• রবিবার (সকাল ৯:১৭)
    • ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

আতংকিত হবেন নাঃ করোনা ঠেকাতে সতর্ক থাকুন

শরীফা আক্তার স্বর্না ও জাকির হোসেন রণি, ক্রাইম ডায়রির উত্তরাঞ্চলীয় প্রধানঃ

ষড়ঋতুর বাংলাদেশে এখন যে সিজন চলছে তা আবহমানকাল ধরেই সর্দি কাশি,জ্বর এবং সর্দি হতে গলাব্যাথা পর্যন্ত হয় । এদেশের আবাল বৃদ্ধ বনিতা সবাই এরোগ গুলোর সাথে পরিচিত। কিন্তু কালের হেরফেরে ডাক্তাররাও যেন শুধু এক করোনা ভাইরাস আতংকে এগুলো ভুলতে বসেছে। তারা এখন জ্বর শুনলেই রোগী দেখতে ভয় পায়। অতি পরিচিত হাতুরে ডাক্তার যারা রোগীর পরিবারের সঙ্গে গলায় গলায় পিড়ীত রেখে বছর কাটান তাদেরকেও যদি ফোন দিয়ে বলা হয় যে, বাড়ির অমকের গলা ব্যাথা করছে কিংবা জ্বর  এসেছে তখন যে কোন উসিলায় তারা রোগী দেখা এড়িয়ে যাচ্ছে।  বিগত সাতদিনে ক্রাইম ডায়রির একটি নিজস্ব অনুসন্ধান চালানো হয়েছে গ্রাম হতে শহরের একশো পরিবারের এমন রোগীদের উপর। দেখা গেছে, এসব পরিবারের রোগীরা ডাক্তার কিংবা হাসপাতাল পর্যন্ত যাননি। কারন, উচ্চশিক্ষিত  কিংবা  এক্কেবারে গন্ডমুর্খ  অনেকেরেই এমন ধারনা যে, এসব লক্ষণ নিয়ে গেলেই হয় তারা চিকিৎসা পাবেন না নয়তো তাদের পরিবার অচ্ছুত হয়ে একঘরে হয়ে যাবে। তবে আশার কথা হলো এসব পরিবারের সবাই বিনা চিকিৎসাতেই সুস্থ হয়ে গেছেন।  আবার বিদেশ ফেরতদের পরিবার সত্যিই যে আক্রান্ত হয়েছে তা আক্রা্ন্ত পরিবারগুলোর খোঁজনিয়ে সত্যতা শতভাগ পাওয়া গেছে। ছোঁয়াচে এই ভাইরাস অতি মারাত্বক। কিন্তু করোনা কোথায়ও কোন কোন মানুষের নিকট রাজনীতিক গুরুরা রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে উপস্থাপন করছেন আর কাঠ মোল্লারাতো তাদের বয়ানে এটাকে গুরুত্বই দিচ্ছেন না। তবে কঠিন সংবাদও আছে । আর তা হলো এই হাচি কাশি কিংবা সিজনারী গলাব্যাথা বিগত বছরগুলোর চেয়ে এ বছর ১৪ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণকক্ষের তথ্যমতে, সোমবার (৩০ মার্চ) পর্যন্ত আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৯৩০। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল ৮২০।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিনের সাবেক বিভাগীয় প্রধান এইচ এ এম নাজমুল আহাসান বলেন, তারা শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগে আক্রান্ত অনেক রোগী পাচ্ছিলেন। রোগীরা সর্দি–কাশি, নিউমোনিয়া আক্রান্ত ছিল।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা করোনাভাইরাস নিয়ে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছেন, জ্বর, সর্দি, কাশি মানেই কোভিড–১৯ নয়। তিনি আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।  কেন শ্বাসতন্ত্রের রোগ বেশি, তা নিয়ে কয়েকজন চিকিৎসকের সঙ্গে কথা হয় ;সাংবাদিকদের।

তারা  সাংবাদিকদের বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তন, দূষণ ইত্যাদি কারণে মানুষ এ ধরনের রোগে ভোগে। যাঁদের অ্যাজমা বা সিওপিডি আছে, তারা কষ্ট পান বেশি। আবার করোনাভাইরাসে সংক্রমণের একটা বিষয়ও রয়েছে। পরীক্ষার পরিধি বাড়ানো না হলে করোনাভাইরাসের কারণে এ ধরনের রোগ বাড়ছে কি না, নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। চিকিৎসকেরা বলেছেন, জ্বর–সর্দি–কাশি মানেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নয়। সংক্রমণের ক্ষেত্রে সাধারণত পঞ্চম দিন থেকে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। মোটামুটি ১০ দিনের পর থেকে আক্রান্তদের ক্ষুদ্র একটি অংশের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয় এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য ভেন্টিলেটর লাগে। তারা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত হতে নিষেধ করেছেন।

গত চার বছরের তুলনায় এ বছরই এআরআইতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এত বেশি কেন জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রমণ রোগ ও রোগনিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের পরিচালক শাহনীলা ফেরদৌস বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। চিকিৎসকেরা তাদের জানুয়ারির দিকে অনেক রোগীর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার তথ্য জানিয়েছিলেন। এটা কেন, তা খুঁজে দেখতে সময় লাগবে। তবে আবহাওয়া দুষন, মল এবং ড্রেনেজের দুষিত পানির মিশ্রনে তৈরি ধুলো নিঃশ্বাসের সাথে শরীরে প্রবেশ করে এই অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কভিড ১৯ মোকাবেলায় আরও একটি পরামর্শ হলো আতংকিত না হয়ে সতর্ক থাকা। কারন আতংকিত ব্যক্তির মানসিক দুর্বলতা হতে শরীরের তাৎক্ষনিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়েও মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়/স্বাস্থ্য

Total Page Visits: 66765

দিল্লিতে তাবলীগ জামাতের মার্কাজ মসজিদ নিজামুদ্দিন করোনা ভাইরাসের ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত

বিবিসির সংবাদে বলা হয়েছে , “মার্কাজ নিজামুদ্দিন’ নামে পরিচিত ওই মসজিদটিতে একটি ধর্মীয় সমাবেশ উপলক্ষে এ মাসের মাঝামাঝি অন্তত দুই থেকে আড়াই হাজার লোক সমবেত হয়েছিলেন। শহরের একটি অত্যন্ত ঘিঞ্জি এলাকায় একটি ছ’তলা ভবনের ডর্মিটরিতে তারা সবাই গাদাগাদি করে ছিলেন।

এর মধ্যে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মুসলিমরা যেমন ছিলেন, তেমনি ছিলেন বহু বিদেশি নাগরিকও।

ওই সমাবেশে যোগ দিয়ে নিজেদের রাজ্যে ফিরে যাওয়ার পর গতকাল (সোমবার) তেলেঙ্গানাতে ছ’জন ব্যক্তি করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়ে মারা গেছেন।

এর আগে নিজামুদ্দিন থেকে ফিরে গিয়ে কাশ্মীরের এক ধর্মীয় নেতাও শ্রীনগরে কয়েকদিন আগে মারা যান। তিনি আবার কাশ্মীরে ফেরার আগে উত্তরপ্রদেশের দেওবন্দেও ঘুরে যান – এবং কাশ্মীরে গিয়েও বেশ কয়েকটি ধর্মীয় সমাবেশে যোগ দেন।

এ ছাড়া তামিল নাডুতে দুটি এবং দিল্লিতে আরও একটি করোনাভাইরাস-জনিত মৃত্যুর সঙ্গেও দিল্লির এই তাবলীগ জামাতের সংযোগ টানা হচ্ছে, যদিও সেই দাবি এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায়নি।

এদিকে মরকজ নিজামুদ্দিনে অবস্থানরত প্রায় তিনশো ব্যক্তিকে করোনাভাইরাসের মতো উপসর্গ নিয়ে সোমবার দিল্লির বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ২৪জনের আজ পরীক্ষার ফল ‘পজিটিভ’ এসেছে।

নিজামুদ্দিনের ঘিঞ্জি এলাকার ভেতর অবস্থিত ওই ছ’তলা মসজিদ ভবনটিকে আজ (মঙ্গলবার) সকালে পুলিশ সিল করে দেয়।

লোকজনকে সরিয়ে নিচ্ছে পুলিশ।মাস্ক পড়িয়ে লোকজনকে সরিয়ে নিচ্ছে পুলিশ।

ভেতরে তখনও যে সাতশোর মতো লোক ছিলেন তাদের সবাইকে সরকারি বাসে করে দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে কোয়ারেন্টিন সেন্টারগুলোতে পাঠানো হয়েছে। নিজামুদ্দিনের বেশ কাছেই দিল্লির সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম জহরলাল নেহেরু স্টেডিয়াম – প্রয়োজনে সেটিকেও মেকশিফট হাসপাতালে রূপান্তরিত করে ওই এলাকার রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

দিল্লিতে তাবলীগ জামাত কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দায়িত্বে চূড়ান্ত অবহেলার অভিযোগে পুলিশ একটি এফআইআরও দাখিল করেছে। দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন বলেছেন, “ওই ধর্মীয় সমাবেশের আয়োজকরা এভাবে শত শত লোককে নিয়ে সভা করে বিরাট বড় অপরাধ করেছেন।”

“তাদের বিরুদ্ধে যাতে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হয় সেই সুপারিশ করে আমরা দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নরের কাছেও চিঠি লিখেছি,” জানিয়েছেন তিনি। তাবলীগ জামাতের মূল সমাবেশটি ছিল মার্চের ৮ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত – তবে তার অনেক আগে থেকে এবং তার পরেও শত শত ব্যক্তি ওই মরকজ নিজামুদ্দিনে অবস্থান করছিলেন।

এদের মধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, মিয়ানমার, কিরঘিস্তান, সৌদি, আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, জিবুতি, বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, ফিজি, ফ্রান্স বা কুয়েতের মতো বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রায় তিনশো তাবলীগ সদস্যও ছিলেন। এই বিদেশি নাগরিকের প্রায় সবাই পর্যটক ভিসা নিয়ে ভারতে এসে ধর্মীয় সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন, যা আইন-বিরুদ্ধ।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এদের প্রত্যেককে ব্ল্যাক লিস্টেড (কালো তালিকাভুক্ত) করে ভারতে আসা নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে ভারত সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হলো, তাবলীগ জামাতের সমাবেশে যোগ দিয়ে যারা এর মধ্যেই ভারতের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছেন বা ঘরে ফিরে গেছেন, তাদেরকে নিয়ে। তেলেঙ্গানাতে এরকমই ছ’জন গতকাল মারা গেছেন, যারা প্রত্যেকে করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছিলেন।

ক্রাইম ডায়রি/আন্তর্জাতিক সুত্রঃ বিবিসি

Total Page Visits: 66765

বর্তমান পরিস্থিতি মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে দেখতে সকলের প্রতি প্রধামন্ত্রীর আহবান

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃ

দেশ আজ চরম একট উৎকন্ঠার মুখোমুখি। পুরো বিশ্বই যেখানে অসহায়। এই মহাসংকটে মহান আল্লাহতায়ালার রহমতই কেবল পারে পুরো মানবজাতীকে মুক্ত করতে। মানুষ তার গোলাম হিসেবে শুধু পারে আল্লাহ সাহায্য কামনা ও তারই হুকুম অনুযায়ী চেষ্টা করতে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এই বাংলাদেশ। মহান আল্লাহ তায়ালার মনোনীত ধর্ম ইসলামের অনুসারীরা তাই আজ তারই দ্বারস্থ। বঙ্গকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখা হাসিনা বলেছেন,‘আমাদের সরবরাহ ব্যবস্থা এভাবে থাকবে যেন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকে, মানুষের আওতার মধ্যে থাকে। সেটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। কারণ মানুষের দুর্ভোগের সুযোগ নিয়ে অযথা দাম বাড়িয়ে মুনাফা নেয়া আসলে অমানবিক হবে। কোন কাজই জনগনের সহযোগীতা ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে একা করা সম্ভব নয়। তাই আমি বিশ্বাস করি, আপনারা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি দেখবেন।’

প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার সকালে তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশের মাঠ পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময়কালে একথা বলেন।

ওই সময় আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি বাড়ানোর ব্যাপারে মন্ত্রিপরিষদ সচিব প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে শেখ হাসিনা বলেন, এই ছুটি ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। কিন্তু এতে সবকিছু পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া যাবে না। তিনি বলেন, সীমিত পর্যায়ে তা করা যেতে পারে এবং কিছু লোকের চলাচলের জন্য একটি সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, গণপরিবহনের চলাচল সীমিত করতে হবে। সরকার ১৪ দিনের ছুটি শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি পর্যলোচনা করবে।

শেখ হাসিনা বলেন, সবকিছু বন্ধ করে দেয়া যাবে না। অত্যাবশ্যকীয় বিষয়গুলো চালু রাখতে হবে। তবে, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন স্কুল-কলেজ আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

তবে, প্রধানমন্ত্রী সবধরণের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে শিল্প-কলকারখানা চালু রাখার ব্যাপারে অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, অত্যাবশ্যকীয় অনেক জিনিস উৎপাদনের জন্য আমাদেরকে শিল্প-কারখানা চালু রাখতে হবে।

বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) ছাড়াও ভিডিও কনফারেন্সে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন,‘আমাদের সীমাবদ্ধতার ভিত্তিতে কিছু সেক্টরে ছাড় দিতে হবে।’

ছুটি ৯ এপ্রিল বাড়াতে হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেটা বাড়ানোর সাথে সাথে আমাদের সীমিত আকারে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করার জন্য আমরা চিন্তা-ভাবনা করে বলব, কোন কোন ক্ষেত্রে আমরা ছাড় দেব। ছুটি বাড়ানো হতে পারে, কেননা করোনাভাইরাস বিস্তাররোধে ছুটি ঘোষণার পর পরই অনেকেই তাঁদের গ্রামের বাড়িতে চলে গেছের। কাজেই এই প্রাণঘাতি ভাইরাসের কোনো সংক্রমন যেন না ঘটে সেজন্য তাদের কোয়ারেন্টিনের সময়টা গণনা করে ১৪ দিন করার জন্য ছুটি ৯ তারিখ পর্যন্ত বাড়াতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘যোগাযোগের (পরিবহন) ক্ষেত্রে শ্রমিক  যারা আছেন তারাও যাতে কষ্ট না পায়, সেজন্য তাদের তালিকা আমি ইতোমধ্যে করতে বলেছি। তাদের যেভাবে সাহায্য করার দরকার, আমরা সেই সাহায্য পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করব।’

জনসমাগম এড়াতে আসন্ন পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান বাতিল করার কথাও বলেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে জনসমাগম আরো বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। আমাদের বাংলা নববর্ষের উৎসবে এ বছর যাতে জনসমাগম হয়, তেমন কিছু করা উচিত হবে না। অবশ্য ডিজিটাল ব্যবস্থায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যেতে পারে। তবে, জনসমাগম করে অনুষ্ঠান আয়োজন সারা বাংলাদেশে বন্ধ রাখতে হবে।’

এর আগে গত ২৩ মার্চ করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধকল্পে সরকার সারাদেশে জরুরী সেবা ছাড়া সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ দিনের সাধারন ছুটি ঘোষণা করে।

ছুটির সময় কোনো বিশেষ প্রয়োজন যেমন জরুরী খাদ্য, মেডিকেল সামগ্রী, ওষুধের প্রয়োজন ব্যতীত ঘরের বাইরে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে ঘরে থাকতে বলা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, করোনা মোকাবিলায় দেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করাটা জরুরি। আমাদের দেশটা ছোট কিন্তু জনসংখ্যা ব্যাপক। এরপরও আমরা মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পেরেছি। সেজন্য বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করোনা নিয়ন্ত্রণ পর্যায়ে রয়েছে।

সবাইকে ঘরে অবস্থানের পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা প্রতিরোধে মানুষের করণীয় বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আপনারা এসব নির্দেশনা মেনে চলুন। কেননা নিজেদের সুরক্ষা নিজেদেরই করতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনার থাবা রয়ে গেছে। আমরা বিশ্ব থেকে দূরে নই। আমাদের আরও সচেতন থাকা দরকার। আমরা আমাদের দেশের মানুষের সুরক্ষার জন্য অনেক আগে থেকেই কাজ করেছি। ভবিষ্যতে যাতে করোনাভাইরাস না ছড়ায় সেজন্য সেদিকেও দৃষ্টি রাখতে হবে।

করোনা উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে কোনো লুকোচুরি করার সুযোগ নেই। লুকোচুরি করলে নিজের জীবনকেই ঝুঁকিতে ফেলে দেয়া হবে। জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী সকলকে সতর্ক করে বলেন, সাহায্য পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো দুর্নীতি হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
তিনি বলেন, ‘কোনো রকম দুর্নীতি হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। দুঃসময়ে কেউ সুযোগ নিলে, কোনো অভিযোগ পেলে আমি কিন্তু তাকে ছাড়ব না। বিন্দু পরিমাণ অনিয়ম সহ্য করা হবে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছুটি ঘোষণার কারণে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষের সমস্যা হচ্ছে। কৃষক, চা শ্রমিক, হিজড়া, বেদে সম্প্রদায়ের মানুষ বেশি কষ্ট পাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘যারা দৈনন্দিন কাজে যেতে পারছে না। তাদের বাঁচিয়ে রাখা আমাদের সামাজিক কর্তব্য। সেখানে ১০ টাকা কেজি চালসহ নানা সহযোগিতা করা হয়েছে। তাদের কাছে সাহায্য ও খাদ্যদ্রব্য পাঠাতে হবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি সবাইকে তাঁদের পাশে দাঁড়াতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ড অনুযায়ী তালিকা করতে হবে। সেই অনুযায়ী সবাই যেন সাহায্য পায়। কেউ যেন বাদ না পড়ে।’

সবার পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) ব্যবহারের প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পিপিই ডাক্তার, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য।’যাদের প্রয়োজন নাই তাদের পিপিই ব্যবহারের প্রয়োজন নাই। পিপিই সকলের ব্যবহারের জন্য নয়।  সকলে পিপিই ব্যবহার করতে গিয়ে স্বাস্থ্য সেবা যেন ব্যাহত না হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দরিদ্রদের সহযোগিতায় বিত্তবানদের এগিয়ে আসার জন্যও প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানান।

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান ভিডিও কনফারেন্সে সচিবালয় প্রান্ত থেকে যুক্ত হন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং সচিববৃন্দও সচিবালয় প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নব-নির্বাচিত মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে সংযুক্ত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ এবং পিএমও সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন অন্যান্যের মধ্যে গণভবনে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে উদ্দেশ্য করে সকল জনপ্রতিনিধিদেরকে নিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করেন- করোনার সাথে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়া যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আর কয়েকদিনের মধ্যেই মশার প্রাদুর্ভাবে ডেঙ্গু দেখা দিতে পারে, কাজেই সেটা যেন না হয় সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রতিরোধমুলক ব্যবস্থা নিতে হবে।’

তিনি জনগণকে নিজ বাড়ি এবং তার চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং পানি জমে থাকা রোধ করে মশার বংশ বিস্তার রোধ করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য সকলকে মশারি খাটিয়ে ঘুমানোর পরামর্শ দেন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলার সময় শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা চাই না, বাইরের কেউ আর ওখানে ঢুকুক। যেহেতু একটা কেস (করোনায় আক্রান্ত রোগী) পাওয়া গেছে। আর যেন সংক্রমিত না হয়, এজন্য সেখানে পর্যটকও যেতে পারবে না। সবই বন্ধ রাখতে হবে। কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে শুরু করে সবকিছু যেন ভালোভাবে সংরক্ষিত হয়, সেটা দেখতে হবে। ’
রোহিঙ্গাদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্প নিয়েই আমরা চিন্তিত। কারণ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যদি কোনো কিছু হয়ে যায়, তাহলে খুবই ক্ষতি হবে। এ জন্য বাইরের কোনো লোকের দরকার নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের যারা আছে, তারাই সার্ভিস দেবে। ওখানে তো আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সশস্ত্রবাহিনী, সেনাবাহিনী সকলেই তো আছে। তারা তো কাজ করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা নিজেদের লোক দিয়েই সব করাব। বাইরের লোক যেন এই সময়ের মধ্যে বেশি কেউ না যায়, সেটা বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ও গুজব ছড়ালে সাথে সাথে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে যেটা সমস্যা সৃষ্টি করে সেটা হচ্ছে, নানা ধরনের গুজব।’

সরকার প্রধান বলেন, ‘আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি বলে আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে পারছি, সেই সুযোগটা পাচ্ছি। ভবিষ্যতে হয়তো আরও কথা বলব। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ নিয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন অ্যাপসে নানা ধরনের গুজব অনবরত ছড়ানো হয়ে থাকে। নানা ধরনের কথা অনেকে বলে থাকেন। দেশে নয় দেশের বাইরে থেকেও কেউ কেউ বলেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা এগুলো বলবেন, যদি কেউ মিথ্যা অপপ্রচার করেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা সাথে সাথে নিতে হবে। গুজবে কেউ কান দেবেন না।’

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে অল্প একটু জমিও যেন অনাবাদি না থাকে সেজন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হবে। কারও এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে। ঘরের কোণায় হলেও একটা কিছু ফসাল ফলান।

‘তরি-তরকারি চাষ করেন, হাঁস-মুরগির খামার বা মাছের চাষ করেন, বা ছাগল, গরু, ভেড়া- যাই হোক, যে যা পারেন পাল করেন, ’যোগ করেন তিনি।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মাঠ প্রশাসন কীভাবে কাজ করছে এবং তারা কী কী সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন- তা সরাসরি জানতে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা তরুন জার্মান প্রবাসী ফয়সল শেখ ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে মত বিনিময় করেন।

তিনি বলেন, ‘টেস্টে পজিটিভ আসার পর আইইডিসিআর আমাকে কোয়ারেন্টাইনে রাখে। তারা বাসায় এসে আমাকে নিয়ে গিয়ে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি রাখে। সেখানে আমি ১০ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকি, আমার পরিবারের সবাইকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়।’

ফয়সল বলেন, ‘কয়েকদিন পর বারবার টেস্ট করার পর যখন আমার টেস্ট রেজাল্ট নেগেটিভ আসে, তখন আমি আমার পরিবারের কাছে ফিরে যাই। আল্লাহর রহমতে আমার মাধ্যমে পরিবারের কারও করোনা হয়নি।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনার নির্দেশনায় দেশে যে করোনা চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে, সেজন্য আমি আপনার কাছে অনেক কৃতজ্ঞতা আদায় করছি। দেশের জনগণের কাছে একটাই অনুরোধ, আপনারা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মানুন। করোনার সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে বাসায় থাকা, ঘরে থাকা। পরিবারকে সময় দিন। যতদিন ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে ঘরে থাকুন, তাহলেই কেবল আমরা করোনা থেকে মুক্ত থাকতে পারব।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এরপরে কিন্তু আরেকটা ধাক্কা আসবে। সারাবিশ্বের অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে গেছে। সে কারণে বিরাট একটা অর্থনৈতিক মন্দা আসতে পারে।’

‘সেই মন্দা মোকাবেলায় চিন্তাভাবনা এখন থেকে আমাদের করতে হবে, পরিকল্পনা নিতে হবে। সেক্ষেত্রে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো খাদ্য নিরাপত্তা। এক্ষেত্রে আমাদের একটা সুবিধা হল আমাদের মাটি অত্যন্ত উর্বর। আমাদের মাটি আছে, মানুষ আছে, ’যোগ করেন তিনি।

এ সময় কৃষিমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের খাদ্য উৎপাদন যেন অব্যাহত থাকে। এ বিষয়ে সকলকে নজর রাখতে হবে। খাদ্য উৎপাদনের জন্য যা যা উপকরণ দরকার, তা যেন মানুষের কাছে পৌঁছে, এ বিষয়ে আমাদের কৃষির সাথে যারা সম্পৃক্ত আছেন তারা উদ্যোগ নেবেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা যদি খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারি তাহলে আমাদের দেশের চাহিদা মেটাতে পারব। পাশাপাশি অন্য দেশের প্রয়োজন হলে আমরা সাহায্য করতে পারব। আল্লাহর রহমতে সেইসব ক্ষমতা আমাদের আছে।

শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে আমরা সচেতন হয়েছি বলেই তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও আমাদের অবস্থা খুব খারাপ নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সব নির্দেশনা আমরা অনুসরণ করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চীনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর বড় কর্তব্য মনে করেছি, জনগণের নিরাপত্তা দেওয়া। সেটিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানসহ সব অনুষ্ঠানে জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়। যেন সবাই নিরাপদে থাকেন।’

তিনি বলেন, ‘চীনের উহান থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসা হলো, তাদের কোয়ারেনটাইনে রাখা হলো। যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হলো, পরে অনেকেই চলে এলো। তাদের মধ্যে অনেকে সংক্রমিত। তাদের আলাদা রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলো। তখন মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য সরকারি ছুটি ঘোষণা করলাম।’

‘সাধারণ মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ, তাদের জীবন যেন স্তব্ধ না হয়, সে জন্য ব্যাংক কিছু সময় খোলা রাখা, কাঁচাবাজার চালু, পণ্য পরিবহন, জরুরি সেবা সবকিছুই সাধারণ মানুষের জন্য সীমিত আকারে চালু রেখেছি’, যোগ করে তিনি বলেন, ‘আইইডিসিআর কাজ করছে। শুধু রাজধানী নয়, বিভাগীয় পর্যায়েও করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছি।’

জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জীবন থেমে থাকবে না, চলবে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে কাজ করতে হবে। তারপরও জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। সেটা করতে গিয়ে মানুষকে কষ্টও দেওয়া যাবে না।’

ক্রাইম ডায়রি///সুত্র : বাসস

Total Page Visits: 66765

বিশ্বজুড়ে লকডডাউন চলবে কতদিন??? এতে কি রোগের প্রাদুর্ভাব কমবে??

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃ

জাতীর উদ্দেশ্যে দেয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সবাইকে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।কিন্তু  বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোসহ  প্রিয় বাংলাদেশেও এই লকডাউন বা শাটডাউন আসলে চলতে পারে কতদিন ধরে? কী হবে এই লকডাউন পরিস্থিতিতে? আর এগুলো কী করোনাভাইরাস প্রার্দুভাব ঠেকাতে পারবে? ভেজাল খাদ্যে খেয়ে কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন মানুষ কিভাবে সামলাবে এই ধাক্কা??

বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস অ্যাধনম ঘেব্রেইয়েসাস বুধবার এক প্রেস বিফ্রিংয়ে বলেন, ‘আমরাও বুঝি যে এসব দেশ আসলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে যে কখন এবং কীভাবে এসব পদক্ষেপগুলো শিথিল করা যায়।’ দেশের আনাচে কানাচে লক ডাউন কার্যকরকরতে কাজ করছে পুলিশ ও সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্যবৃন্দ।।।জরুরী অবস্থার একটাই কারন জনগনকে গৃহে রাখা যাতে রোগ বিস্তার লাভ না করে।সফলতা কতটুকু আসবে তা নির্ভর করে জনগনের আন্তরিকতার উপর।

বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার তত্বাবধানে গবেষণা চলছে রাতদিন।। কবে নাগাদ মুক্তি মিলবে সে বিষয়ে তাদের সোজা  কথা  ‘এই জনসংখ্যা বিষয়ক পদক্ষেপগুলো কার্যকর থাকার সময়টাতে দেশগুলো কী ব্যবস্থা নেয় – তার উপর এর উত্তর নির্ভর করছে।’

‘মানুষকে ঘরে থাকতে বলা এবং তাদের চলাচল বন্ধ করার অর্থ হচ্ছে সময় নেওয়া এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর চাপ কমানো,’ বলেন হু’ প্রধান ঘেব্রেইয়েসাস। কিন্তু তাদের (দেশগুলোর) এসব পদক্ষেপ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা কমাতে পারবে না।

এই লকডাউনের সময়টাতে ভাইরাসটিকে ‘অ্যাটাক (হামলা)’ করার জন্য তৈরি হতে দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। কিন্তু কীভাবে এই সময়টাকে কাজে লাগাবে এসব দেশ- সেটিও একটি প্রশ্ন। আর এর জবাবও দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ঘেব্রেইয়েসাস।

যে ৬টি কাজ একান্ত জরুরি
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, লকডাউন বা শাটডাউন পরিস্থিতিতে দেশগুলোকে ছয়টি বিষয়ের দিকে নজর দিতে হবে। এগুলো হলো:

১. যতটা সম্ভব পারা যায় স্বাস্থ্য সেবা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সংখ্যা বাড়াতে হবে, তাদের প্রশিক্ষণ ও সেবা কাজে নিয়োগ করতে হবে।

২. কম্যুনিটি লেভেলে সংক্রমণ হতে পারে – এমন প্রতিটি ঘটনা খুজে বের করার ব্যবস্থা করতে হবে।

৩. টেস্ট করার জন্য সকল ধরনের ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করতে হবে।

৪. রোগীদের চিকিৎসা এবং তাদের আইসোলেট করার জন্য পর্যাপ্ত সুবিধার ব্যবস্থা করতে হবে।

৫. রোগীদের সংস্পর্শে আসা প্রত্যেকের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করার জন্য একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

৬. ইতিমধ্যে কোভিড-১৯ মোকাবেলা করার জন্য গৃহীত সরকারি পদক্ষেপগুলো পুর্নমূল্যায়ন করতে হবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এসব ব্যবস্থা নেওয়াটাকেই সবচেয়ে ভালো পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

সংস্থাটির দাবি, এসব ব্যবস্থাই ভাইরাসটির সংক্রমণ কমানোর সবচেয়ে ভালো উপায়, যাতে করে পরবর্তীতে এটি আবার না ছড়াতে পারে।

এসব ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পর স্কুল-কলেজ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুললেও অসুবিধা নেই, যতক্ষণ না আবারো ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু না হয়।

ঘেব্রেইয়েসাস বলছেন, কঠোর সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার চাইতে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের ‘খুজে বের করা, আইসোলেট করা, টেস্ট করা এবং নজরদারিতে রাখা’র বিষয়ে আগ্রাসী পদক্ষেপ নিতে পারলেই সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে ও কার্যকর উপায়ে ভাইরাসটিকে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। এদিকে বিশ্বসংকটের এই মহাদূর্যোগের রয়েছে ধর্মীয় ব্যাখ্যাও।।। সোশাল মিডিয়ায় সে আলোচনা ও সরব। তবুও বিশ্ব এখন সংকটে।। সংকট নিরসনে প্রভুর দরবারে দোয়া ও চেষ্টা চলতে হবে সমান গতিতে।।।

ক্রাইম ডায়রি ///জাতীয়///সুত্র-বিবিসি

Total Page Visits: 66765

ঝালকাঠির মতো সারাদেশের স্কুল ল্যাবে শিক্ষার্থীরাই তৈরি করতে পারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার

ইমাম বিমান, ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধিঃ
সারাদেশ যখন করোনা আতংকে আতংকিত তখন একশ্রেণির অর্থলোভী ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা যেন আইয়্যামে জাহেলিয়াতকে মনে করিয়ে দেয়।।তবে স্কুল শিক্ষার্থীরা দেখাতে পারে আশার আলো।এমন নিজ স্কুল ল্যাবে গবেষনা ও বাস্তবিক প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে তাদের মধ্যে হতে বের হয়ে আসতে পারে বিজ্ঞানী কিংবা গবেষক। এমনই নজীর স্থাপন করলেন ঝালকাঠির একদল শিক্ষার্থী। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সহযোগীতা ও প্রত্যক্ষ মদদে দেশের ক্রান্তিলগ্নে তারা তৈরি করলেন দূর্লভ হ্যান্ড স্যানিটাইজার।।
হ্যা, বর্তমান সময় করোনা ভাইরাসের সংক্রামন থেকে মানুষকে বাঁচাতে ঝালকাঠি সরকারি হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বিদ্যালয় ল্যাবরেটরিতে চলছে হ্যান্ড স্যানিটাজার উৎপাদন। বাজার থেকে হ্যান্ড স্যানিটাজার উধাও হলেও এবার ঝালকাঠিতেই হ্যান্ড স্যানিটাজার উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকারি হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার একটি অতিব জরুরি। আর এমন সময় হঠাৎ ঝালকাঠির বাজার থেকে গায়েব হ্যান্ড স্যানিটাজার। তবে এই সংকটাপুর্ন সময় ঝালকাঠি সরকারী  হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক তৌহিদ হোসেন খানের তত্ত্বাবধানে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ঝালকাঠিতেই স্যানিটাইজার তৈরি করছে। প্রাথমিকভাবে ৫০ মিলিগ্রামের পাচ হাজার বোতল হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করা হয়েছে চলছে উৎপাদন যগ্য তাদের এই উদ্বোগে ঝালকাঠিবাশি কিছুটা হলেও চিন্তামুক্ত হতে পারে।
ক্রাইম ডায়রি///জাতীয়//জেলা
Total Page Visits: 66765

লকড ডাউন বিশ্বঃ এর শেষ কোথায়???

স্পেশাল ডেস্কঃ

পুরো পৃথিবী স্থবির।।ঠিক কিয়ামতের দিন সব কিছু ধ্বংস হলে মহান আল্লাহতায়ালা যেমন সকল বাহাদুরদের ডেকে বলবেন কোথায় সকল বাহাদুর। উত্তর দেবার মত কেউ থাকবে না।সেদিন রাজত্ব হবে শুধুই মহান মাবুদের। আজকের পরিস্থিতি ঠিক সেদিনেরই ট্রায়াল ক্লাস। মানুষ ভয় পেতোনা।কিন্তু   যখন বিজ্ঞানের  খনি খ্যাত দেশ গুলো টিকা তৈরির ক্ষেত্রে দূর্বল অবস্থানেে তখন সবাই অসহায় হয়ে পড়ল। আজ   পৃথিবীটা যেন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যেসব জায়গা মানুষের পদচারণায় মুখর থাকে, সেগুলো দেখলে এখন ভূতুড়ে মনে হয়। প্রতিদিনের চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা, স্কুল বন্ধ, ভ্রমণের উপর নিষেধাজ্ঞা, গণ-জমায়েতের উপর বিধিনিষেধ – এসব কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

একটি রোগে ঠেকানোর ক্ষেত্রে পুরো বিশ্ব যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, সেটি নজিরবিহীন।

কিন্তু এর শেষ কোথায়? মানুষ কবে নাগাদ তাদের স্বাভাবিক দৈনন্দিন জীবনে ফিরতে পারবে?

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, আগামী ১২ সপ্তাহের মধ্যে করোনাভাইরাসের ‘ঢেউ উল্টোপথে ঘুরিয়ে’ দিতে সক্ষম হবে ব্রিটেন।

আগামী তিনমাসের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসলেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পুরোপুরি শেষ হতে অনেক সময় বাকি।

সম্ভবত কয়েকবছর পর্যন্ত লাগতে পারে।

এটা পরিষ্কার যে যেভাবে বড় বড় শহর বন্ধ রাখা হচ্ছে এবং মানুষের দৈনন্দিন চলাফেরারা উপর বিধি আরোপ করা হচ্ছে, সেটি দীর্ঘমেয়াদি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এভাবে সবকিছু বন্ধ থাকলে সামাজিক এবং অর্থনৈতিক প্রভাব হবে মারাত্মক।

এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য দেশগুলোকে একটি কৌশল খুঁজে বের করতে হবে। বিধিনিষেধগুলো প্রত্যাহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার উপায় খুঁজতে হবে।

একথা ঠিক যে বিধিনিষেধ আরোপের ফলে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছে। এসব বিধিনিষেধ তুলে দিলে সংক্রমণের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পাবে।

“এখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কৌশল কী হবে এবং সেখান থেকে আমরা কিভাবে বের হয়ে আসবো -এনিয়ে নিয়ে বড় সমস্যা আছে,” বলছিলেন এডিনবার্গ ইউনিভার্সিটির সংক্রামক রোগ বিষয়ক অধ্যাপক মার্ক উলহাউজ।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে পৃথিবীর কোন দেশেরই কৌশল নেই।

এই কৌশল ঠিক করা বড় ধরণের বৈজ্ঞানিক এবং সামাজিক চ্যালেঞ্জ।

এর তিনটি উপায় আছে।

১. টিকা দেয়া

২. বহু মানুষের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণের ফলে তাদের মধ্যে এনিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠবে

৩. অথবা স্থায়ীভাবে মানুষ এবং সমাজের আচার-আচরণে পরিবর্তন নিয়ে আসা

টিকা আসতে সময় লাগবে ১২ থেকে ১৮ মাস। এই টিকা গ্রহণ করলে করোনাভাইরাসের সংস্পর্শে আসলেও তারা অসুস্থ হবে না। যত বেশি সংখ্যক মানুষকে টিকা দেয়া যাবে ততই ভালো। যদি মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশকে টিকা দেয়া হয়, তাহলে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়বে না।

ইতোমধ্যে আমেরিকায় এক ব্যক্তির দেহে পরীক্ষামূলক-ভাবে করোনাভাইরাসের টিকা দেয়া হয়েছে। যে কোন টিকা আবিষ্কার করলে সেটি প্রথমে পরীক্ষা-নিরীক্ষার করা হয় যে কোন প্রাণির উপর। এক্ষেত্রে বিশেষ অনুমোদন নিয়ে প্রথমেই মানুষের উপর প্রয়োগ করা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের জন্য বেশ দ্রুত গতিতে কাজ চলছে। কিন্তু এটি সফল হবে কিনা কিংবা বিশ্বজুড়ে এই টিকা দেয়া যাবে কি না – সে নিশ্চয়তা নেই।

প্রাকৃতিকভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলা

Image captionকরোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবার অন্যতম লক্ষণ হচ্ছে কাশি।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলার জন্য জন্য ব্রিটেন যে কৌশল নিয়েছে সেটি হচ্ছে, আক্রান্তের সংখ্যা যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা যাতে হাসপাতালগুলো রোগীতে পরিপূর্ণ না হয়ে যায়। হাসপাতালগুলো রোগীতে পরিপূর্ণ হয়ে গেলে আইসিইউতে জায়গা পাওয়া যাবে না। ফলে মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকবে।

ব্রিটেনের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা স্যার প্যাট্রিক ভ্যালান্সি বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কখন কোন পর্যায়ে যাবে সেটি নিয়ে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা দেয়া সম্ভব নয়।

লন্ডনের ইমপেরিয়াল কলেজের অধ্যাপক নিল ফার্গুসন বলেন, “আমরা সংক্রমণের মাত্রা কমিয়ে রাখার কথা বলছি যাতে করে দেশের একটি কম সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হয়।”

” আমরা যদি দুই বছরের বেশি সময় যাবত এটা করতে পারি তাহলে দেশের একটি বড় অংশ ধীরে ধীরে আক্রান্ত হবে। এর ফলে স্বাভাবিক নিয়মে রোগ প্রতিরোধ গড়ে উঠবে।”

কিন্তু এ কৌশলের মাধ্যমে গড়ে ওঠা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কতদিন টিকবে সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অতীতে করোনাভাইরাসের অন্যান্য ধরণের যেসব সংক্রমণ হয়েছে সেসব ক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা খুব ভালো কাজ করেনি। অনেকে মানুষ তাদের জীবনে বেশ কয়েকবার আক্রান্ত হয়েছে।

বিকল্প কী?

অধ্যাপক উলহাউজ বলেন, তৃতীয় বিষয়টি হচ্ছে আমাদের আচার-আচরণে স্থায়ী পরিবর্তন নিয়ে আসা যার ফলে সংক্রমণের মাত্রা বেশি না হয়।

বর্তামানে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তার মধ্যে কিছু বিষয় রয়েছে। যেমন: কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা কিংবা পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়টি জোরদার করা।

” আমরা শুরুতেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সনাক্ত করেছি এবং তারা যাদের সংস্পর্শে গিয়েছে তাদেরও খুঁজে বেরি করেছি। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি।,” বলছিলেন অধ্যাপক উলফহাউজ।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ এর ঔষধ আবিষ্কার করা সম্ভব হলে সেটি অন্য কৌশলগুলো বাস্তবায়নের জন্যও সাহায্য করবে।

মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের লক্ষণ দেখা দেয়ার সময় ঔষধ প্রয়োগ করলে তাহলে সেটি অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে যাবার বিষয়টি বন্ধ করতে পারে।

অথবা হাসপাতালে চিকিৎসা দেবার মাধ্যমে এই রোগের মাত্রা কমিয়ে আনা যাতে আইসিইউ বা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের উপর চাপ কমে। এটি করা সম্ভব হলে সবকিছু বন্ধ করে দেয়া বা লকডাউনের আগে দেশগুলো বেশি রোগী সামাল দিতে পারবে।

এছাড়া হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউতে বেশি শয্যার ব্যবস্থা করে অধিক সংখ্যক রোগী সেবা দেয়া সম্ভব। পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য এটিও একটি উপায়।

ব্রিটেনের চিকিৎসা বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ক্রিস হুইটির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে বর্তমান পরিস্থিতি তেকে বের হয়ে আসার উপায় কী?

তিনি বলেন, ” টিকা দেয়াটাই হচ্ছে দীর্ঘ মেয়াদে সমাধান। আমরা আশা করছি এটা যত দ্রুত সম্ভব হবে।”

এছাড়া বিজ্ঞান এর একটা সমাধান খুঁজে বের করবে বলে তিনি আশা করেন।

বিবিসি অবলম্বনে///ক্রাইম ডায়রি

Total Page Visits: 66765

করোনার প্রবেশদ্বার নাক ও মুখঃ হাত ভালভাবে না ধুয়ে নাক মুখ ধরবেন না,চুলকাবেন না

স্পেশাল ডেস্কঃ

করোনাভাইরাস:কোথায় কতোক্ষণ বেঁচে থাকে কোভিড-১৯ এর জীবাণু এবং এটি নির্মূল করার উপায় কী?

সারা বিশ্বেই এখন দেখা যাচ্ছে যে লোকজন তাদের কনুই দিয়ে দরজা খোলার চেষ্টা করছেন, সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠা বা নামার সময় রেলিং ধরছেন না এবং বাসে ট্রেনে চলার সময় হ্যান্ডল না ধরেই তারা দাঁড়িয়ে আছেন, অফিসে পৌঁছেই লোকজন জীবাণুনাশক দিয়ে তাদের ডেস্ক ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করছেন।
যেসব এলাকায় এই ভাইরাসের মারাত্মক সংক্রমণ ঘটেছে সেখানে পরিবহন, রাস্তা ঘাট ও পার্কে স্প্রে করে সেগুলো জীবাণুমুক্ত করার চেষ্টা চলছে। একই উপায়ে পরিষ্কার করা হচ্ছে অফিস আদালত, হাসপাতাল, দোকানপাট, রেস্তোরাঁও।
ড্রপলেটে কী থাকে????
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে যে জলীয় কণা বা ড্রপলেট বাতাসে বের হয়ে আসে তার মাধ্যমে কোভিড-১৯ এর জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, মাত্র এক বারের কাশি থেকেই বের হতে পারে এরকম ৩,০০০ ড্রপলেট।
ড্রপলেটের এই কণা গিয়ে পড়তে পারে আরেকজনের গায়ে, কাপড়ে এবং আশেপাশের জিনিসের উপর। তবে কিছু ক্ষুদ্র কণা থেকে যেতে পারে বাতাসেও।
দেখা গেছে এই ভাইরাস মল-মূত্রের মধ্যে আরো বেশি সময় বেঁচে থাকতে পারে। টয়লেট থেকে ফিরে ভাল করে হাত না ধুলে তার হাতের স্পর্শের সাহায্যে আরো অনেক কিছুতেই এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন বলছে, ভাইরাসটি লেগে আছে এরকম কোন বস্তু স্পর্শ করার পর হাত দিয়ে যদি মুখ স্পর্শ করা হয় তাহলে ভাইরাসটি ছড়াতে পারে। তবে এটিই এই ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার প্রধান উপায় নয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অন্যান্য কর্তৃপক্ষও বলছে যে, বার বার হাত ধুয়ে এবং একই সাথে যেসব জিনিস ধরা হচ্ছে সেগুলো বার বার জীবাণুমুক্ত করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
করোনাভাইরাসের আয়ু????
এটা এখনও পরিষ্কার নয় যে কোভিড-১৯ এর জীবাণু মানবদেহের বাইরে কতক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে।
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে আরো যেসব করোনাভাইরাস আছে, যেমন সার্স ও মার্স, সেগুলো লোহা, কাঁচ এবং প্লাস্টিকের গায়ে ৯ (নয়) দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।
আবার কোনো কোনো ভাইরাস ঠাণ্ডা জায়গায় ২৮ দিনও বেঁচে থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হেলথের একজন ভাইরোলজিস্ট নিলৎজে ফান ডোরমালেন তার সহকর্মীদের নিয়ে গবেষণা চালিয়ে দেখেছেন কোভ-২ বা সার্স ভাইরাস কতক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে।
তাতে দেখা গেছে, কাশি দেওয়ার পর থেকে ড্রপলেটের মধ্যে এই ভাইরাসটি তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।
ক্ষুদ্র ড্রপলেটে, যার আকার ১ থেকে ৫ মাইক্রোমিটার (মানুষের চুলের ৩০ গুন চিকন) সার্স

তবে গবেষণায় দেখা গেছে কোভ-২ ভাইরাস কার্ডবোর্ডের মতো শক্ত জিনিসের ওপর ২৪ ঘণ্টা আর প্লাস্টিকের জিনিসের গায়ে দুই থেকে তিন দিনও বেঁচে থাকতে পারে।
গবেষণা বলছে, ভাইরাসটি দরজার হাতল, প্লাস্টিক ও লেমিনেটেড ওয়ার্কটপ ও কঠিন বস্তুর ওপর দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পারে। আর কপারের কোন জিনিসে পড়লে এর মৃত্যু হতে চার ঘণ্টা সময় লেগে যেতে পারে।
নির্মূলের উপায়??????
গবেষণায় দেখা গেছে করোনাভাইরাসকে এক মিনিটেই নিষ্ক্রিয় করে ফেলা যেতে পারে। ৬২-৭১% এলকোহল মিশ্রিত তরল পদার্থ দিয়ে কোনো জিনিসকে করোনামুক্ত করা যায়।
০.৫ শতাংশ হাইড্রোজেন প্রিঅক্সাইড এবং ০.১% সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট মেশানো ব্লিচ দিয়েও করোনাভাইরাস নির্মূল করা সম্ভব।
উচ্চ তাপমাত্রা ও আদ্রতার কারণেও অন্যান্য করোনাভাইরাসের দ্রুত মৃত্যু হতে পারে।
দেখা গেছে সার্সের জন্যে দায়ী করোনাভাইরাস ৫৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় বেঁচে থাকতে পারে না।
কতোক্ষণ বেঁচে থাকে কোভিড-১৯ এর জীবাণু
বিজ্ঞানীরা বলছেন, কোভিড-১৯ এর জন্যে দায়ী ভাইরাসটি কতক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে তা নির্ভর করে এটি কোন ধরনের বস্তুর গায়ে পড়েছে তার ওপর।
দরজার শক্ত হাতল, লিফটের বাটন এবং কিচেন ওয়ার্কটপের মতো শক্ত জিনিসের গায়ে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা টিকে থাকতে পারে। তবে এর আগের গবেষণায় দেখা গেছে সহায়ক পরিবেশে সব ধরনের করোনাভাইরাস এক সপ্তাহও বেঁচে থাকতে পারে।

তবে কাপড়ের মতো নরম জিনিসের গায়ে এটি এতো লম্বা সময় বেঁচে থাকতে পারে না।
ফলে আপনি যে কাপড়টি পরেছেন এবং তাতে যদি ওই ভাইরাসটি থাকে, জামাটি একদিন কিম্বা দুদিন না পরলে সেখানে ভাইরাসটি জীবিত থাকার আর সম্ভাবনা নেই।
মনে রাখতে হবে, কোভিড-১৯ এর ভাইরাসটি লেগে আছে এরকম জিনিসে শুধু স্পর্শ করলেই আপনি আক্রান্ত হবেন না।
শুধু স্পর্শ করার পর আপনি যদি হাত দিয়ে মুখ, নাক অথবা চোখ স্পর্শ করেন তাহলেই এই ভাইরাসটি আপনার শরীরে ঢুকে পড়বে।
তাই এই ভাইরাসটি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ একটি করণীয় হচ্ছে হাত দিয়ে নাক মুখ স্পর্শ না করা।।।

(মহান আল্লাহকে স্মরন করুন।।।কোথায় সকল বাহাদুর।।।। আজ আল্লাহর রাজত্ব।।।তার গোলাম হতে পারলে কোনও ভয় নেই।।তাই ফিরে আসুন।।।আল্লাহর দিকে।।।)

সুত্রঃ বিবিসি বাংলা///ক্রাইম ডায়রি

Total Page Visits: 66765

করোনা ইস্যুঃ জরুরি অবস্থা জারির জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট আবেদন তিন আইনজীবীর

আদালত প্রতিবেদকঃ

বাংলাদেশের মানুষের জাতীগত কারনে যে স্বভাব তা কঠোর অবস্থান ছাড়া কোন অবস্থাতেই করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী নিয়মকানুন মানানো সম্ভব নয়। যা ইতোমধ্যে প্রতীয়মান হচ্ছে। আহবান করে নীতি  কথা বলে এ জাতীর মানুষকে যে ন্যুনতম বোধ তৈরি করা যাবেনা তা পথে ঘাটে বের হলেই উপলব্ধি করা যায়।। অবস্থা এমন যে, কেউ এতে রাজনীতির গন্ধ খুঁজে পাচ্ছেন,কেউবা মজা দেখবেন আর কেউবা মালুমই করছেন না।।কিন্তু ২২কোটি মানুষের জীবনের দায় কিন্তু সরকারের উপরই বর্তায়।।তাই, ঘটনা ঘটার পর নয় বরং ঘটনা ঘটার আগেই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলা প্রয়োজন।।। তাই, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করতে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবী।

বৃহস্পতিবার আইনজীবী শিশির মনির, আসাদ উদ্দিন ও জুবায়েদুর রহমান এই আবেদন করেন।
এই তিনজন আইনজীবী রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে গিয়ে আবেদনগুলো দাখিল করেন। তিন আইনজীবীই আবেদনের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

গত বছরের শেষ দিন চীনের উহান শহরে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে উহানে তিন হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

পরবর্তীতে চীনের ভূখণ্ড পেরিয়ে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী। ইতোমধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সারাবিশ্বে নয় হাজারের মতো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যাও ছাড়িয়েছে দুই লাখ।

বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর গত ৮ মার্চ প্রথম বাংলাদেশে তিনজনের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর জানায় আইইডিসিআর।

ওই তিনজনের মধ্যে দুজন ইতালি থেকে এসেছিলেন। ইতালি ফেরত একজনের পরিবারের সদস্য ছিলেন আক্রান্ত তৃতীয়জন। ওই সময় আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তির পাশাপাশি আরও চারজনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল।

এরপর গত ১৪ মার্চ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক আরও দুজন আক্রান্তের খবর জানান। ওই দুজন ইউরোপের দেশ ইতালি ও জার্মানি থেকে এসেছিলেন। তাদেরই একজনের মাধ্যমে পরিবারের এক নারী ও দুই শিশুর আক্রান্ত হওয়ার খবর আইইডিসিআর জানায় ১৬ মার্চ। ইতোমধ্যে খবরের অন্তরালেও আরও যে আক্রান্ত হয়নি তাও বা ভরসা কিসের!

আর ১৭মার্চ আরও দুইজনের মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার কথা জানিয়ে বলা হয়, তাদের একজন হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন, অন্যজন বিদেশফেরত একজনের সংস্পর্শে এসে আক্রান্ত হয়েছেন।

এরপর ১৮ মার্চ দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এছাড়া আরও চারজন প্রাণঘাতী এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার জানায় আইইডিসিআর।

#একটি_জরুরী_আবেদন।।একটু পড়ুন।।বেঁচে যাবেন।

আমাদের দেশ এখন কোভিড 19 এর স্টেজ 2 এর দিকে যাচ্ছে – মানে এখনও ভাইরাস রোগীর থেকে তার close contacts এর মধ্যেই ছড়াচ্ছে l এরপরই স্টেজ 3 শুরু হবে যখন ভাইরাস কমিউনিটিতে ছড়াতে শুরু করবে এবং সেটা হবে অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে (কারণ, রোগটা মারাত্মক রকম ছোঁয়াচে)l ঠিক এমনটাই হয়েছে ইতালিতে, ইরানে l দুই হপ্তার মধ্যে কনফার্ম রোগীর সংখ্যা দেড়শো থেকে প্রায় দশ হাজার হয়ে গেছে l এই স্টেজ 2 তেই আটকে না রাখতে পারলে, আগামী এক মাসের মধ্যেই আমাদের দেশেও রোগীর সংখ্যা 10 থেকে হাজার হাজার হয়ে যাবে l তখন সত্যিই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাবে l করোনা ভাইরাস মানুষ মারে কম, কিন্তু এতো বেশী সংখ্যার রোগী সৃষ্টি করবে যে তাদেরকে চিকিৎসা দেওয়ার মতো পরিকাঠামো রাতারাতি তৈরী করা অসম্ভব l

আমাদের দেশের কোভিডের স্টেজ 2 থেকে 3 তে যাওয়া আটকাতে শুধু সরকার বা প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী যথেষ্ট নয় – এটা পারি আমরাই, মানে আমি, আপনার মতো সাধারণ মানুষ l আমরা প্রত্যেকে এক একজন সম্ভব্য রোগ ছড়ানো ক্যরিয়ার – একজন কয়েকশো জনের মধ্যে, কয়েকশো কয়েক হাজারের মধ্যে রোগটা ছড়াতে পারে l এই চেইনটা তখনই ভাঙতে পারা যাবে যখন আপনি নিজে রোগমুক্ত থাকতে পারবেন l আপনি রোগমুক্ত থাকলে আপনি বাঁচবেন, আপনার পরিবার বাঁচবে, আপনার দেশ বাঁচবে l যদি আপনি যদি কেয়ারলেস হয়ে রোগ বাঁধান, আপনি হয়তো বেঁচে যাবেন (তার সম্ভাবনা বেশী, কারণ কোভিডের মৃত্যুহার 2 -3% এর বেশী নয় ), কিন্তু মরবে আপনারই মতো অনেক মানুষ (হয়তো আপনারই কোনো বৃদ্ধ আত্মীয় বা অনাত্মীয়) – শুধু আপনার বোকামির জন্যেই l তাই আপনি নিজে সুস্থ থাকুন, তাহলেই দেশ সুস্থ থাকবে l

1) সরকারের সমস্ত উপদেশ ও নির্দেশিকা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলুন – কোনোটাই ফালতু বলে উড়িয়ে দেবেন না l

2) স্বাস্থ্যকর্মী বা নিরাপত্তারক্ষীরা যা যা করছেন, মেনে নিন – তাঁদের কাজে বাধা দেবেন না, তর্ক করবেন না তাঁদের সাথে l তাঁরা যা কিছু করছেন, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুসারে বিজ্ঞানসম্মত উপায়েই করছেন এবং আপনার ভালোর জন্যেই করছেন (কেন করছেন সেটা আপনি বুঝুন বা না বুঝুন)l

3) মনে রাখবেন প্রচুর টাকা বা ক্ষমতা থাকলেই কিন্তু আপনি সেফ নন l ট্রেন বা ফ্লাইটের ফার্স্ট ক্লাসে গেলেই আপনার কোভিডের কোনো ভয় নেই – এরকম ভাবাটা ভুল l মনে রাখবেন, ইউ কে এর স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীও কোভিড আক্রান্ত l কাজেই খুব দরকার না থাকলে, বাইরে যাওয়া বর্জন করুন l ছুটি পরেও কাটাতে পারবেন l

4) একান্ত দরকার না থাকলে সামাজিক অনুষ্ঠানে যাবেন না, নিজের কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান থাকলেও মাসখানেক পিছিয়ে দিন l সামাজিক মেলামেশা কিন্তু কমিউনিটিতে রোগ ছড়ানোর বড় কারণ l একই কারণে, সিনেমা হল, মেলা, উৎসব, শপিং মল যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করুন l যদি যেতেই হয়, সরকারি নির্দেশিকা অনুসারে প্রটেকশন নিন (বার বার ক্ষার যুক্ত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া,60%এলকোহল যুক্ত সানিটাইজার ব্যবহার ইত্যাদি )

3) কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট হলে সাথে সাথে ডাক্তার দেখান, নিজে নিজে চিকিৎসা বা ডায়াগনসিস করার চেষ্টা করবেন না l আদা, রসুন, এলকোহল, – কোনোটাই কোভিডের বিরুদ্ধে কার্যকরী প্রমাণিত হয় নি, আপনার হোয়াটস্যাপ যাই বলুক l আপনার কোভিড হয়েছে কিনা একমাত্র ডাক্তাররা সেটা বুঝতে পারবেন – কখন কি টেস্ট করতে হবে, কি ওষুধ খেতে হবে, ডাক্তার যা বলবেন মেনে চলুন l উনি একটা বিজ্ঞানসম্মত গাইডলাইন মেনে চিকিৎসা করছেন, মনে রাখবেন l কখন আপনাকে আইসোলেশনে যেতে হবে, কখন হোম quarantine এ থাকতে হবে – উনি যা বলবেন মেনে নিন l

সরকার বা স্বাস্থ্যকর্মীরা আপনার পাশেই আছে – কিন্তু আপনার সহযোগিতা ছাড়া এ বিপদ ঠেকানো অসম্ভব l আপনি, আমি আর আমাদের মতো সাধারণ মানুষই কিন্তু পারে কোভিড19কে রুখে দিতে।।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

 

Total Page Visits: 66765

সাংবাদিক আরিফুলকে আইনি সহায়তা দিবে “বিএমএসএফ”

ইমাম বিমান, ঝালকাঠি হতেঃ

সাংবাদিক নির্যাতন নতুন কিছু নয়। সত্যে কথা বললে কেউ কেউ রুষ্টভাবাপন্ন হয়ে সাংবাদিকদের একহাত দেখে নেয়ার চেষ্টা করেন।। প্রকৃত সাংবাদিকদের যখন সেই তালিকায় ফেলা হয় তখন সাংবাদিক সমাজ একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ করবেন এটাই স্বাভাবিক। সম্প্রতি, কুড়িগ্রাম ডিসির রোশানলের শিকার সাংবাদিক আরিফুলকে আইনী সহায়তা দেবে ” বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ” বিএমএসএফ। ১৭ মার্চ মঙ্গলবার বিকেলে দেশের বৃহত্তম সাংবাদিক বান্ধব সংগঠন ” বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ” বিএমএসএফ কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আবু জাফর এক তথ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কুড়িগ্রামে ডিসি কান্ডে শারীরিক নির্যাতন ও কারাদন্ডের শিকার সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে আইনী সহায়তা দেবে বিএমএসএফ। ডিসি কান্ডের ভ্রাম্যমান আদালতের দেয়া অবৈধ কারাদন্ড, তাকে শারীরিক নির্যাতন, লাঞ্ছিত এবং ভয়ভীতি দেখানোর দৃষ্টান্তমূলক সঠিক বিচার পেতে বিএমএসএফ আরিফুলের পাশে থাকবে।
অপরদিকে দন্ডপ্রাপ্ত ও নির্যাতনের শিকার আরিফুলের সুচিকিৎসা, পারিবারিক নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়টি নিয়েও বিএমএসএফ’র আইন উপদেষ্টা পরিষদ আদালতের নজরে আনবে। আরিফুলকে দেয়া ভ্রাম্যমান আদালতের কারাদন্ডের বিরুদ্ধে বিএমএসএফ আইনী লড়াই করে যাবে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ মার্চ গভীর রাত আনুমানিক দেড়টার সময় কুড়িগ্রামের তৎকালীন দূর্ণীতিবাজ ডিসি সুলতানা পারভীনের নির্দেশে আরডিসি নিজাম উদ্দিনের নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশতাধিকের একটি পেটোয়া বাহিনী সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের বাসায় হানা দেয়। দরজায় গিয়ে পুলিশের লোক বলে খুলতে বললে না খোলায় লাথি মেরে ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে তাকে উপুর্যূপরি কিলঘুষি ও লাথি মেরে চোখ বেঁধে টেনেহিচড়ে মাইক্রোতে তুলে নেয়। এক পর্যায়ে ক্রসফায়ারের জন্যও উদ্যত হন তারা। এ সময় আরিফুলের আত্মচিৎকার এবং পা ধরে অণুনয় বিনয়ের পরে ডিসি অফিসে নিয়ে যান। সেখানে একটি রুমে নিয়ে তাকে উলঙ্গ করে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত ও ফুলা জখম করে ৪টি কাগজে স্বাক্ষর নেয়। ঐ দিন রাত ৩ টায় ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে তাকে এক বছরের কারাদন্ড প্রদান করেন। ঐ আদালতের রায়ে বলা হয়েছে আরিফুলের বাসায় আধা বোতল মদ ও এক’শ গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছে। এই অভিযোগে তাকে এক বছরের কারাদন্ডাদেশ প্রদান করা হয়।

এদিকে ডিসিকান্ডের ঘটনায় বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামসহ সারাদেশের সাংবাদিক সমাজ প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। এ ঘটনায় বিএমএসএফ’র ডাকে গত ১৬ মার্চ দেশব্যাপী প্রায় দুই শতাধিক জেলা উপজেলায় প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ডিসিকান্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বিএমএসএফ’র আন্দোলন অব্যাহত রাখা হয়েছে।

জানাগেছে, ডিসি সুলতানা পারভীন কুড়িগ্রামে থাকাকালে নানা দূর্ণীতি-অনিয়ম চালিয়ে আসছিল। এমনকি তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৪০ বছরের একটি ঐতিহ্যবাহি পুকুরের নাম পরিবর্তন করে নিজ নামে সুলতানা সরোবর নামকরন করেন। এ সকল দূর্ণীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে আরিফুল বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ডিসি সুলতানা। ওই সংবাদ প্রকাশের জের ধরেই ওই দিন গভীর রাতে আরডিসি নিজামের নেতৃত্বে ৪০ জনের একটি টিম পাঠিয়ে ধরে এনে কারাদন্ড প্রদান করে ক্ষমতার দাপট দেখাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিধিবাম! তা আর হলোনা!

বিষয়টি উচ্চ আদালতের নজরে আসায় আরিফুলের বক্তব্য শুনতে আগামি সোমবার হাইকোর্টে ডাকা হয়েছে। ইতিমধ্যে বেনামে জামিন আবেদন করে আরিফুলকে জামিনে বের করে দেয়া হয়েছে। জেল থেকে বেরিয়ে আরিফুল কুড়িগ্রাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসারত অবস্থায় ডিসি সুলতানা আরিফুলকে ফোন করে বিষয়টি নিয়ে মিডিয়ার সামনে না আসারও অনুরোধ করে। গত দু’দিন ধরে ডিসি ও আরিফুলের কথোপকথন ভাইরাল হয়ে গেছে।

ক্রাইম ডায়রি///জাতীয়

Total Page Visits: 66765