• রবিবার (সকাল ৯:৩১)
    • ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

আতংকিত হবেন নাঃ করোনা ঠেকাতে সতর্ক থাকুন

শরীফা আক্তার স্বর্না ও জাকির হোসেন রণি, ক্রাইম ডায়রির উত্তরাঞ্চলীয় প্রধানঃ

ষড়ঋতুর বাংলাদেশে এখন যে সিজন চলছে তা আবহমানকাল ধরেই সর্দি কাশি,জ্বর এবং সর্দি হতে গলাব্যাথা পর্যন্ত হয় । এদেশের আবাল বৃদ্ধ বনিতা সবাই এরোগ গুলোর সাথে পরিচিত। কিন্তু কালের হেরফেরে ডাক্তাররাও যেন শুধু এক করোনা ভাইরাস আতংকে এগুলো ভুলতে বসেছে। তারা এখন জ্বর শুনলেই রোগী দেখতে ভয় পায়। অতি পরিচিত হাতুরে ডাক্তার যারা রোগীর পরিবারের সঙ্গে গলায় গলায় পিড়ীত রেখে বছর কাটান তাদেরকেও যদি ফোন দিয়ে বলা হয় যে, বাড়ির অমকের গলা ব্যাথা করছে কিংবা জ্বর  এসেছে তখন যে কোন উসিলায় তারা রোগী দেখা এড়িয়ে যাচ্ছে।  বিগত সাতদিনে ক্রাইম ডায়রির একটি নিজস্ব অনুসন্ধান চালানো হয়েছে গ্রাম হতে শহরের একশো পরিবারের এমন রোগীদের উপর। দেখা গেছে, এসব পরিবারের রোগীরা ডাক্তার কিংবা হাসপাতাল পর্যন্ত যাননি। কারন, উচ্চশিক্ষিত  কিংবা  এক্কেবারে গন্ডমুর্খ  অনেকেরেই এমন ধারনা যে, এসব লক্ষণ নিয়ে গেলেই হয় তারা চিকিৎসা পাবেন না নয়তো তাদের পরিবার অচ্ছুত হয়ে একঘরে হয়ে যাবে। তবে আশার কথা হলো এসব পরিবারের সবাই বিনা চিকিৎসাতেই সুস্থ হয়ে গেছেন।  আবার বিদেশ ফেরতদের পরিবার সত্যিই যে আক্রান্ত হয়েছে তা আক্রা্ন্ত পরিবারগুলোর খোঁজনিয়ে সত্যতা শতভাগ পাওয়া গেছে। ছোঁয়াচে এই ভাইরাস অতি মারাত্বক। কিন্তু করোনা কোথায়ও কোন কোন মানুষের নিকট রাজনীতিক গুরুরা রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে উপস্থাপন করছেন আর কাঠ মোল্লারাতো তাদের বয়ানে এটাকে গুরুত্বই দিচ্ছেন না। তবে কঠিন সংবাদও আছে । আর তা হলো এই হাচি কাশি কিংবা সিজনারী গলাব্যাথা বিগত বছরগুলোর চেয়ে এ বছর ১৪ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণকক্ষের তথ্যমতে, সোমবার (৩০ মার্চ) পর্যন্ত আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৯৩০। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল ৮২০।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিনের সাবেক বিভাগীয় প্রধান এইচ এ এম নাজমুল আহাসান বলেন, তারা শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগে আক্রান্ত অনেক রোগী পাচ্ছিলেন। রোগীরা সর্দি–কাশি, নিউমোনিয়া আক্রান্ত ছিল।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা করোনাভাইরাস নিয়ে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছেন, জ্বর, সর্দি, কাশি মানেই কোভিড–১৯ নয়। তিনি আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।  কেন শ্বাসতন্ত্রের রোগ বেশি, তা নিয়ে কয়েকজন চিকিৎসকের সঙ্গে কথা হয় ;সাংবাদিকদের।

তারা  সাংবাদিকদের বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তন, দূষণ ইত্যাদি কারণে মানুষ এ ধরনের রোগে ভোগে। যাঁদের অ্যাজমা বা সিওপিডি আছে, তারা কষ্ট পান বেশি। আবার করোনাভাইরাসে সংক্রমণের একটা বিষয়ও রয়েছে। পরীক্ষার পরিধি বাড়ানো না হলে করোনাভাইরাসের কারণে এ ধরনের রোগ বাড়ছে কি না, নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। চিকিৎসকেরা বলেছেন, জ্বর–সর্দি–কাশি মানেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নয়। সংক্রমণের ক্ষেত্রে সাধারণত পঞ্চম দিন থেকে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। মোটামুটি ১০ দিনের পর থেকে আক্রান্তদের ক্ষুদ্র একটি অংশের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয় এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য ভেন্টিলেটর লাগে। তারা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত হতে নিষেধ করেছেন।

গত চার বছরের তুলনায় এ বছরই এআরআইতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এত বেশি কেন জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রমণ রোগ ও রোগনিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের পরিচালক শাহনীলা ফেরদৌস বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। চিকিৎসকেরা তাদের জানুয়ারির দিকে অনেক রোগীর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার তথ্য জানিয়েছিলেন। এটা কেন, তা খুঁজে দেখতে সময় লাগবে। তবে আবহাওয়া দুষন, মল এবং ড্রেনেজের দুষিত পানির মিশ্রনে তৈরি ধুলো নিঃশ্বাসের সাথে শরীরে প্রবেশ করে এই অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কভিড ১৯ মোকাবেলায় আরও একটি পরামর্শ হলো আতংকিত না হয়ে সতর্ক থাকা। কারন আতংকিত ব্যক্তির মানসিক দুর্বলতা হতে শরীরের তাৎক্ষনিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়েও মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়/স্বাস্থ্য

Total Page Visits: 66765

দিল্লিতে তাবলীগ জামাতের মার্কাজ মসজিদ নিজামুদ্দিন করোনা ভাইরাসের ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত

বিবিসির সংবাদে বলা হয়েছে , “মার্কাজ নিজামুদ্দিন’ নামে পরিচিত ওই মসজিদটিতে একটি ধর্মীয় সমাবেশ উপলক্ষে এ মাসের মাঝামাঝি অন্তত দুই থেকে আড়াই হাজার লোক সমবেত হয়েছিলেন। শহরের একটি অত্যন্ত ঘিঞ্জি এলাকায় একটি ছ’তলা ভবনের ডর্মিটরিতে তারা সবাই গাদাগাদি করে ছিলেন।

এর মধ্যে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মুসলিমরা যেমন ছিলেন, তেমনি ছিলেন বহু বিদেশি নাগরিকও।

ওই সমাবেশে যোগ দিয়ে নিজেদের রাজ্যে ফিরে যাওয়ার পর গতকাল (সোমবার) তেলেঙ্গানাতে ছ’জন ব্যক্তি করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়ে মারা গেছেন।

এর আগে নিজামুদ্দিন থেকে ফিরে গিয়ে কাশ্মীরের এক ধর্মীয় নেতাও শ্রীনগরে কয়েকদিন আগে মারা যান। তিনি আবার কাশ্মীরে ফেরার আগে উত্তরপ্রদেশের দেওবন্দেও ঘুরে যান – এবং কাশ্মীরে গিয়েও বেশ কয়েকটি ধর্মীয় সমাবেশে যোগ দেন।

এ ছাড়া তামিল নাডুতে দুটি এবং দিল্লিতে আরও একটি করোনাভাইরাস-জনিত মৃত্যুর সঙ্গেও দিল্লির এই তাবলীগ জামাতের সংযোগ টানা হচ্ছে, যদিও সেই দাবি এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায়নি।

এদিকে মরকজ নিজামুদ্দিনে অবস্থানরত প্রায় তিনশো ব্যক্তিকে করোনাভাইরাসের মতো উপসর্গ নিয়ে সোমবার দিল্লির বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ২৪জনের আজ পরীক্ষার ফল ‘পজিটিভ’ এসেছে।

নিজামুদ্দিনের ঘিঞ্জি এলাকার ভেতর অবস্থিত ওই ছ’তলা মসজিদ ভবনটিকে আজ (মঙ্গলবার) সকালে পুলিশ সিল করে দেয়।

লোকজনকে সরিয়ে নিচ্ছে পুলিশ।মাস্ক পড়িয়ে লোকজনকে সরিয়ে নিচ্ছে পুলিশ।

ভেতরে তখনও যে সাতশোর মতো লোক ছিলেন তাদের সবাইকে সরকারি বাসে করে দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে কোয়ারেন্টিন সেন্টারগুলোতে পাঠানো হয়েছে। নিজামুদ্দিনের বেশ কাছেই দিল্লির সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম জহরলাল নেহেরু স্টেডিয়াম – প্রয়োজনে সেটিকেও মেকশিফট হাসপাতালে রূপান্তরিত করে ওই এলাকার রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

দিল্লিতে তাবলীগ জামাত কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দায়িত্বে চূড়ান্ত অবহেলার অভিযোগে পুলিশ একটি এফআইআরও দাখিল করেছে। দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন বলেছেন, “ওই ধর্মীয় সমাবেশের আয়োজকরা এভাবে শত শত লোককে নিয়ে সভা করে বিরাট বড় অপরাধ করেছেন।”

“তাদের বিরুদ্ধে যাতে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হয় সেই সুপারিশ করে আমরা দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নরের কাছেও চিঠি লিখেছি,” জানিয়েছেন তিনি। তাবলীগ জামাতের মূল সমাবেশটি ছিল মার্চের ৮ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত – তবে তার অনেক আগে থেকে এবং তার পরেও শত শত ব্যক্তি ওই মরকজ নিজামুদ্দিনে অবস্থান করছিলেন।

এদের মধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, মিয়ানমার, কিরঘিস্তান, সৌদি, আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, জিবুতি, বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, ফিজি, ফ্রান্স বা কুয়েতের মতো বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রায় তিনশো তাবলীগ সদস্যও ছিলেন। এই বিদেশি নাগরিকের প্রায় সবাই পর্যটক ভিসা নিয়ে ভারতে এসে ধর্মীয় সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন, যা আইন-বিরুদ্ধ।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এদের প্রত্যেককে ব্ল্যাক লিস্টেড (কালো তালিকাভুক্ত) করে ভারতে আসা নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে ভারত সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হলো, তাবলীগ জামাতের সমাবেশে যোগ দিয়ে যারা এর মধ্যেই ভারতের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছেন বা ঘরে ফিরে গেছেন, তাদেরকে নিয়ে। তেলেঙ্গানাতে এরকমই ছ’জন গতকাল মারা গেছেন, যারা প্রত্যেকে করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছিলেন।

ক্রাইম ডায়রি/আন্তর্জাতিক সুত্রঃ বিবিসি

Total Page Visits: 66765

বর্তমান পরিস্থিতি মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে দেখতে সকলের প্রতি প্রধামন্ত্রীর আহবান

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃ

দেশ আজ চরম একট উৎকন্ঠার মুখোমুখি। পুরো বিশ্বই যেখানে অসহায়। এই মহাসংকটে মহান আল্লাহতায়ালার রহমতই কেবল পারে পুরো মানবজাতীকে মুক্ত করতে। মানুষ তার গোলাম হিসেবে শুধু পারে আল্লাহ সাহায্য কামনা ও তারই হুকুম অনুযায়ী চেষ্টা করতে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এই বাংলাদেশ। মহান আল্লাহ তায়ালার মনোনীত ধর্ম ইসলামের অনুসারীরা তাই আজ তারই দ্বারস্থ। বঙ্গকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখা হাসিনা বলেছেন,‘আমাদের সরবরাহ ব্যবস্থা এভাবে থাকবে যেন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকে, মানুষের আওতার মধ্যে থাকে। সেটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। কারণ মানুষের দুর্ভোগের সুযোগ নিয়ে অযথা দাম বাড়িয়ে মুনাফা নেয়া আসলে অমানবিক হবে। কোন কাজই জনগনের সহযোগীতা ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে একা করা সম্ভব নয়। তাই আমি বিশ্বাস করি, আপনারা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি দেখবেন।’

প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার সকালে তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশের মাঠ পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময়কালে একথা বলেন।

ওই সময় আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি বাড়ানোর ব্যাপারে মন্ত্রিপরিষদ সচিব প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে শেখ হাসিনা বলেন, এই ছুটি ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। কিন্তু এতে সবকিছু পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া যাবে না। তিনি বলেন, সীমিত পর্যায়ে তা করা যেতে পারে এবং কিছু লোকের চলাচলের জন্য একটি সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, গণপরিবহনের চলাচল সীমিত করতে হবে। সরকার ১৪ দিনের ছুটি শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি পর্যলোচনা করবে।

শেখ হাসিনা বলেন, সবকিছু বন্ধ করে দেয়া যাবে না। অত্যাবশ্যকীয় বিষয়গুলো চালু রাখতে হবে। তবে, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন স্কুল-কলেজ আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

তবে, প্রধানমন্ত্রী সবধরণের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে শিল্প-কলকারখানা চালু রাখার ব্যাপারে অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, অত্যাবশ্যকীয় অনেক জিনিস উৎপাদনের জন্য আমাদেরকে শিল্প-কারখানা চালু রাখতে হবে।

বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) ছাড়াও ভিডিও কনফারেন্সে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন,‘আমাদের সীমাবদ্ধতার ভিত্তিতে কিছু সেক্টরে ছাড় দিতে হবে।’

ছুটি ৯ এপ্রিল বাড়াতে হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেটা বাড়ানোর সাথে সাথে আমাদের সীমিত আকারে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করার জন্য আমরা চিন্তা-ভাবনা করে বলব, কোন কোন ক্ষেত্রে আমরা ছাড় দেব। ছুটি বাড়ানো হতে পারে, কেননা করোনাভাইরাস বিস্তাররোধে ছুটি ঘোষণার পর পরই অনেকেই তাঁদের গ্রামের বাড়িতে চলে গেছের। কাজেই এই প্রাণঘাতি ভাইরাসের কোনো সংক্রমন যেন না ঘটে সেজন্য তাদের কোয়ারেন্টিনের সময়টা গণনা করে ১৪ দিন করার জন্য ছুটি ৯ তারিখ পর্যন্ত বাড়াতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘যোগাযোগের (পরিবহন) ক্ষেত্রে শ্রমিক  যারা আছেন তারাও যাতে কষ্ট না পায়, সেজন্য তাদের তালিকা আমি ইতোমধ্যে করতে বলেছি। তাদের যেভাবে সাহায্য করার দরকার, আমরা সেই সাহায্য পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করব।’

জনসমাগম এড়াতে আসন্ন পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান বাতিল করার কথাও বলেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে জনসমাগম আরো বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। আমাদের বাংলা নববর্ষের উৎসবে এ বছর যাতে জনসমাগম হয়, তেমন কিছু করা উচিত হবে না। অবশ্য ডিজিটাল ব্যবস্থায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যেতে পারে। তবে, জনসমাগম করে অনুষ্ঠান আয়োজন সারা বাংলাদেশে বন্ধ রাখতে হবে।’

এর আগে গত ২৩ মার্চ করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধকল্পে সরকার সারাদেশে জরুরী সেবা ছাড়া সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ দিনের সাধারন ছুটি ঘোষণা করে।

ছুটির সময় কোনো বিশেষ প্রয়োজন যেমন জরুরী খাদ্য, মেডিকেল সামগ্রী, ওষুধের প্রয়োজন ব্যতীত ঘরের বাইরে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে ঘরে থাকতে বলা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, করোনা মোকাবিলায় দেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করাটা জরুরি। আমাদের দেশটা ছোট কিন্তু জনসংখ্যা ব্যাপক। এরপরও আমরা মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পেরেছি। সেজন্য বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করোনা নিয়ন্ত্রণ পর্যায়ে রয়েছে।

সবাইকে ঘরে অবস্থানের পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা প্রতিরোধে মানুষের করণীয় বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আপনারা এসব নির্দেশনা মেনে চলুন। কেননা নিজেদের সুরক্ষা নিজেদেরই করতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনার থাবা রয়ে গেছে। আমরা বিশ্ব থেকে দূরে নই। আমাদের আরও সচেতন থাকা দরকার। আমরা আমাদের দেশের মানুষের সুরক্ষার জন্য অনেক আগে থেকেই কাজ করেছি। ভবিষ্যতে যাতে করোনাভাইরাস না ছড়ায় সেজন্য সেদিকেও দৃষ্টি রাখতে হবে।

করোনা উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে কোনো লুকোচুরি করার সুযোগ নেই। লুকোচুরি করলে নিজের জীবনকেই ঝুঁকিতে ফেলে দেয়া হবে। জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী সকলকে সতর্ক করে বলেন, সাহায্য পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো দুর্নীতি হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
তিনি বলেন, ‘কোনো রকম দুর্নীতি হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। দুঃসময়ে কেউ সুযোগ নিলে, কোনো অভিযোগ পেলে আমি কিন্তু তাকে ছাড়ব না। বিন্দু পরিমাণ অনিয়ম সহ্য করা হবে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছুটি ঘোষণার কারণে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষের সমস্যা হচ্ছে। কৃষক, চা শ্রমিক, হিজড়া, বেদে সম্প্রদায়ের মানুষ বেশি কষ্ট পাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘যারা দৈনন্দিন কাজে যেতে পারছে না। তাদের বাঁচিয়ে রাখা আমাদের সামাজিক কর্তব্য। সেখানে ১০ টাকা কেজি চালসহ নানা সহযোগিতা করা হয়েছে। তাদের কাছে সাহায্য ও খাদ্যদ্রব্য পাঠাতে হবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি সবাইকে তাঁদের পাশে দাঁড়াতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ড অনুযায়ী তালিকা করতে হবে। সেই অনুযায়ী সবাই যেন সাহায্য পায়। কেউ যেন বাদ না পড়ে।’

সবার পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) ব্যবহারের প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পিপিই ডাক্তার, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য।’যাদের প্রয়োজন নাই তাদের পিপিই ব্যবহারের প্রয়োজন নাই। পিপিই সকলের ব্যবহারের জন্য নয়।  সকলে পিপিই ব্যবহার করতে গিয়ে স্বাস্থ্য সেবা যেন ব্যাহত না হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দরিদ্রদের সহযোগিতায় বিত্তবানদের এগিয়ে আসার জন্যও প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানান।

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান ভিডিও কনফারেন্সে সচিবালয় প্রান্ত থেকে যুক্ত হন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং সচিববৃন্দও সচিবালয় প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নব-নির্বাচিত মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে সংযুক্ত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ এবং পিএমও সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন অন্যান্যের মধ্যে গণভবনে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে উদ্দেশ্য করে সকল জনপ্রতিনিধিদেরকে নিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করেন- করোনার সাথে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়া যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আর কয়েকদিনের মধ্যেই মশার প্রাদুর্ভাবে ডেঙ্গু দেখা দিতে পারে, কাজেই সেটা যেন না হয় সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রতিরোধমুলক ব্যবস্থা নিতে হবে।’

তিনি জনগণকে নিজ বাড়ি এবং তার চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং পানি জমে থাকা রোধ করে মশার বংশ বিস্তার রোধ করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য সকলকে মশারি খাটিয়ে ঘুমানোর পরামর্শ দেন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলার সময় শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা চাই না, বাইরের কেউ আর ওখানে ঢুকুক। যেহেতু একটা কেস (করোনায় আক্রান্ত রোগী) পাওয়া গেছে। আর যেন সংক্রমিত না হয়, এজন্য সেখানে পর্যটকও যেতে পারবে না। সবই বন্ধ রাখতে হবে। কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে শুরু করে সবকিছু যেন ভালোভাবে সংরক্ষিত হয়, সেটা দেখতে হবে। ’
রোহিঙ্গাদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্প নিয়েই আমরা চিন্তিত। কারণ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যদি কোনো কিছু হয়ে যায়, তাহলে খুবই ক্ষতি হবে। এ জন্য বাইরের কোনো লোকের দরকার নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের যারা আছে, তারাই সার্ভিস দেবে। ওখানে তো আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সশস্ত্রবাহিনী, সেনাবাহিনী সকলেই তো আছে। তারা তো কাজ করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা নিজেদের লোক দিয়েই সব করাব। বাইরের লোক যেন এই সময়ের মধ্যে বেশি কেউ না যায়, সেটা বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ও গুজব ছড়ালে সাথে সাথে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে যেটা সমস্যা সৃষ্টি করে সেটা হচ্ছে, নানা ধরনের গুজব।’

সরকার প্রধান বলেন, ‘আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি বলে আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে পারছি, সেই সুযোগটা পাচ্ছি। ভবিষ্যতে হয়তো আরও কথা বলব। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ নিয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন অ্যাপসে নানা ধরনের গুজব অনবরত ছড়ানো হয়ে থাকে। নানা ধরনের কথা অনেকে বলে থাকেন। দেশে নয় দেশের বাইরে থেকেও কেউ কেউ বলেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা এগুলো বলবেন, যদি কেউ মিথ্যা অপপ্রচার করেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা সাথে সাথে নিতে হবে। গুজবে কেউ কান দেবেন না।’

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে অল্প একটু জমিও যেন অনাবাদি না থাকে সেজন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হবে। কারও এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে। ঘরের কোণায় হলেও একটা কিছু ফসাল ফলান।

‘তরি-তরকারি চাষ করেন, হাঁস-মুরগির খামার বা মাছের চাষ করেন, বা ছাগল, গরু, ভেড়া- যাই হোক, যে যা পারেন পাল করেন, ’যোগ করেন তিনি।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মাঠ প্রশাসন কীভাবে কাজ করছে এবং তারা কী কী সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন- তা সরাসরি জানতে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা তরুন জার্মান প্রবাসী ফয়সল শেখ ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে মত বিনিময় করেন।

তিনি বলেন, ‘টেস্টে পজিটিভ আসার পর আইইডিসিআর আমাকে কোয়ারেন্টাইনে রাখে। তারা বাসায় এসে আমাকে নিয়ে গিয়ে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি রাখে। সেখানে আমি ১০ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকি, আমার পরিবারের সবাইকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়।’

ফয়সল বলেন, ‘কয়েকদিন পর বারবার টেস্ট করার পর যখন আমার টেস্ট রেজাল্ট নেগেটিভ আসে, তখন আমি আমার পরিবারের কাছে ফিরে যাই। আল্লাহর রহমতে আমার মাধ্যমে পরিবারের কারও করোনা হয়নি।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনার নির্দেশনায় দেশে যে করোনা চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে, সেজন্য আমি আপনার কাছে অনেক কৃতজ্ঞতা আদায় করছি। দেশের জনগণের কাছে একটাই অনুরোধ, আপনারা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মানুন। করোনার সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে বাসায় থাকা, ঘরে থাকা। পরিবারকে সময় দিন। যতদিন ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে ঘরে থাকুন, তাহলেই কেবল আমরা করোনা থেকে মুক্ত থাকতে পারব।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এরপরে কিন্তু আরেকটা ধাক্কা আসবে। সারাবিশ্বের অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে গেছে। সে কারণে বিরাট একটা অর্থনৈতিক মন্দা আসতে পারে।’

‘সেই মন্দা মোকাবেলায় চিন্তাভাবনা এখন থেকে আমাদের করতে হবে, পরিকল্পনা নিতে হবে। সেক্ষেত্রে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো খাদ্য নিরাপত্তা। এক্ষেত্রে আমাদের একটা সুবিধা হল আমাদের মাটি অত্যন্ত উর্বর। আমাদের মাটি আছে, মানুষ আছে, ’যোগ করেন তিনি।

এ সময় কৃষিমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের খাদ্য উৎপাদন যেন অব্যাহত থাকে। এ বিষয়ে সকলকে নজর রাখতে হবে। খাদ্য উৎপাদনের জন্য যা যা উপকরণ দরকার, তা যেন মানুষের কাছে পৌঁছে, এ বিষয়ে আমাদের কৃষির সাথে যারা সম্পৃক্ত আছেন তারা উদ্যোগ নেবেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা যদি খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারি তাহলে আমাদের দেশের চাহিদা মেটাতে পারব। পাশাপাশি অন্য দেশের প্রয়োজন হলে আমরা সাহায্য করতে পারব। আল্লাহর রহমতে সেইসব ক্ষমতা আমাদের আছে।

শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে আমরা সচেতন হয়েছি বলেই তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও আমাদের অবস্থা খুব খারাপ নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সব নির্দেশনা আমরা অনুসরণ করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চীনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর বড় কর্তব্য মনে করেছি, জনগণের নিরাপত্তা দেওয়া। সেটিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানসহ সব অনুষ্ঠানে জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়। যেন সবাই নিরাপদে থাকেন।’

তিনি বলেন, ‘চীনের উহান থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসা হলো, তাদের কোয়ারেনটাইনে রাখা হলো। যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হলো, পরে অনেকেই চলে এলো। তাদের মধ্যে অনেকে সংক্রমিত। তাদের আলাদা রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলো। তখন মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য সরকারি ছুটি ঘোষণা করলাম।’

‘সাধারণ মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ, তাদের জীবন যেন স্তব্ধ না হয়, সে জন্য ব্যাংক কিছু সময় খোলা রাখা, কাঁচাবাজার চালু, পণ্য পরিবহন, জরুরি সেবা সবকিছুই সাধারণ মানুষের জন্য সীমিত আকারে চালু রেখেছি’, যোগ করে তিনি বলেন, ‘আইইডিসিআর কাজ করছে। শুধু রাজধানী নয়, বিভাগীয় পর্যায়েও করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছি।’

জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জীবন থেমে থাকবে না, চলবে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে কাজ করতে হবে। তারপরও জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। সেটা করতে গিয়ে মানুষকে কষ্টও দেওয়া যাবে না।’

ক্রাইম ডায়রি///সুত্র : বাসস

Total Page Visits: 66765