোধ তৈরি করে নেয়।

 

নিজের শিশুর মৃতদেহ যখন সৎকারে মানুষের অনীহা তখন তাদের মনে পথ শিশুর প্রতি ভালবাসা জাগবে কি?? কলেরার মত মহামারী যেখানে না ছিল ডাক্তার বৈদ্য, না ছিল চিকিৎসা পদ্ধতি । কিন্ত মানুষের বিবেক ছিল তখন, মানুষ মানুষকে ফেলে যায়নি। অন্ততঃ কবরস্থ হয়েছে। আর চরম আধুনিকতার যুগে যখন মানুষ সতর্ক হয়ে পথ চললেই বেঁচে যায়,যখন অন্ততঃ ডাক্তার কবিরাজ আছে,চিকিৎসা আছে, হাসপাতাল আছে সেই যুগেই কিনা মানুষ চিরপরিচিত গ্রামবাসীর লাশ কবরস্থ করার জন্য খাঁটিয়া দেয়না এমনকি অবোধ শিশুও খাঁটিয়া পায়না।

যে বয়সে আমরা ভাবতাম স্কুলে যেয়ে টিফিনে কি খাব, কার পাশে বসবো, স্যারের কোন হোমওয়ার্ক আছে কিনা। আর এই পথশিশুরা ভাবে রোজ সকালে কোন রাস্তায় ভিক্ষা করলে বেশি টাকা পাবে। ৫০ টাকা আমাদের একদিন মোবাইল খরচ যায় আর ওদের পরিবারের সবাই মিলে একবেলা খাওয়া হয়ে যায়। জীবন একটা, স্রষ্টা একটা অথচ কত পার্থক্য!

যেখানে আমাদের উচিত তাদের দেখাশুনা করা উল্টা আমরা অহংকার করি। গরীব দের মানুষ ভাবিনা। আবার কখনো তাদের গায়ে হাত তুলি। কাছে আসলে রুমাল নাকে দিই। আমাদের ভাব ভঙ্গি এমন যে আজ আমাদের যা ভালো পজিশন এর ক্রেডিট আমাদের। আল্লাহ চাইলে আমাদেরকে এমন পরিস্থিতির সমক্ষিণ করতে পারতো, তাদের জায়গায় নিজেকে ভাবলে কেমন বোধ হবে! নিম্নবিত্ত এই মানুষ গুলোর জীবন বৈচিত্রের সাথে তুলনা না দেওয়া পর্যন্ত সত্যিই বুঝিনা আমরা কতটা সুখে আছি, কতটা ভাল আছি।

আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এই সুবিধা বঞ্চিত শিশুরাও চাই মানুষের মতো মানুষ হতে। তারাও চাই আমাদের মতো পড়াশুনা করতে। অন্য ৮/১০ টা শিশুর মতো তারাও হাসি খুশি থাকতে চাই। তাদের অনেক স্বপ্ন থাকে। তাদের প্রতিভা বিকশিত করার সুযোগ পাচ্ছে না বলে আজ তাদের প্রতিভাগুলো চাপা পড়ে যায়। তাই কখনো এই সব ছোট পথ শিশুদের গায়ে হাত তুলবেন না, নাকে রুমাল দিয়ে তাদের কে তাড়িয়ে দিবেন না, তাদেরই সমবয়সী আমাদের ও ভাই-বোন, ছেলে-মেয়ে আছে। তাদের প্রতি আমাদের মানবিক চিন্তা থাকা উচিত। তারা আমাদের মুখের দিকে চেয়ে থাকে শুধুমাত্র দু’মুঠো ভাতের জন্য। তাদের জন্য কিছু করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সব মানুষ যখন ঘরে, তখন ঘরহীন পথশিশুরা দল বেঁধে ঘুরছে, খেলছে। রেলস্টেশন বাস টারমিনাল, কোনো ভবনের নিচে জটলা করছে, পাশাপাশি ঘুমাচ্ছে।

সুত্র জানায়,করোনাভাইরাসরে কবলে সারা বিশ্ব এখন একটা বদ্ধঘর। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বের হচ্ছে না। করোনা আক্রান্ত অঞ্চলকে জরুরি ভিত্তিতে লকডাউন করতে বলা হচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা (ইউনিসেফ) থেকে। ইতোমধ্যে লকডাউনে নানা দেশ। বাংলাদেশের অর্ধেক জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা লকডাউনের কবলে। কিন্তু করোনার লকডাউনে কতটা সুরক্ষিত দেশের ছিন্নমূল পথশিশুরা।

শিশুদের নিয়ে কাজ করছেন এমন ব্যক্তিরা বলছেন, এরা নিজেরা যেমন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে, তেমনি এদের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন, বিমানবন্দর রেলস্টেশন, সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড, রমনা পার্কসহ বিভিন্ন স্থানে পথশিশুদের জটলা করে খেলতে কিংবা আড্ডা দিতে দেখা গেছে। তবে সবকিছু বন্ধ বলে নিয়মিত খাবার জুটছে না তাদের।

 

একটি জাতীয় দৈনিকের অনলাইন ভার্সনে একজন পথশিশুর সাক্ষাতকার নেয়া হয়েছে।

কমলাপুরের পথশিশুটির নাম শাহিন। সে জানায়, স্টেশনে কুলির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। এখন কোনো কাজ নইে। করোনাভাইরাস সম্পর্কে জানতে চাইলে শাহিন বলে, শুনছি কি একটা রোগে সব অফিস বন্ধ কইরা দিছে। আমরা তো না খাইয়া মরতাছি, কোনো কামকাজ নাই। না খাইয়া মরুম।

শাহিনের সঙ্গে বসে থাকা পলাশের কাছে করোনাভাইরাস কিছু না। এই রোগের বিপদ সম্পর্কে জানালে সে বলে, স্যার আমগো মরণ নাই।

নিজের প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে  রায়েরবাগ বসে ছিলেন হোসনে আরা। করোনাভাইরাস বিষয়ে জিজ্ঞাস করলে হোসনে আরা জানান, টাকা দিবেন? দিলে কথা কমু। সারাদিন চাইর আনা পয়সাও কেউ দেয় নাই।’ দশ টাকার একটা নোট তাকে দেওয়ার পর তিনি বলেন, আমরা কিছুই জানি না। শুধু হুনছি বিদেশ থেইকা মানুষ নাকি কি একটা রোগ নিয়া আইছে এইডা সবার হইতেছে।’

একটি পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে পথশিশুর সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পথশিশুদের সংঘবদ্ধ চলাফেরা ও রাতযাপনের কারণে করোনাভাইরাসের বাহক হিসাবে খুব ঝুঁকির মধ্যে আছে এরা। সংক্রমণ ঠেকাতে এই পথশিশুদের নিরাপদ স্থানে রাখার পরামর্শ তাদের।

সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, পথশিশুদের সংক্রমণের হার কম। কিন্তু সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ঝুঁকিতে আছে এরা। এরা ভাইরাসটির বাহক হিসেবে কাজ করতে পারে। কেননা এই সম্পর্কে তাদের কোনো জ্ঞান নেই। ফলে এদের মাধ্যমে সংক্রমণ দ্রুত ছড়াতে পারে। নিজেদের কমিউনিটিতে এরা ঝুঁকি তৈরি করবে। এরা দলবদ্ধভাবে বসবাস করে, রাতের বেলা একসঙ্গে থাকে।

সরকারের বাজেটে পথশিশু পুনর্বাসন কার্যক্রম আছে। অন্তত মেগা সিটিগুলোতে যে শিশুরা আছে তাদের জন্য করোনায় বিশেষ সুরক্ষার ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে মনে করেন সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের পরিচালক। পাশাপাশি বেসরকারি সংগঠন ও এনজিওগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

এখন স্কুল-কলেজ বন্ধ। পথশিশুদের আশ্রয় হিসেবে অস্থায়ীভাবে সেগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে। এলাকাভিত্তিক এটা করা সম্ভব। স্বেচ্ছাসেবী পাওয়া যাবে,বিভিন্ন এলাকার মানবিক মানুষেরা যেমন এগিয়ে আসবে তেমনি পাওয়া যাবে এলাকাবাসীর সহযোগীতা। অবকাঠামো প্রস্তুত, শুধু সঠিক পরিকল্পনা দরকার।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণপূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মো. মোজাহেরুল হক বলেন, করোনা মহামারিতে সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ছিন্নমূল মানুষ। তারা গাদাগাদি করে অনেকে একসঙ্গে থাকে। বস্তির রাস্তাগুলো অনেক সরু হওয়ায় তাদের একজন অপরজনের শরীরের সংস্পর্শে আসতেই হচ্ছে।

দেশে যে হারে সংক্রমন বাড়ছে এমতবস্থায় কোন ঝুঁকি নেয়ায় সরকারের সমীচিন নয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

ক্রাইম ডায়রি///জাতীয়

Total Page Visits: 66600