• বৃহস্পতিবার (রাত ১২:৩০)
    • ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

র‌্যাব-১১ কর্তৃক এস এসসি’র প্রশ্নফাঁসকারী চক্রের বড় গ্যাং আটক

শাহাদাত হোসেন রিটনঃ


চলমান এসএসসি পরীক্ষার ভূয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস ও রেজাল্ট পরির্তন করে দেয়া চক্রের ০৫ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১। জানাা গেছে,

সারাদেশে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে
বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসকারী চক্রের বিরুদ্ধে র‌্যাব বরাবরই সোচ্চার ছিল।  ২০২০ সালের চলমান এসএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের নামে প্রতারক চক্রকে আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব ফোর্সেস নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব ১১ এর অভিযানে  ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখ,  বৃহস্পতিবার  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে ভূয়া প্রশ্নপত্র প্রদান ও রেজাল্ট পরিবর্তনের নামে প্রতারণা করে অর্থ সংগ্রহের সাথে জড়িত থাকায় নরসিংদী জেলার বেলাবো থানাধীন বিভিন্ন এলাকা হতে ০৫ জন ভূয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস ও রেজাল্ট পরিবর্তনকারীকে হাতে নাতে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতরা সকলেই অপ্রাপ্ত বয়স্ক (১৭)। এই সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ০৫টি  স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়।  প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা সকলেই নরসিংদীর বেলাবো থানা এলাকার বিভিন্ন কলেজের একাদশ শ্রেনীর ছাত্র। তারা চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতারণা করে টাকা আদায়ের জন্য ‘‘রেজাল্ট পরিবর্তন, ঠ.চ কযধহ, চৎরহপব কযধহ, অশঃবৎ কযধহ, চৎরহপব ঘরষড়ু, গধুধনর চড়ষড়শ, জড়যধহ

ঈযড়ফিযধৎু” নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে। তারা এই সমস্ত আইডিগুলোতে চলমান এসএসসি পরীক্ষার সকল বোর্ডের বিভিন্ন বিভাগের প্রশ্ন প্রদানের বিজ্ঞাপন দিয়ে পোষ্ট দেয়। এতে করে অনেক এসএসসি পরীক্ষার্থী প্রলুব্ধ হয়ে তাদের সাথে ‘‘গবংংবহমবৎ” এ যোগাযোগ করে প্রশ্ন পাওয়ার আশায় বিকাশে টাকা প্রদান করে। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইলে এ সংক্রান্তে প্রতারণার গুরুত্বপূর্ণ আলামত পাওয়া গেছে।

অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদে আরোও জানা যায়, ইতোপূর্বে তারা সকলেই তাদের নিজেদের ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করার আশায় ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র প্রাপ্তির চেষ্টায় লিপ্ত
হয়েছিল। তখন তারা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, বিশেষতঃ বিভিন্ন ফেসবুক আইডি এবং পেইজ এর প্রতি তারা লক্ষ্য রাখতে থাকে। কিন্তু তারা প্রত্যেকেই সেই সময়ে কোনরুপ প্রশ্ন ফাঁস না হওয়ায় প্রশ্ন সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয় এবং সকল ক্ষেত্রেই বিকাশের মাধ্যমে টাকা দিয়ে প্রতারণার শিকার হয়।  সেই সময় থেকেই তাদের মাথায় ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের কথা বলে বিভিন্ন এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার মতো অপকর্মের চিন্তা জন্ম নেয়। উল্লেখ্য যে, চলমান এসএসসি পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্ন ফাঁসের দায়ে র‌্যাব ফোর্সেস এই পর্যন্ত ৩৫ (পয়ত্রিশ) জনকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে, যার মধ্যে র‌্যাব-১১, নারায়ণগঞ্জ কর্তৃক গ্রেফতারকৃত প্রতারকের সংখ্যা ০৭ (সাত) বলেRAB -11 সুত্রে জানা গেছে।

ক্রাইম ডায়রি//  আইন শৃঙ্খলা///শিক্ষা

Total Page Visits: 66417

বৃক্ষ লাগান;প্রকৃতিকে বাঁচানঃ অজানা রোগ প্রতিরোধে এটা সময়ের দাবী

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃঃ

ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে প্রাকৃতিক জীব বৈচিত্র্য ও প্রকৃতি।প্রকৃতি যতো তার ভারসাম্য হারাচ্ছে, মানুষ ও পরিবেশও ঠিক ততোটাই বিপদগ্রস্ত হচ্ছে।।অজানা অচেনা রোগে শোকে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বৈশ্বিক উঞ্চতা বৃদ্ধিতে বসবাস অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে বিশ্বের অনেক এলাকা।।।🇧🇩 বাংলাদেশও এই উঞ্চতার শিকার।।।ঘনঘন প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও মানব শরীরের রোগ ধরা না পড়া ও অজানা অচেনা রোগের আক্রমণ এর পূর্ব লক্ষণ।।। এ অবস্থা উত্তোরনে বৃক্ষরোপন ও বনভূমি রক্ষা সবচেয়ে প্রধান ভূমিকা রাখতে পারে।।।

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ, শিল্পায়ন, কৃষি সমপ্রসারণ ও নগরায়নের ফলে বিশ্বব্যাপী বন ও বনভূমি হ্রাস পাচ্ছে। পৃথিবীতে জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য বন অপরিহার্য। বনই প্রকৃতির শক্তির আধার। জীবন ও জীবিকার জন্য বন থেকে খাদ্য, আশ্রয়, ওষুধ, ছায়া, বিনোদন পাই।।।অর্থ পায় মানুষ।।।সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো বেঁচে থাকার প্রধান ও একমাত্র উপাদান অক্সিজেন সাপ্লাই দেয় এই বৃক্ষ।  তাই দ্রুত পরিবর্তনশীল জলবায়ুর প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে বনের ভূমিকা অপরিসীম।

বিশ্বের মোট ভূমির পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার মিলিয়ন হেক্টর। মোট ভূমির ৭৮ ভাগ চাষাবাদের অনুপযোগী, ২২ ভাগ ভূমি চাষাবাদ যোগ্য। ২০০ বছর আগেও বিশ্বের ৪৭ ভাগ এলাকা বনভূমিতে পরিবেষ্টিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে ২৯ ভাগ এলাকায় বনভূমি রয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য একটি দেশের মোট আয়তনের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। অথচ বাংলাদেশে মোট বনভূমির পরিমাণ  ৭১ সালে ছিল ১৬ ভাগ।

দেশের মোট আয়তন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৯৩ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে বনাঞ্চল ২৩ হাজার ৯৯৮ বর্গকিলোমিটার। যদিও এটা কাগজে কলমে।। প্রকৃত বনভূমি না মেপেই দেশের সর্বনিম্ন শিক্ষিত ব্যক্তিও অনুমান করতে পারে।।। ২০০৫ সাল পর্যন্ত তবুও এর ছিটেফোঁটা অবশিষ্ট ছিল। কিন্তু অতিলোভী মানুষের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে এখন বৃক্ষ তরুলতা শুন্য দেশের বহু এলাকা।।। জনসংখ্যা চাহিদার তুলনায় বনভূমির পরিমাণ খুবই কম।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়ানো-ছিটানো যে অল্প বনভূমি রয়েছে তাও মানুষ নির্বিচারে কেটে সাবাড় করছে। কাঠ ও জ্বালানি কাঠের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে গিয়ে বনভূমি দ্রুত সংকুচিত হয়ে আসছে। শুধু বাংলাদেশই নয়, সারা পৃথিবী থেকে দ্রুত বনভূমি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। প্রতি মিনিটে পৃথিবী থেকে ১৯০ একর বন উজাড় হচ্ছে।

পৃথিবীর প্রায় ১০০টির বেশি দেশ মরুময়তার শিকার। প্রতিবছর এ মরুভূমি ৩-৪ কিলোমিটার করে বাড়ছে। মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফলে পৃথিবীর ১০ ভাগ বন ও তৃণভূমি মরুময়তার শিকার হচ্ছে, আর ২৫ ভাগ হুমকির সম্মুখীন। প্রতি মিনিটে মরুভূমি গ্রাস করছে ৪৪ হেক্টর উর্বর জমি এবং ২০ হেক্টর বনভূমি বিরান হচ্ছে। বাংলাদেশের উত্তর অঞ্চলে ব্যাপক হারে বন উজাড়ের ফলে মরুময়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পরিবেশ ও বন বিশেষজ্ঞদের ধারণা আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীর তাপমাত্রা ১.৫ থেকে ৪.৫ সেলসিয়াস বেড়ে যাবে। মেরু অঞ্চলের জমাট বাঁধা বরফপুঞ্জ গলতে শুরু করবে এবং সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী সমুদ্র উপকূলীয় নিচু অঞ্চলগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাবে। সমুদ্রের পানির উচ্চতা যদি ১ থেকে দেড় মিটার বৃদ্ধি যায় তবে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলসহ এক তৃতীয়াংশ এলাকা বঙ্গোপসাগরের পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় মরু অঞ্চল বৃদ্ধি পাবে। উর্বর জমির পরিমাণ কমে যাবে এবং দেখা দেবে খাদ্যাভাব। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের পরিমাণ বেড়ে যাবে।

বিশেষ করে মানুষ ও উদ্ভিদের পরস্পরের দেহাপোযোগী সামগ্রীর জন্য একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। মানুষ কার্বন-ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করে (শ্বাস-প্রশ্বাসের সময়) এবং অক্সিজেন গ্রহণ করে। অন্যদিকে উদ্ভিদ অক্সিজেন ত্যাগ করে এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে। পৃথিবীতে বৃক্ষের পরিমাণ হ্রাস পেতে থাকলে এক সময় মানুষের নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হবে। এমনকি এটা মানবজীবনের জন্য অত্যন্ত মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। উদ্ভিদ ও পরিবেশ বিজ্ঞানীরা এ আশঙ্কায়ই উদ্ভিদ নিধোনকে অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে তুলে ধরেন এবং বৃক্ষরোপণের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। পবিত্র কুরআনের উপরোক্ত উক্তিতে আমরা এ ভারসাম্যের দিকনির্দেশনাই লাভ করি। আল্লাহ আরও বলেছেন, ‘সূর্য ও চন্দ্র আবর্তন করে নির্ধারিত কক্ষপথে, তৃণ-লতা ও বৃক্ষরাজি মেনে চলে তারই বিধান। তিনি আকাশকে করেছেন সমুন্নত এবং স্থাপন করেছেন ভারসাম্য।’ (সূরা আর রহমান : আয়াত ৫-৭)। বৃক্ষরাজি ও উদ্ভিদ আল্লাহর সৃষ্টির বৈচিত্র্য প্রকাশক। আল্লাহ সুনিপুণ স্রষ্টা, তিনি সৃষ্টি করেছেন বৈচিত্র্যময় উদ্ভিদ। আল্লাহ বলেছেন, ‘আমিই প্রচুর বারি বর্ষণ করি, অতঃপর আমি ভূমিকে প্রকৃষ্টরূপে বিদারিত করি এবং উহাতে উৎপন্ন করি শস্য, দ্রাক্ষা, শাকসবজি, জয়তুন, খেজুর এবং বহু বৃক্ষবিশিষ্ট উদ্যান।’ (সূরা আবাসা : আয়াত ২৫-৩০)। আল্লাহর কী নৈপুণ্য! একই মাটি একই পানিতেই আমরা ভিন্ন ভিন্ন উদ্ভিদ জন্মাতে দেখি, যাতে ভিন্ন ভিন্ন ফুল ও ফল ধরে। এসবই মানুষের কল্যাণের জন্যই।
আল্লাহ কোনো সৃষ্টিকেই অমর্যাদা করা উচিত নয়। তবে প্রয়োজন হলো তাকে যথার্থভাবে কাজে লাগানো। বৃক্ষরাজির পরিকল্পিত উৎপাদন ও ব্যবহারের ওপরই মানুষের বহু কল্যাণ বা উপকার নিহিত রয়েছে। তাই ইসলাম বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করে। নবী করিম (সা.) বৃক্ষরোপণের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন। হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘যদি জানো আগামীকাল কেয়ামত, তথাপিও আজ যদি হাতে কোনো বীজ বা চারাগাছ থাকে, তা বপন করো অথবা লাগাও।’ পরিবেশের স্বাভাবিক প্রয়োজন এবং সভ্যতার বিকাশের জন্য বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত জরুরি।
বস্তুত জগতের সব সৃষ্টিই আল্লাহর নিয়ম মেনে চলে এবং তার মহিমাকীর্তন করে। এসবের মধ্য থেকে আল্লাহ মানুষকে এক ধরনের শিক্ষাও দিতে চেয়েছেন। আল্লাহ এসবের উদাহরণ দিয়ে পবিত্র কুরআনে বলেছেন, মানুষ কি তার আদেশ মানবে না? আল্লাহর সৃষ্টি বৃক্ষরাজি আল্লাহর নিয়ম মেনে চলে এবং আল্লাহর তসবিহ পাঠ করে। বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে ওই তসবিহ পাঠের অংশীদার হয়া যায়। উপরোক্ত হাদিসে রাসূলে করিম (সা.) সেই ইঙ্গিতই প্রদান করেছেন।
মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য বৃক্ষ অতীব গুরুত্বপূর্ণ। বৈষয়িক প্রয়োজনেও তাই বৃক্ষরোপণ করা একান্ত দরকার। যে কোনো ফল ও ফসল উৎপন্ন হলেই তা মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। এমনকি ওই ফল বা ফসল যদি উৎপাদনকারী বা প্রকৃত মালিক নাও পায়, কেউ যদি চুরি করে নিয়ে যায় তাতেও সমাজের কারও না কারও প্রয়োজন পূর্ণ হয়। অর্থাৎ ওই ফল বা ফসল, সর্বাবস্থায়ই অর্থনৈতিকভাবে মূল্যমান। ইসলাম এ বিষয়ে মানুষকে সান্ত¡না প্রদান করেছে। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যদি কোনো মুসলিম কোনো ফলের গাছ লাগায় বা বাগিচা করে অথবা ক্ষেতে কোনো শস্যের বীজ বপন করে, তা থেকে উৎপন্ন কোনো ফল মানুষ বা পশুপাখি যদি খায়, তবে ওই বৃক্ষের মালিক, বাগিচাওয়ালা বা ক্ষেতওয়ালা সদকার সওয়াব পাবে।’
ইসলামে ফল বৃক্ষরোপণ ও ফসল ফলানোকে সওয়াবের কাজ হিসেবে ‘সদকায়ে জারিয়া’ বা অবিরত দানরূপে আখ্যায়িত করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি একটি বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা করেন তাহলে ওই গাছটি যতদিন বেঁচে থাকবে এবং মানুষ ও অন্য জীবজন্তু যতদিন তার ফল বা উপকার ভোগ করতে থাকবে, ততদিন ওই ব্যক্তির আমলনামায় পুণ্যের সওয়াব লেখা হতে থাকবে। সদকায়ে জারিয়ার জন্য ফলবান বৃক্ষই বেশি উপকারী।
এ প্রসঙ্গে হজরত আবু দারদার (রা.) একটি ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। একদা হজরত আবু দারদা (রা.) দামেস্কে একটি বৃক্ষরোপণ করেছিলেন। এমন সময় একটি লোক তার কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। সে হযরত আবু দারদাকে (রা.) অত্যন্ত মনোনিবেশ সহকারে বৃক্ষরোপণ করতে দেখে একটু অবাক হয়ে প্রশ্ন করল, আপনি রাসূলুল্লাহর (সা.) একজন প্রিয় সাহাবি হওয়া সত্ত্বেও এ কাজটি করছেন? হজরত আবু দারদা (রা.) উত্তরে বললেন, আপনি এমনটি বলবেন না। আমি রাসূলকে (সা.) বলতে শুনেছি, ‘কোনো ব্যক্তি যদি একটি বৃক্ষ চারা লাগায়, অতঃপর তা থেকে কোনো ফল মানুষ ও পাখি খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে তখন তার জন্য একটি সদকা হিসেবে লেখা হয়।’ এমনকি মুসলিম সেনাবাহিনী যুদ্ধে রওনা হওয়ার সময় রাসূল (সা.)সহ পরবর্তী সব খলিফা কঠোরভাবে সৈন্যদের নির্দেশ দিতেন তারা যেন বিজিতদের কোনো গাছপালা বা শস্যক্ষেত্র ধ্বংস না করে।
বনের গাছপালা থেকে আমরা শুধু কাঠ, রাবার, ওষুধ ও ফলমূলই পাই না এগুলো থেকে বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধী দ্রব্য ও তেলও পাওয়া যায়। গাছের পরিশুদ্ধ তেল দ্বারা প্রজ্বলিত প্রদীপের সঙ্গে আল্লাহপাক তার নূরের ইঙ্গিত দিয়েছেন। মানুষ চেষ্টা-গবেষণা করলে গাছ থেকেও যে উৎকৃষ্ট ধরনের তেল আহরণ করতে পারে, এটা নিঃসন্দেহে সে তথ্যেরই উপমা বহন করে।

আল্লাহ বলেন ‘এবং আমি সৃষ্টি করি এক বৃক্ষ যা জন্মায় সিনাই পর্বতে, এতে উৎপন্ন হয় আহারকারীদের জন্য তেল ও ব্যঞ্জন।’ (সূরা মমিনুন : ২০)। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে গাছের নামে শপথ করেছেন এবং তদানুসারে সূরাটির নামকরণও করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ বলেন, ত্বিন (এক জাতীয় বৃক্ষ) ও জয়তুনের (জলপাই জাতীয় এক ধরনের ফল) শপথ! (সূরা আত ত্বিন : ১)। অতএব গাছপালা, বৃক্ষলতা আল্লাহ সুমহান কুদরতের অপরূপ নিদর্শন। এর মধ্যেই তিনি মানুষ ও অন্য জীবজন্তুর খাবার প্রস্তুত করে রেখেছেন এবং মানুষকে পরিশ্রম করে সেগুলো সংগ্রহ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ইসলাম বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়েও গুরুত্ব দিতে ভুল করেনি। দুনিয়ায় একটি গাছ লাগিয়ে তার যথার্থ পরিচর্যার বিপরীতে পরকালে বেহেশতের মধ্যে অনুরূপ একটি গাছের নিশ্চয়তা পাওয়া মোমিনের জন্য অনেক সৌভাগ্যের, সন্দেহ নেই। পক্ষান্তরে অনর্থক গাছ কাটা ও বন উজাড় করাকে ইসলামে গর্হিত কাজ হিসেবে দেখা হয়।

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ব্যাপক ক্ষতি থেকে বন আমাদের রক্ষা করে। বঙ্গোপসাগরের তীরে গড়ে ওঠা ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে বারবার উপকূলবাসীকে মায়ের মতো আগলে রেখেছে। মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যাবতীয় প্রয়োজন মিটিয়ে আসছে বৃক্ষ। সভ্যতার সূচনা লগ্ন থেকে বিশ্বের মানুষ ও প্রাণীর অস্তিত্ব রক্ষায় বৃক্ষের ভূমিকা অপরিসীম। পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্রয়োজন বন সুরক্ষা এবং বনায়ন কার্যক্রম গতিশীল করা। আমাদের জীবন বাঁচানোর তাগিদে বন সুরক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। তাহলে এ পৃথিবীতে আমরা পাব দূষণমুক্ত জীববৈচিত্র্য ভরপুর নির্মল পরিবেশ।

ইদানিংকালে দেশের কিছু ক্ষুদ্র সংগঠন মানুষ এ বিষয়গুলো যেভাবে ভাবছে একইভাবে যদি সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলো ভাবত এবং মিলেমিশে কাজ করে সচেতনতা বৃদ্ধি করতো তবে,  কতই না ভাল হতো। অনলাইন ভিত্তিক আন্দোলন

http://Facebook/pages/Grame Cholএবং ফেসবুক গ্রুপ http://facebook/group/Grame Chol Aandolon  গ্রামে চল আন্দোলন    শিরোনামে একদল সাংবাদিক ইতোমধ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও বৃক্ষরোপন ও রক্ষায় জোরালো ভূমিকা পালন করছেন।।।সংগঠনের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা মিলে প্রায়শঃই গ্রাম ভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধি শীর্ষক আলোচনাসভা ও কর্মশালার আয়োজন করে থাকে। এভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রতি বাড়ির আঙিনা ও আশেপাশে বৃক্ষ রোপন করা তরু লতা ও জঙ্গলে রুপান্তরিত করতে হবে।

[{{{{[লেখক–

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেল

সম্পাদক ও প্রকাশক

ক্রাইম ডায়রি(জাতীয় সাপ্তাহিক, অনলাইন দৈনিক, অনলাইন টেলিভিশন ও অপরাধ গবেষনা)

এবং সাপ্তাহিক গোয়েন্দা ডায়রি

সভাপতি

জাতীয় সাংবাদিক পরিষদ

চেয়ারম্যান

গ্রামে চল আন্দোলন।।

+৮৮ ০১৯১৫ ৫০ ৬৩ ৩২

raselcrimediary@gmail.com]}}}]

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

Total Page Visits: 66417