• সোমবার (বিকাল ৩:৫৪)
    • ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

বগুড়ার শেরপুরে বায়ু ও পরিবেশ দূষণঃঃ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা জনতার

শাহাদাত হোসেন, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধিঃঃ

বগুড়ার শেরপুর থানার বিভিন্ন জায়গায় পরিবেশ দূষণের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নেে এ অভিযোগের মাত্রা সবচেয়ে বেশি।  গবেষণায় জানা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর যতো মানুষের মৃত্যু হয় তার ২৮ শতাংশই মারা যায় পরিবেশ দূষণ জনিত অসুখবিসুখের কারণে। কিন্তু সারা বিশ্বে এধরনের মৃত্যুর গড় মাত্র ১৬ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংক ২০১৫ সালের এক পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেছে, শহরাঞ্চলে এই দূষণের মাত্রা উদ্বেগজনক পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে তারা বলছে, দূষণের কারণে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে ৮০ হাজার মানুষের মৃত্যুর কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তুলনা করতে গিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিবেশ দুষণজনিত কারণে বাংলাদেশে যেখানে ২৮ শতাংশ মৃত্যু হয় সেখানে মালদ্বীপে এই হার ১১ দশমিক ৫ শতাংশ আর ভারতে ২৬ দশমিক ৫।

বচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে নারী ও শিশুরা

বাংলাদেশের পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের নেতা এবং প্রিভেনটিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলছেন, পরিবেশ দূষণের বেশ কয়েকটি ভাগ রয়েছে। যেমন বায়ু দূষণ, পানি দূষণ, খাদ্য দূষণ ইত্যাদি রয়েছে। এর সবগুলোর ফলেই কোন না কোনভাবে মানুষ ক্ষতির শিকার হচ্ছে। এ দূষণ এখন শহরের গন্ডি পেরিয়ে  গ্রামকেও গ্রাস করে ফেলেছে। সম্প্রতি, ইটভাটাসহ বিভিন্ন কারনে অকারনে মাটি কেটে পরিবেশের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে একদল মানুষ।  বহনকৃত ড্রামট্রাকের ধুলায় পরিবেশ নষ্ট ও জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে ।।।

বগুড়া জেলার   শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ঘোগাবটতলা নামক স্হানে সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়ে দীর্ঘসময় একটানা মাটি পরিবহনের কাজ। প্রায় ১০ থেকে ১৫ টি মাটি বহনকৃত ট্রাকে মাটি ভরাট করে ঘোগা বটতলার পার্শ্বে কয়েকটি ইটভাটাতে মাটি পরিবহন করা হয়। অনিয়ন্ত্রিত এইসব ট্রাকের কারনে ঘোগাবটতলা থেকে ভবানীপুর লোকাল রাস্তায় প্রতিনিয়ত যানজট সৃষ্টি হয় এবং নিয়ম না মেনে গাঁয়ের জোরে গাড়ি চালানোয়  প্রচুর ধূলা উড়ে আশে পাশে মুদির দোকানে ও কেজি স্কুল সহ বিভিন্ন শ্রেনীর কোমলমতি ছেলে মেয়েদের পরিষ্কার পোষাক নষ্ট সহ নানা রোগের সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের সর্দিসহ গ্রাম্য জনজীবনেও নেমে এসেছে পরিবেশ দূষণ জনিত অশান্তি। তাছাড়া,  বেপোরোয়া চালানোর কারনে শিশুদের জীবন ঝুঁকির মাত্রাও বেড়ে গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ সাপ্লায়াররা যদি পানি ব্যবহার এবং বেপোরোয়া গতি বন্ধ না করতে পারে তবে যে কোন সময় ঘটতে পারে ভয়াবহ দূর্ঘটনা। আবার অনেকে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।প্রজাতন্ত্রেের কর্মীদের কাজই যদি হয় জনগনকে সার্ভিস দেয়া ; তবে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পরিবেশের দূষনের জন্য কোন ভূমিকা কি তারা নিচ্ছেন??? এমন প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে।          ২২/০১/২০২০ইং তারিখ সকাল১১:০০ ঘটিকার সময় ভবানীপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড মেম্বার জনাব, মোখলেছুর রহমান  নিজে এই মাটি বহনকৃত ট্রাকগুলোর পথ আটকে দেন এবং তিনি ক্রাইম ডায়রির ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধিকে  জানান, এই মাটির ট্রাকগুলো পরিবেশ দূষিত করছে এবং ধুলার কারনে গরীব দোকানদারদের বিক্রি নষ্টসহ আশেপাশের বাড়িগুলোর অমানবিক অবস্থায় পড়েছে। এছাড়া কোমলমতি শিশুরা ধুলাজনিত সর্দি-জ্বরেে আক্রান্ত হচ্ছে। তিনি বলেন,  পানির ব্যবস্হা না করলে আমি কোন ভাটার মাটি দিতে দিবো না। এরা একদিকে কৃষিজমি বিনষ্ট করছে অপরদিকে দূষিত করছে পরিবেশ। এদিকে এলাকার বিজ্ঞমহল

স্থানীয় উপজেলার জনগনের অভিভাবক প্রজাতন্ত্রের নিয়োগ প্রাপ্ত উপজেলা প্রশাসক,থানা প্রশাসনের ওসি এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষনের   পাশাপাশি উদ্বর্তন মহলের দৃষ্টি ও আকর্ষণ করেছেন।

ক্রাইম ডায়রি///জেলা//ক্রাইম///পথের ///পরিবেশ

Total Page Visits: 66253

র‍্যাব-৪ এর সাফল্যঃচাকুরী দেয়ার নামে প্রতারক চক্রের বিশাল টিম হাতেনাতে গ্রেফতার

আরিফুল ইসলাম কাইয়ুমঃ

চাকুরী দেয়ার নাম করে প্রতারনা নতুন কিছু নয়। তবে এমন অপরাধ আগে করতে মানুষের বিবেক কাজ করত।এখন সময় পাল্টেছে। পরিবর্তন হয়েছে বিবেকের।  মানুষ এখন নিজ স্বার্থের জন্য মানুষকে ঠকিয়েই আনন্দ অনুভব করে। এমনি এক প্রতারক চক্রকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে      র‍্যাব-৪.

সারাদেশে  র‍্যাবের ধারাবাহিক অভিযান যেমন সাধারন গণমানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে তেমনি বন্ধ হয়েছে অনেক গুরুতর অপরাধ। তবুও প্রাকৃতিক নিয়মে অপরাধ সংগঠিত হবেই। তা নিয়ন্ত্রণে এনে সমাজে স্থিতিশীল অবস্থা বজায় রাখায় প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। যে দায়িত্ব পালনে র‍্যাব- যথাযথ ভূমিকা রাখছে বেনজির আহম্মেদের নেতৃত্বে।

র‍্যাব-৪ সূত্রে জানা গেছে, চাকুরী দেয়ার কথা বলে প্রতারনা করছে এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২১ জানুয়ারি ২০২০ইং তারিখ সন্ধ্যা ৬টায় র‍্যাব-৪ এর চৌকস আভিযানিক দল সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার উনু মং এবং সহকারী পুলিশ সুপার সাগর দীপা বিশ্বাস এর নেতৃত্বে মহানগরীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পেশাদার প্রতারকচক্রের ৩০ সদস্যকে গ্রেফতার করে এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত নানাবিধ নথিপত্র ও সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত অনেক আসামীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় এক বা একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে এদের প্রতারণার অফিস রয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা তাদের সংগঠন ও প্রতারণা কৌশল সম্পর্কে বিবিধ তথ্য প্রদান করেছে। র‍্যাব-৪ সুত্রে জানা গেছে, তাদের  প্রতারনার পুুুরো কার্যক্রম।  র‍্যাব-৪এর ফেসবুক ওয়াল হতে পোস্টটি জনস্বার্থে সরাসরি তুুুুলে ধরা হলো।প্রতারক সংগঠনের কার্য পদ্ধতি টার্গেট/ভিকটিম/চাকুরীরপ্রার্থী সংগ্রহঃ

ক। চাকুরীর প্রার্থী সংগ্রাহকঃ প্রতারকচক্রের প্রতিটি সদস্য প্রতারণাকে তাদের পেশা হিসেবে গ্রহণ করায় তাদের এ সংগঠনের একটি সুনির্দিষ্ট সাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে। এরা নিজেদেরকে ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে। এরা প্রতারক চক্রের মাঠ পর্যায়ের কর্মী। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেকার যুবকদেরকে চাকুরী প্রদানের লোভনীয় অফার দিয়ে নিয়ে আসে। ভিকটিমদের বলা হয় একমাসের মধ্যে প্রশিক্ষণ শেষ করেই চাকুরী পাওয়া যাবে। ভিকটিমদের নিকট এই প্রতিষ্ঠানে চাকুরীর বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধার ব্যাপারে লোভনীয় অফার দেয়। ভিকটিমকে প্রলুব্ধ করে এবং তথ্যাদি সংগ্রহ করে প্রতারক চক্রের অফিস কার্যালয়ে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করে। এই টার্গেটে সংগ্রহকরাই মূলতঃ নিজেরাও পূর্বে প্রতারিত হয়েছে। টাকা বিনিয়োগ করে এবং বিনিয়োগকৃত টাকা উদ্ধারের প্রলোভনে পড়ে নিজেরাও প্রতারনার সাথে জড়িয়ে পড়ে এবং নতুন নতুন সদস্য সংগ্রহ করে। এদেরকে প্রতি গ্রাহক/টার্গেট সংগ্রহের জন্য নির্দিষ্ট অংকের টাকা (Percentage) দেওয়া হয়।

খ। ভাইভা অফিসারঃ পরবর্তীতে এদেরকে ডিস্ট্রিবিউটর এবং মাকেটিং অফিসার এর মাধ্যমে সদস্যদেরকে ভাইভা অফিসে নিয়ে যাওয়া হয় যেখানে প্রতারক চক্রের অন্যান্য সদস্যরা তাদের ভাইভা নেয় এবং তাদের কাছ থেকে চাকুরী দেওয়ার নাম করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। তাদের অফিসে ভুয়া সুন্দরী Receptionist অফিস সহকারী ইত্যাদি বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মীদের রেখে প্রকৃত অফিসের আবহ তৈরী করে। টাকা গ্রহনের পরে ট্রেনিং এর নামে ট্রেনিং অফিস নামে কথিত অন্য জায়গায় পাঠিয়ে দেয়।

গ। ম্যানেজারঃ ভিকটিম এর নিকট থেকে সংগ্রহকৃত অর্থ জোনাল ম্যানেজার সংগ্রহ করে থাকে।

ঘ। এজিএম এবং জিএমঃ ম্যানেজার উক্ত অর্থ সংগ্রহ করে এজিএম এর মাধ্যমে জিএম এর কাছে পৌছানো হয়।

ঙ। চেয়ারম্যানঃ চেয়রম্যান চাকুরীর প্রার্থীদের প্রশিক্ষণে কিভাবে জনবল বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রার্থীরা আর্থিক ভাবে লাভবান হবে তার প্রেষনা দিয়ে থাকে। এজিএম এবং জিএম এর মাধ্যমে সংগ্রহকৃত অর্থ চেয়ারম্যান এর নিকট পাঠিয়ে দেয়া হয়।

চ। ট্রেনিং সেন্টারঃ ভাইভা অফিস থেকে ভিকটিমদেরকে ডিস্ট্রিবিউটর/মার্কেটিং অফিসার এর অধীনে ট্রেনিং সেন্টার এ প্রশিক্ষণের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

ছ। প্রশিক্ষকঃ এখানে ভুয়া প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে ভিকটিমদের ০১ মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়ার নাম করে আটকে রাখা হয়। যখন ভিকটিম বুঝতে পারে তারা প্রতারিত হয়েছে এবং তাদের প্রদেয় অর্থ দাবি করে। তখন প্রতারক চক্র তাদেরকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং তাদের মাধ্যমে নতুন সদস্য সংগ্রহের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। পরবর্তীতে রাতারাতি প্রতারক চক্র অফিস গুটিয়ে তাদেরকে রেখে পালিয়ে যায়। প্রশিক্ষকদের মধ্যে রুম সুপার, মেস ম্যানেজার বিভিন্ন পর্যায়ে জনবল নিয়োগ দেওয়া থাকে।

জ। ডায়মন্ড এবং সিলভার পদবী: প্রতারক চক্রের মধ্যে যে সকল সদস্য ৫০ জনের অধিক সদস্য সংগ্রহ করে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠাতে পারে তাদেরকে ডায়মন্ড উপাধি দেওয়া হয় এবং ২৫-৩০ জন সদস্য সংগ্রহকারিকে সিলভার পদবী প্রদান করা হয়।

৩। ঘটনাস্থল হতে ২০৩ জন ভুক্তভুগীদের উদ্ধার করা হয়। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রতারকচক্রটি ৫০,৮০০ টাকা করে সর্বমোট ১,০৩,১২,৪০০/- (এক কোটি তিন লাখ বার হাজার চারশত) টাকা আত্মসাৎ করে। আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, তারা গ্রামের মধ্যশিক্ষিত বেকার ও নিরীহ যুবকদের চাকুরী দেয়ার নাম করে প্রায় এক হাজার এর অধিক চাকুরী প্রত্যাশিদের সাথে প্রতারণা করেছে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। অদূর ভবিষ্যতে এইরুপ অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে র‍্যাব-৪ এর জোড়ালো সাঁড়াসি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে র‍্যাব-৪ সুত্রে জানা গেছে।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম/অপরাধজগত///আইন শৃঙ্খলা

Total Page Visits: 66253