• রবিবার (সকাল ৮:৫০)
    • ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

করোনা ইস্যুঃ জরুরি অবস্থা জারির জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট আবেদন তিন আইনজীবীর

আদালত প্রতিবেদকঃ

বাংলাদেশের মানুষের জাতীগত কারনে যে স্বভাব তা কঠোর অবস্থান ছাড়া কোন অবস্থাতেই করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী নিয়মকানুন মানানো সম্ভব নয়। যা ইতোমধ্যে প্রতীয়মান হচ্ছে। আহবান করে নীতি  কথা বলে এ জাতীর মানুষকে যে ন্যুনতম বোধ তৈরি করা যাবেনা তা পথে ঘাটে বের হলেই উপলব্ধি করা যায়।। অবস্থা এমন যে, কেউ এতে রাজনীতির গন্ধ খুঁজে পাচ্ছেন,কেউবা মজা দেখবেন আর কেউবা মালুমই করছেন না।।কিন্তু ২২কোটি মানুষের জীবনের দায় কিন্তু সরকারের উপরই বর্তায়।।তাই, ঘটনা ঘটার পর নয় বরং ঘটনা ঘটার আগেই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলা প্রয়োজন।।। তাই, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করতে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবী।

বৃহস্পতিবার আইনজীবী শিশির মনির, আসাদ উদ্দিন ও জুবায়েদুর রহমান এই আবেদন করেন।
এই তিনজন আইনজীবী রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে গিয়ে আবেদনগুলো দাখিল করেন। তিন আইনজীবীই আবেদনের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

গত বছরের শেষ দিন চীনের উহান শহরে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে উহানে তিন হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

পরবর্তীতে চীনের ভূখণ্ড পেরিয়ে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী। ইতোমধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সারাবিশ্বে নয় হাজারের মতো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যাও ছাড়িয়েছে দুই লাখ।

বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর গত ৮ মার্চ প্রথম বাংলাদেশে তিনজনের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর জানায় আইইডিসিআর।

ওই তিনজনের মধ্যে দুজন ইতালি থেকে এসেছিলেন। ইতালি ফেরত একজনের পরিবারের সদস্য ছিলেন আক্রান্ত তৃতীয়জন। ওই সময় আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তির পাশাপাশি আরও চারজনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল।

এরপর গত ১৪ মার্চ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক আরও দুজন আক্রান্তের খবর জানান। ওই দুজন ইউরোপের দেশ ইতালি ও জার্মানি থেকে এসেছিলেন। তাদেরই একজনের মাধ্যমে পরিবারের এক নারী ও দুই শিশুর আক্রান্ত হওয়ার খবর আইইডিসিআর জানায় ১৬ মার্চ। ইতোমধ্যে খবরের অন্তরালেও আরও যে আক্রান্ত হয়নি তাও বা ভরসা কিসের!

আর ১৭মার্চ আরও দুইজনের মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার কথা জানিয়ে বলা হয়, তাদের একজন হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন, অন্যজন বিদেশফেরত একজনের সংস্পর্শে এসে আক্রান্ত হয়েছেন।

এরপর ১৮ মার্চ দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এছাড়া আরও চারজন প্রাণঘাতী এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার জানায় আইইডিসিআর।

#একটি_জরুরী_আবেদন।।একটু পড়ুন।।বেঁচে যাবেন।

আমাদের দেশ এখন কোভিড 19 এর স্টেজ 2 এর দিকে যাচ্ছে – মানে এখনও ভাইরাস রোগীর থেকে তার close contacts এর মধ্যেই ছড়াচ্ছে l এরপরই স্টেজ 3 শুরু হবে যখন ভাইরাস কমিউনিটিতে ছড়াতে শুরু করবে এবং সেটা হবে অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে (কারণ, রোগটা মারাত্মক রকম ছোঁয়াচে)l ঠিক এমনটাই হয়েছে ইতালিতে, ইরানে l দুই হপ্তার মধ্যে কনফার্ম রোগীর সংখ্যা দেড়শো থেকে প্রায় দশ হাজার হয়ে গেছে l এই স্টেজ 2 তেই আটকে না রাখতে পারলে, আগামী এক মাসের মধ্যেই আমাদের দেশেও রোগীর সংখ্যা 10 থেকে হাজার হাজার হয়ে যাবে l তখন সত্যিই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাবে l করোনা ভাইরাস মানুষ মারে কম, কিন্তু এতো বেশী সংখ্যার রোগী সৃষ্টি করবে যে তাদেরকে চিকিৎসা দেওয়ার মতো পরিকাঠামো রাতারাতি তৈরী করা অসম্ভব l

আমাদের দেশের কোভিডের স্টেজ 2 থেকে 3 তে যাওয়া আটকাতে শুধু সরকার বা প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী যথেষ্ট নয় – এটা পারি আমরাই, মানে আমি, আপনার মতো সাধারণ মানুষ l আমরা প্রত্যেকে এক একজন সম্ভব্য রোগ ছড়ানো ক্যরিয়ার – একজন কয়েকশো জনের মধ্যে, কয়েকশো কয়েক হাজারের মধ্যে রোগটা ছড়াতে পারে l এই চেইনটা তখনই ভাঙতে পারা যাবে যখন আপনি নিজে রোগমুক্ত থাকতে পারবেন l আপনি রোগমুক্ত থাকলে আপনি বাঁচবেন, আপনার পরিবার বাঁচবে, আপনার দেশ বাঁচবে l যদি আপনি যদি কেয়ারলেস হয়ে রোগ বাঁধান, আপনি হয়তো বেঁচে যাবেন (তার সম্ভাবনা বেশী, কারণ কোভিডের মৃত্যুহার 2 -3% এর বেশী নয় ), কিন্তু মরবে আপনারই মতো অনেক মানুষ (হয়তো আপনারই কোনো বৃদ্ধ আত্মীয় বা অনাত্মীয়) – শুধু আপনার বোকামির জন্যেই l তাই আপনি নিজে সুস্থ থাকুন, তাহলেই দেশ সুস্থ থাকবে l

1) সরকারের সমস্ত উপদেশ ও নির্দেশিকা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলুন – কোনোটাই ফালতু বলে উড়িয়ে দেবেন না l

2) স্বাস্থ্যকর্মী বা নিরাপত্তারক্ষীরা যা যা করছেন, মেনে নিন – তাঁদের কাজে বাধা দেবেন না, তর্ক করবেন না তাঁদের সাথে l তাঁরা যা কিছু করছেন, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুসারে বিজ্ঞানসম্মত উপায়েই করছেন এবং আপনার ভালোর জন্যেই করছেন (কেন করছেন সেটা আপনি বুঝুন বা না বুঝুন)l

3) মনে রাখবেন প্রচুর টাকা বা ক্ষমতা থাকলেই কিন্তু আপনি সেফ নন l ট্রেন বা ফ্লাইটের ফার্স্ট ক্লাসে গেলেই আপনার কোভিডের কোনো ভয় নেই – এরকম ভাবাটা ভুল l মনে রাখবেন, ইউ কে এর স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীও কোভিড আক্রান্ত l কাজেই খুব দরকার না থাকলে, বাইরে যাওয়া বর্জন করুন l ছুটি পরেও কাটাতে পারবেন l

4) একান্ত দরকার না থাকলে সামাজিক অনুষ্ঠানে যাবেন না, নিজের কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান থাকলেও মাসখানেক পিছিয়ে দিন l সামাজিক মেলামেশা কিন্তু কমিউনিটিতে রোগ ছড়ানোর বড় কারণ l একই কারণে, সিনেমা হল, মেলা, উৎসব, শপিং মল যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করুন l যদি যেতেই হয়, সরকারি নির্দেশিকা অনুসারে প্রটেকশন নিন (বার বার ক্ষার যুক্ত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া,60%এলকোহল যুক্ত সানিটাইজার ব্যবহার ইত্যাদি )

3) কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট হলে সাথে সাথে ডাক্তার দেখান, নিজে নিজে চিকিৎসা বা ডায়াগনসিস করার চেষ্টা করবেন না l আদা, রসুন, এলকোহল, – কোনোটাই কোভিডের বিরুদ্ধে কার্যকরী প্রমাণিত হয় নি, আপনার হোয়াটস্যাপ যাই বলুক l আপনার কোভিড হয়েছে কিনা একমাত্র ডাক্তাররা সেটা বুঝতে পারবেন – কখন কি টেস্ট করতে হবে, কি ওষুধ খেতে হবে, ডাক্তার যা বলবেন মেনে চলুন l উনি একটা বিজ্ঞানসম্মত গাইডলাইন মেনে চিকিৎসা করছেন, মনে রাখবেন l কখন আপনাকে আইসোলেশনে যেতে হবে, কখন হোম quarantine এ থাকতে হবে – উনি যা বলবেন মেনে নিন l

সরকার বা স্বাস্থ্যকর্মীরা আপনার পাশেই আছে – কিন্তু আপনার সহযোগিতা ছাড়া এ বিপদ ঠেকানো অসম্ভব l আপনি, আমি আর আমাদের মতো সাধারণ মানুষই কিন্তু পারে কোভিড19কে রুখে দিতে।।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

 

Total Page Visits: 66762