• সোমবার (বিকাল ৪:৩৯)
    • ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

নওগাঁর মহাদেবপুরে কৃষি কর্মকর্তার জালিয়াতি করে চাকরিঃঃ ছয় বছর পর ধরা

ক্রাইম ডায়রি নওগাঁ অফিসঃ

মুক্তিযোদ্ধারা জাতির সুর্য সন্তান। তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে ফায়দা হাসিল কখনই ক্ষমার যোগ্য নয়। একটু সুবিধা পাওয়ায় এদের নাম ভাঙ্গিয়ে সুবিধা আদায়ের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। সম্প্রতি,          নওগাঁ জেলার  মহাদেবপুর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দুলাল হোসেন (৩০) তার মুক্তিযোদ্ধা মামা ইব্রাহিম আলী মণ্ডলকে নানা বানিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নিয়েছেন বলে অভিযোগ এসেছে। যদিও বিষয়টি প্রমানিত হতেই বছর গড়িয়েছে ছয়টি। হ্যা, চাকরি পাওয়ার ছয় বছর পর দুলালের জালিয়াতি ধরা পড়েছে। অনুসন্ধান শেষে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। দুদকের রাজশাহীর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মঙ্গলবার মামলাটি দায়ের করেন উপ-সহকারী পরিচালক সরদার আবুল বাশার।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, দুলাল হোসেনের বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার তানইল গ্রামে। তার বাবার নাম মোসলেম উদ্দিন। মা দুলোতন বিবি। দুলাল এখন নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার বামনসাতা-সফাপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা।

২০১৩ সালে তার নিয়োগ হয়। স্থানীয় সুত্রে ও গভীর অনুসন্ধানে দেখা যায়,  ২০১২ সালে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরির জন্য আবেদন করেন দুলাল। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন ইব্রাহিম আলী মণ্ডল তার নানা। আর মা দুলোতন বিবি ইব্রাহিমের মেয়ে। অথচ তারা দুই ভাই-বোন।

কিন্তু দুলাল মান্দার ভালাইন ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের কাছে একটি প্রত্যয়নপত্র নেন। এতে বলা হয়, দুলোতন বিবি ইব্রাহিমের বড় মেয়ে। তাই সংরক্ষিত মুক্তিযোদ্ধা কৌটায় তার চাকরি হয়।

কিন্তু অভিযোগ পেয়ে দুদক অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখে, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রত্যয়নপত্র ইস্যু করা হয়নি। সেটি ভুয়া। আর ইব্রাহিম দুলালের নানা নয়, মামা। তাই তার বিরুদ্ধে  মামলা করা হয়৷ মামলার সুত্র ও ক্রাইম ডায়রির নিজস্ব অনুসন্ধানে দেখা যায়,  ২০০৫ সালে দাখিল এবং ২০০৯ সালে কৃষি ডিপ্লোমা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় দুলাল। কিন্তু চাকরি নেন জালিয়াতি করে। নিয়োগ পাওয়ার পর দুলাল ১৩ লাখ ৮৭ হাজার ৯৮৪ টাকা বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারায় মামলা করা হয়।।

দুদকের সমন্বিত রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জানান, দুলাল পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

দুলালের সাথে কথা বলার চেষ্টা করে ক্রাইম ডায়রি। তার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে অনেকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তাই অভিযোগের  বিষয়ে অভিযুক্ত উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দুলালের কোন মন্তব্য কিংবা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ক্রাইম ডায়রি///ক্রাইম//অপরাধজগত

Total Page Visits: 66255

মাছের বিনিময়ে মাদকঃ সৃষ্টিশীল অপরাধের গল্প

ডেস্ক রিপোর্টঃ

“আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অন্যরকম এক ‘বার্টার ট্রেড’: দুই বন্ধুর অভূতপূর্ব সৃষ্টিশীলতা” শিরোনামে একটি বাস্তব গ্রেফতারের ঘটনার মূল ভূমিকায় ছিলেন তিনি। সৃষ্টিশীল ও ক্ষুরধার লেখনি শক্তির অধিকারী শামীম আনোয়ার একজন RABকর্মকর্তা। RAB ৯ এ কর্মরত। তার মুখেই শুনি গ্রেফতার হওয়া একজন সৃষ্টিশীল অপরাধ কর্মীর  আটকের ঘটনা।।।

“নাম তার মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন (২৫)। পেশায় মাছ ব্যবসায়ী। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরেঘুরে জেলে- মাছচাষীদের নিকট থেকে মাছ ক্রয় করে বড় বড় আড়তে সাপ্লাই দেওয়াই তার কাজ। আয় উপার্জন যা হয়, তাতে দুই বাচ্চা আর একমাত্র বউ নিয়ে তার সুখের সংসার কোন রকম চলে যায়। নাম, পেশা আর জীবনধারার বর্ণনা শুনে আপনারা যারা বোরহান সাহেবকে ইমানদার এক সাচ্চা আদমি ভাবছেন, তারা আশাহত হবেন শিগগিরই। তাজ্জব হবেন তার অভূতপূর্ব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রকৃতি, ধরন আর অনন্য কৌশল দেখে।

চিন্তার পালাবদলঃ
সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ভারত বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমারেখার ৪০০ গজ দূরত্বে রাজাপুর গ্রামে বোরহানের পৈতৃক বসতভিটা অবস্থিত। দরিদ্র পরিবারের সন্তান। পেশায় কৃষক পিতা আব্দুল কলেক ৫ ছেলেমেয়ের কাউকেই পড়াশুনা তেমন করাতে পারেন নি। ২০১২ সালে ৮ম শ্রেনীতে পড়ার সময় পড়াশুনার পাঠ চুকিয়ে মাছ ব্যবসায় হাত পাকানো বোরহানের। আয়-ইনকামও ভালই। কিন্তু এভাবে বছর দুয়েক চলার পর তিনি উপলব্ধি করতে সমর্থ হন যে, এভাবে মাছ বিক্রির সোজাসাপ্টা পথে হেঁটে ‘দিন যাওয়া- রাত পোহানো ‘ সম্ভব হলেও এতে করে ভাগ্যের চাকা ঘোরানো নিতান্তই অসম্ভব এক ব্যাপার। একটু বাঁকা রাস্তায় চলতে হবে। কতো লোক চোখের সামনে দিয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেল, আর বোরহান পড়ে আছেন সেই মাছের খাচি ঝাঁকানো নিয়ে। কি করা যায়, কি করা যায়… বোরহান ভাবতে থাকেন। কিন্তু এ ভাবনার যেন কোন কূল কিনারা নেই। এমনিতে মনে হয়, এক আধটু দুই নম্বরি করলেই অগাধ কাঁচা পয়সার মালিক হওয়া যায়। কিন্তু যে করে, সেই বুঝে- আসলে কাজটা কত কঠিন।

রাজাপুরের ইতিকথা এবং ‘বোতল’ উপহারঃ
হঠাৎ বোরহানের মনে পড়ে যায় বাল্যবন্ধু শুমারের কথা। রাজাপুর গ্রামের ভারতীয় অংশে শুমারদের বাড়ি।
[এখানে একটু জানা প্রয়োজন যে, আগে ভারত বিভাগের পূর্বে বৃহত্তর সিলেটের একটি সমৃদ্ধ জনপদ ছিল এই রাজাপুর গ্রাম। ১৯৪৮ সালে যখন ভারত পাকিস্তান নামে আলাদা দুটি দেশের অভ্যুদয় হয়, তখন আন্তর্জাতিক সীমানাটি টানা হয় রাজাপুর গ্রামের ঠিক মধ্য দিয়ে। দেশের অসংখ্য গ্রাম-শহরের মতো রাজাপুরও দুইভাগে ভাগ হয়ে পড়ে। দেখা গেল এক ভাইয়ের বাড়ি পড়েছে পূর্ব পাকিস্তানের সুনামগঞ্জ জেলায়, তো অন্য ভাইয়ের বসত পড়ে গেছে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের মানচিত্রের মধ্যে। যা হোক, ভিন্ন দেশে পড়লেও আত্মীয়স্বজন, পাড়াপড়শীদের মধ্যে যোগাযোগ, আসা-যাওয়া অল্প-বিস্তর ছিলই। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সীমান্তে ভারত কর্তৃক কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হলে হঠাৎ করে সর্বনিম্ন যোগাযোগের উপায়টাও বন্ধ হয়ে যায়। এখনকার অবৈধ যোগাযোগ কাটাতারের বেড়া টপকে, অনেক ঝুঁকি নিয়ে।]
গারো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত শুমার সাংমা (২৪) বোরহানের বাল্যবন্ধু হবার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের মাদকাসক্তির পার্টনারও বটেন।পেশায় তিনি মাদক ব্যবসায়ী। বারকয়েক ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটকও হয়েছেন এই অভিযোগে। বন্ধুদের মধ্যে উপহার আদানপ্রদানের সংস্কৃতি অনুযায়ী বন্ধুবৎসল শুমার বোরহানকে উপহারও দেন। এখানে তাজ্জবের ব্যাপার হলো, তার একমাত্র উপহারের বস্তু হলো মদের বোতল। মাঝেমধ্যে বন্ধুর জন্য উপহার হিসেবে এক-দুই বোতল মদ পাঠিয়ে দিয়ে থাকেন মাদকব্যবসায়ী শুমার।

পাইপলাইন স্ট্যাটেজিঃ
দুইবন্ধু মদের গ্লাস হাতে নিয়ে ভাবতে থাকেন। ভাগ্য ফেরানোর কিছু একটা উপায় বের তো করতেই হবে। এভাবে গরুছাগলের জীবন আর কতো! চেষ্টায় কি না হয়! অবশেষে দুই বন্ধুর প্রত্যাশার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ খুব চমৎকার একটা উপায় বের হয়ে যায়। ভারত বাংলাদেশের মধ্যে এক অভূতপূর্ব অন্যরকম আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য। পরিকল্পনা অনুযায়ী মাছ ব্যবসায়ী বোরহান এখন থেকে বাংলাদেশের আড়তে মাছ বিক্রি না করে বন্ধু শুমারের মাধ্যমে ভারতে মাছ সাপ্লাই দিবেন। আর এই মাছের মূল্যও আবার কোন টাকা বা রুপির মাধ্যমে পরিশোধ হবে না৷ মাছের দাম বাবদ শুমার বোরহানকে দিবেন সমমূল্যের নেশা কারক ইয়াবা ট্যাবলেট। কিন্তু পরিকল্পনা করলেই তো আর কাজটা করা যাচ্ছে না। মাঝে যে কাঁটাতারের বেড়া! এ বেড়া টপকে আন্তঃদেশীয় মাছ এবং ইয়াবা আদান-প্রদান কঠিনসাধ্য কাজ বটে। মাথা খাটিয়ে এ সমস্যার সমাধানও বের করে ফেলেন দুই বন্ধু। স্থানীয় বাজারের স্যানিটারি দোকান থেকে মোটাপাইপ কেনা হবে। এখন পাইপটি কাঁটাতারের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে এর এ প্রান্তের চোঙ্গে বাংলাদেশি মাছ ঢেলে দেওয়া হলে তা কোনরকম পাসপোর্ট ভিসা ছাড়াই ও প্রান্তে ভারতীয় মাছ হয়ে পৌঁছে যাবে।

ডাবল লাভের ব্যবসাঃ
পরিকল্পনা মাফিক কাজও শুরু হয়ে যায়। প্রথম প্রথম একটু একটু ডরডর লাগত। যদি বিজিবি ধরে নিয়ে যায়! যদি বিএসএফ গুলি করে দেয়!! কিছুদিনের মধ্যেই সব ডরভয় দূর করে একেবারে সাবলীল হয়ে ওঠেন সাবেক মাছ ব্যবসায়ী আর বর্তমানের আন্তর্জাতিক স্তরের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন। ইয়াবা বিক্রির বিনিময়ে পাওয়া মাছ শুমার ভারতের বিভিন্ন আড়তে বিক্রি করেন। অন্যদিকে মাছ বিক্রির দাম হিসেবে পাওয়া ইয়াবা বোরহান দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চালান হিসেবে পাঠাতে থাকেন। ভারতে মাছ বেচে বাংলাদেশের চেয়ে বেশি দাম পাওয়া যায়। আবার অন্যদিকে মাছের মূল্য হিসেবে প্রাপ্ত ইয়াবা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ক্রয়মূল্যের দশগুণ পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি করা হয়। এ যেন লাভের উপর ডাবল লাভ। এভাবে অভিনব কৌশলে গত কয়েক বছর ধরে চলে আসছিল ভারত বাংলাদেশের দুই বন্ধুর এই সৃষ্টিশীল ‘আন্তর্জাতিক বাণিজ্য’।

এবং ধরাঃ
‘অসহায়’ বোরহানের কপালে অবশ্যএই সুদিন বেশি সময় সয়নি। গত রাতে ৫৪৫ পিস ইয়াবাসহ আমাদের কাছে হাতেনাতে আটক হয়ে যান তিনি। সন্ধ্যার ১৫০ কেজি মাছের দাম হিসেবে ইয়াবাগুলো সংগ্রহ করে ক্রেতার নিকট হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু তার আগেই বেরসিক আমাদের হানা! গতকাল রাত ৯ টায় আমাদের টিম একটি মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার করি তাকে (মোটরসাইকেলটিও আবার অবৈধ)।
সর্বশেষঃ নিষিদ্ধঘোষিত ইয়াবা ট্যাবলেট বহন ও ব্যবসা করার অভিযোগে তিনি এখন সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারের কোন এক হাজতি ওয়ার্ডের বিছানা গরম করছেন।

এদের কাজকর্ম দেখে আর কতো বিস্মিত হব! বিস্মিত হবার ক্ষমতাও মনে হয় অচিরেই লোপ পেয়ে যাবে।।”

বিজ্ঞজনেরা মনে করেন, এহেন অপরাধীরা যদি ভালো কাজের গাইডলাইন পেয়ে বড় হতো তবে হয়তো গল্পটা অন্যরকমও হতে পারত।। তবে সারাদেশে RABএর ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে এমন অভিযান অব্যহত থাকবে জানিয়েছে RAB ৯.

ক্রাইম ডায়রি///ক্রাইম///অপরাধ///জেলা

Total Page Visits: 66255

র‌্যাব-১ এর অভিযানে বিমানবন্দর হতে আন্তর্জাতিক মুদ্রাপাচারকারী চক্রের চার সদস্য গ্রেফতার

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃ

র‌্যাব-১ এর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে   রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হতে গোপনে দেশত্যাগের প্রাক্কালে ০৪ জন অবৈধ অর্থ পাচারকারী ও জাল টাকা সরবরাহকারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।  এ সময় তাদের হেফাজতে থাকা বিপুল পরিমান দেশী-বিদেশী মুদ্রাসহ জাল টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে  র‌্যাব-১।

র‌্যাব সুত্রে জানা গেছে,    গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের “ভিশন-২০২১” লক্ষমাত্রা অর্জন ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে সহায়ক শক্তি হিসেবে র‌্যাব বরাবরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছে। এক শ্রেণীর অসাধু চক্র বাংলাদেশ সরকারের অনুমোতি ব্যাতিরেকে বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ গোপনে বিদেশে পাচার করছে। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির উপর বিরুপ প্রভাব পড়ছে। র‌্যাব সবসময় এধরণের অপরাধীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। সূচনালগ্ন হতে এ পর্যন্ত অসাধু ব্যক্তি, প্রতারক চক্র, মানব পাচারকারী, অবৈধ অর্থ পাচারকারী, বিভিন্ন বেআইনি সংঘবদ্ধ চক্রসহ অন্যান্য অপরাধীদের আইনের আওতায় আনয়নের লক্ষ্যে তার দীপ্ত পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে। ফলশ্রুতিতে জনজীবনে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং র‌্যাব জনগনের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। অবৈধ অর্থ পাচার রোধে র‌্যাবের চলমান অভিযানের ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১ এর গোয়েন্দা অনুসন্ধানে ঢাকা ও আশেপাশের এলাকায় বেশ কয়েকটি গ্রুপের তথ্য পাওয়া যায়। এসকল গ্রুপ দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ গোপনে দেশের বাইরে পাচার করে আসছে বলে জানা যায়। অধিকতর গোয়েন্দা নজরদারী ও ছায়া তদন্তের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে র‌্যাব-১ রাজধানী ও পার্শ্ববতী জেলা নরসিংদীতে সক্রিয় একটি গ্রুপের কতিপয় ব্যক্তির নাম উঠে আসে। জানা যায় যে, তারা নরসিংদী ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ নারী সংক্রান্ত অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে জানা যায় যে, এই গ্রুপের কতিপয় ব্যক্তি বিপুল পরিমান অবৈধ অর্থসহ দেশ ত্যাগের উদ্দেশ্যে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থান করছে।

এরই ধারাবাহিকতায়  ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ইং তারিখ আনুমানিক ১১৩০ ঘটিকায় র‌্যাব-১ এর একটি আভিযানিক দল রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশ ত্যাগের প্রাক্কালে ১) শামিমা নূর পাপিয়া @ পিউ (২৮), স্বামী- মফিজুর রহমান @ সুমন চৌধুরী @ মতি সুমন, পিতা- সাইফুল বারি, মাতা- সেলিনা বাড়ি, সাং- পশ্চিম ব্রাহ্মন্দী, থানা-নরসিংদী সদর, জেলা-নরসিংদী, ২) মফিজুর রহমান @ সুমন চৌধুরী @ মতি সুমন (৩৮), পিতা- মতিউর রহমান চৌধুরী, মাতা- হেলেনা চৌধুরী, সাং- পশ্চিম ব্রাহ্মন্দী, থানা-নরসিংদী সদর, জেলা-নরসিংদী, ৩) সাবিক্ষর খন্দকার (২৯), পিতা- ইউসুফ খন্দকার, সাং- পশ্চিম ব্রাহ্মন্দী, থানা-নরসিংদী সদর, জেলা-নরসিংদী এবং ৪) শেখ তায়্যিবা (২২), পিতা- শেখ আশফাকুর রহমান, মাতা- সাবিনা ইয়াসমিন, সাং- বাদুন, থানা- পূবাইল, জিএমপি, গাজীপুর’দেরকে আটক করা হয়। এসময় ধৃত আসামীদের নিকট হতে পাসপোর্ট ০৭টি, বাংলাদেশী নগদ ২,১২,২৭০/- টাকা, বাংলাদেশী জাল নোট ২৫,৬০০/-, ভারতীয় রুপি ৩১০, শ্রীলংকান মুদ্রা ৪২০, ইউএস ডলার ১১,০৯১ এবং ০৭ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, অবৈধভাবে অর্থ পাচার ও জাল টাকা প্রস্তুতকারী এই গ্রুপের প্রধান ধৃত আসামী শামিমা নূর পাপিয়া @ পিউ এবং স্বামী মফিজুর রহমান @ সুমন চৌধুরী @ মতি সুমন তার সহযোগী। এছাড়াও ধৃত অপর আসামী সাবিক্ষর খন্দকার ও শেখ তায়্যিবা তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস)। তারা দীর্ঘ দিন যাবৎ নরসিংদী ও রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও নারী সংক্রান্ত অনৈতিক ব্যবসার সাথে জড়িত। এছাড়াও নরসিংদী জেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে চাঁদাবাজির করে আসছে।

ধৃত আসামী শামিমা নূর পাপিয়া @ পিউ’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, সে পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তেজগাঁও এফডিসি গেট সংলগ্ন এলাকায় অংশীদারিত্বে তার একটি ‘কার একচেঞ্জ’ নামক গাড়ির শো রুম আছে এবং নরসিংদী জেলায় তার ‘কেএমসি কার ওয়াস এন্ড অটো সলিউশন’ নামক একটি গাড়ি সার্ভিসিং সেন্টার আছে। এসব ব্যবসার আড়ালে তিনি অবৈধ অস্ত্র, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত বলে জানায়। তিনি সমাজ সেবার নামে নরসিংদী এলাকায় অসহায় নারীদের আর্থিক দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে সহযোগীতার নামে তাদের অনৈতিক কাজে লিপ্ত করে বলে জানায়। বছরের অধিকাংশ সময় সে নরসিংদী ও রাজধানীর বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেলে অবস্থান করেন এবং সেখান থেকে তার ও তার স্বামীর ব্যবসায়ীক অংশীদারদের অনৈতিক কাজে নারী সবরবরাহ করেন। নরসিংদী এলাকায় চাঁদাবাজির জন্য তার একটি ক্যাডার বাহিনী আছে। এছাড়াও তার স্বামীর প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনি নংসিংদী ও ঢাকায় একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লটসহ বিপুল পরিমান নগদ অর্থের মালিক হয়েছেন বলে জানা যায়।

ধৃত আসামী মফিজুর রহমান @ সুমন চৌধুরী @ মতি সুমন’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, সে পেশায় একজন ব্যবসায়ী। দেশে তার স্ত্রীর ব্যবসায় সহযোগীতার পাশাপাশ থাইল্যান্ডে তার বারের ব্যবসা আছে বলে জানা যায়। এছাড়াও সে দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধ অস্ত্র, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন আছে বলে জানা যায়। সে তার স্ত্রীর মাধ্যম প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় নারীদের অনৈতিক কাজে ব্যবহার করেন। অবৈধ অস্ত্র, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধকর্মের জন্য নরসিংদী এলাকায় তার কু-খ্যাতি রয়েছে বলে জানা যায়। নরসিংদীতে ‘কেএমসি কার ওয়াস এন্ড অটো সলিউশন’ নামক প্রতিষ্ঠানটি গাড়ি সার্ভিসিং এর আড়ালে তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মাদক ব্যবসার কাজে ব্যবহার করা হয়। নরসিংদী এলাকায় তার একটি ক্যাডার বাহিনী আছে, যাদের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড করে থাকেন। জেলা শহরের বাহিরে গেলে তার ক্যাডার বহিনী তাকে বিশাল গাড়ি বহরের মাধ্যমে মহড়া দিয়ে থাকে বলে জানা যায়। সে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিপুল পরিমান নগদ অর্থের পাশাপশি নংসিংদী ও ঢাকায় তার একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট ও প্লট আছে বলে জানা যায়।

ধৃত আসামী সাবিক্ষর খন্দকার’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, সে ধৃত আসামী শামিমা নূর পাপিয়া @ পিউ এর ব্যক্তিগত সহকারী এবং তার দূর সম্পর্কের ভাই। সে সর্বদা ধৃত আসামী শামিমা নূর পাপিয়া এর সাথে অবস্থান করে। সে শামিমা নূর পাপিয়া @ পিউ এর ব্যক্তিগত সম্পত্তির হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখাশুনা করে। পাশাপাশি তার সকল অবৈধ ব্যবসায় প্রত্যক্ষ সহযোগীতা এবং অর্থ পাচার ও রাজস্ব ফাঁকি দিতে সহযোগীতা করে থাকে বলে জানায়।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, আসামী মফিজুর রহমান  সুমন চৌধুরী অরফে মতি সুমন এর ব্যক্তিগত সহকারী। সে মফিজুর রহমান  সুমন চৌধুরী অরফে মতি সুমন এর ব্যক্তিগত সম্পত্তির হিসাব রক্ষনাবেক্ষণ ও দেখাশুনা করে। পাশাপাশি তার সকল অবৈধ ব্যবসায় এবং অর্থ পাচার ও রাজস্ব ফাঁকি দিতে তাকে সহযোগীতা করে থাকে বলে জানায়। এ ধরনের অপরাধ ও অপরাধীর বিরুদ্ধে    র‌্যাব-১ এর অভিযান অব্যহত থাকবে বলে জানিয়েছে র‌্যাব-১ ।

ক্রাইম ডায়রি///  অপরাধ জগত///আইন শৃঙ্খলা//ক্রাইম

Total Page Visits: 66255

চেয়ারম্যান কর্তৃক অর্থ আত্মসাতঃযশোরে দুদকের অভিযান

ক্রাইম ডায়রি, যশোর অফিসঃ

সারাদেশে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে      যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নারিকেলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদে অভিযান পরিচালনা করে দুদক যশোর অফিস।   চেয়ারম্যান কর্তৃক বিভিন্ন খাতে অর্থ আদায়পূর্বক আত্মসাতের অভিযোগে এ অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক। সমন্বিত জেলা কার্যালয়, যশোর এর সহকারী পরিচালক মোঃ মাহফুজ ইকবালের নেতৃত্বে আজ এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে দুদক টিম জানতে পারে, উল্লিখিত ইউপি চেয়ারম্যান ৭৩নং নারিকেলবাড়ীয়া মৌজাস্থ ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব জমির উপর নির্মিত দোকান ঘরের পজেশন বিক্রয়ের জন্য “দোকান ঘরের পজেশন বরাদ্দ ও ভাড়া চুক্তিপত্র” সম্পাদন করেন।

কিন্তু তিনি চুক্তিপত্র মোতাবেক উল্লিখিত ১১টি দোকানের বিক্রয়লব্ধ প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা গ্রহণপূর্বক ইউনিয়ন পরিষদের হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন মর্মে তথ্যাবলি যাচাইপূর্বক টিমের নিকট প্রতীয়মান হয়। বর্ণিত অনিয়মসহ উক্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আগত একাধিক আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানের অনুমোদন চেয়ে কমিশনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে দুদক টিম।

ক্রাইম ডায়রি///ক্রাইম//জেলা

Total Page Visits: 66255

নিজ নিজ দপ্তরের অন্যায়কে প্রতিহত করতে হবে–দুদক চেয়ারম্যান

হেলাল উদ্দিনঃ

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যলয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণে এক আলোচনা সভা দুদক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময়   দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ প্রথমেই মহান ভাষা আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছে এবং যারা এ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন তাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। একই সময় হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

দুদক চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে  বলেন, ভাষার জন্য বা স্বাধীনতার জন্য কেন এতো প্রাণ বিসর্জন হলো? আসলে এটা ছিল প্রতিবাদ। প্রতিবাদকে হত্যার মাধ্যমে দমন করার চেষ্টার কারণেই এতো প্রাণ বিসর্জন। এই বিষয়টি আমাদের অনুধাবন করতে হবে। এসব আত্মত্যাগের অর্ন্তনিহিত তাৎপর্য হচ্ছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ।

তিনি বলেন, আমাদের মহান ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এগুলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শেখায়। এ থেকেই আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। এগুলোই আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন।

তিনি বলেন, নিগৃহীত হয়ে রাস্তায় পড়ে আছেন এমন মানুষকে দেখেও না দেখার ভান করে চলে যাওয়ার ঘটনা যখন শুনি, তখন কেন যেন মনে হয় অন্যায়ের প্রতিবাদ করাটা কি আমরা ভুলে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, জাতিগঠনে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন শৃঙ্খলা, সততা, নিষ্ঠা, মানুষের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য আমার মনে হয় – এগুলোতেও আমাদের কিছুটা ঘাটতি এখনও রয়ে গেছে।

তিনি বলেন, পত্রিকায় যখন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অবমাননার সংবাদ দেখি। তখন এক অব্যক্ত মানসিক যন্ত্রণা অনুভব করি। সারা বছর শহীদ মিনার দেখতে দেশি-বিদেশি অনেক মানুষ আসেন। তাই , সারা বছর এর পবিত্রতা রক্ষার জন্য সার্বক্ষণিক ব্যবস্থাপনা থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করেন দুদক চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, এ বছর মুজিব শতবর্ষ।স্বাভাবিকভাবেই ইতিহাসের মহানায়ক জাতির পিতাকে নিয়ে অনেক আলোচনা হবে । এসময় তিনি দুদক কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, জাতির পিতা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। আসুন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে-নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত রেখে, দুর্নীতি দমনে আত্মনিয়োগ করি।

তিনি বলেন, শহীদদের রক্তদান আমাদের অন্যায়ের প্রতিবদ  করার শিক্ষা দেয়। আপনাদের দায়িত্ব হবে নিজ নিজ দপ্তরের অন্যায়কে প্রতিহত করা। আপনার সম্পূর্ণ নির্মোহভাবে জ্ঞান-বুদ্ধি বিবেচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন দিবেন। মনে রাখবেন অপরাধ দমনে বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত প্রতিবেদন প্রণয়ন করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ দায়িত্বপালনে আপনারা হবেন নির্মোহ। নিজের বিবেক, আইনি যুক্তি-প্রতিযুক্তির মাধ্যমে তদন্তে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করবেন। তাহলেই সকলের প্রতি ন্যায় বিচার নিশ্চিত হবে।

তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান । মানুষ তখনই এই প্রতিষ্ঠানটিকে গুরুত্ব দিবে, যখন আপনাদের কাজের মাধ্যম মানুষ অনুধাবন করবে -দায়িত্ব পালনে আপনাদের অঙ্গীকার রয়েছে। আপনারা সততা, নিষ্ঠা ও সুচারুরূপে দায়িত্ব পালন করেন। মানুষের কল্যাণে আপনাদের অবদান আছে, তবেই এই গুরুত্ব টেকসই হবে। আলোচনাসভায় দুদক কমিশনার ড. মোঃ মোজামোমল হক খান বলেন, ২১ শে ফেব্রুয়ারি একসময় ছিল শুধু বাংলাদেশের গর্বের বিষয়, এখন বিশ্ববাসীর গর্বের বিষয়। জাতি হিসেবে এটা আমাদের সত্যিই গর্বের ।

তিনি বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য যখন শুনি কোনো কোনা বাঙালি পিতা-মাতা গর্ব করে বলেন, ‘আমাদের সন্তান ইংরেজিতেই কথা বলে, ভালো বাংলা বলতে জানে না।’ আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এটা দুঃখজনক ও দূর্ভাগ্যজনক। ভুলে ভরা অনেকের ইংরেজি কথা শুনি, অনেকের এমন ইংরেজি লেখাও দেখি। এগুলো নিয়ে মন্তব্যও করতে চাই না।

তিনি বলেন , আমাদের দেশের সম্মানিত চিকিৎসকগণ যদি অনুগ্রহ করে ব্যবস্থাপত্রটি বাংলায় লেখেন, তাহলে আমাদের দেশের সামান্য অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন মানুষকে ব্যবস্থাপত্র বুঝতে অন্যের দ্বারস্থ হতে হয় না।

তিনি বলেন, আমরা বার বার অঙ্গীকার করি আবার তা ভঙ্গ করি। তাই আসুন, শুদ্ধ বাংলা চর্চায় অঙ্গীকারাবদ্ধ হই। নিজেরা শুদ্ধ বাংলা জানার চেষ্টা করি। অঙ্গীকার রক্ষা করি।

দুদক কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম বলেন, কথন, নাটক, চলচ্চিত্রসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বাংলা ভাষার বিকৃতি দেখে আমরা বিস্মিত হই । ভাষার এই কদর্য বিকৃতি ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের নিদর্শন হতে পারে না। আঞ্চলিক ভাষা বা বিকৃত ভাষা থাকবে কিন্তু তা মুখ্য ভাষা হতে পারে না।

তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য আমরা এই কঠিন সময় পার করছি। এর অবসান হওয়া উচিত। ভাষা শহীদদের শুধু একদিনের জন্য স্মরণ না করে, ৩৬৫ দিনই তাদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাবোধ থাকা উচিত।

দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখ্ত ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের এই মহান আত্মত্যাগের তাৎপর্য আমাদের হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। তাহলেই তাদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হবে।

আলোচনাসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দুদকের তদন্ত অনুবিভাগের মহাপরিচালক মোঃ জাকির হোসেন, দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা শাখার পরিচালক মোঃ মনিরুজ্জামান খান, ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মোঃ আকতার হোসেন, উপপরিচালক এএসএম সাজ্জাদ হোসেন, মোঃ রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

ক্রাইম ডায়রি///জাতীয়

Total Page Visits: 66255

ঝালকাঠিতে হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে পেতে পিতার থানায় সাধারন ডায়রী দায়ের

ইমাম বিমান, ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধিঃঃ

ঝালকাঠিতে ১৭ বছর বয়সী হারিয়ে যাওয়া একমাত্র ছেলেকে খুজে পেতে তার পিতা নলছিটি থানায় একটি সাধারন ডায়রী দায়ের করেন। ঝালকাঠি জেলার নলছিটি পৌর শহরের লঞ্চঘাট এলাকা থেকে আরিফ হোসেন হাওলাদার নামের এক যুবক গত ১৮ ফেব্রুয়ারী সন্ধার পর থেকে নিখোজ হয়। আরিফের পরিবারের সদস্যরা অনেক খোজাখুজি করে না পাওয়ায় আরিফের বাবা শাহিন হাওলাদার গত ১৯ ফেব্রুয়ারী নলছিটি থানায় একটি সাধারন ডায়রী দায়ের করেন যার নম্বর : ৭৫৭।

এ বিষয় নিখোজ আরিফের পিতা শাহিন হাওলাদারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, আমি প্রতিদিন ভ্যানে করে বিভিন্ন ফল বিক্রি করি। গত মঙ্গলবার সন্ধার পর আমি পল বিক্রি করতে ছিলাম। রাত আনুমানিক পৌনে ৮টার সময় আমার দোকানে গিয়ে আমার সাথে কথা বলে। তকন আমি আমার ছেলেকে বাসায় যেতে বলি। সে আমার ওখান থেকে বাসায় উদ্দেশ্যে চলে যায়। আমি রাতে বাসায় গিয়ে জানতে পারি আমার ছেলে আরিফ বাসায় যায়নি, আমি দেরি না করে তাকে খুজতে বাসা থেকে বেড়িয়ে পরি। অনেক খোজা খুজি করে তার সন্ধান না পাওয়ায় আমি নলছিটি থানায় একটি সাধারন ডায়রী দায়ের করি। এ বিষয় আমি সকলের কাছে আকুল আবেদন জানাই এই যে, আমার একমাত্র ছেলের আরিফকে খুজে পেতে সকলের সহযোগীতা কামনা করছি। যোগাযোগ করার জন্য নিম্ন মোবাইল নম্বর দেয়া হলো : ০১৭২৬-৩৯০৮১৮।

ক্রাইম ডায়রি// জেলা

Total Page Visits: 66255

বঙ্গকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনার প্রতি প্রবাসীদের আহবানঃ খুলনা কন্ঠের সম্পাদক শেখ রানাকে বাঁচান

মিয়া মোহাম্মদ হেলাল, ক্রাইম ডায়রির   বিশেষ প্রতিনিধি, লন্ডন  হতেঃ

বঙ্গকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে লালন করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষনা করেছেন।।। বঙ্গবন্ধু যেমন অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতেন না।।বঙ্গকন্যাও অন্যায় ও অবিচারের সাথে আপোষহীন। তিনি জানেন এদেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে হলে,মানুষগুলিকে সোনার মানুষ বানাতে হলে বড় বাঁধা হলো মাদক। তাই মাদকের বিরুদ্ধে তিনি জিহাদ ঘোষনা করেছেন। যার শ্লোগানই হলো-” চল যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে”। বঙ্গকন্যার সেনাপতিত্বে সারাদেশে এই যুদ্ধ যখন চলমান,তখন মাদকবাজরাও বসে নেই।।তারা এখন ভোল পাল্টে, এই লাভজনক ব্যবসাকে হালাল করতে কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার মত করে আওয়ামীলীগের ভিতরে ঢুকে নিজেরা আওয়ামীলীগার সেজে আঁখের গোছানোর চেষ্টা করছে বলে তৃনমুল হতে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

এদের সহযোগিতা যারা করছে গভীর অনুসন্ধানে দেখা যায়, এরা প্রকৃত আওয়ামীলীগের নয়। এদের গোঁড়ায় অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, এদের লিংক আওয়ামী বিরোধী শিবিরের সাথে যুক্ত। কোনও ভাবে সরকারের দূর্নাম করা কিংবা বেকায়দায় ফেলা এদের উদ্দেশ্য। এরই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণকারী খুলনা কণ্ঠের সম্পাদক শেখ রানা ভাইকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে।  সাংবাদিক শেখ রানা   কি শেখ হাসিনার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণায় এগিয়ে এসে বঙ্গকন্যার আদেশ বাস্তবায়নেে সহযোগীতা করে অপরাধ করেছেন ? মাদক কারবারী-সেবনকারী তথাকথিত আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা কিংবা ব্যাঙ্গের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা অনুনোমোদিত অনলাইনের কার্ড ক্রয় করে অন্য পেশায় জড়িয়ে থাকা হলদে সাংবাদিক, হাইব্রীড লীগাদের বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলেন সম্পাদক শেখ রানা ভাই ও ইশরাত ইভা দম্পতি। যার জন্য ওদের রোষানলে পড়ে তাদের কাছ থেকে বখরা নেওয়া তথাকথিত ও পুলিশ বাহিনীকে ইমেজ সংকটে ফেলার মিশনে নামা বিএনপি-রাজাকারপন্থী   দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তার যোগ সাজশে একটার পর একটা মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে শেখ রানাকে। রিমান্ডে নিয়ে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে তিলে তিলে শেষ করা হচ্ছে বলে তার পরিবার থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে। সন্তান কোলে নিয়ে স্বামীর জন্য প্রশাসন-আদালতের বারান্দায় হাঁটতে হাঁটতে বুক ভরা হাহাকার নিয়ে ক্লান্ত হয়ে ফিরে আসতে হচ্ছে বার বার। অজানা আশংকায় কাটাতে হচ্ছে প্রতিটি দিন রাত্রি। এভাবে আর কত ?

রানা-ইভা দম্পতির এই অবস্থা দেখার পর কি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালিত ও বঙ্গকন্যাকে প্রকৃত ভালবাসা  আর কোন নেতা কর্মীর সাহস-মনোবল থাকবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে ? কিংবা সরকার ঘোষিত কর্মসূচি সফল করতে এগিয়ে আসতে ?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবতার কন্যা  শেখ হাসিনার হাজার টাকার সাজানো বাগানকে বিনষ্ট ও কলংকিত করছে মাদক কারবারী, হলুদ সাংবাদিক, হাইব্রীডলীগারদের মত দুই টাকার ছাগল গুলো।

তাই বঙ্গকন্যার নিকট দেশী ও প্রবাসী আওয়ামীপন্থী গণমানুষের দাবী, হে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, তৃণমূলের দিকে নজর দিন। রানা-ইভাদের মতো বঙ্গবন্ধু প্রেমীরা যদি হেরে যায়, তাহলে হেরে যাবে আওয়ামীলিগ। আর আওয়ামীলীগ যদি হেরে যায়, তবে হেরে যাবে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। অতএব ওদের হাত থেকে দেশটাকে বাঁচান।

***মিয়া মোহাম্মদ হেলাল

(লেখক, যুক্তরাজ্য প্রবাসী-মুক্তচিন্তার মূর্তপ্রতীক,দেশপ্রেমিক, আওয়ামী অনলাইন এক্টিভিস্ট, আওয়ামীলীগ গবেষক,  বঙ্গবন্ধু ও শেখহাসিনার  সূর্য সৈনিক,বাংলা ডায়রি মিডিয়া লিঃ এর উপদেষ্টা ।।।)

Total Page Visits: 66255

বগুড়ার সীমাবাড়িতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগঃ মাইকিং করে বয়স্কভাতার কার্ড যাচাই

সীমাবাড়ি হতে আব্দুল লতিফ ফকিরঃ

সারাদেশের মত বঙ্গকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে   বয়স্ক,বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে ভাতা প্রদান করা হয়েছে। অভিযোগ আছে বয়স্করা ঠিকভাবে ভাতা পাননা। এ কারনে বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী সীমাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসন       মাইকিং করে লোক হাজির করে সরেজমিনে বয়স্কভাতার কার্ড যাচাই বাছাই করে। এরপর ভাতা প্রদান করা হয়।

এ সময়  উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জনাব ওবায়দুল হক, সীমাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু গৌরদাস রায় চৌধুরি, ক্রাইম ডায়রির ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি ও জাতীয় সাংবাদিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাংবাদিক শাহাদাত হোসেন, সীমাবাড়ি ইউপি মেম্বর আব্দুল লতিফ ফকির সহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

ক্রাইম ডায়রি///গ্রাম বাংলা//জেলা

Total Page Visits: 66255

উজিরপুরে হাবিবপুর তালিমুল কুরআন মাদ্রাসার দাতা সদস্যকে কুপিয়ে যখম

উজিরপুর হতে আব্দুর রহিম সরদারঃ

বরিশালের উজিরপুরের হাবিবপুর তালিমুল কুরআন মাদ্রাসার দাতা সদস্যকে সন্ত্রাসীরা হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাথারি ভাবে কুপিয়ে রক্তাক্ত যখম করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা ও আহত সুত্রে জানা যায় উপজেলার ওটরাইউনিয়নের কেশবকাঠী গ্রামের মৃত আতাউর রহমান বেপারীর ছেলে (হাবিবপুর তালিমুল কুরআন মাদ্রাসার দাতা সদস্য)কামরুজ্জামান বেপারীর মাদ্রাসা সংলগ্ন  একটি বড় পুকুর রয়েছে। সেখানে প্রতি বছর বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করে আসছে। বর্তমানে ঐ পুকুরে পোনা মাছের রেণুর চাষ করা হয়েছে। সেই পুকুরে অত্র মাদ্রাসার পরিচালক একই বাড়ীর মোঃ মুজাম্মেল হক বেপারীর খামখেয়ালী পনায় মাদ্রাসার নিজস্ব পুকুর থাকা সত্বেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কামরুজ্জামান বেপারীর ভোগদখলীয় পোনা মাছের রেনু ভর্তি পুকুরে অন্যায় ভাবে সাবান দিয়ে কাপর চোপড় ধৌত ও প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ময়লা আবর্জনা(বর্জ) ফেলছে বলে অভিযোগ রয়েছে ।

এ কারনে ৩ লক্ষাধিক টাকার পোনা মাছ মরে যায়। বিষয়টি মাদ্রাসার পরিচালকের কাছে জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং কামরুজ্জামানকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকী প্রদান করেছেন বলে ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের জানান   । এরই ধারাবাহিকতায় ১৩ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় কামরুজ্জামান বেপারী হাবিবপুর বাজার থেকে বাড়ীতে ফেরার উদ্দেশ্যে মাদ্রাসার উত্তর পাশের রাস্তায় পৌছা মাত্র ওৎ পেতে থাকা মাদ্রাসার পরিচালক প্রভাবশালী মুজাম্মেল হক বেপারী ও তার ছেলে সন্ত্রাসী মঈনুল হোসেন এবং জামাতা রফিকুল ইসলামসহ একদল ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র রাম দা,চাপাতি দিয়ে কামরুজ্জামানকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাথারী ভাবে কুপিয়ে রক্তাক্ত যখম করে অচেতন অবস্থায় ফেলে রাখে এবং নগদ ১২ হাজার ৩ শত টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের আঘাতে কামরুজ্জামানের মাথা,মুখমন্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর যখম হয়েছে। আহতকে পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে
উজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। আহত কামরুজ্জামান হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এ ঘটনায় আহত’র স্ত্রী তাছলিমা বাদী হয়ে উল্লেখ্যদের বিরুদ্ধে ১৪ ফেব্রুয়ারী উজিরপুর মডেল
থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। হামলার বিষয়টি জানার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত মুজাম্মেল হকের মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। আহত’র স্ত্রী তাছলিমা জানান, আমার স্বামীর উপর হত্যার উদ্দেশ্যে ঐ সন্ত্রাসীরা এলোপাথাড়ি ভাবে কুপিয়ে জখম করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করায় প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীরা মারধরের ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য মিথ্যা নাটক সাজিয়ে উল্টো
আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এ ব্যাপারে উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ
জিয়াউল আহসান জানান মামলা হয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঐ হামলাকারী সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়ে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি
কামনা করেন আহত’র পরিবার।

ক্রাইম ডায়রি  //ক্রাইম///আইনশৃঙ্খলা

Total Page Visits: 66255

চট্টগ্রাম মহানগরে ব্যাটারী চালিত রিক্সা ও অবৈধ সি.এন.জি বন্ধে সি এমপি’র সমন্বয় সভা

বাবুল হোসেন বাবলা,মহানগর সংবাদদাতাঃ

সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থা আনতে চট্টগ্রামে ব্যাটারী চালিত রিক্সা ও অবৈধ সি.এন.জি বন্ধ করে তা বাস্তবায়নের জন্য   সমন্বয় সভা করেছ সি এম পি।

নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইন্স কনফারেন্স হলে ১৭ফ্রেবুয়ারী সকাল সাড়ে টায় চট্টগ্রামমেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উদ্যোগে অতিরিক্ত পুলিশ  কমিশনার (ট্রাফিক) এস. এম. মোস্তাক আহমেদ খান বিপিএম, পিপিএম (বার)এর সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ব্যাটারী চালিত রিক্সা ও অবৈধ সি.এন.জি অটোরিক্সা চলাচল বন্ধের পাশাপাশি সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থা নিশ্চিতকল্পে প্যাডেল চালিত রিক্সা ও সিএনজি মালিকসংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় চট্টগ্রাম মহানগরীতে ব্যাটারী চালিত রিক্সা ও অবৈধ সি.এন.জি অটোরিক্সা চলাচল বন্ধের পাশাপাশি ভ্যানে জিনিসপত্র বিক্রি নিষিদ্ধ করন, গ্রাম সিএনজি ও নিলাম সিএনজি চলাচল নিষিদ্ধ করণ, প্রধান প্রধান সড়কগুলো হকারমুক্ত রাখা, সর্বোপরি সুষ্ঠু ট্রাফিক নিশ্চিতকল্পে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।


এসময় উপ-পুলিশ কমিশনার ডিসি (ট্রাফিক-উত্তর) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, পিপিএম, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-বন্দর) মোঃ তারেক আহম্মেদ সহ পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও পরিবহন সংগঠনের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ক্রাইম ডায়রি///মহানগর/আইনশৃঙ্খলা/

Total Page Visits: 66255