• বৃহস্পতিবার (রাত ১২:০৭)
    • ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

র‌্যাব-১ এর অভিযানে বিমানবন্দর হতে আন্তর্জাতিক মুদ্রাপাচারকারী চক্রের চার সদস্য গ্রেফতার

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃ

র‌্যাব-১ এর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে   রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হতে গোপনে দেশত্যাগের প্রাক্কালে ০৪ জন অবৈধ অর্থ পাচারকারী ও জাল টাকা সরবরাহকারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।  এ সময় তাদের হেফাজতে থাকা বিপুল পরিমান দেশী-বিদেশী মুদ্রাসহ জাল টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে  র‌্যাব-১।

র‌্যাব সুত্রে জানা গেছে,    গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের “ভিশন-২০২১” লক্ষমাত্রা অর্জন ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে সহায়ক শক্তি হিসেবে র‌্যাব বরাবরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছে। এক শ্রেণীর অসাধু চক্র বাংলাদেশ সরকারের অনুমোতি ব্যাতিরেকে বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ গোপনে বিদেশে পাচার করছে। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির উপর বিরুপ প্রভাব পড়ছে। র‌্যাব সবসময় এধরণের অপরাধীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। সূচনালগ্ন হতে এ পর্যন্ত অসাধু ব্যক্তি, প্রতারক চক্র, মানব পাচারকারী, অবৈধ অর্থ পাচারকারী, বিভিন্ন বেআইনি সংঘবদ্ধ চক্রসহ অন্যান্য অপরাধীদের আইনের আওতায় আনয়নের লক্ষ্যে তার দীপ্ত পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে। ফলশ্রুতিতে জনজীবনে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং র‌্যাব জনগনের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। অবৈধ অর্থ পাচার রোধে র‌্যাবের চলমান অভিযানের ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১ এর গোয়েন্দা অনুসন্ধানে ঢাকা ও আশেপাশের এলাকায় বেশ কয়েকটি গ্রুপের তথ্য পাওয়া যায়। এসকল গ্রুপ দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ গোপনে দেশের বাইরে পাচার করে আসছে বলে জানা যায়। অধিকতর গোয়েন্দা নজরদারী ও ছায়া তদন্তের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে র‌্যাব-১ রাজধানী ও পার্শ্ববতী জেলা নরসিংদীতে সক্রিয় একটি গ্রুপের কতিপয় ব্যক্তির নাম উঠে আসে। জানা যায় যে, তারা নরসিংদী ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ নারী সংক্রান্ত অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে জানা যায় যে, এই গ্রুপের কতিপয় ব্যক্তি বিপুল পরিমান অবৈধ অর্থসহ দেশ ত্যাগের উদ্দেশ্যে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থান করছে।

এরই ধারাবাহিকতায়  ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ইং তারিখ আনুমানিক ১১৩০ ঘটিকায় র‌্যাব-১ এর একটি আভিযানিক দল রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশ ত্যাগের প্রাক্কালে ১) শামিমা নূর পাপিয়া @ পিউ (২৮), স্বামী- মফিজুর রহমান @ সুমন চৌধুরী @ মতি সুমন, পিতা- সাইফুল বারি, মাতা- সেলিনা বাড়ি, সাং- পশ্চিম ব্রাহ্মন্দী, থানা-নরসিংদী সদর, জেলা-নরসিংদী, ২) মফিজুর রহমান @ সুমন চৌধুরী @ মতি সুমন (৩৮), পিতা- মতিউর রহমান চৌধুরী, মাতা- হেলেনা চৌধুরী, সাং- পশ্চিম ব্রাহ্মন্দী, থানা-নরসিংদী সদর, জেলা-নরসিংদী, ৩) সাবিক্ষর খন্দকার (২৯), পিতা- ইউসুফ খন্দকার, সাং- পশ্চিম ব্রাহ্মন্দী, থানা-নরসিংদী সদর, জেলা-নরসিংদী এবং ৪) শেখ তায়্যিবা (২২), পিতা- শেখ আশফাকুর রহমান, মাতা- সাবিনা ইয়াসমিন, সাং- বাদুন, থানা- পূবাইল, জিএমপি, গাজীপুর’দেরকে আটক করা হয়। এসময় ধৃত আসামীদের নিকট হতে পাসপোর্ট ০৭টি, বাংলাদেশী নগদ ২,১২,২৭০/- টাকা, বাংলাদেশী জাল নোট ২৫,৬০০/-, ভারতীয় রুপি ৩১০, শ্রীলংকান মুদ্রা ৪২০, ইউএস ডলার ১১,০৯১ এবং ০৭ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, অবৈধভাবে অর্থ পাচার ও জাল টাকা প্রস্তুতকারী এই গ্রুপের প্রধান ধৃত আসামী শামিমা নূর পাপিয়া @ পিউ এবং স্বামী মফিজুর রহমান @ সুমন চৌধুরী @ মতি সুমন তার সহযোগী। এছাড়াও ধৃত অপর আসামী সাবিক্ষর খন্দকার ও শেখ তায়্যিবা তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস)। তারা দীর্ঘ দিন যাবৎ নরসিংদী ও রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও নারী সংক্রান্ত অনৈতিক ব্যবসার সাথে জড়িত। এছাড়াও নরসিংদী জেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে চাঁদাবাজির করে আসছে।

ধৃত আসামী শামিমা নূর পাপিয়া @ পিউ’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, সে পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তেজগাঁও এফডিসি গেট সংলগ্ন এলাকায় অংশীদারিত্বে তার একটি ‘কার একচেঞ্জ’ নামক গাড়ির শো রুম আছে এবং নরসিংদী জেলায় তার ‘কেএমসি কার ওয়াস এন্ড অটো সলিউশন’ নামক একটি গাড়ি সার্ভিসিং সেন্টার আছে। এসব ব্যবসার আড়ালে তিনি অবৈধ অস্ত্র, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত বলে জানায়। তিনি সমাজ সেবার নামে নরসিংদী এলাকায় অসহায় নারীদের আর্থিক দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে সহযোগীতার নামে তাদের অনৈতিক কাজে লিপ্ত করে বলে জানায়। বছরের অধিকাংশ সময় সে নরসিংদী ও রাজধানীর বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেলে অবস্থান করেন এবং সেখান থেকে তার ও তার স্বামীর ব্যবসায়ীক অংশীদারদের অনৈতিক কাজে নারী সবরবরাহ করেন। নরসিংদী এলাকায় চাঁদাবাজির জন্য তার একটি ক্যাডার বাহিনী আছে। এছাড়াও তার স্বামীর প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনি নংসিংদী ও ঢাকায় একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লটসহ বিপুল পরিমান নগদ অর্থের মালিক হয়েছেন বলে জানা যায়।

ধৃত আসামী মফিজুর রহমান @ সুমন চৌধুরী @ মতি সুমন’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, সে পেশায় একজন ব্যবসায়ী। দেশে তার স্ত্রীর ব্যবসায় সহযোগীতার পাশাপাশ থাইল্যান্ডে তার বারের ব্যবসা আছে বলে জানা যায়। এছাড়াও সে দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধ অস্ত্র, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন আছে বলে জানা যায়। সে তার স্ত্রীর মাধ্যম প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় নারীদের অনৈতিক কাজে ব্যবহার করেন। অবৈধ অস্ত্র, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধকর্মের জন্য নরসিংদী এলাকায় তার কু-খ্যাতি রয়েছে বলে জানা যায়। নরসিংদীতে ‘কেএমসি কার ওয়াস এন্ড অটো সলিউশন’ নামক প্রতিষ্ঠানটি গাড়ি সার্ভিসিং এর আড়ালে তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মাদক ব্যবসার কাজে ব্যবহার করা হয়। নরসিংদী এলাকায় তার একটি ক্যাডার বাহিনী আছে, যাদের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড করে থাকেন। জেলা শহরের বাহিরে গেলে তার ক্যাডার বহিনী তাকে বিশাল গাড়ি বহরের মাধ্যমে মহড়া দিয়ে থাকে বলে জানা যায়। সে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিপুল পরিমান নগদ অর্থের পাশাপশি নংসিংদী ও ঢাকায় তার একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট ও প্লট আছে বলে জানা যায়।

ধৃত আসামী সাবিক্ষর খন্দকার’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, সে ধৃত আসামী শামিমা নূর পাপিয়া @ পিউ এর ব্যক্তিগত সহকারী এবং তার দূর সম্পর্কের ভাই। সে সর্বদা ধৃত আসামী শামিমা নূর পাপিয়া এর সাথে অবস্থান করে। সে শামিমা নূর পাপিয়া @ পিউ এর ব্যক্তিগত সম্পত্তির হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখাশুনা করে। পাশাপাশি তার সকল অবৈধ ব্যবসায় প্রত্যক্ষ সহযোগীতা এবং অর্থ পাচার ও রাজস্ব ফাঁকি দিতে সহযোগীতা করে থাকে বলে জানায়।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, আসামী মফিজুর রহমান  সুমন চৌধুরী অরফে মতি সুমন এর ব্যক্তিগত সহকারী। সে মফিজুর রহমান  সুমন চৌধুরী অরফে মতি সুমন এর ব্যক্তিগত সম্পত্তির হিসাব রক্ষনাবেক্ষণ ও দেখাশুনা করে। পাশাপাশি তার সকল অবৈধ ব্যবসায় এবং অর্থ পাচার ও রাজস্ব ফাঁকি দিতে তাকে সহযোগীতা করে থাকে বলে জানায়। এ ধরনের অপরাধ ও অপরাধীর বিরুদ্ধে    র‌্যাব-১ এর অভিযান অব্যহত থাকবে বলে জানিয়েছে র‌্যাব-১ ।

ক্রাইম ডায়রি///  অপরাধ জগত///আইন শৃঙ্খলা//ক্রাইম

Total Page Visits: 66417